ময়মনসিংহ রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার নির্বাচিত শেরপুরের এসপি মো. কামরুল ইসলাম ময়মনসিংহ রেঞ্জের জেলাগুলোর মধ্যে সামগ্রিক কর্মদক্ষতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আভিযানিক সাফল্য ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম ‘শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার’ নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ফেব্রুয়ারি-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া।সভায় রেঞ্জাধীন বিভিন্ন জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরাধ দমন কার্যক্রম অভিযানের সাফল্য এবং জনমুখী পুলিশিং কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়। এ মূল্যায়নে সার্বিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় শেরপুর জেলা পুলিশকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।পরে ডিআইজি মহোদয়ের নিকট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম। এ সময় রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ বাহিনীর মধ্যে পেশাগত উৎকর্ষতা ও সেবার মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর মডেল থানাধীন আলীনগর ভূতপুকুর ও হাজিরমোড় এলাকায় মাদকবিরোধী পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনগণের মাঝে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়। পথসভায় উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (সি সার্কেল) মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপপরিদর্শক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, উপপরিদর্শক মামুনুর রশিদ, সহকারী উপপরিদর্শক মোঃ আরিফুল ইসলাম, এএনএম হাসান, আহমেদ শোভা ও মোঃ আল-আমিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় স্থানীয় জনগণ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আয়োজকরা জানান, মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
টাঙ্গাইল জেলার ঐতিহ্যবাহী হেমনগর রেল স্টেশনটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কার্যত পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। একসময় যাত্রীদের পদচারণায় মুখর এই স্টেশন আজ নীরবতা ও অবহেলার দীর্ঘ ছায়ায় ঢাকা। যাত্রীশূন্য প্ল্যাটফর্ম, বন্ধ টিকিট কাউন্টার এবং মরিচা ধরা সাইনবোর্ড—সব মিলিয়ে স্টেশনজুড়ে জমে উঠেছে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার করুণ চিত্র।অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের সংকটরেলওয়ের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় স্টেশনটিতে সংরক্ষিত কোটি টাকার সরকারি আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার পথে। অপেক্ষমান কক্ষের চেয়ার–টেবিল, বিভিন্ন অফিস ইকুইপমেন্ট, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলো ধুলোয় ঢেকে পড়ে আছে। অনেক স্থানের দরজা-জানালা ভাঙাচোরা থাকায় রাতের বেলায় অনাধিকার প্রবেশের ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে করে মূল্যবান সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।যাত্রীসেবা ও অর্থনৈতিক প্রভাবদীর্ঘদিন ধরে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীসেবার মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। স্টেশনকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন সেবা এবং আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেছে এবং এলাকার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে।পুনরায় চালুর দাবিস্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি—হেমনগর রেল স্টেশনটি দ্রুত পুনরায় চালু করা হোক। পাশাপাশি অবহেলায় পড়ে থাকা সরকারি সম্পদকে রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় এনে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের মতে, আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস পুনরায় চালু হলে যাত্রীসেবা উন্নত হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে এবং এলাকায় নতুন করে অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।হেমনগর রেল স্টেশন শুধু একটি অবকাঠামো নয়—এটি এলাকার যোগাযোগ, অর্থনীতি ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে স্টেশনটির পুনর্জাগরণ সম্ভব হলে সরকারিভাবে সংরক্ষিত সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত কালিহাতীর মহেলা গ্রাম: বর্ষার আগেই শুরু তীব্র ভাঙন, চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের অন্তর্গত এলেঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মহেলা গ্রামটি বর্তমানে মারাত্মক নদী ভাঙনের মুখে পড়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই এ গ্রামের মানুষের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ আর আতঙ্কের ছায়া। নদীর অব্যাহত আগ্রাসনে একের পর এক বসতবাড়ি ফসলি জমি গাছপালা এবং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়গত কয়েক বছর ধরে ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।কেউ কেউ আবার নদীর পাড়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন প্রতিনিয়ত ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো চলতি বছর এখনো পূর্ণমাত্রায় বর্ষা শুরু না হলেও এরই মধ্যে নদী ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভেঙে পড়ছে নদীতে। এতে করে স্থানীয় কৃষকরা তাদের আবাদি জমি হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে ভেঙে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ফলে এলাকাবাসীর যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলেও এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান গ্রহণ করা হয়নি। মাঝে মাঝে অস্থায়ীভাবে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা বা ছোটখাটো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে প্রতি বছরই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।