টাঙ্গাইলে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৩৯মাদক উদ্ধার আটক ১৩ ব্যবসায়ী মো: সাজিদ পিয়াল, জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল ৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং টাঙ্গাইল জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্র জানায় অপরাধ দমন ও মাদক নির্মূলে জোরদার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার সব থানা ও ইউনিটকে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সমন্বিত অভিযানে এসব গ্রেফতার সম্পন্ন হয়।এদিকে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ১২১ পিস ইয়াবা ৮ গ্রাম হেরোইন ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ১ কেজি ৭০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।জেলা পুলিশ আরও জানায় মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দিতে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে রবিন (২৮) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৫ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিন শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার মো. মিরাজের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে রবিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত রবিনের ভাইয়ের দাবি, এলাকাভিত্তিক আধিপত্য ও পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রবিনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নদীর দুই পারের লোকজন মিলে আমার ভাইকে মারছে। এর আগেও ওর ওপর হামলা হয়েছিল, যা নিয়ে মামলাও চলছে। যারা হামলা করেছে তাদের কয়েকজনকে আমরা চিনি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্থানীয় এক কবরস্থানের আতাফল ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, খবর পেয়ে আমরা শজিমেক হাসপাতালে গিয়ে রবিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হই। ঘটনাস্থল থেকে একটি ভাঙা হকিস্টিক ও চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। সিআইডি ও পিবিআইয়ের ফরেনসিক টিমকে ডাকা হয়েছে আলামত সংগ্রহের জন্য। তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টাঙ্গাইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন ও চোলাই মদ উদ্ধারটাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ সময় প্রিভেন্টিভ, নিয়মিত মামলা, মাদক ব্যবসা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে মাঠপর্যায়ে কঠোর তৎপরতা চালানো হয়। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনায় অপরাধ দমনে জোরালো অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যঅভিযানের অংশ হিসেবে মাদক উদ্ধার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে—৯৪ পিস ইয়াবা,১৩ গ্রাম হেরোইন,৭৩ লিটার ৫০০ গ্রাম চোলাই মদএ ঘটনায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানজেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টাঙ্গাইলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলে র্যাবের অভিযানে ১০০ বোতল ‘এস্কাফ সিরাপ’সহ মাদককারবারি গ্রেফতার ৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে র্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে ১০০ বোতল নেশাজাতীয় অবৈধ মাদকদ্রব্য ‘এস্কাফ সিরাপ’ উদ্ধারসহ এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩,টাঙ্গাইল ক্যাম্প সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (৫ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে ঢাকা-টাঙ্গাইলমহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা বাজার এলাকায় একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘সাথী এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়।তল্লাশিকালে মোঃ রবিউল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বলে জানা গেছে।র্যাব জানায় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনেজিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি তার কাছে মাদকদ্রব্য থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তার দেখানো মতে বহনকৃত ব্যাগ থেকে ১০০ বোতল ‘এস্কাফ সিরাপ’ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩৭৯৮ পিস ইয়াবাসহ আন্তঃজেলা মাদক পাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও র্যাব-১১ এর যৌথ দল। শনিবার বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার তপাদার বাজার এলাকার নোয়াখালীর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে ও লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের মান্দারী পূর্ব বাজারের নোয়াখালীর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পার্শ্বে নুর হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের সামনে রাস্তার উপর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়ইতলা এলাকার ধোয়া বাড়ির মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. হারুন (৩৫), দিলসাতপুর এলাকার নতুনবাড়ির মৃত মো.রুহুল আমিনের ছেলে মো. সুমন ওরফে ইলেকট্রিক সুমন (৪৪) এবং ছিলাদি এলাকার সুলতান মুন্সিবাড়ির মোহাম্মদ দুলালের ছেলে মো. বাবুল হোসেন (২২)। অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জের তপাদার বাজার এলাকায় ক্রেতা সেজে অবস্থান নেয় ডিএনসি ও যৌথ বাহিনী। এ সময় ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে আসলে হারুন ও সুমনকে ৩০০০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারী পূর্ব বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৭৯৮ পিস ইয়াবাসহ বাবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা আগে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করলেও পরে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় সরবরাহ করতেন। বাবুল হোসেন অটোরিকশা চালকের ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকায় খুচরা মাদক বিক্রি করতেন। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বলেন,এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বেগমগঞ্জ মডেল থানা ও চন্দ্রগঞ্জ থানায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে মোট ৩৭৯৮ পিস ইয়াবা, নগদ ২০ হাজার টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
