টাঙ্গাইলে প্রচারণায় মুখর স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী সৈয়দ খালেদ মোস্তফা। টাঙ্গাইল জেলার রাজনীতিতে এক পরিচিত ও ব্যতিক্রমী নাম সৈয়দ খালেদ মোস্তফা। প্রচারণার ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই আপসহীন—কারো তোয়াক্কা না করে নিজের বিশ্বাস ও আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তিনি। নির্বাচনী মৌসুম এলেই টাঙ্গাইল সদর থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চোখে পড়ে তার নাম ও ছবি সংবলিত পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার। সৈয়দ খালেদ মোস্তফা একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হলেও ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সহজ-সরল ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে পরিচিত। নিজেকে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবেই উপস্থাপন করেন। তার এই সরলতা ও মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার গুণই তাকে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে গেছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি অতীতেও নির্বাচনী মাঠে ছিলেন এবং দলীয় আদর্শের পক্ষে মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি টাঙ্গাইল সদর–৫ আসনে ‘তারা’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তার প্রচারণা আরও গতিশীল হয়েছে। দিন-রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরছেন এবং একটি স্বচ্ছ ও জনবান্ধব রাজনীতির অঙ্গীকার করছেন।স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ নিরলস প্রচারণা এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার কারণে সৈয়দ খালেদ মোস্তফা টাঙ্গাইল সদর–৫ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছেন।
টাংগাইল-০২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাংগাইল-০২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এমপি প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের পক্ষে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বাদ আসর নামাজের পর গোপালপুর পৌর শহরের সূতী পলাশ কেন্দ্রীয় গোরস্থান মাঠ থেকে মাওলানা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি গোপালপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোপালপুর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এসে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। শোভাযাত্রা চলাকালে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্ল্যাকার্ড ব্যানার ও বিভিন্ন রঙের দলীয় পতাকা বহন করতে দেখা যায়। রাস্তার দুই পাশের দোকানদার বাড়ির বাসিন্দা ও পথচারীরা হাত নেড়ে করতালি দিয়ে শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানান।সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী আদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। জনগণের মৌলিক অধিকার ন্যায়বিচার সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আগামী নির্বাচনে গোপালপুর–ভূঞাপুরের জনগণকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান তালুকদার।এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাংগাইল জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ড.আতাউর রহমান জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস ছালাম খান ভূঞাপুর উপজেলা আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইদ্রিস হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা রাফিউল আলম রুমু উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক উবাইদুল্লাহসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হবে এবং টাংগাইল-০২ আসনে একটি ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
সোনামুই বাজারে বিএনপির গণসংযোগে জনসমাগম ধানের শীষ প্রতীকে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধাওয়াইল ইউনিয়নের সোনামুই বাজারে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার গোপালপুর–ভুয়াপুর (০২) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গেলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। গণসংযোগ চলাকালে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু সোনামুই বাজারসহ আশপাশের এলাকায় পথসভা ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ দৈনন্দিন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। শত শত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো বাজার এলাকায় নির্বাচনী উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন ধানের শীষ প্রতীক এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালপুর–ভুয়াপুর আসন থেকে নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের সুখ-দুঃখ ও বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন।তিনি আরও বলেন জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই তার রাজনৈতিক শক্তি। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন কাজ করে যেতে চান।নির্বাচনী প্রচারণা কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তারা জানান এলাকাবাসীর ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ প্রমাণ করে—গোপালপুর–ভুয়াপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে।শেষে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে, ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পক্ষে প্রচারণা শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারী) বিকেলে দুর্গাপুর ইউনিয়নের থাউশালাপাড়া এলাকার আদিবাসী পল্লীতে এক উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এ প্রচারণা চালানো হয়। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির আয়োজনে উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন উপজেলা কমিটির ভাইসচেয়ারম্যান বিশাকা রাংসা, সাধারণ সম্পাদক নীরেশ রুরাম, সম্মানীত সদস্য সেবিনা মারাক, তালিম মারাক, মৃনাল কান্তি বানাই, অর্জুন রাংসা সহ আরো অনেকেই। বক্তার বলেন, আদিবাসীদের জীবন মান উন্নয়নের স্বার্থে আমরা সকলে মিলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবো। তিনি আমাদের এলাকার গর্ব ও অনুপ্রেরণা। তিনি এমপি নির্বাচিত না হয়েও উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য যে কাজ গুলো করে গেছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। আদিবাসী এক অভিভাবক বলেন, তারুণ্যের শক্তিতে পরিবর্তনের লক্ষে, আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা এবার ধানের শীষে ভোটপ দেবো। আদিবাসীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এসেছেন। আমাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনেছেন। বিগত ২০ বছরেও এভাবে আমাদের কেউ খোঁজ করেনি। আমরা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় করতেই সকলে মিলে ধানেষ শীষে ভোট দিবো।