টাঙ্গাইলে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল। টাঙ্গাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার বিকেলে মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১০ নং হুগড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ মুখর হয়ে ওঠে। দোয়া মাহফিল শুরুর আগেই কলেজ মাঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ সমবেত হতে শুরু করেন। ব্যানার–ফেস্টুন ও দোয়ার ব্যানারে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় আধ্যাত্মিক পরিবেশ। অনেকেই খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ব্যক্তিগতভাবেও মোনাজাত করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের এমপি প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।তার বক্তব্যে তিনি বলেন— বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের গণতন্ত্র আন্দোলনের অগ্রবর্তী মুখ। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং দেশের মানুষের স্বাধীনতা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। তার সুস্থতা আজ শুধু দলের নয়—সারা জাতির কামনা। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং সেই প্রার্থনায় আজ সবাই একত্রিত হয়েছি।”তিনি আরও বলেন,শীতের সময় অসহায় মানুষের কষ্ট আরও বাড়ে। তাই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে আজ শীতবস্ত্র বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে অন্তত কিছু মানুষের কষ্ট লাঘব করা যায়।”দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হুগড়া এলাকার স্থানীয় মসজিদের ইমাম। মোনাজাতে— বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য,দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা,মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতিএবং আগত দিনগুলোতে জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। ইমাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানুষের সেবাই ইবাদত। আজকের এই সমাবেশ মানবতার উদাহরণ। আল্লাহ যেন প্রার্থনার সবকিছু কবুল করেন।” অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।মোনাজাত শেষে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা নারী, পুরুষ ও বয়স্ক মানুষদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। শতাধিক পরিবারের হাতে কম্বল ও অন্যান্য শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয় বলে আয়োজকেরা জানান। শীতবস্ত্র পেয়ে অনেকেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন,এই আয়োজন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই করা হয়েছে। উপস্থিত অনেকেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে আরও সুসংগঠিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় ছিল। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের তত্ত্বাবধানে শীতবস্ত্র বিতরণ প্রক্রিয়া সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
যাদের জন্য সেতু নির্মাণ, সেই ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের হাতে উদ্বোধন; উপকৃত হবে ৬ গ্রামের হাজারো মানুষ, নেত্রকোণার দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকার জনজীবনে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা ছিল “বৈঠাখালি মঙ্গল শরি” নদী পারাপার। নদীতে সারা বছর পানি থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হতো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, নারী ও সাধারণ পথচারীদের। সরকারি উদ্যোগের অভাবে বহু বছর ধরে এলাকা ছিল অবহেলিত। আর সেই দুর্ভোগের মধ্যেই স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো ১০৫ ফুট দীর্ঘ কাঠ-বাঁশের সেতু—যা নির্মাণ করে দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ২৯/১১/২০২৫ ইং নাজিরপুর কৃষক সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেখতে পান—স্কুলের শ’খানেক ছাত্র-ছাত্রী এবং কয়েকজন শিক্ষক নদীর পাড়ে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছেন। তিনি গাড়ি থামিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান এবং জানতে চান সমস্যার কারণ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কে জানান, স্যার, প্রতিদিনই এই নদী পার হতে গিয়ে আমরা বহু কষ্ট করি। বর্ষায় নৌকা না পেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ থাকে। গ্রামবাসীর জন্যও নদী পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই কথাগুলো তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নেন—এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্দেশনা ও আশ্বাসে স্থানীয় জনগণ, ছাত্রদের অভিভাবক, যুবসমাজ এবং দলীয় কর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে আসেন। মাত্র একদিনের প্রস্তুতির পরই শুরু হয় সেতু নির্মাণ। ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শুরু হওয়া এই কাজটি দিনে-রাতে অব্যাহত থাকে। নির্মিত সেতুর বৈশিষ্ট্য—দৈর্ঘ্য: ১০৫ ফুট ,প্রস্থ: ৫ ফুট কাঠ ও বাঁশের সমন্বয়ে মজবুতভাবে তৈরি বর্ষাকালসহ সারা বছর ব্যবহারযোগ্য করে নকশা করা স্থানীয় প্রবীণ নাগরিকদের মতে, “বিগত ৩০ বছরে এমন কাজ কেউ দেখেনি। এত দ্রুত সিদ্ধান্ত, এত দ্রুত কাজ—এটি এলাকার মানুষের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।” ১০ ডিসেম্বর: আবেগঘন উদ্বোধন ,মাত্র চার দিনের প্রচেষ্টায় সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে। এরপর ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, সেতুটির উদ্বোধনে ছিল অনন্য একটি দৃশ্য—কোনো রাজনৈতিক নেতা বা অতিথি নয়, সেতুটি উদ্বোধন করেন সেই শিশু-কিশোর, শিক্ষক এবং গ্রামবাসী, যাদের দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট লাঘবের জন্যই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী মুহূর্তে উপস্থিত লোকজন বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়—এটি আমাদের বাঁচার স্বস্তি, আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা।”