গ্রাম বাংলার খবর

স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া বাঁধে প্রাণের ছোঁয়া: গোড়াডুবা হাওরে পরিদর্শনে কায়সার কামাল

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার গোড়াডুবা হাওরে ফসল রক্ষায় স্থানীয় কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত কাউয়া বাড়ির খালের বাঁধ পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। এই বাঁধ শুধু হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত জনসচেতন উদ্যোগ, যেখানে কৃষকরা নিজেদের পরিশ্রমে হাওরের ফসল রক্ষা করছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতি কমানো যাচ্ছে। কৃষকদের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এবং কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখতে ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত হন। পরিদর্শনকালে তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, কাজের বিভিন্ন সমস্যা শুনে তা সমাধানের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং দ্রুততম সময়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রমের ফসল রক্ষা করা শুধুমাত্র সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।” ডেপুটি স্পিকারের এই সরাসরি উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তারা আরও একযোগে কাজ করার তাগিদ পেয়েছেন এবং সম্মিলিত উদ্যোগের শক্তি আরও দৃঢ় হয়েছে। কৃষকরা জানান, তাঁর আগমন তাদের জন্য প্রেরণার উৎস এবং বাঁধের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার শক্তি দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য, এই বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম শুধু হাওরের ফসল রক্ষার জন্য নয়, বরং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একতা, সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা দিচ্ছে। ডেপুটি স্পিকারের সরেজমিন উপস্থিতি এটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে সশস্ত্র ডাকাতি: বিকাশ এজেন্টকে গুরুতর জখম করে প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনতাই,এলাকায় আতঙ্ক

মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক বিকাশ এজেন্টের ওপর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।দুর্বৃত্তরা তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম মৌতলা গ্রামের মৃত মো. ওলি আহম্মেদের ছেলে মো. মোকলেছুর রহমান (৩৫) পেশায় একজন বিকাশ এজেন্ট। রোববার দুপুরে তিনি মোটরসাইকেলযোগে কৃষ্ণনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে তার কাছে থাকা নগদ টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।ঘটনার পর কৃষ্ণনগরসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান,ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মার্চ ১১, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২৫ ও ২৬ মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মোস্তফা মাসুদ: মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার। সভায় আগামী ২৫ ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তুতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মার্চ ১১, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে বহু বছর ধরে খালের গেট বন্ধ: বর্ষায় পানিবন্দী হওয়ার শঙ্কা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামে প্রায় ১৭ বছর ধরে একটি সরকারি খাস খালের পানি চলাচলের গেট বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকাবাসী।এ ঘটনায় পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা জবেদ আলী সরদারের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন এলাকাবাসীর পক্ষে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাড়াশিমলা ও নারায়ণপুর মৌজার একটি সরকারি খাস খাল দিয়ে এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসন হয়ে আসছিল। কিন্তু প্রায় ১৭ বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের পানি চলাচলের গেট বন্ধ করে জবরদখল করে নেন। পরে তারা নিজেদের সুবিধামতো পানি উত্তোলন ও বন্ধ করে রাখার কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম নারায়ণপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।লিখিত অভিযোগে বিবাদী হিসেবে ভাড়াশিমলা গ্রামের শেখ নূর আহম্মদের ছেলে শেখ জামিরুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম, মৃত শেখ শাহাজানের ছেলে শেখ খায়রুল ইসলাম, শেখ মনিরুল ইসলামের ছেলে রানা এবং সাবিরুল ইসলামের ছেলে শেখ রকিবুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ-২০২৬) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালের পানি চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম নারায়ণপুরসহ আশপাশের এলাকা জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে থাকে। এ সময় ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের মৃত মাহমুদ সরদারের ছেলে মহসিন আলী, জবেদ আলী সরদারের ছেলে জয়নাল আবেদীন, জাকির হোসেন, হাফিজুর রহমান, খান মাহবুবুর রহমান হাসু, ইউসুফ রাব্বি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন গ্রামবাসী সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা বহুবার প্রতিবাদ ও উদ্যোগ নিলেও প্রভাবশালীদের কারণে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।গ্রামবাসীরা আরও জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে খালটি মাপজরিপ করে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা মানছেন না এবং জবরদখল বজায় রেখেছেন।ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটি উন্মুক্ত করার চেষ্টা করলে তাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাস খালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মার্চ ১১, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোস্তফা মাসুদ: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৪নং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রমজানের ২০তম দিনে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দক্ষিণ শ্রীপুর বাজার চত্বরে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৪নং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ নূরুজ্জামান পাড়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতা শেখ নুরুজ্জামান, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম হাফিজুর রহমান শিমুল,উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা সালাউদ্দিন এবং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান হুকুম।এসময় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন,পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র মাসে সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। ইফতার মাহফিলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মার্চ ১১, ২০২৬ 0
শীতের বিদায়ে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনী বার্তা আমের মুকুলে মাতোয়ারা গ্রামবাংলা

