অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, বাজার মনিটরিং ও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন কার্যক্রম পরিচালনা শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বাজার মনিটরিং এবং নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে পৃথক অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।আজ ঝিনাইগাতী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপজেলার আহম্মদনগর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন, প্রায় ৮০০ মিটার পাইপ ও একটি মাচা ভেঙে দেওয়া হয়।এ সময় ধানশাইল এলাকা থেকে মাটিভর্তি একটি মাহিন্দ্র গাড়ি আটক করা হলেও চালক অভিযানের আগেই পালিয়ে যায়। পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে শ্রীবরদী উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে তদারকি কার্যক্রমের পাশাপাশি বাজার মনিটরিং পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে শেরপুর জেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
র্যাব-১৪-এর অভিযানে প্রাইভেটকার চুরি মামলার ২ সন্দেহভাজন গ্রেফতার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানায় দায়ের হওয়া একটি প্রাইভেটকার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটনে অভিযান চালিয়ে দুই সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার ঝুনকাইল এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবির (৫৮) গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৬-০১৭৭) দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের ঝুনকাইল দক্ষিণপাড়া এলাকায় সাখাওয়াত ডাক্তারের বাড়ির মোড় সংলগ্ন একটি স্থানে পার্কিং করে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান অজ্ঞাতনামা চোরচক্র তার গাড়িটি চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৭, তারিখ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ধারা-৩৭৯ পেনাল কোড)। মামলা রুজুর পর থেকেই র্যাবের টাঙ্গাইল ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়াতদন্ত শুরু করে।র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে আব্দুল কাদের (২৭), জেলা-লালমনিরহাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের জয়দেবপুর থানা এলাকা থেকে মামুন আহমেদ (৪২), জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয় চুরি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কালিহাতীতে এলপিজি গ্যাসের দোকানে মোবাইল কোর্ট রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার কালিহাতী ০২ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দোকানসমূহে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার মনিটরিং করা হয়েছে।সোমবার (০২ মার্চ) দিনব্যাপী এ অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী অনিয়মের দায়ে ০৩ (তিন)টি মামলায় মোট ৯,০০০/- (নয় হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন কালিহাতী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী স্বাভাবিক দামে বিক্রির জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রমজান মাসজুড়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে যাতে সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারেন।
গোপালপুর উপজেলা-এ মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত “মাদককে না বলুন মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান”—এই প্রত্যয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিটি সার্বিকভাবে পরিচালনা ও দিকনির্দেশনা দেন গোপালপুর উপজেলা কৃষক দলের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা, জিবিজি কলেজ ছাত্র সংসদ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবি আলম (ফটিক)।মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দুলাল তরফদার শ্রমিক নেতা মিন্টু মিয়া জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতা মানিক হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্রনেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, মির্জাপুর বাজারের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অংশ নেন।বক্তারা বলেন মাদক আজ সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের করাল গ্রাসে পরিবার ধ্বংস হচ্ছে, অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তারা জোর দিয়ে বলেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে।বক্তারা আরও উল্লেখ করেন মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের শত্রু। তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কালিহাতির বল্লা বাজারে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং ভোক্তা অধিকার আইনে ৩ মামলায় ১৪ হাজার টাকা জরিমানা কালিহাতি (টাঙ্গাইল),২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার বল্লা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার বল্লা বাজার এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ০৩ (তিন)টি মামলায় মোট ১৪,০০০/- (চৌদ্দ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কালিহাতি টাঙ্গাইল। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখা দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও ভোক্তা হয়রানি প্রতিরোধে এ ধরনের বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো
১৫ বোতল ফেয়ারডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ)-এর বিশেষ অভিযানে সাফল্য ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে মাদক নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) দক্ষিণের একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে ১৫ বোতল ফেয়ারডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চরকুতুব এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ফজলুল হক (৩৮)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তার হেফাজত থেকে ১৫ বোতল নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা নং-৪২, তারিখ ২৬/০২/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ) জানায় মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নরসিংদীতে গণধর্ষণের পর কিশোরীকে বাবার সামনে থেকে হত্যা ১৫ বছরের আমেনা আক্তারের নৃশংস মৃত্যু: স্থানীয় প্রশাসন নীরব । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে নরসিংদীর মাধবদী উপজেলায় গণধর্ষণের শিকার ১৫ বছরের কিশোরী আমেনা আক্তারকে তার বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকা শোকের ছায়ায় কভারড স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতার প্রকাশ করছেন।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষক নুরা মিয়া এবং তার সহযোগীরা ন্যায়বিচারের ব্যর্থ চেষ্টার পর কিশোরীকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ সরিষার ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণীকে বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে হত্যা! হ্যাঁ, এমনটাই ঘটেছে নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। আমেনা আক্তার নামে ১৫ বছর বয়সি তরুণীকে গণধর্ষণ করার পর এলাকার মুরুব্বিদের দিয়ে বিচারের মাধ্যমে সমাধান করতে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে ধর্ষক নুরা মিয়া এবং তার দলবল নিয়ে ভিক্টিম আমেনা আক্তারকে বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। তার গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার নিশ্চিত হওয়ার পর আমেনা আক্তারের লাশ সরিষা ক্ষেতে ফেলে চলে যায়।এমন পৈশাচিক নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ যদি না করি নিজেকে মানুষ ভাবতে লজ্জা হবে। এমন একটা হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফেসবুকে হৈচৈ নেই। রাজনীতির মারপেঁচে অসহায় মানুষদের চিৎকার কেউ শুনতে পায় না৷ আজ আমেনাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কাল আপনি আমার বোন ভাগ্নি মায়েদের সাথেও একি ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নিজ জায়গা থেকে প্রতিবাদ করুন৷ আমেনা হত্যার বিচার চেয়েছেন সারা এলাকাবাসী।নরসিংদীর মানুষ এখনো চুপ কেন?স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন এমন পৈশাচিক অপরাধের প্রতিবাদে প্রশাসন যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। নরসিংদী পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করা হবে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার বিরুদ্ধে সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে, অন্যথায় এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে না।
টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার সকল থানা ও ইউনিটকে নিয়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নিয়ে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ অভিযান, নিয়মিত মামলা, মাদক উদ্ধার ও পরোয়ানা তামিল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বমোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ৫ জন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে— ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ১০০ গ্রাম গাঁজা গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপরাধ নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সাধারণ জনগণকে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায় অবৈধ জুয়া কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিন জুয়াড়িকে আটক করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরিষাবাড়ীর একটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সামাজিক অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। জুয়া ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে প্রশাসন। এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জুয়া সমাজে নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি করে। তাই এমন অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা।
গোপালপুর মাহমুদপুর বাজারে দুর্ধর্ষ চুরি এক রাতে তিন দোকান খালি, ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার লুটব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক, চোর ধরতে পুলিশের তদন্ত শুরু স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন গোপালপুর(টাঙ্গাইল) টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের মাহমুদপুর বাজারে সংঘটিত হয়েছে এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত চুরির ঘটনা। গতরাতে দুর্বৃত্তরা একই সঙ্গে তিনটি দোকানে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো বাজারজুড়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, মাহমুদপুর বাজারের ইউরিয়া সারের ডিলার মোবারক আলী তালুকদারের দোকান থেকে প্রায় ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার চুরি হয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই রাতে পাশের একটি ইলেকট্রিক দোকান থেকে দুটি বৈদ্যুতিক মোটর ও বিপুল পরিমাণ মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার চুরি করা হয়। এছাড়াও একটি কাপড়ের দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের কাপড় লুট করে নিয়ে যায় চোরচক্র। চুরির ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত কৌশলী ও পূর্বপরিকল্পিত। দোকানগুলোর তালা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চোরেরা সিসি ক্যামেরা খুলে ফেলার চেষ্টা করে। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ক্যামেরায় অভিযুক্তদের একজনের ছবি ধারণ হয়, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান ছবিতে ধরা পড়া ব্যক্তিকে কেউ চিনে থাকলে যেন দ্রুত পরিচয় নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা হয়। তারা আরও বলেন এভাবে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটতে থাকলে ব্যবসা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গোপালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোরদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।এলাকাবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বাজার এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিয়মিত পুলিশ টহল ও বাজারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