৬ গ্রামের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব নতুন সেতুটি চালু হওয়ায় উপকৃত হবে—২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী,পার্শ্ববর্তী জামে মসজিদের অসংখ্য মুসল্লি,কৃষক, দিনমজুর, কর্মজীবী মানুষ,এবং মোট ৬টি গ্রামের সাধারণ মানুষ, যাদের প্রতিদিনের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। স্থানীয় নারীরা জানান, হাসপাতাল, বাজার ও স্কুলে যেতে আর আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে প্রশংসা জানিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন—মানুষের সমস্যা শুনে চুপ থাকা আমাদের কাজ নয়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি কারণ মানুষের কষ্ট সহ্য হয় না। উন্নয়ন ও মানবসেবা—এই দুটি বিষয়ই আমার অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন,জনগণ সহযোগিতা করলে আরও অনেক এলাকায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার জনপ্রিয় মহল এবং প্রবীণদের মন্তব্য—ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেখিয়ে দিলেন—উদ্যোগ চাই, কাজ করা সম্ভব। এটি মানুষকে সম্মান দেওয়ার নজির। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা আজ নিশ্চিত হলো। দুর্গাপুর–কলমাকান্দা অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সক্রিয় ভূমিকা মানুষের মধ্যে নতুন আস্থা সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা সহায়তা, রাস্তা-মেরামত, সেতু নির্মাণ, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো—সব ক্ষেত্রেই তাঁর কার্যক্রম জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। এই কাঠের সেতু তাই শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি জনকল্যাণমুখী রাজনীতির জীবন্ত উদাহরণ।
‘মানবাধিকার, আমাদের নিত্যদিনের অপরিহার্য’’ এই প্রতিপাদ্যে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের আয়োজনে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহায়তায় নানা আয়োজনে এ দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে বুধবার (০৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জন ক্রসওয়েল খকসি‘র সভাপতিত্বে, সংস্থার উপজেলা কোঅর্ডিনেটর পল সুকান্ত বিশ^াস এর সঞ্চালনায়, প্রধান অতিথি‘র বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমবায় অফিসার বিজন কান্তি ধর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাবেক সভাপতি মো: মেহান মিয়া, সংস্থার ফাইন্যান্স অফিসার পল সুকান্ত বিশ^াস প্রমুখ। এছাড়া কবি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। এরপর থেকে সারাবিশ্বেই এই দিনে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের গড় হার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ এখনো অর্ধেক মানুষকে নিবন্ধন না থাকার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। নিবন্ধনহীনতা দেশে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে ত্বরান্বিত করছে। একইভাবে, মৃত্যু নিবন্ধন না থাকায় উত্তরাধিকার প্রমাণেও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আইন সংস্কারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম জনবান্ধব করতে হবে, যাতে কোনো মানুষই পরিচয়হীন না থাকে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সকল মৌলিক অধিকার সমানভাবে ভোগ করতে পারে। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি সকলকে সহায়তা করতে আহবান জানানো হয়।
জন্মের পর থেকেই শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতায় ভুগছিল ছোট্ট ইসরাত জাহান আছিয়া। বয়স মাত্র ২ বছর ৩ মাস—কিন্তু এতটুকু বয়সেই জীবনের সঙ্গে লড়াই করছে সে। নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের রানীগাঁও গ্রামের এই নিষ্পাপ শিশুটির হৃদপিণ্ডে জন্মগত ছিদ্র ধরা পড়ে কয়েক মাস আগে। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারটির পক্ষে এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তখনই এগিয়ে আসেন দেশের আলোচিত মানবিক ব্যক্তিত্ব, অসহায়ের শক্ত ভরসার নাম—ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আইন বিষয়ক সম্পাদক—কেন্দ্রীয় বিএনপি এবং মহাসচিব—জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।পরিবারটির আর্থিক অসহায় অবস্থা জানার পর তিনি দ্বিধাহীনভাবে ঘোষণা দেন, আছিয়ার সম্পূর্ণ চিকিৎসা, ভর্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অপারেশন ও পরবর্তী সকল খরচ আমার ব্যক্তিগত দায়িত্বে। তার এই উদ্যোগ পরিবারে ফিরিয়ে এনেছে আশার আলো ও বাঁচার সাহস। ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আছিয়াকে ভর্তি করা হয় ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে। চিকিৎসক দল জানিয়েছে—আছিয়ার অপারেশনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তবে সময়মতো সার্জারি হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্রস্তুত করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও সার্জিক্যাল টিম। পারিবারিক বাস্তবতা: দারিদ্র্যের মধ্যেও সন্তানের প্রতি অসীম স্নেহ, আছিয়ার বাবা আইনুল ইসলাম পেশায় দিনমজুর, মা ময়না আক্তার গৃহিণী। পরিবারের দুটি সন্তান—এক ছেলে ও এক মেয়ে। আছিয়া সবার ছোট; সবার আদর ও স্নেহের কেন্দ্রবিন্দু। শিশুটির জন্মের পর থেকেই তাদের জীবনে শুরু হয় দুঃশ্চিন্তার দিন। স্থানীয় চিকিৎসকদের ব্যাখ্যায় জানা যায়—আছিয়ার হৃদযন্ত্রে গুরুতর ছিদ্র রয়েছে, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে জীবন সংকট তৈরি করতে পারে। হাতে ছিল না প্রয়োজনীয় অর্থ, ছিল শুধু অসহায়ত্ব। মানবতার ফেরিওয়ালা কায়সার কামালের ধারাবাহিক সেবা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ইতিমধ্যেই পরিচিত নাম। থেলাসেমিয়া, কিডনি