আইন-অপরাধ

র‍্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের পৃথক দুই অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার

reporter-icon
মো: সাজিদ পিয়াল: সিনিয়র রিপোর্টার ( মুক্তধ্বনি )
নভেম্বর ১৪, ২০২৫ | 0

র‍্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের পৃথক দুই অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৪ এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প পৃথক দুইটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ এবং ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদর ও মধুপুরে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। র‍্যাব জানায়, প্রথম অভিযানে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর পৌরসভার দৈনিক বাজার এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১৯,৪৬৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। এ সময় পলিথিন মজুদ ও সরবরাহে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ পলিথিনের পাইকারি ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় অভিযানে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর নন্দবয়রা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ওই আসামির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় গুরুতর অভিযোগ ছিল। র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‍্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের অধিনায়ক জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত
যুবদলের আহ্বায়কের নেতৃত্বে পুলিশের গাড়িতেই যুবককে পেটালেন নেতাকর্মিরা

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াসের নেতৃত্বে পুলিশের গাড়িতে মারজান উদ্দিন (২৯) নামে এক যুবক বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে থানা প্রাঙ্গণে মব সৃষ্টির চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মারধরকারীরা উপজেলা বিএনপির অঙ্গও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মি এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াসের অনুসারী। রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, হেলাল উদ্দিন, ইমতিয়াজ, ফরিদ উদ্দিন, ওমর ফারুক, কোহিনুর বেগম, উম্মে কুলসুম, নাজিম উদ্দিন, মারজান উদ্দিন, সাইফুজ্জামান, শাহাব উদ্দিন ও মহিমা বেগম। এদের মধ্যে এক নারীসহ দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মারজান উদ্দিন ও তার বড় ভাই উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিনকে থানায় সোপর্দ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের লামছড়ি গ্রামের কামাল উদ্দিনের মেয়ে নিগার সুলতানার পারিবারিক ভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়েতে নিজ গ্রামের হুজুরকে দাওয়াত না দিয়ে অন্য গ্রামের হুজুর দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়। এ নিয়ে সমাজের মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার হেলাল মাঝির সাথে কামালের ছোট ভাই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিনের বাকবিতন্ডা হয়। রোববার সকালে স্থানীয় রামচরণ বাজার থেকে শাহাব উদ্দিন বাড়ি ফেরার পথে নলচিরা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের রবিনের দোকানের সামনে হেলাল মাঝির নেতৃত্বে কিছু লোক তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে শাহাব উদ্দিনের ভাই মারজান ও নাজিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তাদের বেধড়ক মারধর করে তিনজনকে কুপিয়ে আহত করে। পরে তারা বাড়ি চলে গেলে লামছড়ি গ্রামের তাদের দুটি বসতঘরে হামলা ভাংচুর করে নগদ টাকাও স্বর্ণালংকার লুটে নেয় এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ শাহাব উদ্দিন ও মারজানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াসকে তার অনুসারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ডেকে নেয়। সেখানে তার নেতৃত্বে পুলিশের সামনে শাহাব উদ্দিন ও তার ভাই মারজানের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মিরা। পরে হাসপাতাল থেকে থানায় নেওয়ার পথে হাসপাতালের ফটকের সামনে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াসের নেতৃত্বে পুলিশের গাড়িতে যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মিরা হামলা চালায়। পুলিশের গাড়িতেই পুলিশকে হেনেস্তা করে মারজানকে বেধড়ক মারধর করে তার শরীর থেকে সব ব্যান্ডেজ খুলে নেয়। এরপর তারা থানার সামনে গিয়েও তার ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে ব্যাপক হট্রগোল সৃষ্টি করে।     