এ অবস্থায় মহেলা গ্রামের সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন— জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ,ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ও বালুভর্তি বস্তা ফেলা,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান,এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন।এলাকাবাসী আরও জানান সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মহেলা গ্রামের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হবে।তাই,জনস্বার্থে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ওজনপ্রতিনিধিদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে কার্যকর ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা হোক।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে টাঙ্গাইলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মশার বংশবিস্তার রোধে আজ ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখ টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণ করেন।অভিযানের অংশ হিসেবে রাস্তা-ঘাট,ড্রেন,খাল-বিল,বাসাবাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে পানি জমে থাকতে পারে এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার করা এবং জনসাধারণকে সচেতন করার কার্যক্রমও চালানো হয়।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে। জনস্বার্থে সমগ্র জেলাজুড়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।এ সময় সকলকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকতে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
অবৈধ জ্বালানি মজুদে এলেঙ্গা ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ রাখার দায়ে একটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।আজ সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সজিবুল ইসলাম শুভ’র নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে মেসার্স এলেঙ্গা ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানকালে স্টেশনটিতে অবৈধভাবে ১০,০০০ লিটার ডিজেল, ১,৮৬৮ লিটার পেট্রোল এবং ৪,০০০ লিটার অকটেন মজুদ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থ রক্ষায় ও বাজারে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান চলমান রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কমিটি। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মোড়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি আলকাছ উদ্দিন মীর এর সভাপতিত্বে যুগ্ন:সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উদীচী সভাপতি শামছুল আলম খান, সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম প্রমুখ। এ সময় অন্যান্যের মাঝে, সিপিবির সাবেক সাধারন সম্পাদক রুপন কুমার সরকার, সিপিবি নেতা আজিম উদ্দীন, আদিবাসী ইউনিয়ন দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির নেত্রী চিনু রেমা সহ সিপিবি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তরা সরাসরি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘ইউনূস সরকার আমেরিকার সঙ্গে একটি গোলামির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এই চুক্তি বাতিলের দাবীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই কালো চুক্তি বাস্তবায়ন প্রতিহত করবে। আমরা বর্তমান সরকারকে বলতে চাই, আমেরিকার সাথে হওয়া সকল অন্যায্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা করা হোক। একই সাথে ভারতের সাথে হওয়া সকল গোপনীয় ও অন্যায্য চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছি।’
জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মোবাইল কোর্ট অভিযান, ২৯ মার্চ ২০২৬টাঙ্গাইল জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক মনিটরিং কার্যক্রম ও মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) দিনব্যাপী এ অভিযান জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একযোগে পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন পেট্রলপাম্প, তেল ডিপো ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়। এ সময় তেলের মজুদ পরিস্থিতি, নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি এবং পরিমাপে সঠিকতা যাচাই করা হয়।অভিযানকালে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায় করা হয় এবং কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয় এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের মনিটরিং কার্যক্রম ও মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, কোথাও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।জ্বালানি তেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের এ তৎপরতা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