বিকল, ক্যান্সার, চোখের চিকিৎসা, হার্ট সার্জারি—এমন বহু ব্যয়বহুল চিকিৎসার দায়িত্ব তিনি নিঃস্বার্থভাবে গ্রহণ করেছেন। আছিয়ার চিকিৎসা উদ্যোগটি তার পরিচালিত ৬ নম্বর ছিদ্র হার্ট অপারেশন । মানুষের কষ্ট লাঘব ও মানবতার সেবা তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। মানুষের দোয়া—আছিয়ার শক্তি ,রানীগাঁও গ্রামে এখন একটাই প্রার্থনা—আছিয়ার অপারেশন সফল হোক। পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়সহ এলাকার মানুষ ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। নিষ্পাপ এই শিশুটির মুখের হাসি ফিরিয়ে আনার জন্য সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন তিনিও। শিশু আছিয়ার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হোক—এই কামনাই সকলের। মানবতার কল্যাণে, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও আরও প্রসারিত হবে—ইনশাআল্লাহ।
বাসাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির নবগঠিত কমিটির সভাপতি-সম্পাদকদের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ। বাসাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির নবগঠিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যরা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বঙ্গবীরের বাসভবনে গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং সংগঠনের কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্থানীয় সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।এ সময় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সৎ সাংবাদিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।তিনি বলেন,সত্য, ন্যায় ও মানুষের অধিকারের পক্ষে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভীকভাবে কাজ করলে সমাজ উপকৃত হবে। সাক্ষাৎকালে কমিটির সদস্যরা বঙ্গবীরের শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে তার দিকনির্দেশনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাজিদ পিয়াল:আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালু, অনিবন্ধিত মোবাইল নিবন্ধনের সময় বাড়ল ১৫ মার্চ পর্যন্ত। দেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ফোনের জাতীয় পরিচিতি নিবন্ধন ব্যবস্থা—ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)—আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হতে যাচ্ছে। তবে সুবিধার কথা বিবেচনা করে বর্তমানে ব্যবহৃত অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনগুলো আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,দেশে মোবাইল ফোন চোরাচালান, ক্লোনড ও রিফার্বিশড ফোনের অনুপ্রবেশ রোধ, পুরোনো বিদেশি ফোনের বাজারে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই ও চুরি হওয়া ফোন শনাক্ত, অনলাইন জুয়া, এমএফএস ও ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধের জন্য এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে শুল্ক ফাঁকি রোধ করাও এ ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।ব্যবসায়ীদের দাবিতে সময় বাড়ল গত তিনদিন মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর দেশজুড়ে থাকা সকল অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন নিবন্ধনের সময় ১৬ ডিসেম্বরের বদলে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মোবাইল আমদানিতে বাধা নেই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়— মোবাইল ফোন আমদানিতে কোনোরূপ নিষেধাজ্ঞা নেই। কত পুরোনো ফোন বা কোন মডেল আমদানি করা যাবে, তা মন্ত্রণালয় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে জানাবে।আমদানির বিষয়টি সরকারকে অবহিত করতে হবে।শুল্ক পুনর্নির্ধারণে এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান।বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে বলা হয়, এনইআইআর চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অবৈধ ফোনের ব্যবহার বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে। তাই এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর উদ্বোধন করা হবে, যেখানে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে কাকুয়া হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন কাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাদত হোসেন সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সচিব এডভোকেট আজিমুদ্দিন বিপ্লব, জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম, কাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম এবং কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিতরা সকলেই দেশরত্ন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির নেত্রী দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশের মানুষের জন্য আবারও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। মাহফিলের শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালিত হয়, যেখানে উপস্থিত সকল নেতা-কর্মী দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করেন।
