টাঙ্গাইলে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা ৫ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাঙ্গাইলে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে এ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাজারে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন মেনে চলার বিষয়টি তদারকি করা হয়।অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না করা, পণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণামূলক আচরণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ক্রেতাদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের বাজার মনিটরিং কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
পবিত্র রমজানুল মোবারক উপলক্ষে পুলিশ লাইনস্ টাঙ্গাইলে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পবিত্র রমজানুল মোবারক উপলক্ষে জেলা পুলিশ টাঙ্গাইল-এর আয়োজনে পুলিশ লাইনস্ মাল্টিপারপাস শেডে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পুলিশ টাঙ্গাইল অঞ্চল-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সোহেল রানা পিপিএম এবং পিবিআই টাঙ্গাইল জেলা-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান।ইফতার ও দোয়া মাহফিলে দেশ-জাতির কল্যাণ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং পুলিশপ্রশাসনের সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব কাজী শাহনেওয়াজ পিপিএম-সেবা জেলার সকল সার্কেল কর্মকর্তা এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ ইফতার ও দোয়া মাহফিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন ।
টেপিবাড়ী মোড়ে হাইট্রলি–অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ শিশু সহ ৫ জন হাসপাতালে টাঙ্গাইলের টেপিবাড়ী মোড়ে একটি হাইট্রলি ও অটোরিকশার মধ্যে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে আসা হাইট্রলির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠান।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।দুর্ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতাই এ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
টাঙ্গাইলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত তিন পুলিশ সদস্যকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার টাঙ্গাইলে নায়েক পদ থেকে এএসআই (সশস্ত্র) পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত তিনজন পুলিশ সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।মঙ্গলবার জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তিনি পদোন্নতিপ্রাপ্ত সদস্যদের কাঁধে নতুন র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় পুলিশ সুপার বলেন পদোন্নতি যেমন গৌরবের তেমনি দায়িত্বও বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি সততা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রবিউল ইসলামপিপিএম-সেবা সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।জেলা পুলিশ সূত্র জানায় পদোন্নতির মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং কর্মদক্ষতা আরও জোরদার হয়।
টাঙ্গাইলে ভিপি জোয়াহেরের প্রথম জানাজা সম্পন্ন বিকেলে দাফন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের)-এর প্রথম জানাজা সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা সদর হেলিপ্যাডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দলীয় নেতাকর্মী আইনজীবী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।জানাজা নামাজে ইমামতি করেন কোর্ট বিল্ডিং জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাফিজুর রহমান। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা মরহুমের রাজনৈতিক জীবন সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা বলেন ভিপি জোয়াহের ছিলেন আপসহীন কর্মীবান্ধব ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির একজন প্রতীকী ব্যক্তিত্ব। টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।প্রথম জানাজায় উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইলের সাবেক পিপি এস আকবর খান টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মোনায়েম হোসেন খান আলম সাধারণ সম্পাদক সাদিউর রহমান স্বপন সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আলো মো. আইয়ুব আলী শামীমুল আক্তার শামীম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহান শাহ সিদ্দিকী মিন্টু মহসিন সিকদার শামসুদ্দিন শামস গণসঙ্গীত শিল্পী এলেন মল্লিক টাঙ্গাইল জেলা সিপিবির সভাপতি নাছিমুল আক্তার সেলিম সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সখীপুরী অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান খান হুমায়ুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।পরিবার ও দলীয় সূত্র জানায় বিকেল ৩টায় সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।উল্লেখ্য দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ভিপি জোয়াহের টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি জাতীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।তাঁর মৃত্যুতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর এলাকায় একই গেট ও প্রবেশপথ ব্যবহার করে একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও রিসোর্ট-স্পা সেন্টারের অতিথিদের যাতায়াতকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক রিসোর্ট ও স্পা কার্যক্রমের এমন সংযুক্ত অবকাঠামো সামাজিকভাবে সংবেদনশীল এবং নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্থা লিডস্ট্রিম নূরজাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে দাপনাজোর ও আশপাশের গ্রামের মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। একসময় যেখানে চার শতাধিক ছাত্রী অধ্যয়ন করত, বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে প্রায় ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, রিসোর্ট ও স্পা সেন্টার চালুর পর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী ভর্তিতে। বিদ্যালয় সংলগ্ন জমিতে ২০২০ সালে চালু হয় ‘ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট’; পরে সেখানে যুক্ত হয় একটি স্পা সেন্টার। রিসোর্ট ও স্পা সেন্টারের মালিক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর। অভিযোগ রয়েছে, রিসোর্ট নির্মাণের সময় পৃথক প্রবেশপথ বা কার্যকর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি। ফলে একই গেট দিয়ে স্কুলছাত্রী ও রিসোর্টের অতিথিদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২২ সালে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে পৃথক গেট নির্মাণে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর রিটের পর ২০২৪ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট থেকেও আলাদা গেট নির্মাণের নির্দেশ আসে। কিন্তু এখনো পৃথক প্রবেশপথ বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে রিসোর্ট প্রাঙ্গণে বিশেষ আয়োজন, কনসার্ট ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এমন আয়োজন একটি বালিকা বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী স্থানে হলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য ও সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের মোট ৩০৬.