সারা দেশ

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বদলীর আদেশ গোপালপুরের নবাগত ইউএনও লাইলাতুল হোসেন

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বদলীর আদেশ গোপালপুরের নবাগত ইউএনও লাইলাতুল হোসেন উন্নয়ন ও জনসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বদলীর আদেশ পেয়েছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাইলাতুল হোসেন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলীর কারণে উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনসেবাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।জানা যায় সম্প্রতি গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন লাইলাতুল হোসেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের দিনই তাঁর বদলীর আদেশ জারি হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা তৈরি করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য একজন কর্মকর্তা নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বুঝে কাজ শুরু করতে না করতেই বদলীর আদেশ চলে আসে। এতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়।বিশেষ করে ভূমিসামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিঅবকাঠামো উন্নয়ন ও স্থানীয় প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে ঘন ঘন কর্মকর্তার পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা সময়মতো পাচ্ছেন না।সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের প্রতি জনআস্থাও কমে যেতে পারে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন গোপালপুরবাসী।

মে ২০, ২০২৬ 0
জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারে আইজিপির ঈদ উপহার প্রদান

জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারে আইজিপির ঈদ উপহার প্রদান কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মহোদয়ের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে শহীদ পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) জামালপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অফিস কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন।এসময় তিনি বলেন দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের সেবায় আত্মত্যাগকারী পুলিশ সদস্যদের অবদান বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের পরিবারের পাশে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জামালপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় কর্তব্য পালনের সময় আত্মবলিদানকারী সদস্যদের স্মৃতি ও পরিবারের সম্মান রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মে ১৯, ২০২৬ 0
দুর্গাপুরে পরিচ্ছনতা অভিযান

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিরিশিরি থেকে দুর্গাপুর পৌরশহরের প্রবেশদ্বারেই ময়লার ভাগারের কারনে নষ্ট হচ্ছে পৌরশহরের ভাবমুর্তি। বিভিন্ন মিডিয়ায় এমন সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার নেত্রকোনা - ১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এর। দুর্গাপুর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। এরই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, সোমেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মান, জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেল সংযোগ, সাধারণ জনগনের যাতায়াতে সুবিধার্থে নিজ অর্থায়নে কাঠের সেতু নির্মান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নানাবিধ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আসন্ন ঈদুল আযহা, শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যটকদের কথা ভেবে এই উদ্দ্যেগ নিয়েছেন তিনি। পৌরশহরের বাসষ্টেন্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লায় ভাগাড় থাকায় ওই এলাকার আশ-পাশের মানুষ, পথচারী, পর্যটকগণ এক বির্বতকর অবস্থায় পড়ছে প্রতিনিয়ত। পৌরশহরে ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শহরের ওই এলাকায় ময়লা সহ নানা ধরনের বর্র্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে করে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গুজ্বর ও নানাবিধ রোগ দেখা দিচ্ছে। এ থেকে পরিত্রানের লক্ষে ডেপুটি স্পীকারের নির্দেশে মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পৌর যুবদলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহনে পৌরশহরের বাস ও সিএনজি ষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে দীর্ঘদিনের জমানো ময়লা পরিস্কারের উদ্দ্যোগ নেয়া হয়। ওই এলাকার বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, এখানে ময়লা জমানো থাকায় আমাদের বাসাবাড়িতে দিনের বেলাতেও কয়েল জ্বালিয়ে কাজ করতে হতো। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই জ্বর ও পেটের অসুখে ভুগতাম আমরা। আমাদের মানবিক নেতা ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহন করেছেন, আমরা উনার প্রতি কৃতজ্ঞ। বাসষ্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা আলী উসলাম বলেন, এখানে ময়লা থাকায় দুর্গন্ধের কারনে রাস্তা দিয়ে হাটা যেতো না। অনেকেই পেটের পীড়ায় ভুগতো। অনেক সময় কুকুরের ঝগড়ার কবলে পড়তে হতো পথচারিদের। পৌরকর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেও স্থায়ীভাবে পরিস্কার করতে পারেনি তারা। আজ ব্যারিস্টার স্যার ময়লা পরিস্কারের জন্য যে উদ্দ্যেগ নিলেন, আমরা উনার প্রতি চীর কৃতজ্ঞ থাকবো। এ নিয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পৌরশহরের ময়লা ও বর্জ্য নিষ্কাষনের জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গা দেখেছি। এ নিয়ে ডেপুটি স্পীকার স্যারের সাথে পরামর্শ ক্রমে, অল্প কিছুদিনের মধ্যে প্রকল্পের গ্রহনের মাধ্যমে ময়লা ফেলার ডাম্পিং পয়েন্ট নির্মান করা হবে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফলদ বৃক্ষরোপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।

মে ১৯, ২০২৬ 0
বাসাইলে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ৩৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

বাসাইলে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ৩৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লি: (বিআরডিবি)-এর ৩৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. আহমেদ আযম খান। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমবায় কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সমিতির সদস্যরা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত ও বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এছাড়াও সমবায় ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়।

মে ১৯, ২০২৬ 0
দেলদুয়ারে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি রবিউল আউয়াল লাভলু

দেলদুয়ারে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি রবিউল আউয়াল লাভলু টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল লাভলু।মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের দেওজান-চিনাখোলা এলাকার একটি খাল খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ চান খা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস আহমেদ দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরা সুলতানা জুথি দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.শাওকায়াত হোসেন উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম সবুর আহমেদ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক অপু তালুকদার (শিপলু) পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ বাবুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী। স্থানীয়রা জানান খাল খননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিকাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মে ১৯, ২০২৬ 0
দুর্গাপুরে ভূমি সেবা মেলা অনুষ্ঠিত

জনগণের দোরগোড়ায় ভূমি সংক্রান্ত সেবা পৌঁছে দিতে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ভূমি সেবা মেলা। এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা চত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। রেলী শেষে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নাসিরউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা খামার ব্যবস্থাপক হালিমা আক্তার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ জিন্নাহ এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুম বিল্লাহ সহ আরো অনেকেই । বক্তারা বলেন, ভূমি সেবা মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজে ও দ্রুত ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ও সেবা পাচ্ছেন। এতে হয়রানি কমার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আয়োজকরা জানান, সপ্তাহব্যাপী চলা এই মেলায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, পরামর্শ ও তথ্য প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে আগত সেবাগ্রহীতাদের ভূমি বিষয়ক নানা দিক সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

মে ১৯, ২০২৬ 0
এপ্রিল মাসে টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা

এপ্রিল মাসে টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ মাদকবিরোধী অভিযান এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখায় এপ্রিল ২০২৬ মাসের জন্য টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দায়িত্ব পালন পেশাদারিত্ব সাফল্য ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তাদের নির্বাচিত করা হয়। ঘোষিত তালিকায় শ্রেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এইচ.এম.মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকীদায়িত্বশীল নেতৃত্ব অপরাধ দমনে কার্যকর তৎপরতা এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বিত পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি এ স্বীকৃতি অর্জন করেন।শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইল সদর থানার রুহুল আমিন। থানার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ মামলা নিষ্পত্তি এবং জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছেএদিকে শ্রেষ্ঠ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সদর থানার ভীক্টর ব্যানার্জী। গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে দক্ষতা দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনায় তার অবদান বিশেষভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। এপ্রিল মাসের শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সদর থানার এসআই (নিঃ) রাফিউল করিম ও এসআই (নিঃ) মোঃ আবুল বাসার। অপরাধ দমন মাদকবিরোধী অভিযান এবং নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রমে সফলতার জন্য তারা এ স্বীকৃতি পান।এছাড়া শ্রেষ্ঠ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সদর থানার এএসআই (নিঃ) মোঃ বিপুল ইসলাম। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখায় তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এতে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি জনসেবার মান আরও উন্নত হচ্ছে। পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সততা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মে ১৯, ২০২৬ 0
ঝড়ে গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর, গুলশানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত
গুলশানে ঝড়ের তাণ্ডব, গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন

রাজধানীর গুলশান এলাকায় ঝড়ের কারণে একটি বড় গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে আকস্মিক ঝড়ের সময় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলশান সড়ক ৭ এর পাশে থাকা একটি পুরোনো গাছ প্রবল বাতাসে উপড়ে গিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপর পড়ে। এতে এলাকার কয়েকটি সড়কে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে গাছ অপসারণের কাজও চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাবাসীকে ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মে ১৯, ২০২৬ 0
নেত্রকোনা দুর্গাপুরে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য’’ এই প্রতিপাদ্যে বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘‘রুসা’’ বাংলাদেশ এর আয়োজনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ১৮ (মে) দুপুরে স্থানীয় ডনবসকো কলেজ মিলনায়তনে সর্বস্তরের অংশগ্রহনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রুসা‘র পরিচালক এম এন আলম এর সভাপতিত্বে, সাংবাদিক মামুন রনবির এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার:) ইমদাদুল হক তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্, ডনবসকো কলেজের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক কবি পরাগ রিছিল, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনছারী, অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শাকের আহমেদ। এ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার হাবিবুর রহমান। এসময় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণ, ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য প্রতিরোধ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সেইসাথে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা সহ বাজারের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানানো হয়।

মে ১৮, ২০২৬ 0
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট নিরসনে সমন্বয় সভা

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট নিরসনে সমন্বয় সভা আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট নিরসন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস শেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও জেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ট্রাফিক অ্যান্ড সিকিউরিটি ম্যানেজার, বিবিএ যমুনা সেতু, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মহাসড়কের ফোরলেন উন্নীতকরণ প্রকল্পে নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বাস-মিনিবাস ও ট্রাক মালিক-শ্রমিক সমিতি, সিএনজি ও অটো শ্রমিক সমিতির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে পশুর হাট যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে হাট ইজারাদারদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ আদিবুল ইসলাম, জেলার সকল সার্কেল কর্মকর্তা, জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

মে ১৮, ২০২৬ 0
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামালপুরে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

"অসত্যের দাসত্বে আর নয় সত্য সমাগত"- প্রতিপাদ্যে "দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামালপুর" এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আজ ১৭ই মে,'২৬ইং রোজঃ রবিবার জামালপুরের প্রাণকেন্দ্র ফৌজদারি মোড়ে "মানববন্ধন-কেক কাটা-চা চক্র" অনুষ্ঠানে সংগঠনের সম্মানিত পর্ষদ সদস্য মোঃ রাকিবুল ইসলাম সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সম্মানিত অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পর্ষদ সদস্য শাকিল হাসান, মোঃ লালন মিয়া ও সংগঠনের পর্ষদ-উপদেষ্টা-পৃষ্ঠপোষকতা প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মোঃ আবু সায়েম হীরা। উক্ত উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন , তড়িৎ প্রকৌশলী মোঃ রুবেল রানা, মোঃ আশরাফ মির্জা, মজিবুর রহমান সাঈদ, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যাক্তা মোঃ নুর নবী ইসলাম নুর, সজিব হাসান তন্ময় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক, সর্বস্তরের পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে গত ১৩ই মে '২৬ইং রোজ বুধবার জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলায় একযোগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কয়েক হাজার লিফলেট বিতরণ, স্মারক বৃক্ষ রোপন ও জেলা প্রশাসক, জামালপুর এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উদযাপন অনুষ্ঠানে জেলার সাতটি উপজেলা প্রতিনিধি, উপকমিটির সদস্যবৃন্দ স্ব-স্ব অবস্থান থেকে অংশগ্রহণ করেন। "দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামালপুর" সংগঠনের পর্ষদ-উপদেষ্টা-পৃষ্ঠপোষকতা প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোঃ আবু সায়েম হীরা বলেন, "দুর্নীতির ইতিহাস আজ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগের যা আমূলে নির্মূল করা সম্ভব নয় কিন্তু লাগাম টেনে ধরা সম্ভব এবং উন্নয়ন আর দুর্নীতি পরস্পরের সমানুপাতিক হারে চলে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে আত্মশুদ্ধি, নীতি-নৈতিকতা-সচেতনতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ব্রিটিশ আমলের  আইন সংশোধন-পরিমার্জন নয় বরং আমূল পরিবর্তন করতে হবে।" উল্লেখ্য যে, "দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামালপুর"- একটি অরাজনৈতিক ও সার্বজনীন সামাজিক আন্দোলন ১৩ই মে '২৫ইং তারিখে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের আমন্ত্রণ ও অবগতকরণের মাধ্যমে, জেলার প্রাণকেন্দ্র ফৌজদারি মোড়ে মানববন্ধন করে মাননীয় জেলা প্রশাসক, জামালপুর বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে যে-ই স্মারকলিপির অনুলিপি জামালপুর জেলাস্থ ১৪০টি আঞ্চলিক-জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রধানকে অনুলিপি প্রদান করা হয়।

