টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। নির্বাচনী মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন স্পষ্ট। দিন দিন জমে উঠছে লড়াই; গণসংযোগ, পথসভা, জনসভা ও মিছিলের মাধ্যমে উভয় পক্ষই নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের নির্বাচনী ফলাফল নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিএনপি-সমর্থিত ভোট কতটা একমুখী থাকে, নাকি কোনো কারণে বিভক্ত হয়। দলীয় প্রতীক থাকায় বিএনপি প্রার্থী স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দীর্ঘদিনের স্থানীয় যোগাযোগ ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন। বিশেষ করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের ভোটের প্রবণতা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহর এলাকায় উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা ও রাজনৈতিক সচেতনতা যেখানে মুখ্য, সেখানে গ্রামাঞ্চলে প্রার্থী পরিচিতি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্থানীয় সমীকরণ বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা, কেন্দ্রভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী রাখা এবং ভোটার উপস্থিতি (টার্নআউট) চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে। অতীতে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল সদর আসনে কম ব্যবধানের ফলও নির্বাচনের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। সব মিলিয়ে, টাঙ্গাইল-৫ আসনের ভোটের লড়াই এখন টানটান উত্তেজনায় ভরা। শেষ পর্যন্ত ভোটের অঙ্ক কার পক্ষে যাবে, আর কার মুখে উঠবে বিজয়ের শেষ হাসি—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।
ভোটের নিরাপত্তায় সরকার কঠোর: সারাদেশে ৩ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারাদেশে টানা তিন দিনের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা দেশের কোথাও সাধারণ মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না। এ সময়ে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে।তবে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পূর্বানুমতি সাপেক্ষে চলাচলের সুযোগ পাবেন।এছাড়া ভোটের দিন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ট্যাক্সিক্যাব পিকআপ মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।কর্তৃপক্ষ বলছে নির্বাচনের সময় সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি কমাতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা বিবেচনায় এনে এই ব্যবস্থা জোরালো করা হয়েছে।এ অবস্থায় ভোটের আগের দিনগুলোতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পৃথক অভিযানে হত্যা মামলার ৩ আসামিসহ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার সিপিসি-৩ র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল কর্তৃক পৃথক পৃথক অভিযানে একটি হত্যা মামলার তিনজন এজাহারনামীয় আসামি এবং একটি ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।মামলার বিবরণে জানা যায় নিহত কোরপান আলী (৭০) তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে একই গ্রামে পাশাপাশি বসবাস করতেন। নিহতের স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. কোরপান আলী ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বাড়ির বাইরে কাঁচা রাস্তায় অবস্থান নেন। আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে কোরপান আলী তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গেলে বিবাদীগণ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান (২২) বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৫(০১)২৫ তারিখ-২৫/০১/২০২৬ খ্রি.ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।মামলাটি রুজুর পর তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।এরই ধারাবাহিকতায় ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.সকাল ১০:৪০ ঘটিকায় টাঙ্গাইল সদর থানাধীন ছোট কালিবাড়ি বিশ্বাস বেতকা এলাকা থেকে ৪নং আসামি রাসেল মিয়া (৩৭),দুপুর ১২:৫০ ঘটিকায় টাঙ্গাইল সদর থানাধীন করোটিয়া এলাকা থেকে ৫নং আসামি মর্জিনা বেগম (৩২)এবংএকই দিন বিকাল ৩:২০ ঘটিকায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন মাওনা চকপাড়া এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ১নং আসামি মোহাম্মদ আলী (৬০)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।মামলার বিবরণে জানা যায়,ধৃত আসামি মিলন (৩৫) অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় ভিকটিমের নগ্ন ছবি ও ভিডিও কৌশলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে এক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে। একই সঙ্গে ভিকটিমকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত হুমকি প্রদান করতে থাকে।গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভিকটিম তার সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার পথে আসামি মিলন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে।পরবর্তীতে ভিডিওটি ব্যবহার করে ভিকটিমকে পুনরায় ধর্ষণ ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হলে ভিকটিম বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩৮(১০)২৫, তারিখ-১৮/১০/২০২৫ খ্রি.; ধারা- ৮(১)/৮(২) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১)/৯(৪)(খ); তৎসহ ৩২৩/৩০৭ পেনাল কোড)।