টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইল গ্রামের প্রবাসী আমিনুল সিদ্দিকীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গু লি করে হ- ত্যা করেছে দু/র্বৃ/ত্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমিনুল সিদ্দিকীর মৃত্যুর খবরে গোড়াইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনরা বিলাপ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর হামলা-নিপীড়নের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রবাসী কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পোস্টাল ভোট নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় পর্তুগাল বিএনপির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার স্থানীয় সময় লিসবনের একটি হল রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পর্তুগাল বিএনপির আহবায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন— “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনের প্রকৃত তাৎপর্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। আজ আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন।” তিনি পর্তুগাল বিএনপির সফল আয়োজনের প্রশংসা করে আরও জানান, দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অসাংগঠনিক কার্যক্রম করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে আহবায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার বলেন— “পর্তুগালে বসবাসরত যোগ্য ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে। পদ-পদবীর লোভে যারা অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট দেওয়ার সকল নিয়ম-কানুন বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন— “দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নিয়মে পোস্টাল ভোট দিলে দেশ ও গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।” তিনি ৫ আগস্ট বেগম জিয়ার সাথে ফিরোজায় সাক্ষাতের সময় পর্তুগাল বিএনপি ও প্রবাসীদের বিষয়ে যেসব আলোচনা হয়েছিল—সেগুলোর কথাও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— যুগ্ম আহবায়ক শামসুজ্জামান জামান, মিজানুর রহমান শাহ জামাল, এম কে নাসির, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ ফাহিম, পর্তুগাল বিএনপির সদস্য বদরুল আলম, শাহাব উদ্দীন, রুবেল চৌধুরী, জুবেল আহমদ, জায়েদ আহমদ, বেজা বিএনপির সভাপতি মইনুল ইসলাম, সান্তারাইম বিএনপির আহবায়ক সোহেল চৌধুরী, আলগ্রাভ বিএনপি নেতা এম তাহের, সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আজীম চৌধুরী গিলমান, বিএনপি নেতা আলী আকবর জুয়েল, কাজী জুয়েল, শাহান উমর, সোহেল মিয়া, জাসাস সদস্য সচিব কাজী মইনুর, যুবদল নেতা মাজেদ আহমদ সামী, এস এম কাওসার আলম, মর্তুজ আলী, যুবনেতা আব্দুল ওয়াদুদ মোহন প্রমুখ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— আব্দুল আজিজ, মহদ আজাদ, মন্জুর এলাহী, মাহাদী মুন্না, আব্দুল ওয়াদুদ অনিক, দেলোয়ার খান, আরাফাত, আদনান ওলি, নাইম, তারেক, শুভ, ইকবাল, রাফিউজ্জামান খান, সায়েম তালুকদার, মসতফা কামাল, আলমগির হোসেন, মোহাম্মদ সৈইকত, আহমদ লিমন, রিয়াদ আহমদ, রাশেদ মাহমুদ, আবু নাইম, পাপ্পু হাসান, রাহিদ মিয়া, এস কে মুহিব, সামাদ রাজিবসহ আরও অনেকে। এছাড়া ভেজা বিএনপি থেকে উপস্থিত ছিলেন—আবু বকর, শফিক মিয়া, জদর আলী, আতিকুর রহমান, মাহবুব আলম, আলাল আহমদ, জামিল আহমেদ, শাওন মিয়া, শামসুল হক। আল্গ্রাভ বিএনপি থেকে উপস্থিত ছিলেন—আবু সাইদ, মো. নুরুজ্জামান, মো. তাহির হোসেন, মো. দেলওয়ার হোসাইন, মো. ইমরান প্রমুখ। আলোচনা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ সম্পন্নতা এবং দেশের সার্বিক শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন লিসবন বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মাওলানা কায়েস আহমেদ আব্দুল্লাহ।
পর্তুগাল বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ও পোস্টাল ভোটিং সম্পর্কে পর্তুগাল প্রবাসীদের মধ্যে জনসচেতনা বৃদ্ধি করতে আলোচনা সভা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। ৩০ শে নভেম্বর পর্তুগালের টেস্টি অব লিসবনে পর্তুগাল সময় রাত ৮:৩০ ঘটিকায় এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জনাব, আনোয়ার হোসেন খোকন। সভাপতিত্ব করবেন পর্তুগাল বিএনপির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার ও সঞ্চালনায় থাকবেন পর্তুগাল বিএনপির সদস্য সচিব ছায়েফ আহেমদ সুইট সহ পর্তুগাল বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল নিয়ে পর্তুগাল বিএনপির আহব্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার ও সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট জানান, "আজকের এই আলোচনা সভায় প্রবাসীদের মধ্যে পোস্টাল ভোটিং সম্পর্কে জনসচেতনা কে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ নেত্রীর দ্রুত রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে এবং তারা পর্তুগাল বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানান"।
মালদ্বীপের হুলহুমালে’ সমুদ্রবন্দর থেকে চোরাচালানকৃত সিগারেটের দুটি কন্টেইনার চুরির ঘটনায় একজন বাংলাদেশি নাগরিক মো: আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আজ ১৬ নভেম্বর, রবিবার এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মোট সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। পুলিশ জানায়, চুরি হওয়া সিগারেটের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ পিস, যার বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। ঘটনাটিকে বড় ধরনের সংগঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি মো: আল আমিনকে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পুলিশ আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং পুরো চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে
হিজরি তারিখ লোড হচ্ছে...