৫ শতাংশ জমির মধ্যে প্রায় ১০০ শতাংশ জমি বর্তমানে রিসোর্টের ব্যবহারে রয়েছে। এমনকি প্রধান শিক্ষকের সরকারি বাসভবনও রিসোর্টের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ অর্থ রিসোর্ট-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “আমরা চাই আমাদের মেয়েরা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে পড়াশোনা করুক। কিন্তু একই গেট দিয়ে রিসোর্টের অতিথিদের যাতায়াত আমাদের দুশ্চিন্তায় রাখছে।” আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দার মন্তব্য, “পরিকল্পনার সময় যদি পৃথক গেট ও সীমানা নির্ধারণ করা হতো, তাহলে এতো বিতর্ক সৃষ্টি হতো না।” বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার জন্য দ্রুত পৃথক বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট নির্মাণ জরুরি।” রিসোর্টের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার জানিয়েছেন, বিষয়টি মালিকপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং মালিক দেশে এলে পৃথক প্রবেশপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।” এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি শুধুমাত্র অবকাঠামোগত নয়; এটি সামাজিক দায়বদ্ধতা, নৈতিকতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি সমাধানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বতন্ত্রতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের)-এর দ্বিতীয় জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে ব্যাপক শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। এর আগে একই দিন দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা সদর হেলিপ্যাডে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কোর্ট বিল্ডিং জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাফিজুর রহমান প্রথম জানাজার ইমামতি করেন। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আইনজীবী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। জানা যায়, ভারতের কলকাতা শহরের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় ভারতীয় অ্যাম্বুলেন্স থেকে বাংলাদেশি ফ্রিজিং লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে ভোরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের ছোট কালিবাড়ী এলাকায় নিজ বাসভবনে মরদেহ পৌঁছায়। সেখান থেকে জেলা সদর হেলিপ্যাডে নেওয়া হয় প্রথম জানাজার জন্য। মরহুমের ছোট ভাই আতোয়ার রহমান জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে দমদম এলাকার ফিনিক্স মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। মৃত্যুর তিন দিন আগে থেকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা, মাল্টি অর্গান ফেইলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও কন্যা তার পাশে ছিলেন। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি ও কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহের পর মরদেহ দেশে আনা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বঙ্গবীর বীরউত্তম), কেন্দ্রীয় নেতা শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইলের সাবেক পিপি এস আকবর খান, জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মোনায়েম হোসেন খান আলম ও সাধারণ সম্পাদক সাদিউর রহমান স্বপনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সখীপুর ও বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ জানাজায় অংশ নেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে তিনি সখীপুর-বাসাইল অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা জোরদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ০২ মার্চ ২০২৬ ইং— চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাজধানীর ডিপ্লোমেটিক এরিয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ঢাকার United States Embassy in Dhaka-সহ সমগ্র কূটনৈতিক এলাকায় নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান।মন্ত্রী বলেন ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা সুসংহত করতে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি Border Guard Bangladesh (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।SPEAR ও ENV নিয়ে আলোচনা বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অবৈধ অভিবাসন রোধ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে Special Programme for Embassy Augmentation and Response (SPEAR)” বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে SPEAR প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রয়োজন রয়েছে, অন্যথায় বরাদ্দ তহবিল অন্যত্র চলে যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত এ প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।সন্ত্রাস দমন ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বৈঠকে সন্ত্রাস দমন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে। রাষ্ট্রদূত জানান, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে ডিআইজি পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অবসর ও বদলিজনিত কারণে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সভা/কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশ দেন।