মামলাটি রুজুর পর ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. রাত ৩:০০ ঘটিকায় র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প টাঙ্গাইল সদর থানাধীন গালুটিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মিলন (৩৫) কে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও চোরাচালান প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধীন মাসুদপুর বিওপির টহলদলের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দের বিষয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মাসুদপুর বিওপির একটি চৌকস টহলদল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের ঠুঠাপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত ওই অভিযানে ০২টি বিদেশি পিস্তল, ০৪টি ম্যাগজিন ও ০৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্তৃক ৩৪টি পিস্তল, ০২টি রাইফেল, ৩৮টি ম্যাগজিন, ৬৪৫ রাউন্ড গুলি, ০২টি মর্টার শেল, ০১টি ককটেল, ০৪টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২০ কেজি গান পাউডারসহ মোট ৫৪টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) কর্তৃক ০১ জন আসামিসহ ৯.৩ কেজি বিস্ফোরক, ০৬টি বিদেশি পিস্তল, ১৩টি ম্যাগজিন ও ২৯ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতকারীরা যাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণসহ সব ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”
৪৬তম বিসিএসে শিক্ষাক্যাডারে দেশসেরা শিপন রানাঅধ্যবসায়ত্যাগ ও বিশ্বাসে গড়া অনন্য সাফল্যের গল্প বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) প্রকাশিত ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশব্যাপী গৌরবের নজির গড়েছেন শিপন রানা। টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার এই কৃতি সন্তান শিক্ষা ক্যাডারে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। শিপন রানা ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. মজিবুর রহমানের সন্তান। শৈশব থেকেই মেধা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দেওয়া শিপন কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি বোর্ড বৃত্তি অর্জন করেন, যা তার মেধার প্রাথমিক প্রমাণ বহন করে।উচ্চশিক্ষায় তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন (ফিলোসফি) বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বিসিএসকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। জানা গেছে, স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সময়ও তিনি বিসিএস প্রস্তুতিতে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়ন চালিয়ে যান।গত তিন থেকে চার বছর ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সংযমী ও কঠিন সময়। বিনোদন, সামাজিক আড্ডা এমনকি খেলাধুলা থেকেও নিজেকে দূরে রাখেন তিনি। মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করে পড়াশোনায় পুরো মনোযোগ দেন। ঈদের ছুটিতেও পরিবারে না গিয়ে হলে অবস্থান করে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তার দৃঢ় প্রত্যয়েরই প্রমাণ। ২০২৫ সালের জুন মাসে গোপালপুর উপজেলার ব্যবসায়ী মো.মোফাজ্জল হোসেন (বাবলু)-এর কন্যা ইশরাত নাদিয়া মীমের সঙ্গে শিপন রানার বিবাহ সম্পন্ন হয়। মীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার কারণে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও সময়সূচি পিছিয়ে দিতে হয় বলে জানা গেছে।শিপন রানা জানান,তার সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর অবদান ছিল অসামান্য। প্রস্তুতির পুরো সময়ে মানসিক সমর্থন অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থেকেছেন ইশরাত নাদিয়া মীম। পরিকল্পিত পড়াশোনা ও ভাইভা প্রস্তুতিতেও তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখেন।ধর্মীয় অনুশাসনের বিষয়ে শিপন রানা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত। তিনি বলেন,এই সাফল্য একান্তই মহান আল্লাহর রহমত। বাবা-মা,স্ত্রী,শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া ও সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। শিপন রানার এই গৌরবজনক সাফল্যে ঘাটাইলসহ পুরো টাঙ্গাইল জেলায় আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ি-১৪১) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের প্রার্থী জনাব ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সক্রিয়ভাবে ভোটারদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে চলেছেন। সরিষাবাড়ির প্রতিটি গ্রামে তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছে তাদের হৃদয় জয় করেছেন। জনাব শামীম নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেন, "আমার লক্ষ্য সরিষাবাড়িকে শাসক নয়, সেবক হিসাবে আধুনিক ও উন্নত শহরে পরিণত করা।" তিনি সাধারণ জনগণকে কেবলই নয়, আসনের সকল নির্বাচনী প্রার্থীদের সঙ্গে হাত মেলিয়ে কাজ করারও অঙ্গীকার করেছেন। তিনি এবং তার সমর্থকরা এই শপথবাক্য ঘোষণা করেছেন: ১২ তারিখের পর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে। নতুন, সমৃদ্ধ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি। ভেদাভেদ নয়, হিংসা নয়, আমাদের শক্তি হবে ঐক্য। সকলের প্রচেষ্টায় পথ হবে উন্নয়ন। ন্যায় ও ইনছাবভিত্তিক সমাজ গড়ার চেষ্টা। জামালপুরের মধ্যে সরিষাবাড়িকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শীর্ষে পৌঁছানোর প্রত্যয়। সরিষাবাড়ির সাধারণ জনগণ জানিয়েছেন, জনাব শামীম তাদের কাছে এক নয়নের মনি হয়ে উঠেছেন। তার উদার মানবতা এবং সেবামূলক মনোভাবের কারণে জনগণ তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রদান করছেন। অনেক ভোটার আশা প্রকাশ করেছেন, তার নেতৃত্বে সরিষাবাড়ি দেশের উন্নয়নের একটি রোল মডেল হয়ে উঠবে।