গ্রাম পর্যায়ে বিচারব্যবস্থার জন্য সরকারিভাবে নির্ধারিত কাঠামো থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় ব্যক্তি নিজেরাই সালিশ ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন এলাকায়। এতে করে আইনসম্মত প্রক্রিয়া উপেক্ষিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে গ্রামীণ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দলীয় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেক নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে আলাদা সালিশ বসাচ্ছেন। এসব সালিশে তারা কোনো ধরনের সরকারি নিয়ম-কানুন বা প্রশাসনিক নির্দেশনা তোয়াক্কা করছেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব বেআইনি সালিশের মাধ্যমে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার, পেশীশক্তির প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে করে অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ বিচার ব্যাহত হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীরা সঠিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ সমাজে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়বে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করে, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে কেউ বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, নচেৎ এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজাসহ শ্রী বিশ্বনাথ মন্ডল (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত নাচোল থানাধীন নাসিরাবাদ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নাসিরাবাদ গুচ্ছগ্রামের মৃত ঝাপু মন্ডলের ছেলে। অভিযানে তার কাছ থেকে ১৪ গ্রাম হেরোইন, ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে নাচোল থানায় আসামির বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকবিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
সখীপুরে মাকে হত্যার ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজ মাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে মুরাদ হোসেন (১৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সখীপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা মুরাদকে আটক করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে সখীপুর থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে।উল্লেখ্য গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় সখীপুর উপজেলার গজারিয়া পশ্চিম পাড়া এলাকায় কাতার প্রবাসী আলহাজ্ব মিয়ার স্ত্রী মুক্তা বেগম (৩৫) নিজ ঘরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। ঘটনার পর থেকেই তার ছেলে মুরাদ হোসেন এলাকা থেকে নিখোঁজ ছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক আলামত বিশ্লেষণে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ছেলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান গ্রেপ্তারকৃত মুরাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজ-এর অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী বুশরা তালুকদারের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক অমতে চাচাতো ভাইকে বিয়ে করার পর থেকেই তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল বলে জানা গেছে। আর সেই বিরোধের জের ধরেই কি না, তার অকাল মৃত্যু এখন ঘনীভূত করছে রহস্য।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে পরিবারের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের চাচাতো ভাইকে বিয়ে করেন বুশরা। বিয়ের পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং নানা সময়ে কলহের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বুশরাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ ও নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়।নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বরং পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাদের অভিযোগ ঘটনার পরপরই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বামীর পরিবার দাবি করছে—বুশরা আত্মহত্যা করেছেন এবং এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।এদিকে ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা বলছেন বিয়েকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল যা শেষ পর্যন্ত একটি মর্মান্তিক পরিণতির দিকে গড়িয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় উৎকণ্ঠা ও নানা জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