নারায়ণগঞ্জে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোবাইল কোর্টের অভিযান নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ফুয়েলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয়। অভিযানে জ্বালানি তেলের মজুদ, বিক্রয় রেজিস্টার, মিটার ক্যালিব্রেশন এবং নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।অভিযান পরিচালিত ফিলিং স্টেশনগুলো হলো এস এস ফিলিং স্টেশন (মেঘনা কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা),মেসার্স ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশন (কাঁচপুর নয়াবাড়ী, সোনারগাঁও),তিতাস ফিলিং স্টেশন (কাঁচপুর নয়াবাড়ী সোনারগাঁও),মেঘনা ফিলিং স্টেশন (কাঁচপুর) মুক্তি ফিলিং স্টেশন (কাঁচপুর)মেসার্স শ্যামস ফিলিং স্টেশন (মৌচাক, সিদ্ধিরগঞ্জ) এবংমেসার্স জোনাকী ফিলিং স্টেশন (সানারপাড়, সিদ্ধিরগঞ্জ)।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে স্টেশনগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। কোথাও কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার অফিস উদ্বোধন ও ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নতুন অফিস উদ্বোধন ও ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ মার্চ সকালে এলেঙ্গা ইউনিটের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অফিসটির উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা লুৎফর রহমান মতিন।এলেঙ্গা ইউনিটের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক মাছুদুর রহমান মিলন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলেঙ্গা ইউনিটের উপদেষ্টা ও সাবেক এএসপি আখতারুজ্জামান বাবুল, জেলা ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক বোরহান তালুকদার, সদস্য ইমাম হাসান সোহান, মোঃ একদিল হোসেন এবং সৈয়দ সাইফুজ্জামান মাসুদ।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এলেঙ্গা ইউনিটের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম সজিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক কেরামত আলী, অর্থ সম্পাদক সাইদুর রহমান পলাশ, দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক, ইমন ও প্রিয়া প্রমুখ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার।অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, নৈতিকতা রক্ষা এবং সমাজের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
গোপালপুরে কলেজপড়ুয়া ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় এক কলেজপড়ুয়া ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের সোনামুই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত ছাত্রের নাম মো. মেহেদী হাসান (২২)। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর পিতার নাম মো. লালমাহমুদ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে মেহেদী হাসানকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।ঘটনাস্থল থেকে নিহতের নিজ হাতে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিঠিতে তিনি তাঁর মৃত্যুর জন্য অন্য কাউকে দায়ী না করার কথা উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেহেদী হাসান কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চলছে।খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে গভীর শোক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী একজন মেধাবী ছাত্রের অকাল মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পেট্রলপাম্পে ভিড় কমার আভাস শনিবার থেকে সরবরাহ স্বাভাবিকের প্রত্যাশা সারা দেশের পেট্রলপাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সংগ্রহে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় ও সাময়িক অস্থিরতা ধীরে ধীরে কেটে যাওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতাই মূলত এই চাপ সৃষ্টি করেছে যা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে।বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করেছে শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বার্তায় সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় অনভিপ্রেত এবং এটি সম্পূর্ণ সাময়িক।তিনি আরও বলেন সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের ঘাটতি নেই। কিছু গুজব ও আতঙ্কের কারণে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খুব দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এদিকে বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইলে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা একই পরিবারের নারী-শিশুসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ২৭ মার্চ ২০২৬ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা-এ এক হৃদয়বিদারক ট্রেন দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী দুইজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে বাসের কয়েকজন যাত্রী মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসে পড়েন। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রেন তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়, ফলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম জানান নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।টাঙ্গাইল রেলস্টেশন ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন,বাসের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা নেমে রেললাইনের পাশে বসেছিলেন। এ সময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি এসে তাদের চাপা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের আগমনের শব্দ তারা বুঝতে পারেননি।”দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জেলা জাসদের শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা বিভিন্ন কর্মসুচি পালনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি উদযাপন করছে। বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ সকাল ৮ টায় শহরের নিমতলা মোড়ে সংগঠনটির জেলা কার্য্যালয় থেকে র্যালিসহকারে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসন এর সামনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের নামাঙ্কিত স্মৃতি ফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয় । পরে জেলা কার্য্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় জাসদের সহ সম্পাদক ও জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয় ।