ধনবাড়ীর সকল ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসনের কঠোর প্রস্তুতি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার সকল ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন প্রশাসন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব হয়।প্রশাসন সূত্র জানায় ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা যাবে।এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর।এ লক্ষ্যে ধনবাড়ীবাসীর সচেতনতা সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। প্রশাসন আশা প্রকাশ করে জানায় সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় ধনবাড়ী উপজেলায় একটি শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গোপালপুরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনসমাবেশ ও আখেরি মিছিল অনুষ্ঠিত স্টাফ রিপোর্টার :এস কে শিপন গোপালপুর (টাঙ্গাইল), ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক বিশাল জনসমাবেশ ও আখেরি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪ ঘটিকার সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোঃ হুমায়ুন কবির-এর নেতৃত্বে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোহাট ময়দানে একটি জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোঃ হুমায়ুন কবির। তিনি তার বক্তব্যে ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। জনগণ যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখে, তাহলে ইনশাআল্লাহ একটি কল্যাণরাষ্ট্র উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।” বক্তব্য শেষে জনসমাবেশ থেকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় নির্বাচনীয় প্রচারের আখেরি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গোহাট ময়দান থেকে শুরু হয়ে গোপালপুর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গোহাট ময়দানে এসে শেষ হয়। মিছিলে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। উক্ত কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। মিছিল চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই জনসমাবেশ ও আখেরি মিছিল গোপালপুর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনীয় কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে নিরাপদ চিকিৎসা ও পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন নামে একটি অরাজনৈতিক, মানবিক ও নাগরিকভিত্তিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের ঘোষণা। আজ এক ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই আন্দোলনের সূচনা করেন। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান এস এম হৃদয় ইসলাম বলেন,একটি রাষ্ট্রে প্রতিটি মানুষের নিরাপদ চিকিৎসা গ্রহণ এবং সুস্থ ও দূষণমুক্ত পরিবেশে বসবাস করা মৌলিক নাগরিক অধিকার। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ভেজাল ওষুধ, ভুল চিকিৎসা, চিকিৎসা খাতের লাগামহীন বাণিজ্যীকরণ এবং ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ সাধারণ মানুষের সেই অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এর ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকি, আর্থিক ক্ষতি এবং জীবনহানির আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, চিকিৎসা কখনোই পণ্য হতে পারে না—এটি একটি মানবিক সেবা। একইভাবে পরিবেশ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং নাগরিক জীবনের অপরিহার্য অধিকার। এই নৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ করতেই “নিরাপদ চিকিৎসা ও পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন” গড়ে তোলা হয়েছে। সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে— নিরাপদ, নৈতিক ও মানবিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; ভেজাল ওষুধ, অনিয়ম ও বাণিজ্যিক চিকিৎসার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা,পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ রোগী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এ সময় নেতৃবৃন্দ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক দপ্তরসমূহের প্রতি আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানান। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানানো হয়। ঘোষণায় স্পষ্ট করে বলা হয়, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, মানবিক ও নাগরিকভিত্তিক থাকবে। সংগঠনটি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবে, ন্যায্য দাবির পক্ষে সোচ্চার থাকবে এবং সমাজে ন্যায়পরায়ণতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন— চেয়ারম্যান এস এম হৃদয় ইসলাম চুন্নু, মহাসচিব মেছবাহ উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মো. নাজমুল হক, দপ্তর সম্পাদক মো. আবদুল আলীম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. রায়হান উদ্দিন মানিক,ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান,ভাইস চেয়ারম্যান মো. সুলতান আলী,সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির শাহ,প্রকাশনা সম্পাদক মো. আসাদুল শেখ,আইন বিষয় সম্পাদক মো. ফয়জুল করিম,মহিলা সম্পাদক রেহেনা পারভিন,সদস্য মো. সোহাগ খান এবং সদস্য মিজানুর রহমান। চেয়ারম্যান এস এম হৃদয় ইসলাম বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল সচেতন নাগরিককে নিরাপদ চিকিৎসা ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার এই আন্দোলনে একত্রিত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
কালিহাতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক এবং ধানের শীষ প্রতীক সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির (ধানের শীষ) প্রতীকের প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র (হাঁস) প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে কালিহাতী থানা গেট অবরোধ করেন।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের লুহুরিয়া বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।হামলায় আহতরা হলেন—নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নারান্দিয়া ইউনিয়ন ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আল আজাদ পালিমা গ্রামের নজরুল ইসলাম কামাল কাজিম উদ্দিন ও আব্দুল কুদ্দুস।ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাতেই কালিহাতী উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি কালিহাতী থানা এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে নেতাকর্মীরা হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, রাতে লুহুরিয়া বাজার এলাকায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় তারা বাজারে অবস্থিত বিএনপির অফিসে অবস্থান নিলে হঠাৎ করে স্বতন্ত্র (হাঁস) প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়।এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন বলেন ঘটনাটি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। হামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা একটি সুষ্ঠু অবাধ ও স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশা করি।তবে এ ঘটনায় স্বতন্ত্র (হাঁস) প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বা তার পক্ষের কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে.এ.এম.তৌফিক আজম বলেনহামলার ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সভা অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে জেলা ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার জনাব শরীফা হক। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।সভায় পুলিশ সুপার মহোদয় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষ্যে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জনগণের জান-মালসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।পুলিশ সুপার আরও বলেন নির্বাচনকালীন সময়ের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন ভোটকেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মকসহযোগিতার আহ্বান জানান।সভায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ র্যাব ও বিজিবি’র প্রতিনিধিবৃন্দ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ,জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম,পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) টাঙ্গাইল,জনাব কাজী শাহনেওয়াজ,পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) টাঙ্গাইল,জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডান্টসহ টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভায় অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গৃহীত প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
টাঙ্গাইল সদর–০৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে শহর বিএনপির নির্বাচনী মিছিল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর–০৫ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু–এর পক্ষে টাঙ্গাইল শহর বিএনপির উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি। মিছিলের শুরুতেই ছিল ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। নেতাকর্মীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়ন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলে উপস্থিত নেতারা বলেন আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলের মানুষের পরীক্ষিত নেতা। অতীতে তাঁর নেতৃত্বে এ এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে ধানের শীষ এবার বিজয়ী হবে। মিছিলে টাঙ্গাইল শহর বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ এক বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফেরদৌস হোসেন রনির নেতৃত্বে এই গণমিছিলটি দুপুর ২টায় যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়ক থেকে শুরু হয়। গণমিছিলে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, যুবক, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ ভোটার অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এসময় নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। গণমিছিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী বলেন, “ঢাকা-৫ এর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট, বেকারত্ব ও নাগরিক সেবার দুরবস্থায় জনগণ আজ দিশেহারা। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।” তিনি আরও বলেন, “ধানের শীষ কোনো দলের প্রতীক নয়, এটি জনগণের মুক্তির প্রতীক। আপনারা যদি ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেন, তাহলে ঢাকা-৫ কে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনকল্যাণমুখী এলাকায় রূপান্তর করা হবে—ইনশাআল্লাহ।” এসময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফেরদৌস হোসেন রনি বলেন, “এই গণমিছিল প্রমাণ করে ঢাকা-৫ এ বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরিবর্তন চায়, জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়।” গণমিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং শেষে নেতৃবৃন্দ জনগণের প্রতি ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। (৬ই ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পার্ক থেকে র্যালি শুরু হয়। সেটি বাতেন খাঁ মোড় হয়ে শান্তি মোড় ও শিবতলা মোড় হয়ে রেহাইচর মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। ‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ এ স্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখা। র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ নূরুল ইসলাম বুলবুল। মোঃ নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্রশিবির দেশের ছাত্রসমাজকে নৈতিকতা ও আদর্শিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের জেলার সাবেক সভাপতি ও পৌর নায়েবে আমীর এ্যাডভোকেট মোঃ শফিক এনায়েতুল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ গোলাম রাব্বানী, ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আল গালিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নিতে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পর্তুগাল বিএনপির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার। এ সময় দেশে অবস্থানরত পর্তুগাল বিএনপির সদস্য সচিব সায়েফ আহমেদ সুইট, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক গিলমান চৌধুরীসহ দেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইল জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা মাদকের বিস্তার রোধ এবং সাধারণ জনগণের জন্য নিরপেক্ষ নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলার সকল থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় নিয়মিতভাবে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।অভিযান চলাকালে জেলা পুলিশের সদস্যরা মোটরসাইকেল প্রাইভেটকার ট্রাক সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে নিবিড় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধ যানবাহন ও নিয়মভঙ্গকারী মোটরসাইকেল আটক করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়।জেলা পুলিশের এই চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি সা’দত কলেজ। টাঙ্গাইল জেলা ছাড়াও আশপাশের একাধিক জেলার শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে দীর্ঘদিনের সুনাম ও আস্থা। এই কলেজে বর্তমানে টাঙ্গাইলসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে লোকাল বাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। এমন প্রেক্ষাপটে কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয় নিশ্চিত করতে আইডি কার্ড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বিষয়। বিশেষ করে বাসে শিক্ষার্থী ভাড়া সুবিধা গ্রহণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থী পরিচয় বহনের ক্ষেত্রে আইডি কার্ডের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত প্রায় দেড় থেকে দুই বছর আগে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী এখনও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আইডি কার্ড পাননি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার কথা বললে তিনি আইডি কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। তবে সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীকে আইডি কার্ড প্রদান করা হলে নতুন করে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যেসব আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত সাধারণ মানের কাগজে প্রিন্ট করা, যা সহজেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আইডি কার্ডের ফিতায় কলেজের নাম, লোগো কিংবা কোনো পরিচয়চিহ্ন নেই, যা একটি সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী কলেজের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এমন নিম্নমানের আইডি কার্ড পেয়ে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, একটি স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত, টেকসই ও পরিচয়বাহী আইডি কার্ড প্রদান করা কলেজ প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ০৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) কলেজের একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পোস্ট দেন। পোস্টগুলোতে দ্রুত সকল শিক্ষার্থীর জন্য উন্নত মানের আইডি কার্ড সরবরাহের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কলেজ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।
গাজীপুরে র্যাবের বড় অভিযান ৩৬৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ চার মাদক ব্যবসায়ী আটক জব্দ করা হয়েছে মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও মোবাইল৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৪ এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল উদ্ধারসহ চারজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে ৩৬৬ বোতল ফেন্সিডিল ছাড়াও একটি নোহা মাইক্রোবাস, একটি মোটরসাইকেল চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক বেচাকেনার নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।র্যাব সূত্র জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন কেওয়া নতুন বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইব্রাহিম বেডিংয়ের সামনে পাকা রাস্তা থেকে চার মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন—মোঃ শহিদুল ইসলাম (৫৫), জেলা: ঠাকুরগাঁও;মোঃ হাদিল (৩৯), জেলা: গাজীপুর; মোঃ নওশাদ (২৯), জেলা: ঠাকুরগাঁও এবং মোঃ শহিদুল ইসলাম ওরফে জুয়েল (৩৩), জেলা: ঠাকুরগাঁও।আটকের পর উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি মাইক্রোবাসে ফেন্সিডিল বহনের কথা স্বীকার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাইক্রোবাসের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩৬৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত ফেন্সিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ব্যবহৃত নোহা মাইক্রোবাস, একটি মোটরসাইকেল, চারটি মোবাইল ফোন এবং নগদ তিন হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাদের গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১৪ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মাদক নির্মূলে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
