টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় শাফিউল মুজনবীন দীপ্ত (২৫) নামে সিঙ্গার কোম্পানির এক তরুণ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দীপ্ত মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক শহীদুল্লাহ খানের একমাত্র ছেলে। পারিবারিকসূত্রে জানা যায়, দীপ্ত মির্জাপুর পৌরসভার বাইমহাটী কবরস্থান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার জানায়, সিঙ্গার কোম্পানিতে দিনাজপুর জেলা ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন দীপ্ত। সাপ্তাহিক ছুটিতে দিনাজপুর থেকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার রাতে মির্জাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় পৌঁছে বাস থেকে নামার পাঁচ মিনিট আগেই তিনি মুঠোফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু বাস থেকে নামার পরপরই অজ্ঞাত একটি দ্রুতগামী যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, তারা বহুবার ফোন করেও দীপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ পাননি। পরে কিছুক্ষণ পর মির্জাপুর থানা পুলিশই ফোন করে তাদের দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে। হঠাৎ করে পরিবারের ভবিষ্যৎ ভেঙে যাওয়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো মির্জাপুরে। সদ্য লেখাপড়া শেষ করে স্বপ্ন নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করা এই তরুণের অকাল মৃত্যু সহপাঠী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মনে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সারোওয়ার বলেন, “দুর্ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার যানটি শনাক্তে আমাদের তদন্ত চলছে।” এদিকে এলাকাবাসী দ্রুতগামী যানবাহনের বেপরোয়া গতিকে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করে মহাসড়কে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোকছেদুর রহমান জানান, তিন আরোহী একটি মোটরসাইকেলে করে গারোবাজার থেকে ঘাটাইলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোয় মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী মারা যান এবং অপরজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন প্রথমে তাদের উদ্ধার করে। পরে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )আরও বলেন, “মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী ছিলেন। অতিরিক্ত গতি এবং হেলমেট না পরার কারণে মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়েছে। পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারকে জানানো হবে।”
টাঙ্গাইলে পোষা প্রাণীসহ বিড়াল, ইঁদুর, শেয়াল ও কুকুরের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব রোগীর জন্য র্যাবিস টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও সরকারি হাসপাতালে প্রায় সারা বছরই টিকার সংকট বিরাজ করছে। এর ফলে রোগীদের বাইরে থেকে টিকা কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তারা টিকা না পেয়ে গুরুতর ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। ২৫০ শয্যার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতি মাসেই দেখা যায় জলাতঙ্ক রোগের র্যাবিস টিকা সংকট। শুধু র্যাবিস নয়, প্রায় এক বছর ধরে সরকারিভাবে আরআইজি (ইমিউনোগ্লোবুলিন) টিকার সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে নিম্নবিত্ত রোগীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী টিকা নিতে আসেন। কিন্তু সরকারি সরবরাহ কম থাকায় অনেক রোগী টিকা না পেয়ে বিপাকে পড়েন। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে অতিরিক্ত দামে টিকা কিনতে হচ্ছে তাদের। রোগীর স্বজনরা জানান, প্রতিটি ‘প্রাতটি’ ভ্যাকসিন (চার ডোজ) ৪৭০–৫০০ টাকায় কিনে নার্সদের দিতে হয়। র্যাবিস টিকার প্রতিটি ডোজে খরচ হয় ১২০–১২৫ টাকা। তিন ডোজ নিতে একজন রোগীর ৩৬০–৩৭৫ টাকা লাগে। ওজনভেদে এক থেকে তিনটি আরআইজি টিকা প্রয়োজন হয়, যেখানে খরচ দাঁড়ায় ৮২০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। সরকারিভাবে টিকার সরবরাহ বন্ধ থাকলেও ফার্মেসিগুলোতে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে। তবে সেখানেও সংকট দেখিয়ে দ্বিগুণ দাম আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক রোগী র্যাবিস টিকা সংকট সম্পর্কে জানেন না; হাসপাতালে এসে যখন টিকা কিনে আনতে বলা হয়, তখন বিপাকে পড়েন। হাসপাতালের নার্স ও ওয়ার্ড বয়রা জানান, বাইরে থেকে আনতে হয় বিষয়টি রোগীদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়—না জানালে পরে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে না চাইলেও জানিয়েছেন, “চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম।” বরাদ্দ পেলেও দুই দিনেই তা শেষ হয়ে যায়। প্রতি মাসে মাত্র ৩০০–৪০০ র্যাবিস ভ্যাকসিন আসে, যা চাহিদার তুলনায় অতি অপ্রতুল। এই চিত্র শুধু জেলা হাসপাতালেই নয়—জেলার ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একই অবস্থা। উপজেলা পর্যায়ে কোনো র্যাবিস কিংবা আরআইজি টিকা মজুদ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে প্রাণীর কামড়ে আক্রান্তদের টিকা সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে, জেলার নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিরোধ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি টিকার ঘাটতি না কাটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, “আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য। আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা একটি রাষ্ট্র।” তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে কোনো প্রকার হানাহানি থাকবে না, মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ হবে এবং মানুষ তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। বুধবার দুপুরে ৭৭তম বিশ্ব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধন ঘিরে প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। টুকু অভিযোগ করে বলেন, “বিগত দিনে দেশে একটি অবৈধ ও ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় ছিল, যারা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। যে দেশে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়, সেখানে মানবাধিকার টিকে থাকতে পারে না।” তিনি বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়—একটি মানবিক রাষ্ট্র চায় যেখানে মানুষ নিরাপদে মতামত প্রকাশ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, “জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব। সমাজে এখনো অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ বঞ্চিত। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার বিতরণ করেছি। রাস্তার পাশে ফুটপাতে যারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটায়, তাদের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। ভবিষ্যতেও মানবিক কাজে আমাদের ভূমিকা আরও বাড়ানো হবে।” দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সামনের নির্বাচন জনগণের। দেশের ভবিষ্যৎ আপনারা নির্ধারণ করবেন। যেন কোনো অমানবিক, স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী সরকার আর এ দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।” মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন—জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, সদস্য সচিব মামুনুর রহমান মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জুয়েল, উপদেষ্টা মনোয়ার হোসেন, বুলবুল আহমেদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এখন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। মানবাধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিত ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। মানববন্ধন শেষে একটি শান্তিপূর্ণ র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সমগ্র কর্মসূচিতে ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১১ ডিসেম্বর: টাঙ্গাইল পাক হানাদারমুক্ত দিবস আজ ১১ ডিসেম্বর—টাঙ্গাইলবাসীর গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইলকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন। এই দিনে টাঙ্গাইল জেলায় নতুন করে সূচনা হয় স্বাধীনতার, মুক্তির, বিজয়ের মহামন্ত্রে উজ্জ্বল এক প্রত্যয়ের। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, শত্রুমুক্তির আগের রাতটি ছিল টাঙ্গাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ রাত। সারারাত মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী ও ধারাবাহিক আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। টানা গোলাগুলিতে শহর ও শহরতলির মানুষজন কাটায় এক নিদ্রাহীন রাত। অবশেষে ১১ ডিসেম্বরের সকালটি নিয়ে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই বিজয়ের বারতা। ধ্বংসস্তূপ, রক্তের দাগ, অশ্রুভেজা বিদায়ের মাঝেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে—উল্লাসে, আবেগে ও স্বাধীনতার গর্বে উদ্বেল হয়ে। মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের ভূমিকা ছিল অনন্য। সাহস, সংগঠন, পরিকল্পনা ও বীরত্বে এ অঞ্চলটি গড়ে তোলে এক বিশেষ দৃষ্টান্ত। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত ‘কাদেরিয়া বাহিনী’ সেসময় শত্রুর বিরুদ্ধে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের বীরত্বগাঁথা শুধু দেশের সীমানায় আটকে থাকেনি—পৌঁছে যায় সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাছে। ইতিহাসবিদরা বলেন, টাঙ্গাইলের এই প্রতিরোধ না হলে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রযাত্রা এতটা দ্রুত সফল হতো না। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পরপরই টাঙ্গাইলে গঠন করা হয় স্বাধীন বাংলা গণমুক্তি পরিষদ। ২৬ মার্চ টাঙ্গাইল থানায় উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা—যা মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভিক দিনে এ জেলার অগ্রণী ভূমিকার প্রতীক। ৮ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে টাঙ্গাইল আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। পরে কালিহাতীর পুংলি এলাকায় মিত্রবাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পাক সেনারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে তারা প্রাণভয়ে সারারাত ধরে টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালাতে থাকে। ১০ ডিসেম্বর রাতে কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক টাঙ্গাইলে প্রবেশ করেন। পরদিন ১১ ডিসেম্বর সকালে কমান্ডার বায়োজিদ, খন্দকার আনোয়ার এবং পরে ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান টাঙ্গাইলে পৌঁছান। শহরের সার্কিট হাউজে অবস্থানরত পাকিস্তানি খান সেনারা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। আনুষ্ঠানিকভাবেই টাঙ্গাইল হয় শত্রুমুক্ত। এই দিনটি তাই শুধু একটি জেলার নয়—বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনবদ্য গৌরবের দিন। আজ টাঙ্গাইলবাসী স্মরণ করছে সেই বীরদের, যারা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার পতাকাকে সমুন্নত করেছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন বিতর্কের মধ্যে দিয়ে গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে কালিহাতীতে অবরোধ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচি নির্দেশ প্রদান করেন এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো। তারা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পর্তুগাল বিএনপির আহ্বায়ক ও টাঙ্গাইল জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরাম (ইউকের) সভাপতি আবু ইউসুফ তালুকদার। তার ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমি নিজেও এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। আমরা সকল মনোনয়ন প্রত্যাশী বেনজির আহমেদ টিটো ব্যতীত সকলেই লুৎফর রহমান মতিনকে সমর্থন করেছি। বেনজির আহমেদ টিটো যে মশাল মিছিল করেছেন তা দল এবং সাধারণ জনতার কাছে তার নিজ ইমেজকে ক্ষুণ্ণ করেছেন। এছাড়াও এই মহাসড়কের অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করলে দলীয় হাই কমান্ডের কাছে তার বহিষ্কারের দাবি জানাতে পারেন কালিহাতীর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।” এ বিষয়ে আবু ইউসুফ তালুকদার মুক্তধ্বনি ডটকমকে জানান, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে তিনি এই খবর পেয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে, ইউসুফ তালুকদারের ভিডিও বার্তার কমেন্ট সেকশনে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম. এ. বাতেন বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে ইউসুফ তালুকদারকে হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।" বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ করে ইউসুফ তালুকদার উল্লেখ করেন, “স্বৈরাচার আমলে দেশে আসতে পারিনি। দেশের বাইরে থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে আমার পরিবারের ওপর নানা অত্যাচার চালানো হয় এবং ভাইয়েরা রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে বার বার কারাবরণ করেছে।”