তারিখ লোড হচ্ছে...
ঢাকা, বাংলাদেশ
সময় লোড হচ্ছে...
বর্তমান সময়
| নামাজ | সময় | অবস্থা |
|---|
বর্তমান নামাজ: লোড হচ্ছে...
বিভাগ, জেলা বা উপজেলা নির্বাচন করে সংবাদ দেখুন
গাজার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন তর্ক তুঙ্গে, তখন খুব বেশি শব্দ না করেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে হামাস। যুদ্ধবিরতির পরদিই দেখা যায়—ইসরাইল সেনারা যে অঞ্চলগুলো ছাড়ছে, সেসব জায়গায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে টহল দিচ্ছে হামাসের সদস্যরা। গাজার অভ্যন্তরে প্রশাসনিক কাজও এখন তাদের হাতেই। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কর আদায়, শুল্ক নির্ধারণ—সবই চলছে হামাসের নির্দেশনায়। স্থানীয়দের দাবি, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মূল্যবৃদ্ধির জন্য তারা নয়; বরং সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরাই দায়ী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। তাদের মতে, পণ্যের উপর কর বসিয়ে এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে হামাস, আর তাই তারা কোনোভাবেই চাইছে না দলটি আবারো সরকার পরিচালনা করুক। অন্যদিকে গাজা থেকে হামাসকে সরানো বা নিরস্ত্র করার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এক অবস্থানে থাকলেও এর বিরোধিতা করছে রাশিয়া, চায়না এবং কয়েকটি আরব রাষ্ট্র। পশ্চিমাদের পছন্দ মাহমুদ আব্বাসের প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক কোনো অন্তর্বর্তী সরকার—যেমন টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে। কিন্তু এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক শক্তি মানতে নারাজ। মাঠের বাস্তবতা বলছে—ইসরাইল দুই বছর ধরে গাজার ৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। যুদ্ধবিরতির পর তাদের অবস্থান সরে এলেও এখনো প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা তাদের দখলে। বাকি ৪৭ শতাংশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২০ লাখ মানুষ, যাদের জীবনযাত্রা পরিচালিত হচ্ছে হামাসের কাঠামোর ভেতরেই। ২০০৭ সালে ফাতাহ ও মাহমুদ আব্বাসের প্রশাসন থেকে গাজার ক্ষমতা নেয় হামাস। তারপর থেকে অঞ্চলটির প্রশাসন, নিরাপত্তা এবং বাজারব্যবস্থার সব ক্ষেত্রই ধীরে ধীরে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও দলটির কাঠামো এখনো সক্রিয়। নিহত চার গভর্নরের জায়গায় নতুন চারজনকে নিয়োগ দিয়েছে তারা, আর সরকারি কর্মচারীরাও প্রতি মাসে বেতন পেয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন—হামাস স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গাজাকে ঘিরে যে কোনো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ তাদের বাইরে রেখে তৈরি করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন যত বাড়ছে, তাদের অবস্থান ততই আরও দৃঢ় হয়ে উঠছে।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। দুই পক্ষের দেওয়া ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের কারণে সঠিক হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি, তবে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানায়, বুধবার ভোরে বেলুচিস্তান সীমান্তে তালেবান বাহিনী পাকিস্তানি অবস্থানের ওপর বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। সংঘর্ষটি স্পিন বোলদাকের নিকটবর্তী সীমান্ত অঞ্চলে শুরু হয়। পাক নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক ঘণ্টার তীব্র লড়াইয়ের পর হামলাটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবান যোদ্ধারা চারদিক থেকে একযোগে হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরক্ষা ভাঙার উদ্দেশ্যে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা জবাবে ১৫ থেকে ২০ জন তালেবান নিহত হয় এবং কয়েকজন আহত অবস্থায় আফগানিস্তান সীমান্তের ভেতরে পালিয়ে যায়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনাপূর্ণ”। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং মাঝে মাঝে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাবর্ষণের পর তালেবান যোদ্ধারা পাল্টা হামলায় “পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়”। তিনি বলেন, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে এবং কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। মুজাহিদ আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ১২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। তবে তার এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইসলামাবাদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনার সর্বশেষ উদাহরণ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, নতুন এই সংঘর্ষ দুই প্রতিবেশীর ইতোমধ্যেই নাজুক কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তারা বলেন, সীমান্তে সহিংসতা চলতে থাকলে বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা এবং সীমান্ত পারাপারে নির্ভরশীল বেসামরিক জনগণের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা ইসলামাবাদ ও কাবুল উভয় পক্ষকেই আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা যোগাযোগ চ্যানেল পুনরায় চালু করে এবং যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। নতুবা সীমান্ত অঞ্চলের এই অস্থিতিশীলতা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গাজা সিটিতে হামাস নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র দঘমুশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বৃহৎ সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পর এটি গাজার সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চোখো দেখা সাক্ষীরা জানান, গাজা সিটির জর্ডানিয়ান হাসপাতালের কাছে মুখোশধারী হামাস যোদ্ধারা দঘমুশ গোত্রের যোদ্ধাদের সঙ্গে গুলি বিনিময় করেন। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সশস্ত্র সদস্যদের আটক করতে তীব্র লড়াই শুরু করে। মন্ত্রণালয় জানায়, “একটি সশস্ত্র মিলিশিয়ার হামলায়” তাদের আট সদস্য নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে দঘমুশ পরিবারের ১৯ সদস্য ও হামাসের আট যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। চোখো দেখা সাক্ষীরা বলেন, দক্ষিণ গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন ৩০০-র বেশি হামাস যোদ্ধা একটি আবাসিক ভবন ঘিরে ফেলে, যেখানে দঘমুশ পরিবারের সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভারী গুলিবর্ষণের মধ্যে বহু পরিবার ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় — যাদের অনেকেই যুদ্ধ চলাকালীন একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। একজন বাসিন্দা বলেন, “এইবার মানুষ ইসরায়েলি হামলা থেকে নয়, নিজেদের লোকের কাছ থেকে পালাচ্ছিল।” দঘমুশ পরিবার গাজার অন্যতম প্রভাবশালী গোত্র, যাদের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। এর আগেও তাদের মধ্যে একাধিকবার সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করার চেষ্টা করছে এবং সতর্ক করেছে যে “প্রতিরোধের কাঠামোর বাইরে কোনো সশস্ত্র কর্মকাণ্ড” কঠোরভাবে দমন করা হবে। উভয় পক্ষ একে অপরকে সংঘর্ষ শুরু করার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। হামাসের দাবি, দঘমুশ পরিবারের বন্দুকধারীরা তাদের দুই সদস্যকে হত্যা ও পাঁচজনকে আহত করার পর তারা অভিযান চালাতে বাধ্য হয়। তবে দঘমুশ পরিবারের এক সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, হামাস বাহিনী গাজা সিটির প্রাক্তন জর্ডানিয়ান হাসপাতাল ভবনে আসে, যেখানে দঘমুশ পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল— কারণ তাদের আল-সাবরা এলাকার বাড়িগুলো সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই সূত্রের দাবি, হামাস ওই ভবনটি নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য পরিবারটিকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ার পর হামাস প্রায় ৭,০০০ নিরাপত্তা সদস্যকে আবার মোতায়েন করেছে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। খবরে আরও জানা গেছে, হামাসের সশস্ত্র ইউনিটগুলো ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় মোতায়েন হয়েছে— কেউ বেসামরিক পোশাকে, আবার কেউ গাজা পুলিশের নীল ইউনিফর্মে। তবে হামাসের গণমাধ্যম দপ্তর দাবি করেছে, “রাস্তায় কোনো যোদ্ধা মোতায়েন করা হয়নি।”
দেশের কওমি ও আলিয়া মাদরাসা সংশ্লিষ্ট মেধাবী আলেমদের উচ্চশিক্ষায় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে, যার আওতায় নির্বাচিত আলেমরা বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাবেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা (বক্তব্যের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আলেমদের জ্ঞানগত মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতার বিকাশে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। বক্তব্যে জানানো হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কলারশিপের আওতায় আলেম ও ইমামরা মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরবের উম্মুল কুরা ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ এবং তুরস্কের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে ইসলামিক স্টাডিজ, কোরআনিক সায়েন্স, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (ইন্টার-রিলিজিয়ন স্টাডিজ) এবং ইসলামিক ফিকহ-এর মতো বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য তাদের বিদেশে পাঠানো হবে। এই স্কলারশিপের জন্য একাডেমিক এক্সিলেন্স বা মেধার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। যাদের শিক্ষাজীবনে চারটি প্রথম শ্রেণি বা সমমানের ফলাফল রয়েছে, তারা অগ্রাধিকার পাবেন। উপদেষ্টা বলেন, "প্রয়োজনে একজন ছাত্রের পেছনে এক কোটি টাকা খরচ করতে হলেও আমরা সেই বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। আমরা চাই আমাদের আলেমরা বিশ্বমানের ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখুক।" স্কলারশিপের পাশাপাশি কওমি ধারার আলেমদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা জানান উপদেষ্টা। তিনি জানান: মাস্টার্স সমমান: শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে কওমি সনদকে (আল হাইয়াতুল উলইয়া) মাস্টার্সের সমমান দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগ: সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব ও পুলিশে রিলেজিয়াস ইন্সপেক্টর ও ইমাম পদে কওমি আলেমদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মডেল মসজিদ ও দারুল আরকাম: মডেল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন বৃদ্ধি এবং দারুল আরকাম প্রকল্পের স্থায়ীকরণের জন্য কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, শিক্ষক বা কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষার মতো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া (লিখিত ও ভাইভা) অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা তদবিরের সুযোগ রাখা হয়নি। উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, "আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নিতে চাই। তবে যতক্ষণ দায়িত্বে আছি, আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাব।"
ঢাকা, বাংলাদেশ – ফেডারেশন অফ খতমে নবুয়ত কাউন্সিলের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসা মাওলানা ফজলুর রহমান সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী গ্রাউন্ডে এক জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও খতমে নবুয়তের অটল বিশ্বাসের উপর গুরুত্বারোপ করেন। মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে কোনো নবী আসতে পারবেন না। যারা নবুতার দাবি করবে, তারা ইসলামের সীমার বাইরে বিবেচিত হবেন।” তিনি বাংলাদেশের মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সভায় অংশগ্রহণ করে তারা একতা ও ঐক্য দেখিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “খতমে নবুয়ত আন্দোলনের লক্ষ্য হলো সহিংসতা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও নেতৃত্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।” ফজলুর রহমান পাকিস্তান থেকে আগত বিশিষ্ট উলামাদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভাইত্ব ও সুসম্পর্ককে শক্তিশালী করার বার্তা দেন। সভায় মাওলানা ফজলুর রহমান এবং অন্যান্য উলামারা দুই দেশের মুসলমানদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মুসলমানরা এক উম্মাহ, এক জামাত। আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী হবে।” সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা: মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখার উপর গুরুত্ব। খতমে নবুয়তের অটল বিশ্বাস ও তার সুরক্ষা। দুই দেশের মুসলমানদের মধ্যে ভাইত্ব ও সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নতুন ইসলামপন্থী জোট গঠনের পথে কওমি ঘরানার অন্তত পাঁচটি দল। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে তফসিল ঘোষণার পরপরই। ইতিমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। সূত্র জানায়, শরিকদের কাছে শতাধিক আসন ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, আকিদাগত দ্বন্দ্ব ভুলে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের অভিপ্রায় থেকেই তারা আসন সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রায় ১০০ আসন, মামুনুল হক নেতৃত্বাধীন দল ৫০ আসন এবং বাকি তিনটি ইসলামপন্থী দল ৭০ থেকে ৮০ আসনের দাবি জানিয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্র বলছে, যেখানে ইসলামপন্থী প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে একক প্রার্থী দেয়া হবে। এদিকে, বিএনপি এই জোট নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। দলটির নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, “অনেক জিরো প্লাস জিরো প্লাস জিরো ইজ জিরো। ইসলামের জিকির তুলে নির্বাচনের আগে রাজনীতি করা দেশের জন্য সঠিক আচরণ নয়।” অন্যদিকে, বিএনপিও ইসলামপন্থী কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। জানা গেছে, কওমি ঘটনার পুরনো দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামীর চার নেতাকে নির্বাচনী কাজে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামপন্থী দলগুলোর এই নতুন সমঝোতা নির্বাচনে ভোটের মাঠে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করবে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, জোট ক্ষমতায় গেলে কে নেতৃত্ব দেবেন বা কে হবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা।
বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)এর সাবেক মহাপরিচালক, খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস মাওলানা জোবায়ের আহমদ চৌধুরী ইন্তিকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন) আজ ১৫ রমজান (৭ এপ্রিল) শুক্রবার ইফতারের আগ মুহূর্তে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী জানা গেছে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ছোট ভাই, কালিগঞ্জ থানা মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওঃ আশরাফুল ইসলাম আজিজীর ওপর মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে হামলা চালানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে নারীসহ সবাইকে মারধর করা হয়। হামলায় মোসলেম সরদার গুরুতর আহত হন। আয়েশা খাতুন ও শাকিলা খাতুন আহত হন। শাকিলা খাতুনের বাম হাত ভেঙে যাওয়া, শ্লীলতাহানি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আহতদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দমধুসূদপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাদিজা খাতুন (৪৩) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।নিহত খাদিজা খাতুন ওই গ্রামের আশারাফ হোসেন মোড়লের স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে রান্নার প্রস্তুতির জন্য বৈদ্যুতিক ব্লেন্ডারে জিরা ও মরিচ গুঁড়া করছিলেন। মসলা গুঁড়া শেষ হওয়ার পর অসাবধানতাবশত ব্লেন্ডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করেই ভেতর থেকে মসলা বের করতে গেলে হঠাৎ তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় ব্লেন্ডারের ভেতরে হাত ঢোকানোর ফলে তার ডান হাতের চারটি আঙুল মারাত্মকভাবে কেটে দুই খণ্ড হয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্বজনরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও স্ট্রোকজনিত কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম এবং পুরো এলাকায় বিরাজ করছে গভীর শোকের ছায়া।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব বিষ্ণুপুর বাজার চত্বরে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাবেক বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জিএম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, বারবার নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ এবাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম। কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী তৌহিদ হাসান, ইসলাম সাতক্ষীরা - ০৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন এর ছোট পুত্র কাজী আসিফুর রহমান রাজু।সাতক্ষীরা পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান,বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শেখ আব্দুল করিম।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মারুফ বিল্লাহ ও রেজাউল করিম, প্রচার সম্পাদক আলতাফ হোসেন,ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ,১নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সভাপতি গোলাম বারী,ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ফিরোজ ঢালী সহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।দোয়া মাহফিলে বক্তারা মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়।
মোস্তফা মাসুদ: লিডার্স-এর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল) প্রকল্পের আওতায় মাল্টি- স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম (MSP) গঠন ও পরিকল্পনা প্রণয়ন উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আহম্মদ আলী শাহ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি সাবিনুর রহমান।বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিসহ MSP কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন— ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউপি সদস্যা মোছাঃ সেলিনা ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ অধিকারী,লিডারর্স কল প্রকল্পের এগ্রিকালচার ও নিউট্রেশন অফিসার মোঃ বুলবুল হোসাইন, কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শিমুল হোসেন,প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান ইমরান হোসেন, গৌরপদ মন্ডল, ইমাম শরিফুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, কাকলী মন্ডল, জশিলমা পারভীন, আব্দুর রহমান, শেখ হোসেন আলী, সাবিনুর রহমান, মোঃ আঃ লতিফ, আবু বক্কার সিদ্দিক, সোহাগ হোসেন, সজল কুমার রায়,রাহুল রায়, কাকলি মন্ডল, মোঃ মনিরুজ্জামান, মোঃ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভায় MSP-এর মূলনীতি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন লিডার্স কল ফলো করবেন লিডারর্স কল প্রকল্পের এগ্রিকালচার ও নিউট্রেশন অফিসার মোঃ বুলবুল হোসাইন । বক্তব্যের শুরুতে উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি সাবিনুর রহমান পুষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বিশেষ করে জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন, টেকসই মৎস্য উৎপাদন এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “পুষ্টি চাহিদা পূরণে মাছের কোনো বিকল্প নেই।