গোপালপুর ও ধনবাড়ীতে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার নির্দেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা রিটার্নিং অফিসার, টাঙ্গাইল। বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রিজাইডিং অফিসারদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা পেশাদারিত্ব ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।এছাড়াও তিনি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় তিনি ভোটারদের জন্য শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।পরিদর্শনের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক গোপালপুর ও ধনবাড়ীর একাধিক ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ভোটকেন্দ্রকে আইপি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেনপরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (গোপালপুর ও ধনবাড়ী)সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
গোপালপুর ও ধনবাড়িতে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে গোপালপুর ও ধনবাড়ি থানাধীন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার টাঙ্গাইল জনাব শরীফা হক এবং পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মহোদয় সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণের পরিবেশ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণ ও নির্ভয়ে তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পর্যাপ্ত ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের সার্বিক নিরাপত্তা ও নিবিড় নজরদারি কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার, টাঙ্গাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোপালপুর ও ধনবাড়ি; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণসহ জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যা অপস্) টাঙ্গাইল জনাব ফৌজিয়া হাবিব খান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, গোপালপুর সার্কেল জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার, মধুপুর সার্কেল, টাঙ্গাইল এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। নির্বাচনী মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন স্পষ্ট। দিন দিন জমে উঠছে লড়াই; গণসংযোগ, পথসভা, জনসভা ও মিছিলের মাধ্যমে উভয় পক্ষই নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের নির্বাচনী ফলাফল নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিএনপি-সমর্থিত ভোট কতটা একমুখী থাকে, নাকি কোনো কারণে বিভক্ত হয়। দলীয় প্রতীক থাকায় বিএনপি প্রার্থী স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দীর্ঘদিনের স্থানীয় যোগাযোগ ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন। বিশেষ করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের ভোটের প্রবণতা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহর এলাকায় উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা ও রাজনৈতিক সচেতনতা যেখানে মুখ্য, সেখানে গ্রামাঞ্চলে প্রার্থী পরিচিতি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্থানীয় সমীকরণ বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা, কেন্দ্রভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী রাখা এবং ভোটার উপস্থিতি (টার্নআউট) চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে। অতীতে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল সদর আসনে কম ব্যবধানের ফলও নির্বাচনের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। সব মিলিয়ে, টাঙ্গাইল-৫ আসনের ভোটের লড়াই এখন টানটান উত্তেজনায় ভরা। শেষ পর্যন্ত ভোটের অঙ্ক কার পক্ষে যাবে, আর কার মুখে উঠবে বিজয়ের শেষ হাসি—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।
ভোটের নিরাপত্তায় সরকার কঠোর: সারাদেশে ৩ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারাদেশে টানা তিন দিনের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা দেশের কোথাও সাধারণ মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না। এ সময়ে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে।তবে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পূর্বানুমতি সাপেক্ষে চলাচলের সুযোগ পাবেন।এছাড়া ভোটের দিন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ট্যাক্সিক্যাব পিকআপ মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।কর্তৃপক্ষ বলছে নির্বাচনের সময় সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি কমাতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা বিবেচনায় এনে এই ব্যবস্থা জোরালো করা হয়েছে।এ অবস্থায় ভোটের আগের দিনগুলোতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পৃথক অভিযানে হত্যা মামলার ৩ আসামিসহ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার সিপিসি-৩ র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল কর্তৃক পৃথক পৃথক অভিযানে একটি হত্যা মামলার তিনজন এজাহারনামীয় আসামি এবং একটি ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।মামলার বিবরণে জানা যায় নিহত কোরপান আলী (৭০) তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে একই গ্রামে পাশাপাশি বসবাস করতেন। নিহতের স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. কোরপান আলী ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বাড়ির বাইরে কাঁচা রাস্তায় অবস্থান নেন। আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে কোরপান আলী তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গেলে বিবাদীগণ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান (২২) বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৫(০১)২৫ তারিখ-২৫/০১/২০২৬ খ্রি.ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।মামলাটি রুজুর পর তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।এরই ধারাবাহিকতায় ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.