টাঙ্গাইলের তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হয় এ মতবিনিময় সভা। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সমন্বয় জোরদার করার উদ্দেশ্যে এটি ছিল পুলিশ সুপারের প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিচিতি সভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, উত্তর টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।এ ছাড়া তিন সংগঠনের শতাধিক সাংবাদিক, রিপোর্টার, ক্যামেরাপার্সন ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, টাঙ্গাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সাংবাদিকদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজ ও প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার তার বক্তব্যে বলেন,“পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক। আমরা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবো, আপনারা সঠিক সংবাদ প্রচার করে সমাজকে সহায়তা করবেন। একসঙ্গেই টাঙ্গাইলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও স্থিতিশীল ও উন্নত করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন,“আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট টাঙ্গাইলসহ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ যেন নিরাপদে, বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পারে—এটাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো অনিয়ম যাতে না ঘটে সেদিকে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবো।” পুলিশ সুপার জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় নতুন করে পুলিশ সুপার পদায়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন,“আমি টাঙ্গাইলে দায়িত্ব নিয়েছি নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে। ভোটারদের যেন বিগত নির্বাচনের মতো কোনো দুর্ভোগে না পড়তে হয়। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, টহল ও নজরদারির সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সভা শেষে সাংবাদিকরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং টাঙ্গাইলের সার্বিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কাজের সঙ্গে গণমাধ্যমের অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে বলে মত দেন।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে নাকাল টাঙ্গাইল শহরবাসী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাগামহীন চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন টাঙ্গাইল শহরবাসী। সড়কে শৃঙ্খলার অভাব অবৈধ স্ট্যান্ড যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে নগরজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের শহরের নিরালা মোড় পুরাতন বাসস্ট্যান্ড কলেজপাড়া সন্তোষ এলাকা ও আদালতপাড়া—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দেখা যায়। নির্ধারিত লেন বা সিগন্যাল না মেনে হঠাৎ ইউ-টার্ন রাস্তার মাঝখানে যাত্রী ওঠানামা এবং ফুটপাত দখল করে স্ট্যান্ড গড়ে তোলায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান অটোরিকশাগুলো অনেক সময় দলবদ্ধভাবে রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা জরুরি সেবার যানবাহনও আটকে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দাবি এবং যাত্রীদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগও রয়েছে একাংশ চালকের বিরুদ্ধে।স্থানীয়দের অভিযোগ প্রভাবশালী কিছু নেতা বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অধিক হারে ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে। ফলে শহরে অনুমোদনের বাইরে বিপুল সংখ্যক যানবাহন যুক্ত হয়ে তৈরি করছে ভয়াবহ যানজট। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।শহর ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নেই বৈধ কাগজপত্র বা নিবন্ধন। চালকদের বড় একটি অংশের নেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স। মাঝে-মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।পথচারীদের দাবি অটোরিকশাগুলোর মধ্যে পাল্লাপাল্লি করে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা থেকে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।পরিবেশবিদদের মতে অপরিকল্পিতভাবে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিস্তার শুধু যানজটই নয় বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।শহরবাসীর দাবি,অবিলম্বে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে রুট নির্ধারণ নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠোর করা অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এই দৌরাত্ম্যে টাঙ্গাইল শহরের জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন নাগরিকরা।
নেত্রকোণার দুর্গাপুর-এ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপজেলা ও পৌর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি এর উদ্যোগে দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় উপলক্ষে এক ধর্মীয় আবহে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয় এবং দেশ, জাতি ও নেত্রকোণাবাসীর কল্যাণ কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। তিনি বক্তব্যে আল্লাহর রহমতের কথা স্মরণ করে সবাইকে রমজানের শিক্ষা—সংযম, তাকওয়া ও মানবসেবার আদর্শ—অনুসরণের আহ্বান জানান। ইফতার শেষে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়। ২৮/২/২৬ তারিখে শনিবার দুপুর ২ টার দিকে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাতে তুলে নেন ঝাড়ু ও বর্জ্যের ব্যাগ। ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানস্থলকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে তারা সম্মিলিতভাবে বর্জ্য অপসারণে অংশ নেন। যেন ইবাদতের অংশ হিসেবেই তারা পরিচ্ছন্নতার এই কাজটি সম্পন্ন করেন। ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ বলা হয়েছে—সেই শিক্ষাকে বাস্তবে ধারণ করেই তারা দেখিয়েছেন দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উপস্থিত অনেকেই এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেন এবং বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এমন পরিবেশবান্ধব সচেতনতা সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব পৌর যুবদল আল ইমরান সম্রাট গনি, সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পৌর বিএনপি মাহমুদুল হাসান রুমি, যুগ্ন আহবায়ক পৌর ছাত্রদল সালমান মুক্তাদির, সিনিয়র সহ-সভাপতি সুসং কলেজ ছাত্রদল রুবেল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জনি, মোঃ কামরুল ইসলাম, ইলিয়াস আহমেদ, রিফাত, আরিফ ও রানা প্রমুখ । অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। দেখা গেল এক অনন্য দৃশ্য—যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা , দায়িত্বশীল রাজনীতি মানে শুধু বক্তব্য নয়, কাজের মধ্য দিয়েই তার প্রতিফলন। ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ—এই চেতনাকে ধারণ করেই তারা দেখিয়েছেন সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শুকরিয়ার ইফতার থেকে পরিচ্ছন্নতার বার্তা—দুর্গাপুর আজ গর্বিত এই সচেতন ও মানবিক উদ্যোগে। খনই তা সমাজে সত্যিকারের ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দেয়।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ডুবাইল বাজারে বিকাশ এজেন্টের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, লোপাট সাড়ে তিন লাখ টাকা। টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার ডুবাইল বাজারে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর প্রায় ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। চুরির শিকার দোকানটির নাম শাওন টেলিকম।দোকানের মালিক লুৎফর রহমান জানান, জুমার নামাজের সময় দুর্বৃত্তরা দোকানের পেছনের টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা স্টিলের আলমারি ভেঙে সেখানে সংরক্ষিত প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। নামাজ শেষে দোকানে ফিরে এসে তিনি আলমারি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় দোকানের মেঝেতে রক্তের দাগও লক্ষ্য করেন তিনি। ভুক্তভোগীর ধারণা টিনের বেড়া অথবা আলমারি ভাঙার সময় চোরের শরীরের কোনো অংশ কেটে গিয়ে রক্তপাত হয়েছে। ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা।খবর পেয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।পুলিশ জানায় ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।