ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স-এর বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফোনালাপে আরাঘচি বলেন, চলমান সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব বিশ্বজুড়েও ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিকেই দায়ী করেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় “সব ধরনের উপায়” অবলম্বন করতে প্রস্তুত এবং এ ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি, এই লক্ষ্য অর্জনে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। এদিকে, পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য সোমবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রতিবেদন—ইরানের ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত রাতে ওই ক্রু সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে উদ্ধারে একটি সক্রিয় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জানা গেছে, উদ্ধার অভিযানের সময় তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই ক্রু সদস্য এখনও ইরানের ভেতরেই অবস্থান করছেন এবং চলমান সংঘাতের কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, ‘এয়ারম্যান’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও এটি কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গ নির্দেশ করে না। ফলে নিখোঁজ ওই ব্যক্তির লিঙ্গ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এদিকে, উদ্ধারকারী দল এখনো তাকে নিরাপদে ইরানের বাইরে নিয়ে যেতে পারেনি। অভিযানটি এখনও চলমান এবং এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি যে উদ্ধার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে প্রতিবেদনে সাংবাদিক Zein Basravi জানান, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছিল—তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তারা এটিকে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে আঘাত হানবে। সেই হুঁশিয়ারির বাস্তব প্রতিফলন এখন দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে, বিভিন্ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এসব পদক্ষেপে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়েছে। আজও Gulf Cooperation Council-ভুক্ত শহরগুলোতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার তীব্রতা ইরানের সরাসরি আক্রমণের মতো না হলেও, এর ধারাবাহিকতা ও প্রভাব স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুদ্ধের আরও সম্প্রসারণ কোনো পক্ষের জন্যই ইতিবাচক নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে, তাহলে এর সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের পাল্টা হামলাও বাড়বে। এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মার্কিন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার ও প্রশিক্ষক, একটি ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির হিমার্স আর্টিলারি অবস্থান, বাহরাইনে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Oracle Corporation-এর একটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যেখানে ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ভবনের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই ধারাবাহিক হামলা তাদের একটি সুস্পষ্ট কৌশলের অংশ, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সাম্প্রতিক হুমকিকে কেন্দ্র করে। তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে দেশটির ওপর ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। সোমবার শেষ হতে যাওয়া এই সময়সীমা মূলত ট্রাম্পের ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানেরই অংশ, যেখানে তিনি একের পর এক ডেডলাইন ঘোষণা করে আসছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আল্টিমেটাম পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে সংকুচিত করছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাপ্রবাহে। গত কয়েকদিন ধরে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে ভূপাতিত হওয়া এক মার্কিন পাইলটের সন্ধান চলছে। তবে উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়েছে, কারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত দুটি হেলিকপ্টারও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যদিও ওই হেলিকপ্টারের ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি মোতায়েন করা বি-৫২ বোমারু বিমান নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি কূটনৈতিক সমাধানের পথও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালী, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, সেটিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নতুন আল্টিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে, আর বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই সময়সীমা শেষ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে Nida Ibrahim-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক সামরিক ব্রিফিংয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, চলমান সংঘাতে Hezbollah-কে নিরস্ত্র করা ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল না। তবে এই মন্তব্যের পরপরই দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করাই আসলে ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিন্নমত ইঙ্গিত দেয়—যদি লক্ষ্য অর্জিত না হয়, তাহলে দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবেই এমন অবস্থান নেওয়া হতে পারে। কারণ, ইসরায়েলি কর্মকর্তারাই একাধিকবার স্বীকার করেছেন যে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। ধারণা করা