সময়মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই MSP-এর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। বিশেষ আলোচনায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ সবজি, মাছ, তেলজাতীয় বীজ, বাদাম, আমিষ ও শর্করা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি MSP কমিটিকে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মোঃ আহম্মদ আলী শাহ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সকল স্টেকহোল্ডারের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি সকল সদস্যের সহযোগিতা কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।সমগ্র সভাটি সঞ্চালনা করেন মোঃ মনিরুজ্জামান, লিডার্স প্রকল্প অফিস, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।
বিশেষ অভিযানে ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ)-এর হাতে ৫৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঢাকা জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।ঢাকা জেলা পুলিশের অভিভাবক ও সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান মহোদয়-এর সার্বিক নির্দেশনায় এবং জনাব জাহিদুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি), ঢাকা জেলা-এর তত্ত্বাবধানে জনাব সফিকুল ইসলাম সুমন, অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ), ঢাকা জেলা-এর নেতৃত্বে জেলা ডিবি (দক্ষিণ)-এর একটি চৌকস টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ২২.০০ ঘটিকা হতে ২২.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চরকুতুব এলাকা ও এর আশপাশে অভিযান পরিচালনাকালে এসআই (নিরস্ত্র) জনাব এস.এম. এনামুল হক সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলো— ১। শেখ মোঃ মুরাদ হোসেন (৩৯), পিতা- শেখ আওলাদ হোসেন, মাতা- মমতাজ বেগম, ঠিকানা- বাহার বেপারী র বাড়ির ভাড়াটিয়া, জলিল মহাজন রোড, পূর্ব আগানগর, থানা- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জেলা- ঢাকা। তার হেফাজত হতে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ২। মোঃ সাজ্জাদুল আমিন সুমন (৩২), পিতা- রুহুল আমিন, মাতা- শামীমা বেগম, ঠিকানা- সাজেদা ভিলা, ইকুরিয়া বেপারী পাড়া, থানা- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জেলা- ঢাকা। তার নিকট হতে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার মামলা নং-৪৩, তারিখ-২৩/০১/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ৩৬(১) সারণির ১০(ক), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীনে নিয়মিত মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশ জানায়, মাদক নির্মূলে জেলা গোয়েন্দা শাখার এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
বাসাইলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও অর্থ দাবি মামলার আসামি গ্রেফতার সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ টাঙ্গাইলের অভিযানে ধরা পড়ল মোঃ রাসেল মিয়াটাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানায় দায়েরকৃত আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও অর্থ দাবির একটি মামলার অন্যতম আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইলের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোঃ রাসেল মিয়া (২১) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।র্যাব সূত্রে জানা যায় মামলার এজাহার অনুযায়ী গত ৯ আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে ধৃত আসামিসহ অন্যান্য এজাহারনামীয় আসামিরা কৌশলে এক ভিকটিমের (৩০) গোসল করার সময় আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি টের পেয়ে ভিকটিম দ্রুত ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধ করেন এবং তার অভিভাবকদের বিষয়টি অবহিত করেন। সে সময় অভিযুক্তরা ভিডিও মুছে ফেলার আশ্বাস দিয়ে ভুল স্বীকার করলেও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ভিকটিম ও তার পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়।পরবর্তীতে ধৃত আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা ভিকটিমের ব্যবহৃত ইমু নাম্বারে যোগাযোগ করে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ভিকটিমের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় যা ভিকটিমের দৃষ্টিগোচর হয়।এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ২৩ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানায় মামলা নং-১৫ রুজু হয়। মামলায় ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৮(১), ৮(২), ৮(৩), ৮(৫)(খ) ও ৮(৭) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।মামলা রুজুর পর থেকেই সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল ছায়াতদন্তের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। এরধারাবাহিকতায় ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত সাড়ে ৭টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোঃ রাসেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব জানায় সাইবার অপরাধ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্বাক্ষরিতসিনিয়র সহকারী পরিচালক মিডিয়া অফিসার অধিনায়কের পক্ষে
নবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হেরোইন ও ইয়াবাসহ একাধিক মামলার পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। এ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে যা এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার আলম আজাদ-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস ও প্রশিক্ষিত দল এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মোঃ বিল্পব হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় গ্রেপ্তারের সময় আসামির হেফাজত থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ০৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৩২ হাজার টাকা এবং উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায় গ্রেপ্তারকৃত মোঃ বিল্পব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে সে পলাতক অবস্থায় মাদক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানান মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঢাকা জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