শীতের বিদায়ে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনী বার্তা আমের মুকুলে মাতোয়ারা গ্রামবাংলা শীতের শেষ প্রহর পেরিয়ে প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে নতুন ঋতুর আগমনী বার্তা। চারদিকে যেন এক নতুন সাজে সেজে উঠছে প্রকৃতি। গাছের পুরোনো পাতা ঝরে পড়ে মাটিকে ঢেকে দিচ্ছে, আর সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে নতুন সবুজ কুঁড়ি। প্রকৃতির এই রূপান্তর গ্রামবাংলার পরিবেশে এনে দিয়েছে এক অন্যরকম সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য। বিশেষ করে এ সময় আমগাছগুলোতে দেখা যাচ্ছে মুকুলের সমারোহ। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাস। সকাল কিংবা বিকেলের মৃদু বাতাসে সেই গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে এক অনন্য অনুভূতির জন্ম দেয়। অনেকেই বলছে এই সময়টিই গ্রামবাংলার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগের শ্রেষ্ঠ সময়।গ্রামের পথঘাট ক্ষেত-খামার এবং গাছপালার দিকে তাকালেই দেখা যায় প্রকৃতির নতুন রূপ। কোথাও নতুন পাতার সবুজ আভা কোথাও ফুলের কুঁড়ি আবার কোথাও পাখিদের কোলাহলে মুখর পরিবেশ। শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি। কৃষকরাও এ সময় তাদের বাগান ও ক্ষেতের দিকে নতুন আশায় তাকিয়ে থাকেন।বিশেষ করে আমবাগানগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিকরা। ভালো ফলনের আশায় তারা গাছের পরিচর্যায় মনোযোগ দিচ্ছেন। কারণ এই মুকুলই পরবর্তীতে রূপ নেবে সুস্বাদু আমে যা দেশের অর্থনীতি ও কৃষকদের জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকৃতিবিদদের মতে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টিতে প্রকৃতির ভারসাম্য নতুন করে গড়ে ওঠে। গাছের পুরোনো পাতা ঝরে গিয়ে নতুন পাতার জন্ম হয় যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। শীতের বিদায় ও বসন্তের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেন আরও বেশি করে ধরা দেয় মানুষের চোখে। সবুজের সমারোহ আমের মুকুলের গন্ধ পাখির কলতান এবং নির্মল বাতাস—সব মিলিয়ে গ্রামবাংলা যেন রূপ নেয় এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে। এই সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখা নয় বরং মানুষের মনেও জাগিয়ে তোলে নতুন প্রাণ নতুন আশা ও নতুন স্বপ্নের সঞ্চার।

মার্চ ৭, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে জমি বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা, নারীসহ ৫ জন আহত

মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী জানা গেছে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ছোট ভাই, কালিগঞ্জ থানা মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওঃ আশরাফুল ইসলাম আজিজীর ওপর মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে হামলা চালানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে নারীসহ সবাইকে মারধর করা হয়। হামলায় মোসলেম সরদার গুরুতর আহত হন। আয়েশা খাতুন ও শাকিলা খাতুন আহত হন। শাকিলা খাতুনের বাম হাত ভেঙে যাওয়া, শ্লীলতাহানি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আহতদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মোস্তফা মাসুদ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি,২০২৬) কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলী সোহাল হোসেন জুয়েলের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা আখতার।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন অফিসার মাসুদুর রহমান। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা–০৩ (কালিগঞ্জ– আশাশুনি) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পদপ্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং মাইনোরিটি দলের প্রার্থী রুবেল হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রাজীব,কালিগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক নাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাইনুল ইসলাম খান এবং কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু,উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুল ওহাব ও সেক্রেটারি মোঃ আব্দুর রউফ। ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুর রহমান। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. হাফিজুর রহমান শিমুল উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মারুফ হাসান প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা, অনিয়ম কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন বক্তারা। সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি সকল পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য,উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

মোস্তফা মাসুদ: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপোষহীন নেতৃত্বদানকারী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক সাইফুল ইসলাম এবং কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুর রহমান যৌথ সঞ্চালনায় দায়িত্ব পালন করেন।মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ. এম. রহমাতুল্লাহ পলাশ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা.শফিকুল ইসলাম বাবু, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান বাপ্পি এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি. এম. রবিউল্লাহ বাহার।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসানুর রহমান,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান ফেরদাউস রনি, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করা হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মজিদ।পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ফারুক হোসেন।

জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে নারী কেলেঙ্কারি'র অভিযোগ শিক্ষক মনিরুলের বিরুদ্ধে" শিক্ষকতার মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ

মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় উজায়মারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন,যৌতুক দাবি ও অনৈতিক আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।পেশাগতভাবে একজন শিক্ষক হয়েও দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা,নিজেকে প্রভাবশালী মনে করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তার আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।এসব অভিযোগে শিক্ষকতার নৈতিকতা ও সামাজিক মর্যাদা গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি- ২০২৬) বেলা ১২টায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। এছাড়া আরো জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার গণপতি গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলামের কন্যা মোছাঃ সিনা আক্তার (৩১) বাদী হয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত (নং–০২)-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার স্বামী অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মনিরুল আলম (৪০), তার ভাই খায়রুল ইসলাম (৪৫) ও ভাবি সপ্না খাতুন (৩৫)-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে সিনা আক্তারের সঙ্গে মনিরুল আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অভিযুক্ত পক্ষ জোরপূর্বক নগদ টাকা, আসবাবপত্র, সেলাই মেশিন, ধান ঝাড়ার মেশিন, একটি গরু ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক আদায় করে।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মনিরুল আলম তার ভাই ও ভাবির প্ররোচনায় বাদীকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। অভিযোগে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার কথাও উল্লেখ রয়েছে।স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে অতীতেও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল। সে সময় প্রভাব ও নানা কারণে বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায়। নতুন করে মামলা দায়ের হওয়ায় পুরনো অভিযোগগুলোও সামনে আসছে, যা এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।আরও অভিযোগ রয়েছে, একজন শিক্ষক হয়েও তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে নিজেকে বড় কর্মকর্তা ভাবার ভঙ্গিতে চলাফেরা করতেন এবং নানা অজুহাতে প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতেন। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী জানান, পারিবারিক কারণ দেখিয়ে মনিরুল আলম তিন দিনের ছুটির আবেদন করেন। ছুটি শেষে ফোনে যোগাযোগ করে তিনি আরও কয়েকদিন ছুটি বাড়ানোর অনুরোধ জানান।অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল আলমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন,“বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানুয়ারী ৯, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন মুকুন্দপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু

মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দমধুসূদপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাদিজা খাতুন (৪৩) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।নিহত খাদিজা খাতুন ওই গ্রামের আশারাফ হোসেন মোড়লের স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে রান্নার প্রস্তুতির জন্য বৈদ্যুতিক ব্লেন্ডারে জিরা ও মরিচ গুঁড়া করছিলেন। মসলা গুঁড়া শেষ হওয়ার পর অসাবধানতাবশত ব্লেন্ডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করেই ভেতর থেকে মসলা বের করতে গেলে হঠাৎ তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় ব্লেন্ডারের ভেতরে হাত ঢোকানোর ফলে তার ডান হাতের চারটি আঙুল মারাত্মকভাবে কেটে দুই খণ্ড হয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্বজনরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও স্ট্রোকজনিত কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম এবং পুরো এলাকায় বিরাজ করছে গভীর শোকের ছায়া।

জানুয়ারী ৯, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পেলেন ‘মহান বিজয় গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড

মোস্তফা মাসুদ: সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ‘মহান বিজয় গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড -২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় চেয়ারম্যানের নিকট আনুষ্ঠানিক ভাবে এ সম্মাননা ও সনদপত্র হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয় ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যানের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে চেয়ারম্যান মো.জাহাঙ্গীর আলমের ধারাবাহিক ও আন্তরিক অবদান প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে এ সম্মাননা আমি বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করছি।উল্লেখ্য,বিজয় ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, মানবিক কার্যক্রম ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করে আসছে।

জানুয়ারী ৯, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরায় মিথ্যা ও বানোয়াট প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ

মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরায় অনিবন্ধিত "আপন বাংলার" মিথ্যা ও বানোয়াট প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারী -২০২৬ বিকাল সাড়ে ৩টায় কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার এর মাধ্যমে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম ওই অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিৰ্বাচনে বিএনপির মনোনীত ধানেরশীষের প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব কাজী মোঃ আলাউদ্দীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, "আপন বাংলা" নামক একটি নিউজ পোর্টালে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে ক্ষতিসাধন করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এছাড়াও একটি রাজনীতিক দলের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকের একাধিক ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ধানেরশীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ রূপে নিৰ্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের অপপ্রচার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নিৰ্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এসব তথ্য যাচাই না করে অসত্য এবং প্রার্থীর সম্মান ও ভাবমূর্তির মারাত্মক ক্ষতি করছে। ধানেরশীষের প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী মোঃ আলাউদ্দীন এই জনপদের সাবেক সফল সংসদ সদস্য হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমতাবস্থায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও নিৰ্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী উক্ত ফেসবুক পেজ/ আইডির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপপ্রচার বন্ধে নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে দ্রুত পদক্ষেপ একটি সুষ্ঠু নিৰ্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জানুয়ারী ৯, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে মোবাইল কোর্টে ট্রাফিক সার্জেন্টের ‘মুখ চেনা খাদিমদারি’ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

মোস্তফা মাসুদ: আইন কি সবার জন্য সমান-এমন প্রশ্ন ঘিরে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশের পরিচালিত মোবাইল কোর্টকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় স্বজনপ্রীতি, দ্বৈত নীতি ও বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশব্যাপী পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কালিগঞ্জ থানা ও প্রেসক্লাব সড়কে ট্রাফিক পুলিশের মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ হেলমেট না থাকা বা যানবাহনের কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলেই জরিমানা ও মামলা মোকাবিলা করতে বাধ্য হন। অভিযোগ রয়েছে,একই সময়ে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হেলমেট ও মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও ‘জামাই আদরে’ ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ সাধারণ চালক ও পথচারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ঘাটতি থাকলেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বৈষম্যমূলক আচরণে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক ব্যক্তি বলেন, “আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে এক শ্রেণির মানুষের জন্য ছাড় আর সাধারণ মানুষের জন্য কঠোরতা কেন।অনেকে এটিকে আইনের অপব্যবহার ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান, যা জনমনে আরও প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দেয়।উপজেলাবাসীর অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের নামে এ ধরনের দ্বৈত নীতি ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে জনআস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানুয়ারী ৯, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ বিষ্ণুপুরে মরহুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব বিষ্ণুপুর বাজার চত্বরে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাবেক বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জিএম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, বারবার নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ এবাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম। কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী তৌহিদ হাসান, ইসলাম সাতক্ষীরা - ০৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন এর ছোট পুত্র কাজী আসিফুর রহমান রাজু।সাতক্ষীরা পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান,বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শেখ আব্দুল করিম।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মারুফ বিল্লাহ ও রেজাউল করিম, প্রচার সম্পাদক আলতাফ হোসেন,ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ,১নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সভাপতি গোলাম বারী,ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ফিরোজ ঢালী সহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।দোয়া মাহফিলে বক্তারা মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়।

