আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নড়াইলে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইল জেলায় গ্রহণ করা হয়েছে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন নড়াইলের পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার।১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়। ভোটের আগের রাতে পুলিশ সুপার স্বয়ং মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, আনসার ও গ্রাম পুলিশ, মোবাইল টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্কতা,পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।পুলিশ সুপার বলেন,নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন সে বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল সালাম,আর্মি ক্যাম্প নড়াইলের লেঃ কর্নেল (সিও) মোঃ মাসুদ রানা, বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লা,জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুস ছালেক,জেলা কমান্ড্যান্ট (আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী) মোঃ আল-আমিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ কামরুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতি ও সক্রিয় তৎপরতায় নড়াইলে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে টাঙ্গাইলে র্যাবের বিশেষ টহল ও রোবাস্ট পেট্রোল জোরদার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছে র্যাব-১৪। জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, নোডাল পয়েন্ট ও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টহল ও রোবাস্ট পেট্রোল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসানের সার্বিক নির্দেশনায় সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইলের একাধিক বিশেষ টহল দল মাঠে কাজ করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাবনা বাইপাস,আশেকপুর বাইপাস,ঘারিন্দা বাইপাস,করটিয়া বাইপাস,পাকুল্ল্যা বাইপাস,মির্জাপুর বাইপাস, বাসাইল বাইপাসসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বাহিরমুখে রোবাস্ট পেট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।র্যাব সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কিংবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ লক্ষ্যে র্যাবের টহল টিম রোবাস্ট পেট্রোল টিম ও গোয়েন্দা ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। সন্দেহজনক চলাচল, অবৈধ সমাবেশ কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। র্যাব ফোর্সেসের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কেউ যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে মধুপুর এলাকায় নির্বাচন ডিউটি উপলক্ষে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে র্যাব। সেখান থেকেও টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ও ভোটগ্রহণের দিন বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।র্যাব-১৪,টাঙ্গাইল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক ও সহিংসতামুক্ত রাখতে তাদের অভিযান ও টহল কার্যক্রম নির্বাচনকালীন পুরো সময়জুড়ে অব্যাহত থাকবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও চোরাচালান প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধীন মাসুদপুর বিওপির টহলদলের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দের বিষয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মাসুদপুর বিওপির একটি চৌকস টহলদল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের ঠুঠাপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত ওই অভিযানে ০২টি বিদেশি পিস্তল, ০৪টি ম্যাগজিন ও ০৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্তৃক ৩৪টি পিস্তল, ০২টি রাইফেল, ৩৮টি ম্যাগজিন, ৬৪৫ রাউন্ড গুলি, ০২টি মর্টার শেল, ০১টি ককটেল, ০৪টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২০ কেজি গান পাউডারসহ মোট ৫৪টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) কর্তৃক ০১ জন আসামিসহ ৯.৩ কেজি বিস্ফোরক, ০৬টি বিদেশি পিস্তল, ১৩টি ম্যাগজিন ও ২৯ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতকারীরা যাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণসহ সব ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”
গোপালপুরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনসমাবেশ ও আখেরি মিছিল অনুষ্ঠিত স্টাফ রিপোর্টার :এস কে শিপন গোপালপুর (টাঙ্গাইল), ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক বিশাল জনসমাবেশ ও আখেরি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪ ঘটিকার সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোঃ হুমায়ুন কবির-এর নেতৃত্বে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোহাট ময়দানে একটি জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোঃ হুমায়ুন কবির। তিনি তার বক্তব্যে ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। জনগণ যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখে, তাহলে ইনশাআল্লাহ একটি কল্যাণরাষ্ট্র উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।” বক্তব্য শেষে জনসমাবেশ থেকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় নির্বাচনীয় প্রচারের আখেরি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গোহাট ময়দান থেকে শুরু হয়ে গোপালপুর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গোহাট ময়দানে এসে শেষ হয়। মিছিলে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। উক্ত কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। মিছিল চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই জনসমাবেশ ও আখেরি মিছিল গোপালপুর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনীয় কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