মে ১৭, ২০২৬ 0
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে ভূঞাপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও দোয়া মাহফিল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নিধন ও সীমান্তে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার  (১৫ মে) বাদ জুমা ফলদা (মদন বাড়ী) এলাকায় স্থানীয় তৌহিদী জনতার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফলদা আশরাফুল উলুম  নিজামিয়া মাদরাসার মুহতামীম মাওলানা শফিউল রহমান। বক্তব্য রাখেন ইসলাহুল উম্মাহ বালিকা মাদ্রাসার মুহতামীম মাওলানা আবু ইউসুফ, ঝনঝনিয়া কেন্দ্রীয়  জামে মসজিদের ইমাম-খতিব মাওলানা নাসির উদ্দীন, মাওলানা আব্দুল মুতালিব ও মাওলানা এমদাত হক। বক্তারা বলেন, ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ সময় বক্তারা সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনাও বন্ধের দাবি জানান। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, মানবতা, ন্যায়বিচার ও মুসলিম উম্মাহর অধিকার রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

মে ১৭, ২০২৬ 0
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় দেশজুড়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (বিজেএসএস) এর চেয়ারম্যান জনাব লায়ন মু এম হাসান মাহমুদ

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় দেশজুড়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (বিজেএসএস) এর চেয়ারম্যান জনাব লায়ন মু এম হাসান মাহমুদ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্যাতন, মামলা-হামলা ও পেশাগত হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যেই সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (বিজেএসএস)-এর চেয়ারম্যান লায়ন মু এম হাসান মাহমুদ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সারা দেশে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে। জানা যায়, দেশের ৬৪ জেলা সফরের উদ্যোগ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। এসব সফরে সাংবাদিকদের পেশাগত সমস্যা, নিরাপত্তাহীনতা সাংগঠনিক দুর্বলতা, আইনি জটিলতা ও নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকদের পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করছেন। বিশেষ করে সংবাদ প্রকাশ কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাংবাদিক মামলা হামলাহুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি ও নৈতিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বিজেএসএস চেয়ারম্যান। সংগঠনের পক্ষ থেকে অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।(বিজেএসএস) চেয়ারম্যান লায়ন মু এম হাসান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকরাই নিরাপত্তাহীনতায় স্বাধীন ভাবে সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক সাংবাদিক সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সমস্যা ও সংকটগুলো সরাসরি জানতে এবং পাশে দাঁড়াতেই আমরা জেলা পর্যায়ে যাচ্ছি। সাংবাদিক নেতারা বলছেন বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও ঝুঁকি বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের পাশে থেকে সাহস ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।এদিকে বিজেএসএস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ আইনি সহায়তা ও পেশাগত মানোন্নয়নে ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যেতে চায় বলেও জানানো হয়।

মে ১৭, ২০২৬ 0
দুর্গাপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৭ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও কার্যকর করতে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৭ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কমিটি গঠন করা হয়। গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের বিকাশ এবং ক্রীড়া কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এ অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাতকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার লাখের আহমেদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মীম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার এবং স্থানীয় ক্রীড়াবিদ শামীম আহমেদ। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদ মো. রেজাউল করিম রিপন। সংশ্লিষ্টরা জানান, নবগঠিত এ কমিটি দুর্গাপুর উপজেলার খেলাধুলাকে নতুন গতি দেবে। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন, ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ, নতুন প্রতিভা অন্বেষণ এবং জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে এ কমিটি গঠনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন, খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নে এই কমিটি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দুর্গাপুরের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে খেলাধুলার প্রতি আরও আকৃষ্ট করবে এবং মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্গাপুরের ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। নবগঠিত এ অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে দুর্গাপুর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা ও নতুন সম্ভাবনার সূচনা হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এদিকে দুর্গাপুর–কলমাকান্দা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ কমিটি গঠনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে। ডেপুটি স্পিকার-এর এই ইতিবাচক অবস্থানকে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন

মে ১৫, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলে ‘দালাল’ মন্তব্যের প্রতিবাদে ঔষুধ কোম্পানির বিপণন প্রতিনিধিদের মানববন্ধন

