গোপালপুরে ৪৩ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সৌদি সরকারের উপহার খেজুর বিতরণ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় সৌদি আরব সরকারের উপহার হিসেবে প্রাপ্ত খেজুর উপজেলার ৪৩টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এসব খেজুর বিতরণ করা হয়।সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে গোপালপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধানদের হাতে খেজুর তুলে দেওয়া হয়। সৌদি সরকারের পাঠানো মোট ২০ কার্টুন খেজুর (প্রায় ১৬০ কেজি) বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন,সৌদি আরব সরকার প্রতিবছর বাংলাদেশের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানাগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছে। এই সহায়তা রমজানের পবিত্রতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে।”বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন এ ধরনের সহযোগিতা দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।”অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান, গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা মাদ্রাসা প্রধানদের হাতে খেজুর তুলে দেন। খেজুর পেয়ে মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধিরা সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশের নিরলস তৎপরতা পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক-এযানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।এ প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার মহোদয় সরাসরি মাঠে থেকে যানজট নিরসনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। তাঁর নির্দেশনায় জেলা পুলিশের সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।পুলিশ সুপার মহোদয় জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে জেলা পুলিশের সদস্যরা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছেন। সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
লঞ্চ দুর্ঘটনায় পিতা-পুত্রের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া লঞ্চ দুর্ঘটনায় সোহেল ও তার পিতা মিরাজ ফকিরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একসঙ্গে পিতা-পুত্রের এমন হৃদয়বিদারক মৃত্যু স্থানীয়দের মাঝে গভীর বেদনা ও শোকের আবহ তৈরি করেছে।জানা যায়, আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।স্থানীয়রা জানান, সোহেল ও তার পিতা মিরাজ ফকির ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন মানুষ। তাদের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি যেমন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে, তেমনি এলাকাবাসীও হারিয়েছে দুইজন প্রিয় মুখ।এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর দরবারে দোয়া করে বলেন, মহান আল্লাহ যেন সোহেল ও মিরাজ ফকিরকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং তাদের পরিবারকে এই শোক সহ্য করার তৌফিক দেন।এ ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহতদের স্মরণে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকবার্তা প্রকাশ করছেন এবং সবার কাছে তাদের জন্য দোয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশের আকাশে তাণ্ডব: শক্তিশালী কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টিতে কাঁপছে একাধিক বিভাগদফায় দফায় বজ্রপাত শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া — রাতে আরও বিস্তারের শঙ্কা চলতি বছরের এ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী বজ্রবৃষ্টি বহনকারী কালবৈশাখী ঝড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত দেশের ছয়টি বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় একাধিক দফায় তীব্র বজ্রপাত, দমকা হাওয়া, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হেনেছে।আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের অনেক জেলায় হঠাৎ করেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং পরবর্তীতে শুরু হয় তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও দেখা গেছে, যা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বজ্রপাতের তীব্রতা বেড়েছেদুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় তীব্র বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বজ্রপাত জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। খোলা মাঠ, নদী বা উঁচু স্থানে অবস্থানকারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।কালবৈশাখীর দমকা হাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের দমকা হাওয়া অনেক জায়গায় গাছপালা উপড়ে ফেলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সড়ক যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটে রাতে আরও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে জানা গেছে, রাতের মধ্যেও এসব বিভাগের আরও কিছু এলাকায় দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে বরিশাল বিভাগের দু-একটি স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আবহাওয়ায় কিছু সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি—বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার থেকে দূরে থাকা নৌযান চলাচলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন কৃষিতে প্রভাবের শঙ্কাহঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।সার্বিকভাবে, দেশের আকাশে বিরাজমান অস্থিতিশীল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশ্লেষকরা। যেকোনো সময় নতুন করে ঝড়বৃষ্টি শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কাঁদায় নেমে গোপালপুরে খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী ও এমপি দুই ভাই কৃষি ও জনজীবনে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে খাল পুনঃখননের গুরুত্ব তুলে ধরে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের রাজ গোলাবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন একটি খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী মুহূর্তে প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কাঁদার মধ্যেই নেমে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেলসহ উপজেলাপৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন,কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন অবহেলায় অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, ফলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার সারাদেশে ব্যাপক আকারে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর খাল পুনঃখননের ফলে এ অঞ্চলের কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান।খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগ গোপালপুর উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি টাঙ্গাইলের ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি আজ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ এক ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন।অভিযান চলাকালে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড বহির্বিভাগ জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রোগীদের শয্যার পরিবেশ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবা, ওষুধপ্রাপ্তি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং নিয়মিত তদারকি জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশকে রোগীবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।তিনি বলেন একটি হাসপাতালের সেবার মান অনেকাংশেই নির্ভর করে তার পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার ওপর। তাই রোগীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।এ সময় উপস্থিত চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান বজায় রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে এ ধরনের উদ্যোগ টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ১৮ মার্চ ২০২৬ ইং উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিতকরতেঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।আজ ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে সতর্কতা সমন্বয় এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে যানজট নিরসন সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), ৯৮ কম্পোজিট ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর সড়ক বিভাগ টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী কালিহাতির সহকারী কমিশনার (ভূমি) এলেঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসারসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আসন্ন ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে অভিব্যক্ত করেন।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শন করেন পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১৭ মার্চ মাঠপর্যায়ে তৎপরতা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জ বাংলাদেশ পুলিশ-এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস্ অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) জনাব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ সুপার ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত অ্যাডিশনাল ডিআইজি জনাব মোহাম্মদ সুলাইমান পিপিএম এবং টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।তারা মহাসড়কের গোড়াই থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত অংশে যানবাহন চলাচলের অবস্থা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করা হয়।এ সময় টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।পুলিশ কর্মকর্তারা জানায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো যায় এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
ইফতার মাহফিলে উত্তেজনা চেয়ারম্যানের প্রাইভেটকারে আগুন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নে ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন চকদারের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে দুলাল হোসেন চকদার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অংশ নেন। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে হঠাৎ করে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়যা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা চেয়ারম্যানের প্রাইভেটকারে আগুন ধরিয়ে দেয়।ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুনে প্রাইভেটকারটির আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় ঘটনাটি পূর্ব বিরোধের জের ধরে ঘটতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
টাঙ্গাইলের সকল ফিলিং স্টেশন গুলোতে সারাদেশের ন্যায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং প্রত্যাহার ১৫ মার্চ ২০২৬ ইং জ্বালানি তেল বিক্রিতে আরোপিত রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। রোববার (১৫ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকেই দেশের সব জ্বালানি বিতরণ কেন্দ্র থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় সাম্প্রতিক সময়ে ইরান–ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেয়। সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় সরকার গত ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিল। এতে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়।সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোটরসাইকেলে দৈনিক ২ লিটার স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার পিকআপ বা লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের সুবিধার্থে মোটরসাইকেলের জন্য নির্ধারিত সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়। পাশাপাশি জ্বালানি বিতরণে আরোপিত ২৫ শতাংশ রেশনিং কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়।তবে ইতোমধ্যে আমদানিকৃত কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর এ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এতে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকার রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার বলছে, সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং চলমান বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তেল বিক্রিতে আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ থেকেই দেশের সব জ্বালানি বিতরণ কেন্দ্র থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে পরিবহন খাত কৃষি কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেলদুয়ার থানায় নবনির্মিত ব্যারাকের উদ্বোধন ইফফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানায় অফিসার ও ফোর্সের জন্য নবনির্মিত ব্যারাকের শুভ উদ্বোধন এবং ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দেলদুয়ার থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল।অনুষ্ঠানের শুরুতে নবনির্মিত ব্যারাকের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। এ সময় তিনি থানার অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে এমন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।উদ্বোধন শেষে দেলদুয়ার থানা আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং পুলিশ প্রশাসনের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আদিবুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), টাঙ্গাইল এবং এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) টাঙ্গাইল।এছাড়াও অনুষ্ঠানে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং থানায় কর্মরত সকল অফিসার ও ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
বাসাইলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু “শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার”এই স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা-এ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার (১৫ মার্চ) সকালে বাসাইল উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাসাইল পৌরসভা-এর প্রশাসক মোছাঃ আকলিমা বেগম।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার বংশবিস্তার রোধ করা। এজন্য বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা জরুরি। তিনি সবাইকে প্রতি শনিবার নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি সচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।উপজেলা প্রশাসন জানায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাধারণ পথচারী ও অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে মরহুমা লালভানু বেগম ও মরহুম হাফিজুর রহমান তালুকদার স্মৃতি ফাউন্ডেশন। মানবতার সেবাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ইফতার বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পথচারী, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্যকে সামনে রেখে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই ফাউন্ডেশন গঠিত হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বছর মাহে রমজানেই আমাদের ফাউন্ডেশন টি যাত্রা শুরু করে এবং নিয়মিত ইফতার বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে ইব্রাহিমা বাদ রেলওয়ে স্টেশন মহাসড়ক সংলগ্ন। ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ আরও জানান, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে যাতে সমাজে আমাদের মূলমন্ত্র সেবা ও মানবতাকে ছড়িয়ে দিতে পারি
টাঙ্গাইলে সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৩ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় শহরের রয়্যাল প্লেস রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতানসালাউদ্দিন টুকু (এমপি)।প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন সমাজের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা সমাজের আয়না হিসেবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করে। তিনি বলেন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে শক্তিশালী করে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদেরপেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি-কে সংবর্ধনা প্রদান ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থিত রয়েল প্যালেস ভিআইপি হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতিহাসানুজ্জামিল শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রেসক্লাব টাঙ্গাইলের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মাওলা টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সভাপতি মোঃ আজগর আলী টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ সাফি ইথেন এবং সদর থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিমউদ্দিন বিপ্লব। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্রের মহাসচিব জাফর আহমেদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আরিফুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম আল মামুন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক এবং আমাদের আদর্শের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন বাংলাদেশে যখনই বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে তখনই এ দেশের সাংবাদিক সমাজ সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে এবং সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে উদার ভূমিকা পালন করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন সংবাদপত্র ওসাংবাদিকদের সমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ তুলে ধরে সমাজের বাস্তব চিত্র মানুষের সামনে উপস্থাপন করা এবং দেশ ও জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। সাংবাদিকরা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয় তারা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন।অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইলে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি: দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা টাঙ্গাইলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট সাত হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার বেগুনটাল ও তোরাপগঞ্জ বাজারে পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। অভিযানের সময় বাজারে বিভিন্ন দোকান তদারকি করে দেখা যায় কয়েকজন ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন।অভিযান চলাকালে বেগুনটাল বাজারের জিন্নত স্টোর সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময়ে তোরাপগঞ্জ বাজারে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী ১১৬ টাকা লিটারের পেট্রোল ১৭০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। এ অপরাধে তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যদি অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করে বা ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি আরও বলেন বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে কোনো পণ্য বিক্রি না করেন।
বাগেরহাট-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা মাইক্রোবাস–নেভী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪একই পরিবারের ১৩ জনের মৃত্যু, নবদম্পতি ও দুই শিশুসহ নিভে গেল আনন্দের ঘর ।খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১৩ জনসহ মোট ১৪ জন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। একটি মাইক্রোবাস ও নেভীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নতুন বর–কনে এবং দুইটি ছোট শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে নববধূকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে ছিল বিয়ের আনন্দ, হাসি আর নতুন জীবনের স্বপ্ন—সেই যাত্রাপথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নেভীর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তের মধ্যেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা অনেককেই মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ জনে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও শোকাবহ করে তুলেছে।