নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে বসতঘর হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিরিনা খাতুন (৩২) নামের এক অসহায় গৃহবধূ। বর্তমানে তিনি তার দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা শিরিনা খাতুনের জীবনের একমাত্র সম্বল ছিল তার শ্বশুরের দেওয়া মাত্র এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ছোট্ট একটি টিনের ঘর। সেই ঘরেই স্বামী খোকন মিয়া ও দুই সন্তানকে নিয়ে চলছিল তার ছোট্ট সংসার। স্বামী ঢাকায় রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই কোনোমতে দিন কাটছিল তাদের। কিন্তু গত দুই দিন আগে হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে এলাকায়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে শিরিনার একমাত্র বসতঘরটি। ঝড় শুরু হলে সন্তানদের নিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি গাছ ভেঙে পড়ে তার ঘরের ওপর, সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় তার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা ঘরের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন শিরিনা খাতুন। তার চোখেমুখে হতাশা, অসহায়ত্ব আর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। শিরিনা খাতুন বলেন, “ঘরটাই ছিল আমাদের সবকিছু। এখন থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। প্রতিবেশীর বাড়িতে আছি, কিন্তু কতদিন এভাবে থাকব জানি না। স্বামীর অল্প আয়ে নতুন করে ঘর তোলা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।” স্থানীয়দের সহায়তায় আপাতত দিন কাটছে তার। প্রতিবেশী মালেকা খাতুন জানান, ঝড়ের রাতে তারা শিরিনাকে আশ্রয় দেন। সময়মতো তাকে না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, “পরিবারটি খুবই অসহায়। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।” এদিকে, সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছে উপজেলা প্রশাসন। দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিরিনা খাতুনকে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী শিরিনা খাতুনকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র খাদ্য সহায়তা নয়—দ্রুত একটি ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একটি ঝড় শুধু একটি ঘর নয়, একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যৎকেও ভেঙে দিয়েছে। এখন সহানুভূতি আর সহযোগিতার হাত বাড়ালেই হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে শিরিনা ও তার সন্তানরা।
আজ (বুধবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি’র সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী এলাকার ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল সংসদ ভবনে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ডেপুটি স্পীকার ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সঙ্গে আন্তরিক কুশল বিনিময় করেন। তিনি বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রয়েছে। এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা অর্জন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সবাইকে সংসদ ভবন পরিদর্শন এবং সংসদ অধিবেশন অবলোকনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আজ ব্রাহ্মণ পুরোহিত প্রতিনিধিদল এসেছেন। এর আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদল, ইমাম প্রতিনিধিদল, হাজং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদল এবং দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য হলো এলাকার সকল পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষ যেন জাতীয় সংসদ সম্পর্কে জানতে পারে। এ সময় ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের বীরেশ্বর চক্রবর্তী, মিন্টু ভাদুরী, অপরেশ চক্রবর্তী, গৌতম চক্রবর্তী, বিমল চৌধুরী, উৎপল শর্মা, রতন শর্মা, সুজয় শর্মা, মানিক চক্রবর্তী, কেশব লাল চক্রবর্তী, সজয় চক্রবর্তী এবং সমরেশ চক্রবর্তী সংসদ ভবনে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় এবং দুর্গাপুরের সন্তান হিসেবে ডেপুটি স্পীকার নিযুক্ত হওয়ায় তাঁর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় হিসেবে তাঁরা অনেক সময় অবহেলার শিকার হন। তবে ডেপুটি স্পীকারের সহযোগিতায় দুর্গাপুরের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করে তাঁরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। তাঁরা ডেপুটি স্পীকারকে ‘রাজা’ সম্বোধন করে গীতা পাঠ করেন এবং ঈশ্বরের কাছে তাঁর মঙ্গল কামনা করেন। পাশাপাশি তাঁকে একটি উত্তরণী উপহার প্রদান করেন এবং পূজামন্ডপ সংস্কার, পুরোহিত ভাতা চালু ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ডেপুটি স্পীকার বলেন, এলাকার মন্দিরের জন্য বরাদ্দ প্রদানে কোনো অবহেলা করা হবে না। ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের কল্যাণে যা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা করা হবে। মসজিদ, মন্দির ও গির্জার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, “সবার পরিচয় আমরা মানুষ আমাদের রক্ত সবারই লাল। কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিস্টান, কে বৌদ্ধ সবাই আমরা বাংলাদেশি।” তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় সেবা দলীয়ভাবে দেখা হলেও তিনি ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দলমত নির্বিশেষে সবার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে পড়ালেখা, খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিচর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে কৃষকদের দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে নেওয়া হয়েছে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্দেশনায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) ৯টি টিউবওয়েল বা নলকূপ স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে হাওরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ‘কান্দা’ এলাকায় বাঁশের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নলকূপ স্থাপনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। প্রতি বছর চৈত্র ও বৈশাখ মাসে যখন বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়, তখন হাজারো কৃষক দিন-রাত পরিশ্রম করে হাওর থেকে ধান কেটে উঁচু জমি বা ‘কান্দা’তে এনে জমা করেন। কিন্তু এই সময় বিস্তীর্ণ জলাভূমি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির কোনো স্থায়ী উৎস না থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রচণ্ড রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার পর তৃষ্ণা মেটাতে কৃষকদের অনেক সময় বাধ্য হয়ে হাওরের অপরিষ্কার ও দূষিত পানি পান করতে হতো, যা ডায়রিয়া, আমাশয়, ত্বকের রোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিত। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না থাকায় কৃষকদের ভোগান্তি ছিল চরমে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের কষ্ট লাঘবে সময়োপযোগী এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন করে স্থাপিত টিউবওয়েলগুলো চালু হলে কৃষকরা সহজেই নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন। এতে শুধু তাদের তৃষ্ণা নিবারণই নয়, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং ধান কাটার পুরো মৌসুমে তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন। নির্ধারিত ৯টি টিউবওয়েলের মধ্যে সোনাডুবি কান্দায় পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি, নাগডরা কান্দায় পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি, এবং মুক্তাখলা, কাজীউরি, হাইডুলি, কাটাগোফাট কান্দা ও কলমাকান্দা বাজারে একটি করে নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। এসব স্থান নির্বাচন করা হয়েছে কৃষকদের চলাচল ও কাজের সুবিধা বিবেচনায় রেখে, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক কৃষক উপকৃত হতে পারেন। প্রকল্পটির কারিগরি দিক সম্পর্কে কলমাকান্দা উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মোসা. রুম্মান আরা জানান, হাওরের কান্দাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এবং গভীর নলকূপ বসানোর পরিবেশ না থাকায় এখানে সাবমার্সিবল পাম্পের পরিবর্তে স্বল্প গভীরতার হ্যান্ড-টিউবওয়েল বসানো হচ্ছে। যদিও স্বল্প গভীরতার কারণে পানিতে কিছুটা আয়রন থাকতে পারে, তবে তা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ব্যবহারযোগ্য এবং তাৎক্ষণিক পানির চাহিদা পূরণে যথেষ্ট কার্যকর হবে। এছাড়া বন্যার সময় যাতে নলকূপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রতিটি নলকূপের প্ল্যাটফর্ম উঁচু করে নির্মাণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা জানান, বছরের পর বছর ধরে ধান কাটার মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা চরম কষ্টে ছিলেন। অনেক সময় দূরের গ্রাম থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হতো, যা সময় ও শ্রম দুটোই বাড়িয়ে দিত। নতুন এই নলকূপগুলো চালু হলে তাদের সেই কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে এবং তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষিকাজ করতে পারবেন। এছাড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলের অন্যান্য এলাকাতেও অনুসরণযোগ্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে। কৃষকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে এমন কার্যকর পদক্ষেপ শুধু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেই সহায়ক হবে না, বরং গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে, কলমাকান্দার হাওরাঞ্চলে এই ৯টি টিউবওয়েল স্থাপন প্রকল্প কৃষকদের জন্য এক বড় স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে—যা তাদের দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট দূর করে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
আজ বুধবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি’র সঙ্গে তাঁর নির্বাচনি এলাকার অন্তর্গত কলমাকান্দা উপজেলার হাজং উপজাতি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল সংসদ ভবনস্থ তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং আন্তরিক কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি তাঁর নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন জাতীয় সংসদ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সবাইকে সংসদ ভবন পরিদর্শন ও সংসদ অধিবেশন অবলোকনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, “আজ হাজং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এসেছেন। এর আগে খ্রিষ্টান ও ইমাম প্রতিনিধিদল এসেছিলেন। আমার এলাকার সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন সংসদ সম্পর্কে জানতে পারে, সেটিই আমার লক্ষ্য।” এ সময় হাজং প্রতিনিধিদল সংসদ ভবনে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় ডেপুটি স্পীকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তারা পূজামণ্ডপ সংস্কার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, হাজং শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান, হাজং ভাষা চর্চার সুযোগ এবং ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়ক সংস্কারের বিষয়ে ডেপুটি স্পীকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে ডেপুটি স্পীকার বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি হাজং সম্প্রদায়কে দেখে আসছি। আপনাদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। আপনাদের কল্যাণে যা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা করবো—এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “মানুষের জন্যই সংসদ। কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিস্টান, কে বৌদ্ধ—সবাই আমরা বাংলাদেশি। হাজং সম্প্রদায় এখনও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। তাই আপনাদের সন্তানদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা, পাহাড়ি এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন, মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ এবং মন্দিরভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নিজস্ব তহবিল থেকেও সহযোগিতা প্রদান করবো।” এছাড়া তিনি এলাকার ছোট ছোট ব্রিজ, কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণ ও মেরামতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় হাম-রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে বিরিশিরি ওয়াইডব্লিউসি নার্সারী স্কুল প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ এস এম তানজিরুল ইসলাম রায়হান। উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ওয়াইডব্লিউসি’র সভানেত্রী লুদিয়া রুমা সাংমার সভাপতিত্বে এবং এফপিআই দ্বীন মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিশ্বজিৎ সাহা, সাংবাদিক ধ্রুব সরকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্বাস্থ্যকর্মী ও সুধীজন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদানের বিকল্প নেই। হাম ও রুবেলা রোগ শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এ ধরনের জাতীয় কর্মসূচিতে অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ এস এম তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ করে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা প্রদান করা হবে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, “এই টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর এলাকায় হাম-রুবেলা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” এসময় তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের গুজব বা ভ্রান্ত ধারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা করারও অনুরোধ জানান তিনি। আলোচনা সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের মাঝে টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। উদ্বোধনী দিনে বেশ কয়েকজন শিশুকে
পাঠে পাঠে আত্মজাগরণ’ এই প্রতিপাদ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের অংশগ্রহনে জলসিঁড়ি পাঠাগারের গ্রীষ্মকালীন অধ্যয়নসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিরিশিরি ইউনিয়নের গাভিনা গ্রামে নজরুল অধ্যয়ন কেন্দ্রে তিন গুণীজনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। জলসিড়ি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা দীপক সরকারের সঞ্চালনায়, সাংবাদিক নির্মলেন্দু সরকারের সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন, বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ খান এবং কবি তানভির জাহান চৌধুরী। এছাড়া প্রকাশিত বই নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক হারাধণ সাহা, শিক্ষক শফিউল আলম স্বপন, কবি লোকান্ত শাওন। আবৃত্তি করেন শিল্পী ভট্রাচার্য, পুরবী সম্মানীত, কবি বিদ্যুৎ সরকার, কবি অনার্য শান্ত। এছাড়া অন্যদের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচালার একাডেমির পরিচালক কবি পরাগ রিছিল, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ্ সহ সাংবাদিক, রাজনৈতিক, কবি, শিক্ষক, প্রভাষক স্থানীয় গন্যমান ব্যাক্তিগণ সহ স্কুল-কলেজের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আলোচনা শেষে, কবি ও মানসিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. ইমদাদুল হক তালুকদার, বাচিক শিল্পী আনোয়ারুল হক লাভলু ও বাচিক শিল্পী সৈয়দ ফয়সাল আহমেদকে নজরুল স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। আলোচনায় অতিথিরা বলেন, একটি সমাজের রূপরেখা বদলে দিতে পারে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছে জলসিঁড়ি পাঠাগার। পাঠকরা খুব সহজেই এই পাঠাগারে এসে সমসাময়িক বিষয়ে সম্যক ধারণা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানচর্চা করতে পারছে। আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার। পাঠাগারের বই-পুস্তক একজন শিক্ষার্থীকে স্বশিক্ষিত মানুষ তৈরিতে সহায়তা করে। তাই প্রতিটি গ্রামে-মহল্লায় জলসিড়ির মতো পাঠাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রত্যন্ত গ্রামে দীপক সরকারের হাতে গড়ে ওঠা এই অধ্যায়ন কেন্দ্রটি, নতুন প্রজন্মের মাঝে কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে চেতনা জাগছে নজরুলকে জানার, বোঝার ও চর্চা করার। এই কাজে সহায়তা করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
দেশব্যাপী হাম ও রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন (এমআর)। এই কর্মসূচি সফল করতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের অংশগ্রহনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম তানজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে, স্যানেটারী ইন্সপেক্টার মো. আলী আকবরের সঞ্চালনায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষক বজলুল কাদের, ডিএসকে হাসপাতাল ইনচার্জ ধ্রুব সরকার, অফিসার ইনচার্জ দুর্গাপুর থানা মো. কামরুল আহসান, সাংবাদিক সমিতির আহবায়ক সজিম সাইন, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সমাজসেবা অফিসার মাসুল তালুকদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বজলুর রহমান আনছারী, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফজলুর রহমান, দ্বীনি আলীম দারাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ৬ মাস থেকে শুরু করে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় এক ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা প্রদান করা হবে। যে সকল শিশু ইতোপূর্বে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে নিয়মিত এমআর টিকা গ্রহণ করেছে, তারাও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অধীনে পুনরায় তাদের টিকা দেয়া হবে। ডাঃ তানজিরুল ইসলাম বলেন, টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ ও সু-শৃঙ্খল করতে অভিভাবকদের নির্দিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “ঠধীঊচও”- তে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধন শেষে টিকা কার্ডটি ডাউনলোড করে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অত্র এলাকায় হাম ও রুবেলা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আগামী ১২ মে পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে এই ক্যাম্পেইন চলবে।