মির্জাপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: যুবক আটক এলাকায় চাঞ্চল্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে রিহান সিকদার (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয়এলাকাবাসী।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় অভিযুক্ত রিহান সিকদার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগে থেকেই সন্দেহ ও ক্ষোভ জমে উঠেছিল।ঘটনার দিন একই কৌশলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করার সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে আশপাশের লোকজন তাকে ঘিরে ফেলে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার পরিচয়ের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে আটক করে রাখে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানায়।খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।এদিকে স্থানীয়রা জানান ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে এ ধরনের চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘটছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। তারা এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিজানিয়েছেন।পুলিশ বলছে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বুশরা খাতুন নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ মার্চ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার শুকুর আলীর ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে তারা ধারণা,অন্যদিকে নিহতের স্বামী বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’বলে দাবি করছেন। তবে সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ফুটেজ ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন বাড়ির মালিক শুক্কুর আলী ভাড়া দেয়ার আরো খোজ খবর নিয়ে এই দম্পতি কে ভাড়া দেয়া উচিৎ ছিল?স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর উপজেলার বাসুদেবপাড়া-গোলাবাড়ী এলাকার রতন তালুকদারের মেয়ে বুশরা তালুকদার প্রায় চার বছর আগে পরিবারের অমতে তার চাচাতো ভাই বাপ্পী তালুকদারকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুকাল পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হলেও পরবর্তীতে তারা পুনরায় একত্রে বসবাস শুরু করেন। গত ছয় মাস ধরে তারা ধনবাড়ী উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় শুক্কুর আলীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।গত ২৪ মার্চ বুশরা আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া একটি এক্সক্লুসিভ ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়,নিহত বুশরার গলায় ওড়না পেঁচানো এবং তা জানালার গ্রিলের সাথে বাঁধা। সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, মৃতদেহের পা ঘরের মেঝের সাথে সম্পূর্ণ লেগে আছে। সাধারণত ঝুলে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে পা মাটিতে লেগে থাকার কথা নয়। দৃশ্যটি দেখে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে এটি ‘হত্যাকাণ্ড’ কি না—তা নিয়ে গভীর সন্দেহ ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।নিহতের বাবা রতন তালুকদার বলেন আমার মেয়ে ভালোবেসে বাপ্পীকে বিয়ে করেছিল। একবার ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর আবারও তারা একসাথেই থাকতো। তিনি বলেন,আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছি,রিপোর্ট পেলেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেব বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি আরও বলেন,আমার মেয়ে বুশরা টাঙ্গাইল সা’দাত কলেজের অনার্স ২ বর্ষের শিক্ষার্থী। বুশরার বাবা রতন তালুকদার জানান, তার মেয়ে জামাই বাপ্পী নানান অপরাধের সাথে জড়িত বলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বুশরার মা বর্তমানে শয্যাশায়ী ও পাগলপ্রায়। এদিকে ঘটনার পর থেকে স্বামী বাপ্পী তালুকদারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকরা বাপ্পীর বাবা আবদুল করিমের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে জানান ছেলে বাড়িতে আছে, কিন্তু পরক্ষণেই সুর বদলে বলেন ছেলে বাড়িতে নেই। তার এই রহস্যজনক আচরণ সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে!ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ বলছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। পুলিশ বাদী হয়ে ২৫ মার্চ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ০৬ ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরুস সালাম সিদ্দিক বলেন, বুশরা আত্মহত্যায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছ হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে পরবর্তীতে আইনি প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।
জামালপুরে জ্বালানি তেল বিক্রয় তদারকিতে অভিযান অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রিতে জরিমানা জামালপুর,১ এপ্রিল ২০২৬: জ্বালানি তেলের মজুদ, বিক্রয় পরিস্থিতি ও সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে জামালপুর জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।বুধবার (১ এপ্রিল) পরিচালিত এ অভিযানে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ যাচাই, বিক্রয়ের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক প্রণীত নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়। একইসঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর আওতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালে সদর উপজেলার মহেশপুর এলাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক ব্যক্তিকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