অবৈধ অভিবাসন রোধে ENVরাষ্ট্রদূত আরও জানান অবৈধ অভিবাসন রোধে‘Electronic Nationality Verification (ENV) প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ‘গ্রিন জোন’-এ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র উল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা খাতে দেশটি শুরু থেকেই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ সময় রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কালিহাতীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন-কে সংবর্ধনা দিতে গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) গোহালিয়াবাড়ী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিকেল থেকে ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মতিউল আলম তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ,উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক হিরো, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম আব্দুল আওয়াল এবং নারান্দিয়া ইউনিয়ন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোহর আলী। বক্তারা তাদের বক্তব্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথি লুৎফর রহমান মতিন তার বক্তব্যে এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং ইফতার পরিবেশন করা হয়।
জনগণের প্রত্যাশা ও তারুণ্যের চাহিদা অনুযায়ী ইশতেহার পাল্টানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে রাজনীতি কোনো স্থির বিষয় নয় এটি সময় সমাজ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে পরিবর্তনশীল—এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা আকাঙ্ক্ষাসময় ও তারুণ্যের চাহিদা অনুসারে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার পরিবর্তন করতে হবে। শুধু ইশতেহার নয় দলগুলোর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও ঘোষণাপত্রও হতে হবে সময়োপযোগী ও জনমুখী।শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডি আবাহনী ক্লাব মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন গণতান্ত্রিক অঙ্গনে এনসিপির যাত্রা শুরুর দিন থেকেই তিনি আশাবাদী হয়েছেন। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনীতিকে মর্যাদাবান ও গতিশীল করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন তারুণ্যের চাহিদা ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি ইতোমধ্যে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। তিনি আরও বলেন নির্বাচনি সমঝোতার মাধ্যমে জোটগতভাবে অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ছয়টি আসন লাভ করেছে। এই ছয়টি আসন বৃদ্ধি পেতে পেতে একসময় রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করাও অসম্ভব নয় —বলেন তিনি।রাজনীতির উত্থান-পতন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ মাঠে উত্থান-পতন মেনে নিতে হয়। যারা তা মানেনি তারা টিকে থাকতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন জনগণের চাহিদাকে ধারণ করে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যা বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম প্রত্যাশা করে।২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন যে রাজনীতি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবে সেই রাজনীতিই টেকসই হবে।এনসিপির নির্বাচনি ম্যানিফেস্টো তিনি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন জানিয়ে বলেন দলটির কর্মপরিকল্পনা তাকে উৎসাহিত করেছে। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন জাতীয় সংসদে তর্ক-বিতর্ক হবে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমরা এক থাকবো।তিনি সংসদকে কার্যকর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বলেন সকল ইস্যুতে গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে জাতিকে সমাধান দিতে হবে।পরে মন্ত্রী রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে নাকাল টাঙ্গাইল শহরবাসী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাগামহীন চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন টাঙ্গাইল শহরবাসী। সড়কে শৃঙ্খলার অভাব অবৈধ স্ট্যান্ড যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে নগরজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের শহরের নিরালা মোড় পুরাতন বাসস্ট্যান্ড কলেজপাড়া সন্তোষ এলাকা ও আদালতপাড়া—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দেখা যায়। নির্ধারিত লেন বা সিগন্যাল না মেনে হঠাৎ ইউ-টার্ন রাস্তার মাঝখানে যাত্রী ওঠানামা এবং ফুটপাত দখল করে স্ট্যান্ড গড়ে তোলায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান অটোরিকশাগুলো অনেক সময় দলবদ্ধভাবে রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা জরুরি সেবার যানবাহনও আটকে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দাবি এবং যাত্রীদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগও রয়েছে একাংশ চালকের বিরুদ্ধে।স্থানীয়দের অভিযোগ প্রভাবশালী কিছু নেতা বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অধিক হারে ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে। ফলে শহরে অনুমোদনের বাইরে বিপুল সংখ্যক যানবাহন যুক্ত হয়ে তৈরি করছে ভয়াবহ যানজট। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।শহর ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নেই বৈধ কাগজপত্র বা নিবন্ধন। চালকদের বড় একটি অংশের নেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স। মাঝে-মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।পথচারীদের দাবি অটোরিকশাগুলোর মধ্যে পাল্লাপাল্লি করে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা থেকে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।পরিবেশবিদদের মতে অপরিকল্পিতভাবে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিস্তার শুধু যানজটই নয় বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।শহরবাসীর দাবি,অবিলম্বে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে রুট নির্ধারণ নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠোর করা অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এই দৌরাত্ম্যে টাঙ্গাইল শহরের জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন নাগরিকরা।
