টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইল গ্রামের প্রবাসী আমিনুল সিদ্দিকীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গু লি করে হ- ত্যা করেছে দু/র্বৃ/ত্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমিনুল সিদ্দিকীর মৃত্যুর খবরে গোড়াইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনরা বিলাপ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর হামলা-নিপীড়নের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রবাসী কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পোস্টাল ভোট নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় পর্তুগাল বিএনপির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার স্থানীয় সময় লিসবনের একটি হল রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পর্তুগাল বিএনপির আহবায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন— “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনের প্রকৃত তাৎপর্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। আজ আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন।” তিনি পর্তুগাল বিএনপির সফল আয়োজনের প্রশংসা করে আরও জানান, দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অসাংগঠনিক কার্যক্রম করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে আহবায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার বলেন— “পর্তুগালে বসবাসরত যোগ্য ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে। পদ-পদবীর লোভে যারা অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট দেওয়ার সকল নিয়ম-কানুন বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন— “দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নিয়মে পোস্টাল ভোট দিলে দেশ ও গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।” তিনি ৫ আগস্ট বেগম জিয়ার সাথে ফিরোজায় সাক্ষাতের সময় পর্তুগাল বিএনপি ও প্রবাসীদের বিষয়ে যেসব আলোচনা হয়েছিল—সেগুলোর কথাও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— যুগ্ম আহবায়ক শামসুজ্জামান জামান, মিজানুর রহমান শাহ জামাল, এম কে নাসির, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ ফাহিম, পর্তুগাল বিএনপির সদস্য বদরুল আলম, শাহাব উদ্দীন, রুবেল চৌধুরী, জুবেল আহমদ, জায়েদ আহমদ, বেজা বিএনপির সভাপতি মইনুল ইসলাম, সান্তারাইম বিএনপির আহবায়ক সোহেল চৌধুরী, আলগ্রাভ বিএনপি নেতা এম তাহের, সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আজীম চৌধুরী গিলমান, বিএনপি নেতা আলী আকবর জুয়েল, কাজী জুয়েল, শাহান উমর, সোহেল মিয়া, জাসাস সদস্য সচিব কাজী মইনুর, যুবদল নেতা মাজেদ আহমদ সামী, এস এম কাওসার আলম, মর্তুজ আলী, যুবনেতা আব্দুল ওয়াদুদ মোহন প্রমুখ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— আব্দুল আজিজ, মহদ আজাদ, মন্জুর এলাহী, মাহাদী মুন্না, আব্দুল ওয়াদুদ অনিক, দেলোয়ার খান, আরাফাত, আদনান ওলি, নাইম, তারেক, শুভ, ইকবাল, রাফিউজ্জামান খান, সায়েম তালুকদার, মসতফা কামাল, আলমগির হোসেন, মোহাম্মদ সৈইকত, আহমদ লিমন, রিয়াদ আহমদ, রাশেদ মাহমুদ, আবু নাইম, পাপ্পু হাসান, রাহিদ মিয়া, এস কে মুহিব, সামাদ রাজিবসহ আরও অনেকে। এছাড়া ভেজা বিএনপি থেকে উপস্থিত ছিলেন—আবু বকর, শফিক মিয়া, জদর আলী, আতিকুর রহমান, মাহবুব আলম, আলাল আহমদ, জামিল আহমেদ, শাওন মিয়া, শামসুল হক। আল্গ্রাভ বিএনপি থেকে উপস্থিত ছিলেন—আবু সাইদ, মো. নুরুজ্জামান, মো. তাহির হোসেন, মো. দেলওয়ার হোসাইন, মো. ইমরান প্রমুখ। আলোচনা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ সম্পন্নতা এবং দেশের সার্বিক শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন লিসবন বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মাওলানা কায়েস আহমেদ আব্দুল্লাহ।
পর্তুগাল বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ও পোস্টাল ভোটিং সম্পর্কে পর্তুগাল প্রবাসীদের মধ্যে জনসচেতনা বৃদ্ধি করতে আলোচনা সভা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। ৩০ শে নভেম্বর পর্তুগালের টেস্টি অব লিসবনে পর্তুগাল সময় রাত ৮:৩০ ঘটিকায় এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জনাব, আনোয়ার হোসেন খোকন। সভাপতিত্ব করবেন পর্তুগাল বিএনপির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার ও সঞ্চালনায় থাকবেন পর্তুগাল বিএনপির সদস্য সচিব ছায়েফ আহেমদ সুইট সহ পর্তুগাল বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল নিয়ে পর্তুগাল বিএনপির আহব্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার ও সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট জানান, "আজকের এই আলোচনা সভায় প্রবাসীদের মধ্যে পোস্টাল ভোটিং সম্পর্কে জনসচেতনা কে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ নেত্রীর দ্রুত রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে এবং তারা পর্তুগাল বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানান"।
মালদ্বীপের হুলহুমালে’ সমুদ্রবন্দর থেকে চোরাচালানকৃত সিগারেটের দুটি কন্টেইনার চুরির ঘটনায় একজন বাংলাদেশি নাগরিক মো: আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আজ ১৬ নভেম্বর, রবিবার এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মোট সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। পুলিশ জানায়, চুরি হওয়া সিগারেটের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ পিস, যার বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। ঘটনাটিকে বড় ধরনের সংগঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি মো: আল আমিনকে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পুলিশ আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং পুরো চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে
হিজরি তারিখ লোড হচ্ছে...
