টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE) বাস্তবায়িত ‘৩২টি পৌরসভার পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প’–এর আওতায় কালিহাতী পৌরসভায় নির্মিত ২০০ ঘনমিটার/ঘণ্টা ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার ও পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নবনির্মিত এই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্বোধন করেন কালিহাতী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কালিহাতী পৌরসভায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পানি শোধন ব্যবস্থা যুক্ত হলো, যা নিরাপদ পানি সরবরাহে নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী গাজিউর রহমান, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শিব প্রসাদ সূত্রধর, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও পৌর পরিষদের সহায়তা কমিটির ওয়ার্ড সদস্য কুলসুম সোলায়মান, কালিহাতী থানার ওসি তদন্ত আব্দুস ছালাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড সদস্য আশরাফ আলীসহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভার কর্মকর্তারা। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নতুন এই শোধনাগার প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নিরাপদ পানি প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম হবে। ধাপে ধাপে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সংযোগ লাইন স্থাপন করে পানি সরবরাহ করা হবে। উন্নতমানের ফিল্টারেশন, গুণগতমান পরীক্ষণ এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পানির নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার একটি বড় অংশ নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছিল। অনেক এলাকার টিউবওয়েলের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন, দুর্গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়া থাকায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নতুন ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালুর ফলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় এই প্রকল্প ভবিষ্যতে পানি দূষণজনিত রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। পানি শোধনাগার নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, “কালিহাতী পৌরসভায় স্থাপিত এই ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি সত্যিকারের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ধাপে পানির গুণগতমান নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। যাতে পৌরবাসী নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, “পৌরবাসীকে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালুর মাধ্যমে কালিহাতী পৌরসভা সেই লক্ষ্যে বড় একটি পদক্ষেপ নিল। আমরা সেবার মান বজায় রেখে ধীরে ধীরে পুরো পৌর এলাকায় নিরাপদ পানির আওতা নিশ্চিত করব।” পৌরসভার জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তাবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ এই প্রকল্পকে এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইল সদরেও চালু হচ্ছে স্মার্ট ফুয়েল কার্ড টাঙ্গাইল, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ইং টাঙ্গাইল সদরসহ সারাদেশে আগামী ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে স্মার্ট ফুয়েল কার্ড কার্যকর করা হবে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই ব্যবস্থার আওতায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হলে কার্ড ব্যতীত তেল দেওয়া হবে না। ফুয়েল কার্ড সিস্টেম চালু করার মূল উদ্দেশ্য হলো তেল বিতরণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা। এই নতুন নিয়ম অনুসারে তেল সংগ্রহের সময় বৈধ কাগজপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক। কার্ড ছাড়া কোনও মোটরসাইকেলে তেল দেওয়া হবে না, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও ধরনের সমস্যা এড়াতে সাহায্য করবে। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই মোটরসাইকেল মালিকদের স্মার্ট ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশনা জারি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্ড সংগ্রহ করবেন না, তারা তেল সরবরাহে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়াও, জেলা প্রশাসন সকল ফিলিং স্টেশন ও এজেন্সিকে কার্ড যাচাই ও নিয়মিত রিপোর্টিং নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করেছে। ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি তেলের বিতরণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হবে।জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, তারা জনসাধারণের নিরাপত্তা ও সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় তেলের চাহিদা নিশ্চিত করা হবে এবং অযথা তেল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রতারনা বা অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মো. শাওন (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শাওন উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের গুজিরকোনা গ্রামের আতিকুর রহমানের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে শাওন। গোসল শেষে জুমার নামাজে যাওয়ার কথা থাকলেও সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরপাড়ে গিয়ে তার জামা-কাপড় ও সঙ্গে আনা জিনিসপত্র দেখতে পান, তবে শাওনের কোনো খোঁজ মেলেনি। পরে পুকুরে মাছ ধরার জাল ফেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের চাচা মিজানুর রহমান জানান, সে দাদার সঙ্গে মোটরে গোসল করেনি, পুকুরে গোসল করবে বলে যায়। আমরা জুমার নামাজে চলে যাই। পরে এসে শুনি সে বাড়ি আসেনি। এরপর পুকুরে খোঁজ করে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে চারপাশ ভারী হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়।
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পরিবারের সদস্যদের সামান্য অসতর্কতায় পুকুরের পানিতে ডুবে সায়ফা আক্তার নামে দেড় বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের টেঙ্গা গ্রামে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু সায়ফা ওই গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে শিশু সায়ফা বাড়ির উঠানেই খেলাধুলা করছিল। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেসময় দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এরই মাঝে সবার অজান্তে চোখের পলকেই শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সন্তানকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির আশপাশে ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে বসতঘরের আঙিনার পাশেই থাকা পুকুরের পানিতে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তারা। পুকুর থেকে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন তাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বনশ্রী বনিক চৈতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু সায়ফাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল চত্বরে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। আদরের সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েন শিশুটির বাবা-মা। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয়স্পর্শী। শিশুদের ক্ষেত্রে মুহূর্তের অসতর্কতাও যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এটি তারই একটি দৃষ্টান্ত।” এ সময় তিনি স্থানীয় অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “সামনেই বর্ষাকাল আসছে। এ সময় বাড়ির চারপাশের খাল-বিল ও পুকুরগুলো পানিতে ভরে যায়। তাই প্রতিটি পরিবারকে শিশুদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল ও সতর্ক হতে হবে। শিশুদের কোনোভাবেই একা বাড়ির বাইরে বা জলাশয়ের ধারে যেতে দেওয়া যাবে না।” গ্রামাঞ্চলে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার কমাতে অভিভাবকদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।