ওয়াজের মঞ্চে স্ট্রোক, হাসপাতালে বক্তার মৃত্যু তাফসির মাহফিলের মঞ্চে তখন ছিল এক গভীর, নিবিড় নীরবতা। মঞ্চ জুড়ে বসে থাকা হাজারো মানুষ প্রিয় বক্তার বক্তব্যে ডুবে ছিলেন। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য, হৃদয়ছোঁয়া উপস্থাপনা, তিলাওয়াত ও ব্যাখ্যা—সবকিছুতেই মুগ্ধ হয়ে শ্রোতারা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। ঠিক এমন সময়ই ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা মুহূর্তেই পুরো মাহফিলস্থলকে স্তব্ধ করে দেয়। বয়ানরত অবস্থায় হঠাৎ করেই বক্তার ব্রেন স্ট্রোক হয়। তিনি হাতের মাইক্রোফোনসহ মঞ্চে লুটিয়ে পড়েন। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো অসুস্থ বোধ করায় বসে পড়েছেন; কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মঞ্চের পাশে থাকা আয়োজকরা ছুটে গিয়ে তাঁকে ধরার চেষ্টা করেন, শ্রোতারা দাঁড়িয়ে যান, অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তৎক্ষণাৎ আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই জানান, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবার পরও তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে মাহফিল, এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। বহু মানুষের জীবনে ছোঁয়া রেখে যাওয়া এই বক্তার মৃত্যু সবাইকে ব্যথিত করেছে। তাঁর বয়ান, ইসলামের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের মন জয়ের ক্ষমতা—সবকিছুই মানুষ স্মরণ করছে গভীর আবেগে। স্থানীয় ধর্মীয় অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই এই ক্ষতিকে অপূরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় দোয়ার আয়োজন করা হচ্ছে।
সাজিদ পিয়াল: নাগরপুর–টাঙ্গাইল সড়কের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন। নাগরপুর থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত সড়কের অবর্ণনীয় ভোগান্তি, দীর্ঘদিনের খানা-খন্দক, এবং চলাচলের চরম দুরবস্থার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবহনচালকদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টার দিকে নাগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েক শতাধিক মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন। হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে তারা দ্রুত সড়ক সংস্কার ও কাজের গতি বাড়ানোর দাবি জানান। অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নাগরপুর–টাঙ্গাইল প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, খানাখন্দে যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন, আর ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরো বলেন, বিভিন্ন সময় সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তাই অবিলম্বে রাস্তার কাজ শুরু করে দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তারা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনগুলো। মানববন্ধনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
টাংগাইলের বাসাইলে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত। ০৯/১২/২০২৫ ইং তারিখ রোজ মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য র্যালি, শপথ গ্রহণ ও আলোচনা সভায় দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান জানান।টাঙ্গাইলের বাসাইলে যথাযোগ্য মর্যাদা, নানা কর্মসূচি এবং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস-২০২৫। সোমবার সকালে উপজেলা প্রশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকালে উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। র্যালির শ্লোগানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। পরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। বক্তারা বলেন, দুর্নীতি একটি রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। পরিবারের শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে সততা, স্বচ্ছতা এবং নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। তারা আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। সভা শেষে সকল উপস্থিতির অংশগ্রহণে দুর্নীতি বিরোধী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথে নৈতিকতা চর্চা, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আচরণ এবং যেকোনো ধরণের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন সবাই।দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা, পোস্টার প্রদর্শনী, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পরে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে বাসাইলবাসীর মাঝে দুর্নীতি প্রতিরোধে নতুন সচেতনতা সৃষ্টি হয়, যা স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
সারা দেশের ন্যায় ভূঞাপুরে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত । সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা ও শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস-২০২৫। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) এবং ভূঞাপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশ নেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষ। র্যালির শ্লোগানে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছতা-সততার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। বক্তারা বলেন, দুর্নীতি একটি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন করা এবং তাদের ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে দুর্নীতি বিরোধী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথে দুর্নীতির বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া, সততা ও নৈতিকতার চর্চা এবং সমাজে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন সবাই। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা, কুইজসহ সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এদিনের কর্মসূচি ভূঞাপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধে নতুন সচেতনতার সঞ্চার করে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানায় আয়োজকরা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনে বোরকা পরে বাসায় প্রবেশ করে মা–মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে নতুন নিয়োগ পাওয়া গৃহকর্মী। সোমবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিট থেকে ৯টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত দুইজন হলেন লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)। পুলিশ জানায়, চারদিন আগে গৃহকর্মী হিসেবে ‘আয়েশা’ নামে পরিচয় দিয়ে ওই বাসায় কাজ নেয় মেয়েটি। ঘটনার দিন বোরকা পরে বাসায় ঢুকে মা–মেয়েকে হত্যার পর নাফিসার স্কুলড্রেস ও মুখে মাস্ক পরে বেরিয়ে যায় সে। সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে তার প্রবেশ ও বের হওয়ার দৃশ্য।নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম, উত্তরা সানবীমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক,সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি ফিরে এসে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লায়লা আফরোজের মৃতদেহ উদ্ধার করে, আর নাফিসাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়সকাল ৭:৫১ মিনিট: বোরকা পরা গৃহকর্মী আয়েশা বাসায় প্রবেশ করে।সকাল ৯:৩৬ মিনিট: স্কুল ইউনিফর্ম পরে বেরিয়ে আসে।ভবনের সামনে থেকে রিকশায় ওঠে এবং দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।তল্লাশিতে বাথরুম থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ফল কাটার ছুরি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব দিয়েই মা–মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। ডাইনিং রুমে থাকা ইন্টারকমের তার খুলে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে,মনে হচ্ছে নাফিসা কাউকে ফোন করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়।বাসার ভেতরে রক্তের দাগ, ধস্তাধস্তির চিহ্ন, তছনছ করা আলমারি ও ব্যাগ পাওয়া গেছে। নিহত লায়লা আফরোজের মোবাইল ফোনও নেই। শিক্ষক আজিজুল ইসলাম জানান, চার দিন আগে কাজের খোঁজে একটি মেয়ে গেটে আসে। দারোয়ান খালেক তাকে বাসায় পাঠান। মেয়েটি নিজেকে ‘আয়েশা’ বলে পরিচয় দেয় এবং জানায় তার গ্রামের বাড়ি রংপুর, বাবা–মা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন, আর সে জেনেভা ক্যাম্পে চাচা–চাচির সঙ্গে থাকে। তার শরীরেও পোড়ার দাগ দেখা যায়।ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন ,দুজনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বাসায় ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে। হত্যাকারী ঘটনাস্থলে বাথরুমে ফ্রেশ হয়েছে,এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।’’গৃহকর্মীর পরিচয় ও পলায়নের পথ চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। দারোয়ান মালেককে জিজ্ঞাসাবাদে রাখা হয়েছে
টাঙ্গাইলে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২৫ পালিত। সাজিদ পিয়াল: ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা : এই স্লোগানকে সামনে রেখে গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ প্রতিপাদ্যে বিভিন্ন আয়োজন।সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও আজ ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদা ও তাৎপর্যের সঙ্গে পালিত হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২৫। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইল-এর আয়োজনে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়।দিবসের প্রধান কর্মসূচি হিসেবে সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের জেলা সমন্বয়ক। এতে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দুর্নীতি জাতির অগ্রযাত্রার প্রধান বাধা। তরুণ প্রজন্মই পারে এই অনিয়ম-অবিচারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি সুশাসিত ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।” তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবার ও সমাজে সততা চর্চার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ শুধুমাত্র দুদকের দায়িত্ব নয়; বরং সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। সবার অংশগ্রহণেই গড়ে উঠবে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ।অনুষ্ঠানে দুর্নীতিবিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য—দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা গড়বে আগামীর শুদ্ধতা—এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তরুণদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও প্রচার কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।আলোচনা সভা শেষে দুর্নীতিবিরোধী শপথ গ্রহণ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, এবং প্রতীকী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সরকারী কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ অংশগ্রহণকারীরা যোগ দেন। দিবসটি উপলক্ষে দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ট্রাকের চাপায় মোঃ রনি মিয়া (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টের শাহপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মোঃ সায়েম হোসেন। নিহত রনি মিয়া টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জহুর আলীর ছেলে। তিনি মধুপুর তৌফিক প্লাজায় একটি দোকানে ব্যবসা করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হওয়ায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাতে রনি মোটরসাইকেলে করে মধুপুর থেকে ঘাটাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে শাহপুর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ট্রাকটি রনিকে চাপা দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ছুটে এসে রনির মরদেহ সড়কের পাশেই দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘাটাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এএসআই মোঃ সায়েম হোসেন বলেন, “ট্রাকটি দুর্ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায়। অন্ধকারের কারণে গাড়ির নম্বর কিংবা পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ শনাক্ত করতে পারেনি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।” এদিকে, আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। তারা ঘাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন
টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০২৫। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ ছিল প্রাণবন্ত ও ব্যস্ততম। দিনটি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালী, আলোচনা সভা ও শ্রেষ্ঠ ‘অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালীটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নারী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ, সামাজিক–সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র্যালীটি হয়ে ওঠে বর্ণিল ও প্রাণবন্ত। র্যালী শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এবারের বেগম রোকেয়া দিবস-২০২৫ এর প্রতিপাদ্য “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বক্তারা সমাজে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, অধিকার প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল ক্ষমতায়নকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আলোচনা সভা শেষে ‘অদম্য নারী’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল। সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা নিজেদের সংগ্রাম, সাফল্য ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান। নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে দিনব্যাপী এ আয়োজন টাঙ্গাইলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় টাঙ্গাইলের মধুপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে ভুটিয়া চৌরাস্তা মোড়ে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-০১ (মধুপুর–ধনবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (স্বপন ফকির)। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলেন, “দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার ফেরাতে বেগম খালেদা জিয়া যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জাতি তা কখনো ভুলবে না। তাঁর সুস্থতা দেশের মানুষের প্রত্যাশা।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। দোয়া মাহফিল শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু, দ্রুত রোগমুক্তি এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাই তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোয়া মাহফিলে যোগ দিয়ে তাঁর সুস্থতা কামনা করেছেন।
টাঙ্গাইলের তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হয় এ মতবিনিময় সভা। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সমন্বয় জোরদার করার উদ্দেশ্যে এটি ছিল পুলিশ সুপারের প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিচিতি সভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, উত্তর টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।এ ছাড়া তিন সংগঠনের শতাধিক সাংবাদিক, রিপোর্টার, ক্যামেরাপার্সন ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, টাঙ্গাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সাংবাদিকদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজ ও প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার তার বক্তব্যে বলেন,“পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক। আমরা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবো, আপনারা সঠিক সংবাদ প্রচার করে সমাজকে সহায়তা করবেন। একসঙ্গেই টাঙ্গাইলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও স্থিতিশীল ও উন্নত করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন,“আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট টাঙ্গাইলসহ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ যেন নিরাপদে, বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পারে—এটাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো অনিয়ম যাতে না ঘটে সেদিকে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবো।” পুলিশ সুপার জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় নতুন করে পুলিশ সুপার পদায়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন,“আমি টাঙ্গাইলে দায়িত্ব নিয়েছি নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে। ভোটারদের যেন বিগত নির্বাচনের মতো কোনো দুর্ভোগে না পড়তে হয়। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, টহল ও নজরদারির সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সভা শেষে সাংবাদিকরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং টাঙ্গাইলের সার্বিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কাজের সঙ্গে গণমাধ্যমের অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে বলে মত দেন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আউলটিয়া বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৩ নং ঘারিন্দা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ও টাঙ্গাইল জেলা আমীর আহসান হাবিব মাসুদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, এলাকার উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনই আমাদের মূল প্রতিশ্রুতি। জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” তিনি আসন্ন নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “এলাকার শান্তি, উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।” মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির ব্যস্ততা। সভা শেষে অতিথি ও নেতৃবৃন্দ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল র্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন জানান, সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে মাদক কারবারীরা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানাধীন অরণখোলা এলাকায় বিপুল পরিমাণে অবৈধ মাদক দ্রব্য গাঁজা নিজেদের হেফাজতে রেখে কেনাবেচা করছে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের লক্ষ্যে মঙ্গলব্রা (৯ ডিসেম্বর) ভোর রাতে র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের একটি চৌকস আভিধানিক দল উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।