আইন-অপরাধ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারীকে রাতভর গণধর্ষণের ঘটনায় চালক-হেলপারসহ তিনজনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

reporter-icon
নাদিম তালুকদার: স্টাফ রিপোর্টার ( মুক্তধ্বনি )
জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ | 0
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারীকে রাতভর গণধর্ষণের ঘটনায় 
চালক-হেলপারসহ তিনজনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারীকে রাতভর গণধর্ষণের ঘটনায় চালক-হেলপারসহ তিনজনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারীকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাসের চালক, হেলপার ও সহযোগীসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজমের আদালতে তারা এ জবানবন্দি দেন। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২৬ বছর বয়সী ওই নারী ঢাকার সাভার রেডিও কলোনী এলাকা থেকে আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহন নামের একটি বাসে ওঠেন। ওই সময় বাসটিতে মাত্র দুইজন যাত্রী ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে অভিযুক্তরা ওই নারীকে জোরপূর্বক বাসে আটকে রাখে। এরপর বাসটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে এবং রাতভর তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া ইউনিয়ন আন্ডারপাস এলাকায় সন্দেহজনকভাবে বাসটি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাইওয়ে পুলিশ সেটি আটক করে। পরে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। এ সময় বাসের চালক, হেলপার ও চালকের সহযোগীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বাসের চালক আলতাফ (২৫) বাসের হেলপার সাগর (২৪) চালকের সহযোগী রাব্বি (২১) গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসাধীন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে তারা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। টাঙ্গাইল কোর্ট ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন জানান, আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা: চ্যাটজিপিটি বনাম ডিপসিক?

র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।

আইন-অপরাধ

আরও পড়ুন
গোপালপুর উপজেলা-এ মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

গোপালপুর উপজেলা-এ মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত “মাদককে না বলুন মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান”—এই প্রত্যয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিটি সার্বিকভাবে পরিচালনা ও দিকনির্দেশনা দেন গোপালপুর উপজেলা কৃষক দলের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা, জিবিজি কলেজ ছাত্র সংসদ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবি আলম (ফটিক)।মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দুলাল তরফদার শ্রমিক নেতা মিন্টু মিয়া জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতা মানিক হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্রনেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, মির্জাপুর বাজারের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অংশ নেন।বক্তারা বলেন মাদক আজ সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের করাল গ্রাসে পরিবার ধ্বংস হচ্ছে, অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তারা জোর দিয়ে বলেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে।বক্তারা আরও উল্লেখ করেন মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের শত্রু। তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মার্চ ১, ২০২৬ 0

কালিহাতির বল্লা বাজারে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং

১৫ বোতল ফেয়ারডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

গণধর্ষণের পর কিশোরীকে বাবার সামনে থেকে হত্যা ১৫ বছরের আমেনা আক্তারের নৃশংস মৃত্যু: স্থানীয় প্রশাসন নীরব

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় ২৩ জন গ্রেপ্তার
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় ২৩ জন গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার সকল থানা ও ইউনিটকে নিয়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নিয়ে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ অভিযান, নিয়মিত মামলা, মাদক উদ্ধার ও পরোয়ানা তামিল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বমোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ৫ জন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে— ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ১০০ গ্রাম গাঁজা গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপরাধ নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সাধারণ জনগণকে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0

সরিষাবাড়ীতে জুয়ার আসরে অভিযান, ৩ জুয়াড়ি আটক

গোপালপুর মাহমুদপুর বাজারে দুর্ধর্ষ চুরিএক রাতে তিন দোকান খালি

টাঙ্গাইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার ৪২

টাঙ্গাইলে ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জন গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলে ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জন গ্রেপ্তার প্রিভেন্টিভ পরোয়ানা ও নিয়মিত মামলায় জেলা পুলিশের অভিযান জোরদার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মামলা পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলার সকল থানা ও ইউনিটে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টহল সন্দেহভাজনদের যাচাই-বাছাই এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। জেলা পুলিশ জানিয়েছে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলে বাসে আগুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক সখীপুর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক

টাঙ্গাইলে বাসে আগুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক সখীপুর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসি’র অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ আটক ১

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সরিষা খেতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

0 মন্তব্য