টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর‑বাসাইল) আসনে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান–এর সঙ্গে বিরোধের ফলে সখীপুর উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন। অমর সংবাদ অনুসারে, একযোগে ১১ জন উপজেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা পদত্যাগ করেছেন। আরও আশঙ্কা করা হচ্ছে যে দুইশোরও বেশি পদাধিকাৰী নেতা পদত্যাগ করবেন। পদত্যাগকারীরা অভিযোগ করেছেন যে আযম খান তার ভোট শক্তি বাড়ানোর আশায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন এবং তাদের গুরুত্ব দিচ্ছেন দলীয় কার্যক্রমে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের অবমূল্যায়ন, নেতাকর্মীদের অবমাননা ইত্যাদি অভিযোগ উঠেছে। পদত্যাগকারীদের বক্তব্যে, আযম খানের আচরণ দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি এবং তাদের অবস্থা “বহু ত্যাগী নেতার অবমূল্যায়ন”।একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে আযম খান allegedly একটি মুক্তিযোদ্ধাকে গালাগাল ও হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আযম খান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলছেন অডিও “এডিট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে” ভাইরাল করা হয়েছে।এর আগে আযম খান বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছিল, যা কিছু নেতারা ষড়যন্ত্র বলছেন। এছাড়া, টাঙ্গাইলে বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই পদত্যাগের ঘটনা শুধু কিছু সাংগঠনিক অসন্তুষ্টি নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক বিভাজনকে ইঙ্গিত দিচ্ছে — বিশেষ করে স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় নেতা (আযম খান)–এর মধ্যে।যেহেতু পদত্যাগকারীরা “আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন”–এর অভিযোগ তুলছেন, এটি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে সম্ভাব্য বিরোধ সৃষ্টি করতে পারেঅডিও ফাঁস এবং ব্যক্তিগত বিরোধ আরও একটি মাত্রা যোগ করছে — এটি শুধু রাজনৈতিক না, ব্যক্তির প্রতি আস্থাহীনতার ইস্যু তোলে।দুইশোর পর্যন্ত নেতার পদত্যাগের সম্ভাবনা যদি সত্য হয়, তাহলে টাঙ্গাইল-৮ এলাকায় বিএনপির একক তার শক্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে।এই সংকট যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে বিএনপির আসন‑প্রার্থিতা দুর্বল হতে পারে কারণ দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য কমে যাবে।আযম খান প্রশাসন বা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া পেতে পারেন — হয় ব্যাখ্যা দিতে হবে, হয় পদত্যাগ বা মনোনয়ন বাতিলের দাবি উঠতে পারে।সাধারণ দলের কর্মীদের মধ্যে আস্থা ব্যাহত হলে, নির্বাচন‑প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।এ পরিস্থিতি মিডিয়া ও ভোটারদের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন ইমেজ তৈরি করতে পারে, বিশেষত যদি পদত্যাগ ও অভিযোগগুলো বড় আকার নিতে থাকে।সখিপুরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এড. আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে আ.লীগ পূর্ণবাসনের অভিযোগ এনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাষ্টার, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আঃ মান্নান, গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ এবং বহুরিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লতিফ মিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ২৭০ জন নেতাকর্মী দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াসের নেতৃত্বে পুলিশের গাড়িতে মারজান উদ্দিন (২৯) নামে এক যুবক বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে থানা প্রাঙ্গণে মব সৃষ্টির চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মারধরকারীরা উপজেলা বিএনপির অঙ্গও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মি এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াসের অনুসারী। রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, হেলাল উদ্দিন, ইমতিয়াজ, ফরিদ উদ্দিন, ওমর ফারুক, কোহিনুর বেগম, উম্মে কুলসুম, নাজিম উদ্দিন, মারজান উদ্দিন, সাইফুজ্জামান, শাহাব উদ্দিন ও মহিমা বেগম। এদের মধ্যে এক নারীসহ দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মারজান উদ্দিন ও তার বড় ভাই উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিনকে থানায় সোপর্দ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের লামছড়ি গ্রামের কামাল উদ্দিনের মেয়ে নিগার সুলতানার পারিবারিক ভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়েতে নিজ গ্রামের হুজুরকে দাওয়াত না দিয়ে অন্য গ্রামের হুজুর দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়। এ নিয়ে সমাজের মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার হেলাল মাঝির সাথে কামালের ছোট ভাই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিনের বাকবিতন্ডা হয়। রোববার সকালে স্থানীয় রামচরণ বাজার থেকে শাহাব উদ্দিন বাড়ি ফেরার পথে নলচিরা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের রবিনের দোকানের সামনে হেলাল মাঝির নেতৃত্বে কিছু লোক তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে শাহাব উদ্দিনের ভাই মারজান ও নাজিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তাদের বেধড়ক মারধর করে তিনজনকে কুপিয়ে আহত করে। পরে তারা বাড়ি চলে গেলে লামছড়ি গ্রামের তাদের দুটি বসতঘরে হামলা ভাংচুর করে নগদ টাকাও স্বর্ণালংকার লুটে নেয় এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ শাহাব উদ্দিন ও মারজানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াসকে তার অনুসারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ডেকে নেয়। সেখানে তার নেতৃত্বে পুলিশের সামনে শাহাব উদ্দিন ও তার ভাই মারজানের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মিরা। পরে হাসপাতাল থেকে থানায় নেওয়ার পথে হাসপাতালের ফটকের সামনে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াসের নেতৃত্বে পুলিশের গাড়িতে যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মিরা হামলা চালায়। পুলিশের গাড়িতেই পুলিশকে হেনেস্তা করে মারজানকে বেধড়ক মারধর করে তার শরীর থেকে সব ব্যান্ডেজ খুলে নেয়। এরপর তারা থানার সামনে গিয়েও তার ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে ব্যাপক হট্রগোল সৃষ্টি করে। হেলাল মাঝি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, শাহাব উদ্দিনের ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে আমাদের মসজিদের হুজুরকে দাওয়াত না দিয়ে অন্য হুজুরকে দাওয়াত দেওয়া হয়। আমি মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে শাহাব উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হুমকি দেন। রোববার সকালে আমি স্থানীয় রামচরণ বাজারে উঠলে তিনি আমাকে দেখে হামলা চালান। ওই সময় তার আরো ৪ভাই এসে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে আহত করে। এতে আমাদের কয়েকজন গুরুত্বর আহত হয়। এদের মধ্যে কোহিনুর ও ফরিদ উদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। থানা প্রাঙ্গণে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুলকে যুবদল নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনা যায়, আপনার মত মানুষ যদি....। তাকে আমরা হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসছি, তাকে মারার দরকার আছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। একপর্যায়ে এসআই মিনহাজুল মাটিতে বসে গিয়ে প্রশ্ন করে আমার সামনে আসামিকে মারধর করে কিভাবে। ওই ভিডিওতে ইলিয়াসকে থানা প্রাঙ্গণে দলীয় নেতাকর্মিদের নিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়। হাতিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবর আজম বলেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াসের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। এতে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের অনুসারী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তবে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস বলেন, আমার উপস্থিতিতে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। উল্টো আমরা আমাদের দলের কয়েকজন নেতা লাঠি-সোটা দিয়ে আমাদের দলের লোকজনকে পিটিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছি। প্রথমে সমস্যা ছিল বিয়ে নিয়ে। পরে এটা এনসিপি বনাম বিএনপি হয়ে গেছে। শাহাব উদ্দিন কৃষি অফিসের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি ও মূলত ছাত্রলীগের একজন লাঠিয়াল ছিল। তার লোকজনের হামলায় প্রতিপক্ষের ৭জন আহত হয়েছে। আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মিকে নির্দেশনা দিয়েছি কারো ওপরে যেন কোন আঘাত না হয়। যা হয়েছে, এগুলো দলের বদনাম আসবে, তোমরা যদি দলবদ্ধ হয়ে আঘাত করতে যাও। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মন্জুরুল আজিম সুমন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে। জানতে চাইলে হাতিয়ার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুল আবেদীন বলেন, কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে অবহিত করলে আমি আহত অবস্থায় অবরুদ্ধ দুই ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এর মধ্যে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তাকে চিকিৎসা দিয়ে থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়। তার ভাই মারজানকে চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে আসার পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে পুলিশের গাড়িতেই তার সকল ব্যান্ডেজ খুলে নিয়ে তাকে পিটানো হয়। ওই সময় হাসপাতালের ফটকের সামনে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের সবাই ছিল। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, দুই গ্রুপই কোপাকুপি করছে। একপর্যায়ে জনগণ কৃষি কর্মকর্তার বাড়ি ঘর ভাংচুর করছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পুলিশ হেফাজতে আছে। দুই পক্ষই মামলা করবে। এটা পলিটিক্যাল কোন বিষয়না। সাহাব উদ্দিন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর দোসর ছিল, ফ্যাস্টিট ছিল। গত ৮-১০ বছর সে এখানে চাকরি করতেছে। সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার শর্তে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে এসে দল ভারি করছে। আগে থেকেই জনগণের তার ওপর একটা রাগ ছিল। ওসি আরও বলেন, পরবর্তীতে অন্য গ্রুপ থানা প্রাঙ্গণে এসে বলে ফ্যাস্টিসকে আমাদের হাতে তুলে দেন, আমরা তাকে নিয়ে যাব। এ নিয়ে থানার প্রাঙ্গণে উচ্চবাচ্য হয়েছে।