টাঙ্গাইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার ৪২ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জোরালো অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ টাঙ্গাইল। জেলা পুলিশ সূত্র জানায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার সব থানা ও ইউনিটকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর ফলশ্রুতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং আদালতের পরোয়ানামূলে মোট ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রিভেন্টিভ মামলার আসামি বিভিন্ন নিয়মিত মামলার পলাতক আসামি পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অপরাধ প্রবণতা রোধ মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, অপরাধ ও মাদক নির্মূলে জনসাধারণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরাধসংক্রান্ত তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলে ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জন গ্রেপ্তার প্রিভেন্টিভ পরোয়ানা ও নিয়মিত মামলায় জেলা পুলিশের অভিযান জোরদার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মামলা পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলার সকল থানা ও ইউনিটে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টহল সন্দেহভাজনদের যাচাই-বাছাই এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। জেলা পুলিশ জানিয়েছে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর আওয়ামী লীগ–এর যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ ইকবাল জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর শহরের উত্তরা মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে সখীপুর থানা পুলিশ। যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের ১২ নভেম্বর দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা এলাকায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। এ ঘটনায় ১৩ নভেম্বর গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেয় বাসাইল থানা পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে বিভিন্ন তথ্য–উপাত্ত যাচাই–বাছাই শেষে জাহিদ ইকবাল জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে গ্রেফতারের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন জাহিদ ইকবাল জাহাঙ্গীরের পরিবার। তাদের অভিযোগ, গত ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনায় তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তের স্বার্থেই তাকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতা সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনার তদন্ত চলছে, যার অংশ হিসেবেই এ গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর জেলা কার্যালয় অধীনে গতকাল ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সদর মডেল থানাধীন শিমুলতলা বালুচর গ্রাম এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলতলা বালুচর এলাকার মৃত মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে মোঃ নুরুল ইসলাম ওরফে বুধু মন্ডল (৬০) কে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৬ (ছয়) কেজি গাঁজা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। ডিএনসির পরিদর্শক মোঃ রফিকুল ইসলাম জানায়, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে অধিদপ্তরের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে সর্বস্তরের জনগণকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সরিষা খেতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় সরিষা ক্ষেত থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বল্লা বেপারীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।নিহত যুবকের নাম শাহাদাত হোসেন (৩০)। তিনি একটি আইসক্রিম কোম্পানির ডিলার প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।পারিবারিক সূত্র জানায় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে শাহাদাত কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। একই দিন বেলা প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে জুম্মার নামাজ আদায়ের কথা বলে মালিকের কাছে আইসক্রিমের গাড়ি জমা দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।পরিবারের সদস্যরা জানান তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দিনভর ও রাতভর আত্মীয়-স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।শনিবার সকালে স্থানীয় এক নারী শাক তুলতে গিয়ে সরিষা খেতে শাহাদাতকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা তাকে জীবিত মনে করে দ্রুত উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩টি পৃথক মামলায় মোট ৩০ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। অভিযান চলাকালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পণ্যের মূল্য তালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে কি না, মজুতদারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ থেকে বিরত থাকা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সতর্ক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি জানান, রমজান মাসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। কেউ আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য হচ্ছে বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা করা। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রেতাদেরও প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র রমজান মাস জুড়ে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন বাজারে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে, যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারেন।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থানাধীন ২ নং পোগোলদিঘা ইউনিয়নের উত্তর মালিপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে প্রধান আহত আল-আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং শুক্রবার, সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে উত্তর মালিপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পরে তা সংঘর্ষে পরিণত হয়। এতে আল-আমিন (পিতা: মাজম মন্ডল) গুরুতর আহত হন। চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা: গুরুতর আহত আল-আমিনকে প্রথমে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। স্বজনরা দ্রুত তাকে সেখানে নিয়ে যান। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। অন্যান্য আহতরা: এ ঘটনায় আরও আহত হন— লিপি আক্তার (স্বামী: বাবলু মিয়া), সুবর্ণা আক্তার (স্বামী: আল-আমিন), রুবিনা আক্তার (স্বামী: বাহার উদ্দিন)। তারা মারাত্মকভাবে আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে তৎপরতা জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য: বিষয়: অভিযোগ বাদী: মোঃ রাসেল মিয়া (২৭), পিতা: নূর মাহমুদ, সাং: মালিপাড়া, থানা: সরিষাবাড়ী, জেলা: জামালপুর। বিবাদী: ১) মোঃ সুরুজ মিয়া (৪০), পিতা: মৃত কাশেম সরকার ২) মোঃ আজাহার (৫৫), পিতা: মৃত আমজাদ সরকার (গুলগুলি) ৩) মোঃ ওয়াজেদ (৬০), পিতা: মৃত গেদা সরকার ৪) মোঃ মিরাজ (২৫), পিতা: মোঃ সুরুজ ৫) মোঃ সীমান্ত (২২), পিতা: মোঃ সুরুজ ৬) মোঃ জাহিদ (২০), পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর ৭) মোঃ জিহাদ (২৩), পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর ৮) মোছা: আছিয়া বেগম (৫৫), স্বামী: মৃত সবের আলী ৯) মর্জিনা (৫০), স্বামী: মো: সুরুজ মিয়া। সকলের সাং: মালিপাড়া, থানা: সরিষাবাড়ী, জেলা: জামালপুরসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন। সাক্ষী: ১) মোঃ আল আমিন (৫৫), পিতা: মৃত মাজম মন্ডল ২) মোছা: লিপি আক্তার (৩৫), স্বামী: মোঃ বাবলু ৩) মোছা: সুবর্ণা আক্তার (৪০), স্বামী: মোঃ আল-আমিন ৪) মোছা: রুবিনা আক্তার (৪০), স্বামী: মোঃ বাহার উদ্দিন ৫) মোঃ রাশেদুল ইসলাম রতন (৩৭), পিতা: মৃত আবুল হোসেন মন্ডল ৬) মোঃ হেলাল (৫৫), পিতা: মৃত কাজম মণ্ডল — সর্বসাং: মালিপাড়া, সর্ব থানা: সরিষাবাড়ী, সর্ব জেলা: জামালপুরসহ আরও অনেকে। ঘটনার তারিখ ও সময়: ২০/০২/২০২৬ ইং, শুক্রবার, সকাল আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায়। ঘটনাস্থল: সরিষাবাড়ী থানাধীন মালিপাড়া সাকিনস্থ স্বত্ব দখলীয় ভূমি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
৪১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেফতার টাঙ্গাইল,২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪১ কেজি ২০০ গ্রাম অবৈধ মাদক দ্রব্য গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প।র্যাব সূত্র জানায় শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটে টাঙ্গাইল জেলার যমুনা পূর্ব সেতু থানাধীন ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশন সংলগ্ন ঢাকা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে বিশেষ কায়দায় ত্রিফল দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ৪১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোঃ রাকিব আলী (২৫) সুনামগঞ্জ মোঃ জাকির হোসেন (৩১)নারায়ণগঞ্জ মোঃ লিমন মিয়া(২৪)সুনামগঞ্জমোঃ শাকিল আহম্মেদ (২০)কুমিল্লা।র্যাব জানায় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক বহনের কথা স্বীকার করে। অভিযানে ৪টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১ হাজার ৬১০ টাকা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের টাঙ্গাইল জেলার যমুনা পূর্ব সেতু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব জানিয়েছে মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৩৫ প্রিভেন্টিন পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় সাঁড়াশি অভিযান অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে জেলা পুলিশঅপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইলে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধ প্রবণতা রোধে জেলার সকল থানা ও ইউনিটকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন সম্মানিত পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল। তারই প্রেক্ষিতে ইনচার্জদের নেতৃত্বে দিন-রাতব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।পুলিশ জানায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে একাধিক পরোয়ানাভুক্ত আসামি নিয়মিত মামলার অভিযুক্ত এবং প্রিভেন্টিভ আটকভুক্ত ব্যক্তি। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয় এবং সন্দেহভাজনদের যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ আরও তৎপর রয়েছে।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—অপরাধ ও অপরাধী সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য নিকটস্থ থানায় অথবা সরাসরি জেলা পুলিশকে জানাতে।পুলিশের ভাষ্য সচেতন নাগরিকের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই অপরাধ দমনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের সফল অভিযান: মাদক উদ্ধারসহ ৩৭ জন গ্রেপ্তার খুনের আসামি ১০ ঘণ্টায় অভিযানে গ্রেফতার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িত মোট ৩৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের কঠোর নির্দেশের পরই জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জগণ মাঠপর্যায়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন।মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্যমাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ১৭ পিস ইয়াবা সহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের এই দৃঢ় পদক্ষেপ অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।খুনের ঘটনার দ্রুত সমাধান এক চাঞ্চল্যকর অগ্রগতিতে সখিপুর থানা পুলিশ একটি খুনের ঘটনার মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই জড়িত ১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার এই ঘটনা পুলিশের পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।নিয়মিত মামলায় অব্যাহত তৎপরতাএছাড়াও প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য নিয়মিত মামলায় আরও ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ১৭ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় চালানো অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ, নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি মিলিয়ে মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।জেলা পুলিশের সূত্র জানায়, সম্মানিত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কঠোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশ জানায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।