ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়া বর্তমান সময়ে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, ব্যবসায়ী, নিউজ পোর্টাল, কিংবা জনপ্রিয় পেজ মালিকদের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে কিছু কার্যকরী পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি সহজেই আপনার ফেসবুক পেজকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। আসুন জেনে নেই, কিভাবে আপনার পেজ হ্যাকিং থেকে রক্ষা করবেন।
আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড শক্তিশালী এবং জটিল হওয়া উচিত। পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন:
পাসওয়ার্ডে বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করুন।
সহজে অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড (যেমন: 123456, password, abcdefg) ব্যবহার করবেন না।
নিয়মিতভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অতিরিক্ত সুরক্ষা পায়। এটি চালু করতে:
ফেসবুক সেটিংসে যান।
"Security and Login" অপশন নির্বাচন করুন।
"Two-Factor Authentication" অপশনে গিয়ে এটি সক্রিয় করুন।
কোড জেনারেটর বা এসএমএস ভেরিফিকেশন ব্যবহার করুন।
ফিশিং অ্যাটাকের মাধ্যমে অনেকেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে থাকে।
অপরিচিত ইমেল বা মেসেজের লিংকে ক্লিক করবেন না।
ফেসবুকের লগইন পেজ নিশ্চিত হয়ে ব্রাউজারে টাইপ করে প্রবেশ করুন।
ফেসবুকের "Trusted Contacts" ফিচার ব্যবহার করে নির্ভরযোগ্য বন্ধুদের যোগ করুন। আপনার অ্যাকাউন্টে সমস্যা হলে তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।
আপনার ফেসবুক পেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অ্যাডমিন বা এডিটর হিসেবে যুক্ত করুন।
নিয়মিত পেজের অ্যাডমিন ও এডিটর লিস্ট চেক করুন।
অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক অ্যাডমিনকে সরিয়ে দিন।
ফেসবুকের সাথে সংযুক্ত থার্ড-পার্টি অ্যাপ এবং প্লাগইনগুলো চেক করুন।
অনির্ভরযোগ্য বা সন্দেহজনক অ্যাপগুলো রিমুভ করুন।
ফেসবুক আপনাকে কোথা থেকে লগইন হয়েছে তা দেখার সুযোগ দেয়।
"Where You're Logged In" অপশন থেকে অজানা ডিভাইস ও লোকেশন চেক করুন।
যদি সন্দেহজনক কিছু পান, তাহলে "Log Out of All Sessions" অপশন ব্যবহার করুন।
আপনার গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট, ছবি ও তথ্যের ব্যাকআপ রাখুন।
যদি কোনো কারণে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়, তাহলে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
যদি আপনার পেজ হ্যাক হয়ে যায় বা হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ফেসবুকের অফিসিয়াল হেল্প সেন্টার থেকে সাহায্য নিন।
আপনার ফেসবুক পেজ হ্যাক থেকে রক্ষা পেতে এই উপায়গুলো অনুসরণ করুন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক রাখলে আপনার পেজ সুরক্ষিত থাকবে এবং হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমে যাবে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এক বিপ্লবী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বা কোডিংয়ের ক্ষেত্রে। একসময় যে কোডিংকে কেবল মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও যুক্তির একচেটিয়া ক্ষেত্র বলে মনে করা হতো, গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের অত্যাধুনিক এআই টুলস সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। জেমিনি (Gemini) এবং ডুয়েট এআই (Duet AI)-এর মতো শক্তিশালী এআই মডেলগুলি কোড লেখা থেকে শুরু করে ডিবাগিং, কোড পর্যালোচনা এবং এমনকি জটিল সিস্টেম ডিজাইন পর্যন্ত সবকিছুতেই ডেভেলপারদের সহায়তা করছে। এই টুলসগুলি কেবল কোডিং প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও ত্রুটিমুক্ত করছে না, বরং কোডিংয়ের ভবিষ্যৎকে এক নতুন দিকে পরিচালিত করছে, যেখানে মানুষ ও এআইয়ের সহযোগিতা হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আধুনিক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির চাহিদা মেটাতে এবং গ্রাহকদের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করতে ডেভেলপারদের ওপর চাপ বাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কোড লেখা সময়সাপেক্ষ এবং এতে মানবীয় ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে। এখানেই এআইয়ের ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। গুগল, তার গবেষণা এবং ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে, কোডিংয়ের এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তাদের এআই টুলসগুলি বিশাল ডেটাসেট থেকে শিখে, প্যাটার্ন চিনতে পেরে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে ডেভেলভারদের কাজকে সহজ করে তুলছে। গুগল ডিপমাইন্ডের আলফাকোড (AlphaCode) এর মতো গবেষণা প্রকল্পগুলি দেখিয়েছে যে এআই এমনকি জটিল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাতেও মানুষের সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম, যা