‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তর তর হে, নির্মল করো উজ্জ্বল করো, সুন্দর করো হে এ’’ এই প্রতিপাদ্যে দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড়ে অবস্থিত মানবকল্যানকামী অনাথালয় থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সাত গুণীজনকে অনাথবন্ধু সম্মাননা দেয়া হয়েছে। ৩দিন ব্যাপি বিশ্ববান্ধব কবি সম্মেলন ও সনাতন ধর্মীয় মহা-সম্মেলন উপলক্ষে মঙ্গবার (১০ মার্চ) রাতে গুণীজনদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। বিশ্ব বান্ধব কবি সম্মেলনের সভাপতি কবি শফিউল আলম স্বপনের সভাপতিত্বে, কবি বিদ্যুৎ সরকার ও কবি জাহাঙ্গীর আলম রিপনের সঞ্চালনায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক পরাগ রিছিল, শিক্ষাবিদ এম এ জিন্নাহ, সংস্কৃতিজন আব্দুল্লাহ আল মামুন মুকুল, সুসঙ্গ সম্মিলিত সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক কবি সজীম শাইন সহ জেলার গন্যমান্য ব্যক্তি, কবি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা (কোম্পানি কমান্ডার) স্নিগ্ধেন্দু বাউল, সাংবাদিকতায় (যমুনা টেলিভিশন ও যুগান্তর এর জেলা প্রতিনিধি) কামাল হোসাইন, শিক্ষায় (মরণোত্তর) দয়া শংকর ত্রিবেদী, চিকিৎসায় ডা: প্রভাত কুমার সাহা, সমাজসেবায়, দীপক সরকার (প্রতিষ্ঠাতা জলসিঁড়ি পাঠকেন্দ্র), কবিতায় : বকুল মাস্টার এবং অনাথবন্ধু : কবি বিদ্যুৎ সরকার কে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।
জামালপুরে পুলিশ সুপারের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা জেলা প্রশাসন জামালপুরের উদ্যোগে পুলিশ সুপার ড.চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেকের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহাম্মদ ইউসুপ আলী।অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিদায়ী পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেকের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন এবং জামালপুর জেলায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর নিষ্ঠা পেশাদারিত্ব ও দক্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।বক্তারা বলেন দায়িত্ব পালনের সময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা অপরাধ দমন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন।
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ১১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।মঙ্গলবার মহাসড়কের বারনা বাইপাস থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত সড়ক এবং কালিহাতি লিংক রোডের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় সড়কের যানজট নিরসন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের মহাসড়কে সার্বক্ষণিক তদারকি জোরদার করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের প্রস্তুতির বিষয়েও তিনি খোঁজখবর নেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা সহকারী পুলিশ সুপার কালিহাতি সার্কেলসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা। এছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্যোগ প্রস্ততিতে লড়ব, তারুন্যের বাংলাদেশ গড়ব’’ এই প্রতিপাদ্যে সারাদেশের মতো নেত্রকোনার দুর্গাপুরেও নানা আয়োজনে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্ততি দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে আলোচনা সভা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক মহড়ার মধ্যদিয়ে এ দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার আয়োজনে ভুমিকম্প এবং অগ্নিকান্ডে আমাদের করণীয় বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এম এ জিন্নাহ প্রমুখ। এছাড়া অন্যদের মাঝে, উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তিতে উপজেলা ফায়ার ষ্টেশন ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক মহড়া প্রদর্শন করেন। আলোচনা সভায় ইউএনও আফরোজা আফসানা বলেন, নেত্রকোনা জেলার মধ্যে সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর একটি প্রবল দুর্যোগপুর্ন উপজেলা। দুর্যোগে ভয় না পেয়ে নিজেদের পুর্ব সচেতনতা ও প্রস্ততি থাকলে সকল দুর্যোগই মোকাবিলা করা সম্ভব। দুর্যোগ প্রস্ততি বিষয়ে অনুষ্ঠিত মহড়া দেখে আমাদের মাঝে আতঙ্ক হওয়ার ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। যে কোন দুর্যোগে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
পোড়াবাড়ী মাদ্রাসার সামনে ভুষি বোঝাই ট্রাক উল্টে দুর্ঘটনা, চালক আহত টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়ী এলাকায় ভুষি বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে (৯ মার্চ ২০২৬) উপজেলার নাগবাড়ী এলাকার পোড়াবাড়ী পাবলিক ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে গরুর ভুষি ভর্তি একটি ট্রাক ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ট্রাকে থাকা ভুষি সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার ফলে অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রাক উল্টে পড়ার ঘটনায় গভীর রাতে এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে কেরিংয়ের মাধ্যমে উল্টে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়।এদিকে দুর্ঘটনায় ট্রাক চালক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।স্থানীয়রা জানান সড়কে অসতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কারণেই প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তাই চালকদের আরও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানান তারা। সচেতন মহল বলছে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই সড়কে যানবাহন চালানোর সময় সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো
শুধু জুলাই জাতীয় সনদ নয় নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নেও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ — ১০ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন সরকার শুধু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নেই নয় নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করা প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন জনগণের কাছ থেকে যে ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, সেই অঙ্গীকার পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভা দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপি। স্বাগত বক্তব্য দেন ফোরামের মহাসচিব ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং এতে সরকার স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি শব্দ ও অক্ষর আমরা ধারণ করি। আমরা যেটা জাতির কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেটি বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এমনকি নির্বাচনি ইশতেহারে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট অর্জন করেছি সেগুলোও বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন জুলাই জাতীয় সনদে যেসব রাজনৈতিক দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে তারা যদি সেই বিষয়গুলো নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে তাহলে সেগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে কিছু রাজনৈতিক দল সনদটি নিয়ে সমালোচনা করলেও পরে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাক্ষর করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন সংবিধান মেনেই সরকার এ পর্যন্ত এগিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। কোনো বিষয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে জাতীয় সংসদে আলোচনা করতে হবে, আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং পরে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শপথ গ্রহণসহ অন্যান্য সাংবিধানিক বিষয় নির্ধারিত হবে।তিনি বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। তবে কোন অধ্যাদেশ হুবহু গৃহীত হবে কোনটি সংশোধনীসহ পাস হবে বা কোনটি বাতিল হবে— সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের রয়েছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রের সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। সংসদ সদস্যরা সেই সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের ভোট সাংবিধানিক ভোট হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে গণভোটের ভিত্তিতে যে ভোট হয় তা আইনের ভিত্তিতে হলেও সাংবিধানিক ভোটের পরে তার অবস্থান।আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় টাংগাইল এ এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সড়কে যানজট নিরসন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন ঈদে লাখো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরবেন। তাই তাদের যাত্রা যাতে নিরাপদ স্বস্তিদায়ক এবং নির্বিঘ্ন হয় সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।তিনি আরও বলেন মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং অতিরিক্ত যাত্রী বহন ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং অনিয়ম রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি থাকবে। একই সঙ্গে যানজট নিরসনে প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সচেতন করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা জানান ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন ও নজরদারি বাড়ানো হবে।এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামা নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিন সড়কে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রশাসন পুলিশ হাইওয়ে পুলিশ বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।জেলা প্রশাসক সভায় উপস্থিত সকলকে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও তৎপরতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আশা করি এবারের ঈদযাত্রা হবে নিরাপদ স্বস্তিদায়ক করার ব্যক্ত করেন।
নেত্রকোনা দুর্গাপুরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৯ মার্চ) দিনব্যাপী পৌর শহরের প্রেসক্লাব চত্বরে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘সাপ্তাহিক সুসঙ্গ বার্তা পত্রিকা’। প্রতিবারের মতো এবারো পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সাংবাদিক মাসউদুর রহমান ফকির এর সঞ্চালনায়, সুসঙ্গ বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল তালুকদারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ¦ জামাল উদ্দীন মাস্টার, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক, হাফেজ আব্দুল কাদির, হাফেজ ওয়ালী উল্লাহ্, হাফেজ আজিজুল ইসলাম, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মুফতি তাজুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল কাদির, হাফেজ খাইরুল ইসলাম, হাফেজ সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা শেষে, বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আলহাজ¦ জামাল উদ্দীন মাস্টার। এ সময় অন্যদের মধ্যে দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা, স্থানীয় সুধীজন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রধানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, সাপ্তাহিক ‘সুসঙ্গ বার্তা পত্রিকার’ সম্পাদক সাংবাদিক জামাল তালুকদার প্রতি বছরই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভুতি জাগানোর জন্য হামদ নাত ও কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন। ওনার এ সুন্দর আয়োজনের জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। এছাড়া পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষেও প্রতি বছর দুর্গাপুর উপজেলায় বিভিন্ন কেটাগরিতে গুণীজনদের সম্মাননা দিয়ে থাকেন। এ মহৎ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা সাংবাদিক জামাল তালুকদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সাপ্তাহিক ‘সুসঙ্গ বার্তার’ সাফল্য কামনা করছি।
সখীপুরে মাটিবাহী ডাম্প ট্রাক উল্টে খাদে অল্পের জন্য রক্ষা চালক টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের পাটজাগ এলাকায় দিনের বেলায় মাটিবাহী একটি ডাম্প ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ট্রাকটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় উপজেলার একটি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মাটি বহন করে ডাম্প ট্রাকটি পাটজাগ এলাকার একটি সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে রাস্তার এক পাশে হেলে পড়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় ট্রাকটি রাস্তার পাশের গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়।দুর্ঘটনার শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ট্রাকের চালককে উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা জানান অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন চালক।এদিকে দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় ওই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।