ঢাকা, ১৬ এপ্রিল: জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা থেকে আগত গারো জাতিগোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধিদল আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংসদ ভবনে উপস্থিত হন। গ্রামপ্রধান ও পুরোহিতসহ ১১ সদস্যের এই প্রতিনিধিদল নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের আমন্ত্রণে এ সফরে অংশ নেন। সংসদ ভবনে উপস্থিত হয়ে তারা সরাসরি অধিবেশন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় প্রতিনিধিরা সংসদের কার্যপ্রণালী, ইতিহাস ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন, যা তাদের জন্য ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পরবর্তীতে ডেপুটি স্পিকার তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের গুরুত্ব ও ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণমূলক চর্চা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গারো প্রতিনিধিরা এ উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
পুরনো বছরের জীর্ণতা ও গ্লানিকে বিদায় জানিয়ে শুরু হয়েছে নতুন প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ’। হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই দিনটি উদযাপনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বৈশাখী শোভাযাত্রা, লোকজ শিল্পমেলার উদ্বোধন সহ নানা আয়োজনে এ উৎসব পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংগীত ও বৈশাখের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের সুচনা করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, সিপিবি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, শিল্পকলা একাডেমি, পথ পাঠাগার সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অংশগ্রহনে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে লোকজ শিল্পমেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা। আলোচনা সভায় একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন এর সঞ্চালনায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা‘র সভাপতিত্বে সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্, উপজেলা বিএনপি‘র সভাপতি জহিরুল আলম ভুইয়া, সহ:সভাপতি এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ¦ জামাল উদ্দীন মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান, উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীগণ, বিভিন্ন্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সাংবাদিকগণ সহ অন্যান্য সকল দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, শিল্পী মিজানুর রহমান কাঞ্চন এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। এছাড়া সুসঙ্গ সরকারি মহাবিদ্যালয়, মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ডন বসকো কলেজ, সুসঙ্গ আদর্শ বিদ্যানিকেতন, এডভান্স মডেল স্কুল, সিপিবি, পথ পাঠাগার, বিরিশিরি বর্ষবরণ উদযাপন কমিটি, সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পৃথক ভাবে আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি উড়ানো সহ লোকজ খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি’র সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সংসদ ভবনস্থ ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতকালে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। সংসদীয় তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশ কূটনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভারতের লোকসভার সঙ্গে জাতীয় সংসদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যক্রম জোরদার করা গেলে সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার ধারণা উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র ৩১ দফায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হলেও এর সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনার দাবি রাখে। তিনি আরও বলেন, সংসদ গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর করার মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি ডিজিটাল ও পেপারবিহীন ই-পার্লামেন্ট চালুকরণ, সংসদীয় কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং পারস্পরিক সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাতকালে উভয় পক্ষ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সুসম্পর্ক বজায় রাখা, চিকিৎসা সেবা সহজীকরণ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় কায়সার কামালকে অভিনন্দন জানান প্রণয় ভার্মা এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বই ও শুভেচ্ছা স্মারক উপহার প্রদান করেন। সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অভিযান চালিয়ে ৬০০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিলসদৃশ্য মাদক ‘ফেয়ারডিল’ সহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. কামরুল হাসান। এর আগে, ওইদিন ভোরে পৌর শহরের বুরুঙ্গা ভাঙাব্রীজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃতরা হলেন, দুর্গাপুর উপজেলার চারিয়া মাসকান্দা গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (২৮) এবং একই গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে মো. আলী আকবর (২৫)। পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্য পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল বুরুঙ্গা ভাঙাব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দুই মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজতে থাকা চার বস্তায় ৬০০ বোতল ভারতীয় মাদক ‘ফেয়ারডিল’ জব্দ করা হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি তারা মাদক ব্যবসায়ী। তাদের সঙ্গে আরও বড় একটি চক্র জড়িত রয়েছে। তারা এসব মাদকদ্রব্য এখান থেকে ময়মনসিংহসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরও বলেন, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের চারিয়া মাসকান্দা থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে গুরুতপূর্ণ এই সড়কটি। সড়কে অন্যান্য কাজ শেষ হওয়ার পরেই চলমান ছিলো পিচ ঢালাইয়ের কাজ। পাঁচদিন হয় শেষ হয়েছে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। এরই মধ্যে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার পিচ। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় স¤প্রতি সংস্কার কাজ শুরু হলে খুশি হন এলাকাবাসী। তবে কাজ শেষ না হতেই দেখা দিয়েছে অনিয়ম। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ ঢালাই। এমন চিত্র দেখে হতাশ স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দায়সারাভাবে কাজ করায় সড়কটি বেশিদিন টেকসই হবে না। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এমন নিম্নমানের কাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এর দায়ভার কার ? এমন প্রশ্নই এলাকাবাসীর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার কার্য মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের আগস্ট মাসে। ইতোমধ্যে চলমান কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে ওই এলাকায় পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, হাটবাজার সহ সব জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। আমরা এতদিন অবহেলিত ছিলাম। কাজ শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। মাত্র পাঁচ দিন হলো পিচ ঢালাই করা হয়েছে, কিন্ত এখন হাতে টান দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। তাজ্জত আলী নামের একজন বলেন, এক ধরনের তেল আছে, সেটা (বিটুমিন) সড়কে না দিয়ে ঢালাই দিয়েছে। আমি এমন অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেননি। উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। আব্দুল হামিদ জানান, ছেপ দিয়া লেপ দিছে এটাকে বলে। আমরা এমন রাস্তা চাই নাই। আগে কাঁদা দিয়ে হেঁটে চলতে হইছে, এখন এই রাস্তা যদি এইভাবে করে তাহলে এক মাসও টিকবে না। চারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, আমাদের এই রাস্তা দিয়ে অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হয়েছে। এই রাস্তা তো বারবার হবে না। যে অবস্থায় রাস্তা নির্মান করা হয়েছে, তাতে অল্পদিনের মাঝেই নষ্ট হয়ে যাবে সড়কটি। সরকার কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ কাজের মান যদি এমন হয় তবে তা শুধু টাকার অপচয় হওয়া ছাড়া কিছুই না। কাজের বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কার্পেটিং কাজের শুরুর পরদিনই সমস্যা দেখে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে, যা যা প্রয়োজনীয় তা দিয়ে সুন্দরভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, রাস্তা কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের নজরদারি থাকবে। কোনোভাবেই অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরকারি ভাবে সরবরাহে ঘাটতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একটি মাত্র পেট্রোল পাম্পে অনিশ্চয়তা নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হচ্ছেন অনেকে। তবুও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে না চাহিদা মতো পেট্রোল, অনেকে ফিরছেন প্রয়োজনীয় তেল না পেয়েই। এনিয়ে দুর্গাপুর উপজেলার একমাত্র পাম্প মেসার্স খোরশেদ খান ফিলিং স্টেশন সহ বিভিন্ন এলাকার ছোট-খাটো সাব-ডিলার পয়েন্ট গিয়ে দেখা গেছে একই অবস্থা। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে। কেউ কেউ পাম্প থেকে সাব-ডিলার পয়েন্টে গিয়েও তেল পাচ্ছেন না। এতে দৈনন্দিন কাজ, যথাসময়ে অফিস যাতায়াত ও জীবিকা নির্বাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কোথাও কোথাও তেল মজুত রেখেও বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে মনে করেন তারা। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম নয়, তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চাহিদা ও মটরবাইকে ফুল ট্যাংক’ করার প্রবণতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে নির্দিষ্ট হারে তেল দেয়ার পরেও নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে। থানার পুলিশ ও সরকারি ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে বিক্রি হচ্ছে তেল। এ নিয়ে কথা হয় মোটরসাইকেল চালক এমদাদুল হক জানান, বাইকের চাকা ঘুরলে আমার ইনকাম, না ঘুরলে না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা হয়। এ অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে দিনের প্রায় অর্ধেক সময় চলে যায়। অনেকেই এখান থেকে তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে। অপর এক চালক রুহুল আমীন বলেন, তেলের সংকট যতটা দেখা যাচ্ছে ততটা নয়। তেল হয়ত প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম, তবে অনেকে অবৈধভাবে তেল মজুত করার কারণে সংকট প্রকট হচ্ছে। সকালে পাম্প খোলার আগে থেকেই তেলের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সকাল ১১টার দিয়ে ২লিটার তেল পেয়েছি। দিনের অনেকটা সময় তেল সংগ্রহে চলে গেছে, এমন অবস্থা থাকলে ভাড়ায় বাইক চালানো বন্ধ হয়ে যাবে। প্রেসক্লাব মোড়ে অবস্থিত সাব-ডিলার পয়েন্টে এক এনজিও এলিসন ঘাগ্রা বলেন, তেলের জন্য দীর্ঘসময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি। আজ তেল নিতেই হবে যত সময়ই লাগুক। কেননা আগামীকাল (শনিবার) অফিসের জরুরী মিটিং আছে। তখন যদি লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করি তাহলে অফিসে দেরি হবে। পাম্পে সরকারি ভাবে নিযুক্ত ট্যাগ অফিসার পাম্প মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানান এই পাম্পে যতক্ষণ তেল মজুদ থাকে সরকারি দামেই গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়। ডিপো থেকে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার লিটার তেল দেওয়া হয়। এর আগে এই পাম্প থেকে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার লিটার তেলা বিক্রি হতো। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬টি পয়েন্টে সাব-ডিলার ছিলো। কিন্তু এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার লিটারেও চাহিদা মিটছে না। গাড়ীর কাগজ, ড্রাইভিং লাইসেন্স চেকিং করে তেল দেয়ার পরেও চাহিদা মিটছে না। স্থানীয়রা মনে করেন, একটা চক্র তেল মজুত করছে। সামনে তেলের আরো সংকট হবে মর্মে সাধারণ মানুষও তেল মজুত করছেন। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়রা ছাড়া বাহিরের বাইক চালকগনও তেল নিতে আসছে এই পাম্পে। তেল মজুদ রোধে এ বিষয় গুলো খতিয়ে দেখে, চেকিংয়ের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়ে তেল সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মো. শাওন (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শাওন উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের গুজিরকোনা গ্রামের আতিকুর রহমানের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে শাওন। গোসল শেষে জুমার নামাজে যাওয়ার কথা থাকলেও সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরপাড়ে গিয়ে তার জামা-কাপড় ও সঙ্গে আনা জিনিসপত্র দেখতে পান, তবে শাওনের কোনো খোঁজ মেলেনি। পরে পুকুরে মাছ ধরার জাল ফেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের চাচা মিজানুর রহমান জানান, সে দাদার সঙ্গে মোটরে গোসল করেনি, পুকুরে গোসল করবে বলে যায়। আমরা জুমার নামাজে চলে যাই। পরে এসে শুনি সে বাড়ি আসেনি। এরপর পুকুরে খোঁজ করে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে চারপাশ ভারী হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়।
নেত্রকোণা জেলা ক্রীড়া অফিসের উদ্যোগে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে ভলিবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২৬ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্যের সঞ্চার হয়। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুর্গাপুর উপজেলার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মাঠে ভিড় জমাতে থাকেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। খেলাকে ঘিরে পুরো এলাকা উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে। জেলা ক্রীড়া অফিসার সেতু আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা আফসানা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতাই নয়, মানসিক বিকাশ এবং সামাজিক বন্ধন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনছারি, ডনবস্কো স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক, ভাইস প্রিন্সিপাল রুমন রাংসা, দুর্গাপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ওয়ালী হাসান কলি, সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান এবং সাংবাদিক আল আমিন হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রতিযোগিতায় দুর্গাপুর উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চারটি দলে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি ম্যাচে খেলোয়াড়দের দারুণ নৈপুণ্য, দলীয় সমন্বয় এবং জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা দর্শকদের মুগ্ধ করে। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে। চূড়ান্ত খেলায় ডনবস্কো স্কুল এন্ড কলেজ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অপরদিকে বিরিশিরি পার্সি নল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় লড়াই করে রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে। খেলাটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উপভোগ্য। খেলা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। এসময় বিজয়ীদের উচ্ছ্বাস এবং দর্শকদের করতালিতে পুরো পরিবেশ আনন্দঘন হয়ে ওঠে। সমাপনী বক্তব্যে জেলা ক্রীড়া অফিসার সেতু আক্তার প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজন ও সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সবশেষে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হলে উপস্থিত সকলেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার দাবি জানান।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার খুজিউড়া গ্রামে সাত বছরের এক অবুঝ শিশুকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্দ জনতার রোষানল থেকে অভিযুক্ত শাহজাহানকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামে তার নানির বাড়িতেই থাকতো। ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী শিশুর নানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘটনার দিন শিশুটি স্কুল থেকে ফিরে অন্য এক মেয়ে শিশুর সাথে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে তারা বাড়ির পাশের খেজুর গাছ থেকে খেজুর কুড়াতে যায়। এসময় অভিযুক্ত শাহজাহান ও তার এক সহযোগী শিশু দুটিকে দেখতে পায়। দুরভিসন্ধি নিয়ে তারা শিশুদের ডাকতে থাকে, কিন্তু শিশুরা যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর হঠাৎ করেই অভিযুক্ত শাহজাহান শিশুটির মুখ চেপে ধরে এবং জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে পাশের জঙ্গলে শুকনো দিঘির (পুকুর) ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে খামচে ধরে শারীরিক নির্যাতন ও নিপীড়ন শুরু করে সে। এ সময় দুই শিশুর চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে। আমার নাতির সাথে এমন আচরনের উপযুক্ত বিচার চাই। এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত শাহজাহান নিয়মিত মাদকসেবী এবং এলাকায় তার ব্যাপক দুর্নাম রয়েছে। প্রতিবেশী এক নারী জানান, শাহজাহানের নিজের স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। নিয়মিত মাদকসেবন ও অমানুষিক নির্যাতনের কারণে মাস খানেক আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারে পক্ষ থেকে এখানো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘরের প্রায় টিনগুলোই ফুটো। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরদিয়ে পানি পরে, জামাকাপড় সহ বইপত্র ভিজে যায়। ভেজা বই ও আধভেজা স্কুলড্রেস পড়েই প্রতিদিন স্কুলে যায় দশম শ্রেনীর আদিবাসী শিক্ষার্থী সেতু রেমা। প্রায়ই টিনের চালে তার ভেজা বই শুকাতে হতো। এযেনো ঝড় বৃষ্টির সাথে শিক্ষার্থী সেতু রেমার নিত্য দিনের যুদ্ধ। একটি ঘরের অভাবে যেনো পড়াশোনা বন্ধই হয়ে যাবে তার। শিক্ষার্থী সেতু রেমার বাবা সুইজ্জা রেমা নদীতে মাছ ধরে যা আয় করেন তা দিয়েই কোনরকম সংসার পরিচালনা করেন তার পরিবার। তাদের সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরোয়, ঘরের চাল মেরামত তো প্রশ্নই ওঠেনা। ছোট ভাই তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ে। শিক্ষকদের সহায়তায় চলে তাদের পড়াশোনা। অসহায় এই শিক্ষার্থী সেতু মানখিনের বাড়ী দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল বনগ্রামে। সেখানেই তার পরিবার নিয়ে বসবাস করেন সেতু। অভাবের কারনে পড়াশোনায় এগুতে না পারলেও পিছিয়েও নেই সে। ওই এলাকায় একমাত্র আদিবাসী পরিবার হলেও আশপাশের পড়শিদের সাথে মিলেমিশে থাকার কারনে এই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার চিন্তাও করেনি তারা। গেলো জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় অত্র এলাকায় নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করতে আসেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। গ্রামের সাধারণ মানুষ ওনাকে আপন করে নেন। কায়সার কামাল খুব কাছ থেকে শুনেন মানুষের তাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা গুলো। ওই সময় সাক্ষাৎ হয় শিক্ষার্থী সেতু মানখিনের সাথে। সেতু তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে। কথা শুনে সেতুকে আশ^াস দেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বহুদিন ধরে জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন কাটানো সেতু মানখিনের চোখে আজ আনন্দঅশ্রু। একটি স্বপ্নপুরণ হলো তার। নিজ অর্থায়নে সুন্দর একটি ঘর নির্মাণ করে দিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। এসময়, উপজেলা বিএনপি‘র সহ:সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ¦ জামাল উদ্দীন মাস্টার সহ ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। নতুন ঘর পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শিক্ষার্থী সেতু মানখিন। এক সাক্ষাতে যুগান্তর কে বলেন, আমরা অতি গরীব একটি পরিবার। আমার স্বপ্ন যে এতো তারাতারি পুরণ হবে আমি ভাবতেই পারিনি। এই ঘরটি শুধু একটি আশ্রয় নয়, বরং আদিবাসী অসহায় এক পরিবারের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রতীক। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যারের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আমি কথা দিচ্ছি পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবো। ব্যারিস্টার সারের সহায়তায় আমিও চাকরি করবো, দেশ ও জাতীর কল্যানে এবং আমার মতো অসহায়দের পাশে দাঁড়াবো। এ বিষয়ে প্রতিবেশী আব্দুল কাদির বলেন, “আমি নিজেও অভাবী মানুষ, তবুও সেতুর মা দিপালী মানখিনের অসহায়ত্ব দেখে প্রায়ই সামান্য সহায়তা করেছি। নেত্রকোনা-১ আসনের মানবিক নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অসহায় পরিবারকে একটি ঘর তৈরী করে দিয়ে তাদের মাথা গোঁজার ঠাই করে দিয়েছেন, আমরা উনার প্রতি কৃতজ্ঞ। স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, এটি একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পরিবারের সদস্যদের সামান্য অসতর্কতায় পুকুরের পানিতে ডুবে সায়ফা আক্তার নামে দেড় বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের টেঙ্গা গ্রামে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু সায়ফা ওই গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে শিশু সায়ফা বাড়ির উঠানেই খেলাধুলা করছিল। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেসময় দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এরই মাঝে সবার অজান্তে চোখের পলকেই শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সন্তানকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির আশপাশে ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে বসতঘরের আঙিনার পাশেই থাকা পুকুরের পানিতে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তারা। পুকুর থেকে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন তাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বনশ্রী বনিক চৈতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু সায়ফাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল চত্বরে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। আদরের সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েন শিশুটির বাবা-মা। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয়স্পর্শী। শিশুদের ক্ষেত্রে মুহূর্তের অসতর্কতাও যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এটি তারই একটি দৃষ্টান্ত।” এ সময় তিনি স্থানীয় অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “সামনেই বর্ষাকাল আসছে। এ সময় বাড়ির চারপাশের খাল-বিল ও পুকুরগুলো পানিতে ভরে যায়। তাই প্রতিটি পরিবারকে শিশুদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল ও সতর্ক হতে হবে। শিশুদের কোনোভাবেই একা বাড়ির বাইরে বা জলাশয়ের ধারে যেতে দেওয়া যাবে না।” গ্রামাঞ্চলে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার কমাতে অভিভাবকদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত দিলুরা গ্রামের চার বছর বয়সী শিশু আতিফ দীর্ঘদিন ধরে জটিল স্নায়বিক রোগে ভুগছে। জীবনের কঠিন এই লড়াইয়ে অবশেষে পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ও কলমাকান্দা-দুর্গাপুর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাঁর সার্বিক সহযোগিতায় আতিফকে ঢাকার বিশেষায়িত নিউরোসাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের মাত্র দুই মাস পর থেকেই আতিফ খিচুনিতে আক্রান্ত হয়। ধীরে ধীরে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে থাকে। বর্তমানে সে কথা বলতে পারে না, নিজে হাঁটতে পারে না, এমনকি নিজের ঘাড়ও সোজা করে রাখতে পারে না। প্রতিনিয়ত খিচুনির যন্ত্রণা তাকে কষ্ট দিয়ে যাচ্ছে, যা তার পরিবারকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। আতিফের পিতা জুলহাস একজন স্বল্প আয়ের মানুষ এবং মাতা জুলেখা খাতুন গৃহিণী। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তারা আর্থিকভাবে দারুণ সংকটে পড়েন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছিল না। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এবং দ্রুত শিশুটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কায়সার কামাল সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং মানবিক কাজের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেছেন। অসহায় শিশু আতিফের চিকিৎসায় তাঁর এই উদ্যোগ মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তারা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আতিফের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এবং তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তবে সঠিক চিকিৎসা পেলে তার অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এদিকে আতিফের পরিবারসহ এলাকাবাসী ডেপুটি স্পিকার মহোদয়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে শিশুটির সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন। সবশেষে, মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা— তিনি যেন ছোট্ট আতিফকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার তৌফিক দান করেন। আমিন।
”স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ” এ প্রতিপাদ্যে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দায়সারা ভাবে পালিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। মঙ্গলবার সকালে অভ্যন্তরিন র্যালি এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে এদিবস পালিত হয়। সীমিত আয়োজন, জনসচেতনতামুলক কোন কার্য্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি না থাকায় এ নিয়ে সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরলেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল অনেকাংশেই কম। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন আরও ব্যাপকভাবে পালন করা উচিত ছিল। স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। আলোচনা সভায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ তানজিরুল ইসলাম রায়হানের সভাপতিত্বে, প্রধান সহকারি আব্দুল লতিফ এর সঞ্চালনায় আলোচনা করেন, মেডিকেল অফিসার শেখ ফারহানা সুলতানা, স্বাস্থ্য পরিদর্শক সুব্রত চক্রবর্তী, ডিএসকের প্রকল্প সমন্বয়কারী রুপন কুমার সরকার, রুসা‘র পরিচালক নুরে আলম সহ অন্যান্য প্রতিনিধিগণ।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় উপ-স্পিকার (ডেপুটি স্পিকার) ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। উপ-স্পিকার হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছালে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনগণ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় হাসপাতালের আঙিনায় মায়ের কোলে থাকা ‘কৃষ্ণা রানী সরকার’ নামের এক শিশুকে তিনি স্নেহভরে আদর করেন এবং তার সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন, যা উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশকালে একটি শিশু তাকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। তিনি হাসিমুখে ফুলটি গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সভায় তিনি প্রান্তিক জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তব্যে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “পাবলিক অ্যাকাউন্টিবিলিটি (জনগণের কাছে জবাবদিহিতা) নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের কাঠামোগত ও সেবামূলক উন্নয়নের জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন জরুরি। ব্যবস্থাপনা কমিটির তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনিক কোনো গাফিলতি যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়—সেদিকেও তিনি কঠোর বার্তা দেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না; মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত, সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল। তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা। যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য। ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।