হচ্ছে, এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কেবল লেবানন সরকারের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই সম্ভব। এ লক্ষ্যে ইসরায়েল, Lebanese Armed Forces-এর ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে, যাতে তারা এই দায়িত্ব গ্রহণ করে। এদিকে, বিষয়টি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কিছু সামরিক সূত্র সীমান্তবর্তী ২ থেকে ৩ কিলোমিটার এলাকা দখলের পক্ষে মত দিলেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৩০ কিলোমিটার গভীর একটি বাফার জোন দখলের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা হিজবুল্লাহকে প্রতিহত করার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপের জন্য বড় ধরনের সামরিক, রাজনৈতিক ও মানবিক মূল্য দিতে হতে পারে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। সংস্থাটি দাবি করেছে, এই হামলা ইরানের নয়; বরং এর পেছনে ইসরায়েলের হাত রয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ৩ মার্চ সংঘটিত ওই হামলার সঙ্গে “ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই”। তাদের দাবি, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও কৌশলগত বাস্তবতা বিবেচনায় এটি “নিশ্চিতভাবেই জায়নবাদী শক্তির দ্বারা পরিচালিত” একটি অভিযান। এদিকে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ যে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষতির কথা বললেও, প্রকৃতপক্ষে আগুনটি কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইআরজিসি ওই প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা। সংস্থাটি আরও দাবি করে, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বিবৃতিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে আইআরজিসি বলেছে, “এই অঞ্চলে জায়নবাদী শাসনের রাষ্ট্রদ্রোহিতা” সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে জানায়, “আমেরিকান-জায়নবাদী শক্তির অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে” প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে। তবে এই হামলার প্রকৃত দায়ী পক্ষ সম্পর্কে এখনো স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরান জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী শত্রুপক্ষের ১৬০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দেশটির জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সদর দপ্তরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Alireza Elhami এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Islamic Republic News Agency (আইআরএনএ)-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানি সেনারা “শত্রুর যুদ্ধবিমান ও ড্রোন” মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আধুনিক দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও উন্নত মানববিহীন উড়োজাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বিমান বাহিনী ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৬০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোনের মধ্যে Hermes এবং Lucas ধরনের উন্নত মানববিহীন বিমানও রয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলহামি বলেন, এই সাফল্য এসেছে নতুন কৌশল, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার ফল হিসেবে। তার মতে, এসব ব্যবস্থার কারণে শত্রুপক্ষ বিভ্রান্তিতে পড়েছে এবং তাদের অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
টানা উত্তেজনার মধ্যে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে একটি ফরাসি জাহাজ, যা সাম্প্রতিক সময়ে কোনো পশ্চিমা দেশের প্রথম সফল পারাপার হিসেবে দেখা হচ্ছে। দোহা থেকে প্রতিবেদনে ভিক্টোরিয়া গেটেনবি জানান, বর্তমানে কোনো সম্মত আন্তর্জাতিক প্রোটোকল না থাকায় কার্যত ইরানই নির্ধারণ করছে কোন জাহাজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে এবং কোনগুলো পারবে না। শুক্রবার ফরাসি জাহাজটির নিরাপদ পারাপার ঘটলেও ঠিক কী কারণে সেটিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইরান কিছু জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে পারাপারের অনুমতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান যেসব দেশকে মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে—যেমন জাপান, থাইল্যান্ড, গ্রিস, মালয়েশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত—সেসব দেশের জাহাজকে প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য এবং ইরানের শত্রু হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে আটকে দেওয়া হচ্ছে। তেহরানের মতে, এসব দেশ কোনো না কোনোভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ জাহাজ এখনো আটকে রয়েছে এবং প্রণালী পার হতে পারছে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিতও মিলেছে। জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় চালু করতে ওমান ও ইরান একটি সম্ভাব্য প্রোটোকল নিয়ে কাজ করছে। তবে এটি কীভাবে কার্যকর হবে, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে কি না এবং এর সঙ্গে কোনো টোল বা ফি আরোপ করা হবে কি না—এসব বিষয় এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ওপর গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অন্তত ২০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists in Iran এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির সহযোগী সংবাদমাধ্যম HRANA-এর বরাতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ইরানের ১৩টি প্রদেশে মোট ২০৬টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ১,৬০৭ জন বেসামরিক নাগরিক, ১,২১৩ জন সামরিক সদস্য এবং ৭১১ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি Al Jazeera। অন্যদিকে, ইরানের সরকারি তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। দেশটির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২,০৭৬ জনে। সংঘাত চলমান থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিখোঁজ এক মার্কিন বিমানসেনার ভাগ্য নিয়ে বাজি ধরার ঘটনায় পূর্বাভাসভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম Polymarket তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি Seth Moulton এ ঘটনাকে “অত্যন্ত জঘন্য” বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানের আকাশে যুদ্ধবিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়ার পর নিখোঁজ ওই মার্কিন বিমানসেনার সন্ধানে বর্তমানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “তাদের নিরাপত্তা এখনো অনিশ্চিত। তারা আপনার প্রতিবেশী, বন্ধু বা পরিবারের সদস্য হতে পারে। অথচ তারা বাঁচবে কি না—এ নিয়ে মানুষ বাজি ধরছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।” এর আগে বিভিন্ন ইস্যুতে বাজি চালু করে সমালোচনায় থাকা Polymarket জানিয়েছে, এই ঘটনার পর তারা সংশ্লিষ্ট সব বাজি “অবিলম্বে” বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে, এমন বাজি চালু হওয়া উচিত ছিল না এবং কীভাবে এটি তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে গেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মানবিক সংবেদনশীলতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন আবারও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্য ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্তত একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেল আবিবের নিকটবর্তী বেনি ব্রাক এলাকায় কাঁচের টুকরোর আঘাতে একজন আহত হয়েছেন। প্রতিহত করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ১৭টিরও বেশি স্থানে পড়েছে বলে জানা গেছে। রোশ হায়িনের একটি আবাসিক এলাকায় হামলার প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছ থেকেও ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে, স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গিভাতাইম ও তেল আবিবের বিভিন্ন সড়কে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রামাত গানে একটি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বেনি ব্রাকে কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলেও ইরানের আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। নেগেভ অঞ্চলের একটি শিল্প এলাকায় আগুন লাগার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তাল। ইরান ইসরায়েলের অভ্যন্তরে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতে রূপ দিয়েছে। এই হামলার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরম শিখরে পৌঁছেছে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহল ও বিশ্লেষকদের কাছে উপহাসের পাত্র হয়েছে। তার এই মন্তব্যকে বাস্তবতাবিবর্জিত এবং বর্তমান পরিস্থিতির গভীরতা অনুধাবনে ব্যর্থ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের এক বিশাল ভাণ্ডার নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এসব হামলায় সামরিক বিমান ঘাঁটি, রাডার স্টেশন এবং অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু নিশানা করা হয়। যদিও ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন আয়রন ডোম এবং ডেভিডের স্লিং, বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন এবং পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তারা ইরানের হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং যেকোনো মূল্যে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলছে এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইরান-সমর্থ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্?িতি আবারও উত্তাল। ইরান ইসরায়েলের অভ্যন্তরে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতে রূপ দিয়েছে। এই হামলার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরম শিখরে পৌঁছেছে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহল ও বিশ্লেষকদের কাছে উপহাসের পাত্র হয়েছে। তার এই মন্তব্যকে বাস্তবতাবিবর্জিত এবং বর্তমান পরিস্?িতির গভীরতা অনুধাবনে ব্যর্? বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্?াপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের এক বিশাল ভাণ্ডার নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এসব হামলায় সামরিক বিমান ঘাঁটি, রাডার স্টেশন এবং অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু নিশানা করা হয়। যদিও ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্?া, যেমন আয়রন ডোম এবং ডেভিডের স্লিং, বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন এবং পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তারা ইরানের হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং যেকোনো মূল্যে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলছে এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইরান-সমর্? সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও ইসরায়েলের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মার্কোস এক সরকারি ঘোষণায় বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ এবং মূল্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। ফিলিপাইন একটি তেল-আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায়, এই অস্থিরতা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রতিটি ফিলিপিনো নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে।" তিনি আরও বলেন, এই জরুরি অবস্থা সরকারকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে, মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করবে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি তীব্র হওয়া সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তেলের উৎপাদনকারী দেশগুলো এবং প্রধান শিপিং রুটগুলো এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায়, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ফিলিপাইনের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফিলিপাইনের অর্থনীতির একটি বড় অংশ পরিবহন এবং শিল্প খাতের উপর নির্ভরশীল, যা সরাসরি জ্বালানি ব্যয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে তোলে, যা খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে সাহায্য করে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিপাইন সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা লাভ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: * **জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং এর বিতরণ ব্যবস্থাকে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা।
ইরান–ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা এক সপ্তাহে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত এক সপ্তাহে নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮.৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম ৮.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে যা এক সপ্তাহে তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম বড় রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে সংঘাতের কেন্দ্রস্থল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।জানা গেছে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বেড়েছে।এদিকে দক্ষিণ ও উত্তর ইরাক-এর কয়েকটি তেলক্ষেত্রে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে একটি মার্কিন পরিচালিত তেলক্ষেত্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কুয়েত-ও তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগসংক্রান্ত দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর দেশটির শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী আবারও মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে তেলের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, “জায়নিস্ট শাসনের প্রধানমন্ত্রী’র কার্যালয় এবং ওই শাসনের বিমান বাহিনীর কমান্ডারের অবস্থানস্থলে লক্ষ্যভিত্তিক ও আকস্মিক খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে। দশম দফার হামলায় এসব স্থাপনায় গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্য এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগের দিন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হওয়া অধিকৃত ভূখণ্ডের বেইত শেমেশ এলাকায় নেতানিয়াহুর নির্ধারিত সফর বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আগে তার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকে তার নতুন কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশ পায়নি। হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমগুলোতেও এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এর আগে শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান অধিকৃত ভূখণ্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। তেহরান দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে তারা দশ দফা হামলা চালিয়েছে।
দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে দেশের নতুন নেতৃত্ব তার প্রশাসনের সাথে কথা বলতে চান এবং তিনি তা করার পরিকল্পনা করছেন। "তারা কথা বলতে চায়, এবং আমি কথা বলতে রাজি হয়েছি, তাই আমি তাদের সাথে কথা বলব," ম্যাগাজিনটি তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে। "তাদের এটা আরও আগেই করা উচিত ছিল। তাদের উচিত ছিল যা খুবই বাস্তবসম্মত এবং সহজে করা যায় তা আরও আগেই দেওয়া। তারা অনেক বেশি অপেক্ষা করেছে," তিনি আরও বলেন। দ্য আটলান্টিকের মতে, কথোপকথন কখন হবে তা জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।
তেহরান, ১ মার্চ ২০২৬: ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শাহাদাতবরণ করেছেন। রোববার প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তিনি শহীদ হন। সরকারের পক্ষ থেকে এ হামলাকে ‘অপরাধমূলক আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ইন্তেকালের পর থেকে টানা ৩৭ বছর ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ইরান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে যে তারা এই হামলার জবাবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
মাত্র কয়েক মিনিট আগে, আমরা একটি ইসরায়েলি ইন্টারসেপ্টিং মিসাইল আকাশে নিক্ষেপ করতে দেখেছি, যা আসন্ন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলির একটিকে বাধা দিতে পারে। ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মতে, ২১ জন ইসরায়েলি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ষোল জন হালকা আহত হয়েছেন, এবং দুজনের অবস্থা গুরুতর বা গুরুতর বলে জানা গেছে। আমরা এখনও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস থেকে আরও আপডেটের জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা বলতে পারি যে ইরানের আক্রমণের তীব্রতা সত্যিই ক্রমশ বাড়ছে। গত এক ঘন্টায়, আমরা তিনটিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ লক্ষ্য করেছি। ইসরায়েলিদের জন্য এটি একটি কঠিন রাত বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে রাত, এবং আমরা ঘন ঘন সাইরেন এবং ইরানি আক্রমণের অতিরিক্ত ঢেউ শুনতে পাচ্ছি। সর্বদা হিসাবে, এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ইসরায়েলিদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি, সতর্কতা সাইরেন এবং সুরক্ষার জন্য আশ্রয়স্থল থাকলেও, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অধীনে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের একই স্তরের সুরক্ষা নেই। তাদের আশ্রয় খোঁজার কোথাও নেই এবং এই যুদ্ধ তাদের কীভাবে প্রভাবিত করবে তা তারা পর্যবেক্ষণ করছে। ইতিমধ্যে, ইসরায়েলি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজ সকালে হেবরনের কাছে ইসরায়েলি অভিযানের সময় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণও থামেনি। ফিলিস্তিনিরা বলছেন যে তারা ইতিমধ্যেই ভারী সামরিক দখলদারিত্বের অধীনে বাস করছেন, এবং এখন তারা আশঙ্কা করছেন যে বৃহত্তর সংঘাত আরও তীব্র হবে।