টাঙ্গাইলে অপরাধ দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান মাদক উদ্ধারসহ ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৭ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় মাদক ব্যবসা পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সরাসরি নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের নেতৃত্বে একযোগে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন এ অভিযানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট টহল ও বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়।অভিযানের অংশ হিসেবে প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে জেলা পুলিশ। এ সময় ১২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকসহ ৪ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে জেলা পুলিশ। মাদক সমাজ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এদিকে জেলা পুলিশের এ ধরনের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানান নিয়মিত অভিযান ও টহল বাড়লে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে এবং জননিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও মাদক নির্মূলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় ।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে টাঙ্গাইলে TOT কোর্স উদ্বোধন টাঙ্গাইল, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনী দায়িত্ব সফলভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইলের পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) শুরু হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।থাকবে পুলিশ জনপদে,ভোট দেবেন নিরাপদে এই স্লোগানকে সামনে রেখে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী দায়িত্ব সফলভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত TOT কোর্স এর ৪র্থ পর্যায়ের ২৭তম ধাপের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. এএইচএম কামরুজ্জামান বিপিএম পিপিএম এডিশনাল ডিআইজি (কারিকুলাম) পিটিসি টাঙ্গাইল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাজী রুবাইয়াত রুমী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) কাজী মাকসুদা লিমা, পিপিএম (বার) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রেনিং),সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ। এ ছাড়া কোর্সে অংশগ্রহণকারী টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের মনোনীত ৫২ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশের দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল প্রশিক্ষণার্থীকে মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কোর্সে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোর্সটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
তারিখ ২২/১২/২০২৫ইং রবিবার দিবাগত রাত ২ট১০মিনিটের সময় পাইকড়া দক্ষিন পাড়া চকের বাড়ি। কালিহাতী উপজেলা টাঙ্গাইল জেলার। মৃত্যু আঃ মোতালেব মিয়া মাষ্টার সাহেবর স্ত্রী বাধক্য জনিত কারনে এই দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। তাহার মৃত্যু কালে বয়স ছিল ৮৩বসর৫মাস৮দিন। তাহার ৯ছেলে ও ১মেয়েছিল। মৃত্যু কালে ৭ছেলেও১মেয়েরেখে গেছেন। তাহার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং সকলের কাছে নিজগোনে খমা চেয়েছেন ছেলে। আজ সোমবার দুপুরে যোহরের নামাজ আদায় পড়ে জানাজা উনোঠিত হবে পাইকড়া ঈদগাহ মাঠে সকলে জানাজায় নামাজে সরিক হয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করোন।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
কুরআন হলো ইসলামের প্রধান ধর্মগ্রন্থ, যা বিশ্বমানবতার জন্য সর্বশেষ ও চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী, যা জিবরাইল (আ.) ফেরেশতার মাধ্যমে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। কুরআন শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ নয়; এটি মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে আলোর দিশারী। কুরআনের সংজ্ঞা ও পরিচিতি কুরআন শব্দটি আরবি "قرأ" (ক্বারা'আ) মূল ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "পড়া" বা "তিলাওয়াত করা"। এটি ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ, যা ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে। এতে রয়েছে ১১৪টি সূরা, ৬২৩৬টি আয়াত এবং অসংখ্য বিধিবিধান, নীতি ও দিকনির্দেশনা যা মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। কুরআন অবতীর্ণের প্রক্রিয়া কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে: ১. লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ কুরআন অবতীর্ণের পূর্বেই আল্লাহ তাআলা এটি লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ করেছিলেন। এটি এমন এক মহাগ্রন্থ, যা আল্লাহর জ্ঞানের অংশ এবং যা পূর্বনির্ধারিত ছিল। ২. বাইতুল ইজ্জতে স্থানান্তর পরবর্তী ধাপে কুরআনকে সম্পূর্ণরূপে প্রথম আসমানে অবস্থিত "বাইতুল ইজ্জত" নামক স্থানে প্রেরণ করা হয়। এটি ছিল লাইলাতুল কদরের রাতে একবারে অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি।" (সূরা আল-কদর: ১) ৩. ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে অবতরণ বাইতুল ইজ্জত থেকে কুরআনের আয়াতসমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়। কুরআন প্রথমে মক্কায় ১৩ বছর এবং পরে মদিনায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়, পরিস্থিতি ও ঘটনার আলোকে নাজিল হয়। প্রথম ও শেষ অবতীর্ণ আয়াত কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াত ছিল: "পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আল-আলাক: ১) এবং সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত ছিল: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, আমার নেয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণযোগ্য করলাম।