জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সাথে সুপারিশমালা নিয়ে সংলাপে বসেছে খেলাফতে মজলিস ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি। দল দুটি ১৬৬টি সুপারিশের অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছে। সংলাপ শেষে প্রতিনিধিরা জানান, ইসলামের বিধানবিরোধী কোনো আইন করা যাবে না এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। পাশাপাশি তারা অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেন।
জাতীয় ঐক্যমত কমিশন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত জানতে ৬ মার্চ ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পাঠায়। এরপর সংলাপের ধারাবাহিকতায় খেলাফতে মজলিস ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির সাথে আলোচনা হয়, যেখানে খেলাফতে মজলিস ১৪০টি সুপারিশের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেছে। দলটি মনে করে, ১০ মাসের মধ্যে সংস্কার সম্ভব এবং প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করা উচিত। তবে দলটি গণপরিষদ ধারণার পক্ষে নয়।
সংলাপে খেলাফতে মজলিসের মহাসচিব বলেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বহুত্ববাদের প্রয়োজন নেই। সংবিধানে ইসলামের বিধানবিরোধী আইন নিষিদ্ধ করার সুস্পষ্ট ধারা থাকা উচিত বলে দলটি দাবি করে। একইসাথে, যারা খুন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে লিপ্ত ছিল, তাদের বিচার হওয়া জরুরি এবং তাদের নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া যাবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৪৭টি সুপারিশের সাথে একমত হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান জানান, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নতুন কোনো স্বৈরাচারের উত্থান যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ চার বছর করা এবং প্রার্থীদের বয়সসীমা ২১ বছর করার প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেয় দলটি। তারা মনে করে, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগে হওয়া উচিত।
জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রিয়াজ বলেন, দলগুলোর মতামত নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছানো হবে বলে তিনি আশাবাদী।
মু্ক্তধ্বনি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন