Search

Search : বাজেট

কওমী অঙ্গন
উচ্চশিক্ষায় আলেমদের জন্য ‘কোটি টাকার’ স্কলারশিপ ঘোষণা সরকারের

দেশের কওমি ও আলিয়া মাদরাসা সংশ্লিষ্ট মেধাবী আলেমদের উচ্চশিক্ষায় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে, যার আওতায় নির্বাচিত আলেমরা বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাবেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা (বক্তব্যের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আলেমদের জ্ঞানগত মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতার বিকাশে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। বক্তব্যে জানানো হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কলারশিপের আওতায় আলেম ও ইমামরা মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরবের উম্মুল কুরা ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ এবং তুরস্কের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে ইসলামিক স্টাডিজ, কোরআনিক সায়েন্স, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (ইন্টার-রিলিজিয়ন স্টাডিজ) এবং ইসলামিক ফিকহ-এর মতো বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য তাদের বিদেশে পাঠানো হবে। এই স্কলারশিপের জন্য একাডেমিক এক্সিলেন্স বা মেধার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। যাদের শিক্ষাজীবনে চারটি প্রথম শ্রেণি বা সমমানের ফলাফল রয়েছে, তারা অগ্রাধিকার পাবেন। উপদেষ্টা বলেন, "প্রয়োজনে একজন ছাত্রের পেছনে এক কোটি টাকা খরচ করতে হলেও আমরা সেই বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। আমরা চাই আমাদের আলেমরা বিশ্বমানের ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখুক।" স্কলারশিপের পাশাপাশি কওমি ধারার আলেমদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা জানান উপদেষ্টা। তিনি জানান: মাস্টার্স সমমান: শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে কওমি সনদকে (আল হাইয়াতুল উলইয়া) মাস্টার্সের সমমান দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগ: সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশে রিলেজিয়াস ইন্সপেক্টর ও ইমাম পদে কওমি আলেমদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মডেল মসজিদ ও দারুল আরকাম: মডেল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন বৃদ্ধি এবং দারুল আরকাম প্রকল্পের স্থায়ীকরণের জন্য কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, শিক্ষক বা কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষার মতো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া (লিখিত ও ভাইভা) অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা তদবিরের সুযোগ রাখা হয়নি। উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, "আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নিতে চাই। তবে যতক্ষণ দায়িত্বে আছি, আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাব।"

মুক্তধ্বনি ডেক্স জানুয়ারী ১, ২০২৬ 0
সারা দেশ
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ,সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫,টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আতাউর রহমান আজাদ সভাপতি এবং কাজী জাকেরুল মওলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শান্তিপূর্ণসুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ নির্বাচনে প্রেসক্লাবের ভোটার সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে। নবনির্বাচিত সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন টাঙ্গাইলের সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, পেশাগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আপসহীনভাবে কাজ করব।সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা বলেন সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদার এবং নবীন-প্রবীণসাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রেসক্লাব গড়ে তুলতে আমরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করব। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশিষ্টজন এবং সাংবাদিক মহল নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট ও আগাম বাজেট পেশ করেন প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম। প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে উভয় রিপোর্টের ওপরে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, আতাউর রহমান আজাদ, সহসভাপতি নাসির উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক বিমান বিহারী দাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামনাশীষ শেখর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী তাজউদ্দিন রিপন ও ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। দ্বিতীয় পর্বে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম রিপন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন। নির্বাচিতরা হলেন- সভাপতি বাংলাভিশন ও দৈনিক ইনকিলাবের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আতাউর রহমান আজাদ, সাপ্তাহিক প্রযুক্তি ও হক কথা প্রতিদিনের সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও এনটিএন বাংলার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি সহসভাপতি মো. নাসির উদ্দিন ও কাজী তাজউদ্দিন রিপন (একুশে টেলিভিশন), যুগ্ম সম্পাদক শামিম আল মামুন (যমুনা টিভি) ও মালেক আদনান (নয়া দিগন্ত), কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রহমান মিয়া (ইনডিপেনডেন্ট টিভি), সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক হেমায়েত হোসেন হিমু (সময় তরঙ্গ), ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তাক হোসেন (সম্পাদক, টাঙ্গাইল প্রতিদিন), দফতর ও পাঠাগার সম্পাদক পারভেজ হাসান (বণিক বার্তা)। কার্যকরী সদস্যরা হলেন- জাফর আহমেদ (দৈনিক যুগান্তর ও সম্পাদক, দৈনিক মজলুমের কণ্ঠ) আব্দুর রহিম (সমকাল), এসএম আওয়াল হোসেন (দৈনিক বর্তমান), সোহেল তালুকদার (ডিবিসি টিভি) এবং সুমন খান বাবু (দীপ্ত টিভি)।তারা আশা প্রকাশ করেন, এই নেতৃত্ব টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবকে আরও সক্রিয়, সংগঠিত ও সময়োপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে।টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব জেলার সাংবাদিকদের একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। নবনির্বাচিত কমিটির হাত ধরে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৌশিক সাজ্জিদ পিয়াল ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ 0
টাঙ্গাইলের নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি: কমেছে পেঁয়াজ-আলু-সবজির দাম, বেড়েছে মুরগি
সারা দেশ
টাঙ্গাইলের নিত্যপণ্য বাজার: অধিকাংশ পণ্যে স্থিতিশীলতা, মুরগি চড়া

এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের বাজারে আপাতত কোনো অস্থিরতা নেই। মিনিকেট, নাজিরশাইল, ব্রি ও পাইজাম চাল আগের সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে মিনিকেট চালের কেজি ৭০-৭৫ টাকা, নাজিরশাইল ৭৫-৮০ টাকা এবং মোটা চাল ৫০-৫৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। চাল ব্যবসায়ীরা জানান, আমনের ধান ওঠা শুরু হওয়ায় সামনে চালের বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। ডালের বাজারেও স্বস্তি বজায় রয়েছে। দেশি মসুর ও মুগ ডালের পাশাপাশি আমদানিকৃত ডালের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি স্বাভাবিক থাকলে সামনে ডালের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। একইভাবে আটা ও ময়দার দামেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৫-৫০ টাকা এবং ময়দা ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির বাজারেও স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। খোলা চিনি কেজি প্রতি ১৩৫-১৪০ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম কিছুদিন আগের তুলনায় কম থাকলেও বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিডজন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। ভোক্তারা বলছেন, শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় সবজির সরবরাহ বাড়ছে, ফলে বাজারে দর কমছে। এতে প্রতিদিনের বাজার খরচ কিছুটা কমেছে। তবে মুরগি ও ভোজ্যতেলের দামে পুরোপুরি স্বস্তি না ফেরায় এখনও বাড়তি চাপ রয়ে গেছে সংসারের বাজেটে। সচেতন মহলের মতে, কৃষিপণ্য ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে পারলে সামনে শীতজুড়ে বাজার আরও সহনীয় থাকবে। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হবে।

নাদিম তালুকদার ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ 0
সারা দেশ
অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে মওলানা ভাসানীর ট্রাক্টর

