টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। নির্বাচনী মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন স্পষ্ট। দিন দিন জমে উঠছে লড়াই; গণসংযোগ, পথসভা, জনসভা ও মিছিলের মাধ্যমে উভয় পক্ষই নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের নির্বাচনী ফলাফল নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিএনপি-সমর্থিত ভোট কতটা একমুখী থাকে, নাকি কোনো কারণে বিভক্ত হয়। দলীয় প্রতীক থাকায় বিএনপি প্রার্থী স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দীর্ঘদিনের স্থানীয় যোগাযোগ ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন। বিশেষ করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের ভোটের প্রবণতা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহর এলাকায় উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা ও রাজনৈতিক সচেতনতা যেখানে মুখ্য, সেখানে গ্রামাঞ্চলে প্রার্থী পরিচিতি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্থানীয় সমীকরণ বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা, কেন্দ্রভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী রাখা এবং ভোটার উপস্থিতি (টার্নআউট) চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে। অতীতে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল সদর আসনে কম ব্যবধানের ফলও নির্বাচনের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। সব মিলিয়ে, টাঙ্গাইল-৫ আসনের ভোটের লড়াই এখন টানটান উত্তেজনায় ভরা। শেষ পর্যন্ত ভোটের অঙ্ক কার পক্ষে যাবে, আর কার মুখে উঠবে বিজয়ের শেষ হাসি—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ি-১৪১) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের প্রার্থী জনাব ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সক্রিয়ভাবে ভোটারদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে চলেছেন। সরিষাবাড়ির প্রতিটি গ্রামে তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছে তাদের হৃদয় জয় করেছেন। জনাব শামীম নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেন, "আমার লক্ষ্য সরিষাবাড়িকে শাসক নয়, সেবক হিসাবে আধুনিক ও উন্নত শহরে পরিণত করা।" তিনি সাধারণ জনগণকে কেবলই নয়, আসনের সকল নির্বাচনী প্রার্থীদের সঙ্গে হাত মেলিয়ে কাজ করারও অঙ্গীকার করেছেন। তিনি এবং তার সমর্থকরা এই শপথবাক্য ঘোষণা করেছেন: ১২ তারিখের পর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে। নতুন, সমৃদ্ধ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি। ভেদাভেদ নয়, হিংসা নয়, আমাদের শক্তি হবে ঐক্য। সকলের প্রচেষ্টায় পথ হবে উন্নয়ন। ন্যায় ও ইনছাবভিত্তিক সমাজ গড়ার চেষ্টা। জামালপুরের মধ্যে সরিষাবাড়িকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শীর্ষে পৌঁছানোর প্রত্যয়। সরিষাবাড়ির সাধারণ জনগণ জানিয়েছেন, জনাব শামীম তাদের কাছে এক নয়নের মনি হয়ে উঠেছেন। তার উদার মানবতা এবং সেবামূলক মনোভাবের কারণে জনগণ তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রদান করছেন। অনেক ভোটার আশা প্রকাশ করেছেন, তার নেতৃত্বে সরিষাবাড়ি দেশের উন্নয়নের একটি রোল মডেল হয়ে উঠবে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর আখেরি মিছিল ও জনসভা স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর-ভুয়াপুর এলাকায় গত রোববার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হলো নির্বাচনী প্রচারণার আখেরি মিছিল ও জনসভা। গোপালপুরের স্থানীয় জনসমুদায়ের উপস্থিতিতে জমকালোভাবে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, যিনি গোপালপুর-ভুয়াপুর এলাকা থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ সাফায়ত বিনতে সালাম (সাবা)। নির্বাচনী প্রচারণার এ আখেরি মিছিল ও জনসভায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে শুরু হয়ে জনসভা সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনী প্রচারনায় প্রার্থী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু তার পরিকল্পনা এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনগণের জন্য নতুন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রদান করেন।ডাঃ সাফায়ত বিনতে সালাম (সাবা) তার বক্তব্যে এলাকাবাসীর একক সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আগামী নির্বাচনে এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর বিজয় নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিল ও জনসভা সমাপ্তির পরও প্রার্থীর প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করতে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে প্রশংসা করেন।এই আখেরি মিছিল ও জনসভা গোপালপুর-ভুয়াপুর এলাকার নির্বাচনী প্রচারণার চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এবং এলাকার জনগণের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কালিহাতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক এবং ধানের শীষ প্রতীক সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির (ধানের শীষ) প্রতীকের প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র (হাঁস) প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে কালিহাতী থানা গেট অবরোধ করেন।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের লুহুরিয়া বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।হামলায় আহতরা হলেন—নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নারান্দিয়া ইউনিয়ন ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আল আজাদ পালিমা গ্রামের নজরুল ইসলাম কামাল কাজিম উদ্দিন ও আব্দুল কুদ্দুস।ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাতেই কালিহাতী উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি কালিহাতী থানা এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে নেতাকর্মীরা হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, রাতে লুহুরিয়া বাজার এলাকায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় তারা বাজারে অবস্থিত বিএনপির অফিসে অবস্থান নিলে হঠাৎ করে স্বতন্ত্র (হাঁস) প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়।এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন বলেন ঘটনাটি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। হামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা একটি সুষ্ঠু অবাধ ও স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশা করি।