সুনামগঞ্জে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৮তম শুভ জন্মোৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে দুই দিনব্যাপি অনুষ্ঠান চলছে। শহরের সরকারি জুবিলী স্কুল মাঠে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমবেত বিনতি প্রার্থনা, নাম জপ ও সদ্গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপি উৎসব শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে ১৩৮ তম জন্ম-মহোৎসব উদযাপন কমিটি ও সৎসঙ্গ বিহার সুনামগঞ্জের উদ্যোগে শহরে সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়(বালুর) মাঠ থেকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূনরায় বালুর মাঠে গিয়ে ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান,কুইজ প্রতিযোগিতা, কর্মী সম্মেলন, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, নীলা কীর্ত্তন,ধর্ম সভা ও উপস্থিত ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১৩৮ তম জন্ম-মহোৎসব উদযাপন কমিটি ও সৎসঙ্গ বিহার সুনামগঞ্জের সভাপতি শ্রী রঞ্জিত কুমার তালুকদার,সাধারন সম্পাদক শ্রী দিবাকর দাসসহ অনেকেই। সবারই প্রত্যাশা বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সুনামগঞ্জ হচ্ছে সম্প্রীতির একটি নিদর্শন। এই জেলায় যুগ যুগ ধরে হিন্দু.মুসলিম,বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের মানুষের মাঝে সম্প্রীতির যে একটি মিলবন্ধন রয়েছে তা আগামী প্রজন্ম ও ধরে রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা-এর আওনা ইউনিয়ন-এর অন্তর্গত কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সচেতন মানুষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন দোকানপাট, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে মাদকবিরোধী পোস্টার লাগানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাবারিয়াবাড়ী এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তির কারণে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরিচিত ও সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এতে করে গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকার সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা জানান, আগে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামটি শান্তিপূর্ণ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের বিস্তার এবং কিছু অসাধু চক্রের তৎপরতার কারণে গ্রামের পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। এতে করে গ্রামের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকের প্রভাবের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ঝগড়া-বিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ পরিস্থিতিতে গ্রামের ছোট-বড় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। তাই কাবারিয়াবাড়ী গ্রামকে মাদকমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী এই কর্মসূচির সময় গ্রামবাসীরা লিফলেটের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন। লিফলেটে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় এবং মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার লাগিয়ে এলাকাবাসীকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গ্রামবাসীরা জানান, তারা শুধু সচেতনতা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। প্রয়োজনে গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও ভাবছেন তারা। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এদিকে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামটিকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করবে। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, সামাজিক সচেতনতা, জনগণের ঐক্য এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে খুব শিগগিরই কাবারিয়াবাড়ী গ্রাম থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে করে আবারও গ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশকে সামনে রেখে একটি সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দুর্গাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী, পাহাড়ঘেরা জনপদ এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলার মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্যোগে ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। তাই জনগণের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নদী ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুরের অপার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কুল্লাগড়া, দুর্গাপুর সদর, লেংগুরা, খারনৈ এবং রংছাতি—এই পাঁচটি ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ‘ট্যুরিজম হাব’ বা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পরিবহন খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র-বৃহৎ ব্যবসায়ীরা এর মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা দুর্গাপুরের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এ অঞ্চলে আসবেন। এর ফলে দুর্গাপুরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে আধুনিক হাসপাতাল, উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন সুবিধা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক নাগরিক সেবারও প্রসার ঘটবে। ফলে দুর্গাপুর শুধু একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেই নয়, বরং একটি আধুনিক, সম্ভাবনাময় ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা আফসানা এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবক ড. দিবালোক সিংহ। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বপালনকারী গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সবার উপস্থিতিতে দুর্গাপুরের সম্ভাবনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতের বিস্তার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন খাতকে বিকশিত করা গেলে এই অঞ্চল শুধু নেত্রকোনাতেই নয়, সারাদেশের কাছে একটি অনন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গোপালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অটল শরিয়ত উল্লাহর পিতা মো. ছাদরুল উলা ফকির ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বড়মা মধ্যপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ১০৫ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ব্লক সুপারভাইজার (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। শুক্রবার বাদ জুমআ মরহুমের নিজ বাড়িতে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে, ২ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের মৃত্যুতে গোপালপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু চিকিৎসাধীন আরও ১৩ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।একই উপসর্গে বর্তমানে হাসপাতালটিতে আরও ১৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় গত কয়েকদিন ধরে জ্বর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও কাশি-সর্দি নিয়ে একাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে ৮ মাস বয়সী শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা গেলেও নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে এটি হামজনিত সংক্রমণ বলেই ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৩ শিশুকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সংক্রমণ রোধে আলাদা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ’র পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিএনপির উদ্যোগে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আজগর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব। ১১ নং কাতুলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান সুমন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি কাতুলী ইউনিয়নের মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক রোজাদার অংশগ্রহণ করেন। ইফতার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা পবিত্র রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন এবং দলের চেয়ারপারসনসহ সকল নেতাকর্মীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করা হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য, পবিত্র রমজান উপলক্ষে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক উত্তেজনা: সাবেক বিএনপি নেতা ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীমসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পাল্টা অভিযোগটাঙ্গাইলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীমসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ দুপুরআনুমানিক ১টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর দোয়া মাহফিল উপলক্ষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাওয়াত দিতে যান আবু নাসের আল আমিন পাপন ও তার সহযোগীরা। এ সময় শান্তিকুঞ্জ রোডস্থ সিএনজি শ্রমিক অফিসের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।এজাহারে উল্লেখ করা হয় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে হামলার অভিযোগ তুলে কয়েকজনকে গুরুতর জখম করার কথা বলা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাব্বির আহম্মেদ সাদী ও বিপ্লব আরেফিন খানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীমের নাম উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আরও ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহে ব্যস্ত থাকায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এদিকে মামলা দায়েরের পর অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপির দুর্দিনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং এতে টাঙ্গাইল সদরের জনগণ তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে জয়লাভের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং তাদের দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।