চীন থেকে মাও জেদংয়ের উপহার পাওয়া ট্রাক্টর, টাইপরাইটারসহ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে টাঙ্গাইলের সন্তোষে। অনেক সরঞ্জাম আবার নষ্টও হয়ে যাচ্ছে। এই সরঞ্জামগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ, পরিবারের সদস্য, ভক্ত ও অনুসারীরা। সরেজমিন দেখা যায়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পশ্চিম পাশে একটি টিনশেডে রয়েছে ট্রাক্টর ও টাইপরাইটারটি। টিনশেডের চারপাশে স্বচ্ছ কাচ। ট্রাক্টর ও টাইপরাইটার মেশিনটিতে জমেছে ধুলার আস্তরণ। মওলানা ভাসানী ও চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের নেতা মাও জেদংয়ের স্মৃতিবিজড়িত এই ট্রাক্টরের সামনের একটি চাকা নেই। এটি উচ্চতায় ৬ ফুট, লম্বায় ১০ ফুট। জানা যায়, মওলানা ভাসানী ১৯৬৩ সালে প্রথম এবং ১৯৬৪ সালে দ্বিতীয়বার চীন সফর করেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ‘মাও সে-তুঙ এর দেশে’ নামে একটি বইও লেখেন। ১৯৬৬ সালে মওলানা ভাসানী তৃতীয় ও শেষবার চীন সফর করেন। সে সময় চীনের নেতা মাও জেদং তাকে একটি ট্রাক্টর উপহার দেন। ১৯৬৭ সালে চীন থেকে ট্রাক্টরটি এ দেশে পাঠানো হয়। সমবায় পদ্ধতির কৃষিকাজে ট্রাক্টরটির সাহায্যে একসঙ্গে ৫০ একর জমি চাষ করা যেত। সে সময় মওলানা ভাসানীর কৃষিকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড চলমান ছিল জয়পুরহাটের পাঁচবিবির মহীপুর এলাকায়। সেখানে ট্রাক্টরটি কিছুদিন কাজে লাগানো হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে ট্রাক্টরটি টাঙ্গাইলের সন্তোষে নিয়ে আসা হয়। পরে মওলানা ভাসানী ট্রাক্টরটি বসিয়ে না রেখে কাজ করার জন্য বিএডিসিকে দিয়ে দেন। বিএডিসি সেটি জামালপুরে কিছুদিন কাজে লাগায়। জামালপুরে ট্রাক্টরটি একপর্যায়ে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকার পর বিক্রির কথা ওঠে। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড ট্রাক্টরটি ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনে। বর্তমানে ট্রাক্টরটি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ শিক্ষার্থী আক্তারুজ্জামান সাজু বলেন, মওলানা ভাসানী দলমত নির্বিশেষে আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ; তিনি আছেন আদর্শ, স্মৃতি, ইতিহাস ও কবির কবিতায়। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। এই বঙ্গীয় ‘ব’-দ্বীপে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েও যে বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা যায় মওলানা ভাসানী তার জ্বলন্ত উদাহরণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তার রেখে যাওয়া স্মৃতিচিহ্ন ও প্রতিষ্ঠানগুলো আজ ধ্বংসের পথে। মজলুম জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর ‘হক কথা’ পত্রিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘শান্তি প্রেস’র ব্যবহার্য সরঞ্জামগুলো আজ অবহেলায় অযত্নে পড়ে আছে; এই স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কারও দায় নেই। মওলানা ভাসানী জাদুঘরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে তার স্মৃতি সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী সমাপ্তি খান বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন কৃষক ও মেহনতি মানুষের নেতা। তার সংগ্রামী জীবন, চীন থেকে উপহার পাওয়া ট্রাক্টরসহ নানা স্মৃতি আজ আমাদের ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এসব জিনিসপত্র অনেক জায়গায় অযত্ন ও অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভাসানীর ব্যবহৃত জিনিস, যেমন-ট্রাক্টর, পোশাক, দলিল, বই ইত্যাদি সংরক্ষণের জন্য একটি স্থায়ী ‘ভাসানী জাদুঘর’ করা উচিত। সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাজেট ও তদারকি টিম গঠন করা দরকার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জীবন ও আদর্শ পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তার ভাষণ, চিঠিপত্র ও আলোকচিত্র ডিজিটাল আকারে সংরক্ষণ করে অনলাইনে উন্মুক্ত করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সহজে জানতে পারবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করতে হবে। মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক চেতনা তরুণদের মাঝে উজ্জীবিত করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নাদিম তালুকদার নভেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা: চ্যাটজিপিটি বনাম ডিপসিক?

র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।

শীর্ষ সপ্তাহ

রাজনীতি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে লতিফ সিদ্দিকী–হালিম ইঞ্জিনিয়ার যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন? বিএনপির ভেতরে তীব্র অস্বস্তি

জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0

ভোট জরিপ

নির্বাচনের দিন গণভোট আপনি সমর্থন করেন ?