নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াসের নেতৃত্বে পুলিশের গাড়িতে মারজান উদ্দিন (২৯) নামে এক যুবক বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে থানা প্রাঙ্গণে মব সৃষ্টির চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মারধরকারীরা উপজেলা বিএনপির অঙ্গও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মি এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াসের অনুসারী।
রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে।
আহতরা হলেন, হেলাল উদ্দিন, ইমতিয়াজ, ফরিদ উদ্দিন, ওমর ফারুক, কোহিনুর বেগম, উম্মে কুলসুম, নাজিম উদ্দিন, মারজান উদ্দিন, সাইফুজ্জামান, শাহাব উদ্দিন ও মহিমা বেগম। এদের মধ্যে এক নারীসহ দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মারজান উদ্দিন ও তার বড় ভাই উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের লামছড়ি গ্রামের কামাল উদ্দিনের মেয়ে নিগার সুলতানার পারিবারিক ভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়েতে নিজ গ্রামের হুজুরকে দাওয়াত না দিয়ে অন্য গ্রামের হুজুর দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়। এ নিয়ে সমাজের মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার হেলাল মাঝির সাথে কামালের ছোট ভাই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিনের বাকবিতন্ডা হয়। রোববার সকালে স্থানীয় রামচরণ বাজার থেকে শাহাব উদ্দিন বাড়ি ফেরার পথে নলচিরা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের রবিনের দোকানের সামনে হেলাল মাঝির নেতৃত্বে কিছু লোক তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে শাহাব উদ্দিনের ভাই মারজান ও নাজিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তাদের বেধড়ক মারধর করে তিনজনকে কুপিয়ে আহত করে। পরে তারা বাড়ি চলে গেলে লামছড়ি গ্রামের তাদের দুটি বসতঘরে হামলা ভাংচুর করে নগদ টাকাও স্বর্ণালংকার লুটে নেয় এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ শাহাব উদ্দিন ও মারজানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াসকে তার অনুসারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ডেকে নেয়। সেখানে তার নেতৃত্বে পুলিশের সামনে শাহাব উদ্দিন ও তার ভাই মারজানের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মিরা। পরে হাসপাতাল থেকে থানায় নেওয়ার পথে হাসপাতালের ফটকের সামনে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াসের নেতৃত্বে পুলিশের গাড়িতে যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মিরা হামলা চালায়। পুলিশের গাড়িতেই পুলিশকে হেনেস্তা করে মারজানকে বেধড়ক মারধর করে তার শরীর থেকে সব ব্যান্ডেজ খুলে নেয়। এরপর তারা থানার সামনে গিয়েও তার ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে ব্যাপক হট্রগোল সৃষ্টি করে।
হেলাল মাঝি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, শাহাব উদ্দিনের ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে আমাদের মসজিদের হুজুরকে দাওয়াত না দিয়ে অন্য হুজুরকে দাওয়াত দেওয়া হয়। আমি মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে শাহাব উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হুমকি দেন। রোববার সকালে আমি স্থানীয় রামচরণ বাজারে উঠলে তিনি আমাকে দেখে হামলা চালান। ওই সময় তার আরো ৪ভাই এসে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে আহত করে। এতে আমাদের কয়েকজন গুরুত্বর আহত হয়। এদের মধ্যে কোহিনুর ও ফরিদ উদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
থানা প্রাঙ্গণে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুলকে যুবদল নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনা যায়, আপনার মত মানুষ যদি....। তাকে আমরা হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসছি, তাকে মারার দরকার আছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। একপর্যায়ে এসআই মিনহাজুল মাটিতে বসে গিয়ে প্রশ্ন করে আমার সামনে আসামিকে মারধর করে কিভাবে। ওই ভিডিওতে ইলিয়াসকে থানা প্রাঙ্গণে দলীয় নেতাকর্মিদের নিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়।
হাতিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবর আজম বলেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াসের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। এতে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের অনুসারী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
তবে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস বলেন, আমার উপস্থিতিতে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। উল্টো আমরা আমাদের দলের কয়েকজন নেতা লাঠি-সোটা দিয়ে আমাদের দলের লোকজনকে পিটিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছি। প্রথমে সমস্যা ছিল বিয়ে নিয়ে। পরে এটা এনসিপি বনাম বিএনপি হয়ে গেছে। শাহাব উদ্দিন কৃষি অফিসের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি ও মূলত ছাত্রলীগের একজন লাঠিয়াল ছিল। তার লোকজনের হামলায় প্রতিপক্ষের ৭জন আহত হয়েছে। আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মিকে নির্দেশনা দিয়েছি কারো ওপরে যেন কোন আঘাত না হয়। যা হয়েছে, এগুলো দলের বদনাম আসবে, তোমরা যদি দলবদ্ধ হয়ে আঘাত করতে যাও।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মন্জুরুল আজিম সুমন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে হাতিয়ার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুল আবেদীন বলেন, কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে অবহিত করলে আমি আহত অবস্থায় অবরুদ্ধ দুই ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এর মধ্যে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তাকে চিকিৎসা দিয়ে থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়। তার ভাই মারজানকে চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে আসার পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে পুলিশের গাড়িতেই তার সকল ব্যান্ডেজ খুলে নিয়ে তাকে পিটানো হয়। ওই সময় হাসপাতালের ফটকের সামনে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের সবাই ছিল।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, দুই গ্রুপই কোপাকুপি করছে। একপর্যায়ে জনগণ কৃষি কর্মকর্তার বাড়ি ঘর ভাংচুর করছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পুলিশ হেফাজতে আছে। দুই পক্ষই মামলা করবে। এটা পলিটিক্যাল কোন বিষয়না। সাহাব উদ্দিন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর দোসর ছিল, ফ্যাস্টিট ছিল। গত ৮-১০ বছর সে এখানে চাকরি করতেছে। সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার শর্তে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে এসে দল ভারি করছে। আগে থেকেই জনগণের তার ওপর একটা রাগ ছিল।