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল জেলা শাখার পাঁচজন নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রাকিব হোসেন ও মোঃ রানা আহমেদ এবং সদস্য সাজ্জাত হোসেন রিফাত, ইব্রাহিম বাদশা ও আল হেলাল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একইসঙ্গে ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় আপসহীন অবস্থান থেকেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলেও জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ছাত্রদল সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখবে।
টাঙ্গাইলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান শতাধিক নেতাকর্মীর টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর হাত ধরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতি মিলনায়তনে এই যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাদের বরণ করে নেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলী গ্রামের শাহাদত খান ফিরোজ আতোয়ার খান গোলাপ খান মহির খান নজরুল মেম্বার, আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় বিএনপিতে যোগদান করেন। নেতাকর্মীরা জানান দীর্ঘদিন ধরে তারা গামছা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। এবার সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর প্রতি আস্থা রেখে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে বিজয়ী করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।যোগদান অনুষ্ঠানে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সন্ত্রাস মাদক চাঁদাবাজিমুক্ত কিশোর গ্যাংমুক্ত নিরাপদ ও আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে কাজ করবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুর আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
টাঙ্গাইল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়ন বৈধ রাখলো ইসি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।এর আগে একই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেন। রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া বৈধতার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা ওই আপিলে অভিযোগ করা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন।শুনানিতে উত্থাপিত যুক্তি ও পাল্টা বক্তব্য আপিল শুনানিতে মো. লিয়াকত আলীর পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী বলেন সরকার ঘোষিতভাবে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট দলের নেতৃত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এ কারণে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা উচিত বলে দাবি করা হয়।অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরে বলেন তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন এবং নির্বাচন আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের নিষেধাজ্ঞা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার হরণ করতে পারে না বলেও শুনানিতে উল্লেখ করা হয়।নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণশুনানিকালে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুল রহমানেল মাছউদ মাছউদ গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেনসরকার একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করেনি। নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যক্তির যোগ্যতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।সব পক্ষের বক্তব্য দাখিলকৃত নথিপত্র এবং বিদ্যমান নির্বাচন আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেয়।আপিল শুনানির প্রেক্ষাপটউল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শেষ দিনের শুনানি রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে শুরু হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়াম(বেজমেন্ট-২)-এ নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড এ শুনানি পরিচালনা করে।নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে প্রতিটি আপিল আবেদন আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব ছাড়াই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও সূত্রটি জানায়।রাজনৈতিক গুরুত্ব টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়ন বহাল থাকায় এ আসনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও জমবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) শুনানি শেষে কমিশন তার মনোনয়ন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেয়। এর আগে একই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিল আবেদনে তিনি দাবি করেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন। রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত শুনানিতে লিয়াকত আলীর পক্ষে তার আইনজীবী এ যুক্তি তুলে ধরেন। তবে শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনার মাছউদ আহমেদ বলেন, ‘সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছে; কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করেনি। কোনো ব্যক্তি আইনের চোখে অযোগ্য প্রমাণিত না হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।’ শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর নির্বাচন কমিশন আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ রাখার সিদ্ধান্ত দেয়। উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানির শেষ দিন আজ রবিবার। এদিন সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়াম (বেজমেন্ট-২)-এ আপিল শুনানি শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পথ সুগম হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে সাতজনই কোটিপতি। অপর একটি আসনের প্রার্থী নিজে কোটিপতি না হলেও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় বেশি। এছাড়া টাঙ্গাইলে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া দুই ভাইস চেয়ারম্যানসহ তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার ক্ষেত্রে দেখা গেছে—স্ত্রীদের আয় ও সম্পদ স্বামীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন— টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর): কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসির। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর): কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার): কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল লাভলু। টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর): কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল): বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (টাঙ্গাইল-১) সম্পদ: ৩ কোটি ৯২ লাখ ৬৫ হাজার ৩৪২ টাকা বাৎসরিক আয়: ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫০ টাকা তাঁর স্ত্রী রেশমা আনামের— সম্পদ: ২ কোটি ৫৮ লাখ ৮ হাজার ১৮৬ টাকা বাৎসরিক আয়: ১৩ লাখ ১১ হাজার ২৫০ টাকা। আবদুস সালাম পিন্টু (টাঙ্গাইল-২) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টুর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার ৬২৬ টাকা। তাঁর বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৭৫৫ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিলকিস বেগমের— সম্পদ: ২ কোটি ৭ লাখ ১ হাজার ৮৬০ টাকা বাৎসরিক আয়: ১৪ লাখ ২৯ হাজার ২৩ টাকা। এস এম ওবায়দুল হক নাসির (টাঙ্গাইল-৩) সম্পদ: ১ কোটি ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৯ টাকা বাৎসরিক আয়: ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২০৭ টাকা তাঁর স্ত্রী রিনাত ফৌজিয়ার— সম্পদ: ১ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার ২০৭ টাকা বাৎসরিক আয়: ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৭ টাকা। লুৎফর রহমান মতিন (টাঙ্গাইল-৪) সম্পদ: ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪২২ টাকা বাৎসরিক আয়: ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ টাকা তবে হলফনামা অনুযায়ী তাঁর নামে ২২ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা ও স্থায়ী আমানতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তাঁর নগদ ও ব্যাংক আমানতের পরিমাণ ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮১ টাকা।বাৎসরিক আয়: ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৭ টাকা ঘোষিত মোট সম্পদ: ২ কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৬ টাকা অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী সায়মা পারভীন সিম্মির— বাৎসরিক আয়: ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৮ টাকা মোট সম্পদ: ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৩২৫ টাকা। এছাড়া মামলার সংখ্যার দিক থেকেও তিনি শীর্ষে রয়েছেন। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ২৩৮টি মামলা থাকলেও সবগুলো থেকেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। রবিউল আওয়াল লাভলু (টাঙ্গাইল-৬) বাৎসরিক আয়: ৪ লাখ ৬০ হাজার ৪২২ টাকা সম্পদ: ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৮২ টাকা অন্যদিকে তাঁর শিক্ষক স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের— বাৎসরিক আয়: ২৪ লাখ ৫০ হাজার ২৪৪ টাকা সম্পদ: ২ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৫৬৫ টাকা। আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৭) বাৎসরিক আয়: ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭১২ টাকা সম্পদ: ৫৮ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৭ টাকা তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আজাদের— বাৎসরিক আয়: ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৯ টাকা সম্পদ: ২ কোটি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪২ টাকা। আহমেদ আযম খান (টাঙ্গাইল-৮) সম্পদ: ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬১ হাজার ১৩৯ টাকা বাৎসরিক আয়: ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ টাকা তাঁর স্ত্রী নার্গিস সিদ্দিকার— পেশা: কর্পোরেট চেম্বার প্র্যাকটিস সম্পদ: ২ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৬২ টাকা বাৎসরিক আয়: ২৩ লাখ ৫ হাজার ২৭৬ টাকা। হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের অধিকাংশই বিপুল সম্পদের মালিক। পাশাপাশি একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্ত্রীদের আয় ও সম্পদ স্বামীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি—যা এবারের নির্বাচনে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব বাবু বহিষ্কার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবুকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্থলে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মালাকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তৌহিদুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য পদে জাহিদ হোসেন মালাকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।এতে আরও বলা হয় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের অনুমোদনে এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।যুবদলের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিপক্ষে অবস্থান নেন তৌহিদুল ইসলাম বাবু। দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণাসহ শৃঙ্খলাভঙ্গের একাধিক সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্র আরও জানায় ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুবদল কঠোর অবস্থানে থাকবে।