টাঙ্গাইলে দালাল মন্তব্যের প্রতিবাদে ঔষুধ কোম্পানির বিপণন প্রতিনিধিদের মানববন্ধন টাঙ্গাইল ১১ মে ২০২৬ টাঙ্গাইলে ঔষুধ কোম্পানির বিপণন প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ‘দা*লাল’ শব্দ ব্যবহার করার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে ২০২৬) দুপুরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির বিপণন প্রতিনিধিরা এ কর্মসূচি পালন করেন। ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির বিপণন প্রতিনিধি, সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীরা অংশ নেন। তারা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে এ ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য বন্ধের দাবি জানান।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঔষুধ কোম্পানির বিপণন প্রতিনিধিরা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা চিকিৎসক,হাসপাতাল ও ফার্মেসির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন এবং রোগীদের কাছে সঠিক ও নিরাপদ ওষুধ পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বক্তারা অভিযোগ করেন সম্প্রতি কিছু মহল বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ পেশার মানুষদের উদ্দেশ্যে ‘দা*লাল’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অশোভন অপমানজনক এবং পেশাগত মর্যাদাহানিকর। তারা বলেন একটি দায়িত্বশীল পেশাকে এভাবে অবমূল্যায়ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আরও বলেন,আমরা কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত নই। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে কাজ করছি। অথচ আমাদের দা*লাল’ বলে সম্বোধন করা হচ্ছে যা আমাদের সামাজিক ও পেশাগত অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।বক্তারা এ ধরনের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন অপমানজনক শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। অন্যথায় পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রেসক্লাব এলাকা থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির বিপণন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

মে ১২, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলের সাংবাদিক মির্জা শাকিল হৃদরোগে আক্রান্ত, ঢাকায় রেফার্ড

টাঙ্গাইলের সাংবাদিক মির্জা শাকিল হৃদরোগে আক্রান্ত, ঢাকায় রেফার্ড টাঙ্গাইলে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মির্জা শাকিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার (১০ মে) দিবাগত রাতে হঠাৎ তিনি বুকের তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত ঢাকার কোনো উন্নত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি শুরু করেন।মির্জা শাকিলের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে টাঙ্গাইলের সাংবাদিক মহল, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তিরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া ও করুণা কামনা করা হয়েছে। মির্জা শাকিলের বন্ধু ও সহকর্মীরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতায় নিয়োজিত এবং এলাকায় একজন সাহসী ও নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত।মহান আল্লাহর কাছে তাঁর আশু সুস্থতা ও পূর্ণ আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। তার পরিবার ও সহকর্মীরা তাঁর শয্যাপাশে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মে ১১, ২০২৬ 0
সরিষাবাড়ীতে লিচুর বিচি গলায় আটকে ইয়াসিন (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে লিচুর বিচি গলায় আটকে ইয়াসিন (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ি গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসিন স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন মিয়ার ছেলে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লিচু খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত একটি লিচুর বিচি ইয়াসিনের গলায় আটকে যায়। এতে সে হঠাৎ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম নেমে আসে। এলাকাবাসীর মাঝেও বিরাজ করছে গভীর শোক।সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মে ১১, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাসে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ১ চালক পলাতক

টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাসে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ১ চালক পলাতক টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস এলাকায় ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিমাই ঘোষ নামের এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাক চালক পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দ্রুতগতির একটি ট্রাক রাবনা বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন চালক নিমাই ঘোষ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি জব্দ করে।পুলিশ জানায়, ঘাতক ট্রাক ও পলাতক চালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মে ১১, ২০২৬ 0
নলিনের ছোট্ট সাদি নিখোঁজ সন্ধান চায় পরিবার এলাকাজুড়ে উদ্বেগ

নলিনের ছোট্ট সাদি নিখোঁজ সন্ধান চায় পরিবার, এলাকাজুড়ে উদ্বেগ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নলিন এলাকার ১১ বছর বয়সী শিশু সাদিক জোয়াদ্দার নিখোঁজ হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তাকে খুঁজে পেতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। নিখোঁজ সাদিককে সবাই “সাদি” নামে চেনে।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদি গোপালপুর উপজেলার নলিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাগরিবের নামাজের পর অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সে। এরপর থেকে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাননি।নিখোঁজের সময় সাদির পরনে ছিল একটি হাফ প্যান্ট। গায়ে কোনো জামা ছিল না এবং সে খালি পায়ে ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।সাদির বাবা নূরনবী জোয়াদ্দার জানান, ছেলেকে খুঁজে পেতে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করা হচ্ছে। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মিলছে না। সন্তানকে ফিরে পেতে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের।এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট্ট সাদিকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে মানবিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি সাদির সন্ধান পেয়ে থাকেন বা কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে নিচের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে—যোগাযোগ: 📞 01799-132658 📞 01646-377543 পরিবারের একটাই আকুতি— ছোট্ট সাদি যেন নিরাপদে আবার মায়ের বুকে ফিরে আসে।

