জাতীয়

উন্নয়নমূলক কাজে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে — ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাস্তবমুখী করতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। রবিবার সংসদ ভবনস্থ তাঁর কার্যালয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার ১৫ সদস্যবিশিষ্ট ইমাম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। আমরা সবাই মিলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। এই সম্প্রীতি অটুট রাখতে এবং সকলকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদ ভবন ও সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদল সংসদ ভবন পরিদর্শন করেছে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে, যাতে তারা সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করতে পারেন। ডেপুটি স্পীকার বলেন, “আমি আপনাদের ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি এবং আপনাদের আস্থার কারণেই আজ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তাই আপনাদের প্রতি আমার গভীর দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে।” উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উন্নয়নমূলক কাজকে গতিশীল করতে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। এসব

এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদকে সংবর্ধনা দিল পলশা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পলশা মহেষপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় পলশা মহেষপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাঠ প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মোঃ ফজলে রাব্বি রেনু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মোঃ হারুনুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ আতাউল হক কমল, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম, পলশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন এবং বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব আবু বক্করসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন, পলশা মহেষপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সার্বিক উন্নয়নে যা যা সহায়তা প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে ব্যবস্থা করা হবে। তিনি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানটি স্থানীয়দের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং শেষে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার কতৃক বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সফলতা অর্জন।

জেলা পুলিশের কর্ম মূল্যায়ণে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের সাফল্য অর্জন।  চলতি বছরের জানুয়ারী-মার্চ মাসে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও পরোয়ানাভূক্ত পলাতক আসামী গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় আজ জেলা পুলিশ  লাইন্সে অনুষ্ঠিত কল্যান সভায় নোয়াখালী জেলা পুলিশের উদ্যোগে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।  উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার টি,এম মোশারফ হোসেন। এছাড়াও উক্ত কল্যাণ সভায় জেলা পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষগনও উপস্থিত। এতে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, শ্রেষ্ঠ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বেগমগঞ্জ সার্কেল আ.ন.ম ইমরান খান। শ্রেষ্ঠ ওসি বেগমগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুজ্জামান। এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে পুরুষ্কার প্রাপ্তরা হলেন, শ্রেষ্ঠ গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলকারী অফিসার এসআই(নিঃ) কুতুব উদ্দিন খান লিয়ন। শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধার এসআই(নিঃ) পাপেল রায় ও এসআই(নিঃ) মোঃ নুরুজ্জামান। শ্রেষ্ঠ গ্রেফতার পরোয়ানা তামিল কারী অফিসার এএসআই(নিঃ) মোঃ জালাল হোসেন ও এএসআই(নিঃ) মোঃ ইলিয়াছ হোসেন।

এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
তেল সংকট
দেশজুড়ে তেল সংকট: পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তেল সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে জনদুর্ভোগ। এই পরিস্থিতিতে যানবাহন চালক, কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন।

এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিসতা স্বাধীনতা দিবস ফুটভলি চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিসতা স্বাধীনতা দিবস ফুটভলি চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফুটভলি এ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ বক্সিং একাডেমীর যৌথ সহযোগিতায় রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ নতুন স্টেডিয়ামে রংবেরংয়ের বেলুন উড়িয়ে এ খেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ বক্সিং একাডেমীর সভাপতি গৌতম কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, তরুণ ও যুব সমাজ খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত থাকলে তারা কখনোই মাদক বা অন্যায় পথে জড়িয়ে পড়বে না। এই খেলাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠুক। যুব সমাজ এ খেলার প্রতি আগ্রহি হয়ে উঠবে। যুব সমাজকে সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ, বাংলাদেশ ফুটভলি এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী আজম আলী খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মো. সামিউল ইসলাম লিটন, জেলা ক্রীড়া অফিসার আবু জাফর মাহমুদুজ্জামান, ক্রীড়া সংগঠক বদিউজ্জামান বুধু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বক্সিং একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজু আহমেদ সহ ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন  জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল।

এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
গোপালপুরে বৈরন নদীর উপর সেতু নির্মাণে ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বরাদ্দ, পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী শাহ আলম