হেলাল মাঝি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, শাহাব উদ্দিনের ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে আমাদের মসজিদের হুজুরকে দাওয়াত না দিয়ে অন্য হুজুরকে দাওয়াত দেওয়া হয়। আমি মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে শাহাব উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হুমকি দেন। রোববার সকালে আমি স্থানীয় রামচরণ বাজারে উঠলে তিনি আমাকে দেখে হামলা চালান। ওই সময় তার আরো ৪ভাই এসে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে আহত করে। এতে আমাদের কয়েকজন গুরুত্বর আহত হয়। এদের মধ্যে কোহিনুর ও ফরিদ উদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।   থানা প্রাঙ্গণে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুলকে যুবদল নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনা যায়, আপনার মত মানুষ যদি....। তাকে আমরা হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসছি, তাকে মারার দরকার আছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। একপর্যায়ে এসআই মিনহাজুল মাটিতে বসে গিয়ে প্রশ্ন করে আমার সামনে আসামিকে মারধর করে কিভাবে। ওই ভিডিওতে ইলিয়াসকে থানা প্রাঙ্গণে দলীয় নেতাকর্মিদের নিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়।   হাতিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবর আজম বলেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াসের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। এতে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের অনুসারী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।     তবে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস বলেন, আমার উপস্থিতিতে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। উল্টো আমরা আমাদের দলের কয়েকজন নেতা লাঠি-সোটা দিয়ে আমাদের দলের লোকজনকে পিটিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছি। প্রথমে সমস্যা ছিল বিয়ে নিয়ে। পরে এটা এনসিপি বনাম বিএনপি হয়ে গেছে। শাহাব উদ্দিন কৃষি অফিসের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি ও মূলত ছাত্রলীগের একজন লাঠিয়াল ছিল। তার লোকজনের হামলায় প্রতিপক্ষের ৭জন আহত হয়েছে। আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মিকে নির্দেশনা দিয়েছি কারো ওপরে যেন কোন আঘাত না হয়। যা হয়েছে, এগুলো দলের বদনাম আসবে, তোমরা যদি দলবদ্ধ হয়ে আঘাত করতে যাও।   জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মন্জুরুল আজিম সুমন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।   জানতে চাইলে হাতিয়ার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুল আবেদীন বলেন, কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে অবহিত করলে আমি আহত অবস্থায় অবরুদ্ধ দুই ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এর মধ্যে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তাকে চিকিৎসা দিয়ে থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়। তার ভাই মারজানকে চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে আসার পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে পুলিশের গাড়িতেই তার সকল ব্যান্ডেজ খুলে নিয়ে তাকে পিটানো হয়। ওই সময় হাসপাতালের ফটকের সামনে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের সবাই ছিল।     হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, দুই গ্রুপই কোপাকুপি করছে। একপর্যায়ে জনগণ কৃষি কর্মকর্তার বাড়ি ঘর ভাংচুর করছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পুলিশ হেফাজতে আছে। দুই পক্ষই মামলা করবে। এটা পলিটিক্যাল কোন বিষয়না। সাহাব উদ্দিন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর দোসর ছিল, ফ্যাস্টিট ছিল। গত ৮-১০ বছর সে এখানে চাকরি করতেছে। সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার শর্তে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে এসে দল ভারি করছে। আগে থেকেই জনগণের তার ওপর একটা রাগ ছিল। ওসি আরও বলেন, পরবর্তীতে অন্য গ্রুপ থানা প্রাঙ্গণে এসে বলে ফ্যাস্টিসকে আমাদের হাতে তুলে দেন, আমরা তাকে নিয়ে যাব। এ নিয়ে থানার প্রাঙ্গণে উচ্চবাচ্য হয়েছে।

সরিষাবাড়ীর কাবারিয়াবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযান: লিফলেট বিতরণ ও পোস্টারিং, মাদক নির্মূলে গ্রামবাসীর জোর দাবি

