আইন-অপরাধ

মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলা।

reporter-icon
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইন
জুলাই ৩০, ২০২৫ | 0
নিজস্ব  প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানাধীন ঝাউতলা এলাকায় প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করে আসছিলো হোসেন ও জসিম দুই ভাই। উক্ত বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রতিবাদ জানালে উক্ত বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ রুবেল নামে এক সাংবাদিকের উপর গতরাতে হামলা চালায়। আহত সাংবাদিক দৈনিক  একুশে সংবাদ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)–এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পর তিনি খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ভুক্তভোগী মো.রুবেল অভিযোগে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার সকালবেলা তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা সম্পর্কে সচেতনতা মূলক মন্তব্য করা হয়। এরপর রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ঝাউতলা বাজার রোড দিয়ে যাওয়ার সময় চাঁদাবাজ হোসেন রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সড়কের পাশে ‘ঝলক ক্লাব’–এর অন্ধকার গলিতে জোড়পূর্বক নিয়ে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেনো স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে অকথ্যভাষায় গালমন্দ দিয়ে মব সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত জসিম প্রকাশ গাজা ব্যবসায়ী জসিম অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে সাংবাদিক রুবেল এর মাথায় ও শরীরের বিভিন্নস্থানে কিলঘুষি মারতে শুরু করে। অপর অভিযুক্ত হোসেন সাংবাদিক রুবেলের হাতে থাকা স্মার্টফোনটি কেড়ে নিতে চায়। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের চেষ্টা করে।

সাংবাদিক রুবেল এর চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলেন এই যাত্রায় বেচে গেলি পরবর্তীতে তোকে পেলে প্রাণে মেরে ফেলবো, মোটরসাইকেল নিয়ে বাহির হলে ট্রাক দিয়ে চাঁপা দিয়ে এক্সিডেন্ট বলে চালিয়ে দিবো।

এই বিষয়ে খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফতাব হোসেন বলেন, “অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এদিকে, একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক নেতারা নিন্দা জানিয়ে বলেন “এই হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের অধিকারের ওপরও হামলা। যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা ক্রমাগতভাবে হামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সারাদেশে একযোগে আন্দোলন ও প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে।”
 

সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা: চ্যাটজিপিটি বনাম ডিপসিক?

র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।

আইন-অপরাধ

আরও পড়ুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে জেলার বিজয়নগর উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল বিজয়নগর থানাধীন সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় আনোয়ার (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ারের হেফাজত থেকে ১২ (বারো) কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বিধি মোতাবেক জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার একজন পেশাদার মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃত আসামির পরিচয় সম্পর্কে জানা যায় তিনি আনোয়ার (৩০), পিতা— মৃত সাঈদ মিয়া মাতা শাহানা বেগম। তিনি কাশিনগর (আলী চান মিয়ার বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা এবং বিজয়নগর থানার অন্তর্ভুক্ত।পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে।ডিবি পুলিশের এই অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জানুয়ারী ৯, ২০২৬ 0

টাঙ্গাইলে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার

ইয়াসিন গ্রেফতারএকাধিক মামলার আসামি, অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান

টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের টানা অভিযানে ২০ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ২০৫ পিস ইয়াবা

টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের টানা অভিযানে ২০ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ২০৫ পিস ইয়াবা ৯ জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ, মাদক ব্যবসায়ী, পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।টাঙ্গাইল জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকল থানা ও ইউনিট ইনচার্জদের সমন্বয়ে মাঠ পর্যায়ে জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযানকালে প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সর্বমোট ২০ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে ২০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ইয়াবাসহ ০২ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের এমন অভিযানে সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

জানুয়ারী ৯, ২০২৬ 0

মাদক কারবারি মাসুদ রানা ওরফে সাগর গ্রেফতার

সখিপুরে দেবরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার

কসবা থানা পুলিশের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার পলাতক ১

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ২৬

টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় মোট ২৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ২৬। ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ, মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।জেলা পুলিশের সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর অভিযান পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল। তাঁর নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযানে প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা মাদক ও অন্যান্য উদ্ধারজনিত এবং পরোয়ানামূলে এসব গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।মাদকদ্রব্য উদ্ধার মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়—৯০ (নব্বই) গ্রাম হেরোইন ৫৫ (পঞ্চান্ন) পিস ইয়াবা১০০ গ্রাম গাঁজা সহ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানায়, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।সম্মানিত পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয় যার ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয় টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।

জানুয়ারী ৮, ২০২৬ 0

বিজয়নগরে থানা পুলিশের অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

ঘাটাইলে স্যান্ডেলের সোলের ভেতর লুকানো ৮৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গ্রেফতার ১

টাঙ্গাইলে র‌্যাবের পৃথক তিন অভিযানে ৪ মাদক কারবারি ও ডাকাতির সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

0 মন্তব্য