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বৈরন নদীর উপর নির্মিতব্য বহুল প্রতীক্ষিত সেতু প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শাহ আলম। পরিদর্শনে এসে তিনি গাড়ি থেকে নেমেই বাংলাদেশ স্কাউট দলের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিদর্শনকালে বৈরন নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সালাম পিন্টুর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেতুটি নির্মিত হলে দীর্ঘদিন ধরে নৌকা বা ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথে চলাচল করা এলাকাবাসীর ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। প্রতিমন্ত্রী শাহ আলম বলেন, “সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রামাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেতু ও সড়ক উন্নত হলে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।” তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর জোর দেন। অন্যদিকে, সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু এলাকায় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বেহাল সড়ক ও সেতুগুলোর অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দ্রুত মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেন। পরিদর্শনকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সরকারের এ উন্নয়ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। এলাকাবাসী জানান, বৈরন নদীর উপর সেতু নির্মাণ ও আশপাশের সড়ক উন্নয়ন হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে, রোগীরা দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবে এবং কৃষি ও ব্যবসায়িক পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হবে। এতে এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে, বৈরন নদীর উপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি গোপালপুর উপজেলাসহ আশপাশের অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, জেলা তথ্য অফিসার রুপ কুমার বর্মনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, গৌড় বাংলা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হাসিব হোসেন, চাঁপাই দর্পণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি মোঃ আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল সুকরানা, সিনিয়র সাংবাদিক ডাবলু কুমার ঘোষ, জোনাব আলী, আজিজুল ইসলাম শিশির, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ফেরদৌস সিহানুক (শান্ত) এবং মহানন্দা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক নাসিমসহ অন্যান্যরা। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে অবৈধভাবে মাটি কাটা, মাদক পাচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনদুর্ভোগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী সাংবাদিকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি জেলার উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। সভাটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ ঘটিকায় রাজধানীর মতিঝিল কিচেন ইয়ার্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট “সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন”-এর কেন্দ্রীয় কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন সংচলনায় করেন, তালুকদার রুমি, সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন। প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন ওমর ফারুক জালাল, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। সভায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট, টিকে আজাদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট, নুরুনাহার রিতা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সোহেলী জামান, রোকেয়া আক্তার কেয়া, মোঃ আসাদুজ্জামান রনি, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, কার্যকরী সদস্য, মাসুদ মজুমদার,  মোঃ কামাল হোসেন, গোহেল রানা, মোঃ বাবুল মিয়া, মোঃ নজরুল ইসলাম খোকন, মুক্তার হোসেন সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকগন। সাধারণ সম্পাদক জনাব তালুকদার রুমি বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছে। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম উন্মোচনের সময় সাংবাদিকদের হামলা, মামলা ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হতে হয়। এ প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তৃণমূল থেকে শুরু করে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা প্রদানের বিষয়টি সভায় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব ওমর ফারুক জালাল বলেন অসুস্থ ও দুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালুর লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বলেন সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক একটি জাতীয় ডাটাবেইজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। এ ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (PIB) অথবা বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল অনুমোদিত প্রশিক্ষণের সনদ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়। এর ফলে প্রকৃত সাংবাদিক সনাক্তকরণ সহজ হবে এবং ভুয়া পরিচয়ে অপকর্ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর “সাংবাদিক সুরক্ষা আইন” প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।এ ধরনের আইন বাস্তবায়িত হলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সভায় নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সুসংহত হবে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। 📄 সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র (Formal Letter) মাননীয় মহোদয়, সশ্রদ্ধ নিবেদন এই যে, “সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন”-এর কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, কল্যাণ ও গণমাধ্যমের মানোন্নয়ন বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বর্তমানে দেশের সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নানাবিধ ঝুঁকি, হুমকি ও হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ প্রেক্ষাপটে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি— ১। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা। ২। অসুস্থ ও দুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা এবং তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালু করা। ৩। একটি জাতীয় সাংবাদিক ডাটাবেইজ প্রতিষ্ঠা করা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণ (PIB/প্রেস কাউন্সিল অনুমোদিত) বাধ্যতামূলক করা। ৪। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর “সাংবাদিক সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন করা। ৫) সাংবাদিক দের রাজনৈতিক নিষিদ্ধ করন, ৬) নতুন সাংবাদিক দের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধঅমূলক।  উপরোক্ত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের গণমাধ্যম আরও শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও পেশাদার হয়ে উঠবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন  আপনার দেওয়া লেখাটি ভালো, তবে কিছু ভাষাগত সংশোধন, গঠনগত উন্নয়ন ও পেশাদার উপস্থাপনার মাধ্যমে এটিকে আরও পরিশীলিত করা যায়। নিচে সংশোধিত সংবাদ প্রতিবেদন ও আবেদনপত্র দেওয়া হলো: 📰 সংশোধিত সংবাদ প্রতিবেদন ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর মতিঝিলস্থ কিচেন ইয়ার্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে “সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন”-এর কেন্দ্রীয় কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তালুকদার রুমি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর ফারুক জালাল। সভায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া, টিকে আজাদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরুনাহার রিতা, সোহেলী জামান, রোকেয়া আক্তার কেয়া, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান রনি, কার্যকরী সদস্য মাসুদ মজুমদার, মোঃ কামাল হোসেন, গোহেল রানা, মোঃ বাবুল মিয়া, মোঃ নজরুল ইসলাম খোকন, মুক্তার হোসেনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। সাধারণ সম্পাদক তালুকদার রুমি বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ কিংবা অনিয়ম উন্মোচনের সময় তাদের হামলা ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর ফারুক জালাল বলেন, অসুস্থ ও দুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালুর লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে মোঃ দেলোয়ার হোসেন একটি জাতীয় সাংবাদিক ডাটাবেইজ তৈরির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এই ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (PIB) অথবা বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল অনুমোদিত প্রশিক্ষণের সনদ বাধ্যতামূলক করা হলে প্রকৃত সাংবাদিকদের সনাক্ত করা সহজ হবে এবং ভুয়া পরিচয়ে অপকর্ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর “সাংবাদিক সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন জরুরি। এতে হামলা ও হয়রানির ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সভায় নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সুসংহত হবে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। ২ , য়ে   সভায় নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সুসংহত হবে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। 📄   সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন  আপনার দেওয়া লেখাটি ভালো, তবে কিছু ভাষাগত সংশোধন, গঠনগত উন্নয়ন ও পেশাদার উপস্থাপনার মাধ্যমে এটিকে আরও পরিশীলিত করা যায়। নিচে সংশোধিত সংবাদ প্রতিবেদন ও আবেদনপত্র দেওয়া হলো: 📰 সংশোধিত সংবাদ প্রতিবেদন ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর মতিঝিলস্থ কিচেন ইয়ার্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে “সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন”-এর কেন্দ্রীয় কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তালুকদার রুমি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর ফারুক জালাল। সভায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া, টিকে আজাদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরুনাহার রিতা, সোহেলী জামান, রোকেয়া আক্তার কেয়া, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান রনি, কার্যকরী সদস্য মাসুদ মজুমদার, মোঃ কামাল হোসেন, গোহেল রানা, মোঃ বাবুল মিয়া, মোঃ নজরুল ইসলাম খোকন, মুক্তার হোসেনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। সাধারণ সম্পাদক তালুকদার রুমি বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ কিংবা অনিয়ম উন্মোচনের সময় তাদের হামলা ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর ফারুক জালাল বলেন, অসুস্থ ও দুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালুর লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে মোঃ দেলোয়ার হোসেন একটি জাতীয় সাংবাদিক ডাটাবেইজ তৈরির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এই ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (PIB) অথবা বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল অনুমোদিত প্রশিক্ষণের সনদ বাধ্যতামূলক করা হলে প্রকৃত সাংবাদিকদের সনাক্ত করা সহজ হবে এবং ভুয়া পরিচয়ে অপকর্ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর “সাংবাদিক সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন জরুরি। এতে হামলা ও হয়রানির ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সভায় নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সুসংহত হবে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল
হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল

সারাদেশের তুলনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। এমতাবস্থায় সংসদের অধিবেশন শেষ করেই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ -৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নূরুল ইসলাম বুলবুল। ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ১১ টায় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কতৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সামনে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, হামের প্রকোপ সারা দেশের তুলনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেশি। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারাদেশের প্রায় ১০ শতাংশ হামের রোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বয়স কম হওয়ায় এর প্রভাবটা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি যদি আরো বাড়তে থাকে তাহলে শিশুদের মৃত্যুর হার বেড়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, যারা হামের টিকা গ্রহণ করেছে তাদের আক্রান্তের হার কম। তবে শিশুদের ৯মাসের আগে হামের টিকা প্রদান করা হয় না। তাই তারা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে ৬মাস বয়স থেকেই শিশুদের হামের টিকা প্রদান করা হবে। এবং আগামী ৫ই এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখানে যে খাবার পানি সংকট তৈরি হয়েছিল সেই সংকট নিরসনের জন্য জরুরী ভিত্তিতে একটি ফিল্টার বসানোর নির্দেশনা দিয়েছিলাম যা তাৎক্ষণিকভাবে বসানো হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আরো ৮-১০ টি ফিল্টার বসানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে সেগুলো বসানো হবে এবং এর মাধ্যমে হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দূর হবে। এছাড়াও হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এই কঠিন সময়ে একটু অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে হলেও রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদান করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি। নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এমনিতেই একটি অবহেলিত জনপদ। এখানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ১০০ বেডের খাবার, ডাক্তার, স্টাফসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা ছিল। ২৫০ শয্যার সকল সুযোগ সুবিধা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় অফিশিয়াল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন অফিশিয়াল চিঠির অপেক্ষায় আছি। আশা করছি, শীঘ্রই আমরা সেটা পেয়ে যাবো। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ মশিউর রহমান, হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক লতিফুর রহমান, পৌরসভা আমীর হাফেজ গোলাম রব্বানী, ১০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তোহরুল ইসলাম সোহেল, সহ জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জামালপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজন

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জামালপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজন মিডিয়া সেল, জেলা পুলিশ জামালপুর ২৬ মার্চ ২০২৬ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি.) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং মনোমুগ্ধকর সম্মিলিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জনাব মুহাম্মদ ইউসুপ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জনাব মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন।পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও চিত্তাকর্ষক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও গৌরবের অনুভূতি জাগ্রত করে।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।মহান স্বাধীনতা দিবসের এ আয়োজন জাতির বীর সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।

এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন পিটিসি,টাঙ্গাইল

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন পিটিসি,টাঙ্গাইল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি)-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় পিটিসি টাঙ্গাইলের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পিটিসি টাঙ্গাইলের কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) জনাব মোহাম্মদ আশফাকুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কমান্ড্যান্ট জনাব মোঃ মাহফুজুর রহমান (অতিরিক্ত ডিআইজি), জনাব ড.এএইচএম কামরুজ্জামান, বিপিএম, পিপিএমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পুলিশ সদস্য এবং সিভিল স্টাফগণ।দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে পিটিসি টাঙ্গাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বর্ণিল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়।এছাড়া ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা দিবসের স্মরণে প্রতীকী‘ব্ল্যাক-আউট’কর্মসূচি পালন করা হয়।একই সঙ্গে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের অব্যাহত উন্নয়ন কামনায় এবং মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় পিটিসি টাঙ্গাইল জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।বিভিন্ন আয়োজনে কর্মকর্তা প্রশিক্ষণার্থী ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দিবসটিকে করে তোলে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত।

মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

টাঙ্গাইলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাযথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটির সূচনায় ২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে একাত্তরের বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন কুচকাওয়াজ আলোচনা সভা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ আয়োজন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বক্তারা বলেন মহান স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির গৌরব ও অহংকারের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।শহীদদের এই আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।স্বাধীনতার এই মাহেন্দ্রক্ষণে জাতি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সেই সকল বীর সন্তানদের যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীনতা। একই সঙ্গে দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত করার প্রত্যয়ে নতুন প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা।

মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে টাঙ্গাইলে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতকে ঘিরে জোর প্রস্তুতি

আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে টাঙ্গাইলে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতকে ঘিরে জোর প্রস্তুতি চলছে। এ প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, টাঙ্গাইল ময়দান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে ঈদগাহ মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা অজুখানা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশ-বহির্গমন পথ সুসংগঠিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।জেলা প্রশাসক জানান আগামীকাল শনিবার সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, টাঙ্গাইল ময়দানে পবিত্র ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ২০ হাজার মুসল্লীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে।পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুসল্লিদের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জরুরি সেবাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।উল্লেখ্য প্রতিবছরের মতো এবারও টাঙ্গাইলের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলার সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লীর সমাগম ঘটে।

মার্চ ২০, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপন

টাঙ্গাইলে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপন “নিরাপদ পণ্য, আত্মবিশ্বাসী ভোক্তা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।শনিবার (১৫ মার্চ ২০২৬) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা শিক্ষার্থী ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। বক্তারা বলেন ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করা ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করা হলে ভোক্তাদের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং একটি সুস্থ বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি গণমাধ্যমকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন

টাঙ্গাইলে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়বো তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়বো—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক মহড়া ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্ত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।সচেতনতামূলক সভায় বক্তারা বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের বিকল্প নেই।সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা তরুণ সমাজকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক মহড়া প্রদর্শন করা হয় যেখানে অগ্নিকাণ্ড ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

মার্চ ১০, ২০২৬ 0
নেত্রকোনা দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত।

"আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার"। এই প্রতিপাদ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা পরিষদ মলিনায়তনে রবিবার (৮মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এ দিবস পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ উপলক্ষে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মীম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এমএ জিন্নাহ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান আনসারী, দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাংবাদিক সমিতির আহবায়ক কবি সজিম সাইন, পারি ডেভেলপমেন্ট ট্রাষ্ট্রের ম্যানেজার প্রিন্স কোরাইয়া ও নারী উদ্যোক্তা কবিতা দত্ত প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো কয়েকটি দেশে এ দিবস পালিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। তখন থেকেই দিনটি বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার ও সমতার প্রতীক হয়ে উঠে। বিশ্বজুড়ে আজকের দিনটি কেবল উদযাপনের নয়, আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারেরও। আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমতার পথে অগ্রগতি হলেও এখনো অসংখ্য নারী তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই শুধু প্রতীকী সম্মান নয়, প্রয়োজন বাস্তব পরিবর্তন। নিজ নিজ অবস্থান থেকে নারীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করণে সকলকে আহবান জানানো হয়। আলোচনা শেষে, পারি ডেভেলপমেন্ট ট্রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নয়জন সফল নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

মার্চ ৮, ২০২৬ 0
দায়িত্ব কমলো প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর
দায়িত্ব কমলো প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এতে দায়িত্ব কমানো হয়েছে ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এতদিন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু-কে এখন থেকে শুধু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তার অধীনে থাকা দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইভাবে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম নুর-এর দায়িত্ব কমিয়ে কেবল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সীমিত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা ববি হাজ্জাজ-কে এখন থেকে শুধু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. শরীফুল আলম-কে কেবল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রশিদ-এর দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই পুনর্বণ্টন সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কাজের সমন্বয় জোরদারের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দায়িত্ব পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও বেশি মনোযোগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
দেশে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন জ্বালানি মজুদদাম বাড়ার শঙ্কা নেই