টাঙ্গাইলে র্যাব-১৪ এর সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে মধুপুর উপজেলা থেকে ১২৭ কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়। ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ভোরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১২৭ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৪) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মির্জাপুর ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা থেকে পৃথক অভিযানে ৫ হাজার ২৮ পিস ইয়াবা এবং ৬৬ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. আকরাম হোসেন (৪০) ও মো. জুয়েল খান (৩৮)। ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৪৬০ গ্রাম হেরোইনসহ মোঃ তোহর আলী (৬০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র্যাব।র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওসার বাঁধন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন এবং মাদকবিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও কর্মক্ষমতা তুলে ধরে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA), গ্লোবাল কেয়ার, পিএমসিআই ও কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিডিসি’র সাবেক লাইন ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “দেশে অ-সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত বাড়ছে। এমন সময়ে মাঠপর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় মির্জাপুরের এই প্রকল্প অন্য জেলাগুলোর জন্য রোল মডেল হতে পারে।” অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিতে হবে। কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA) মির্জাপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং, নিয়মিত ফলোআপ এবং রোগীদের জীবনযাপনগত পরিবর্তনে সহায়তা নিয়ে যে প্রকল্প চালাচ্ছে—সভায় এর কার্যক্রম, এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বক্তৃতা করেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ডা. আব্বাস ইবনে করিম, গ্লোবাল কেয়ার বাংলাদেশ’র প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. সেওনাঙ লিম, মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদেব কর্মকার, ডা. পার্ক, ডা. নিপা কর্মকার, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, ফিল্ড ম্যানেজার লিপুস মৃসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, মির্জাপুরে দীর্ঘমেয়াদি রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষায় উৎসাহিত করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। সভায় ভবিষ্যতে ইউনিয়ন-স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি, হেলথ ক্যাম্প বাড়ানো এবং রোগীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন—এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে মির্জাপুরসহ পুরো টাঙ্গাইল জেলায় দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
টাঙ্গাইলে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল। টাঙ্গাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার বিকেলে মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১০ নং হুগড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ মুখর হয়ে ওঠে। দোয়া মাহফিল শুরুর আগেই কলেজ মাঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ সমবেত হতে শুরু করেন। ব্যানার–ফেস্টুন ও দোয়ার ব্যানারে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় আধ্যাত্মিক পরিবেশ। অনেকেই খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ব্যক্তিগতভাবেও মোনাজাত করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের এমপি প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।তার বক্তব্যে তিনি বলেন— বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের গণতন্ত্র আন্দোলনের অগ্রবর্তী মুখ। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং দেশের মানুষের স্বাধীনতা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। তার সুস্থতা আজ শুধু দলের নয়—সারা জাতির কামনা। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং সেই প্রার্থনায় আজ সবাই একত্রিত হয়েছি।”তিনি আরও বলেন,শীতের সময় অসহায় মানুষের কষ্ট আরও বাড়ে। তাই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে আজ শীতবস্ত্র বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে অন্তত কিছু মানুষের কষ্ট লাঘব করা যায়।”দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হুগড়া এলাকার স্থানীয় মসজিদের ইমাম। মোনাজাতে— বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য,দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা,মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতিএবং আগত দিনগুলোতে জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। ইমাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানুষের সেবাই ইবাদত। আজকের এই সমাবেশ মানবতার উদাহরণ। আল্লাহ যেন প্রার্থনার সবকিছু কবুল করেন।” অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।মোনাজাত শেষে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা নারী, পুরুষ ও বয়স্ক মানুষদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। শতাধিক পরিবারের হাতে কম্বল ও অন্যান্য শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয় বলে আয়োজকেরা জানান। শীতবস্ত্র পেয়ে অনেকেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন,এই আয়োজন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই করা হয়েছে। উপস্থিত অনেকেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে আরও সুসংগঠিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় ছিল। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের তত্ত্বাবধানে শীতবস্ত্র বিতরণ প্রক্রিয়া সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