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা-এর আওনা ইউনিয়ন-এর অন্তর্গত কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সচেতন মানুষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন দোকানপাট, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে মাদকবিরোধী পোস্টার লাগানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাবারিয়াবাড়ী এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তির কারণে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরিচিত ও সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এতে করে গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকার সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা জানান, আগে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামটি শান্তিপূর্ণ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের বিস্তার এবং কিছু অসাধু চক্রের তৎপরতার কারণে গ্রামের পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। এতে করে গ্রামের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকের প্রভাবের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ঝগড়া-বিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ পরিস্থিতিতে গ্রামের ছোট-বড় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। তাই কাবারিয়াবাড়ী গ্রামকে মাদকমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী এই কর্মসূচির সময় গ্রামবাসীরা লিফলেটের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন। লিফলেটে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় এবং মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার লাগিয়ে এলাকাবাসীকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গ্রামবাসীরা জানান, তারা শুধু সচেতনতা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। প্রয়োজনে গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও ভাবছেন তারা। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এদিকে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামটিকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করবে। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, সামাজিক সচেতনতা, জনগণের ঐক্য এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে খুব শিগগিরই কাবারিয়াবাড়ী গ্রাম থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে করে আবারও গ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও পর্যটন বিকাশে দুর্গাপুরকে ঘিরে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন কায়সার কামাল

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশকে সামনে রেখে একটি সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দুর্গাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী, পাহাড়ঘেরা জনপদ এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলার মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্যোগে ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। তাই জনগণের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নদী ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুরের অপার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কুল্লাগড়া, দুর্গাপুর সদর, লেংগুরা, খারনৈ এবং রংছাতি—এই পাঁচটি ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ‘ট্যুরিজম হাব’ বা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পরিবহন খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র-বৃহৎ ব্যবসায়ীরা এর মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা দুর্গাপুরের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এ অঞ্চলে আসবেন। এর ফলে দুর্গাপুরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে আধুনিক হাসপাতাল, উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন সুবিধা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক নাগরিক সেবারও প্রসার ঘটবে। ফলে দুর্গাপুর শুধু একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেই নয়, বরং একটি আধুনিক, সম্ভাবনাময় ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা আফসানা এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবক ড. দিবালোক সিংহ। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বপালনকারী গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সবার উপস্থিতিতে দুর্গাপুরের সম্ভাবনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতের বিস্তার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন খাতকে বিকশিত করা গেলে এই অঞ্চল শুধু নেত্রকোনাতেই নয়, সারাদেশের কাছে একটি অনন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

গোপালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অটল শরিয়ত উল্লাহর পিতা আর নেই

গোপালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অটল শরিয়ত উল্লাহর পিতা মো. ছাদরুল উলা ফকির ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বড়মা মধ্যপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ১০৫ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ব্লক সুপারভাইজার (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। শুক্রবার বাদ জুমআ মরহুমের নিজ বাড়িতে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে, ২ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের মৃত্যুতে গোপালপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

এএফসি ওমেন্স ফুটবল ডে ২০২৬ উপলক্ষে গোপালপুরে ফুটবল ফেস্টিবল অনুষ্ঠিত

এএফসি ওমেন্স ফুটবল ডে ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ফুটবল ফেস্টিবল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সূতী ভি.এম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বর্ণাঢ্য ফুটবল উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ নারী ফুটবলের উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরিতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, নারী ফুটবলের প্রসার ও তরুণীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সূতী ভি.এম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমী আব্দুল লতিফ, একাডেমির সহ-সভাপতি বাদল, একাডেমির কোচ ও বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক গোলাম রায়হান বাপন, উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কাঞ্চনসহ অন্যান্য শিক্ষক ও ক্রীড়াবিদরা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় কৃষ্ণা রানী সরকার। আরো উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র খেলোয়াড় সুমন ও মমিনসহ স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। ফুটবল ফেস্টিবলে স্থানীয় তরুণী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে প্রীতি ম্যাচ ও বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়, উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।

আইন-অপরাধ

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০

টাঙ্গাইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন ও চোলাই মদ উদ্ধারটাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ সময় প্রিভেন্টিভ, নিয়মিত মামলা, মাদক ব্যবসা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে মাঠপর্যায়ে কঠোর তৎপরতা চালানো হয়। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনায় অপরাধ দমনে জোরালো অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যঅভিযানের অংশ হিসেবে মাদক উদ্ধার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে—৯৪ পিস ইয়াবা,১৩ গ্রাম হেরোইন,৭৩ লিটার ৫০০ গ্রাম চোলাই মদএ ঘটনায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানজেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টাঙ্গাইলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0

