আইন-অপরাধ

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা-মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ খুলনায়

মোঃ আল-মাহফুজ শাওন
মোঃ আল-মাহফুজ শাওন খুলনা জেলা প্রতিনিধি
আগস্ট ৩০, ২০২৬
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা-মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ খুলনায়
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা-মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ খুলনায়
খুলনায় সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং এক সাংবাদিকের পকেট থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় এক সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিক ফাহিম ইসলামের হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তার বুক পকেটে থাকা ৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় আবু হোসেন নামে এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের খুলনা শহরে কীভাবে সাংবাদিকতা করতে হয়, তা ‘দেখে নেওয়া’র হুমকির পাশাপাশি অস্ত্র ও গুলি সংক্রান্ত ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় সাংবাদিক শেখ তৈয়ব আলী পর্বত আহত হন বলে জানা গেছে। হামলার পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাকে উদ্ধার করে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর বিষয়টি খুলনা সদর থানা ও নিরালা পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।” এদিকে, পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুকুল নামে এক ব্যক্তির পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি নিজেকে আদালতের কোনো পদে কর্মরত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি আজবার বাসায় কী কারণে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে আবু হোসেনের মাধ্যমে কীভাবে তাকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়—এসব বিষয়ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের সময় তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, শারীরিকভাবে আক্রমণ করা এবং ব্যক্তিগত মালামাল কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, মুকুলের পরিচয় ও কথিত আদালতের পদবি সত্য কি না, তিনি সংশ্লিষ্ট বাসায় কেন গিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলে আবু হোসেনের ভূমিকা কী ছিল এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা-মোবাইল ও টাকা নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয় দ্রুত তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক মহল ও স্থানীয়রা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
Tags: সাংবাদিকদের ওপর হামলা ক্যামেরা-মোবাইল টাকা কেড়ে নেওয়ার

আইন-অপরাধ

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা-মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা-মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ খুলনায়

খুলনায় সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং এক সাংবাদিকের পকেট থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে...

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হয়রানি ও ঘুষের অভিযোগ, সাংবাদিকের জমি নিবন্ধন নিয়েও প্রশ্ন বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হয়রানি ও ঘুষের অভিযোগ, সাংবাদিকের জমি নিবন্ধন নিয়েও প্রশ্ন

খুলনার বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে হয়রানি, নানা অজুহাতে দিনের পর দিন ঘোরানো এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ব...

আগস্ট ৩০, ২০২৬

0 মন্তব্য