মে ৯, ২০২৬ 0
ভুয়াপুর-তারাকান্দি মহাসড়কে খড়, গোবর ও গাছের ডালপালা ফেলে প্রতিবন্ধকতাবাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ভুয়াপুর-তারাকান্দি মহাসড়কে খড়, গোবর ও গাছের ডালপালা ফেলে প্রতিবন্ধকতাবাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর-তারাকান্দি মহাসড়কে এক শ্রেণির অসচেতন মানুষের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকরা। মহাসড়কের ওপর খড় শুকানো, গোবর ও বিভিন্ন বর্জ্য ফেলে রাখা এবং রাস্তার ওপর গাছের ডালপালা ও গুঁড়ি রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এতে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা ও বাড়ির আঙিনা থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তি সরাসরি সড়কের ওপর খড় বিছিয়ে শুকাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ গরুর গোবরসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলে রাখছেন। শুধু তাই নয়, রাস্তার বড় একটি অংশ জুড়ে গাছের ডালপালা ও গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।বিশেষ করে রাতে ও ভোরবেলায় চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। অনেক সময় দূর থেকে এসব প্রতিবন্ধকতা দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে কিছু অসচেতন ব্যক্তি উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন। কেউ কেউ প্রতিবাদকারীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন এবং নানাভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি মহাসড়ক শুধু যান চলাচলের পথ নয়, এটি একটি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও শৃঙ্খলার প্রতীক। সেখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে না, মানুষের জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, মহাসড়কে খড় শুকানো বর্জ্য ফেলা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, জনসচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং ও প্রশাসনিক কঠোরতা ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মে ৯, ২০২৬ 0
ওয়াহিদুল হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে দুর্গাপুরে অবস্থান কর্মসুচী

দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সেচ্ছাসেবক (গোরখোদক) ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক অবস্থান কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০৮ মে) বাদ জুম্মা তেরীবাজার এলাকাবাসীর আয়োজনে এ কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়। নিহত কেলিস ওই এলাকার মৃত আব্দুল মৃধার ছেলে। ঘন্টাব্যাপী কর্মসুচীতে বক্তারা বলেন, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে তেরী বাজার এলাকায়, ঠুনকো বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নূর মোহাম্মদ নামের এক যুবক কেলিসকে ছুরিকাঘাত করে। পরবর্তিতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ নেয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তিতে দুর্গাপুর থানা পুলিশ রাতেই ঘাতক নূর মোহাম্মদের মা ও তার বোন জামাই কে আটক করে এবং পরদিন ভোরে নেত্রকোণা শহরের মালনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক নূর মোহাম্মদকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। পরে নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করে। কেলিস মৃত্যুর পর, তার স্ত্রী দুই সন্তান ও তার শ্বাশুড়িকে নিয়ে চরম অর্থকষ্টে ভোগছে। আমরা এলাকাবাসী এই ঘাতকের ফাঁসী চাই। অবস্থান কর্মসুচীতে বক্তব্য রাখেন, তেরি বাজার বড় মসজিদের নায়েবে মুহতামিম মুফতি আশরাফুর রহমান আনসারী, সাংবাদিক শফিকুল আলম সজীব, ব্যাবসায়ী ফারুক মড়ল, রফিকুল ইসলাম শাখাওয়াত হোসেন সজীব, হাজী সুমন মিয়া, মোশারফ সরকার, মীর ফরিদ মিন্টু, মাহমুদুল হাসান সুজন, রামিন প্রমুখ

মে ৮, ২০২৬ 0
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

নারী সংস্কার কমিশন: বায়তুল মোকাররমের মিম্বর থেকে

[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا  فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু  তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا  وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ  تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না;  মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত  তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত,  সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে  নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল।  তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা।   যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য।  ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

শীর্ষ সপ্তাহ

সারা দেশ

দুর্গাপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৭ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন

আল আমিন হাওলাদার মে ১৫, ২০২৬ 0

ভোট জরিপ

নির্বাচনের দিন গণভোট আপনি সমর্থন করেন ?