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩) কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্য কুরআন কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক। এর প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হলো: তাওহিদের প্রচার: আল্লাহর একত্ববাদকে প্রতিষ্ঠা করা। সঠিক পথের দিশা: মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ: উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেওয়া। আইন ও বিধিবিধান: সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন। কিয়ামতের প্রতি সতর্কতা: আখিরাত ও পরকাল সম্পর্কে দিকনির্দেশনা। উপসংহার কুরআন মানবজাতির জন্য এক পরিপূর্ণ জীবনবিধান। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। কুরআনের শিক্ষাকে সঠিকভাবে অনুধাবন ও পালন করা আমাদের কর্তব্য। যদি আমরা কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করি, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে পারব।
কুরআন হলো ইসলামের প্রধান গ্রন্থ, যা মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য সর্বোত্তম দিকনির্দেশনা প্রদান করে। তবে কুরআনের অনেক আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা বুঝতে তাফসির (ব্যাখ্যা) প্রয়োজন হয়। কুরআনের তাফসির কেবল ভাষাগত ব্যাখ্যা নয়, বরং এটি কুরআনের গভীর অর্থ ও প্রসঙ্গ বুঝতে সাহায্য করে। এই নিবন্ধে কুরআন ও হাদিসের আলোকে কুরআনের তাফসির কীভাবে করা হয় তা বিশদভাবে আলোচনা করা হবে। তাফসিরের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব ‘তাফসির’ শব্দটি আরবি فَسَّرَ (ফাস্সারা) ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো "ব্যাখ্যা করা", "উন্মোচন করা"। ইলমুত-তাফসির (তাফসিরবিদ্যা) হলো কুরআনের অর্থ, ভাষা, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করার বিজ্ঞান। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এটি এক মহা বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।" (সূরা ছাদ: ২৯) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কুরআনের অর্থ বোঝার জন্য গবেষণা ও চিন্তাভাবনা করা জরুরি, আর এটি সম্ভব তাফসিরের মাধ্যমে। কুরআনের তাফসির করার পদ্ধতি কুরআনের তাফসির করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে। এগুলো মূলত চারটি প্রধান উৎসের ভিত্তিতে করা হয়: ১. কুরআনের তাফসির কুরআন দ্বারা কুরআনের অনেক আয়াত অন্য আয়াতের ব্যাখ্যা করে। যখন কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হয়, তখন অন্য আয়াত দ্বারা তার অর্থ বোঝা যায়। উদাহরণস্বরূপ: সূরা ফাতিহার "সিরাতুল মুস্তাকিম" (সঠিক পথ) বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় সূরা আন-নিসার ৬৯ নম্বর আয়াতে, যেখানে বলা হয়েছে যে এটি নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের পথ। ২. কুরআনের তাফসির হাদিস দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন কুরআনের সর্বোত্তম ব্যাখ্যাকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কুরআন বোঝার ও বোঝানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন: "আমি তোমার প্রতি স্মরণিকা (কুরআন) নাজিল করেছি, যাতে তুমি মানুষকে ব্যাখ্যা করে দাও যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে।" (সূরা নাহল: ৪৪) উদাহরণ: সূরা বাকারা ২:২৮৫-তে ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে পাই, বিশেষ করে জিবরাইল (আ.)-এর হাদিসে। ৩. সাহাবিদের ব্যাখ্যা সাহাবিরা (রা.) সরাসরি নবী (সা.)-এর কাছ থেকে কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁরা কুরআনের সঠিক অর্থ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখতেন। তাই তাঁদের ব্যাখ্যা তাফসিরের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। উদাহরণ: ইবনে আব্বাস (রা.)-কে তাফসিরবিদদের নেতা বলা হয়। তিনি নবী (সা.)-এর কাছ থেকে সরাসরি তাফসির শিখেছেন। তাঁর ব্যাখ্যা বহু প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। ৪. তাবেয়ি ও সালাফদের ব্যাখ্যা তাবেয়িগণ সাহাবিদের থেকে কুরআনের ব্যাখ্যা শিখেছেন। তাদের ব্যাখ্যাগুলোও নির্ভরযোগ্য এবং তাফসিরে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: ইমাম মুজাহিদ, কাতাদা, হাসান বসরি প্রমুখ তাবেয়িরা কুরআনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ৫. ভাষা ও ব্যাকরণ অনুসারে তাফসির কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, তাই তাফসির করতে হলে আরবি ব্যাকরণ, শব্দতত্ত্ব, অলঙ্কার ও সাহিত্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাফসিরের ধরণ তাফসির সাধারণত দুইভাবে করা হয়: ১. তাফসির বিল মাসুর (প্রমাণিত সূত্রভিত্তিক তাফসির) এটি কুরআন, হাদিস, সাহাবি ও তাবেয়িদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে করা হয়। প্রসিদ্ধ তাফসির: তাফসির ইবনে কাসির তাফসির আত-তাবারি তাফসির আস-সা’দি ২. তাফসির বিল রাই (যুক্তি ও বিশ্লেষণভিত্তিক তাফসির) এটি ভাষা, ব্যাকরণ ও ব্যক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা হয়, তবে এটি নির্ভরযোগ্য হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। প্রসিদ্ধ তাফসির: তাফসির আল-জালালাইন তাফসির আল-কুরতুবি ভুল তাফসির থেকে বাঁচার উপায় কিছু মানুষ কুরআনের আয়াতকে ভুল ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই সঠিক তাফসিরের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত: ১. তাফসির কুরআন, হাদিস ও সাহাবিদের বক্তব্য অনুযায়ী হতে হবে। ২. ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ইসলামি স্কলারদের মতামত অনুসরণ করতে হবে। ৩. শুধু ভাষাগত অনুবাদ নয়, বরং আয়াতের শানে নুযুল (অবতরণের প্রেক্ষাপট) জানা জরুরি। ৪. বিদআত ও মনগড়া ব্যাখ্যা পরিহার করতে হবে। উপসংহার কুরআনের তাফসির একটি গভীর জ্ঞানসম্পন্ন শাস্ত্র, যা সঠিক পদ্ধতিতে করতে হয়। কুরআন, হাদিস, সাহাবি ও তাবেয়িদের বক্তব্যের আলোকে তাফসির করলে তা নির্ভরযোগ্য হয়। আজকের যুগে সঠিক ইসলামি স্কলারদের রচিত তাফসির অধ্যয়ন করে কুরআনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ আমাদের কুরআন বোঝার ও তা অনুসারে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন, আমিন।