শরীয়তপুরে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ; তদন্তে ভিন্ন তথ্য বলছে পুলিশ শরীয়তপুরে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগ সামনে এলে তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার ভিন্ন চিত্র পেয়েছে বলে জানিয়েছে। অভিযোগকারী তরুণী নিজেকে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিলেও পুলিশ বলছে—তিনি কলেজ শিক্ষার্থী নন। বরং তদন্তে জানা গেছে, ওই নারীর বিয়ে হয়েছে এবং তার দুইটি সন্তান রয়েছে। পালং মডেল থানা পুলিশ জানায়, তরুণী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে তাকে কেউ মারধর করেছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান বলেছেন, তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। এছাড়া মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ওই তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যমকে তরুণী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা শহরের বনবিভাগ কার্যালয়ের পাশের নির্জন এলাকায় কয়েকজন যুবক তাদের পথরোধ করে। এ সময় তার সহপাঠীকেও আটক রেখে মারধর করা হয় এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তরুণীর দাবি, তাকে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখে। সহপাঠীর বর্ণনাও প্রায় একই। তিনি বলেন, বাস না পেয়ে তারা হাঁটছিলেন। দুই যুবক ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ভিতরে নিয়ে যায়। তাকে মারধর করে টাকা দাবি করা হয় এবং বান্ধবীকে আলাদা করে নিয়ে যাওয়া হয়। তরুণী আরও অভিযোগ করেছেন, তাকে টেনে নেওয়ার সময় দুইজন নারী ঘটনাটি দেখলেও কোনো সহায়তা করেনি। এছাড়াও ঘটনাস্থল এলাকায় কিছু কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কেউ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেননি। স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন জানান, তিনি বাসায় ফেরার সময় দেখতে পান কয়েকজন যুবক এক মেয়েকে নিয়ে বনবিভাগের দিক থেকে বের হচ্ছে। মেয়ে আতঙ্কে কিছু বলতে পারছিল না। সঙ্গী ছেলেটির ইশারায় তিনি সন্দেহ করেন। তাদের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে যুবকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়ে ঘটনাটি খুলে বলে।ওসি শাহ আলম বলেন,ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে গেছি। কিন্তু তরুণী আমাদের কাছে ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেছে। প্রাথমিক তদন্তেও ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি। তারপরও বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি।
সাজিদ পিয়াল: টাঙ্গাইল, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫: গৌরব ও ঐতিহ্যের দিন টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে আজ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, টাঙ্গাইলের অবদান এবং স্বাধীনতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল খান মাহবুব। তিনি তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের এই দিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন—টাঙ্গাইলের মানুষ অসম সাহসিকতা, ত্যাগ ও ঐক্যের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেছিল। তাঁর মতে, টাঙ্গাইলের মুক্তির দিন শুধু একটি জেলা নয়, পুরো জাতির বিজয়সংগ্রামের বড় মাইলফলক। বীর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল খান মাহবুব আরও বলেন, যে স্বাধীনতার জন্য আমরা জীবন বাজি রেখেছিলাম, সেই স্বাধীনতা আজকের তরুণ প্রজন্মের হাতে সুরক্ষিত থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ইতিহাস জানতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে, তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে।সভায় অন্যান্য বক্তারাও ১১ ডিসেম্বরের ঘটনা, বিডিআর বিদ্রোহী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘবদ্ধ অভিযান, টাঙ্গাইলের কৌশলগত গুরুত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখযুদ্ধে জেলার অবদান তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিকব্যক্তি, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন সড়কে র্যালি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং শহীদদের স্মরণে দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও দেশাত্মবোধক আবেগের উচ্ছ্বাসে ভরপুর অংশগ্রহণ।
বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত সিআর পরোয়ানায়-০১জন, সিআর পরোয়ানায়-০৩জন, জিআর পরোয়ানা-০১জন, নিয়মিত মামলায় ০২জন, পুলিশ আইন-৩৪ ধারায়-০৩জনসহ মোট-১০জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে। আজ দুপুরে অফিসার ইনচার্জ,বেগমগঞ্জ মডেল থানার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়, জেলা পুলিশের দিক নির্দেশনা ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আঃ বারী এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে থানার এএসআই(নিরস্ত্র) মোঃ ইলিয়াছ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত সিআর পরোয়ানা ৬৩৪/২০২১ দায়রা-১১৩৮/১৯, এর আসামী ১।দিপক মজুমদার, পিতা-হরেরাম শীল, সিআর পরোয়ানা-৭৬২/২৫ এর আসামী ২। জাহানারা, পিতা-মোঃ মনির, মাতা-আংকুরের নেছা, উভয় সাং-গণিপুর চৌমুহনী পৌরসভা, সিআর পরোয়ানা-৭৬৪/২৫ এর আসামী ৩। বিবি উম্মে সালমা, পিতা-আবদুল মান্নান, মাতা-ছকিনা বেগম, সাং-মীরওয়ারিশপুর, এএসআই(নিঃ) মোঃ শাহাজাদা সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় সিআর পরোয়ানা ২৯০/২০ এর আসামী ৪। কবির হোসেন মিলন, পিতা-মৃত তনু মিয়া, সাং-আলাইয়ারপুর। এএসআই(নিঃ) মোঃ করিব হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় জিআর পরোয়ানা ১৯/২৫ এর আসামী ৫। জাহাঙ্গীর(৩০), পিতা-মৃত শহিদ উল্যাহ, সাং-বারইচতল। এসআই(নিঃ) মোঃ খোরশেদ আলম সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় বেগমগঞ্জ মডেল থানার নিয়মিত মামলা নং-০৪(১২)২৫ এর আসামী ৬। নিজাম উদ্দিন প্রঃ রুবেল(৩৪), পিতা-মৃত আব্দুর রব, মাতা-আঙ্কুরের নেছা, সাং-হাজীপুর, ৭। মোঃ পারভেজ(২৮), পিতা-ইমন হাওলাদার, সাং-টঙ্গীপাড়া, থানা-টঙ্গীপাড়া, জেলা-মুন্সিগঞ্জ। এসআই(নিঃ) মাহামুদুল হক সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় ৮। মহিন উদ্দিন প্রঃ নান্নু(৩০), পিতা-আব্দুল জাব্বার, মাতা-ফরিদা আক্তার, ৯। মোঃ দেলোয়ার হোসেন(৪৫), পিতা-মোঃ হানিফ, মাতা-দূরলফী বেগম, উভয় সাং-নাজিরপুর, ১নং ওয়ার্ড, চৌমুহনী পৌরসভা, ১০। মোঃ সজিব(২০), পিতা-নুরুল ইসলাম, মাতা-বিবি মরিয়ম, সাং-পশ্চিম শোলকিয়া, ৬নং ওয়ার্ড, ৯নং কালাদরাপ ইউপি, থানা-সুধারাম গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বেগমগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আঃ বারী জানান, পুলিশ কর্তৃক বিশেষ অভিযান এর কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়াও থানা এলাকায় গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামী গ্রেফতারসহ অবৈধ অস্ত্র ও অবৈধ মাদক উদ্ধার সংক্রান্তে অভিযান অব্যাহত থাকবে, এইসব কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য গণমাধ্যমের সহায়তা আশা করে
