২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল টাঙ্গাইল-জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাব।
‘সত্য প্রকাশে অবিচল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত এই নতুন সাংবাদিক সংগঠন টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে সত্যনিষ্ঠ, পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কাজ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মশিউর রহমান সজিব-এর দিকনির্দেশনায় সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম আব্দুর রাজ্জাক।
নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংবাদিক সমাজের কল্যাণ ও সংগঠনের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৯৮ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত পর্যটক, তীর্থযাত্রী, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও চলছে উদ্ধার অভিযান। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহ থেকে বরফ ও পাথরের ধস নেমে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার পর হঠাৎ পানির ঢল সৃষ্টি হতে পারে।
শুক্রবার সকালে সংগঠনটির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পার্ক থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে বাতেন খাঁ মোড়, শান্তি মোড় ও শিবতলা মোড় প্রদক্ষিণ করে রেহাইচর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান ছিল— “মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ।” র্যালি শেষে রেহাইচর মোড়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, দেশের ছাত্রসমাজকে নৈতিকতা ও আদর্শিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে ইসলামী ছাত্রশিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের জেলা সাবেক সভাপতি ও পৌর নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিক এনায়েতুল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ গোলাম রাব্বানী, ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ আল গালিবসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ছাত্রশিবিরের কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোজ ও দোয়া মাহফিল। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করা এই প্রবীণ রাষ্ট্রনায়কের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে দল-মত নির্বিশেষে আওনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে প্রয়াত নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়ায় শরিক হন। পুরো এলাকাজুড়ে ছিল নীরবতা ও শোকের আবহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সদস্য লাবিবউদ্দিন তালুকদার লিটন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক আপসহীন নেত্রী। তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রাম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং ৪ নম্বর আওনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সুরুজ মিয়া। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের একজন সাহসী নারী রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর নেতৃত্ব ও অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। গণভোজের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা প্রয়াত নেত্রীর রাজনৈতিক জীবন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় আলেমদের মাধ্যমে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের জন্য ধৈর্য কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রার্থনা করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সাধারণ জনগণের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে প্রয়াত নেত্রীর জন্য দোয়া করেন। সব মিলিয়ে আওনা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এই গণভোজ ও দোয়া মাহফিল ছিল এক শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনক স্মরণানুষ্ঠান।