বাসাইলে গণভোট ঘিরে ব্যাপক প্রচারণা শুরু বাসাইল পৌরসভার প্রশাসক জনাব মোছাঃ আকলিমা বেগমের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বাসাইল পৌরসভার উদ্যোগে গণভোটকে সামনে রেখে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও মহল্লায় ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হচ্ছে উঠান বৈঠক যেখানে সাধারণ ভোটারদের গণভোটের গুরুত্ব ভোট প্রদান পদ্ধতি ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশের চাবি আপনার হাতে শীর্ষক বার্তা সম্বলিত লিফলেট ও ব্যানারের মাধ্যমে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ ও না ভোট সংক্রান্ত পৃথক প্রচারপত্র বিতরণ করে ভোটারদের স্বচ্ছ ও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হচ্ছে।পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো গণভোট সম্পর্কে জনসাধারণকে সঠিক তথ্য জানানো বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। স্থানীয় জনগণের মধ্যে এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আপিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার তিনটি আসনে খেলাফত মজলিসের তিন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাসানাত আল আমীন, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের প্রার্থী মো. আবু তাহের এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের প্রার্থী মো. শহীদুল ইসলাম। এর আগে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিভিন্ন ত্রুটির কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ফরম-২১ এ স্বাক্ষর না থাকায় টাঙ্গাইল-৫ আসনের প্রার্থী হাসানাত আল আমীনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একইভাবে হলফনামা ও ফরম-২০ ও ২১ এ স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে টাঙ্গাইল-৭ আসনের প্রার্থী মো. আবু তাহেরের মনোনয়ন বাতিল হয়। এছাড়া ফরম-২০ ও ২১ যথাযথভাবে পূরণ না করায় টাঙ্গাইল-৮ আসনের প্রার্থী মো. শহীদুল ইসলামের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক যাচাই-বাছাইয়ের দিন এসব মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন। পরবর্তীতে প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করলে রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়াম (বেজমেন্ট-২)-এ আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন আপিল মঞ্জুর করে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করে। এতে করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের এই তিনটি আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা রইলো না।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা দিয়েছিল বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। তবে নির্বাচন থেকে দূরে না থেকে সারা দেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে দলীয়ভাবে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর শহরে নিজস্ব বাসভবনে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘হানাদারদের চেয়েও খারাপ এই আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। সে আসিফ চেয়ারম্যানকে জেলে ঢুকিয়েছে, আবার সেই জামিন করিয়েছে। আমরা একাত্তর সালে যেভাবে নেমেছিলাম, সেভাবেই এবারও নামবো। তবে জামায়াতের পক্ষেও না, বিএনপির পক্ষেও না—আমরা নামবো স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের পক্ষে। তার মার্কা যেটাই হোক, আমরা তার সঙ্গেই থাকবো।’ টাঙ্গাইল-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় তোমাদের নেতারা যে অপরাধ করেছে, তারা যদি আল্লাহর কাছে মাফ চায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় পক্ষের লোক হতাম। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা—দেশকে স্বাধীন করেছি, স্বাধীনতাকে বুকে নিয়েই কবরে যেতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে যেন “জয় বাংলা” বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা যায়—এই চিন্তা থেকেই আমি আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়াতে বলেছি। এতে আমার রাজনীতি থাকুক বা না থাকুক, তাতে কিছু আসে যায় না। আমি “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” বলার জন্যই কালিহাতীতে দলীয়ভাবে প্রচারে নেমেছি।’ সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—দলের গাজীপুর মহানগর সভাপতি আব্দুর রহমান, সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস সিকদার, বাসাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা রাহাত খান টিপু, আবু জাহিদ রিপনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল এবং জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হাসান রেজা।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী আপিলে তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়াম (বেজমেন্ট-২)-এ অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত দেন। এর আগে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় মোহাম্মদ আলীর দাখিল করা এক শতাংশ ভোটারের তালিকার মধ্যে একজন ভোটারের তথ্যগত অসংগতি পাওয়া যায়। ওই একজন ভোটারের তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করি। এক শতাংশ ভোটারের মধ্যে নয়জন ভোটার যাচাই-বাছাইয়ে সঠিক পাওয়া যায়। মাত্র একজন ভোটারের তথ্যগত ত্রুটির কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। পরে যথাসময়ে আমি আপিল করি।” তিনি আরও বলেন, “শনিবার সকালে নির্বাচন কমিশন আমার আপিল শুনানি গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি বিবেচনা করে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। এতে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।” মোহাম্মদ আলীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফ শুনানি প্রসঙ্গে বলেন, “একজন ভোটারের নম্বর ভুল থাকায় সরাসরি যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। অথচ নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী সরেজমিনে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে। ওই ভোটারের ঠিকানা ও ফোন নম্বর মনোনয়নপত্রে উল্লেখ ছিল। কিন্তু তাকে ডেকে বা উপস্থিত করে যাচাই করা হয়নি।” তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার পর শুনানির একেবারে শুরুতেই কমিশন আমাদের যুক্তি গ্রহণ করেন এবং আপিল মঞ্জুর করেন।” ব্যারিস্টার আশরাফ আরও জানান, “এই সিদ্ধান্তের ফলে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না। তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ায় তিনি এখন টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের একজন বৈধ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে পারবেন।”