দেশে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন জ্বালানি মজুদ দাম বাড়ার শঙ্কা নেই বিপিসি চেয়ারম্যান দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান মো.রেজানুর রহমান। তিনি বলেন বর্তমান মজুত পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তেলের বিকল্প বাজার খোঁজার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। তবে দেশে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে তাতে আপাতত সরবরাহ বা দামের ক্ষেত্রে কোনো চাপ তৈরি হবে না। কত দিনের মজুত আছে?তিনি জানান নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে ইতোমধ্যে ৭টি জাহাজের এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মজুত পরিস্থিতি হলো— ডিজেল: ১৪ দিনের অকটেন: ২৮ দিনের পেট্রোল: ১৫ দিনের ফার্নেস অয়েল: ৯৩ দিনের জেট ফুয়েল: ৫৫ দিনের চেয়ারম্যান বলেনবাআমরা পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যাপ্ত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরকারবিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা না এলে দেশের বাজারে তাৎক্ষণিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কম।এদিকে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বিপিসির সর্বশেষ ঘোষণায় তা কিছুটা প্রশমিত হবে বলে মনে করছেন

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলের হেমনগর রেলস্টেশন বন্ধ এক দশক, রাতে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া
টাঙ্গাইলের হেমনগর রেলস্টেশন বন্ধ এক দশক, রাতে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর রেলস্টেশন দিনে নীরবতা আর রাতে অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের অন্ধকারে স্টেশন চত্বরে মাদকসেবী ও জুয়াড়ুরা জমায়েত করে এবং পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে ভ্রাম্যমাণ পতিতাবৃত্তির ঘটনাও ঘটে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, যমুনা সার কারখানার সরবরাহ ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০০০ সালে ঢাকা–যমুনা সেতু–জামালপুর রেললাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১১ সালে ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের নির্মাণ শেষ হয়। এই লাইনে ৫২টি ব্রিজ-কালভার্ট ও চারটি রেলস্টেশন তৈরি করা হয়, যার একটি হেমনগর স্টেশন। উদ্বোধনের পর প্রথম আড়াই থেকে তিন বছর স্টেশনটি স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি বন্ধ। বর্তমানে কোনো স্থায়ী জনবল নেই। স্টেশন মাস্টার, টিকিট ক্লার্ক ও নিরাপত্তাকর্মী অনুপস্থিত থাকায় অফিস কক্ষ, আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট বা চুরি হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দিনের বেলায় স্টেশন ফাঁকা থাকলেও রাতের অন্ধকারে এটি অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়। স্টেশনের আবাসিক ভবন ও চত্বরে আগাছা, ঝোপঝাড় এবং ময়লা জমে আছে। পর্যাপ্ত আলো না থাকার কারণে রাতে পরিবেশ ভুতুড়ে মনে হয়। হেমনগর ও আশপাশের গ্রামবাসী দাবি করছেন, স্টেশনটি পুনরায় চালু হলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সুবিধা হবে। একই সঙ্গে এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমেও তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইল সদর কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ৪৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
টাঙ্গাইল সদর কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ৪৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি আজ (২৭-০২-২০২৬) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর ৪৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমবায় সমিতির সভাপতি, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সমবায় সদস্যরা। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় এবং গত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে সমবায় সমিতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে সমবায় খাত আরও গতিশীল হবে। কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই প্রদান করা হবে: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন
গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই প্রদান করা হবে: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যায়ক্রমে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন এবং দূরপাল্লার বাসে দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ও ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের আইসিটি খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ উদ্যোগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু-র সঙ্গে পরামর্শক্রমে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় আইসিটি পার্ক স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের বিদ্যমান তিনটি বড় টেকপার্কে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব টেকপার্কে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইটি রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুব হাসান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষানবীশ) লাবিবুজ্জামান মুস্তাবীনসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দপ্তরের চলমান কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, ই-সেবা সম্প্রসারণ ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

নারী সংস্কার কমিশন: বায়তুল মোকাররমের মিম্বর থেকে

[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا  فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু  তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا  وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ  تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না;  মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত  তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত,  সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে  নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল।  তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা।   যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য।  ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

শীর্ষ সপ্তাহ

টাঙ্গাইলে নদী উদ্ধার প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি ও অপপ্রচার
আইন-অপরাধ

টাঙ্গাইলে নদী উদ্ধার প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি ও অপপ্রচার

মুক্তধ্বনি ডেক্স এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0

ভোট জরিপ

নির্বাচনের দিন গণভোট আপনি সমর্থন করেন ?