৪৬তম বিসিএসে শিক্ষাক্যাডারে দেশসেরা শিপন রানাঅধ্যবসায়ত্যাগ ও বিশ্বাসে গড়া অনন্য সাফল্যের গল্প বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) প্রকাশিত ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশব্যাপী গৌরবের নজির গড়েছেন শিপন রানা। টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার এই কৃতি সন্তান শিক্ষা ক্যাডারে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। শিপন রানা ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. মজিবুর রহমানের সন্তান। শৈশব থেকেই মেধা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দেওয়া শিপন কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি বোর্ড বৃত্তি অর্জন করেন, যা তার মেধার প্রাথমিক প্রমাণ বহন করে।উচ্চশিক্ষায় তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন (ফিলোসফি) বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বিসিএসকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। জানা গেছে, স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সময়ও তিনি বিসিএস প্রস্তুতিতে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়ন চালিয়ে যান।গত তিন থেকে চার বছর ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সংযমী ও কঠিন সময়। বিনোদন, সামাজিক আড্ডা এমনকি খেলাধুলা থেকেও নিজেকে দূরে রাখেন তিনি। মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করে পড়াশোনায় পুরো মনোযোগ দেন। ঈদের ছুটিতেও পরিবারে না গিয়ে হলে অবস্থান করে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তার দৃঢ় প্রত্যয়েরই প্রমাণ। ২০২৫ সালের জুন মাসে গোপালপুর উপজেলার ব্যবসায়ী মো.মোফাজ্জল হোসেন (বাবলু)-এর কন্যা ইশরাত নাদিয়া মীমের সঙ্গে শিপন রানার বিবাহ সম্পন্ন হয়। মীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার কারণে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও সময়সূচি পিছিয়ে দিতে হয় বলে জানা গেছে।শিপন রানা জানান,তার সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর অবদান ছিল অসামান্য। প্রস্তুতির পুরো সময়ে মানসিক সমর্থন অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থেকেছেন ইশরাত নাদিয়া মীম। পরিকল্পিত পড়াশোনা ও ভাইভা প্রস্তুতিতেও তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখেন।ধর্মীয় অনুশাসনের বিষয়ে শিপন রানা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত। তিনি বলেন,এই সাফল্য একান্তই মহান আল্লাহর রহমত। বাবা-মা,স্ত্রী,শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া ও সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। শিপন রানার এই গৌরবজনক সাফল্যে ঘাটাইলসহ পুরো টাঙ্গাইল জেলায় আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ধনবাড়ীর সকল ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসনের কঠোর প্রস্তুতি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার সকল ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন প্রশাসন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব হয়।প্রশাসন সূত্র জানায় ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা যাবে।এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর।এ লক্ষ্যে ধনবাড়ীবাসীর সচেতনতা সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। প্রশাসন আশা প্রকাশ করে জানায় সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় ধনবাড়ী উপজেলায় একটি শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে নিরাপদ চিকিৎসা ও পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন নামে একটি অরাজনৈতিক, মানবিক ও নাগরিকভিত্তিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের ঘোষণা। আজ এক ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই আন্দোলনের সূচনা করেন। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান এস এম হৃদয় ইসলাম বলেন,একটি রাষ্ট্রে প্রতিটি মানুষের নিরাপদ চিকিৎসা গ্রহণ এবং সুস্থ ও দূষণমুক্ত পরিবেশে বসবাস করা মৌলিক নাগরিক অধিকার। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ভেজাল ওষুধ, ভুল চিকিৎসা, চিকিৎসা খাতের লাগামহীন বাণিজ্যীকরণ এবং ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ সাধারণ মানুষের সেই অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এর ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকি, আর্থিক ক্ষতি এবং জীবনহানির আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, চিকিৎসা কখনোই পণ্য হতে পারে না—এটি একটি মানবিক সেবা। একইভাবে পরিবেশ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং নাগরিক জীবনের অপরিহার্য অধিকার। এই নৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ করতেই “নিরাপদ চিকিৎসা ও পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন” গড়ে তোলা হয়েছে। সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে— নিরাপদ, নৈতিক ও মানবিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; ভেজাল ওষুধ, অনিয়ম ও বাণিজ্যিক চিকিৎসার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা,পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ রোগী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এ সময় নেতৃবৃন্দ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক দপ্তরসমূহের প্রতি আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানান। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানানো হয়। ঘোষণায় স্পষ্ট করে বলা হয়, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, মানবিক ও নাগরিকভিত্তিক থাকবে। সংগঠনটি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবে, ন্যায্য দাবির পক্ষে সোচ্চার থাকবে এবং সমাজে ন্যায়পরায়ণতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন— চেয়ারম্যান এস এম হৃদয় ইসলাম চুন্নু, মহাসচিব মেছবাহ উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মো. নাজমুল হক, দপ্তর সম্পাদক মো. আবদুল আলীম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. রায়হান উদ্দিন মানিক,ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান,ভাইস চেয়ারম্যান মো. সুলতান আলী,সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির শাহ,প্রকাশনা সম্পাদক মো. আসাদুল শেখ,আইন বিষয় সম্পাদক মো. ফয়জুল করিম,মহিলা সম্পাদক রেহেনা পারভিন,সদস্য মো. সোহাগ খান এবং সদস্য মিজানুর রহমান। চেয়ারম্যান এস এম হৃদয় ইসলাম বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল সচেতন নাগরিককে নিরাপদ চিকিৎসা ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার এই আন্দোলনে একত্রিত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইল জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা মাদকের বিস্তার রোধ এবং সাধারণ জনগণের জন্য নিরপেক্ষ নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলার সকল থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় নিয়মিতভাবে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।