এসময় আলোচোনায় উপস্তিত ছিলেন, জেলা জাসদের সিনিয়র নেতা মো. বাবর আলি, সিনিয়র সহ সভাপতি সবুর আলি, সদর উপজেলা জাসদের সম্পাদক বাবলু, কেন্দ্রীয় জাসদ ছাত্রলীগের যুগ্ন আহব্বায়ক আব্দুল মজিদসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত: ২০১ গম্বুজ মসজিদ দেখতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পিতামাতার সঙ্গে ঘুরতে এসে ২৫ মার্চ ২০২৬ ইং এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এক নিষ্পাপ শিশু। ঘটনাটি ঘটেছে নগদা শিমলা ইউনিয়নের উত্তর পাথালিয়া এলাকায় যা মুহূর্তেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে বিখ্যাত ২০১ গম্বুজ মসজিদ পরিদর্শনে আসে শিশুটি আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরপুর এ ভ্রমণ হঠাৎ করেই রূপ নেয় এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। মসজিদ দর্শন শেষে ফেরার পথে বা আশপাশ এলাকায় অবস্থানকালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় সে।দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান দুর্ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক এবং ভয়াবহ। তারা আরও জানান ঘটনাস্থলে মুহূর্তের মধ্যেই মানুষের ভিড় জমে যায় এবং সবাই মিলে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। ঈদের আনন্দ তাদের জীবনে রয়ে গেল এক দুঃসহ স্মৃতি হয়ে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।স্থানীয় প্রশাসন জানায়, দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শিশুটির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
টাঙ্গাইলে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কড়া মনিটরিংয়ের নির্দেশনা। জ্বালানি তেলের চলমান সংকট পরিস্থিতিতে টাঙ্গাইল জেলার পেট্রোল পাম্পসমূহে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার পেট্রোল পাম্প মালিক ও পেট্রোল পাম্প সমিতির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শরীফা হক। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।সভায় বক্তারা বর্তমান পেট্রোল ও অকটেন সংকটের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন পেট্রোল পাম্পগুলোতে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে ভোক্তাদের ভোগান্তি কমানো কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে জ্বালানি বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন সরকার নির্ধারিত নির্দেশনা অমান্য করে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। তিনি সকল পেট্রোল পাম্প মালিককে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান এবং যেকোনো অনিয়মের তথ্য দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারও জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনিয়ম বা কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা টাঙ্গাইল জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক এবং পেট্রোল পাম্প সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।সংশ্লিষ্টদের মতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক রেল দুর্ঘটনায় মোবারগ আলী (৭০+) নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মোবারকআলীআত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে রেললাইনের ওপর দিয়ে পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রেন এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। আঘাতের তীব্রতায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে আশপাশের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। অনেকে চেষ্টা করেও তাকে আর জীবিত উদ্ধার করতে পারেননি। পরে বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং এমন দুর্ঘটনা এড়াতে রেললাইনে চলাচলের সময় সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।গোপালপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।উল্লেখ্য, অসতর্কভাবে রেললাইন পারাপারের কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, যা জনসচেতনতার ঘাটতির দিকটিকেই সামনে এনে দিচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার শিয়ালখোল এলাকায় অবস্থিত কাকন-কলি ফিলিং স্টেশন ও শিয়ালখোল ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গতকাল রাত ১০টার পর থেকেই তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যানবাহনচালক ও সাধারণ গ্রাহকদের, যদিও পর্যাপ্ত মজুদ থাকার দাবি রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে ভিড় বাড়তে থাকে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ গ্রাহকদের অপেক্ষায় রেখে প্রভাবশালী ব্যক্তি, ‘বড় ভাই’ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের গাড়িতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেশি পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছেন না। আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু গ্রাহক নিয়ম ভঙ্গ করে ট্যাংকি ওভারলোড করে তেল নিচ্ছেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকদের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও একপর্যায়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ ‘তেল শেষ’ ঘোষণা দেয়। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, “রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সামনে দেখছি প্রভাবশালীদের গাড়িতে একের পর এক তেল দেওয়া হচ্ছে। আর আমাদের জন্য নাকি তেল শেষ!” স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অনিয়ম বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিয়মিত তদারকি এবং সিসিটিভি মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক এবং সাধারণ জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করুক।