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম বলেছেন, দলীয়ভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তিনি ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচনী রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে চান। বিশেষ করে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খানের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রাসেলের পক্ষে মাঠে নামবেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দীপ কুড়ি কুশি কুটিরে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিশেষ কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “যেহেতু আমরা দলীয়ভাবে নির্বাচনে যাইনি, তাই আমাদের কিছু করার কথা না। তারপরও আমি ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচন করতে চাই। দাড়িয়াপুরের চেয়ারম্যান আসিফকে গ্রেপ্তার করিয়েছে আহমেদ আযম খান, আবার তাকেই জেল থেকে বের করেও এনেছে। তাঁর এই ধরনের অপকর্ম বন্ধ করতেই আমি টাঙ্গাইল-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রাসেলের নির্বাচন করতে চাই।” সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা একযোগে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানালে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খানকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “আহমেদ আযম খান নিজেকে ‘বাতেন বাহিনীর’ মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাসাইল-সখীপুর এলাকায় কাদেরিয়া বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর অস্তিত্ব ছিল না। তিনি চরম মিথ্যাবাদী।” বঙ্গবীর বলেন, “আমি মিথ্যাবাদীকে কখনো সমর্থন করতে পারি না। মহান আল্লাহও মিথ্যাবাদীকে ঘৃণা করেন। আহমেদ আযম খান পাকিস্তানি হানাদারদের চেয়েও খারাপ। আমি তারেক রহমানের ধানের শীষের নির্বাচন করতে যেতে পারি, কিন্তু ভুলেও আহমেদ আযম খানের নির্বাচনকে সমর্থন করবো না।” দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি যদি নির্বাচনে নামতাম, তোমরা যেভাবে আমার পাশে থাকতে—সেভাবেই আগামী নির্বাচনে সালাউদ্দিন রাসেলের পাশে থাকবে। ১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে যুদ্ধে নেমেছিলাম, আগামি নির্বাচনে সেভাবেই স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রাসেলের পক্ষে মাঠে নামতে হবে।” এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। কেউ টাকা দিলেই কাউকে গ্রেপ্তার না করতে পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।” বিশেষ কর্মীসভায় সভাপতিত্ব করেন সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুস ছবুর খান। সভায় দলের প্রায় দুই ডজন নেতাকর্মী বক্তব্য দেন এবং আগামি নির্বাচনে দলীয় অবস্থান ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বিজয়নগরে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আচরণবিধি ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ সভা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নির্বাচনী আচরণ বিধি, গণভোট ও পোস্টাল ভোট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিত করতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার ১০-০১-২০২৬ ইং তারিখে দুপুরে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ ফাতেমার সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোছাম্মাৎ ফারহানা রহমান নির্বাচনী আচরণ বিধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকলকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং গণভোটে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জনগণকে উৎসাহিত করেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবুর রহমান, জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে ফজলুল হক এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদমান সাকিব। বক্তারা নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের কর্মী গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি অশুভ শক্তি প্রয়োগ বা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক উৎসব। এ উৎসব সফল করতে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য।
বিজয়নগরে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আচরণবিধি ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ সভা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নির্বাচনী আচরণ বিধি, গণভোট ও পোস্টাল ভোট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিত করতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার ১০-০১-২০২৬ ইং তারিখে দুপুরে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ ফাতেমার সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোছাম্মাৎ ফারহানা রহমান নির্বাচনী আচরণ বিধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকলকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং গণভোটে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জনগণকে উৎসাহিত করেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবুর রহমান, জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে ফজলুল হক এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদমান সাকিব। বক্তারা নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের কর্মী গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি অশুভ শক্তি প্রয়োগ বা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক উৎসব। এ উৎসব সফল করতে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রস্থল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হবিবুর রহমান প্লাজার সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ সময় তিনি বলেনআজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যাকাণ্ড শুধু একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয় এটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম খান ঝলক সদস্য সচিব সালেহ আহমেদ শাফী ইথেনসহ জেলা সদর উপজেলা ও শহর শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আমার ভাই মরলো কেন প্রশাসন জবাব চাই সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দাওআমরা সবাই মুসাব্বির হবো সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এতে পুরো শহরজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকে।সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন আজিজুর রহমান মোসাব্বির ছিলেন একজন ত্যাগী ও সাহসী রাজনৈতিক নেতা। তাঁর হত্যাকাণ্ড একটি নির্মম ন্যাক্কারজনক ওপরিকল্পিত সন্ত্রাসী ঘটনা। অবিলম্বে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।