অভিযান চলাকালে জেলা পুলিশের সদস্যরা মোটরসাইকেল প্রাইভেটকার ট্রাক সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে নিবিড় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধ যানবাহন ও নিয়মভঙ্গকারী মোটরসাইকেল আটক করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়।জেলা পুলিশের এই চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে “জ্ঞানেই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নবমবারের মতো সারা দেশের ন্যায় জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ০৫ ফেব্রুয়ারি জেলা শহরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালী শেষে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার,চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবকবৃন্দ, নবীন ও প্রবীণ পাঠক, এবং ছাত্র-ছাত্রীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন , চাঁপাইনবাবগঞ্জে লাইব্রেরিয়ান, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার সাজিয়া আফরিন। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গণগ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একটি আলোকিত ও সচেতন জাতি গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। আলোচনা সভা শেষে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মোট ২৯ জন বিজয়ীর মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে ছিল— চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা (৩টি গ্রুপে ১৪ জন), বইপাঠ প্রতিযোগিতা (উন্মুক্ত গ্রুপে ৬ জন), রচনা প্রতিযোগিতা (নবম–স্নাতকোত্তর গ্রুপে ৩ জন) এবং উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা (২টি গ্রুপে ৬ জন)। দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
গোপালপুর ও ধনবাড়িতে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে গোপালপুর ও ধনবাড়ি থানাধীন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার টাঙ্গাইল জনাব শরীফা হক এবং পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মহোদয় সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণের পরিবেশ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণ ও নির্ভয়ে তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পর্যাপ্ত ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের সার্বিক নিরাপত্তা ও নিবিড় নজরদারি কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার, টাঙ্গাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোপালপুর ও ধনবাড়ি; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণসহ জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যা অপস্) টাঙ্গাইল জনাব ফৌজিয়া হাবিব খান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, গোপালপুর সার্কেল জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার, মধুপুর সার্কেল, টাঙ্গাইল এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
গোপালপুর ও ধনবাড়ীতে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার নির্দেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা রিটার্নিং অফিসার, টাঙ্গাইল। বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রিজাইডিং অফিসারদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা পেশাদারিত্ব ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।এছাড়াও তিনি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় তিনি ভোটারদের জন্য শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।পরিদর্শনের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক গোপালপুর ও ধনবাড়ীর একাধিক ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ভোটকেন্দ্রকে আইপি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেনপরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (গোপালপুর ও ধনবাড়ী)সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট অভিযান জোরদারআইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা ও মাদক নির্মূলে মাঠে জেলা পুলিশপুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলায় চলছে নিয়মিত টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইল জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং সাধারণ জনগণের জন্য নিরপেক্ষ নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপনসহ টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলার সকল থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথে নিয়মিতভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা মোটরসাইকেল প্রাইভেটকার ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে তল্লাশি চালান।চেকপোস্ট কার্যক্রম চলাকালে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও মালামাল তল্লাশির পাশাপাশি অবৈধ যানবাহন শনাক্ত করা হচ্ছে। এ সময় আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল ও যানবাহন আটক করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন দাখিল করা হচ্ছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন সময়কে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে এই বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সাধারণ জনগণকে অপরাধ দমনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে
টাঙ্গাইলে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী নির্বাচনী প্রচারণা বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেনএবারের নির্বাচনে দুটি ভোট রয়েছে। প্রথম ভোটটি হ্যাঁ ভোট—ইনশাল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে, আর ‘না’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর না মানে গোলামী। যারা অতীতে ‘হ্যাঁ’ও বলেনি, নাও বলেনি—আজ যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের অভিনন্দনওমোবারকবাদ।তিনি বলেন যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের সাথে থাকবে তারা প্রমাণ করবে—তারা চাঁদাবাজির সাথে নেই, দুর্নীতির সাথে নেই, মামলাবাজির সাথে নেই এবং মা-বোনদের অপমানের সাথে নেই। তারা থাকবে নতুন বাংলাদেশের সাথে, থাকবে ২০২৪ সালের জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে। সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব—ইনশাল্লাহ। দ্বিতীয় ভোটটি দেশ গড়ার ভোট উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামিতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, তাদের অবশ্যই অতীতে ভালো মানুষ হিসেবে প্রমাণিত হতে হবে। যারা বারবার সুযোগ পেয়েও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের আর নতুন করে দেখার কিছু নেই। এমনকি যারা এখনো দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছে, তাদেরকেও আর নতুন সুযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই।ডা.শফিকুর রহমান বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়েছে। প্রত্যেকটি দল নিজ নিজ সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে নিজেদের দলের পক্ষে কাজ করে ইনশাল্লাহ বিজয় নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে বহু নির্বাচন হয়েছে, বহু সরকার গঠিত হয়েছে। ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোটের পর সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে সমাজে বৈষম্য বেড়েছে, অপরাধ চরম আকার ধারণ করেছে এবং দুর্নীতি পুরো সমাজকে গ্রাস করেছে।এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে যুব সমাজ ফুঁসে উঠে ‘উই মাষ্ট জাস্টিস’ স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ন্যায়বিচার, বাঁচার অধিকার, শিশুর জন্য শিক্ষা, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান, মা-বোনদের জন্য নিরাপত্তা, ব্যবসায়ীদের জন্য শান্তিপূর্ণ ব্যবসার পরিবেশ, শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি এবং কৃষকদের জন্য আধুনিক ও নিরাপদ কৃষি উপকরণের দাবি জানিয়েছিল। এসব দাবি কি কোনো অপরাধ ছিলপ্রশ্ন রাখেন তিনি।এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমীর টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জেলা আমীর আহসান হাবিব মাসুদ, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে একেএম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন তালুকদার এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক প্রদান করা হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এনসিপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লা হায়দারকে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।মিরে প্রধান ডা. শফিকুর রহমানের আগমনে পৌর উদ্যানে জনস্রোত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ইং তারিখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরে প্রধান ডা. শফিকুর রহমান টাঙ্গাইলে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন ইসলামিকেন্দ্রিক দল ও জামায়াতের অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী টাঙ্গাইল শহরে সমবেত হন। বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা.শফিকুর রহমান বলেন জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে চাঁদাবাজি,দুর্নীতি,সন্ত্রাসসহ সকল প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্মূল করা হবে। তিনি বলেন,দেশ আজ নৈতিক অবক্ষয়ের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসলামের আদর্শ ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা গেলে জনগণের জানমাল ইজ্জত ও অধিকার নিরাপদ থাকবে। তিনি আরও জানান জামায়াতে ইসলাম একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে যেখানে শোষণ বৈষম্য ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না।ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৎ,যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্বই পারে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। এজন্য তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।জনসভা চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
মানবসেবা শুধু কর্তব্য নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিকতার গভীরতম প্রকাশ। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক দীর্ঘ ১২ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে বাঁশঝাড়ের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করা চর-চতিলা ফারাজিপাড়ার নাসির উদ্দিনের জন্য নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি “মানবিক ঘর”, যা এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। বুধবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দোচালা টিনের ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নাসির উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, সমাজের সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে অসহায়দের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। এর আগে “তীব্র শীতেও খোলা আকাশের নিচে ঘুমায় নাসির” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান টিন ও আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি প্রবাসী মো. শফিকুল ইসলাম চৌকি, মশারি, তোশক ও বালিশ উপহার দেন। তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক বলেন, আমার কোন কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই, মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি নাসির ভাইকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি আল্লাহর সন্তুষ্টিরঅর্জনের জন্য। মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বিভিন্নস্থানে টিউবওয়েল স্থাপন করে দিয়েছি। স্থানীয়দের মতে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং অন্যদেরও এমন কাজে উৎসাহিত করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। কিছুটা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত দিনমজুর নাসির উদ্দিন নতুন ঘর পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার টাঙ্গাইলে ৫৭তম টিআরসি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি), টাঙ্গাইলে ৫৭তম টিআরসি (জুন ২০২৫ ব্যাচ)-এর প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার অনন্য প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে নবীন পুলিশ সদস্যরা তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন জনাব সরদার নূরুল আমিন বিপিএম অ্যাডিশনাল আইজি (ডেভেলপমেন্ট) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাডিশনাল আইজি (এইচআরএম), বাংলাদেশ পুলিশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা। কুচকাওয়াজ শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও কৃতিত্ব প্রদর্শনকারী শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ করেন। এ সময় তিনি নবীন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনে সাফল্য কামনা করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ আশফাকুল আলম, কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার টাঙ্গাইল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইউনিটের অ্যাডিশনাল ডিআইজিবৃন্দ জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার পুলিশ সুপার টাঙ্গাইলসহ বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে নবীন পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা প্রদর্শন দর্শকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