ওসি আরও বলেন, পরবর্তীতে অন্য গ্রুপ থানা প্রাঙ্গণে এসে বলে ফ্যাস্টিসকে আমাদের হাতে তুলে দেন, আমরা তাকে নিয়ে যাব। এ নিয়ে থানার প্রাঙ্গণে উচ্চবাচ্য হয়েছে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
পানির তৃষ্ণাই কেড়ে নিল প্রাণ, স্কুলের পাশেই ডুবে মারা গেল ৮ বছরের জিসান স্টাফ রিপোর্টার : এসকে শিপন তারিখ : ১১জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইলের ভাদাই গ্রামে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্কুলে পড়াশোনার মধ্যেই পানির খোঁজে বেরিয়ে প্রাণ হারিয়েছে মাত্র ৮ বছরের শিশু জিসান। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। নিহত জিসান স্থানীয় সোনামুই কেজি এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষার্থী। সে তার বাবা-মায়ের ছোট ছেলে। এলাকাবাসীর কাছে সে ছিল শান্ত, ভদ্র ও নম্র স্বভাবের একটি শিশু। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই রবিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্কুল চলছিল। জিসান তার মায়ের হাত ধরে স্কুলে আসে। স্কুল চলাকালীন হঠাৎ তার তীব্র পানির পিপাসা লাগে। এ সময় সে কাউকে কিছু না জানিয়ে স্কুলের পাশের একটি মসজিদের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করতে যায়। পানি খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত সে পাশেই থাকা একটি হাউস/ট্যাংকে পড়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় স্কুলে ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। সকাল থেকেই শিশুটির মা ও স্বজনরা ছুটে বেড়াতে থাকেন। স্কুল প্রাঙ্গণ, আশপাশের এলাকা ও পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। অনেকেই ধারণা করছিল, শিশুটি হয়তো হারিয়ে গেছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে অবশেষে ওই হাউসের ভেতর থেকে জিসানের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে শিশুটির মা। উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এলাকাবাসী জানান, এমন একটি ছোট্ট শিশুর অকাল মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না। গোটা গ্রামজুড়ে এখন শোক আর নীরবতা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয়রা স্কুল ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, খোলা হাউস ও ট্যাংক ঢেকে রাখার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।
ভূঞাপুরে দুঃস্থ মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল ও শিশুদের শীতবস্ত্র বিতরণ শীতার্ত দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন ৯৮ কম্পোজিট ব্রিগেড।শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে ভূঞাপুর উপজেলার চর পাথাইলকান্দি এলাকায় যমুনা সেনানিবাসের উদ্যোগে এ শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রায় ২০০ জন দুঃস্থ ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত ১০ জন শিশুর মধ্যেও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৯৮ কম্পোজিট ব্রিগেডের স্টাফ অফিসার মেজর নাজমুস সালেহীন সৌরভ, যমুনা সেনানিবাসের অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রতি বছরের মতো চলতি শীত মৌসুমেও অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও ঘাটাইল অঞ্চলের সেনাসদস্যরা দুর্গম ও চরাঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা আরও বলেন মানবিক সহায়তা ওজনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা সেনাবাহিনীর একটি নিয়মিত কার্যক্রম যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।এ ধরনের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন শীতের এই সময়ে সেনাবাহিনীর সহায়তা তাদের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে টাঙ্গাইলে TOT কোর্স উদ্বোধন থাকবে পুলিশ জনপদে ভোট দিবেন নিরাপদে এই স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের উদ্যোগে ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) টাঙ্গাইলের পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি)-এ নির্বাচনী দায়িত্ব সফলভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত TOT কোর্স এর চতুর্থ পর্যায়ের ২৫তম ধাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিকোর্স উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিটিসি টাঙ্গাইলের কমান্ড্যান্ট জনাব মোহাম্মদ আশফাকুল আলম, ডিআইজি। অনুষ্ঠানে তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, আইনগত জ্ঞান ও পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—জনাব কাজী রুবাইয়াত রুমি,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত)জনাব সাকিবুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপার নিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) (প্রশাসন ও অর্থ),এছাড়াও পিটিসি টাঙ্গাইলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং কোর্স পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণকোর্সটিতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ থেকে মনোনীত মোট ৫০ জন পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করছেনপ্রশিক্ষণার্থীরা নির্বাচনী আইন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, আচরণবিধি বাস্তবায়ন, ঝুঁকি নিরূপণ, জনশৃঙ্খলা রক্ষা, সংঘাত ব্যবস্থাপনা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরলেন প্রধান অতিথিপ্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন,থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিবেন নিরাপদে—এই প্রত্যয়ে পুলিশ বাহিনী জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত পুলিশ বাহিনীর কোনো বিকল্প নেই।তিনি আরও বলেন, এই TOT কোর্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন যা নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণেরগুরুত্বঅনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ সহকারে কোর্সে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোর্সটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় হবে।