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতায় নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে বাল্য বিয়ে বন্ধ হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নলুয়া গ্রামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে একই গ্রামের আবু সামা মিয়ার ১৭ বছর বয়সী ছেলে জিসান মিয়ার সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি গোপন থাকলেও খবর পায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়। খবর পেয়ে সুপারভাইজার মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন স্টাফ শিশু কন্যার বাড়িতে গিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধের চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বাল্য বিয়ে বন্ধে বাধা দেন এবং কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। স্থানীয়রা জানান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুর রহমান মাস্টার, সহ-সভাপতি মফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মোসলেম মিয়া সহ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির সহযোগিতায় বাল্য বিয়ের আয়োজন চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের টিম ফিরে এসে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে রাতেই ইউএনও জোহরা সুলতানা যূথী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাইমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিতে বিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মেয়েটির মাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ইউএনও বলেন,“উপজেলায় কোথায় বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন খবর পেলেই সঙ্গে সঙ্গে অভিযানে নামবে প্রশাসন। বাল্য বিয়ে রোধে জড়িত যেই হোক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযান শেষে প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সচেতন করেন এবং মেয়ের পরিবারকে আইনগত ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করেন। অন্যদিকে, সামাজিকভাবে এই ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করলেও বাল্য বিয়েতে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস ইতিহাসের গৌরবময় এক অধ্যায় যেটি আজকে নানাভাবে পালিত হচ্ছে ১১ ডিসেম্বর, টাঙ্গাইলের জনগণের জীবনে এক অনন্য গৌরবের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলদারিত্ব থেকে টাঙ্গাইলকে সম্পূর্ণ মুক্ত ঘোষণা করেন বাংলার বীর সন্তানেরা। বিজয়ের পতাকা উড়েছিল টাঙ্গাইলের আকাশে—জেগে উঠেছিল স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে টাঙ্গাইলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বীরত্বগাঁথায় ভরপুর। টাঙ্গাইলের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও ত্যাগ শুধু দেশেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কাদেরিয়া বাহিনীর দুর্ধর্ষ আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত হামলায় ১১ ডিসেম্বরের ভোরে টাঙ্গাইলের পথে বিজয়ের অগ্রযাত্রা শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শহর শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। স্বাধীনতার এই গৌরবময় অধ্যায়কে স্মরণ করে টাঙ্গাইলবাসী আজও উৎসবে মেতে ওঠে। বাঁধভাঙা আনন্দে ভরে ওঠে পুরো শহর—গৌরব ও ইতিহাসের দিনটিকে ঘিরে নানা আয়োজন হয়ে থাকে জেলার সর্বত্র। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে টাঙ্গাইল মুক্ত দিবস। শহরজুড়ে আলোচনাসভা, র্যালি, প্রার্থনা ও স্মৃতিচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইল।
সোনামুই উত্তরপাড়া জামে মসজিদের শুভ উদ্বোধন করলেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু সংবাদদাতা : এস কে শিপন টাঙ্গাইলের সোনামুই উত্তর পাড়া এলাকায় নবনির্মিত সোনামুই উত্তরপাড়া জামে মসজিদ-এর শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠিত হয়। এ শুভ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, সাবেক উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানস্থলে এডভোকেট সালাম পিন্টুর সঙ্গে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় মুসল্লি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। উদ্বোধনী বক্তব্যে এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, “আমি যদি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনতার ভালোবাসায় এমপি নির্বাচিত হতে পারি, তবে টাঙ্গাইল জেলার মানুষের কল্যাণে সর্বদা সমাজসেবার কাজে পাশে থাকব ইনশাল্লাহ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নকাজে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান। অনুষ্ঠানের শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। পরে তিনি নিজ হাতে মসজিদের উদ্বোধনী কাজের সূচনা করেন। স্থানীয়দের মতে, নতুন এই জামে মসজিদটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও মহান রোকেয়া দিবস উপলক্ষে পাঁচ অদম্য নারীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা পান—অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী: নীলা বেগম,শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সফল: সৈয়দা ফারজানা,সফল জননী: সৌমিত্রী বিশ্বাস,নির্যাতনের দুঃখ ঘুচে জীবন সংগ্রামে জয়ী: রনিয়া আক্তার,সমাজ উন্নয়নে অবদানকারী: রুমি আক্তার স্থানীয় নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একই অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী উদ্যোক্তার মাঝে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। উদ্যোক্তারা জানান, এই সহায়তা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আত্মকর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। এর আগে রোকেয়া দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা সমাজে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন। আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন সিদ্দিকা, অদম্য নারী সৈয়দা ফারজানা আক্তারসহ অন্যান্য বক্তারা। বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সমাজসেবামূলক সংগঠনগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার ৮টি আসনের মধ্যে অন্তত পাঁচটিতে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ক্ষোভ ও বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ নেয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। প্রায় প্রতিদিনই এসব আসনে মিছিল, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, মৌন মিছিলসহ নানা কর্মসূচি চলছে। একাধিক স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াও ঘটছে। অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ সংকটের সুযোগ নিতে ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। জানা