টাঙ্গাইলে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪০ প্রিভেন্টিভ, পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ, পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ মোট ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে পরিচালিত এ অভিযানে পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনা এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধারে জোরালো তৎপরতা চালানো হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার সব থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রিভেন্টিভ আটক ছাড়াও একাধিক নিয়মিত মামলার আসামি এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায় অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ টহল জোরদার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুলাভাইয়ের মরদেহ দেখতে এসে শ্যালিকার মৃত্যু টাঙ্গাইলের গোপালপুরে একই দিনে দুই আত্মীয়ের মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নবগ্রামে একই দিনে দুই আত্মীয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুলাভাইয়ের মরদেহ দেখতে এসে শ্যালিকা রহিমা (৬০) শোকে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবগ্রাম উত্তরপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ ইউসুফ আলীর পিতা আব্দুল্লাহ (১০০) সোমবার দুপুরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো মুখ দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় করেন।সন্ধ্যার পর এশার নামাজ শেষে নবগ্রাম দাখিল মাদরাসা মাঠে মরহুম আব্দুল্লাহর জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় হঠাৎ খবর আসে, মরদেহ দেখতে আসা তাঁর শ্যালিকা রহিমা বাড়িতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। উপস্থিত স্বজনরা দ্রুত তাঁকে প্রাথমিক সেবার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান।খবরটি জানাজাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত মানুষজন হতবাক হয়ে পড়েন। পরে আব্দুল্লাহর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করে স্বজনরা দ্রুত রহিমার মরদেহের কাছে ছুটে যান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমা রহিমা একই গ্রামের পাংকী বাড়ির মৃত জোয়াহের আলীর স্ত্রী।একই দিনে ঘনিষ্ঠ দুই স্বজনের মৃত্যুতে পুরো নবগ্রাম এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধন ও আত্মীয়তার কারণে ঘটনাটি গ্রামবাসীকে বিশেষভাবে মর্মাহত করেছে।
জামালপুর জেলা পুলিশ-এর মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জামালপুরে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধচিত্র বিশ্লেষণে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক। শুরুতেই পূর্ববর্তী মাসিক সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পরে জানুয়ারি/২০২৬ মাসের খাতভিত্তিক ও থানা-ভিত্তিক মামলার পরিসংখ্যান উপস্থাপন ও বিশদ আলোচনা করা হয়।সভায় বিভিন্ন থানা ও সংস্থার রুজুকৃত মামলা মামলা নিষ্পত্তির হার মুলতবি মামলা অপমৃত্যু সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রম মুলতবি গ্রেফতারি পরোয়ানা ও ক্রোকি পরোয়ানা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারকরণস্পর্শকাতর মামলার অগ্রগতি এবং জেলার চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়েও আলোচনা হয়।সভায় পুলিশ সুপার জেলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি অপরাধ দমন মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিষ্পত্তিতে তৎপরতা বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ সোহেল মাহমুদ পিপিএম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোরশেদা খাতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুনঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) মোঃ সাইফুল ইসলাম পিপিএম সহকারী পুলিশ সুপারবৃন্দ জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তাগণ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ ডিবি-১ ও ডিবি-২ এর ওসি ডিআইও-১ ও ডিআইও-২ তদন্তকেন্দ্র ও ফাঁড়ির ইনচার্জ, ট্রাফিক ও কোর্ট ইন্সপেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।জেলা পুলিশের নিয়মিত এ ধরনের পর্যালোচনা সভা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, সোমবার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রীয় এ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে কঠোর প্রটোকল নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ কূটনীতিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সমন্বয় এবং প্রস্তুতি তদারকি করছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আয়োজক সূত্র জানায়, নিরাপত্তা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং গোটা এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য নির্ধারিত গেট ব্যবহার এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে সর্বস্তরের জনগণের দৃষ্টি এখন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার দিকে। আগামীকাল বিকেলে শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন মন্ত্রিসভার পথচলা।
র্যাব-১৪-এর অভিযানে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের তৎপরতায় পলাতক দুলাভাই আটক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানায় দায়ের হওয়া এক আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামি মোঃ সাঈদ হাসান সেতু (২৬) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের আভিযানিক দল।র্যাবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ভিকটিমের পূর্বপরিচিত এবং সম্পর্কে চাচাত দুলাভাই। পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরে ভিকটিমের বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সে ভিকটিমকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ভিকটিমের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ভিকটিম আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ফুলপুর থানা-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২৫) এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৩, তারিখ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬)।মামলার পর থেকেই আসামি পলাতক ছিল। র্যাব-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়াতদন্তের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৬টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানাধীন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফুলপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জামালপুর জেলা পুলিশ-এর মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: জেলার পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, পেশাগত মানোন্নয়ন ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে জামালপুর জেলা পুলিশ-এর ফেব্রুয়ারি/২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক।সভায় শুরুতেই বিগত কল্যাণ সভায় উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও আবেদন পর্যালোচনা করে সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি চলতি মাসে প্রাপ্ত আবেদনসমূহের আলোকে পুলিশ সদস্যদের নানাবিধ সুবিধা-অসুবিধা নিরসনে প্রয়োজনীয় কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রণীত অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে জানুয়ারি/২০২৬ মাসের সার্বিক কর্মমূল্যায়নে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম পিপিএম (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) শ্রেষ্ঠ সার্কেল হিসেবে মনোনীত হন। শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি মনসুর আহাম্মদ এবং বকশীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মকবুল হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও যারা পুরস্কার অর্জন করেন তারা হলেন—নারায়নপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ মকবুল হোসেন (শ্রেষ্ঠ আইসি), সরিষাবাড়ি থানার এসআই (নিঃ) মোঃ চাঁন মিয়া (শ্রেষ্ঠ এসআই), জেলা গোয়েন্দা শাখা-১ এর এসআই (নিঃ) মোঃ এহসানুল হক (শ্রেষ্ঠ মামলা নিষ্পত্তিকারী ও শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী), ট্রাফিক বিভাগের টিএসআই রাশেদুল ইসলাম (শ্রেষ্ঠ প্রসিকিউশন দাখিলকারী অফিসার), বকশীগঞ্জ থানার এএসআই (নিঃ) আশরাফুল আলম শান্ত (শ্রেষ্ঠ এএসআই) এবং জামালপুর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ সিরাজুল ইসলাম (শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার)। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) দেবাশীষ চন্দ্র দত্তকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। সভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যরা তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার বিষয় তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার মনোযোগ সহকারে সবার বক্তব্য শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশনা প্রদান করেন এবং পেশাদারিত্ব শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।সভা শেষে জেলা পুলিশের আয়োজনে এক বিশেষ প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ সোহেল মাহমুদ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোরশেদা খাতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ইমরুল হাসান মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞাসহ জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের সদস্য এবং সিভিল স্টাফবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ লাইনসে প্রীতিভোজ (বড়খানা) অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের অংশগ্রহণ মনোবল সম্প্রীতি ও পেশাগত দায়বদ্ধতা জোরদারে মাসিক আয়োজন জেলা পুলিশ টাঙ্গাইলের উদ্যোগে পুলিশ লাইনস্ মাল্টিপারপাস শেডে আয়োজিত প্রীতিভোজ (বড়খানা) অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি সৌহার্দ্য ও পেশাগত বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে পুলিশ লাইন্সে বড়খানা আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন এমন আয়োজন শুধু সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে না বরং বাহিনীর সদস্যদের মনোবল দৃঢ় করে এবং দায়িত্ব পালনে পেশাগত দায়বদ্ধতা শৃঙ্খলাবোধ ও কর্মোদ্দীপনা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তিনি আরও বলেন একটি সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে সদস্যদের মধ্যে ঐক্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহমর্মিতার বিকল্প নেই। নিয়মিত এ ধরনের মিলনমেলা ও প্রীতিভোজ সদস্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে এবং কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রবিউল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আদিবুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ-সহ জেলা পুলিশের সকল সার্কেল কর্মকর্তা অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সবৃন্দ।উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান এ ধরনের আয়োজন বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক জোরদার ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১২ জন গ্রেপ্তার প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় ২৪ ঘণ্টায় জোরদার সাফল্য ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় সর্বমোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে এ সাফল্য অর্জিত হয়।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ পলাতক আসামি গ্রেপ্তার এবং নিয়মিত মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।পুলিশ সুপার তার নির্দেশনায় বলেন অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল জোরদার গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। তাঁর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।পুলিশ জানায়গ্রেপ্তারদের মধ্যে প্রিভেন্টিভ ধারায় আটক ব্যক্তি ছাড়াও নিয়মিত মামলার আসামি ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিরা রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে অপরাধ প্রতিরোধ ও মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা কামনা করে জেলা পুলিশ তাদের সচেতনতামূলক বার্তায় বলেছে।
কালিহাতী উপজেলা-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা প্রাইভেটকার-ভ্যান সংঘর্ষে ২ জন নিহত রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা-এ প্রাইভেটকার ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক-এর জোকারচর গোহালিয়া বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।নিহতরা হলেন—গোহালিয়া বাড়ি এলাকার ভ্যানচালক মোহাম্মদ আমির আলী (৪০) এবং তার ভ্যানে থাকা যাত্রী শরীফ উদ্দিন (৪১)। তারা দুজনই স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানা গেছে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গমুখী একটি প্রাইভেটকার দ্রুতগতিতে মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। জোকারচর এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পারাপারের সময় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয় গাড়িটি। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভ্যানচালক ও এক যাত্রী ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীফ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আমির আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।এ বিষয়ে যমুনা সেতু পূর্ব থানা-র উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ ব্যস্ত এই মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। পর্যাপ্ত নজরদারি ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাবেই প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।উল্লেখ্য টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করায় এখানে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়দের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর আইন প্রয়োগই পারে এমন প্রাণহানি রোধ করতে।
টাঙ্গাইলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত গভীর রাতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন এমপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল পৌর শহরের বটতলা এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছোটকালিবাড়ি এলাকার দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতরা দুজনই একই এলাকার বাসিন্দা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতিতে চলা মোটরসাইকেলটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মরদেহ দেখতে রাত পৌনে ১টার দিকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল-এ ছুটে যান টাঙ্গাইল-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ সময় তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।এমপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তরুণদের অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য গভীর শোকের বিষয়। পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।” তিনি নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।হাসপাতাল সূত্র জানায়, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় দুই তরুণকে হাসপাতালে আনা হলে তাদের শরীরে জীবনের কোনো স্পন্দন ছিল না। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছোটকালিবাড়ি এলাকায় নেমে আসে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। স্থানীয় সচেতন মহল সড়কে বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩টি সংসদীয় আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে প্রাথমিক ফলাফলে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদ। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ–১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতে আমীর ড. কেরামত আলী। পোস্টালসহ তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ২০৬৮৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১৬২৫১৫ ভোট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ড. মিজানুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ১৭১২২৭। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১৫৫১১৯ ভোট। এছাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ (সদর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। পোস্টালসহ ১৭৩টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ১৮৯৬৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনত প্রার্থী হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১২৬৯৯৭ ভোট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন মাসুদ বলেন, জেলার ৩ টি সংসদীয় আসনেই শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনে পরাজিত হলেও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ। শুক্রবার, (১৩ই ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ০৬.০০ ঘটিকায় হারুনুর রশিদ তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে লিখিত বার্তায় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণ যে সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন, দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান-কে দেশনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তার ভাষ্য মতে, “আমরা একটি আসনের লড়াই হেরেছি, কিন্তু মহাযুদ্ধে জয়ী হয়েছি। দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে—এটাই আমাদের বড় শক্তি।” উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকার ঘোষণায় হারুনুর রশীদ বলেন, তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য না হলেও ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন সক্রিয় সিনিয়র নেতা হিসেবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করবেন। তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে—বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা, যুব কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন। পাশাপাশি দলীয়ভাবে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার দাবি, দল ক্ষমতায় থাকায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। ফেসবুক পোস্টের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকেই জামায়াত, বিএনপির নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এই হুমকির বিষয়টি জামায়াতের নেতৃবৃন্দদের নজরে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতায় না থেকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো ধরনের হুমকি বা অস্থিরতা বরদাশত করা হবে না। আইনের বাইরে গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ যাতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন এবং কোনো বৈষম্যের শিকার না হন—সেটি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য ব্যক্তি ক্ষমতা নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।” একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের অবস্থানকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। সবশেষে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মহান আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নড়াইলে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইল জেলায় গ্রহণ করা হয়েছে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন নড়াইলের পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার।১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়। ভোটের আগের রাতে পুলিশ সুপার স্বয়ং মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, আনসার ও গ্রাম পুলিশ, মোবাইল টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্কতা,পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।পুলিশ সুপার বলেন,নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন সে বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল সালাম,আর্মি ক্যাম্প নড়াইলের লেঃ কর্নেল (সিও) মোঃ মাসুদ রানা, বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লা,জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুস ছালেক,জেলা কমান্ড্যান্ট (আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী) মোঃ আল-আমিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ কামরুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতি ও সক্রিয় তৎপরতায় নড়াইলে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট টাঙ্গাইল সদরের একাধিক কেন্দ্র পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক শরীফা হক ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার জনাব শরীফা হক। বৃহস্পতিবার (১২/০২/২০২৬) দিনব্যাপী তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটার উপস্থিতির সার্বিক চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কেন্দ্রসমূহের প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ভোট প্রদানকালে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভোগান্তি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন।এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার,টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, টাঙ্গাইল এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ,সেনাবাহিনী,র্যাব,আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়েছে এবং মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স টহল অব্যাহত রেখেছে।জেলা প্রশাসক শরীফা হক সাংবাদিকদের জানান,নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। যেকোনো ধরনের অনিয়ম বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।সার্বিকভাবে টাঙ্গাইল সদরে শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
টাঙ্গাইল সদর আসনে ধানের শীষের জয়ধ্বনি বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল সদর (টাঙ্গাইল–৫) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পেছনে ফেলে এগিয়ে থাকেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষ হলে গণনা শেষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে।বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পরপরই টাঙ্গাইল শহর ও আশপাশের এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তারা মিছিল শোভাযাত্রা ও স্লোগানে মুখর করে তোলে শহরের প্রধান সড়কগুলো। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করা হয়। দলীয় নেতারা বলেন,টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিফলন এই বিজয়। অ্যাডভোকেট সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সবসময়ই জনগণের পাশে ছিলেন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। জনগণ তার সেই ত্যাগ ও নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন। টাঙ্গাইলের প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট টুকু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে নিজেকে একজন দৃঢ় ও জনসম্পৃক্ত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়নশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।তবে এ ফলাফল এখনো বেসরকারি। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হবে।টাঙ্গাইল সদর আসনে এই বিজয় বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। তারা মনে করছেন এ ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে টাঙ্গাইলে র্যাবের বিশেষ টহল ও রোবাস্ট পেট্রোল জোরদার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছে র্যাব-১৪। জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, নোডাল পয়েন্ট ও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টহল ও রোবাস্ট পেট্রোল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসানের সার্বিক নির্দেশনায় সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইলের একাধিক বিশেষ টহল দল মাঠে কাজ করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাবনা বাইপাস,আশেকপুর বাইপাস,ঘারিন্দা বাইপাস,করটিয়া বাইপাস,পাকুল্ল্যা বাইপাস,মির্জাপুর বাইপাস, বাসাইল বাইপাসসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বাহিরমুখে রোবাস্ট পেট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।র্যাব সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কিংবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ লক্ষ্যে র্যাবের টহল টিম রোবাস্ট পেট্রোল টিম ও গোয়েন্দা ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। সন্দেহজনক চলাচল, অবৈধ সমাবেশ কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। র্যাব ফোর্সেসের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কেউ যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে মধুপুর এলাকায় নির্বাচন ডিউটি উপলক্ষে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে র্যাব। সেখান থেকেও টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ও ভোটগ্রহণের দিন বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।র্যাব-১৪,টাঙ্গাইল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক ও সহিংসতামুক্ত রাখতে তাদের অভিযান ও টহল কার্যক্রম নির্বাচনকালীন পুরো সময়জুড়ে অব্যাহত থাকবে।
ভোটের নিরাপত্তায় সরকার কঠোর: সারাদেশে ৩ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারাদেশে টানা তিন দিনের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা দেশের কোথাও সাধারণ মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না। এ সময়ে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে।তবে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পূর্বানুমতি সাপেক্ষে চলাচলের সুযোগ পাবেন।এছাড়া ভোটের দিন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ট্যাক্সিক্যাব পিকআপ মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।কর্তৃপক্ষ বলছে নির্বাচনের সময় সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি কমাতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা বিবেচনায় এনে এই ব্যবস্থা জোরালো করা হয়েছে।এ অবস্থায় ভোটের আগের দিনগুলোতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পৃথক অভিযানে হত্যা মামলার ৩ আসামিসহ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার সিপিসি-৩ র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল কর্তৃক পৃথক পৃথক অভিযানে একটি হত্যা মামলার তিনজন এজাহারনামীয় আসামি এবং একটি ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।মামলার বিবরণে জানা যায় নিহত কোরপান আলী (৭০) তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে একই গ্রামে পাশাপাশি বসবাস করতেন। নিহতের স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. কোরপান আলী ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বাড়ির বাইরে কাঁচা রাস্তায় অবস্থান নেন। আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে কোরপান আলী তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গেলে বিবাদীগণ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান (২২) বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৫(০১)২৫ তারিখ-২৫/০১/২০২৬ খ্রি.ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।মামলাটি রুজুর পর তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।এরই ধারাবাহিকতায় ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.সকাল ১০:৪০ ঘটিকায় টাঙ্গাইল সদর থানাধীন ছোট কালিবাড়ি বিশ্বাস বেতকা এলাকা থেকে ৪নং আসামি রাসেল মিয়া (৩৭),দুপুর ১২:৫০ ঘটিকায় টাঙ্গাইল সদর থানাধীন করোটিয়া এলাকা থেকে ৫নং আসামি মর্জিনা বেগম (৩২)এবংএকই দিন বিকাল ৩:২০ ঘটিকায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন মাওনা চকপাড়া এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ১নং আসামি মোহাম্মদ আলী (৬০)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।মামলার বিবরণে জানা যায়,ধৃত আসামি মিলন (৩৫) অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় ভিকটিমের নগ্ন ছবি ও ভিডিও কৌশলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে এক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে। একই সঙ্গে ভিকটিমকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত হুমকি প্রদান করতে থাকে।গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভিকটিম তার সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার পথে আসামি মিলন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে।পরবর্তীতে ভিডিওটি ব্যবহার করে ভিকটিমকে পুনরায় ধর্ষণ ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হলে ভিকটিম বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩৮(১০)২৫, তারিখ-১৮/১০/২০২৫ খ্রি.; ধারা- ৮(১)/৮(২) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১)/৯(৪)(খ); তৎসহ ৩২৩/৩০৭ পেনাল কোড)।মামলাটি রুজুর পর ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. রাত ৩:০০ ঘটিকায় র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প টাঙ্গাইল সদর থানাধীন গালুটিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মিলন (৩৫) কে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৪৬তম বিসিএসে শিক্ষাক্যাডারে দেশসেরা শিপন রানাঅধ্যবসায়ত্যাগ ও বিশ্বাসে গড়া অনন্য সাফল্যের গল্প বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) প্রকাশিত ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশব্যাপী গৌরবের নজির গড়েছেন শিপন রানা। টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার এই কৃতি সন্তান শিক্ষা ক্যাডারে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। শিপন রানা ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. মজিবুর রহমানের সন্তান। শৈশব থেকেই মেধা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দেওয়া শিপন কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি বোর্ড বৃত্তি অর্জন করেন, যা তার মেধার প্রাথমিক প্রমাণ বহন করে।উচ্চশিক্ষায় তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন (ফিলোসফি) বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বিসিএসকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। জানা গেছে, স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সময়ও তিনি বিসিএস প্রস্তুতিতে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়ন চালিয়ে যান।গত তিন থেকে চার বছর ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সংযমী ও কঠিন সময়। বিনোদন, সামাজিক আড্ডা এমনকি খেলাধুলা থেকেও নিজেকে দূরে রাখেন তিনি। মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করে পড়াশোনায় পুরো মনোযোগ দেন। ঈদের ছুটিতেও পরিবারে না গিয়ে হলে অবস্থান করে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তার দৃঢ় প্রত্যয়েরই প্রমাণ। ২০২৫ সালের জুন মাসে গোপালপুর উপজেলার ব্যবসায়ী মো.মোফাজ্জল হোসেন (বাবলু)-এর কন্যা ইশরাত নাদিয়া মীমের সঙ্গে শিপন রানার বিবাহ সম্পন্ন হয়। মীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার কারণে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও সময়সূচি পিছিয়ে দিতে হয় বলে জানা গেছে।শিপন রানা জানান,তার সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর অবদান ছিল অসামান্য। প্রস্তুতির পুরো সময়ে মানসিক সমর্থন অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থেকেছেন ইশরাত নাদিয়া মীম। পরিকল্পিত পড়াশোনা ও ভাইভা প্রস্তুতিতেও তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখেন।ধর্মীয় অনুশাসনের বিষয়ে শিপন রানা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত। তিনি বলেন,এই সাফল্য একান্তই মহান আল্লাহর রহমত। বাবা-মা,স্ত্রী,শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া ও সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। শিপন রানার এই গৌরবজনক সাফল্যে ঘাটাইলসহ পুরো টাঙ্গাইল জেলায় আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ি-১৪১) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের প্রার্থী জনাব ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সক্রিয়ভাবে ভোটারদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে চলেছেন। সরিষাবাড়ির প্রতিটি গ্রামে তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছে তাদের হৃদয় জয় করেছেন। জনাব শামীম নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেন, "আমার লক্ষ্য সরিষাবাড়িকে শাসক নয়, সেবক হিসাবে আধুনিক ও উন্নত শহরে পরিণত করা।" তিনি সাধারণ জনগণকে কেবলই নয়, আসনের সকল নির্বাচনী প্রার্থীদের সঙ্গে হাত মেলিয়ে কাজ করারও অঙ্গীকার করেছেন। তিনি এবং তার সমর্থকরা এই শপথবাক্য ঘোষণা করেছেন: ১২ তারিখের পর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে। নতুন, সমৃদ্ধ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি। ভেদাভেদ নয়, হিংসা নয়, আমাদের শক্তি হবে ঐক্য। সকলের প্রচেষ্টায় পথ হবে উন্নয়ন। ন্যায় ও ইনছাবভিত্তিক সমাজ গড়ার চেষ্টা। জামালপুরের মধ্যে সরিষাবাড়িকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শীর্ষে পৌঁছানোর প্রত্যয়। সরিষাবাড়ির সাধারণ জনগণ জানিয়েছেন, জনাব শামীম তাদের কাছে এক নয়নের মনি হয়ে উঠেছেন। তার উদার মানবতা এবং সেবামূলক মনোভাবের কারণে জনগণ তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রদান করছেন। অনেক ভোটার আশা প্রকাশ করেছেন, তার নেতৃত্বে সরিষাবাড়ি দেশের উন্নয়নের একটি রোল মডেল হয়ে উঠবে।
টাঙ্গাইলে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪০ প্রিভেন্টিভ, পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ, পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ মোট ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে পরিচালিত এ অভিযানে পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনা এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধারে জোরালো তৎপরতা চালানো হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার সব থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রিভেন্টিভ আটক ছাড়াও একাধিক নিয়মিত মামলার আসামি এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায় অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ টহল জোরদার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুলাভাইয়ের মরদেহ দেখতে এসে শ্যালিকার মৃত্যু টাঙ্গাইলের গোপালপুরে একই দিনে দুই আত্মীয়ের মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নবগ্রামে একই দিনে দুই আত্মীয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুলাভাইয়ের মরদেহ দেখতে এসে শ্যালিকা রহিমা (৬০) শোকে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবগ্রাম উত্তরপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ ইউসুফ আলীর পিতা আব্দুল্লাহ (১০০) সোমবার দুপুরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো মুখ দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় করেন।সন্ধ্যার পর এশার নামাজ শেষে নবগ্রাম দাখিল মাদরাসা মাঠে মরহুম আব্দুল্লাহর জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় হঠাৎ খবর আসে, মরদেহ দেখতে আসা তাঁর শ্যালিকা রহিমা বাড়িতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। উপস্থিত স্বজনরা দ্রুত তাঁকে প্রাথমিক সেবার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান।খবরটি জানাজাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত মানুষজন হতবাক হয়ে পড়েন। পরে আব্দুল্লাহর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করে স্বজনরা দ্রুত রহিমার মরদেহের কাছে ছুটে যান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমা রহিমা একই গ্রামের পাংকী বাড়ির মৃত জোয়াহের আলীর স্ত্রী।একই দিনে ঘনিষ্ঠ দুই স্বজনের মৃত্যুতে পুরো নবগ্রাম এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধন ও আত্মীয়তার কারণে ঘটনাটি গ্রামবাসীকে বিশেষভাবে মর্মাহত করেছে।
জামালপুর জেলা পুলিশ-এর মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জামালপুরে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধচিত্র বিশ্লেষণে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক। শুরুতেই পূর্ববর্তী মাসিক সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পরে জানুয়ারি/২০২৬ মাসের খাতভিত্তিক ও থানা-ভিত্তিক মামলার পরিসংখ্যান উপস্থাপন ও বিশদ আলোচনা করা হয়।সভায় বিভিন্ন থানা ও সংস্থার রুজুকৃত মামলা মামলা নিষ্পত্তির হার মুলতবি মামলা অপমৃত্যু সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রম মুলতবি গ্রেফতারি পরোয়ানা ও ক্রোকি পরোয়ানা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারকরণস্পর্শকাতর মামলার অগ্রগতি এবং জেলার চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়েও আলোচনা হয়।সভায় পুলিশ সুপার জেলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি অপরাধ দমন মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিষ্পত্তিতে তৎপরতা বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ সোহেল মাহমুদ পিপিএম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোরশেদা খাতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুনঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) মোঃ সাইফুল ইসলাম পিপিএম সহকারী পুলিশ সুপারবৃন্দ জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তাগণ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ ডিবি-১ ও ডিবি-২ এর ওসি ডিআইও-১ ও ডিআইও-২ তদন্তকেন্দ্র ও ফাঁড়ির ইনচার্জ, ট্রাফিক ও কোর্ট ইন্সপেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।জেলা পুলিশের নিয়মিত এ ধরনের পর্যালোচনা সভা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, সোমবার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রীয় এ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে কঠোর প্রটোকল নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ কূটনীতিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সমন্বয় এবং প্রস্তুতি তদারকি করছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আয়োজক সূত্র জানায়, নিরাপত্তা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং গোটা এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য নির্ধারিত গেট ব্যবহার এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে সর্বস্তরের জনগণের দৃষ্টি এখন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার দিকে। আগামীকাল বিকেলে শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন মন্ত্রিসভার পথচলা।
র্যাব-১৪-এর অভিযানে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের তৎপরতায় পলাতক দুলাভাই আটক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানায় দায়ের হওয়া এক আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামি মোঃ সাঈদ হাসান সেতু (২৬) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের আভিযানিক দল।র্যাবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ভিকটিমের পূর্বপরিচিত এবং সম্পর্কে চাচাত দুলাভাই। পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরে ভিকটিমের বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সে ভিকটিমকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ভিকটিমের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ভিকটিম আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ফুলপুর থানা-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২৫) এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৩, তারিখ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬)।মামলার পর থেকেই আসামি পলাতক ছিল। র্যাব-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়াতদন্তের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৬টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানাধীন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফুলপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।