হাসপাতালে নেওয়ার পর ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় নববধূর হাতে এখনো টকটকে লাল মেহেদি রয়ে গেছে। কিন্তু জীবনের সেই নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই থেমে গেল তার জীবনযাত্রা। মেহেদির রঙ ফিকে হওয়ার আগেই নিভে গেল তার স্বপ্নের প্রদীপ।দুর্ঘটনায় নিহত দুইটি ছোট শিশুর বয়সও ছিল খুবই কম। তাদের শরীরে তখনো প্যাম্পার্স পরানো ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এত অল্প বয়সেই তাদের জীবনের ইতি টানল নির্মম এই সড়ক দুর্ঘটনা।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিয়ের আনন্দে ভরা একটি পরিবার মুহূর্তের মধ্যেই শোকে ভেঙে পড়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের একসঙ্গে মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ।দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এদিকে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমেও শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন অসংখ্য মানুষ। অনেকেই বলছেন একটি পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে একসঙ্গে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তর তর হে, নির্মল করো উজ্জ্বল করো, সুন্দর করো হে এ’’ এই প্রতিপাদ্যে দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড়ে অবস্থিত মানবকল্যানকামী অনাথালয় থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সাত গুণীজনকে অনাথবন্ধু সম্মাননা দেয়া হয়েছে। ৩দিন ব্যাপি বিশ্ববান্ধব কবি সম্মেলন ও সনাতন ধর্মীয় মহা-সম্মেলন উপলক্ষে মঙ্গবার (১০ মার্চ) রাতে গুণীজনদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। বিশ্ব বান্ধব কবি সম্মেলনের সভাপতি কবি শফিউল আলম স্বপনের সভাপতিত্বে, কবি বিদ্যুৎ সরকার ও কবি জাহাঙ্গীর আলম রিপনের সঞ্চালনায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক পরাগ রিছিল, শিক্ষাবিদ এম এ জিন্নাহ, সংস্কৃতিজন আব্দুল্লাহ আল মামুন মুকুল, সুসঙ্গ সম্মিলিত সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক কবি সজীম শাইন সহ জেলার গন্যমান্য ব্যক্তি, কবি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা (কোম্পানি কমান্ডার) স্নিগ্ধেন্দু বাউল, সাংবাদিকতায় (যমুনা টেলিভিশন ও যুগান্তর এর জেলা প্রতিনিধি) কামাল হোসাইন, শিক্ষায় (মরণোত্তর) দয়া শংকর ত্রিবেদী, চিকিৎসায় ডা: প্রভাত কুমার সাহা, সমাজসেবায়, দীপক সরকার (প্রতিষ্ঠাতা জলসিঁড়ি পাঠকেন্দ্র), কবিতায় : বকুল মাস্টার এবং অনাথবন্ধু : কবি বিদ্যুৎ সরকার কে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।
জামালপুরে পুলিশ সুপারের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা জেলা প্রশাসন জামালপুরের উদ্যোগে পুলিশ সুপার ড.চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেকের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহাম্মদ ইউসুপ আলী।অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিদায়ী পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেকের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন এবং জামালপুর জেলায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর নিষ্ঠা পেশাদারিত্ব ও দক্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।বক্তারা বলেন দায়িত্ব পালনের সময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা অপরাধ দমন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন।
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ১১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।মঙ্গলবার মহাসড়কের বারনা বাইপাস থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত সড়ক এবং কালিহাতি লিংক রোডের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় সড়কের যানজট নিরসন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের মহাসড়কে সার্বক্ষণিক তদারকি জোরদার করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের প্রস্তুতির বিষয়েও তিনি খোঁজখবর নেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা সহকারী পুলিশ সুপার কালিহাতি সার্কেলসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা। এছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্যোগ প্রস্ততিতে লড়ব, তারুন্যের বাংলাদেশ গড়ব’’ এই প্রতিপাদ্যে সারাদেশের মতো নেত্রকোনার দুর্গাপুরেও নানা আয়োজনে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্ততি দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে আলোচনা সভা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক মহড়ার মধ্যদিয়ে এ দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার আয়োজনে ভুমিকম্প এবং অগ্নিকান্ডে আমাদের করণীয় বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এম এ জিন্নাহ প্রমুখ। এছাড়া অন্যদের মাঝে, উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তিতে উপজেলা ফায়ার ষ্টেশন ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক মহড়া প্রদর্শন করেন। আলোচনা সভায় ইউএনও আফরোজা আফসানা বলেন, নেত্রকোনা জেলার মধ্যে সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর একটি প্রবল দুর্যোগপুর্ন উপজেলা। দুর্যোগে ভয় না পেয়ে নিজেদের পুর্ব সচেতনতা ও প্রস্ততি থাকলে সকল দুর্যোগই মোকাবিলা করা সম্ভব। দুর্যোগ প্রস্ততি বিষয়ে অনুষ্ঠিত মহড়া দেখে আমাদের মাঝে আতঙ্ক হওয়ার ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। যে কোন দুর্যোগে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
পোড়াবাড়ী মাদ্রাসার সামনে ভুষি বোঝাই ট্রাক উল্টে দুর্ঘটনা, চালক আহত টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়ী এলাকায় ভুষি বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে (৯ মার্চ ২০২৬) উপজেলার নাগবাড়ী এলাকার পোড়াবাড়ী পাবলিক ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে গরুর ভুষি ভর্তি একটি ট্রাক ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ট্রাকে থাকা ভুষি সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার ফলে অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রাক উল্টে পড়ার ঘটনায় গভীর রাতে এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে কেরিংয়ের মাধ্যমে উল্টে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়।এদিকে দুর্ঘটনায় ট্রাক চালক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।স্থানীয়রা জানান সড়কে অসতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কারণেই প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তাই চালকদের আরও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানান তারা। সচেতন মহল বলছে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই সড়কে যানবাহন চালানোর সময় সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।