জানুয়ারী ৬, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের মামলা আদালতে"এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও একাধিকবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক উজায়মারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে সরজমিনে ও মামলা সূত্রে জানা যায়" সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত (নং–০২)-এ কালিগঞ্জ উপজেলার গনপতি গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলাম-এর কন্যা মোছাঃ সিনা আক্তার (৩১) বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় স্বামী মোঃ মনিরুল আলম (৪০), তার ভাই খায়রুল ইসলাম (৪৫) ও ভাবি সপ্না খাতুন (৩৫)-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়,২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে সিনা আক্তারের সঙ্গে মনিরুল আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অভিযুক্ত পক্ষ জোরপূর্বক নগদ টাকা, আসবাবপত্র,সেলাই মেশিন ,ধান ঝাড়ার মেশিন, একটি গরু ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক আদায় করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,স্বামী মনিরুল আলম তার ভাই ও ভাবির প্ররোচনায় আরও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে বাদীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। মামলার বর্ণনায় বলা হয়, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল দুপুরে মনিরুল আলমের বসতবাড়িতে ৩ লাখ টাকা যৌতুক আনতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীকে কাঠ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।পরবর্তীতে বাদীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়,গত( ৮ নভেম্বর) বাদীর পিত্রালয়ে মীমাংসার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক চলাকালে অভিযুক্তরা যৌতুক দাবি প্রত্যাহার না করে বরং পুনরায় মারধর ও হত্যার চেষ্টা চালায়। বাদীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বাদীর অভিযোগ, একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।মামলাটি ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত–২০০৩) এর ১১(খ), ১১(গ) ও ৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রেখেছেন বলে জানা গেছে।ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জানুয়ারী ৬, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে ২০টি পরিবারের মাঝে হুইল চেয়ার, ছাগল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

মোস্তফা মাসুদ: প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি করে জীবনযাত্রায় সহযোগিতা করা প্রকল্পের আওতায় কৃষ্ণনগর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে অসহায় পরিবারের মাঝে হুইল চেয়ার, ছাগল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর সেন্টারে সুশীলনের ইসি কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক অধ্যাপক (অবঃ) আ.জ.ম গাজী আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি সুশীলনের পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টু'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি এম হাফিজুর রহমান শিমুল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুশীলনের নিবার্হী কমিটির সদস্য ইলাদেবী মল্লিক, শিক্ষিকা কণিকা রানি সরকার, সাংবাদিক আব্দুল করিম মামুন হাসান, শিমুল হোসেন, ফজলুল হক, আলমগীর হোসেন, তাপস ঘোষ ও সুশীলনের এডমিন সহকারী মাছুম বিল্লাহ। এসময়ে অসহায় প্রতিবন্ধী ২০টি পরিবারের হুইল চেয়ার, ১৬টি ছাগল ও ৭জন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ সময়ে সুশীলনের বিভিন্ন পর্যায়ের মাঠকর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের খুব্দীপুর–আব্দুলখালীতে শীতার্ত মানুষের পাশে মানবিক উদ্যোগদেড় শতাধিক কম্বল বিতরণ