প্রথম আলো ও The Daily Star-এ হামলা দুই মাসের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর পুড়িয়ে দেওয়া ভবনে আয়োজিত প্রথম আলোর আক্রান্ত ও অগ্নিদগ্ধ ভবন নিয়ে একটি শিল্প আয়োজন শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা চাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। তিনি আরও বলেন এ ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে ভুল বার্তা গেছে যে দেশে সংবাদপত্রের ওপর হামলা করা যায়।তিনি মন্তব্য করেন প্রগতিবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী শক্তি দেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—তারা কখনও সফল হয়নি। দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে উল্টো বার্তা দিতে চাইবাংলাদেশের অগ্রগতি কেউ থামাতে পারবে না।মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাধীন গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.খলিলুর রহমান বলেন এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন আজ আমরা অঙ্গীকার করতে পারি—এ ধরনের ঘটনা দেশে আর ঘটতে দেওয়া হবে না। এটি শুধু সরকারের নয় সমগ্র সমাজের দায়। প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন কোনো পত্রিকার নিজস্ব মতাদর্শ থাকতে পারে। তার সমালোচনা হতে পারে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে। কিন্তু হামলা অগ্নিসংযোগ বা সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় তিনি সতর্ক করে বলেন ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালে সাধারণ নাগরিকদেরও তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্য ডেইলি স্টারের ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয় ও ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ও জনসেবায় জোর দিলেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ২৮/০২/২৬ তারিখে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি মহোদয়। এর আগে মাননীয় মন্ত্রী বহুল প্রত্যাশিত সাথীর মোড় থেকে টুটুল ট্রেডার্স পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন প্রত্যেক দপ্তরকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সেবার মান উন্নয়নে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের প্রত্যাশা ও আস্থা রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।মন্ত্রী আরও বলেন একটি মাদকমুক্ত ও দখলবাজমুক্ত মধুপুর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে প্রশাসনের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। যেকোনো অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর প্রধানদের নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ (২৭-০২-২০২৬) তারিখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ বাজারে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগদান করেন। ইফতার মাহফিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবতার শিক্ষা দেয়। সমাজে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
টাঙ্গাইলের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ–এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি জোয়াহের আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) ভারতের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।ভিপি জোয়াহের টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক সুপরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি ধীরে ধীরে জেলা পর্যায়ে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হন। সংগঠনের দুর্দিনে সাহসী ও দৃঢ় অবস্থানের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আপসহীন মনোভাব দলীয় রাজনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলকে সাংগঠনিকভাবে সুসংহত ও গতিশীল করতে নিরলসভাবে কাজ করেন। তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ছিল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন সৌম্য, মিশুক ও উদারচেতা—এমন মন্তব্য করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা।তাঁর মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।প্রবীণ এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে টাঙ্গাইলবাসী একজন অভিজ্ঞ অভিভাবকতুল্য নেতাকে হারালো—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।মরহুমের জানাজার নামাজ ও দাফন সংক্রান্ত বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ (২৭-০২-২০২৬) তারিখে হ্যারিটেজ কালচার ফোরামের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি চর্চা, সামাজিক মূল্যবোধ ও তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা অর্থনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সাংস্কৃতিক বিকাশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
টাঙ্গাইলে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নে জোর দিলেন মন্ত্রী ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে জেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, টাঙ্গাইল-এ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার-এর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ফকির মাহবুব আনাম এমপি।সভায় জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ই-গভর্ন্যান্স কার্যক্রম জোরদার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা তাদের চলমান প্রকল্প সেবার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন বর্তমান সরকার প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।তিনি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে সকল সরকারি কর্মকর্তাকে আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।