নির্বাচনী প্রস্তুতি তদারকিতে কালিহাতি ও ভুঞাপুরে জেলা প্রশাসকের সরেজমিন পরিদর্শন ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি ও ভুঞাপুর উপজেলা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা রিটার্নিং অফিসার টাঙ্গাইল। মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিনব্যাপী এই পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নির্বাচন উপলক্ষে প্রিজাইডিং অফিসারদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় তিনি প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলেন নির্বাচন একটি সাংবিধানিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় তিনি নির্বাচনকালীন সময়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।এছাড়াও জেলা প্রশাসক কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং নির্বাচন কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও নিরাপদ করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল ভোট কেন্দ্রে আইপি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার টাঙ্গাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার কালিহাতি ও ভুঞাপুরসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ধানের শীষের প্রচারণায় বিশাল মিছিল গোপালপুর (টাঙ্গাইল), ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় এক বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) গোপালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো: হিরামিয়ার নেতৃত্বে এই মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং এতে ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। এ সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতারা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ধানের শীষের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। তারা আশা প্রকাশ করেন, গোপালপুরের সাধারণ মানুষ ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেবেন। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
‘সত্য প্রকাশে অবিচল’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন “টাঙ্গাইল-জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাব” আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে সত্যনিষ্ঠ, পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি সক্রিয় ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানানো হয়, সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকতার দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও জোরদার করা এবং পেশাগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করা। দীর্ঘ ছয় মাসের ধারাবাহিক প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টার পর ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, রোজ সোমবার সংগঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মশিউর রহমান সজিব-এর দিকনির্দেশনা ও পরামর্শক্রমে এবং উপস্থিত সকল সাংবাদিকের প্রত্যক্ষ ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জনাব রফিকুল ইসলাম। একই প্রক্রিয়ায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব এস এম আব্দুর রাজ্জাক। নবগঠিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় এবং বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বী জনাব কে এম তৈয়ব আলী হীরা-র সভাপতিত্বে টাঙ্গাইল-জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নবগঠিত সংগঠনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, সাফল্য ও সাংবাদিক সমাজের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
কালিহাতীতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যৌথ বাহিনীর টহল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় যৌথ বাহিনীর টহল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সহকারী কমিশনার (ভূমি) কালিহাতী টাঙ্গাইল ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ যৌথ টহল পরিচালনা করা হয়। টহল চলাকালে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সতর্ক অবস্থানে থাকার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জোরদার করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো অনিয়ম বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে এ সময় জানানো হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস–২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের হলরুমে এই কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মোঃ আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম শাহাব উদ্দীন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুস্থ জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য গ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়সহ মোট ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মির্জাপুর উপজেলা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা রিটার্নিং অফিসার টাঙ্গাইল।পরিদর্শনকালে তিনি নির্বাচন উপলক্ষে প্রিজাইডিং অফিসারদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি প্রিজাইডিং অফিসারদের সর্বোচ্চ নিষ্ঠা আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসক উপজেলায় কর্মরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় তিনি পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ভোটকেন্দ্রে আইপি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের এ পরিদর্শন ও দিকনির্দেশনায় নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও সুসংহত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।