লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ঢাকার বাইরে প্রথম জেলা সফর হিসেবে আগামী রবিবার (১১ জানুয়ারি) তিনি টাঙ্গাইল জেলায় আসছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে তারেক রহমান ঢাকার নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তিনি টাঙ্গাইলে পৌঁছাবেন। সেখানে পৌঁছে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের এটি প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি হওয়ায় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার আগমন উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে অভিবাদন জানাবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। দলীয় সূত্র আরও জানায়, মির্জাপুর এলাকা থেকেই তারেক রহমানকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি তার সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশনায়ক তারেক রহমান দেশে ফিরে প্রথম জেলা সফরে টাঙ্গাইলে আসছেন। এই সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ইনশাল্লাহ, সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হবে।” তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের আগমন ও দোয়া মাহফিল সফল করতে দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মজলুম জননেতা ভাসানীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের এই সফর দেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করবে এবং টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন পিটিসি,টাঙ্গাইল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি)-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় পিটিসি টাঙ্গাইলের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পিটিসি টাঙ্গাইলের কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) জনাব মোহাম্মদ আশফাকুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কমান্ড্যান্ট জনাব মোঃ মাহফুজুর রহমান (অতিরিক্ত ডিআইজি), জনাব ড.এএইচএম কামরুজ্জামান, বিপিএম, পিপিএমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পুলিশ সদস্য এবং সিভিল স্টাফগণ।দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে পিটিসি টাঙ্গাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বর্ণিল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়।এছাড়া ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা দিবসের স্মরণে প্রতীকী‘ব্ল্যাক-আউট’কর্মসূচি পালন করা হয়।একই সঙ্গে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের অব্যাহত উন্নয়ন কামনায় এবং মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় পিটিসি টাঙ্গাইল জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।বিভিন্ন আয়োজনে কর্মকর্তা প্রশিক্ষণার্থী ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দিবসটিকে করে তোলে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত।
টাঙ্গাইলে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়বো তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়বো—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক মহড়া ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্ত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।সচেতনতামূলক সভায় বক্তারা বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের বিকল্প নেই।সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা তরুণ সমাজকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক মহড়া প্রদর্শন করা হয় যেখানে অগ্নিকাণ্ড ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর রেলস্টেশন দিনে নীরবতা আর রাতে অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের অন্ধকারে স্টেশন চত্বরে মাদকসেবী ও জুয়াড়ুরা জমায়েত করে এবং পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে ভ্রাম্যমাণ পতিতাবৃত্তির ঘটনাও ঘটে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, যমুনা সার কারখানার সরবরাহ ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০০০ সালে ঢাকা–যমুনা সেতু–জামালপুর রেললাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১১ সালে ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের নির্মাণ শেষ হয়। এই লাইনে ৫২টি ব্রিজ-কালভার্ট ও চারটি রেলস্টেশন তৈরি করা হয়, যার একটি হেমনগর স্টেশন। উদ্বোধনের পর প্রথম আড়াই থেকে তিন বছর স্টেশনটি স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি বন্ধ। বর্তমানে কোনো স্থায়ী জনবল নেই। স্টেশন মাস্টার, টিকিট ক্লার্ক ও নিরাপত্তাকর্মী অনুপস্থিত থাকায় অফিস কক্ষ, আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট বা চুরি হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দিনের বেলায় স্টেশন ফাঁকা থাকলেও রাতের অন্ধকারে এটি অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়। স্টেশনের আবাসিক ভবন ও চত্বরে আগাছা, ঝোপঝাড় এবং ময়লা জমে আছে। পর্যাপ্ত আলো না থাকার কারণে রাতে পরিবেশ ভুতুড়ে মনে হয়। হেমনগর ও আশপাশের গ্রামবাসী দাবি করছেন, স্টেশনটি পুনরায় চালু হলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সুবিধা হবে। একই সঙ্গে এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমেও তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।