আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বনগাও ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত প্রাণবন্ত যুব সমাবেশে অংশ নেন ঢাকা-১৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম।
সমাবেশে তিনি বলেন, “যুব সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয় উন্নয়নে আপনারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিন। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলেই আমরা সুষ্ঠু ও উন্নত নির্বাচনের দিকে এগোতে পারব।”
উক্ত অনুষ্ঠানে যুবসমাজের পক্ষ থেকে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রার্থী নিজেও সরাসরি যুবকদের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ ও আশা সম্পর্কে জানতে চান।
সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবকদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। এতে নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি, যুব নেতৃত্বের দায়িত্ব এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
বাংলাদেশের বৃহৎ এনজিও সংস্থা "আশা"এর উদ্যোগে হয়ে গেল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন যেখানে ফ্রিতে চিকিৎসা দেওয়া হয় এলাকার বিভিন্ন পেশাজীবী এবং কর্মজীবী মানুষের মধ্যে। ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার সোনামুই গ্রামে সকাল থেকে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন করা হয় আশায় এনজিও হেমনগর শাখার উদ্যোগে এটি বাস্তবায়িত করা হয়। উক্ত ক্যাম্পেইনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী এবং মেডিকেল অফিসারসহ অন্যান্য সেবিকারা। আশা এনজিও কর্তৃক ক্যাম্পেইনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন "আশা" হেমনগর ব্রাঞ্চের পক্ষথেকে আশা এনজিওর এই ক্যাম্পেইনে গ্রামের সকল পেশাজীবীর মানুষেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্যাম্পেইনটিতে অংশগ্রহণ করেন এবং তারই মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সঠিক ভাবে নিরূপণ করতে সহযোগিতা করেন। আশা এনজিওর মাধ্যমে ক্যাম্পেইন করে মানুষের জন্য সময় উপযোগী এবং প্রয়োজনীয় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে যেটি গ্রামের মানুষের মধ্যে সচেতনতা এবং স্বাস্থ্য সঠিকভাবে পর্যালোচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উদ্যোগে এলাকাবাসী অত্যন্ত প্রাণবন্ত ভাবে উৎফুল্ল প্রকাশ করেছে। উক্ত ক্যাম্পেইনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ। এবং তাদের ক্যাম্পেইন ডাক্তার সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে। আশা এনজিও আগামী দিনগুলোর জন্য এইরকম ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ধাপ হিসাবে গণ্য হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদল সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লা পাড়া ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে সদর উপজেলার স্থানীয় বেতগঞ্জ বাজাএই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আবুল কাশেম দুলু সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এডভোকেট দীপংঙ্কর বনিক সুজিতের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক মনাজ্জির হোসেন। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সুহেল মিয়া, শাহজাহান মিয়া, এডভোকেট আব্দুল আহাদ জুয়েল, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মুজাব্বির হোসেন অপু, ইমরান হোসেন শ্যামল, বিপ্লব খান, মো:শামিম আহমদ, সেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক সাদিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আতাউর চৌধুরী শাহীন প্রমুখ। এ ছাড়া ও উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার আলম, লিয়াকত আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আতহাব চৌধুরী হাসান, শাখাওয়াত হোসেন পলাশ, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমন আহমেদ, ফয়সাল আহমেদ, মিছবাহ হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মহিম উদ্দিন, জেলা যুবদলের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মঈনুদ্দিন আহমেদ রিপন,সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আব্দুল কাইয়ুম সৌরভ, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম, ময়না মিয়া,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রুজেল আহমেদ, আবুল হাসনাত, জেলা ছাত্রদল নেতা ইয়াহিয়া হাসান প্রমুখ। এ সময় সদর উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন,বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের দুঃসময়ে যারা রাজপথে নির্যাতিত ও নিপিিতড় হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে হবে। আওয়ামী লীগ ঘেঁষা বা