গেছে, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর–ধনবাড়ী), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী), টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখীপুর) আসনে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তীব্র প্রতিযোগিতা ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। মনোনয়ন বঞ্চিতরা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের মনোযোগ আকর্ষণে নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়নকে কেন্দ্রেও জমেছে ক্ষোভ। তার বিপক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরহাদ ইকবালের সমর্থকেরা মশাল মিছিল, মৌন মিছিলসহ নানা কর্মসূচি করছেন। টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনেও মনোনীত প্রার্থী রবিউল আওয়াল লাভলুকে ঘিরে নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে দৃশ্যমান অসন্তোষ বিরাজ করছে। দেলদুয়ারে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহতও হয়েছেন। টাঙ্গাইল-১: ফকির মাহবুব আনাম স্বপন বনাম অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। এই আসনে কোন্দল দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মনোনীত প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ও মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ইতোমধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল, দোকানপাট ভাঙচুরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।স্থানীয়রা জানান, দু’গ্রুপের প্রতিনিয়ত অবস্থান—এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিএনপির এই বিভক্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোন্তাজ আলী। টাঙ্গাইল-৩: নাসির বনাম আজাদ, উত্তেজনায় ঘাটাইল। ঘাটাইলে নতুন মুখ অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির মনোনয়ন পেলেও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ তার ছেলে-মেয়ে, অনুসারীদের নিয়ে শোডাউনে ব্যস্ত। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, মানববন্ধনসহ নানা ধরনের কর্মসূচির কারণে ঘাটাইল এলাকায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে কুণ্ঠাবোধ করছেন না। এদিকে জামায়াতের প্রার্থী হুসনি মোবারক বাবুল নীরবে-নিভৃতে মাঠ গরম রাখছেন। টাঙ্গাইল-৪: দীর্ঘদিনের বিভক্তি, যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। কালিহাতীতে দীর্ঘদিনের বিএনপির বিভক্তি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকলেও, বেনজির আহমেদ টিটো মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত মিটিং-মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আসনে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে ঘিরে। তার অনুসারীরা তাকে স্বাগত জানিয়ে যে শোডাউন করেছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এদিকে জামায়াত, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং সারওয়ার সিরাজ শুক্লার সম্ভাব্য প্রার্থিতাও এই আসনকে বহুমাত্রিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রস্থলে পরিণত করেছে। টাঙ্গাইল-৭: আজাদ সিদ্দিকী বনাম সাইদ সোহরাব—মির্জাপুরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মির্জাপুরে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী পুরোদমে প্রচারণায় নেমেছেন। অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় নেতা সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব প্রকাশ্যেই মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তুলে সভা-সমাবেশ করছেন। এই আসনে কয়েকটি ইসলামী দলের প্রার্থীও সক্রিয় হওয়ায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। টাঙ্গাইল-৮: বাসাইল–সখীপুরে দুই প্রার্থীর শক্ত অবস্থান। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান মাঠে প্রচারণা জোরদার করলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়ন প্রত্যাশী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল মাঠে ব্যাপক তৎপরতা বজায় রেখেছেন। রাসেলের তহবিল থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজে অনুদান, রাস্তাঘাট মেরামতসহ জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এ আসনে কাদের সিদ্দিকীর সম্ভাব্য প্রার্থিতা এবং জামায়াতের সক্রিয়তা নির্বাচনকে আরও জটিল করবে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন,“মনোনয়ন নিয়ে এমন বিভক্তি থাকলে বিএনপির ভোটব্যাংক ছিন্নভিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে স্বতন্ত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।”অন্যদিকে, তৃণমূল বিএনপি নেতাদের দাবি—“কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে কার্যকর না হলে প্রার্থী–বিরোধিতা বিএনপির নিজস্ব শক্তিকেই দুর্বল করে দেবে।” জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন—“বিএনপি বড় দল। একাধিক প্রার্থী থাকাই স্বাভাবিক, তবে বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে একমঞ্চে আসতে হবে।”
টাঙ্গাইলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় চালকসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার কান্দিলা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে প্রচণ্ড শব্দে দুর্ঘটনার খবর দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন। নিহতরা হলেন—শেরপুর জেলার বাসিন্দা ট্রাকচালক সোহেল এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মুরগি ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান। নিহত দু’জনই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, “জামালপুর থেকে ঢাকাগামী হাঁস-মুরগি বোঝাই ট্রাকটি সামনে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। আহত তিন জনকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় মহাসড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি ও অসতর্ক ড্রাইভিংয়ের কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইলে কাভার্ড ভ্যানকে ট্রাকের ধাক্কা: নিহত ২ টাঙ্গাইলের কান্দিলা এলাকায় ০৯/১২/২০২৫ ইং তারিখ রোজ মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের পিছনে দ্রুতগতির একটি ট্রাক এসে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানান, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে তারা ছুটে এসে মহাসড়কে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দেখতে পান। সংঘর্ষের ফলে কাভার্ড ভ্যানের পেছনের অংশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী মারা যান। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধারসহ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যান দুটি রাস্তার পাশের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ট্রাকটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এবং মরদেহ দুটি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, তাই নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন ১০ ডিসেম্বর। এই দিন গোপালপুর ও আশপাশের দুটি অঞ্চল পাক হানাদারমুক্ত হয়ে বিজয়ের পতাকা উড়েছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রায় আট মাস হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, লুটপাট ও অমানবিক শোষণের পর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে এদিন মুক্তির স্বাদ পায় গোপালপুরবাসী। পাকিস্তানের দীর্ঘ ২৪ বছরের দুঃশাসন, রাজনৈতিক বঞ্চনা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জাতিগত নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু তার আগের রাত ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বর্বর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, যার ছায়া নেমে আসে গোপালপুরেও। মার্চের প্রথম দিক থেকেই দেশের অবস্থা অনুধাবন করে গোপালপুরের দেশপ্রেমিক মানুষ সংগঠিত হতে শুরু করেন এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। গোপালপুর থানা—যা টাঙ্গাইল জেলার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত—ছিল পাক সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। ৭ ডিসেম্বর নিকরাইল রানী দিনমনি হাইস্কুলে ৭০ জন কমান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাদেরিয়া বাহিনী প্রধান বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী গোপালপুর থানায় আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর নির্দেশে নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুর, আব্দুর রাজ্জাক ভোলা, আসাদুজ্জামান আরজু, বকুল, আব্দুল হাকিম, নূরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান আনিস ও খন্দকার হাবিবুর রহমান কোম্পানিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুর কোম্পানি গরুহাটি দিয়ে,আরজু কোম্পানি দক্ষিণ দিকের কীর্তনখোলা অংশ দিয়ে,আর আব্দুল হাকিম কোম্পানি মর্টারসহ পশ্চিম দিক দিয়ে আক্রমণ চালাবে।পরিকল্পনা অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর রাতভর থানা আক্রমণ শুরু হয় এবং পাক সেনারা চাপে পড়ে যায়। ১০ ডিসেম্বর দুপুর ৩টায় ভারতীয় বায়ুসেনার তিনটি মিগ-২১ বিমান গোপালপুর ও ঘাটাইল থানার ওপর একযোগে বোমা বর্ষণ ও ট্রাম্পিং করে। বিমান হামলায় ভীতসন্ত্রস্ত পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগী রাজাকাররা রাতের আঁধারে পালাতে শুরু করে। এদিকে, গোপালপুরের সূতি, নন্দনপুর, ভূয়ারপাড়া, চরপাড়া ও গরুহাটি এলাকায় অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ দূরত্ব থেকে শত্রু ঘেরাও করে রাখেন। পাকবাহিনী পালিয়ে যেতে শুরু করলে মিঞা কমান্ডার ও চাঁদ মিঞার প্লাটুন ধাওয়া করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চালান। ১০ ডিসেম্বর সকাল ১০টার মধ্যেই পাক সেনারা পুরোপুরি গোপালপুর ত্যাগ করে। বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে চাঁদ মিঞার প্লাটুন গুলি করতে করতে থানায় প্রবেশ করেন। এর পরপরই গোপালপুর থানা দখলে আসে মুক্তিযোদ্ধাদের। প্রথমে চাঁদ মিঞা, সাহেব আলী, শামছুল আলম, আব্দুল লতিফ, আজাহার, কাদের তালুকদার, তোরাপ সিকদার, ইসমাইল হোসেন মৃধা ও আব্দুস সোবহান তুলা থানায় উঠেন। পরে কমান্ডার আসাদুজ্জামান আরজু, বিমল, হায়দার, জয়নাল, শুকুরসহ আরও মুক্তিযোদ্ধারা থানায় প্রবেশ করেন। সেদিন ছিল গোপালপুরের মানুষের জন্য এক অবর্ণনীয় আনন্দের দিন। বিভিন্ন এলাকার লোকজন থানায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে, কোলাকুলি করে অভিনন্দন জানান। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। বিকেলে গোপালপুর থানার ছাদে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়—গোপালপুর হানাদারমুক্ত। এই দিনটি শুধু একটি থানা মুক্তির দিন নয়, এটি গোপালপুরবাসীর সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাহসিকতার অবিনাশী স্মৃতি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই দিনটি স্মরণ করবে গর্ব ও শ্রদ্ধায়।
মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যা মামলার মূল আসামি আয়েশা গ্রেপ্তার। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া মূল আসামি গৃহকর্মী আয়েশাকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশালের ঝালকাঠির নলছিটি এলাকার একটি আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তেজগাঁও জোনের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আয়েশার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি নলছিটি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুরের বাসায় লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় কথিত গৃহকর্মী আয়েশা। এ ঘটনায় নিহত নাফিসার বাবা আ. জ. ম. আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি উত্তরা এলাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ঘটনার দিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে আয়েশাকে বোরকা পরে লিফটে উঠতে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে। এরপর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক, কাঁধে ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস পরে ভবন থেকে বেরিয়ে যান তিনি। নিহত নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না—তা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একাধিক মামলার আসামি গণপিটুনিতে হত্যা দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বুধবার দুপুরে নোয়াখালী ডিসি অফিসের সামনে এই মানববন্ধন করেন হত্যা মামলার আসামিদের আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী। গত সোমবার বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের ফখরুল ইসলাম মন্জু ওরফে বলি নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকায় নির্যাতিত নারীপুরুষরা। এ ব্যাপারে পুলিশ বলছে নিহত যুবক একাধিক মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ১৪নং হাজীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মান্দার বাড়ির দরজায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত বলি উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের খালাসী বাড়ির বদিউজ্জামানের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার নিহতের বাবা বদিউজ্জামান বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৮জনের নাম উল্লেখ্য করে ও অজ্ঞাত আটজনের নাম দিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তাই মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে আসা খালেদা আক্তার জানান, বলি এলাকাতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। গত দুই-তিন বছর আমরা তার ভয়ে কথা বলতে পারেনি। এলাকাতে কোন সিএনজি আসলে সিএনজি থেকে সবাইকে নামিয়ে ছিনতাই করে টাকা পয়সা নিয়ে যেত। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতো না। ভুক্তভোগী আশরাফ আলী বলেন আমার ছেলেকে নষ্ট করার পিছনে বলি দায়ী, ইয়াবা সেবনসহ, গাঞ্জা, মাদক ব্যবসা করত সে। গ্রামের লোক তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আম্বিয়া খাতুন বলেন, আমাদের পাশের বাড়িতে সেই টর্চার সেল তৈরি করে রেখেছে, কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে সেখানে তাকে কারেন্টের শর্ট দেওয়া হতো। মহিলারা দিনে দুপুরে বের হতে ভয় পেতো। গত সোমবার সবাই যখন তাকে গণপিটুনি দেয় বলি মারা যায়, কিন্তু তার মারা যাওয়ার কারণে হত্যা মামলা করে গ্রামবাসীকে হয়রানি করার এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আমরা দাবি জানাচ্ছি। সন্ত্রাসী গণপিটুনে মারা যায় সেখানে আবার মামলা কি ? মামলা প্রত্যাহার না করলে আমরা এলাকাবাসী রাজপথ ছাড়বো না। আজকের মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা নোয়াখালীর ডিসি ও এসপিকে এর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মামলা প্রত্যাহার করার আহবান করি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। দলটি সারাদেশের ঘোষিত ১২৫টি আসনের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলার চারটি আসনে চারজনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী— টাঙ্গাইল-১ (ধনবাড়ী ও মধুপুর) মনোনয়ন পেয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির সদস্য ও ধনবাড়ী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী সাইদুল ইসলাম আপন। তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ সাজিদের ভাই। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির ডেপুটি মুখ্য-সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) সাইফুল্লাহ হায়দার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান রাসেলকে মনোনীত করা হয়েছে। টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) টাঙ্গাইল জেলা কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক খন্দকার মাসুদ পারভেজ মনোনয়ন পেয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও সদরে মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান রাসেল বলেন, “যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।” দলীয় সূত্র জানায়, বাকি আসনগুলোতেও প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই পর্যায়ক্রমে ঘোষণা দেওয়া হবে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় শাফিউল মুজনবীন দীপ্ত (২৫) নামে সিঙ্গার কোম্পানির এক তরুণ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দীপ্ত মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক শহীদুল্লাহ খানের একমাত্র ছেলে। পারিবারিকসূত্রে জানা যায়, দীপ্ত মির্জাপুর পৌরসভার বাইমহাটী কবরস্থান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার জানায়, সিঙ্গার কোম্পানিতে দিনাজপুর জেলা ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন দীপ্ত। সাপ্তাহিক ছুটিতে দিনাজপুর থেকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার রাতে মির্জাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় পৌঁছে বাস থেকে নামার পাঁচ মিনিট আগেই তিনি মুঠোফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু বাস থেকে নামার পরপরই অজ্ঞাত একটি দ্রুতগামী যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, তারা বহুবার ফোন করেও দীপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ পাননি। পরে কিছুক্ষণ পর মির্জাপুর থানা পুলিশই ফোন করে তাদের দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে। হঠাৎ করে পরিবারের ভবিষ্যৎ ভেঙে যাওয়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো মির্জাপুরে। সদ্য লেখাপড়া শেষ করে স্বপ্ন নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করা এই তরুণের অকাল মৃত্যু সহপাঠী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মনে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সারোওয়ার বলেন, “দুর্ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার যানটি শনাক্তে আমাদের তদন্ত চলছে।” এদিকে এলাকাবাসী দ্রুতগামী যানবাহনের বেপরোয়া গতিকে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করে মহাসড়কে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোকছেদুর রহমান জানান, তিন আরোহী একটি মোটরসাইকেলে করে গারোবাজার থেকে ঘাটাইলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোয় মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী মারা যান এবং অপরজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন প্রথমে তাদের উদ্ধার করে। পরে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )আরও বলেন, “মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী ছিলেন। অতিরিক্ত গতি এবং হেলমেট না পরার কারণে মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়েছে। পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারকে জানানো হবে।”
টাঙ্গাইলে পোষা প্রাণীসহ বিড়াল, ইঁদুর, শেয়াল ও কুকুরের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব রোগীর জন্য র্যাবিস টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও সরকারি হাসপাতালে প্রায় সারা বছরই টিকার সংকট বিরাজ করছে। এর ফলে রোগীদের বাইরে থেকে টিকা কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তারা টিকা না পেয়ে গুরুতর ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। ২৫০ শয্যার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতি মাসেই দেখা যায় জলাতঙ্ক রোগের র্যাবিস টিকা সংকট। শুধু র্যাবিস নয়, প্রায় এক বছর ধরে সরকারিভাবে আরআইজি (ইমিউনোগ্লোবুলিন) টিকার সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে নিম্নবিত্ত রোগীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী টিকা নিতে আসেন। কিন্তু সরকারি সরবরাহ কম থাকায় অনেক রোগী টিকা না পেয়ে বিপাকে পড়েন। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে অতিরিক্ত দামে টিকা কিনতে হচ্ছে তাদের। রোগীর স্বজনরা জানান, প্রতিটি ‘প্রাতটি’ ভ্যাকসিন (চার ডোজ) ৪৭০–৫০০ টাকায় কিনে নার্সদের দিতে হয়। র্যাবিস টিকার প্রতিটি ডোজে খরচ হয় ১২০–১২৫ টাকা। তিন ডোজ নিতে একজন রোগীর ৩৬০–৩৭৫ টাকা লাগে। ওজনভেদে এক থেকে তিনটি আরআইজি টিকা প্রয়োজন হয়, যেখানে খরচ দাঁড়ায় ৮২০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। সরকারিভাবে টিকার সরবরাহ বন্ধ থাকলেও ফার্মেসিগুলোতে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে। তবে সেখানেও সংকট দেখিয়ে দ্বিগুণ দাম আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক রোগী র্যাবিস টিকা সংকট সম্পর্কে জানেন না; হাসপাতালে এসে যখন টিকা কিনে আনতে বলা হয়, তখন বিপাকে পড়েন। হাসপাতালের নার্স ও ওয়ার্ড বয়রা জানান, বাইরে থেকে আনতে হয় বিষয়টি রোগীদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়—না জানালে পরে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে না চাইলেও জানিয়েছেন, “চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম।” বরাদ্দ পেলেও দুই দিনেই তা শেষ হয়ে যায়। প্রতি মাসে মাত্র ৩০০–৪০০ র্যাবিস ভ্যাকসিন আসে, যা চাহিদার তুলনায় অতি অপ্রতুল। এই চিত্র শুধু জেলা হাসপাতালেই নয়—জেলার ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একই অবস্থা। উপজেলা পর্যায়ে কোনো র্যাবিস কিংবা আরআইজি টিকা মজুদ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে প্রাণীর কামড়ে আক্রান্তদের টিকা সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে, জেলার নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিরোধ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি টিকার ঘাটতি না কাটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, “আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য। আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা একটি রাষ্ট্র।” তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে কোনো প্রকার হানাহানি থাকবে না, মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ হবে এবং মানুষ তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। বুধবার দুপুরে ৭৭তম বিশ্ব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধন ঘিরে প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। টুকু অভিযোগ করে বলেন, “বিগত দিনে দেশে একটি অবৈধ ও ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় ছিল, যারা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। যে দেশে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়, সেখানে মানবাধিকার টিকে থাকতে পারে না।” তিনি বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়—একটি মানবিক রাষ্ট্র চায় যেখানে মানুষ নিরাপদে মতামত প্রকাশ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, “জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব। সমাজে এখনো অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ বঞ্চিত। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার বিতরণ করেছি। রাস্তার পাশে ফুটপাতে যারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটায়, তাদের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। ভবিষ্যতেও মানবিক কাজে আমাদের ভূমিকা আরও বাড়ানো হবে।” দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সামনের নির্বাচন জনগণের। দেশের ভবিষ্যৎ আপনারা নির্ধারণ করবেন। যেন কোনো অমানবিক, স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী সরকার আর এ দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।” মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন—জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, সদস্য সচিব মামুনুর রহমান মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জুয়েল, উপদেষ্টা মনোয়ার হোসেন, বুলবুল আহমেদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এখন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। মানবাধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিত ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। মানববন্ধন শেষে একটি শান্তিপূর্ণ র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সমগ্র কর্মসূচিতে ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১১ ডিসেম্বর: টাঙ্গাইল পাক হানাদারমুক্ত দিবস আজ ১১ ডিসেম্বর—টাঙ্গাইলবাসীর গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইলকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন। এই দিনে টাঙ্গাইল জেলায় নতুন করে সূচনা হয় স্বাধীনতার, মুক্তির, বিজয়ের মহামন্ত্রে উজ্জ্বল এক প্রত্যয়ের। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, শত্রুমুক্তির আগের রাতটি ছিল টাঙ্গাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ রাত। সারারাত মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী ও ধারাবাহিক আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। টানা গোলাগুলিতে শহর ও শহরতলির মানুষজন কাটায় এক নিদ্রাহীন রাত। অবশেষে ১১ ডিসেম্বরের সকালটি নিয়ে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই বিজয়ের বারতা। ধ্বংসস্তূপ, রক্তের দাগ, অশ্রুভেজা বিদায়ের মাঝেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে—উল্লাসে, আবেগে ও স্বাধীনতার গর্বে উদ্বেল হয়ে। মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের ভূমিকা ছিল অনন্য। সাহস, সংগঠন, পরিকল্পনা ও বীরত্বে এ অঞ্চলটি গড়ে তোলে এক বিশেষ দৃষ্টান্ত। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত ‘কাদেরিয়া বাহিনী’ সেসময় শত্রুর বিরুদ্ধে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের বীরত্বগাঁথা শুধু দেশের সীমানায় আটকে থাকেনি—পৌঁছে যায় সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাছে। ইতিহাসবিদরা বলেন, টাঙ্গাইলের এই প্রতিরোধ না হলে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রযাত্রা এতটা দ্রুত সফল হতো না। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পরপরই টাঙ্গাইলে গঠন করা হয় স্বাধীন বাংলা গণমুক্তি পরিষদ। ২৬ মার্চ টাঙ্গাইল থানায় উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা—যা মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভিক দিনে এ জেলার অগ্রণী ভূমিকার প্রতীক। ৮ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে টাঙ্গাইল আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। পরে কালিহাতীর পুংলি এলাকায় মিত্রবাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পাক সেনারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে তারা প্রাণভয়ে সারারাত ধরে টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালাতে থাকে। ১০ ডিসেম্বর রাতে কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক টাঙ্গাইলে প্রবেশ করেন। পরদিন ১১ ডিসেম্বর সকালে কমান্ডার বায়োজিদ, খন্দকার আনোয়ার এবং পরে ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান টাঙ্গাইলে পৌঁছান। শহরের সার্কিট হাউজে অবস্থানরত পাকিস্তানি খান সেনারা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। আনুষ্ঠানিকভাবেই টাঙ্গাইল হয় শত্রুমুক্ত। এই দিনটি তাই শুধু একটি জেলার নয়—বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনবদ্য গৌরবের দিন। আজ টাঙ্গাইলবাসী স্মরণ করছে সেই বীরদের, যারা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার পতাকাকে সমুন্নত করেছিলেন।