জামালপুরে জ্বালানি তেল বিক্রয় তদারকিতে অভিযান, খোলা ডিজেল বিক্রিতে জরিমানা , ২৩ মার্চ ২০২৬ জামালপুর সদর উপজেলা জ্বালানি তেলের মজুদ, বিক্রয় পরিস্থিতি ও সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। সোমবার (২৩ মার্চ) পরিচালিত এ অভিযানে একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন এবং অবৈধভাবে খোলা ডিজেল বিক্রির দায়ে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার মেসার্স মুমু মিথি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের বিদ্যমান মজুদ সরেজমিনে যাচাই করা হয়। এ সময় জ্বালানি তেলের বিক্রয় কার্যক্রম, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক প্রণীত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্টেশন কর্তৃপক্ষকে নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।পরে দরিপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাল মিয়া নামীয় এক ব্যক্তিকে খোলা অবস্থায় অবৈধভাবে ডিজেল তেল বিক্রয় করতে দেখা যায়। এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অনিয়মিত বিক্রয় রোধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেননিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ভোক্তারা ন্যায্য দামে জ্বালানি পেতে সক্ষম
সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলাতেও ফিলিং স্টেশনগুলো হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলো ২৩ মার্চ ২০২৬সোমবার—সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলা-এর ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিরাজ করছে এক অস্বাভাবিক নীরবতা যেন কোলাহলপূর্ণ স্থানগুলো মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশে। সকাল থেকে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে শত শতমোটরসাইকেল চালক ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও আশানুরূপ জ্বালানি না পেয়ে অনেকেই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতে করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কেউ কেউ খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ জরুরি কাজেও যেতে পারছেন না।ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা কোনো ধরনের জ্বালানি মজুদ করেননি। ডিপো থেকে সীমিত সরবরাহ পাওয়ায় দ্রুতই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে সরবরাহ পাওয়া মাত্রই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা জানান।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর সমন্বয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে দফায় দফায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, অতি শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও যেখানে পেট্রোল পাম্পগুলো ছিল কোলাহলপূর্ণ ও উৎসবমুখর, সেখানে এখন বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই, তবুও মাঠপর্যায়ের এই চিত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করছে হতাশা ও ক্ষোভ। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর সামনে রেখে যখন মানুষের মধ্যে থাকার কথা আনন্দ ও উৎসবের আমেজ তখন জ্বালানি সংকটের এই বাস্তবতা অনেকের জন্য সেই আনন্দকে বিষাদে পরিণত করেছে। হাজারো মানুষ পড়েছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে—দেখার যেন কেউ নেই, বলারও নেই দেশ যেন চোখের সামনে জ্বালানি সংকটে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাচ্ছে এই দায়ভার কার কে নিবে জানতে চায় দেশের জনগণ!!
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশকে সামনে রেখে একটি সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দুর্গাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী, পাহাড়ঘেরা জনপদ এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলার মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্যোগে ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। তাই জনগণের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নদী ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুরের অপার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কুল্লাগড়া, দুর্গাপুর সদর, লেংগুরা, খারনৈ এবং রংছাতি—এই পাঁচটি ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ‘ট্যুরিজম হাব’ বা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পরিবহন খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র-বৃহৎ ব্যবসায়ীরা এর মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা দুর্গাপুরের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এ অঞ্চলে আসবেন। এর ফলে দুর্গাপুরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে আধুনিক হাসপাতাল, উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন সুবিধা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক নাগরিক সেবারও প্রসার ঘটবে। ফলে দুর্গাপুর শুধু একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেই নয়, বরং একটি আধুনিক, সম্ভাবনাময় ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা আফসানা এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবক ড. দিবালোক সিংহ। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বপালনকারী গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সবার উপস্থিতিতে দুর্গাপুরের সম্ভাবনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতের বিস্তার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন খাতকে বিকশিত করা গেলে এই অঞ্চল শুধু নেত্রকোনাতেই নয়, সারাদেশের কাছে একটি অনন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।