জামালপুরের ০৪ আসনের ১৪০ সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামিমের নির্বাচনী প্রচারণা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ০৪ নং ওয়ার্ডের সকল নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন সুরুজ উদ্দিন মেম্বার। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিএনপি দেশের মুক্তির স্বপক্ষে ছিল, জনগণের সঙ্গে এক হয়ে দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছে। অন্যদিকে জামাত স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং আজও দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাই বিএনপি’র সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ সর্বদা তৎপর থাকতে হবে।” কামাল তরফদার বলেন, “এ আসনে নির্বাচনী উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে এবং ভোটের মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীককে জয়ী করতে হবে।” সভায় উপস্থিত ছিলেন: মো: সুরুজ উদ্দিন, সরিষাবাড়ি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও আওনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: কামাল তরফদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি, ০৪ নং আওনা ইউনিয়ন বিএনপি মো: আবুল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক, ০৪ নং আওনা ইউনিয়ন বিএনপি মো: আব্দুল খালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওনা ইউনিয়ন ছাত্রদল ও সহ-সভাপতি আওনা ইউনিয়ন যুবদল মো: আতিকুর রহমান আতিক, ০৪ নং আওনা ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাটি মো: আব্দুল খালেকের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
টাংগাইল-০২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাংগাইল-০২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এমপি প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের পক্ষে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বাদ আসর নামাজের পর গোপালপুর পৌর শহরের সূতী পলাশ কেন্দ্রীয় গোরস্থান মাঠ থেকে মাওলানা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি গোপালপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোপালপুর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এসে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। শোভাযাত্রা চলাকালে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্ল্যাকার্ড ব্যানার ও বিভিন্ন রঙের দলীয় পতাকা বহন করতে দেখা যায়। রাস্তার দুই পাশের দোকানদার বাড়ির বাসিন্দা ও পথচারীরা হাত নেড়ে করতালি দিয়ে শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানান।সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। জনগণের মৌলিক অধিকার ন্যায়বিচার সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আগামী নির্বাচনে গোপালপুর–ভূঞাপুরের জনগণকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান তালুকদার।এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাংগাইল জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ড.আতাউর রহমান জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস ছালাম খান ভূঞাপুর উপজেলা আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইদ্রিস হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা রাফিউল আলম রুমু উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক উবাইদুল্লাহসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হবে এবং টাংগাইল-০২ আসনে একটি ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
টাঙ্গাইলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান শতাধিক নেতাকর্মীর টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর হাত ধরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতি মিলনায়তনে এই যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাদের বরণ করে নেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলী গ্রামের শাহাদত খান ফিরোজ আতোয়ার খান গোলাপ খান মহির খান নজরুল মেম্বার, আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় বিএনপিতে যোগদান করেন। নেতাকর্মীরা জানান দীর্ঘদিন ধরে তারা গামছা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। এবার সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর প্রতি আস্থা রেখে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে বিজয়ী করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।যোগদান অনুষ্ঠানে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সন্ত্রাস মাদক চাঁদাবাজিমুক্ত কিশোর গ্যাংমুক্ত নিরাপদ ও আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে কাজ করবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুর আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাবু বহিষ্কার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবুকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্থলে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মালাকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তৌহিদুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য পদে জাহিদ হোসেন মালাকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।এতে আরও বলা হয় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের অনুমোদনে এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।যুবদলের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিপক্ষে অবস্থান নেন তৌহিদুল ইসলাম বাবু। দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণাসহ শৃঙ্খলাভঙ্গের একাধিক সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্র আরও জানায় ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুবদল কঠোর অবস্থানে থাকবে।
সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে গুয়াহাটিতে টস জিতে ফিল্ডিং ভারতের, একাদশে বুমরা, বিষ্ণোই
নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন ? ঋণ নেওয়ার আগে এই ৫টি বিষয় জেনে নিন
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের পাকিস্তান দলে বাবর, বাদ রউফ
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট
নতুন রেনো ডাস্টার হাইব্রিডের বিশেষত্ব কী ? জেনে নিন, এর ফিচার, মাইলেজ
আপনার-আমার গোপন লগইন নথি ফাঁস, ১৫ কোটি তথ্য় প্রকাশ্য়ে, বিপদে জিমেইল, ফেসবুক ব্যবহারকারীরা !
অটল পেনশন যোজনায় বড় খবর, ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন, কারা পাবেন ?
১১ বছরে সাড়ে ৪ কোটি অ্যাকাউন্ট সুকন্যা সমৃদ্ধির, কী এমন সুবিধা দেয় ?