মোস্তফা মাসুদ: শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের খুব্দীপুর ও আব্দুলখালী গ্রামে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। খুব্দীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রথম ধাপে দেড় শতাধিক (১৫০) কম্বল বিতরণ করা হয়। ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও সাংবাদিক এস. এম. গোলাম ফারুক এবং সৌদি প্রবাসী আব্দুল জলিলের অর্থায়ন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব শেখ গোলাম মাহমুদ এবং সঞ্চালনা করেন জাতীয় ধারাভাষ্যকার ইসমাইল হোসেন মিলন।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী শওকাত হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব গাজী শওকাত হোসেন বলেন, “শীত মৌসুমে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউপি সদস্য এস. এম. গোলাম ফারুক ও তাঁর চাচাতো ভাই সৌদি প্রবাসী আব্দুল জলিলের এই মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও অনুসরণযোগ্য। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন" কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বাচ্চু, কালিগঞ্জ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি এম. হাফিজুর রহমান শিমুল, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টু, ইউপি সদস্যা সুফিয়া বেগম, ইউপি সদস্য খায়রুল আলম রুবেল, সাবেক ইইপি সচিব সম আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. শাহাদাত হোসেন ও ফজলুর রহমান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বারী তরফদার, খুব্দীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্ধ্যা রানী বিশ্বাস, সহকারী শিক্ষক আইনুল হক, আব্দুল মাজেদ, মোক্তার হোসেন, সোহারাব হোসেন, আব্দুল করিম তরফদার, জয়নাল তরফদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।আয়োজকরা জানান, শীত মৌসুমজুড়ে পর্যায়ক্রমে আরও শীতবস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগে এলাকার শীতার্ত মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে ‘কল’ প্রকল্পের আওতায় মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম (MSP) গঠন ও পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত

মোস্তফা মাসুদ: লিডার্স-এর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল) প্রকল্পের আওতায় মাল্টি- স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম (MSP) গঠন ও পরিকল্পনা প্রণয়ন উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আহম্মদ আলী শাহ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি সাবিনুর রহমান।বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিসহ MSP কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন— ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউপি সদস্যা মোছাঃ সেলিনা ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ অধিকারী,লিডারর্স কল প্রকল্পের এগ্রিকালচার ও নিউট্রেশন অফিসার মোঃ বুলবুল হোসাইন, কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শিমুল হোসেন,প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান ইমরান হোসেন, গৌরপদ মন্ডল, ইমাম শরিফুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, কাকলী মন্ডল, জশিলমা পারভীন, আব্দুর রহমান, শেখ হোসেন আলী, সাবিনুর রহমান, মোঃ আঃ লতিফ, আবু বক্কার সিদ্দিক, সোহাগ হোসেন, সজল কুমার রায়,রাহুল রায়, কাকলি মন্ডল, মোঃ মনিরুজ্জামান, মোঃ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভায় MSP-এর মূলনীতি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন লিডার্স কল ফলো করবেন লিডারর্স কল প্রকল্পের এগ্রিকালচার ও নিউট্রেশন অফিসার মোঃ বুলবুল হোসাইন । বক্তব্যের শুরুতে উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি সাবিনুর রহমান পুষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বিশেষ করে জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন, টেকসই মৎস্য উৎপাদন এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “পুষ্টি চাহিদা পূরণে মাছের কোনো বিকল্প নেই।সময়মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই MSP-এর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। বিশেষ আলোচনায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ সবজি, মাছ, তেলজাতীয় বীজ, বাদাম, আমিষ ও শর্করা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি MSP কমিটিকে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মোঃ আহম্মদ আলী শাহ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সকল স্টেকহোল্ডারের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি সকল সদস্যের সহযোগিতা কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।সমগ্র সভাটি সঞ্চালনা করেন মোঃ মনিরুজ্জামান, লিডার্স প্রকল্প অফিস, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে জমি দখল ও পাঁকা ধান লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মোস্তফা মাসুদ: কালিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পাকা ধান কেটে নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী চন্ডিচরণ মন্ডল। তিনি উপজেলার মাদকাটী গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে। লিখিত বক্তব্যে চন্ডিচরণ মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, তিনি একজন নিরীহ হিন্দু সংখ্যালঘু ব্যক্তি। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তরিকুল ইসলাম (৪৫), মহব্বত গাজী (৪২) ও হান্নান গাজী (৫৫) সহ কয়েকজনের সঙ্গে তার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তিনি আরো জানান, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অভিযুক্তরা গুন্ডা বাহিনী নিয়ে তার ভোগদখলীয় ও রেকর্ডীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জমির পাঁকা ধান কাটতে শুরু করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কালিগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধান কাটা বন্ধ করে এবং কর্তনকৃত ধান জব্দ করে। উভয় পক্ষকে কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা থানায় উপস্থিত হয়নি।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্তরা লোহার রড, শাবল, কাঁচি, কোদাল, দড়ি, বাঁশের লাঠি ও বড় টর্চলাইটসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় তার জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক পাঁকা ধান কেটে নিয়ে যায়। বাঁধা দিতে গেলে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রাণভয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। চন্ডিচরণ মন্ডল আরও দাবি করেন, এর আগেও তার রেকর্ডীয় জমির প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ বিঘার মধ্যে ৮ বিঘা এবং ১৭ বিঘার মধ্যে ৭ বিঘা জমির ধানও একইভাবে অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লুট করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান, জোরপূর্বক কাটা ধানের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি টেলিভিশন চ্যানেল, পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, অভিযোগকৃত জমি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মাদকাটী মৌজার অন্তর্ভুক্ত, যার মোট পরিমাণ ১.১৫ একর বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপদ মন্ডল, কনক চন্দ্র মন্ডল. বিমল মন্ডল. অলকেশ মন্ডল. নিরঞ্জন মন্ডল প্রমুখ।