ফ্যাসিস্টদের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা যাবে না বলেও তারা দাবি জানান। দুর্দিনে যারা আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন তাদেরকে কমিটিতে মুল্যায়ন করা হবে। তারা বলেন,সুনামগঞ্জে জাতীয়তাবাদি শক্তির প্রাণপূরুষ এবং বিগত স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে জেল জুলুম,হুলিয়া মাথায় নিয়ে এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা কেবল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তূমান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪(সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে আমরা রাজপথে ছিলাম এবং আগামী নির্বাচনে এই আসনে জনপ্রিয় ধানের শীষের প্রার্থী একমাত্র নুরুল ইসলাম নুরুলকে বিএনপির প্রার্থী করতে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নিকট তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা জোর দাবী জানান।
(২২ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার পার্ক বাজার সংলগ্ন গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। তিনি তার বিশেষ মনিটরিং টিম নিয়ে দোকানে থাকা দইয়ের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকা, বেশ কিছু পরিমাণ পচে যাওয়া দই দোকানে সংরক্ষণ করা এবং মিষ্টান্ন তৈরীর বড় কড়াইয়ে টিকটিকির মল পাওয়ার দায়ে টাঙ্গাইলের গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে, আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবেন। অভিযানে পৌর স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী স্বপ্নন কুমার ঘোষ জানান, সাধারণত তিনি খুচরা ভাবে দধি বিক্রি করে থাকেন। ফলে তৈরিকৃত দধিতে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে এখন থেকে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত পচে যাওয়া দধিগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল। এছাড়া যে মিষ্টি তৈরীর বড় কড়াইয়ে টিকটিকির মল হাওয়া গেছে, সেটি বর্তমানে মিষ্টি তৈরীর কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে না। আমরা সবসময় চেষ্টাকরি গ্রাহককে সর্বোচ্চ মানের দধি ও মিষ্টান্ন সরবরাহ করার।
“মিস এন্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন ওয়ান”–এ প্রথম রানার্সআপ আদ্রিজা আফরিন সিনথিয়া দেশের আয়োজিত বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতা “মিস এন্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন ওয়ান”-এ প্রথম রানার্সআপের মুকুট জয় করলেন তরুণ ফ্যাশন মডেল আদ্রিজা আফরিন সিনথিয়া। ফ্যাশন জগতে ইতিমধ্যেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করে। শুধু মডেলিং নয়, সিনথিয়া অভিনয়ের ক্ষেত্রেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন বুকে লালন করছেন। ইতোমধ্যে তিনি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সাদেক সিদ্দিকীর পরিচালনায় “দেনা পাওনা” সিনেমায় অভিনয় করছেন। রানার্সআপের মুকুট মাথায় পরার পর আবেগে আপ্লুত সিনথিয়া জানান—ঢালিউড কুইন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস আমাকে মুকুট পড়িয়ে দিয়েছেন এই আনন্দ আমি বুঝাতে পারবো না। “এই সাফল্য আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। তবে আমি শুধু এখানেই থেমে থাকতে চাই না। আমি চাই নিজেকে মিডিয়া অঙ্গনে আরও দূর, বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে। দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া চাই।” আজকের এই অর্জন আমি আবার মা বাবা পরিবার এবং আমাকে যারা সাপোর্ট করেছেন তাদেরকে উৎসর্গ করতে চাই। বহু বাধা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন সিনথিয়া। তাঁর অদম্য চেষ্টা, আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নই তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাশন থেকে চলচ্চিত্র—সব জায়গাতেই আলো ছড়ানোর ইচ্ছে তার। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে সিনথিয়া এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর কথায়— “এই মুকুট আমার স্বপ্নযাত্রার প্রথম ধাপ মাত্র। সামনে আরও অনেক পথ, আরও অনেক লড়াই।”
