টাঙ্গাইলে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৬ একর বনভূমি রয়েছে—যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাল-গজারি বন হিসেবে পরিচিত। মধুপুর, ঘাটাইল, সখীপুর, কালিহাতী ও মির্জাপুর জুড়ে বিস্তৃত এই বনাঞ্চল দেশের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বনকে ঘিরেই জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ৫৩৯টি করাতকল—যার মধ্যে মাত্র ১৬৩টি বৈধ। বাকি ৩৭৬টি অবৈধ করাতকলে প্রতিদিন চলছে নির্বিচারে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার। সরেজমিনে মধুপুর, ধলাপাড়া, বাঁশতৈল, অরণখোলা থেকে শুরু করে দোখলা ও বহেড়াতলী পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়—কোথাও সামাজিক বনের পাশে,কোথাও সংরক্ষিত বনের গা ঘেঁষে,আবার কোথাও বনের ভেতরেই উঠে গেছে করাতকল।অনেক ক্ষেত্রে এসব মিল রেঞ্জ ও বিট অফিসের ঠিক পাশেই, যেন প্রশাসন ও বনবিভাগকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে—এখানে ‘সবই সম্ভব’। বন আইনে বনাঞ্চল থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে ঠিক উল্টো চিত্র— সংরক্ষিত বনের শাল, গজারি, পাইকর, কাঁকরাসহ মূল্যবান গাছ কেটে আনা হচ্ছে,অবৈধ স’মিলে এনে দ্রুত চিরাই করলেই হয়ে যাচ্ছে “বৈধ কাঠ”।স্থানীয় বাজারে তা দেদারসে বিক্রি হচ্ছে কোনো বাধা ছাড়াই। মধুপুরে ৪৫,৫০০ একর বনভূমির মধ্যে প্রায় ৩৫,০০০ একর ইতোমধ্যেই বৃক্ষশূন্য। বনে এখন গাছের জায়গা দখল করেছে—আনারস,কলা, ড্রাগন,পেঁপে ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ফসল।বাকি ১০ হাজার একর বনও মারাত্মকভাবে ক্ষয়িষ্ণু বলে জানায় স্থানীয় সূত্র। ঘাটাইলে ৯০টি করাতকল, যার মধ্যে ৪৫টি অবৈধ,মধুপুরে ৯০টির মধ্যে ৭৩টিই লাইসেন্সবিহীন, সখীপুরে শতাধিক মিল—লাইসেন্স মাত্র ১২টি।কালিহাতী ও মির্জাপুরেও একই অবস্থা—অধিকাংশ মিলই চালু বছরের পর বছর। অবৈধ করাতকলের মালিক, শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র—এক মিল মালিক ইদ্রিস আলী বলেন,“মিলের কোনো কাগজ নেই। বন বিভাগের লোকজন এলে চা-খরচ দিয়ে বিদায় করি।”অন্য মালিক জানান,“বন কর্মকর্তাদের মাসিক চাঁদা দেই। জেলা থেকে অভিযান এলে আগেই জানিয়ে দেয়।”কাঠ ব্যবসায়ী মাসুদ রানার ভাষ্যে, “বন অফিসাররা নিজেরাই টাকা নেন। তাই মিল মালিকদের কোনো ভয় থাকে না।”শ্রমিক বাবুল হোসেন জানান,“বিট অফিসার টাকা খেয়েও হয়রানি করে।”এই অভিযোগগুলো স্থানীয়দের মধ্যে বহুদিনের, কিন্তু এখন তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নিয়মভঙ্গ করে—স্কুল,মসজিদ, বাজার ও আবাসিক এলাকার পাশে উঠেছে বিপুলসংখ্যক করাতকল। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাঠ কাটার শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, স্থানীয়দের জীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। টাঙ্গাইল বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন—জেলায় ৫৩৯টি স’মিল,১৬৩টি বৈধ, ৩৭৬টি অবৈধ।সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে অবৈধ করাতকলের তালিকা দেয়া হয়েছে।প্রতি মাসে অভিযান পরিচালিত হয়।গত মাসে ৭টি অভিযান, এ মাসে ১টি অভিযান হয়েছে।যৌথবাহিনী ও প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন— “করাতকল বিধিমালা ২০১২ স্পষ্ট—বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে মিল স্থাপন নিষিদ্ধ। টাঙ্গাইলের বেশিরভাগ করাতকলই আইন ভঙ্গ করছে। অবিলম্বে উচ্ছেদ না করলে বন ও জীববৈচিত্র পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।”তিনি আরও বলেন—“বন ধ্বংস হলে বন্যা, খরা, খরা-উত্তর অগ্নিকাণ্ড, নদীভাঙনসহ ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে।” স্থানীয়দের দাবি—অবৈধ করাতকলের অস্তিত্ব, বনের ভেতর কৃষি জমি তৈরি,মাসোহারা বাণিজ্য। এসব রোধে শুধু মাসিক “দেখানো অভিযান” যথেষ্ট নয়। যতদিন পর্যন্ত অসাধু বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি এবং করাতকল মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়া হবে—ততদিন টাঙ্গাইলের বন রক্ষা করা অসম্ভব।