তবে এ ঘটনায় স্বতন্ত্র (হাঁস) প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বা তার পক্ষের কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে.এ.এম.তৌফিক আজম বলেনহামলার ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ এক বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফেরদৌস হোসেন রনির নেতৃত্বে এই গণমিছিলটি দুপুর ২টায় যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়ক থেকে শুরু হয়। গণমিছিলে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, যুবক, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ ভোটার অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এসময় নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। গণমিছিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী বলেন, “ঢাকা-৫ এর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট, বেকারত্ব ও নাগরিক সেবার দুরবস্থায় জনগণ আজ দিশেহারা। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।” তিনি আরও বলেন, “ধানের শীষ কোনো দলের প্রতীক নয়, এটি জনগণের মুক্তির প্রতীক। আপনারা যদি ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেন, তাহলে ঢাকা-৫ কে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনকল্যাণমুখী এলাকায় রূপান্তর করা হবে—ইনশাআল্লাহ।” এসময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফেরদৌস হোসেন রনি বলেন, “এই গণমিছিল প্রমাণ করে ঢাকা-৫ এ বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরিবর্তন চায়, জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়।” গণমিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং শেষে নেতৃবৃন্দ জনগণের প্রতি ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইল সদর–০৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে শহর বিএনপির নির্বাচনী মিছিল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর–০৫ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু–এর পক্ষে টাঙ্গাইল শহর বিএনপির উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি। মিছিলের শুরুতেই ছিল ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। নেতাকর্মীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়ন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলে উপস্থিত নেতারা বলেন আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলের মানুষের পরীক্ষিত নেতা। অতীতে তাঁর নেতৃত্বে এ এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে ধানের শীষ এবার বিজয়ী হবে। মিছিলে টাঙ্গাইল শহর বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নিতে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পর্তুগাল বিএনপির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার। এ সময় দেশে অবস্থানরত পর্তুগাল বিএনপির সদস্য সচিব সায়েফ আহমেদ সুইট, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক গিলমান চৌধুরীসহ দেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার মেন্দারবেড় গ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ ফরিদুল কবীর তালুকদার (শামীম)-এর নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রচারণাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেন্দারবেড় গ্রামের সম্মানিত মুরুব্বী বদিউজ্জামান হীরা, আব্দুর রহিম, মোবারক হোসেন, বেলাল হোসেন, গেনদামিয়া, ফটিক মিয়া, মোতালেব হোসেন, রকিবুল ইসলাম চানু সহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি। যুব সমাজের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হাসান, সাদ্দাম হোসেনসহ গ্রামের বিপুল সংখ্যক তরুণ যুবক। প্রচারণাকালে বক্তারা এলাকার উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইলকে ‘মডেল জেলা’ গড়তে টুকুর ২৩ দফা উন্নয়ন অঙ্গীকার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল–৫ (সদর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে। উঠান বৈঠক মতবিনিময় সভা সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গণসংযোগে অংশ নিয়ে ভোটারদের নানা সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনছেন তারা।এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সাংগঠনিক সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তার প্রচারণাকে ঘিরে পুরো আসনজুড়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা।এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের সার্বিক উন্নয়ন ও রূপান্তরের লক্ষ্যে নিজের ২৩ দফা উন্নয়ন অঙ্গীকার জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সম্প্রতি এসব অঙ্গীকার প্রকাশের পর ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নকে নিরাপদ মাদকমুক্ত,চাঁদাবাজমুক্ত ও আধুনিক একটি ‘মডেল টাঙ্গাইল’হিসেবে গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন তিনি।তার ঘোষিত ২৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যমুনা নদীর স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ মাহমুদনগরে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ টাঙ্গাইলকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা এবং টাঙ্গাইলকে শিক্ষার নগরীতে রূপান্তর।এর আগে এক নির্বাচনী জনসভায় টাঙ্গাইল সদরের উন্নয়নে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন টুকু। ওই জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান এসব দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সাত দফা দাবির সঙ্গে ২৩ দফা উন্নয়ন অঙ্গীকার যুক্ত হওয়ায় টাঙ্গাইলের উন্নয়ন ইস্যু নতুন মাত্রা পেয়েছে।স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টুকু বলেন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়ন আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শহর ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।যুব সমাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি আইটি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং ব্যবসা সহজীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।বিএনপির ৩১ দফার আলোকে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা প্রদান সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা সহজ করতে ওয়ান কল সার্ভিস চালুর অঙ্গীকারও করেন এই বিএনপি নেতা।চাঁদাবাজমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তোলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে টাঙ্গাইলকে একটি আধুনিক নিরাপদ ও উন্নত জনপদে রূপান্তর করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল–৫ (সদর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকেই প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করছেন। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের উন্নয়নে ২৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তাঁর লক্ষ্য টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নকে একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত ‘মডেল টাঙ্গাইল’ হিসেবে গড়ে তোলা। ২৩ দফার মধ্যে রয়েছে যমুনা নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মাহমুদনগরে সেতু নির্মাণ, টাঙ্গাইলকে শিক্ষার নগরীতে রূপান্তর, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং শহর-গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। এছাড়া যুবকদের কর্মসংস্থান, আইটি খাতে বিনিয়োগ, নারী ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, কৃষক ও দরিদ্র পরিবারের জন্য কার্ড চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা এবং নাগরিক সেবা সহজ করতে ‘ওয়ান কল সার্ভিস’ চালুর অঙ্গীকার করেন তিনি। চাঁদাবাজমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নত ও আধুনিক জনপদ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুল রহমান আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সফরে আসছেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে তিনি নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে এ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জনসভা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। নির্বাচনী জনসভা সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে এবার যেন ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী সার্বক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে সোমবার নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল। মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির বিশাল নির্বাচনী জনসভা সফল করতে মাঠের যাবতীয় কার্যক্রম আমরা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারব বলে আশাবাদী। আমাদের এই জনসভায় জামায়াত আমীরসহ তাঁর সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।”তিনি আরও বলেন, “এই জনসভায় নারী ও পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহণ থাকবে। নারীদের জন্য আলাদা অংশে সার্বিক নিরাপত্তাসহ বসার ব্যবস্থা করা হবে। জনসভা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জামায়াতে ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবকরা সর্বত্র দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছি।”নূরুল ইসলাম বুলবুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ নির্বাচনী জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে এবং শান্তিপূর্ণ ও নজিরবিহীন একটি সমাবেশ উপহার দিতে পারবে জামায়াতে ইসলামী। মাঠ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর আবু গিফারী, জেলা সেক্রেটারি আবু বক্কর, জামায়াত নেতা ও পৌরসভার সাবেক মেয়র অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোখলেশুর রহমান, আব্দুল আলীমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব ডা. শফিকুল রহমানের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী জনসভা উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গঠন, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি বৈষম্যমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আল্লাহর সাহায্য ও জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী দিনে সরকার গঠন করতে চায়। এ সময় তারা আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাব, গোয়েন্দা বিভাগ, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা আবুজার গিফারী, রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী জোন পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু বকর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী জননেতা নূরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ড. কেরামত আলী, এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ড. মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিতে আজ দেশে আসছেন পর্তুগাল বিএনপির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার ও সদস্য সচিব সায়েফ আহমেদ সুইট। এ বিষয়ে তারা অনলাইন সংবাদমাধ্যম মুক্তধ্বনি ডটকম-কে জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও তারা প্রবাসে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে দলীয় কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে প্রবাসী নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করাই ছিল তাদের প্রধান দায়িত্ব। তারা আরও জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা অনুযায়ীই তাদের এই দেশে আগমন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ, নির্বাচনী প্রচারণা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করতেই তারা সক্রিয়ভাবে মাঠে নামবেন।
ঢাকা: ঢাকা-১৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডাক্তার শফিকুর রহমানের নির্বাচনী কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করা হয়েছে। জামায়াতের আমির সম্প্রতি ঢাকা-১৫-এর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন এবং একই সঙ্গে একটি ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া বাসের উদ্বোধন করেন। এই বাসটি ব্যবহার করে প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকা এবং অন্যান্য আসনে মাল্টিমিডিয়া ও অনলাইন কেন্দ্রিক প্রচারণা চালাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত জামায়াত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং আগামী নির্বাচনে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবেন। রাব্বি সবুজ বলেন, “দেশের সম্পদ ও সম্মান যাদের হাতে নিরাপদ থাকবে, ১২ তারিখ তাদের হাতে চাবি উঠবে।” এছাড়াও, তিনি গতকালকের ধানেশপুরে সহিংসতার ঘটনাকে বিএনপির পরিকল্পিত ঘটনার মাধ্যমে ভোটারদের প্রতি আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