টাঙ্গাইলে র‍্যাবের অভিযানে ১০০ বোতল ‘এস্কাফ সিরাপ’সহ মাদককারবারি গ্রেফতার

নোয়াখালীতে যৌথ অভিযানে ৩৭৯৮ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদককারবারি গ্রেপ্তার

গ্রামে বেআইনি সালিশ: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপুল মাদকসহ আটক ১

​চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজাসহ শ্রী বিশ্বনাথ মন্ডল (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ​আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত নাচোল থানাধীন নাসিরাবাদ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। ​গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নাসিরাবাদ গুচ্ছগ্রামের মৃত ঝাপু মন্ডলের ছেলে। অভিযানে তার কাছ থেকে ১৪ গ্রাম হেরোইন, ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ​এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে নাচোল থানায় আসামির বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। ​মাদকবিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0

সখীপুরে মাকে হত্যার ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজ-এর অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী বুশরা তালুকদারের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে

মির্জাপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: যুবক আটক এলাকায় চাঞ্চল্য

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বুশরা খাতুন নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বুশরা খাতুন নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ মার্চ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার শুকুর আলীর ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে তারা ধারণা,অন্যদিকে নিহতের স্বামী বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’বলে দাবি করছেন। তবে সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ফুটেজ ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন বাড়ির মালিক শুক্কুর আলী ভাড়া দেয়ার আরো খোজ খবর নিয়ে এই দম্পতি কে ভাড়া দেয়া উচিৎ ছিল?‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর উপজেলার বাসুদেবপাড়া-গোলাবাড়ী এলাকার রতন তালুকদারের মেয়ে বুশরা তালুকদার প্রায় চার বছর আগে পরিবারের অমতে তার চাচাতো ভাই বাপ্পী তালুকদারকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুকাল পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হলেও পরবর্তীতে তারা পুনরায় একত্রে বসবাস শুরু করেন। গত ছয় মাস ধরে তারা ধনবাড়ী উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় শুক্কুর আলীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।‎গত ২৪ মার্চ বুশরা আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া একটি এক্সক্লুসিভ ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়,নিহত বুশরার গলায় ওড়না পেঁচানো এবং তা জানালার গ্রিলের সাথে বাঁধা। সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, মৃতদেহের পা ঘরের মেঝের সাথে সম্পূর্ণ লেগে আছে। সাধারণত ঝুলে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে পা মাটিতে লেগে থাকার কথা নয়। দৃশ্যটি দেখে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে এটি ‘হত্যাকাণ্ড’ কি না—তা নিয়ে গভীর সন্দেহ ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।‎নিহতের বাবা রতন তালুকদার বলেন আমার মেয়ে ভালোবেসে বাপ্পীকে বিয়ে করেছিল। একবার ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর আবারও তারা একসাথেই থাকতো। তিনি বলেন,আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছি,রিপোর্ট পেলেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেব বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি আরও বলেন,আমার মেয়ে বুশরা টাঙ্গাইল সা’দাত কলেজের অনার্স ২ বর্ষের শিক্ষার্থী। ‎বুশরার বাবা রতন তালুকদার জানান, তার মেয়ে জামাই বাপ্পী নানান অপরাধের সাথে জড়িত বলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেন। ‎একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বুশরার মা বর্তমানে শয্যাশায়ী ও পাগলপ্রায়। এদিকে ঘটনার পর থেকে স্বামী বাপ্পী তালুকদারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকরা বাপ্পীর বাবা আবদুল করিমের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে জানান ছেলে বাড়িতে আছে, কিন্তু পরক্ষণেই সুর বদলে বলেন ছেলে বাড়িতে নেই। তার এই রহস্যজনক আচরণ সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে!‎ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ বলছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। পুলিশ বাদী হয়ে ২৫ মার্চ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ০৬ ‎ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরুস সালাম সিদ্দিক বলেন, বুশরা আত্মহত্যায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছ হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে পরবর্তীতে আইনি প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

এপ্রিল ১, ২০২৬ 0

জামালপুরে জ্বালানি তেল বিক্রয় তদারকিতে অভিযান অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রিতে জরিমানা

নাগরপুরে র‍্যাবের অভিযানে ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ জন

0 মন্তব্য