ynetnews-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানের একাধিক স্থানে সমন্বিত সামরিক হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ইরানের ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সমাবেশ করছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়ে থাকতে পারেন—যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৮টা ১০ মিনিটে প্রথম হামলাটি শুরু হয়। একই সময়ে তেহরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত হানা হয়। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে Operation Roaring Lion। ynetnews-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভি এবং গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খতিব। সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, কয়েক মাস ধরে এই অভিযানের পরিকল্পনা চলছিল। গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এমন একটি সময় চিহ্নিত করা হয়, যখন শীর্ষ কর্মকর্তারা একত্রিত থাকবেন। কৌশলগত চমক তৈরি করতে রাতের পরিবর্তে সকালে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ynetnews-এর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইসরায়েলই সরাসরি ইরানের নেতৃত্বের ওপর হামলা চালিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের অংশ হিসেবেই এমনটি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনো লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তারা জানিয়েছেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার–এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস–৪’ কোনোভাবেই থামবে না। শনিবার তেহরানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইসলামিক ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনের প্রকাশ্য আগ্রাসনের জবাবে, দখলকৃত সব অঞ্চল এবং অঞ্চলে থাকা অপরাধী মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিশালী হামলার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শত্রুর সম্পূর্ণ পরাজয় না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।” মেজর জেনারেল আবদোল্লাহি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সম্পদ ও স্বার্থ এখন থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশ, জাতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় ও শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখবে। এর আগে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার একটি বড় ধাপ শুরু হয়েছে। আইআরজিসি জানায়, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের আগ্রাসনের জবাবে দখলকৃত অঞ্চল লক্ষ্য করে ইরানের বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে।”
মার্কিন সিনেটর Edward J. Markey ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর সামরিক হামলাকে “অবৈধ ও অসাংবিধানিক” বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে মার্কি বলেন, এই হামলা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। তার মতে, প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ শুধু আইনি প্রশ্নই তোলে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ায়। এতে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মার্কির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক হুমকিকে অতিরঞ্জিত করেছে। “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” নামের অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘নিশ্চিহ্ন’ করার দাবি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio স্বীকার করেছেন যে ইরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না। মার্কির ভাষায়, সামরিক হামলার আগে কূটনৈতিক সমাধানের যথেষ্ট সুযোগ ছিল এবং এখনও আছে। বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, “এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তৈরি একটি সংকট। আমেরিকান জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চায় না। তারা চায় না তরুণ নারী-পুরুষদের বিদেশে অনির্দিষ্ট যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হোক, যখন দেশের ভেতরে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে সংগ্রাম করছে।” মার্কি সতর্ক করে দেন, প্রেসিডেন্ট যদি অবিলম্বে এই সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ না করেন, তবে কংগ্রেসকে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে হস্তক্ষেপ করতে হবে। তার স্পষ্ট অবস্থান—ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না; মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত, সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল। তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা। যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য। ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।