নাগরপুরে র্যাবের অভিযানে ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার অটো ফেলে পালালো মাদককারবারি,থানায় মামলা দায়ের টাঙ্গাইল ১ এপ্রিল ২০২৬ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৪ এর একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধমাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অটোরিকশা ফেলে কৌশলে পালিয়ে যায় এক মাদককারবারি।র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প সূত্রে জানা যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে নাগরপুর থানাধীন মামুদ নগর চারাবাগ এলাকায় একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালেসন্দেহভাজন একটি অটোরিকশাকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হলে চালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।পরবর্তীতে স্থানীয়সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে পলাতকঅটোচালকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি হলেন মোঃ আমির হোসেন (৪৮), যার বাড়ি নাগরপুর থানার অন্তর্গত এলাকায়।র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া অটোরিকশাটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় মোট ১৬ (ষোল) কেজি অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃতমাদকদ্রব্যগুলো স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।র্যাব জানায়,মাদককারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন অভিনব পদ্ধতিতে মাদক পরিবহন করে থাকে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের ফলে এসব তৎপরতা ক্রমেই ব্যাহত হচ্ছে।এ ঘটনায় পলাতক মাদককারবারির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দেশেরআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার করা হবে।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ জন টাঙ্গাইলে অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযানে প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন মামলা ও পরোয়ানাভুক্তআসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের মাঠে থেকে কঠোর অভিযানপরিচালনার নির্দেশ দেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানেসমন্বিত অভিযান চালানো হয়।অভিযানে প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা অন্যান্য উদ্ধার সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সর্বমোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধ দমনে আরও জোরদার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে অপরাধ ও অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের অবস্থিত ইউনাইটেড স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের চুরি হওয়া ৩টি ৪০ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি উদ্ধার সহ দুই চোরকে গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সুকমল চন্দ্র দেবনাথ। তিনি জানান, গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্কুল বন্ধ থাকায় স্কুলের তৃতীয় তলায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম থেকে গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ অজ্ঞাতনামা চোর নিম্নবর্নিত মালামাল চুরি করে এবং অফিস রুমের সরঞ্জামাদী ভেঙ্গে প্রায় ৬০,০০০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। চুরি যাওয়া মালামালের মদ্ধে ৩টি ৪০ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি, ১টি আইপিএস এর ব্যাটারী, ১টি, আইপিএস এর মেশিন সহ অন্যন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস। এই বিষয়ে ইউনাইটেড স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাফিজউদ্দিন বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই পলাশ অধিকারী ৩০ মার্চ রাতে শহরের বাতেন খাঁ মোড়ে অভিযান চালিয়ে চোর আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেন এবং তার দেওয়া তথ্য ভিত্তিতে চুরিকৃত টেলিভিশন গুলি শহরের আরামবাগের রহিম আলীর বাড়ি হতে উদ্ধার করা হয় এবং চুরির মালামাল ক্রয়ের অপরাধে রহিম আলীকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো, মো: আব্দুল্লাহ (২৯) পিতা- মো: ইয়াকুব আলী ওরফে টুকান মাতা- মোসা: রুবি বেগম, সাং- রামকৃষ্টপুর বানিপাড়া উপরজন হলেন মো: রহিম আলী (৪৫) পিতা-মো: এলাম হোসেন, সাং- আরামবাগ মাদ্রাসাপাড়া, উভয় থানা ও জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পলাশ অধিকারী বলেন চুরিকৃত ৩টি টেলিভিশন উদ্ধার করা হয়েছে, দ্রুততম সময়ে চুরিকৃত বাকি মালামাল উদ্ধার করা হবে।
নাগরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অবৈধ ইটভাটায় ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে ইট প্রস্তুতের দায়ে চারটি ইটভাটাকে মোট ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) তারিখে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ নাজমুস সাকিব। অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত) অনুযায়ী এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।অভিযান সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্টইটভাটাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে ইট প্রস্তুত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছিল। এ অবস্থায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চারটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।এসময় অভিযানে জেলা পুলিশের প্রতিনিধি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৫ জন গ্রেপ্তার মাদক,পরোয়ানাভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান।৩১ মার্চ ২০২৬ ইং টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছে প্রিভেন্টিভ,নিয়মিত মামলা,পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার সকল থানা ও ইউনিটকে কঠোর অবস্থানে থেকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার। তার নির্দেশনারআলোকে মাঠপর্যায়ে জোরদার অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আটক করা হয়।মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যপুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে,১৪২ পিচ ইয়াবা,১০০ গ্রাম গাঁজা,২৭০ পিচ ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেটএ সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযান অব্যাহত থাকবেজেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মাদকসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।জনসচেতনতা আহ্বান পুলিশ সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে জানিয়েছে।
