ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়া বর্তমান সময়ে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, ব্যবসায়ী, নিউজ পোর্টাল, কিংবা জনপ্রিয় পেজ মালিকদের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে কিছু কার্যকরী পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি সহজেই আপনার ফেসবুক পেজকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। আসুন জেনে নেই, কিভাবে আপনার পেজ হ্যাকিং থেকে রক্ষা করবেন।
আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড শক্তিশালী এবং জটিল হওয়া উচিত। পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন:
পাসওয়ার্ডে বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করুন।
সহজে অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড (যেমন: 123456, password, abcdefg) ব্যবহার করবেন না।
নিয়মিতভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অতিরিক্ত সুরক্ষা পায়। এটি চালু করতে:
ফেসবুক সেটিংসে যান।
"Security and Login" অপশন নির্বাচন করুন।
"Two-Factor Authentication" অপশনে গিয়ে এটি সক্রিয় করুন।
কোড জেনারেটর বা এসএমএস ভেরিফিকেশন ব্যবহার করুন।
ফিশিং অ্যাটাকের মাধ্যমে অনেকেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে থাকে।
অপরিচিত ইমেল বা মেসেজের লিংকে ক্লিক করবেন না।
ফেসবুকের লগইন পেজ নিশ্চিত হয়ে ব্রাউজারে টাইপ করে প্রবেশ করুন।
ফেসবুকের "Trusted Contacts" ফিচার ব্যবহার করে নির্ভরযোগ্য বন্ধুদের যোগ করুন। আপনার অ্যাকাউন্টে সমস্যা হলে তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।
আপনার ফেসবুক পেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অ্যাডমিন বা এডিটর হিসেবে যুক্ত করুন।
নিয়মিত পেজের অ্যাডমিন ও এডিটর লিস্ট চেক করুন।
অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক অ্যাডমিনকে সরিয়ে দিন।
ফেসবুকের সাথে সংযুক্ত থার্ড-পার্টি অ্যাপ এবং প্লাগইনগুলো চেক করুন।
অনির্ভরযোগ্য বা সন্দেহজনক অ্যাপগুলো রিমুভ করুন।
ফেসবুক আপনাকে কোথা থেকে লগইন হয়েছে তা দেখার সুযোগ দেয়।
"Where You're Logged In" অপশন থেকে অজানা ডিভাইস ও লোকেশন চেক করুন।
যদি সন্দেহজনক কিছু পান, তাহলে "Log Out of All Sessions" অপশন ব্যবহার করুন।
আপনার গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট, ছবি ও তথ্যের ব্যাকআপ রাখুন।
যদি কোনো কারণে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়, তাহলে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
যদি আপনার পেজ হ্যাক হয়ে যায় বা হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ফেসবুকের অফিসিয়াল হেল্প সেন্টার থেকে সাহায্য নিন।
আপনার ফেসবুক পেজ হ্যাক থেকে রক্ষা পেতে এই উপায়গুলো অনুসরণ করুন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক রাখলে আপনার পেজ সুরক্ষিত থাকবে এবং হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমে যাবে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল: স্বস্তিতে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা দীর্ঘদিনের অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন খুব শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে এই চার্জ পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ মিটার ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করতে হয়। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল— মিটারের মূল্য পরিশোধের পরও কেন বছরের পর বছর এই অতিরিক্ত চার্জ বহাল রাখা হচ্ছে।এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নাগরিক মহলে সমালোচনা ও দাবি জানানো হচ্ছিল।নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয় কিছুটা কমবে এবং এতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিও-ওয়াই-ফাই চালু করলেও টেলিটক এখনও পিছিয়ে আধুনিক কলিং সেবা থেকে বঞ্চিত রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটরের গ্রাহকেরা দেশজুড়ে ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই (VoWiFi) বা ভিও-ওয়াই-ফাই কলিং সেবা চালু করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। নতুন এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা নিজেদের বাসা বা অফিসের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এইচডি ভয়েস কোয়ালিটিতে নিরবচ্ছিন্ন কল করতে পারছেন। নেটওয়ার্ক দুর্বল এলাকা, উঁচু ভবন, ঘনবসতিপূর্ণ স্থাপনা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা গ্রাহকেরা এতে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।