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ 0
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানে বাজারাঞ্চল এখন ধ্বংসস্তূপ: বৈষম্যের অভিযোগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের

মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা যেন একদিনেই মরুভূমির দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। দিনব্যাপী পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের পর একসময়ের জমজমাট বাজার, ফিলিং স্টেশনসহ অসংখ্য ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ আর শূন্যতা। যেখানে প্রতিদিন মানুষের ভিড়, পণ্য উঠানামা ও ব্যবসায়িক লেনদেন চলত, আজ সেখানে কেবল ভাঙা টিন, বেঁকে যাওয়া কাঠ, ছড়িয়ে থাকা ইট-পাথর আর নির্জন নিস্তব্ধতা। উচ্ছেদের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলেন, বহু বছরের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও স্থিতিশীল জীবনের ভরসা মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কারও দোকান ছিল সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস, কেউবা নিজের হাতে গড়া ছোট ব্যবসাটিই ছিল জীবনের সম্বল। অভিযানের পর তারা এখন দিশেহারা। এদিকে অভিযানে বড় ধরনের বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ উচ্ছেদকর্মে অর্থনৈতিক লেনদেন ও প্রভাবশালীদের ইঙ্গিত অনুযায়ী কিছু স্থাপনা রক্ষা পেলেও সাধারণ মানুষের দোকান-ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এমন আকস্মিক উচ্ছেদ বহু মানুষের জীবিকা বিপন্ন করে তুলেছে। তারা সরকারের কাছে মানবিক বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ন্যায্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযান পরবর্তী কালিগঞ্জ এখন ভাঙা স্থাপনার শুকনো ধুলোয় ঢেকে থাকা এক নিশ্চুপ জনপদ।যেখানে মানুষের চোখে কেবল শূন্যতা আর ভাঙাগড়ার তীব্র বেদনা।

ডিসেম্বর ৫, ২০২৫ 0
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

নারী সংস্কার কমিশন: বায়তুল মোকাররমের মিম্বর থেকে

[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا  فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু  তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا  وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ  تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না;  মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত  তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত,  সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে  নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল।  তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা।   যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য।  ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

শীর্ষ সপ্তাহ

টাঙ্গাইলে নদী উদ্ধার প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি ও অপপ্রচার
আইন-অপরাধ

টাঙ্গাইলে নদী উদ্ধার প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি ও অপপ্রচার

মুক্তধ্বনি ডেক্স এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0

ভোট জরিপ

নির্বাচনের দিন গণভোট আপনি সমর্থন করেন ?