কোডিংয়ে এআইয়ের সম্ভাবনার এক ঝলক প্রদর্শন করে। গুগলের এআই টুলসের মধ্যে জেমিনি এবং ডুয়েট এআই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জেমিনি, গুগলের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং মাল্টিমোডাল এআই মডেল হিসেবে, কেবল টেক্সট নয়, কোড, ছবি এবং ভিডিওর মতো বিভিন্ন তথ্য বুঝতে ও তৈরি করতে সক্ষম। কোডিংয়ের ক্ষেত্রে, জেমিনি ডেভেলপারদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড তৈরি করতে পারে, বিদ্যমান কোডে ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারে, কোডের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারে এবং এমনকি এক প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কোড অনুবাদও করতে পারে। অন্যদিকে, ডুয়েট এআই হল ওয়ার্কস্পেস (Workspace) এবং গুগল ক্লাউড (Google Cloud)-এর জন্য তৈরি গুগলের এআই-চালিত সহযোগী। এটি বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্টে (যেমন, VS Code, JetBrains IDEs) সরাসরি ইন্টিগ্রেটেড হয়ে কাজ করে। ডুয়েট এআই ডেভেলপারদের জন্য কোড সাজেশন, স্বয়ংক্রিয় কোড সম্পন্নকরণ, ডিবাগিং সহায়তা এবং কোড রিফ্যাক্টরিংয়ের মতো কাজগুলি করে। এর মাধ্যমে ডেভেলপাররা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলি থেকে মুক্তি পেয়ে আরও সৃজনশীল এবং উচ্চ-স্তরের সমস্যা সমাধানে মনোনিবেশ করতে পারেন। কোড জেনারেশন, কোড ব্যাখ্যা এবং কোড সংশোধনের মতো ক্ষমতাগুলি ডেভেলপারদের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গুগলের এআই টুলস ডেভেলপারদের জন্য অসংখ্য সুবিধা নিয়ে এসেছে: ১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: স্বয়ংক্রিয় কোড জেনারেশন এবং ত্রুটি শনাক্তকরণের মাধ্যমে ডেভেলপাররা অনেক দ্রুত কাজ সম্পন্ন সম্পন্ন করতে পারেন, যা তাদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে।
মোবাইল সিমের অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ১ জানুয়ারি (২০২৬) থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ পাঁচটি মোবাইল সিম সক্রিয় রাখতে পারবেন। বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে যাদের নামে ৬ থেকে ১০টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে সিমের সংখ্যা কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে। মূলত সিমের অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যদিও মোবাইল ফোন অপারেটররা এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, তবে বিটিআরসি বলছে—দেশের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী। বিটিআরসির তথ্যমতে, মোবাইল সিম ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে নবম অবস্থানে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো উন্নত দেশগুলো। বিটিআরসির সর্বশেষ (অক্টোবর ২০২৫) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয়। অপারেটরভিত্তিক গ্রাহক সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো: অপারেটরের নাম গ্রাহক সংখ্যা গ্রামীণফোন ৮ কোটি ৫৯ লাখ রবি আজিয়াটা ৫ কোটি ৭৫ লাখ বাংলালিংক ৩ কোটি ৭৯ লাখ টেলিটক ৬৬ লাখ ৭০ হাজার এর আগে গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে অতিরিক্ত সিমগুলো ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল বিটিআরসি। ওই সময় প্রায় ৬৭ লাখ সিম নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী: গত তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। এখনো ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম অতিরিক্ত রয়ে গেছে যা বাতিল হয়নি। বিটিআরসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত সিমগুলো বাতিল না করায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এই সংযোগগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সকলের সদয় অবগতির জন্য।বাংলাদেশ ব্যাংকের সেবা কার্যক্রম স্থগিত। বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র–প্রাইজবন্ড বিক্রি ও নোট বিনিময় চলবে২০ নভেম্বর ২০২৫: সকলের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রয়, ছেঁড়া–ফাটা নোট বিনিময় এবং এ-চালানসহ সংশ্লিষ্ট সকল সেবা কার্যক্রম আগামী ২০ নভেম্বর ২০২৫ থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে সাধারণ জনগণ এসব সেবা দেশের সকল তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পূর্বের মতোই গ্রহণ করতে পারবেন। এতে জনগণের আর্থিক লেনদেন ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন নির্বিঘ্নে এসব সেবা দিতে পারে, সে লক্ষ্যে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রয়, ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় এবং এ-চালানসহ তৎসংশ্লিষ্ট সেবা বন্ধ থাকবে। তবে, জনসাধারণ উল্লিখিত সেবাসমূহ তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেনো নির্বিঘ্নে জনসাধারণকে এসব সেবা দেয় তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়াবে বাংলাদেশ ব্যাংক।