পাশাপাশি সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা দ্রুততা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে আন্তঃদপ্তর সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। সভা শেষে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবাব্যবস্থা সম্প্রসারণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের গড়গড়িয়া এলাকায় লেক খনন ও সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে বন বিভাগ ও গারো সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র জনতা’ ব্যানারে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, গারোদের প্রথাগত মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে লেক খনন ও মাটি ভরাট করা হচ্ছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, গড়গড়িয়া লেক ও আশপাশের ভূমি গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ এবং সেখানে তাদের প্রথাগত ভূমি অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, বন বিভাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জাতীয় সদর উদ্যান রেঞ্জের লহুরিয়া বিটের কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, খরা মোকাবিলা এবং বন্যপ্রাণীর পানীয় জলের সংকট নিরসনে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে লেক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে লেকের দুই পাড়ে খননকৃত মাটি জড়ো করা হচ্ছে এবং লেকটি ‘মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধার কার্যক্রম’ এর আওতায় ১,১৬৫ ফুট পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পূর্বে খননকৃত ৬৬৫ ফুট দীর্ঘ লেক শুষ্ক মৌসুমে প্রায় শুকিয়ে যেত। জাউসের ফরেস্ট রেঞ্জার মোশারফ হোসেন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বনাঞ্চলের বানার নদী, বাইদ, খাল ও পুকুর শুকিয়ে গেলে বন্যপ্রাণী জনপদে চলে আসে এবং অনেক সময় হামলার শিকার হয়। লহুরিয়া বিটের সংরক্ষিত পশু প্রজনন কেন্দ্রে হরিণ, ময়ূর ও কাছিম রয়েছে। লেক সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রাণিকূলের পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হবে। সামাজিক বনায়নের সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোত্তালেব হোসেন জানান, বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় পানির স্তর নিম্নমুখী হয়েছে। লেক খননের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গারো নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং খননকৃত এলাকায় কোনো গারো বাড়িঘর বা আবাদি জমি নেই। মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব জানিয়েছেন, লেক সম্প্রসারণ ছাড়াও আরও ১০টি পুকুর সংস্কার করা হচ্ছে, যা বনবাসী ও বন্যপ্রাণীর পানি সংকট কমাবে। তবে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম অভিযোগ করেছেন, পূর্বে দোখলা রেঞ্জের চুনিয়া মৌজায় গারোদের আবাদি জমিতে কৃত্রিম লেক খননের চেষ্টা আন্দোলনের মুখে বন্ধ হয়েছিল। তারা দাবি করছেন, গড়গড়িয়া এলাকাতেও একইভাবে প্রথাগত ভূমি অধিকার উপেক্ষা করে কাজ করা হচ্ছে। টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মোহসিন বলছেন, সংরক্ষিত বনে কোনো প্রথাগত ব্যক্তিগত ভূমি অধিকার প্রযোজ্য নয়। তিনি আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল গারো যুবকদের উসকে দিয়ে অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
টাঙ্গাইল শহরে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের জন্য যুবদের জন্য ফাউন্ডেশন নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আয়োজন করেছে ১০ টাকায় ইফতার বাজার। রমজানের শুরু থেকেই তারা প্রতিদিন সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করে আসছে।আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল ডিস্ট্রিক্ট ইসলামী পাঠাগারের সামনে বসেছিল ১০ টাকার ইফতার বাজার। সংগঠনটির উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা যেন কুন্ঠাবোধ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ইফতার ক্রয় করতে পারেন, সেজন্য ন্যূনতম মূল্যে এই বাজার বসানো হয়েছে। ইফতারে সরবরাহ করা হচ্ছে খেজুর, ছোলা, মুড়ি, পিয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ এবং জিলাপী। সংগঠনটি রমজানের প্রথম দিন থেকে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই উদ্যোগে স্থানীয় সমাজে মানবিক সহমর্মিতা এবং সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
টাঙ্গাইল সদরের কাঁচাবাজারে অস্থিরতা নিত্যপণ্যের মুল্য অধিক -তদারকির ঘাটতির অভিযোগ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদরের অধিকাংশ কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেসব পণ্য তুলনামূলক সহনীয় দামে পাওয়া যাচ্ছিল সেগুলোর দাম এখন হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির দাম প্রতিদিনই যেন নতুন করে নির্ধারিত হচ্ছে। টমেটো বেগুন,কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ আলুসহ অধিকাংশ সবজির দাম বাড়তি। মাছ ও মাংসের বাজারেও একই চিত্র। বিশেষ করে রমজান ও ঈদকে ঘিরে চাহিদা বাড়ার সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় দাম বাড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। একাধিক ভোক্তার ভাষ্য বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি দামের অজুহাতে ইচ্ছেমতো মূল্য নির্ধারণ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের গায়ে নির্ধারিত মূল্য তালিকা টাঙানো নেই। ফলে ভোক্তারা প্রকৃত দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না।অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণেই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে। তারা বলছেন জ্বালানি খরচ ও বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যয়ের প্রভাবও বাজারদরে পড়ছে।সচেতন নাগরিকদের মতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাজার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মনে করছেন নগরবাসী।
কালিহাতি থানা বার্ষিক পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল কালিহাতি থানা-এর বার্ষিক পরিদর্শন করেছেন মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল। পরিদর্শনকালে থানা প্রাঙ্গণে তাঁকে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং থানার সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। তিনি এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন।পুলিশ সুপার থানায় কর্মরত সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা প্রয়োজনীয় চাহিদা ও প্রশাসনিক বিষয় মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি থানার মালখানা হাজতখানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মামলা তদন্তের অগ্রগতি সেবার মানসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।তিনি বলেন থানাকে সেবামুখী প্রতিষ্ঠান ও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে আন্তরিকতা জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে পুলিশকে আরও মানবিক ও জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) টাঙ্গাইল সহকারী পুলিশ সুপার কালিহাতি সার্কেল অফিসার ইনচার্জ কালিহাতি থানা এবং থানায় কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা ও
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।