মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী জানা গেছে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ছোট ভাই, কালিগঞ্জ থানা মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওঃ আশরাফুল ইসলাম আজিজীর ওপর মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে হামলা চালানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে নারীসহ সবাইকে মারধর করা হয়। হামলায় মোসলেম সরদার গুরুতর আহত হন। আয়েশা খাতুন ও শাকিলা খাতুন আহত হন। শাকিলা খাতুনের বাম হাত ভেঙে যাওয়া, শ্লীলতাহানি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আহতদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোস্তফা মাসুদ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি,২০২৬) কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলী সোহাল হোসেন জুয়েলের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা আখতার।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন অফিসার মাসুদুর রহমান। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা–০৩ (কালিগঞ্জ– আশাশুনি) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পদপ্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং মাইনোরিটি দলের প্রার্থী রুবেল হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রাজীব,কালিগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক নাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাইনুল ইসলাম খান এবং কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু,উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুল ওহাব ও সেক্রেটারি মোঃ আব্দুর রউফ। ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুর রহমান। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. হাফিজুর রহমান শিমুল উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মারুফ হাসান প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা, অনিয়ম কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন বক্তারা। সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি সকল পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য,উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মোস্তফা মাসুদ: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপোষহীন নেতৃত্বদানকারী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক সাইফুল ইসলাম এবং কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুর রহমান যৌথ সঞ্চালনায় দায়িত্ব পালন করেন।মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ. এম. রহমাতুল্লাহ পলাশ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা.শফিকুল ইসলাম বাবু, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান বাপ্পি এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি. এম. রবিউল্লাহ বাহার।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসানুর রহমান,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান ফেরদাউস রনি, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করা হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মজিদ।পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ফারুক হোসেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় উজায়মারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন,যৌতুক দাবি ও অনৈতিক আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।পেশাগতভাবে একজন শিক্ষক হয়েও দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা,নিজেকে প্রভাবশালী মনে করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তার আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।এসব অভিযোগে শিক্ষকতার নৈতিকতা ও সামাজিক মর্যাদা গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি- ২০২৬) বেলা ১২টায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। এছাড়া আরো জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার গণপতি গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলামের কন্যা মোছাঃ সিনা আক্তার (৩১) বাদী হয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত (নং–০২)-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার স্বামী অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মনিরুল আলম (৪০), তার ভাই খায়রুল ইসলাম (৪৫) ও ভাবি সপ্না খাতুন (৩৫)-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে সিনা আক্তারের সঙ্গে মনিরুল আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অভিযুক্ত পক্ষ জোরপূর্বক নগদ টাকা, আসবাবপত্র, সেলাই মেশিন, ধান ঝাড়ার মেশিন, একটি গরু ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক আদায় করে।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মনিরুল আলম তার ভাই ও ভাবির প্ররোচনায় বাদীকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। অভিযোগে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার কথাও উল্লেখ রয়েছে।স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে অতীতেও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল। সে সময় প্রভাব ও নানা কারণে বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায়। নতুন করে মামলা দায়ের হওয়ায় পুরনো অভিযোগগুলোও সামনে আসছে, যা এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।আরও অভিযোগ রয়েছে, একজন শিক্ষক হয়েও তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে নিজেকে বড় কর্মকর্তা ভাবার ভঙ্গিতে চলাফেরা করতেন এবং নানা অজুহাতে প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতেন। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী জানান, পারিবারিক কারণ দেখিয়ে মনিরুল আলম তিন দিনের ছুটির আবেদন করেন। ছুটি শেষে ফোনে যোগাযোগ করে তিনি আরও কয়েকদিন ছুটি বাড়ানোর অনুরোধ জানান।অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল আলমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন,“বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দমধুসূদপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাদিজা খাতুন (৪৩) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।নিহত খাদিজা খাতুন ওই গ্রামের আশারাফ হোসেন মোড়লের স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে রান্নার প্রস্তুতির জন্য বৈদ্যুতিক ব্লেন্ডারে জিরা ও মরিচ গুঁড়া করছিলেন। মসলা গুঁড়া শেষ হওয়ার পর অসাবধানতাবশত ব্লেন্ডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করেই ভেতর থেকে মসলা বের করতে গেলে হঠাৎ তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় ব্লেন্ডারের ভেতরে হাত ঢোকানোর ফলে তার ডান হাতের চারটি আঙুল মারাত্মকভাবে কেটে দুই খণ্ড হয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্বজনরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও স্ট্রোকজনিত কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম এবং পুরো এলাকায় বিরাজ করছে গভীর শোকের ছায়া।
মোস্তফা মাসুদ: সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ‘মহান বিজয় গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড -২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় চেয়ারম্যানের নিকট আনুষ্ঠানিক ভাবে এ সম্মাননা ও সনদপত্র হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয় ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যানের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে চেয়ারম্যান মো.জাহাঙ্গীর আলমের ধারাবাহিক ও আন্তরিক অবদান প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে এ সম্মাননা আমি বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করছি।উল্লেখ্য,বিজয় ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, মানবিক কার্যক্রম ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করে আসছে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরায় অনিবন্ধিত "আপন বাংলার" মিথ্যা ও বানোয়াট প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারী -২০২৬ বিকাল সাড়ে ৩টায় কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার এর মাধ্যমে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম ওই অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিৰ্বাচনে বিএনপির মনোনীত ধানেরশীষের প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব কাজী মোঃ আলাউদ্দীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, "আপন বাংলা" নামক একটি নিউজ পোর্টালে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে ক্ষতিসাধন করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এছাড়াও একটি রাজনীতিক দলের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকের একাধিক ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ধানেরশীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ রূপে নিৰ্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের অপপ্রচার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নিৰ্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এসব তথ্য যাচাই না করে অসত্য এবং প্রার্থীর সম্মান ও ভাবমূর্তির মারাত্মক ক্ষতি করছে। ধানেরশীষের প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী মোঃ আলাউদ্দীন এই জনপদের সাবেক সফল সংসদ সদস্য হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমতাবস্থায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও নিৰ্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী উক্ত ফেসবুক পেজ/ আইডির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপপ্রচার বন্ধে নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে দ্রুত পদক্ষেপ একটি সুষ্ঠু নিৰ্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মোস্তফা মাসুদ: আইন কি সবার জন্য সমান-এমন প্রশ্ন ঘিরে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশের পরিচালিত মোবাইল কোর্টকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় স্বজনপ্রীতি, দ্বৈত নীতি ও বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশব্যাপী পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কালিগঞ্জ থানা ও প্রেসক্লাব সড়কে ট্রাফিক পুলিশের মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ হেলমেট না থাকা বা যানবাহনের কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলেই জরিমানা ও মামলা মোকাবিলা করতে বাধ্য হন। অভিযোগ রয়েছে,একই সময়ে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হেলমেট ও মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও ‘জামাই আদরে’ ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ সাধারণ চালক ও পথচারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ঘাটতি থাকলেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বৈষম্যমূলক আচরণে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক ব্যক্তি বলেন, “আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে এক শ্রেণির মানুষের জন্য ছাড় আর সাধারণ মানুষের জন্য কঠোরতা কেন।অনেকে এটিকে আইনের অপব্যবহার ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান, যা জনমনে আরও প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দেয়।উপজেলাবাসীর অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের নামে এ ধরনের দ্বৈত নীতি ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে জনআস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব বিষ্ণুপুর বাজার চত্বরে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাবেক বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জিএম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, বারবার নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ এবাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম। কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী তৌহিদ হাসান, ইসলাম সাতক্ষীরা - ০৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন এর ছোট পুত্র কাজী আসিফুর রহমান রাজু।সাতক্ষীরা পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান,বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শেখ আব্দুল করিম।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মারুফ বিল্লাহ ও রেজাউল করিম, প্রচার সম্পাদক আলতাফ হোসেন,ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ,১নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সভাপতি গোলাম বারী,ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ফিরোজ ঢালী সহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।দোয়া মাহফিলে বক্তারা মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও একাধিকবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক উজায়মারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে সরজমিনে ও মামলা সূত্রে জানা যায়" সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত (নং–০২)-এ কালিগঞ্জ উপজেলার গনপতি গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলাম-এর কন্যা মোছাঃ সিনা আক্তার (৩১) বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় স্বামী মোঃ মনিরুল আলম (৪০), তার ভাই খায়রুল ইসলাম (৪৫) ও ভাবি সপ্না খাতুন (৩৫)-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়,২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে সিনা আক্তারের সঙ্গে মনিরুল আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অভিযুক্ত পক্ষ জোরপূর্বক নগদ টাকা, আসবাবপত্র,সেলাই মেশিন ,ধান ঝাড়ার মেশিন, একটি গরু ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক আদায় করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,স্বামী মনিরুল আলম তার ভাই ও ভাবির প্ররোচনায় আরও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে বাদীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। মামলার বর্ণনায় বলা হয়, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল দুপুরে মনিরুল আলমের বসতবাড়িতে ৩ লাখ টাকা যৌতুক আনতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীকে কাঠ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।পরবর্তীতে বাদীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়,গত( ৮ নভেম্বর) বাদীর পিত্রালয়ে মীমাংসার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক চলাকালে অভিযুক্তরা যৌতুক দাবি প্রত্যাহার না করে বরং পুনরায় মারধর ও হত্যার চেষ্টা চালায়। বাদীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বাদীর অভিযোগ, একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।মামলাটি ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত–২০০৩) এর ১১(খ), ১১(গ) ও ৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রেখেছেন বলে জানা গেছে।ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মোস্তফা মাসুদ: প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি করে জীবনযাত্রায় সহযোগিতা করা প্রকল্পের আওতায় কৃষ্ণনগর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে অসহায় পরিবারের মাঝে হুইল চেয়ার, ছাগল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর সেন্টারে সুশীলনের ইসি কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক অধ্যাপক (অবঃ) আ.জ.ম গাজী আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি সুশীলনের পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টু'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি এম হাফিজুর রহমান শিমুল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুশীলনের নিবার্হী কমিটির সদস্য ইলাদেবী মল্লিক, শিক্ষিকা কণিকা রানি সরকার, সাংবাদিক আব্দুল করিম মামুন হাসান, শিমুল হোসেন, ফজলুল হক, আলমগীর হোসেন, তাপস ঘোষ ও সুশীলনের এডমিন সহকারী মাছুম বিল্লাহ। এসময়ে অসহায় প্রতিবন্ধী ২০টি পরিবারের হুইল চেয়ার, ১৬টি ছাগল ও ৭জন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ সময়ে সুশীলনের বিভিন্ন পর্যায়ের মাঠকর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তফা মাসুদ: শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের খুব্দীপুর ও আব্দুলখালী গ্রামে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। খুব্দীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রথম ধাপে দেড় শতাধিক (১৫০) কম্বল বিতরণ করা হয়। ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও সাংবাদিক এস. এম. গোলাম ফারুক এবং সৌদি প্রবাসী আব্দুল জলিলের অর্থায়ন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব শেখ গোলাম মাহমুদ এবং সঞ্চালনা করেন জাতীয় ধারাভাষ্যকার ইসমাইল হোসেন মিলন।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী শওকাত হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব গাজী শওকাত হোসেন বলেন, “শীত মৌসুমে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউপি সদস্য এস. এম. গোলাম ফারুক ও তাঁর চাচাতো ভাই সৌদি প্রবাসী আব্দুল জলিলের এই মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও অনুসরণযোগ্য। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন" কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বাচ্চু, কালিগঞ্জ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি এম. হাফিজুর রহমান শিমুল, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টু, ইউপি সদস্যা সুফিয়া বেগম, ইউপি সদস্য খায়রুল আলম রুবেল, সাবেক ইইপি সচিব সম আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. শাহাদাত হোসেন ও ফজলুর রহমান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বারী তরফদার, খুব্দীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্ধ্যা রানী বিশ্বাস, সহকারী শিক্ষক আইনুল হক, আব্দুল মাজেদ, মোক্তার হোসেন, সোহারাব হোসেন, আব্দুল করিম তরফদার, জয়নাল তরফদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।আয়োজকরা জানান, শীত মৌসুমজুড়ে পর্যায়ক্রমে আরও শীতবস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগে এলাকার শীতার্ত মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মোস্তফা মাসুদ: লিডার্স-এর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল) প্রকল্পের আওতায় মাল্টি- স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম (MSP) গঠন ও পরিকল্পনা প্রণয়ন উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আহম্মদ আলী শাহ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি সাবিনুর রহমান।বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিসহ MSP কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন— ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউপি সদস্যা মোছাঃ সেলিনা ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ অধিকারী,লিডারর্স কল প্রকল্পের এগ্রিকালচার ও নিউট্রেশন অফিসার মোঃ বুলবুল হোসাইন, কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শিমুল হোসেন,প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান ইমরান হোসেন, গৌরপদ মন্ডল, ইমাম শরিফুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, কাকলী মন্ডল, জশিলমা পারভীন, আব্দুর রহমান, শেখ হোসেন আলী, সাবিনুর রহমান, মোঃ আঃ লতিফ, আবু বক্কার সিদ্দিক, সোহাগ হোসেন, সজল কুমার রায়,রাহুল রায়, কাকলি মন্ডল, মোঃ মনিরুজ্জামান, মোঃ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভায় MSP-এর মূলনীতি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন লিডার্স কল ফলো করবেন লিডারর্স কল প্রকল্পের এগ্রিকালচার ও নিউট্রেশন অফিসার মোঃ বুলবুল হোসাইন । বক্তব্যের শুরুতে উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি সাবিনুর রহমান পুষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বিশেষ করে জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন, টেকসই মৎস্য উৎপাদন এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “পুষ্টি চাহিদা পূরণে মাছের কোনো বিকল্প নেই।সময়মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই MSP-এর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। বিশেষ আলোচনায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ সবজি, মাছ, তেলজাতীয় বীজ, বাদাম, আমিষ ও শর্করা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি MSP কমিটিকে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মোঃ আহম্মদ আলী শাহ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সকল স্টেকহোল্ডারের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি সকল সদস্যের সহযোগিতা কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।সমগ্র সভাটি সঞ্চালনা করেন মোঃ মনিরুজ্জামান, লিডার্স প্রকল্প অফিস, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।
মোস্তফা মাসুদ: কালিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পাকা ধান কেটে নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী চন্ডিচরণ মন্ডল। তিনি উপজেলার মাদকাটী গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে। লিখিত বক্তব্যে চন্ডিচরণ মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, তিনি একজন নিরীহ হিন্দু সংখ্যালঘু ব্যক্তি। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তরিকুল ইসলাম (৪৫), মহব্বত গাজী (৪২) ও হান্নান গাজী (৫৫) সহ কয়েকজনের সঙ্গে তার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তিনি আরো জানান, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অভিযুক্তরা গুন্ডা বাহিনী নিয়ে তার ভোগদখলীয় ও রেকর্ডীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জমির পাঁকা ধান কাটতে শুরু করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কালিগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধান কাটা বন্ধ করে এবং কর্তনকৃত ধান জব্দ করে। উভয় পক্ষকে কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা থানায় উপস্থিত হয়নি।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্তরা লোহার রড, শাবল, কাঁচি, কোদাল, দড়ি, বাঁশের লাঠি ও বড় টর্চলাইটসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় তার জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক পাঁকা ধান কেটে নিয়ে যায়। বাঁধা দিতে গেলে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রাণভয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। চন্ডিচরণ মন্ডল আরও দাবি করেন, এর আগেও তার রেকর্ডীয় জমির প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ বিঘার মধ্যে ৮ বিঘা এবং ১৭ বিঘার মধ্যে ৭ বিঘা জমির ধানও একইভাবে অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লুট করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান, জোরপূর্বক কাটা ধানের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি টেলিভিশন চ্যানেল, পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, অভিযোগকৃত জমি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মাদকাটী মৌজার অন্তর্ভুক্ত, যার মোট পরিমাণ ১.