তারিখ লোড হচ্ছে...
ঢাকা, বাংলাদেশ
সময় লোড হচ্ছে...
বর্তমান সময়
| নামাজ | সময় | অবস্থা |
|---|
বর্তমান নামাজ: লোড হচ্ছে...
বিভাগ, জেলা বা উপজেলা নির্বাচন করে সংবাদ দেখুন
গাজার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন তর্ক তুঙ্গে, তখন খুব বেশি শব্দ না করেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে হামাস। যুদ্ধবিরতির পরদিই দেখা যায়—ইসরাইল সেনারা যে অঞ্চলগুলো ছাড়ছে, সেসব জায়গায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে টহল দিচ্ছে হামাসের সদস্যরা। গাজার অভ্যন্তরে প্রশাসনিক কাজও এখন তাদের হাতেই। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কর আদায়, শুল্ক নির্ধারণ—সবই চলছে হামাসের নির্দেশনায়। স্থানীয়দের দাবি, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মূল্যবৃদ্ধির জন্য তারা নয়; বরং সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরাই দায়ী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। তাদের মতে, পণ্যের উপর কর বসিয়ে এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে হামাস, আর তাই তারা কোনোভাবেই চাইছে না দলটি আবারো সরকার পরিচালনা করুক। অন্যদিকে গাজা থেকে হামাসকে সরানো বা নিরস্ত্র করার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এক অবস্থানে থাকলেও এর বিরোধিতা করছে রাশিয়া, চায়না এবং কয়েকটি আরব রাষ্ট্র। পশ্চিমাদের পছন্দ মাহমুদ আব্বাসের প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক কোনো অন্তর্বর্তী সরকার—যেমন টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে। কিন্তু এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক শক্তি মানতে নারাজ। মাঠের বাস্তবতা বলছে—ইসরাইল দুই বছর ধরে গাজার ৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। যুদ্ধবিরতির পর তাদের অবস্থান সরে এলেও এখনো প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা তাদের দখলে। বাকি ৪৭ শতাংশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২০ লাখ মানুষ, যাদের জীবনযাত্রা পরিচালিত হচ্ছে হামাসের কাঠামোর ভেতরেই। ২০০৭ সালে ফাতাহ ও মাহমুদ আব্বাসের প্রশাসন থেকে গাজার ক্ষমতা নেয় হামাস। তারপর থেকে অঞ্চলটির প্রশাসন, নিরাপত্তা এবং বাজারব্যবস্থার সব ক্ষেত্রই ধীরে ধীরে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও দলটির কাঠামো এখনো সক্রিয়। নিহত চার গভর্নরের জায়গায় নতুন চারজনকে নিয়োগ দিয়েছে তারা, আর সরকারি কর্মচারীরাও প্রতি মাসে বেতন পেয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন—হামাস স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গাজাকে ঘিরে যে কোনো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ তাদের বাইরে রেখে তৈরি করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন যত বাড়ছে, তাদের অবস্থান ততই আরও দৃঢ় হয়ে উঠছে।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। দুই পক্ষের দেওয়া ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের কারণে সঠিক হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি, তবে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানায়, বুধবার ভোরে বেলুচিস্তান সীমান্তে তালেবান বাহিনী পাকিস্তানি অবস্থানের ওপর বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। সংঘর্ষটি স্পিন বোলদাকের নিকটবর্তী সীমান্ত অঞ্চলে শুরু হয়। পাক নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক ঘণ্টার তীব্র লড়াইয়ের পর হামলাটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবান যোদ্ধারা চারদিক থেকে একযোগে হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরক্ষা ভাঙার উদ্দেশ্যে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা জবাবে ১৫ থেকে ২০ জন তালেবান নিহত হয় এবং কয়েকজন আহত অবস্থায় আফগানিস্তান সীমান্তের ভেতরে পালিয়ে যায়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনাপূর্ণ”। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং মাঝে মাঝে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাবর্ষণের পর তালেবান যোদ্ধারা পাল্টা হামলায় “পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়”। তিনি বলেন, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে এবং কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। মুজাহিদ আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ১২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। তবে তার এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইসলামাবাদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনার সর্বশেষ উদাহরণ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, নতুন এই সংঘর্ষ দুই প্রতিবেশীর ইতোমধ্যেই নাজুক কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তারা বলেন, সীমান্তে সহিংসতা চলতে থাকলে বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা এবং সীমান্ত পারাপারে নির্ভরশীল বেসামরিক জনগণের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা ইসলামাবাদ ও কাবুল উভয় পক্ষকেই আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা যোগাযোগ চ্যানেল পুনরায় চালু করে এবং যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। নতুবা সীমান্ত অঞ্চলের এই অস্থিতিশীলতা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গাজা সিটিতে হামাস নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র দঘমুশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বৃহৎ সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পর এটি গাজার সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চোখো দেখা সাক্ষীরা জানান, গাজা সিটির জর্ডানিয়ান হাসপাতালের কাছে মুখোশধারী হামাস যোদ্ধারা দঘমুশ গোত্রের যোদ্ধাদের সঙ্গে গুলি বিনিময় করেন। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সশস্ত্র সদস্যদের আটক করতে তীব্র লড়াই শুরু করে। মন্ত্রণালয় জানায়, “একটি সশস্ত্র মিলিশিয়ার হামলায়” তাদের আট সদস্য নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে দঘমুশ পরিবারের ১৯ সদস্য ও হামাসের আট যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। চোখো দেখা সাক্ষীরা বলেন, দক্ষিণ গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন ৩০০-র বেশি হামাস যোদ্ধা একটি আবাসিক ভবন ঘিরে ফেলে, যেখানে দঘমুশ পরিবারের সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভারী গুলিবর্ষণের মধ্যে বহু পরিবার ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় — যাদের অনেকেই যুদ্ধ চলাকালীন একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। একজন বাসিন্দা বলেন, “এইবার মানুষ ইসরায়েলি হামলা থেকে নয়, নিজেদের লোকের কাছ থেকে পালাচ্ছিল।” দঘমুশ পরিবার গাজার অন্যতম প্রভাবশালী গোত্র, যাদের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। এর আগেও তাদের মধ্যে একাধিকবার সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করার চেষ্টা করছে এবং সতর্ক করেছে যে “প্রতিরোধের কাঠামোর বাইরে কোনো সশস্ত্র কর্মকাণ্ড” কঠোরভাবে দমন করা হবে। উভয় পক্ষ একে অপরকে সংঘর্ষ শুরু করার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। হামাসের দাবি, দঘমুশ পরিবারের বন্দুকধারীরা তাদের দুই সদস্যকে হত্যা ও পাঁচজনকে আহত করার পর তারা অভিযান চালাতে বাধ্য হয়। তবে দঘমুশ পরিবারের এক সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, হামাস বাহিনী গাজা সিটির প্রাক্তন জর্ডানিয়ান হাসপাতাল ভবনে আসে, যেখানে দঘমুশ পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল— কারণ তাদের আল-সাবরা এলাকার বাড়িগুলো সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই সূত্রের দাবি, হামাস ওই ভবনটি নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য পরিবারটিকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ার পর হামাস প্রায় ৭,০০০ নিরাপত্তা সদস্যকে আবার মোতায়েন করেছে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। খবরে আরও জানা গেছে, হামাসের সশস্ত্র ইউনিটগুলো ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় মোতায়েন হয়েছে— কেউ বেসামরিক পোশাকে, আবার কেউ গাজা পুলিশের নীল ইউনিফর্মে। তবে হামাসের গণমাধ্যম দপ্তর দাবি করেছে, “রাস্তায় কোনো যোদ্ধা মোতায়েন করা হয়নি।”
দেশের কওমি ও আলিয়া মাদরাসা সংশ্লিষ্ট মেধাবী আলেমদের উচ্চশিক্ষায় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে, যার আওতায় নির্বাচিত আলেমরা বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাবেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা (বক্তব্যের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আলেমদের জ্ঞানগত মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতার বিকাশে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। বক্তব্যে জানানো হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কলারশিপের আওতায় আলেম ও ইমামরা মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরবের উম্মুল কুরা ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ এবং তুরস্কের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে ইসলামিক স্টাডিজ, কোরআনিক সায়েন্স, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (ইন্টার-রিলিজিয়ন স্টাডিজ) এবং ইসলামিক ফিকহ-এর মতো বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য তাদের বিদেশে পাঠানো হবে। এই স্কলারশিপের জন্য একাডেমিক এক্সিলেন্স বা মেধার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। যাদের শিক্ষাজীবনে চারটি প্রথম শ্রেণি বা সমমানের ফলাফল রয়েছে, তারা অগ্রাধিকার পাবেন। উপদেষ্টা বলেন, "প্রয়োজনে একজন ছাত্রের পেছনে এক কোটি টাকা খরচ করতে হলেও আমরা সেই বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। আমরা চাই আমাদের আলেমরা বিশ্বমানের ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখুক।" স্কলারশিপের পাশাপাশি কওমি ধারার আলেমদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা জানান উপদেষ্টা। তিনি জানান: মাস্টার্স সমমান: শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে কওমি সনদকে (আল হাইয়াতুল উলইয়া) মাস্টার্সের সমমান দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগ: সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব ও পুলিশে রিলেজিয়াস ইন্সপেক্টর ও ইমাম পদে কওমি আলেমদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মডেল মসজিদ ও দারুল আরকাম: মডেল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন বৃদ্ধি এবং দারুল আরকাম প্রকল্পের স্থায়ীকরণের জন্য কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, শিক্ষক বা কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষার মতো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া (লিখিত ও ভাইভা) অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা তদবিরের সুযোগ রাখা হয়নি। উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, "আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নিতে চাই। তবে যতক্ষণ দায়িত্বে আছি, আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাব।"
ঢাকা, বাংলাদেশ – ফেডারেশন অফ খতমে নবুয়ত কাউন্সিলের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসা মাওলানা ফজলুর রহমান সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী গ্রাউন্ডে এক জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও খতমে নবুয়তের অটল বিশ্বাসের উপর গুরুত্বারোপ করেন। মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে কোনো নবী আসতে পারবেন না। যারা নবুতার দাবি করবে, তারা ইসলামের সীমার বাইরে বিবেচিত হবেন।” তিনি বাংলাদেশের মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সভায় অংশগ্রহণ করে তারা একতা ও ঐক্য দেখিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “খতমে নবুয়ত আন্দোলনের লক্ষ্য হলো সহিংসতা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও নেতৃত্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।” ফজলুর রহমান পাকিস্তান থেকে আগত বিশিষ্ট উলামাদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভাইত্ব ও সুসম্পর্ককে শক্তিশালী করার বার্তা দেন। সভায় মাওলানা ফজলুর রহমান এবং অন্যান্য উলামারা দুই দেশের মুসলমানদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মুসলমানরা এক উম্মাহ, এক জামাত। আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী হবে।” সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা: মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখার উপর গুরুত্ব। খতমে নবুয়তের অটল বিশ্বাস ও তার সুরক্ষা। দুই দেশের মুসলমানদের মধ্যে ভাইত্ব ও সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নতুন ইসলামপন্থী জোট গঠনের পথে কওমি ঘরানার অন্তত পাঁচটি দল। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে তফসিল ঘোষণার পরপরই। ইতিমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। সূত্র জানায়, শরিকদের কাছে শতাধিক আসন ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, আকিদাগত দ্বন্দ্ব ভুলে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের অভিপ্রায় থেকেই তারা আসন সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রায় ১০০ আসন, মামুনুল হক নেতৃত্বাধীন দল ৫০ আসন এবং বাকি তিনটি ইসলামপন্থী দল ৭০ থেকে ৮০ আসনের দাবি জানিয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্র বলছে, যেখানে ইসলামপন্থী প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে একক প্রার্থী দেয়া হবে। এদিকে, বিএনপি এই জোট নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। দলটির নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, “অনেক জিরো প্লাস জিরো প্লাস জিরো ইজ জিরো। ইসলামের জিকির তুলে নির্বাচনের আগে রাজনীতি করা দেশের জন্য সঠিক আচরণ নয়।” অন্যদিকে, বিএনপিও ইসলামপন্থী কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। জানা গেছে, কওমি ঘটনার পুরনো দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামীর চার নেতাকে নির্বাচনী কাজে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামপন্থী দলগুলোর এই নতুন সমঝোতা নির্বাচনে ভোটের মাঠে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করবে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, জোট ক্ষমতায় গেলে কে নেতৃত্ব দেবেন বা কে হবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা।
বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)এর সাবেক মহাপরিচালক, খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস মাওলানা জোবায়ের আহমদ চৌধুরী ইন্তিকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন) আজ ১৫ রমজান (৭ এপ্রিল) শুক্রবার ইফতারের আগ মুহূর্তে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
মোস্তফা মাসুদ: প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি করে জীবনযাত্রায় সহযোগিতা করা প্রকল্পের আওতায় কৃষ্ণনগর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে অসহায় পরিবারের মাঝে হুইল চেয়ার, ছাগল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর সেন্টারে সুশীলনের ইসি কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক অধ্যাপক (অবঃ) আ.জ.ম গাজী আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি সুশীলনের পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টু'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি এম হাফিজুর রহমান শিমুল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুশীলনের নিবার্হী কমিটির সদস্য ইলাদেবী মল্লিক, শিক্ষিকা কণিকা রানি সরকার, সাংবাদিক আব্দুল করিম মামুন হাসান, শিমুল হোসেন, ফজলুল হক, আলমগীর হোসেন, তাপস ঘোষ ও সুশীলনের এডমিন সহকারী মাছুম বিল্লাহ। এসময়ে অসহায় প্রতিবন্ধী ২০টি পরিবারের হুইল চেয়ার, ১৬টি ছাগল ও ৭জন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ সময়ে সুশীলনের বিভিন্ন পর্যায়ের মাঠকর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা যেন একদিনেই মরুভূমির দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। দিনব্যাপী পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের পর একসময়ের জমজমাট বাজার, ফিলিং স্টেশনসহ অসংখ্য ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ আর শূন্যতা। যেখানে প্রতিদিন মানুষের ভিড়, পণ্য উঠানামা ও ব্যবসায়িক লেনদেন চলত, আজ সেখানে কেবল ভাঙা টিন, বেঁকে যাওয়া কাঠ, ছড়িয়ে থাকা ইট-পাথর আর নির্জন নিস্তব্ধতা। উচ্ছেদের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলেন, বহু বছরের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও স্থিতিশীল জীবনের ভরসা মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কারও দোকান ছিল সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস, কেউবা নিজের হাতে গড়া ছোট ব্যবসাটিই ছিল জীবনের সম্বল। অভিযানের পর তারা এখন দিশেহারা। এদিকে অভিযানে বড় ধরনের বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ উচ্ছেদকর্মে অর্থনৈতিক লেনদেন ও প্রভাবশালীদের ইঙ্গিত অনুযায়ী কিছু স্থাপনা রক্ষা পেলেও সাধারণ মানুষের দোকান-ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এমন আকস্মিক উচ্ছেদ বহু মানুষের জীবিকা বিপন্ন করে তুলেছে। তারা সরকারের কাছে মানবিক বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ন্যায্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযান পরবর্তী কালিগঞ্জ এখন ভাঙা স্থাপনার শুকনো ধুলোয় ঢেকে থাকা এক নিশ্চুপ জনপদ।যেখানে মানুষের চোখে কেবল শূন্যতা আর ভাঙাগড়ার তীব্র বেদনা।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীপুরের বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে রবিবার (২৩ নভেম্বর ২০২৫) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। সার্জিকাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং এম.বি.বি.এস (এস. ইউ. এস.টি) সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়বুর রহমান এবং ডা. ফারহানা তাসনিমের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মানবিক উদ্যোগে সকাল থেকেই ভিড় জমায় এলাকার শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষ।দিনব্যাপী চিকিৎসা সেবার অংশ হিসেবে প্রদান করা হয় সাধারণ রোগ, চর্মরোগ, শিশুরোগ, নারীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যপরামর্শসহ নানা সেবা। উপস্থিত রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সহ-সভাপতি হামিদুল ইসলাম, ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, সুপার হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী সদস্য মোবারক আলী ও মোকসেদ সরদার।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সার্জিকাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আব্দুস সালাম, গ্রাম্য ডাক্তার আবুল কাশেম ও খায়রুল আনামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। চিকিৎসাসেবা দিতে আসা চিকিৎসকরা জানান,সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের ক্যাম্প অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানান, সামনের দিনগুলোতেও অসহায়, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য এমন বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা আরও বলেন, “মানবতার সেবা একটি চলমান প্রক্রিয়া। সমাজের সহায়শীল সবাই এগিয়ে এলে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।” এ ক্যাম্পকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা যায় গভীর সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা।মানবিক এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়নের থালনা দক্ষিণপাড়ায় এক অসহায় পরিবারের ওপর চরম হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় এক চিটার ও মামলাবাজ চক্রের নেতৃত্বে চলছে এই অমানবিক নির্যাতন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কুখ্যাত প্রতারক কার্তিক চন্দ্র সরকার—যিনি তার সহযোগীদের নিয়ে নিরীহ ও গরিব গাজী পরিবারকে বারবার মিথ্যা মামলা ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বিপর্যস্ত করে তুলেছেন। থালনা দক্ষিণপাড়ার ইউসুফপুর গ্রামের আলী বাক্স গাজীর দুই ছেলে আকিম গাজী (৩৬) ও তকিম গাজী (৩৮) বহু বছর ধরে সরকারি পজিশন জমিতে একটি ছোট টিনের ঘর ও সিমেন্ট পাইপের ছাউনি দেওয়া ছাপড়া ঘরে বসবাস করে আসছেন। এই জায়গায় বসবাসের জন্য তারা এক সময় স্থানীয়দের পরামর্শে টাকা দিয়ে বসবাসের অনুমতি পান। কিন্তু পরবর্তীতে কার্তিক চন্দ্র সরকার পুনরায় অর্থ দাবি করলে গাজী পরিবার তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সেই থেকেই শুরু হয় একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ, মামলা ও ষড়যন্ত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,“থালনা দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন শ্মশান ঘাট ও শ্রীশ্রী তারকনাথ বাবার ধাম কমিটি”র নাম ব্যবহার করে কার্তিক চক্র বিভিন্ন সময় এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি প্রশাসনের কাছে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে পরিবারকে অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করারও চেষ্টা চালায়। সরজমিনে গেলে দেখা যায়, উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। ভাঙা টিনের টুকরো, সিমেন্ট পাইপের ভাঙা অংশ আর কান্নায় ভেজা এক পরিবার—এই যেন প্রতারণার এক বাস্তব চিত্র।পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা কারও জায়গা দখল করিনি, বৈধভাবে এখানে ছিলাম। হঠাৎ একদিন উচ্ছেদের নামে আমাদের মাথার ওপরের ছাউনিটা পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হলো। এখন আমরা পথে বসে আছি।স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনি, আজিজুর রহমান, জয়ন্ত কুমার ও নজরুল ইসলাম জানান “এই পরিবার শান্তিপ্রিয় ও পরিশ্রমী মানুষ। চিটার কার্তিক চন্দ্র সরকার ও তার দলবল টাকার লোভে পড়ে এই পরিবারটিকে উচ্ছেদ করিয়েছে। প্রশাসন যেন প্রকৃত সত্য যাচাই করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে গাজী পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু অভিযুক্তদের প্রভাব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে প্রকৃত সত্য যাচাই ছাড়াই অভিযানটি পরিচালিত হয়।স্থানীয়রা দাবি করেন,“চিটার কার্তিক চন্দ্র সরকার ও তার মামলাবাজ চক্রকে আইনের আওতায় আনা না হলে, তারা আরও নিরীহ পরিবারকে একইভাবে সর্বস্বান্ত করবে। এলাকাবাসী প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তদন্ত ও অবিলম্বে চিটার কার্তিক চন্দ্র সরকারসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন,ন্যায়বিচার পেলে শুধু একটি পরিবারই নয়, পুরো এলাকা প্রতারক ও মামলাবাজদের হাত থেকে মুক্তি পাবে।এ বিষয়ে অসহায় দিনমজুর আকিম গাজী ও তকিম গাজী তারা বলেন" চাম্পাফুল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ ও ইউপি সদস্য আবুল কালাম সহ একাধিক ব্যক্তি বিষয়টি জানেন এই চিটার কার্তিক চন্দ্র আমার কাছে এই পজিশনের সরকারি জায়গাটি বিক্রি করে টাকা নিয়ে তারপরে আবারো টাকার দাবি করেন। আমি দিতে অস্বীকার করাই ,আমার নামে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দিতে থাকেন বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসী ও জানেন। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ৪০ টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে জেলা পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় মোট ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সম্মানিত পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যরা মাঠে নেমে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা, মাদক ও অন্যান্য উদ্ধারজনিত মামলা এবং পরোয়ানামূলে এই ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানকালে পরিচালিত মাদকবিরোধী বিশেষ তল্লাশিতে ২৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ আরও জানায় মাদক সন্ত্রাস চুরি ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয় অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য দিন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের সেবা নিন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করলে অপরাধ দমন আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে টানা অভিযান শনিবার ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযানে প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক সন্ত্রাস চুরি ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যরা দিন–রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচালিত অভিযানে প্রিভেন্টিভ মামলায় নিয়মিত মামলায় এবং আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশ আরও জানায় টাঙ্গাইলকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের ব্যাপক অভিযান গ্রেফতার ২৬ টাংগাইল জেলার মাদক বিরোধী অভিযানে ব্যাপক পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় ২৬ জন গ্রেফতার ০২ জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।