এলাকাবাসীর অভিযোগ পাটজাগ এলাকার এই সড়কটি সরু ও অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে মাটিবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও ভারী যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টাঙ্গাইলে পেট্রোল পাম্পে মোবাইল কোর্ট অভিযান জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোবাইল কোর্টের অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি অবৈধ মজুদ এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পাম্পগুলোর জ্বালানি তেলের মজুদ রেজিস্টার, বিক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্র এবং মিটারিং সিস্টেম পরীক্ষা করে দেখা হয়। এ সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের সতর্ক করা হয় এবং সরকারি নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সঠিকভাবে মজুদ ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কেউ যাতে অবৈধভাবে তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চোরাচালান, মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেত্রকোনার সীমান্তবর্ন্তী উপজেলা দুর্গাপুরে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে দুর্গাপুর থানা চত্ত্বরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দুর্গাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আল ইমরানুল ইসলাম, ডিবি ওসি মো. তরিকুল, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, বিট পুলিশ কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা। সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধ, নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইভটিজিং বন্ধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সমাজ থেকে মাদক নির্মুল ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার।আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।সোমবার ০৯ মার্চ ২০২৬ ইং সকালে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই দেওহাটা মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ড জামুর্কী ও পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি যানবাহনের চাপ সম্ভাব্য যানজটের স্থান সড়কের অবস্থা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানজট নিরসন যানবাহনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বিশেষ করে মহাসড়কের যেসব পয়েন্টে প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয় সেসব স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।পুলিশ সুপার বলেন ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তাই যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং যানজট এড়াতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের টহল জোরদার করা হবে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং যত্রতত্র গাড়ি থামানো কিংবা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি।এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।উল্লেখ্য আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে মহাসড়কটিতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জেলা পুলিশের এ ধরনের তদারকি ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান।সভায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৬ মার্চ প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদদের স্মরণে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া সকাল ৯টায় গোপালপুর সূতী ভিএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে দিবসটির আনন্দঘন পরিবেশ বজায় রাখতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নওয়াব আলী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.নুরুল ইসলাম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মো. আবুল কাসেম মো.নাজিম উদ্দিন সিরাজুল ইসলাম আব্দুস ছাত্তার মো. রফিকুল ইসলাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল পৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার লেলিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা মহান স্বাধীনতা দিবস ও গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সকল কর্মসূচি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছেন টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব Sultan Salauddin Tuku। জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে স্থাপন করা হচ্ছে “জনতার সংযোগ” নামক বিশেষ ফোন বুথ। এই ফোন বুথের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ সরাসরি জানাতে পারবেন তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু’র কাছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের সাথে জনপ্রতিনিধির দূরত্ব কমবে এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও পর্যায়ক্রমে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে আরও ১৮টি “জনতার সংযোগ” ফোন বুথ স্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে শহর ও গ্রামের জনগণ সমানভাবে তাদের কথা সরাসরি এমপির কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাবেন। জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং গণমানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড মসজিদ মার্কেট কাঁচাবাজারে শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জনাব শরীফা হক ।সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। জেলা প্রশাসকের আগমনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং দ্রুত সহায়তার দাবি জানান।জেলা প্রশাসক বলেন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা প্রশাসন রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যেন আবার দ্রুত তাদের ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করতে পারেন সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাজার এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে বেবিস্ট্যান্ড মসজিদ মার্কেট কাঁচাবাজারে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি হয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে। এতে অন্তত ২০টি দোকান পুড়ে যায় এবং ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে আগুনে দোকানে থাকা মালামাল পুড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তা পাওয়ার আশায় রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গভীর রাতে টাঙ্গাইল বেবি স্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুড়েছে অন্তত ২০টি দোকান টাঙ্গাইল শহরের বেবি স্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে অন্তত ২০টি দোকান পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ করে বাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক দোকান জ্বলে যেতে থাকে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান তাদের অনেকের দোকানের মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টাঙ্গাইলে মোবাইল কোর্ট অভিযান জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা ও মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হয়েছে।