তবে বেসরকারি অপারেটররা যখন একের পর এক আধুনিক কলিং সেবা চালু করছে, তখন রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এখনও এসব সুবিধা চালু করতে ব্যর্থ হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ ও ক্ষোভ।সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের প্রথম ফাইভজি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সুযোগ পেলেও টেলিটক আজও সেই প্রযুক্তি সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পারেনি। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক কাভারেজ দুর্বল হওয়ায় নিয়মিত কল ড্রপ ও কল সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গ্রাহকদের অভিযোগ নেটওয়ার্ক শেয়ারিং চুক্তির আওতায় টেলিটকের অবকাঠামো ব্যবহার করে বেসরকারি অপারেটর রবি সুবিধা পেলেও টেলিটকের গ্রাহকেরা বিনিময়ে রবির নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন না। একসময় পরীক্ষামূলকভাবে রোমিং চিহ্ন দিয়ে অন্য নেটওয়ার্কে সংযোগ মিললেও বর্তমানে সেটিও বন্ধ রয়েছে।এদিকে দেশের প্রায় সব মোবাইল অপারেটর ধাপে ধাপে ভয়েস ওভার এলটিই (VoLTE) সেবা চালু করলেও টেলিটক এখনও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে উন্নত মানের ভয়েস কল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লক্ষাধিক গ্রাহক।বিশেষজ্ঞরা বলছেন টেলিটকের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা কাটাতে দ্রুত ওয়াই-ফাই কলিং (VoWiFi) চালু করা গেলে অন্তত ঘরের ভেতর কিংবা অফিসে নিরবচ্ছিন্ন কলিং সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত এই অপারেটরের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কিছুটা হলেও ফিরত।গ্রাহকদের মতে টেলিটক কেবল একটি মোবাইল কোম্পানি নয়—এটি জনগণের টাকায় গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তাই এর কাছে প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত VoLTE ও VoWiFi সেবা চালু না হলে ভবিষ্যতে টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে টেলিটক কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অবস্থান ও সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা জানতে চান গ্রাহকেরা।
মানুষের নাকের ভেতরে আমরা যা ভাবি তার চেয়ে অনেক বেশি অদেখা জীব বাস করতে পারে। বিশেষ করে যাদের ঋতুভিত্তিক অ্যালার্জি বা হাঁপানি (asthma) আছে, তাদের নাসারন্ধ্রে অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি ধরনের ছত্রাক (fungi) পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, এই গোপন ছত্রাকগুলো নাকের মাইক্রোবায়োমকে বদলে দেয়। গবেষণালের একটি ইমিউনোলজি ক্লিনিকের ২০০ জনেরও বেশি শিশু ও তরুণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে অনেকেরই একই সাথে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও হাঁপানি ছিল। নাক থেকে নেওয়া নমুনার জিন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণত যেসব ছত্রাক অ্যালার্জি বাড়ায়, সেগুলো সবার নাকেই থাকে৷ তবে যাদের অ্যালার্জি বা হাঁপানি আছে, তাদের ক্ষেত্রে সেই ছত্রাকের পরিমাণ অনেক বেশি৷ একই সাথে AIR নামের একটি যৌগের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে যাদের দুই সমস্যাই আছে গবেষকদের মতে, এই AIR যৌগটি ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ তৈরির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা গেলে অ্যালার্জির জ্বালা অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে৷ ফলাফল থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়৷ অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এবং হাঁপানি আসলে একই রোগ প্রক্রিয়ার দুটি প্রকাশ হতে পারে। ছত্রাকগুলো হয়তো সরাসরি অ্যালার্জি সৃষ্টি করে না, কিন্তু তাদের উপস্থিতি শরীরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।