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাবাকে হত্যা মামলায় ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র ও জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওয়াহেদুজ্জামান সখীপুর উপজেলার দড়িপাড়া পশ্চিম পাড়ার নিহত আব্দুস সামাদের ছেলে। আদালত সূত্র জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজের বসতবাড়িতে ওয়াহেদুজ্জামান রামদা দিয়ে কুপিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তার বাবা আব্দুস সামাদকে হত্যা করেন। হত্যার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ সখীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপনের পর বিচারের সব ধাপ শেষে আজ (রোববার) এ রায় ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের ভিত্তিতে এ রায় দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে হত্যার বিচারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাজিদ পিয়াল: টাঙ্গাইলে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান: ভেজাল ওষুধ বিক্রির দায়ে লাজফার্মাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা। রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ টাঙ্গাইল জেলা সদরের আকুরটাকুর পাড়া এলাকায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ রবিবার দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ মজুত ও বিক্রির অভিযোগে লাজফার্মাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বেশ কিছু ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও সেগুলো ফার্মেসিতে মজুত রাখা এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি অনুমোদনবিহীন ওষুধ রাখার অভিযোগও সত্য প্রমাণিত হয়। এসব অপরাধ ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা। অভিযান চলাকালে ফার্মেসির দায়িত্বশীলদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি মেনে চলার পরামর্শও প্রদান করা হয়। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বাজারে ভেজাল ওষুধসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন তারা। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ভেজাল ও অনিয়ম প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চমচম, টমটম ও শাড়ি’—এই তিনেই টাঙ্গাইলের পরিচয়। সময়ের বিবর্তনে টমটম প্রায় হারিয়ে গেলেও দেশ-বিদেশে এখনও সমান জনপ্রিয় টাঙ্গাইলের শাড়ি আর পোড়াবাড়ীর চমচম। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, দেশি গাভির দুধের স্বল্পতা, উপকরণের সংকট ও নকল চমচমের ছড়াছড়ির কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বীকৃতি পাওয়া পোড়াবাড়ীর চমচমের সুনাম আজ অনেক জায়গায় ব্যবহার করা হলেও বেশিরভাগই আসল নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পোড়াবাড়ীর চমচমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় দুই শতকের ইতিহাস। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ব্রিটিশ আমলে আসাম থেকে আগত দশরথ গৌড় প্রথম ধলেশ্বরী নদীর পানি ও স্থানীয় গাভির দুধ দিয়ে চমচম তৈরি শুরু করেন। পরে তিনি মিষ্টির দোকান গড়ে তোলেন। আরেক মতে, বাঙালি চন্দ্র গৌড় নামের একজন ছিলেন এ মিষ্টির প্রকৃত উদ্যোক্তা। তার বংশধরেরাই এখনও পোড়াবাড়ীর প্রাচীন চমচমের স্বাদ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিছু ইতিহাসবিদ আবার বলেন, ১৬০৮ সালে ধলেশ্বরীর তীরে গড়ে ওঠা পোড়াবাড়ী নদীবন্দরের জমজমাট বাজারেই প্রথম জনপ্রিয় হয় চমচম। তখন বড় বড় সওদাগরি নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমার ভিড়ত এই ঘাটে। সেখানকার ব্যস্ত বাজারে যুক্ত হয় চমচমের সুমিষ্ট খ্যাতি। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে অর্ধশতাধিক কারখানা। পোড়াবাড়ীর চমচম লম্বাটে আকৃতির। হালকা আঁচে পোড় খাওয়া বলে এর রং হয় গাঢ় বাদামি—কিছুটা পোড়া ইটের মতো। বাইরে শক্ত হলেও ভেতরটা নরম, রসে ভরা এবং লালচে আভাযুক্ত। প্রতিটি অংশে থাকে ঘন রস, এলাচের ঘ্রাণ আর ছানার টাটকা স্বাদ। চমচম তৈরির উপাদানও একেবারেই সহজ—দুধ, চিনি, পানি, সামান্য ময়দা ও এলাচ দানা। স্বাদ, গন্ধ ও রঙের এই ব্যতিক্রমী সমন্বয়ের কারণেই পোড়াবাড়ীর চমচমকে বলা হয় ‘মিষ্টির রাজা’। বিয়ে-শাদী, উৎসব, পূজা, জন্মদিন, পরীক্ষার ফল প্রকাশ—পোড়াবাড়ীর চমচম প্রায় সব উপলক্ষেই প্রথম পছন্দ। শহরের পাঁচআনি বাজারে প্রায় অর্ধশত দোকানে প্রতিদিন তৈরি হয় হাজার হাজার চমচম। অনেক দোকানই নিজেদের তৈরি চমচম বিক্রি করে থাকে। ৭৫ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা এক বাসিন্দা স্মৃতিচারণ করে বলেন— > “আমরা ছোটবেলায় দেখেছি, মাত্র ১০ পয়সায় ১ সের দুধ, আর সে দুধ থেকে তৈরি চমচম ২ টাকা সের দামে বিক্রি হতো। এখন দুধ ৮০–১০০ টাকা কেজি, আর চমচম ৩২০–৩৫০ টাকা।”তিনি আরও বলেন, আগে গরুকে খাওয়ানো হতো দুর্বা ঘাস। এখন কৃত্রিম ফিড ও কীটনাশকে উৎপাদিত ঘাস খাওয়ানো হচ্ছে, ফলে আগের মতো খাঁটি দুধ পাওয়া যায় না। আগে ১ মন দুধ থেকে ৭–৮ কেজি ছানা পাওয়া যেত, এখন সর্বোচ্চ ৬ কেজি। স্থানীয়দের দাবি—সরকারি নজরদারি ও সুরক্ষা দরকার ব্যবসায়ী, বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে—দুধ উৎপাদনে মানোন্নয়ন,জিআই মার্ক কঠোরভাবে প্রয়োগ,চমচমের বিরুদ্ধে অভিযান কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা।এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে টাঙ্গাইলের এই মিষ্টি শিল্প আবারও পুরোনো জৌলুস ফিরে পাবে।