সকাল ১০:৪০ ঘটিকায় টাঙ্গাইল সদর থানাধীন ছোট কালিবাড়ি বিশ্বাস বেতকা এলাকা থেকে ৪নং আসামি রাসেল মিয়া (৩৭),দুপুর ১২:৫০ ঘটিকায় টাঙ্গাইল সদর থানাধীন করোটিয়া এলাকা থেকে ৫নং আসামি মর্জিনা বেগম (৩২)এবংএকই দিন বিকাল ৩:২০ ঘটিকায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন মাওনা চকপাড়া এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ১নং আসামি মোহাম্মদ আলী (৬০)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।মামলার বিবরণে জানা যায়,ধৃত আসামি মিলন (৩৫) অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় ভিকটিমের নগ্ন ছবি ও ভিডিও কৌশলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে এক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে। একই সঙ্গে ভিকটিমকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত হুমকি প্রদান করতে থাকে।গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভিকটিম তার সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার পথে আসামি মিলন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে।পরবর্তীতে ভিডিওটি ব্যবহার করে ভিকটিমকে পুনরায় ধর্ষণ ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হলে ভিকটিম বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩৮(১০)২৫, তারিখ-১৮/১০/২০২৫ খ্রি.; ধারা- ৮(১)/৮(২) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১)/৯(৪)(খ); তৎসহ ৩২৩/৩০৭ পেনাল কোড)।মামলাটি রুজুর পর ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. রাত ৩:০০ ঘটিকায় র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প টাঙ্গাইল সদর থানাধীন গালুটিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মিলন (৩৫) কে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও চোরাচালান প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধীন মাসুদপুর বিওপির টহলদলের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দের বিষয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মাসুদপুর বিওপির একটি চৌকস টহলদল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের ঠুঠাপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত ওই অভিযানে ০২টি বিদেশি পিস্তল, ০৪টি ম্যাগজিন ও ০৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্তৃক ৩৪টি পিস্তল, ০২টি রাইফেল, ৩৮টি ম্যাগজিন, ৬৪৫ রাউন্ড গুলি, ০২টি মর্টার শেল, ০১টি ককটেল, ০৪টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২০ কেজি গান পাউডারসহ মোট ৫৪টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) কর্তৃক ০১ জন আসামিসহ ৯.৩ কেজি বিস্ফোরক, ০৬টি বিদেশি পিস্তল, ১৩টি ম্যাগজিন ও ২৯ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দুষ্কৃতকারীরা যাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণসহ সব ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”
৪৬তম বিসিএসে শিক্ষাক্যাডারে দেশসেরা শিপন রানাঅধ্যবসায়ত্যাগ ও বিশ্বাসে গড়া অনন্য সাফল্যের গল্প বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) প্রকাশিত ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশব্যাপী গৌরবের নজির গড়েছেন শিপন রানা। টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার এই কৃতি সন্তান শিক্ষা ক্যাডারে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। শিপন রানা ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. মজিবুর রহমানের সন্তান। শৈশব থেকেই মেধা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দেওয়া শিপন কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি বোর্ড বৃত্তি অর্জন করেন, যা তার মেধার প্রাথমিক প্রমাণ বহন করে।উচ্চশিক্ষায় তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন (ফিলোসফি) বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বিসিএসকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। জানা গেছে, স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সময়ও তিনি বিসিএস প্রস্তুতিতে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়ন চালিয়ে যান।গত তিন থেকে চার বছর ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সংযমী ও কঠিন সময়। বিনোদন, সামাজিক আড্ডা এমনকি খেলাধুলা থেকেও নিজেকে দূরে রাখেন তিনি। মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করে পড়াশোনায় পুরো মনোযোগ দেন। ঈদের ছুটিতেও পরিবারে না গিয়ে হলে অবস্থান করে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তার দৃঢ় প্রত্যয়েরই প্রমাণ। ২০২৫ সালের জুন মাসে গোপালপুর উপজেলার ব্যবসায়ী মো.মোফাজ্জল হোসেন (বাবলু)-এর কন্যা ইশরাত নাদিয়া মীমের সঙ্গে শিপন রানার বিবাহ সম্পন্ন হয়। মীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার কারণে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও সময়সূচি পিছিয়ে দিতে হয় বলে জানা গেছে।শিপন রানা জানান,তার সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর অবদান ছিল অসামান্য। প্রস্তুতির পুরো সময়ে মানসিক সমর্থন অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থেকেছেন ইশরাত নাদিয়া মীম। পরিকল্পিত পড়াশোনা ও ভাইভা প্রস্তুতিতেও তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখেন।ধর্মীয় অনুশাসনের বিষয়ে শিপন রানা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত। তিনি বলেন,এই সাফল্য একান্তই মহান আল্লাহর রহমত। বাবা-মা,স্ত্রী,শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া ও সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। শিপন রানার এই গৌরবজনক সাফল্যে ঘাটাইলসহ পুরো টাঙ্গাইল জেলায় আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।