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা বাংলামোটরে নির্মিত হয়েছে লন্ডন স্টাইলের একটি দৃষ্টিনন্দন ভবন, যা ইতোমধ্যেই নগরবাসীর আগ্রহ ও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আধুনিক নকশা ও ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে তৈরি এ ভবনটি এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এক নগর নান্দনিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবনটির বাইরের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে ক্লাসিক ব্রিটিশ ডিজাইনের উপাদান, যেমন নান্দনিক বারান্দা, বড় আকারের জানালা এবং আকর্ষণীয় রঙের সমন্বয়। বিশেষ করে এর ফ্যাসাড ডিজাইন পথচারীদের সহজেই আকৃষ্ট করছে এবং অনেকেই ভবনটির সামনে ছবি তুলতে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের স্থাপত্য রাজধানীর প্রচলিত ভবন ডিজাইনের বাইরে গিয়ে নতুনত্ব নিয়ে এসেছে। এতে করে এলাকাটির সামগ্রিক সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে, তেমনি আধুনিক নগর পরিকল্পনার দিক থেকেও এটি একটি ইতিবাচক সংযোজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে এ ধরনের ভবন নির্মাণ শহরের নান্দনিকতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, বাংলামোটরের এই লন্ডন স্টাইলের ভবনটি এখন শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং নগরবাসীর জন্য এক নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার খুজিউড়া গ্রামে সাত বছরের এক অবুঝ শিশুকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্দ জনতার রোষানল থেকে অভিযুক্ত শাহজাহানকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামে তার নানির বাড়িতেই থাকতো। ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী শিশুর নানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘটনার দিন শিশুটি স্কুল থেকে ফিরে অন্য এক মেয়ে শিশুর সাথে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে তারা বাড়ির পাশের খেজুর গাছ থেকে খেজুর কুড়াতে যায়। এসময় অভিযুক্ত শাহজাহান ও তার এক সহযোগী শিশু দুটিকে দেখতে পায়। দুরভিসন্ধি নিয়ে তারা শিশুদের ডাকতে থাকে, কিন্তু শিশুরা যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর হঠাৎ করেই অভিযুক্ত শাহজাহান শিশুটির মুখ চেপে ধরে এবং জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে পাশের জঙ্গলে শুকনো দিঘির (পুকুর) ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে খামচে ধরে শারীরিক নির্যাতন ও নিপীড়ন শুরু করে সে। এ সময় দুই শিশুর চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে। আমার নাতির সাথে এমন আচরনের উপযুক্ত বিচার চাই। এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত শাহজাহান নিয়মিত মাদকসেবী এবং এলাকায় তার ব্যাপক দুর্নাম রয়েছে। প্রতিবেশী এক নারী জানান, শাহজাহানের নিজের স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। নিয়মিত মাদকসেবন ও অমানুষিক নির্যাতনের কারণে মাস খানেক আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারে পক্ষ থেকে এখানো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
”স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ” এ প্রতিপাদ্যে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দায়সারা ভাবে পালিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। মঙ্গলবার সকালে অভ্যন্তরিন র্যালি এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে এদিবস পালিত হয়। সীমিত আয়োজন, জনসচেতনতামুলক কোন কার্য্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি না থাকায় এ নিয়ে সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরলেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল অনেকাংশেই কম। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন আরও ব্যাপকভাবে পালন করা উচিত ছিল। স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। আলোচনা সভায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ তানজিরুল ইসলাম রায়হানের সভাপতিত্বে, প্রধান সহকারি আব্দুল লতিফ এর সঞ্চালনায় আলোচনা করেন, মেডিকেল অফিসার শেখ ফারহানা সুলতানা, স্বাস্থ্য পরিদর্শক সুব্রত চক্রবর্তী, ডিএসকের প্রকল্প সমন্বয়কারী রুপন কুমার সরকার, রুসা‘র পরিচালক নুরে আলম সহ অন্যান্য প্রতিনিধিগণ।