রাতভর অভিযানে অবৈধ মাটি কর্তন রোধ, জরিমানা ৩ লাখ টাকা টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কর্তনের বিরুদ্ধে রাতভর অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে উপজেলার ঘেচুয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযান সূত্রে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ভেকু ও ট্রাক চলাচলের কারণে তীব্র শব্দদূষণ, এলাকার ব্যবহারযোগ্য সড়কের ক্ষয়ক্ষতি এবং জনভোগান্তির অভিযোগ করেন।ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মাটি বিক্রয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়। এ সময় চারটি মাটি বোঝাই ট্রাক এবং বিক্রয়ের রশিদ জব্দ করা হয় যা বাণিজ্যিকভাবে মাটি বিক্রয়ের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দোষ স্বীকার করায় হাবীব মাস্টার নামে এক ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ মাটি কর্তন ওপরিবেশবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মানিকগঞ্জে অটোরিকশা চালক হত্যা: মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের পর মিললো বিচ্ছিন্ন মাথা, গ্রেপ্তার ৩ মানিকগঞ্জে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার অটোরিকশা চালক রফিক মিয়ার মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের কয়েকদিন পর অবশেষে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকার নদীপাড়ের একটি ভূট্টাখেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করে বানিয়াজুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা।এর আগে গত ২৫ মার্চ বিকেলে সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে রফিক মিয়ার মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের রিপন মিয়া (৩০), সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) এবং সজিব হোসেন (২৫)। পুলিশ ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রফিক মিয়াকে হত্যা করা হয়। একই গ্রামের বন্ধু রিপন মিয়া, যিনি পেশায় নির্মাণ শ্রমিক, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। ২৪ মার্চ সকালে রফিক মিয়া অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। সন্ধ্যার পর গাঁজা সেবনের কথা বলে রিপন তার সহযোগী আরমান ও সজিবকে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া করা অটোরিকশায় রফিককে সদর উপজেলার পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর আরমান একটি হাতুড়ি দিয়ে রফিকের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রিপন দা দিয়ে তার গলা কেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। এ সময় আরমান ও সজিব তাকে ধরে রাখে। ঘটনার পর হত্যাকারীরা মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করে। তারা মাথা ও শরীর নদীতে ফেলে দেয়। তবে শরীরটি ভেসে উঠলে সেটি পুনরায় পেটে কেটে নদীর তীরে মাটিচাপা দেয়। অপরদিকে মাথাটি পানিতে ডুবে যায়, যা পরে ভেসে উঠে পাশের ভূট্টাখেতে গিয়ে পড়ে। হত্যার পরদিন ভোরে রিপন অটোরিকশাটি নিয়ে ঢাকার ধামরাই এলাকায় চলে যায় এবং সেটি বিক্রির চেষ্টা করে। পরে ২৬ মার্চ দুপুরে প্রযুক্তির সহায়তায় ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জামালপুরে জ্বালানি তেলের মজুদ ও বিক্রি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ভ্রাম্যমাণ অভিযান জ্বালানি তেলের মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জামালপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) জেলার সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযানে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করা হয়। পাশাপাশি পেট্রোল পাম্প ও ডিলারদের বিক্রয় কার্যক্রম, মূল্য তালিকা এবং মজুদ রেজিস্টার পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কিনা তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়।অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত মূল্য আদায় কিংবা অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে এ ধরনের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।এ সময় সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিক ও ডিলারদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়, যাতে সাধারণ ভোক্তারা নির্বিঘ্নে নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারেন।জনস্বার্থে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে প্রতিবেশীর ঘর থেকে গলাকাটা অবস্থায় অংকিত বর্মন (৩) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে তার পরিবার। সোমবার (৩০ মার্চ) উপজেলার বরান্তর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত অংকিত বর্মন ওই গ্রামের সাগর বর্মনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগর বর্মন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। অংকিতের দাদি বিশু রানি বর্মন ঢাকায় থেকেই তাকে দেখাশোনা করতেন। গত মঙ্গলবার দাদির সঙ্গে অংকিত গ্রামের বাড়িতে আসে। পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলছিল অংকিত। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন এবং দাদি পাশের বাড়িতে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নাতিকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে পাশের বাড়ির একটি কক্ষে বিছানার ওপর গলাকাটা অবস্থায় অংকিতকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে দ্রুত উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের চাচা সোহাগ বর্মন জানান, “আমরা বাড়ির আশপাশেই কাজ করছিলাম। মা পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে অংকিতকে না পেয়ে খুঁজতে থাকেন। পরে পাশের বাড়িতে আত্মীয় সুকুমার বর্মনের ঘরে তাকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।” মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।