টাঙ্গাইলে অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযানে মাদকদ্রব্য ও মামলা/পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতারের লক্ষে জেলার সকল থানা/ ইউনিটের ইনচার্জসহ সবাইকে মাঠে থেকে কঠোর অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ প্রদান করেন সম্মানিত পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল মহোদয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘন্টায় প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা মাদক ও অন্যান্য উদ্ধারজনিত এবং পরোয়ানামূলে সর্বমোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে মাঠে নেমে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে এসব গ্রেফতার করা হয়।অভিযানকালে প্রিভেন্টিভ ও নিয়মিত মামলার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্ত মামলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে পুলিশ। মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানায়, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও অপরাধ নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ২৪ টাঙ্গাইলে অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং টাঙ্গাইল জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের নির্দেশনা দিয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করেন সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে প্রিভেন্টিভ, নিয়মিত মামলা, মাদক ও অন্যান্য উদ্ধারসংক্রান্ত মামলা এবং পরোয়ানামূলে সর্বমোট ২৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি পৃথক এক অভিযানে ২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ২ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় জেলা পুলিশ।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে—অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য দিনটাঙ্গাইল জেলা পুলিশের সেবা নিন।
তারিখ ২২/১২/২০২৫ইং রবিবার দিবাগত রাত ২ট১০মিনিটের সময় পাইকড়া দক্ষিন পাড়া চকের বাড়ি। কালিহাতী উপজেলা টাঙ্গাইল জেলার। মৃত্যু আঃ মোতালেব মিয়া মাষ্টার সাহেবর স্ত্রী বাধক্য জনিত কারনে এই দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। তাহার মৃত্যু কালে বয়স ছিল ৮৩বসর৫মাস৮দিন। তাহার ৯ছেলে ও ১মেয়েছিল। মৃত্যু কালে ৭ছেলেও১মেয়েরেখে গেছেন। তাহার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং সকলের কাছে নিজগোনে খমা চেয়েছেন ছেলে। আজ সোমবার দুপুরে যোহরের নামাজ আদায় পড়ে জানাজা উনোঠিত হবে পাইকড়া ঈদগাহ মাঠে সকলে জানাজায় নামাজে সরিক হয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করোন।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
কুরআন হলো ইসলামের প্রধান ধর্মগ্রন্থ, যা বিশ্বমানবতার জন্য সর্বশেষ ও চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী, যা জিবরাইল (আ.) ফেরেশতার মাধ্যমে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। কুরআন শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ নয়; এটি মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে আলোর দিশারী। কুরআনের সংজ্ঞা ও পরিচিতি কুরআন শব্দটি আরবি "قرأ" (ক্বারা'আ) মূল ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "পড়া" বা "তিলাওয়াত করা"। এটি ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ, যা ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে। এতে রয়েছে ১১৪টি সূরা, ৬২৩৬টি আয়াত এবং অসংখ্য বিধিবিধান, নীতি ও দিকনির্দেশনা যা মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। কুরআন অবতীর্ণের প্রক্রিয়া কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে: ১. লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ কুরআন অবতীর্ণের পূর্বেই আল্লাহ তাআলা এটি লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ করেছিলেন। এটি এমন এক মহাগ্রন্থ, যা আল্লাহর জ্ঞানের অংশ এবং যা পূর্বনির্ধারিত ছিল। ২. বাইতুল ইজ্জতে স্থানান্তর পরবর্তী ধাপে কুরআনকে সম্পূর্ণরূপে প্রথম আসমানে অবস্থিত "বাইতুল ইজ্জত" নামক স্থানে প্রেরণ করা হয়। এটি ছিল লাইলাতুল কদরের রাতে একবারে অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি।" (সূরা আল-কদর: ১) ৩. ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে অবতরণ বাইতুল ইজ্জত থেকে কুরআনের আয়াতসমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়। কুরআন প্রথমে মক্কায় ১৩ বছর এবং পরে মদিনায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়, পরিস্থিতি ও ঘটনার আলোকে নাজিল হয়। প্রথম ও শেষ অবতীর্ণ আয়াত কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াত ছিল: "পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আল-আলাক: ১) এবং সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত ছিল: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, আমার নেয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণযোগ্য করলাম।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩) কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্য কুরআন কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক। এর প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হলো: তাওহিদের প্রচার: আল্লাহর একত্ববাদকে প্রতিষ্ঠা করা। সঠিক পথের দিশা: মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ: উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেওয়া। আইন ও বিধিবিধান: সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন। কিয়ামতের প্রতি সতর্কতা: আখিরাত ও পরকাল সম্পর্কে দিকনির্দেশনা। উপসংহার কুরআন মানবজাতির জন্য এক পরিপূর্ণ জীবনবিধান। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। কুরআনের শিক্ষাকে সঠিকভাবে অনুধাবন ও পালন করা আমাদের কর্তব্য। যদি আমরা কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করি, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে পারব।