১৫ একর বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপদ মন্ডল, কনক চন্দ্র মন্ডল. বিমল মন্ডল. অলকেশ মন্ডল. নিরঞ্জন মন্ডল প্রমুখ।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা যেন একদিনেই মরুভূমির দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। দিনব্যাপী পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের পর একসময়ের জমজমাট বাজার, ফিলিং স্টেশনসহ অসংখ্য ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ আর শূন্যতা। যেখানে প্রতিদিন মানুষের ভিড়, পণ্য উঠানামা ও ব্যবসায়িক লেনদেন চলত, আজ সেখানে কেবল ভাঙা টিন, বেঁকে যাওয়া কাঠ, ছড়িয়ে থাকা ইট-পাথর আর নির্জন নিস্তব্ধতা। উচ্ছেদের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলেন, বহু বছরের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও স্থিতিশীল জীবনের ভরসা মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কারও দোকান ছিল সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস, কেউবা নিজের হাতে গড়া ছোট ব্যবসাটিই ছিল জীবনের সম্বল। অভিযানের পর তারা এখন দিশেহারা। এদিকে অভিযানে বড় ধরনের বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ উচ্ছেদকর্মে অর্থনৈতিক লেনদেন ও প্রভাবশালীদের ইঙ্গিত অনুযায়ী কিছু স্থাপনা রক্ষা পেলেও সাধারণ মানুষের দোকান-ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এমন আকস্মিক উচ্ছেদ বহু মানুষের জীবিকা বিপন্ন করে তুলেছে। তারা সরকারের কাছে মানবিক বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ন্যায্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযান পরবর্তী কালিগঞ্জ এখন ভাঙা স্থাপনার শুকনো ধুলোয় ঢেকে থাকা এক নিশ্চুপ জনপদ।যেখানে মানুষের চোখে কেবল শূন্যতা আর ভাঙাগড়ার তীব্র বেদনা।
মোস্তফা মাসুদ: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা–৩ (আশাশুনি–কালীগঞ্জ) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন বলেছেন, আশাশুনি–কালীগঞ্জে সন্ত্রাস, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান হবে না। জনগণের অধিকার, সম্পদ ও সম্মান রক্ষায় আমি সব সময় দৃঢ় অবস্থানে ছিলাম, আগামীতেও থাকব। চম্পাফুল ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে আয়োজিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।কাজী আলাউদ্দিন আরও বলেন, সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পূজা–পার্বণে নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা আমি অতীতেও করেছি, ভবিষ্যতেও এটিই হবে আমার প্রথম দায়িত্ব। এ সময় তিনি বলেন, আমি এই দূর্গত থালনায় একটি সাইক্লোন সেল্টার করে দিয়েছি, নির্বাচিত হলে আরও ২টি সাইক্লোন সেল্টার করার ব্যবস্থা করবো, শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করব।তিনি দাবি করেন, তার তৎকালীন নির্বাচনী এলাকার ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি মন্দিরে তিনি নিয়মিত অনুদান দিয়েছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন। দখল ও চাঁদাবাজি রোধে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থানে থাকার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।উঠান বৈঠক শেষে কাজী আলাউদ্দিনের একক প্রচেষ্টায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থ চম্পাফুল ইউনিয়নের থালনা মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন। সভায় ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কৃষ্ণপদ সেনের সভাপতিত্বে এবং কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মো. রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ হেদায়েতুল ইসলাম, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব শেখ শফিকুল ইসলাম (বাবু), সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আকতারুজ্জামান (বাপ্পী), চম্পাফুল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল কালাম গাজী প্রমুখ।এতে জেলা উপজেলা, ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে সুস্মিতা দেবনাথ (৭) ও রিয়া দাশ (৭) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বেলা ২ টার দিকে উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের নামাজগড় গ্রামে। নিহত রিয়া দাশ নামাজগড় গ্রামের প্রয়াত উত্তম দাশের মেয়ে এবং সুস্মিতা দেবনাথ একই এলাকার রাম প্রসাদ দেবনাথের মেয়ে। তারা নামাজগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিহত রিয়া দাশের কাকাতো ভাই সুদর্শন দাশ ও দীপঙ্কর দাশ জানান, তাদের বৌদি ভারতী দাশ দুপুরে রিয়া ও সুস্মিতাকে নিয়ে প্রতিবেশী আনন্দ চক্রবর্তীর পুকুরে গোসলের উদ্দেশ্যে বের হন। তিনি শিশু দু’টিকে পুকুরপাড়ে রেখে বাড়িতে কাপড় আনতে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে ফিরে এসে রিয়া ও সুস্মিতাকে দেখতে না পেয়ে পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর থেকে দুই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তাদের মরদেহ সমাধি দেয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সদর এম খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫– ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য স্লিপ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান) প্রণয়ন টিম গঠন করা হয়েছে। এতে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এলাকার সুপরিচিত সাংবাদিক ফজলুল হক। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক সভায় এ ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—এসএমসি মনোনীত সদস্য ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গঙ্গারানী সরকার, সহকারী শিক্ষক কণিকা সরকার, সর্বোচ্চ অনুদানকারী ও শিক্ষা-অনুরাগী সদস্য রিতা খানম, এবং নারী অভিভাবক সদস্য হিসেবে সহকারী শিক্ষক নাজমুন্নাহার। সভায় বক্তারা বলেন, একটি বিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের উপযোগী পরিবেশ গঠনে স্লিপ টিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করবে।