বক্তারা আরও বলেন রাজনৈতিক সহিংসতা ও খুন-খারাবির মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করা যাবে না। জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে ঈদের আনন্দ বইছে: টুকু টাঙ্গাইলের মানুষের মধ্যে ঈদের মতো উৎসব বিরাজ করছে: টুকু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইল আগমনকে ঘিরে জেলায় ঈদের মতো উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সন্তোষে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান আগামী ১১ জানুয়ারি বগুড়ায় যাওয়ার পথে প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইলে আসছেন। তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এটি তাঁর টাঙ্গাইলে প্রথম সফর। আমরা সৌভাগ্যবান যে তাঁর রাজনৈতিক সফরের সূচনা হচ্ছে টাঙ্গাইল থেকে এবং তা আবার ভাসানীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে।তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানী কাগমারী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার আন্দোলনের বীজ রোপণ করেছিলেন। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া উভয়েই এই মাজার জিয়ারত করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দেশনায়ক তারেক রহমানও মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করতে টাঙ্গাইলে আসছেন ।টুকু বলেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের মির্জাপুর এলাকা থেকেই তাঁকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে টাঙ্গাইলবাসী তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন। তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইলবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর আগমনকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছে। রাজনৈতিকভাবে এই দিনটি টাঙ্গাইলের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন হয়ে থাকবে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল সদরবাসীর মধ্যে ঈদের মতো আনন্দ অনুভূত হচ্ছে।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন- আগামীর বাংলাদেশে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন তা মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তাঁর ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েছে।তারেক রহমানের আগমন ও দোয়া মাহফিলকে সফল করতে দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।এ সময় বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সদস্য আবদুল্লাহ হেল কাফি শাহেদ ও সৈয়দ শহিদুল আলম টিটু, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাগর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদ ইসলাম দিপুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
টাঙ্গাইলে দুই নারী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, আপিলের সিদ্ধান্ত টাঙ্গাইলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে দুই নারী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার নিপা এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ও জুলাই আন্দোলনের সংগঠক ফাতেমা আক্তার বীথি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়নপত্রে কাগজপত্র ও বিধিগত ত্রুটি পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে ঠিক কোন ধরনের ত্রুটির কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে উভয় নারী প্রার্থীই আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করে ন্যায়সঙ্গত ও সুবিচার প্রত্যাশা করবেন। উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
ঘরে ঘরে জনে জনে মানবতার দীপ জ্বালাচ্ছেন কায়সার কামাল-জনকল্যাণের বার্তা নিয়ে তৃণমূলে ছুটে চলেছে উপজেলা যুবদল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতিকে মূল দর্শন হিসেবে সামনে রেখে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল—কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিবের সুদৃঢ় নির্দেশনায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা গাওকান্দিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে চলছে ব্যাপক গণসংযোগ ও জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম। ঘরে ঘরে, জনে জনে—এই মানবিক ও হৃদয়ছোঁয়া স্লোগানকে ধারণ করে যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এ সময় তারা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মানবিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তৃণমূল মানুষের সামনে তুলে ধরছেন। রাজনীতির সীমা ছাড়িয়ে একজন মানবদরদী অভিভাবক হিসেবে তিনি যে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাজ করে যাচ্ছেন—তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। গণসংযোগকালে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বহুমাত্রিক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে— সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা,ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প,হৃদরোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের জন্য হার্টের চিকিৎসা ও চিকিৎসা সহায়তা, কিডনি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের সহায়তা, হাজারেরও বেশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের সফল চোখের অপারেশন, গৃহহীন ও অসহায় পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাঠের সেতু নির্মাণসহ নানা মানবিক ও উন্নয়নমূলক কাজ। এছাড়াও কৃষকবান্ধব কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের পরিকল্পনার বিষয়টিও প্রচারণায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।এই গণসংযোগ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন উপজেলা যুবদলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মোঃ হান্নান শাহ, মাহামুদুল হক সানি, কামরুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও রনি। পাশাপাশি গাওকান্দিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সার্বিক সহযোগিতায় আহ্বায়ক মোঃ ইমরান হোসেন সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক তূষার ইমরান প্রান্ত, ইলিয়াস হোসেন,সিদ্দিক, নিজাম, তূষার, শামীম, শাকিল, জলিল, আলম, জবেদ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা নিরলসভাবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। যুবদল নেতারা বলেন,ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি মানবতার প্রতীক। কৃষক, শ্রমজীবী, অসহায় রোগী ও নারীদের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে একটি ন্যায্য ও মানবিক সমাজ গড়ার বার্তা তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই প্রচার কার্যক্রম।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।