রবিবার (০৮ মার্চ ২০২৬) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাঙ্গাইল শহরসহ বিভিন্ন স্থানের পেট্রোল পাম্পে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের মজুদ বিক্রয় কার্যক্রম এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করা হয়।অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের সতর্ক করে জানান, কোনোভাবেই জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা যাবে না। অনিয়ম বা মজুদদারির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের মনিটরিং কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল ক্রয় না করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এএফসি ওমেন্স ফুটবল ডে ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ফুটবল ফেস্টিবল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সূতী ভি.এম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বর্ণাঢ্য ফুটবল উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ নারী ফুটবলের উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরিতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, নারী ফুটবলের প্রসার ও তরুণীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সূতী ভি.এম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমী আব্দুল লতিফ, একাডেমির সহ-সভাপতি বাদল, একাডেমির কোচ ও বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক গোলাম রায়হান বাপন, উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কাঞ্চনসহ অন্যান্য শিক্ষক ও ক্রীড়াবিদরা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় কৃষ্ণা রানী সরকার। আরো উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র খেলোয়াড় সুমন ও মমিনসহ স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। ফুটবল ফেস্টিবলে স্থানীয় তরুণী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে প্রীতি ম্যাচ ও বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়, উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।
টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার—সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। রোববার (৮ মার্চ) জেলা প্রশাসন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। র্যালিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল সভাপতিত্ব করেন।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নারীর ক্ষমতায়নের কোনো বিকল্প নেই। সমাজে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নারীদের স্বনির্ভর করে তোলার মাধ্যমে রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।বক্তারা আরও বলেন নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা এবং তাদের প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা নারী উদ্যোক্তা শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নারীর অধিকার রক্ষা ও তাদের সামাজিক অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শনিবারেও ছুটিহীন ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিংসহ একাধিক তদারকি কার্যক্রম ।শনিবার ছুটির দিন হলেও জনগণের স্বার্থে মাঠে সক্রিয় ছিল উপজেলা প্রশাসন। দিনব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তদারকি ও অভিযানে অংশ নেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ধনবাড়ী বাজারে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা যাচাই, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি ও ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জ্বালানি তেলের মজুত, বিক্রয় কার্যক্রম এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা যাচাই করা হয়। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়। অন্যদিকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবেশের ক্ষতি এবং কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়। দিনের শেষ দিকে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।উপজেলা প্রশাসন জানায় জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘কুরআনের আলো হিফজুল কুরআন, হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতা’ শেষ হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে এ প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-1 আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তিনদিনব্যাপী এ আয়োজন প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পুরস্কার বিতরণী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিবছর এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের সুস্থ প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের মধ্যে কুরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ইসলামী মূল্যবোধ চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে কুরআনের শিক্ষাকে ধারণ করতে হবে। তরুণ সমাজকে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। দুর্গাপুরে বৃহৎ পরিসরে কুরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এমন মহতী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এ সময় প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে কোরআন তেলাওয়াতে সেরা ১০ জন, হামদে সেরা ৫ জন, নাতে সেরা ৫ জন এবং আজানে সেরা ৫ জন প্রতিযোগীকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এম. এ. জিন্নাহ, আমন্ত্রিত মেহমান আল্লামা জিয়া উদ্দিন (দা.বা.), প্রতিযোগিতা পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা তেরীবাজার জামে মসজিদ খতিব মাওলানা আব্দুর রব ও ইন্তেজামিয়া কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান নোমানী, হাফেজ মোস্তফা সাহেব, হাফেজ শাহাবুদ্দিন সাহেব, মাওলানা নুরুজ্জামান সাহেব, হাফেজ মজিবুর রহমান, মাওলানা জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্য আলেম-ওলামা ও এন্তেজামিয়া কমিটির সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুফতি হুমায়ুন কবীর, মুফতি এনায়েত উল্লাহ ও মুফতি শিব্বীর আহমেদ আকন্দ।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।