কুরআন হলো ইসলামের প্রধান গ্রন্থ, যা মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য সর্বোত্তম দিকনির্দেশনা প্রদান করে। তবে কুরআনের অনেক আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা বুঝতে তাফসির (ব্যাখ্যা) প্রয়োজন হয়। কুরআনের তাফসির কেবল ভাষাগত ব্যাখ্যা নয়, বরং এটি কুরআনের গভীর অর্থ ও প্রসঙ্গ বুঝতে সাহায্য করে। এই নিবন্ধে কুরআন ও হাদিসের আলোকে কুরআনের তাফসির কীভাবে করা হয় তা বিশদভাবে আলোচনা করা হবে। তাফসিরের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব ‘তাফসির’ শব্দটি আরবি فَسَّرَ (ফাস্সারা) ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো "ব্যাখ্যা করা", "উন্মোচন করা"। ইলমুত-তাফসির (তাফসিরবিদ্যা) হলো কুরআনের অর্থ, ভাষা, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করার বিজ্ঞান। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এটি এক মহা বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।" (সূরা ছাদ: ২৯) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কুরআনের অর্থ বোঝার জন্য গবেষণা ও চিন্তাভাবনা করা জরুরি, আর এটি সম্ভব তাফসিরের মাধ্যমে। কুরআনের তাফসির করার পদ্ধতি কুরআনের তাফসির করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে। এগুলো মূলত চারটি প্রধান উৎসের ভিত্তিতে করা হয়: ১. কুরআনের তাফসির কুরআন দ্বারা কুরআনের অনেক আয়াত অন্য আয়াতের ব্যাখ্যা করে। যখন কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হয়, তখন অন্য আয়াত দ্বারা তার অর্থ বোঝা যায়। উদাহরণস্বরূপ: সূরা ফাতিহার "সিরাতুল মুস্তাকিম" (সঠিক পথ) বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় সূরা আন-নিসার ৬৯ নম্বর আয়াতে, যেখানে বলা হয়েছে যে এটি নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের পথ। ২. কুরআনের তাফসির হাদিস দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন কুরআনের সর্বোত্তম ব্যাখ্যাকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কুরআন বোঝার ও বোঝানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন: "আমি তোমার প্রতি স্মরণিকা (কুরআন) নাজিল করেছি, যাতে তুমি মানুষকে ব্যাখ্যা করে দাও যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে।" (সূরা নাহল: ৪৪) উদাহরণ: সূরা বাকারা ২:২৮৫-তে ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে পাই, বিশেষ করে জিবরাইল (আ.)-এর হাদিসে। ৩. সাহাবিদের ব্যাখ্যা সাহাবিরা (রা.) সরাসরি নবী (সা.)-এর কাছ থেকে কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁরা কুরআনের সঠিক অর্থ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখতেন। তাই তাঁদের ব্যাখ্যা তাফসিরের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। উদাহরণ: ইবনে আব্বাস (রা.)-কে তাফসিরবিদদের নেতা বলা হয়। তিনি নবী (সা.)-এর কাছ থেকে সরাসরি তাফসির শিখেছেন। তাঁর ব্যাখ্যা বহু প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। ৪. তাবেয়ি ও সালাফদের ব্যাখ্যা তাবেয়িগণ সাহাবিদের থেকে কুরআনের ব্যাখ্যা শিখেছেন। তাদের ব্যাখ্যাগুলোও নির্ভরযোগ্য এবং তাফসিরে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: ইমাম মুজাহিদ, কাতাদা, হাসান বসরি প্রমুখ তাবেয়িরা কুরআনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ৫. ভাষা ও ব্যাকরণ অনুসারে তাফসির কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, তাই তাফসির করতে হলে আরবি ব্যাকরণ, শব্দতত্ত্ব, অলঙ্কার ও সাহিত্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাফসিরের ধরণ তাফসির সাধারণত দুইভাবে করা হয়: ১. তাফসির বিল মাসুর (প্রমাণিত সূত্রভিত্তিক তাফসির) এটি কুরআন, হাদিস, সাহাবি ও তাবেয়িদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে করা হয়। প্রসিদ্ধ তাফসির: তাফসির ইবনে কাসির তাফসির আত-তাবারি তাফসির আস-সা’দি ২. তাফসির বিল রাই (যুক্তি ও বিশ্লেষণভিত্তিক তাফসির) এটি ভাষা, ব্যাকরণ ও ব্যক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা হয়, তবে এটি নির্ভরযোগ্য হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। প্রসিদ্ধ তাফসির: তাফসির আল-জালালাইন তাফসির আল-কুরতুবি ভুল তাফসির থেকে বাঁচার উপায় কিছু মানুষ কুরআনের আয়াতকে ভুল ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই সঠিক তাফসিরের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত: ১. তাফসির কুরআন, হাদিস ও সাহাবিদের বক্তব্য অনুযায়ী হতে হবে। ২. ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ইসলামি স্কলারদের মতামত অনুসরণ করতে হবে। ৩. শুধু ভাষাগত অনুবাদ নয়, বরং আয়াতের শানে নুযুল (অবতরণের প্রেক্ষাপট) জানা জরুরি। ৪. বিদআত ও মনগড়া ব্যাখ্যা পরিহার করতে হবে। উপসংহার কুরআনের তাফসির একটি গভীর জ্ঞানসম্পন্ন শাস্ত্র, যা সঠিক পদ্ধতিতে করতে হয়। কুরআন, হাদিস, সাহাবি ও তাবেয়িদের বক্তব্যের আলোকে তাফসির করলে তা নির্ভরযোগ্য হয়। আজকের যুগে সঠিক ইসলামি স্কলারদের রচিত তাফসির অধ্যয়ন করে কুরআনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ আমাদের কুরআন বোঝার ও তা অনুসারে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন, আমিন।
এবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে জনগন: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ এবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন,দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসন তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে টুকু আরও বলেন, জনগণ সুযোগ দিলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোরগ্যাংমুক্ত একটি নিরাপদ ও উন্নত টাঙ্গাইল গড়ে তোলা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর–গোপালপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুস সালাম পিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি ২১ ডিসেম্বর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং ২৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। উল্লেখ্য, এই প্রথম টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তিন হেভিওয়েট নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত দুইজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। মনোনয়নপত্র দাখিল না করা দুই নেতা হলেন— বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহসীন হলের সাবেক জিএস সাইদুর রহমান সাঈদ সোহরাব এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দিপু হায়দার খান। তারা দু’জনই গত ১৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তিনজনের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ষষ্ঠবারের মতো দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে বাকি দুই নেতা আর মনোনয়নপত্র জমা দেননি। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সাংগঠনিক পদ-পদবী হারানোর শঙ্কা থেকেই তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। আবার অনেকের ধারণা, দলীয় উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এগোননি। উল্লেখ্য, সাইদুর রহমান সাঈদ সোহরাব ১৯৯৬ সালে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু করেছিলেন। তবে কয়েকদিন পর দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে বাদ দিয়ে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ঐ সময় থেকেই এই আসনকে কেন্দ্র করে দলীয় রাজনীতিতে নানা আলোচনা ও সমীকরণ তৈরি হয়। বিগত ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনসহ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী মোট ছয়বার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। টাঙ্গাইল-৭ আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থান থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি আর বিজয় নিশ্চিত করতে পারেননি। এদিকে, এই আসনে বিএনপির জেলা রাজনীতিতে পরিচিত মুখ টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং বাংলাদেশ ইট প্রস্তুত মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তার প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে সাইদুর রহমান সাঈদ সোহরাবের ঘনিষ্ঠজন ও পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার মোবারক হোসেন বলেন, “দলের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান ও আনুগত্য রেখে সাঈদ সোহরাব মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। তিনি সবসময় দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।” সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল-৭ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে মোট ৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যদিও এ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ১০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্ধারিত ছিল। শেষ দিনে কালিহাতী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীদের উপস্থিতি ও নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।কালিহাতী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র গ্রহণ শেষে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী নির্ধারিত দিনে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন,স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল জেলা নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কালিহাতী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি আলী আমজাদ হোসেন,স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিঞা,এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর আজীবন সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য অধ্যাপক ডা. শাহ আলম তালুকদার।এদিকে মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও শেষ পর্যন্ত দাখিল করেননি তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন— বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো, এনসিপির টাঙ্গাইল জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান বিন সিদ্দিক এবং বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস কালিহাতী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ আসনে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
টাঙ্গাইল-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়ন ফরম দাখিল করেন।মনোনয়ন জমাদানকালে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের সমর্থন জানান। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল বলেন, তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এ আসনে মনোনয়ন দাখিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে প্রকৃতি, তেল-সোনা-গ্যাস-খনিজ, বাদ নেই কিছুই, তাও ভেনিজুয়েলার ভাগ্য আরবের মতো হল না কেন?
বছরের শুরুতেই অশেষ ভোগান্তি এই রাশির, আর্থিক সমস্যা, পরিবারে স্বাস্থ্য-চিন্তা; কর্মস্থলেও চাপ
নির্ভয়ে থাকুন এই ২ রাশি, সৌভাগ্য ঘিরে রাখবে আপনাদের; অর্থ-কেরিয়ারে একের পর এক সুখবর
হনুমানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া, কাছা পরিধান গ্রামবাসীর, শাস্ত্র মেনে হবে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান
বিজয় হাজারেতে হার্দিক-ঝড়, এক ওভারে মারলেন ৬,৬,৬,৬,৬,৪! অনবদ্য শতরানও হাঁকালেন পাণ্ড্য
ভেনিজুয়েলা আক্রমণ করল আমেরিকা, বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হল প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্টলেডিকে, তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি
২০টি লোকাল ট্রেন বাতিল! দুর্ভোগে যাত্রীরা, কবে স্বাভাবিক হবে পরিষেবা? কী জানাল পূর্ব রেল?
'শাহরুখের দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত,' মুস্তাফিজুরকে KKR দলে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রধান ইমাম ইলিয়াসি