অংশগ্রহণকারীরা আরও জানান, স্লিপ টিমের সম্মিলিত উদ্যোগে আগামী শিক্ষাবর্ষে একাডেমিক কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরিসহ বিভিন্ন খাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সবাইকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীপুরের বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে রবিবার (২৩ নভেম্বর ২০২৫) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। সার্জিকাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং এম.বি.বি.এস (এস. ইউ. এস.টি) সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়বুর রহমান এবং ডা. ফারহানা তাসনিমের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মানবিক উদ্যোগে সকাল থেকেই ভিড় জমায় এলাকার শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষ।দিনব্যাপী চিকিৎসা সেবার অংশ হিসেবে প্রদান করা হয় সাধারণ রোগ, চর্মরোগ, শিশুরোগ, নারীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যপরামর্শসহ নানা সেবা। উপস্থিত রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সহ-সভাপতি হামিদুল ইসলাম, ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, সুপার হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী সদস্য মোবারক আলী ও মোকসেদ সরদার।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সার্জিকাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আব্দুস সালাম, গ্রাম্য ডাক্তার আবুল কাশেম ও খায়রুল আনামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। চিকিৎসাসেবা দিতে আসা চিকিৎসকরা জানান,সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের ক্যাম্প অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানান, সামনের দিনগুলোতেও অসহায়, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য এমন বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা আরও বলেন, “মানবতার সেবা একটি চলমান প্রক্রিয়া। সমাজের সহায়শীল সবাই এগিয়ে এলে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।” এ ক্যাম্পকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা যায় গভীর সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা।মানবিক এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মোস্তফা মাসুদ: মানবকল্যাণে ঐক্য সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল কালিগঞ্জ” এই প্রতিপাদ্য স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতির গঠনতন্ত্র প্রণয়ন সংক্রান্ত ও সমিতির কার্যকরী কমিটি গঠন বিষয়ে সর্বশেষ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরা, বাড়ি নং ৩ রোড নম্বর ১০ এবং ৭ সেক্টরে ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম এর বাসভবনে কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুৃষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা প্রস্তাবিত সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বকুলুজ্জামান, এ্যাডঃ মরিয়ম মনসুর, স ম মেহেদী হাসান, মুন্সি আব্দুর রাশেদ, এস এম ইমদাদ হোসেন, মোহাম্মদ রুবায়েত, শেখ সাইফুল বারী সফু, সুকুমার দাশ বাচ্চু, নুর আহমেদ প্রমুখ। এ সভায় উপজেলা সমিতির গঠনতন্ত্র অনুমোদন, সদস্য অন্তর্ভুক্তি সিদ্ধান্ত, জানুয়ারিতে সাধারণ সভা, ও পিকনিক অনুষ্ঠিত হবে। কার্যকরী কমিটির ব্লেজার সহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বকুলুজ্জামান জানান, ঢাকা মহানগরীতে নিয়মিতভাবে বসবাসরত উপজেলার অধিবাসীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কল্যাণ সাধন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা,পরস্পারিস সৌহার্দ্য ও ঐক্য স্থাপন, তাদের কল্যাণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং একই সাথে কালিগঞ্জ উপজেলা সার্বিক উন্নয়নকে সক্রিয়ভাবে উদ্বুদ্ধকরণ করা। এছাড়া ঢাকা সহ অবস্থানরত কালিগঞ্জ উপজেলার অধিবাসীদের কর্মসংস্থান, চিকিৎসা, সহায়তা, অস্থায়ী আশ্রয় প্রদান এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা, উপজেলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারা উপস্থাপন এবং সার্বিক উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালানো। কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতির ঢাকা ও কালিগঞ্জে লাইব্রেরীতে একটি কার্যালয় প্রাথমিক পর্যায়ে থাকবে। কালিগঞ্জ উপজেলা প্রস্তাবিত সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেমকে প্রধান উপদেষ্টা করে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক, ১৫ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ও মোঃ আবু মাসুদকে সভাপতি ও মোস্তফা বকুলুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে মোট ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র। রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফাইমুন রাজিব তূর্য (১৬)। সে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের পুলিশ সদস্য মৃত রবিউল ইসলামের পুত্র এবং মোজাহার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।একই ঘটনায় আহত হয়েছে অপর মোটরসাইকেল আরোহী সিয়াম হোসেন, পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে দুটি মোটরসাইকেল দ্রুত গতিতে বিপরীত দিক থেকে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সঙ্গে সঙ্গে তূর্য গুরুতরভাবে আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষ, শিক্ষক ও সহপাঠীরা হাসপাতালে ভিড় করেন এবং তূর্যের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তার মৃত্যুতে বিদ্যালয় ও এলাকায় নেমে এসেছে মাতম। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।