কালিহাতী উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হালিম ইঞ্জিনিয়ারের যোগসাজশে কালিহাতীতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে। সূত্র জানায়, কালিহাতীর বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা রাতের আঁধারে লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। এসব বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনরায় সক্রিয় করার কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আরও রয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় লতিফ সিদ্দিকী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হালিম ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ও সমঝোতা তৈরি হয়েছে। যার মাধ্যমে কালিহাতীতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের পথ তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক পদধারী এবং কয়েকজন ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাও নীরবে এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দিনের বেলায় তারা প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করলেও, রাতের অন্ধকারে ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকছেন। এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বলেন, “দলের ভেতরে থেকে যারা সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকেও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিষয়ে আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত তাদের শনাক্ত করা হবে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের গোপন সমঝোতা ও দ্বিমুখী ভূমিকা কালিহাতীর রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই চরম ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
জামালপুরের ০৪ আসনের ১৪০ সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামিমের নির্বাচনী প্রচারণা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ০৪ নং ওয়ার্ডের সকল নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন সুরুজ উদ্দিন মেম্বার। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিএনপি দেশের মুক্তির স্বপক্ষে ছিল, জনগণের সঙ্গে এক হয়ে দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছে। অন্যদিকে জামাত স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং আজও দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাই বিএনপি’র সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ সর্বদা তৎপর থাকতে হবে।” কামাল তরফদার বলেন, “এ আসনে নির্বাচনী উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে এবং ভোটের মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীককে জয়ী করতে হবে।” সভায় উপস্থিত ছিলেন: মো: সুরুজ উদ্দিন, সরিষাবাড়ি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও আওনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: কামাল তরফদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি, ০৪ নং আওনা ইউনিয়ন বিএনপি মো: আবুল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক, ০৪ নং আওনা ইউনিয়ন বিএনপি মো: আব্দুল খালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওনা ইউনিয়ন ছাত্রদল ও সহ-সভাপতি আওনা ইউনিয়ন যুবদল মো: আতিকুর রহমান আতিক, ০৪ নং আওনা ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাটি মো: আব্দুল খালেকের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
ভুয়াপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল রেলি ও নির্বাচনী প্রচারণা স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন ২৪ জানুয়ারি: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল-২ (ভুয়াপুর–গোপালপুর) আসনের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলায় এক বিশাল রেলি ও পথিক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।রেলি ও মিছিলটি ভুয়াপুর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা নিজ নিজ দলের স্লোগান দেন এবং ভোটারদের প্রতি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন ও ভোট প্রার্থনা করেন।রেলিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় প্রতীক নিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মিছিলটি এগিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় জনগণের মাঝেও নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীর বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাঠে নেমেছে। তিনি উন্নয়ন, নৈতিকতা ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির কথা তুলে ধরে ভোটারদের সচেতনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।দলীয় নেতারা জানান, নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতে টাঙ্গাইল-২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পথসভা, গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।উল্লেখ্য, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ কর্মসূচি ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইল–৫ আসনে গণসংযোগে ব্যস্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন বিএনপির টুকু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল–৫ (সদর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চর পলি খামারপাড়া ও কাকুয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে তার নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু হয়। এদিন চর পলি খামারপাড়ায় একাধিক উঠান বৈঠক পথসভা এবং শাহরিয়ার হাসান মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচনী সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।গণসংযোগে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সরেজমিনে দেখা যায় গণসংযোগের অংশ হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কাকুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করছেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন তাদের সুখ-দুঃখের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং এলাকার বিদ্যমান সমস্যা সংকট ও উন্নয়ন প্রত্যাশা সম্পর্কে অবগত হন।স্থানীয় বাসিন্দারা প্রার্থীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা উন্নয়ন কর্মসংস্থান নাগরিক সেবা অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেন। এ সময় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের ঘোষিত ২৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নকে নিরাপদ মাদকমুক্ত চাঁদাবাজমুক্ত এবং একটি উন্নত মডেল টাঙ্গাইল হিসেবে গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য।তার ২৩ দফা উন্নয়ন অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে- যমুনা নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ মাহমুদনগরে সেতু নির্মাণ টাঙ্গাইলকে শিক্ষার নগরীতে রূপান্তর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী উন্নয়ন সবুজ পরিবেশ গঠন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা আইটি সেক্টরে গুরুত্ব ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবসা সহজীকরণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা প্রদান সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবংওয়ান কল সার্ভিস চালু করা। গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলে প্রচারণায় মুখর স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী সৈয়দ খালেদ মোস্তফা। টাঙ্গাইল জেলার রাজনীতিতে এক পরিচিত ও ব্যতিক্রমী নাম সৈয়দ খালেদ মোস্তফা। প্রচারণার ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই আপসহীন—কারো তোয়াক্কা না করে নিজের বিশ্বাস ও আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তিনি। নির্বাচনী মৌসুম এলেই টাঙ্গাইল সদর থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চোখে পড়ে তার নাম ও ছবি সংবলিত পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার। সৈয়দ খালেদ মোস্তফা একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হলেও ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সহজ-সরল ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে পরিচিত। নিজেকে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবেই উপস্থাপন করেন। তার এই সরলতা ও মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার গুণই তাকে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে গেছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি অতীতেও নির্বাচনী মাঠে ছিলেন এবং দলীয় আদর্শের পক্ষে মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি টাঙ্গাইল সদর–৫ আসনে ‘তারা’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তার প্রচারণা আরও গতিশীল হয়েছে। দিন-রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরছেন এবং একটি স্বচ্ছ ও জনবান্ধব রাজনীতির অঙ্গীকার করছেন।স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ নিরলস প্রচারণা এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার কারণে সৈয়দ খালেদ মোস্তফা টাঙ্গাইল সদর–৫ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছেন।
টাংগাইল-০২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাংগাইল-০২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এমপি প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের পক্ষে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বাদ আসর নামাজের পর গোপালপুর পৌর শহরের সূতী পলাশ কেন্দ্রীয় গোরস্থান মাঠ থেকে মাওলানা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি গোপালপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোপালপুর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এসে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। শোভাযাত্রা চলাকালে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্ল্যাকার্ড ব্যানার ও বিভিন্ন রঙের দলীয় পতাকা বহন করতে দেখা যায়। রাস্তার দুই পাশের দোকানদার বাড়ির বাসিন্দা ও পথচারীরা হাত নেড়ে করতালি দিয়ে শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানান।সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। জনগণের মৌলিক অধিকার ন্যায়বিচার সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আগামী নির্বাচনে গোপালপুর–ভূঞাপুরের জনগণকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান তালুকদার।এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাংগাইল জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ড.আতাউর রহমান জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস ছালাম খান ভূঞাপুর উপজেলা আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইদ্রিস হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা রাফিউল আলম রুমু উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক উবাইদুল্লাহসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হবে এবং টাংগাইল-০২ আসনে একটি ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
সোনামুই বাজারে বিএনপির গণসংযোগে জনসমাগম ধানের শীষ প্রতীকে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধাওয়াইল ইউনিয়নের সোনামুই বাজারে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার গোপালপুর–ভুয়াপুর (০২) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গেলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। গণসংযোগ চলাকালে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু সোনামুই বাজারসহ আশপাশের এলাকায় পথসভা ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ দৈনন্দিন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। শত শত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো বাজার এলাকায় নির্বাচনী উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন ধানের শীষ প্রতীক এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালপুর–ভুয়াপুর আসন থেকে নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের সুখ-দুঃখ ও বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন।তিনি আরও বলেন জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই তার রাজনৈতিক শক্তি। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন কাজ করে যেতে চান।নির্বাচনী প্রচারণা কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তারা জানান এলাকাবাসীর ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ প্রমাণ করে—গোপালপুর–ভুয়াপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে।শেষে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।