যাদের জন্য সেতু নির্মাণ, সেই ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের হাতে উদ্বোধন; উপকৃত হবে ৬ গ্রামের হাজারো মানুষ, নেত্রকোণার দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকার জনজীবনে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা ছিল “বৈঠাখালি মঙ্গল শরি” নদী পারাপার। নদীতে সারা বছর পানি থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হতো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, নারী ও সাধারণ পথচারীদের। সরকারি উদ্যোগের অভাবে বহু বছর ধরে এলাকা ছিল অবহেলিত। আর সেই দুর্ভোগের মধ্যেই স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো ১০৫ ফুট দীর্ঘ কাঠ-বাঁশের সেতু—যা নির্মাণ করে দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ২৯/১১/২০২৫ ইং নাজিরপুর কৃষক সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেখতে পান—স্কুলের শ’খানেক ছাত্র-ছাত্রী এবং কয়েকজন শিক্ষক নদীর পাড়ে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছেন। তিনি গাড়ি থামিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান এবং জানতে চান সমস্যার কারণ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কে জানান, স্যার, প্রতিদিনই এই নদী পার হতে গিয়ে আমরা বহু কষ্ট করি। বর্ষায় নৌকা না পেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ থাকে। গ্রামবাসীর জন্যও নদী পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই কথাগুলো তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নেন—এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্দেশনা ও আশ্বাসে স্থানীয় জনগণ, ছাত্রদের অভিভাবক, যুবসমাজ এবং দলীয় কর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে আসেন। মাত্র একদিনের প্রস্তুতির পরই শুরু হয় সেতু নির্মাণ। ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শুরু হওয়া এই কাজটি দিনে-রাতে অব্যাহত থাকে। নির্মিত সেতুর বৈশিষ্ট্য—দৈর্ঘ্য: ১০৫ ফুট ,প্রস্থ: ৫ ফুট কাঠ ও বাঁশের সমন্বয়ে মজবুতভাবে তৈরি বর্ষাকালসহ সারা বছর ব্যবহারযোগ্য করে নকশা করা স্থানীয় প্রবীণ নাগরিকদের মতে, “বিগত ৩০ বছরে এমন কাজ কেউ দেখেনি। এত দ্রুত সিদ্ধান্ত, এত দ্রুত কাজ—এটি এলাকার মানুষের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।” ১০ ডিসেম্বর: আবেগঘন উদ্বোধন ,মাত্র চার দিনের প্রচেষ্টায় সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে। এরপর ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, সেতুটির উদ্বোধনে ছিল অনন্য একটি দৃশ্য—কোনো রাজনৈতিক নেতা বা অতিথি নয়, সেতুটি উদ্বোধন করেন সেই শিশু-কিশোর, শিক্ষক এবং গ্রামবাসী, যাদের দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট লাঘবের জন্যই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী মুহূর্তে উপস্থিত লোকজন বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়—এটি আমাদের বাঁচার স্বস্তি, আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা।”৬ গ্রামের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব নতুন সেতুটি চালু হওয়ায় উপকৃত হবে—২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী,পার্শ্ববর্তী জামে মসজিদের অসংখ্য মুসল্লি,কৃষক, দিনমজুর, কর্মজীবী মানুষ,এবং মোট ৬টি গ্রামের সাধারণ মানুষ, যাদের প্রতিদিনের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। স্থানীয় নারীরা জানান, হাসপাতাল, বাজার ও স্কুলে যেতে আর আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে প্রশংসা জানিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন—মানুষের সমস্যা শুনে চুপ থাকা আমাদের কাজ নয়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি কারণ মানুষের কষ্ট সহ্য হয় না। উন্নয়ন ও মানবসেবা—এই দুটি বিষয়ই আমার অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন,জনগণ সহযোগিতা করলে আরও অনেক এলাকায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার জনপ্রিয় মহল এবং প্রবীণদের মন্তব্য—ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেখিয়ে দিলেন—উদ্যোগ চাই, কাজ করা সম্ভব। এটি মানুষকে সম্মান দেওয়ার নজির। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা আজ নিশ্চিত হলো। দুর্গাপুর–কলমাকান্দা অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সক্রিয় ভূমিকা মানুষের মধ্যে নতুন আস্থা সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা সহায়তা, রাস্তা-মেরামত, সেতু নির্মাণ, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো—সব ক্ষেত্রেই তাঁর কার্যক্রম জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। এই কাঠের সেতু তাই শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি জনকল্যাণমুখী রাজনীতির জীবন্ত উদাহরণ।
‘মানবাধিকার, আমাদের নিত্যদিনের অপরিহার্য’’ এই প্রতিপাদ্যে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের আয়োজনে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহায়তায় নানা আয়োজনে এ দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে বুধবার (০৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জন ক্রসওয়েল খকসি‘র সভাপতিত্বে, সংস্থার উপজেলা কোঅর্ডিনেটর পল সুকান্ত বিশ^াস এর সঞ্চালনায়, প্রধান অতিথি‘র বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমবায় অফিসার বিজন কান্তি ধর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাবেক সভাপতি মো: মেহান মিয়া, সংস্থার ফাইন্যান্স অফিসার পল সুকান্ত বিশ^াস প্রমুখ। এছাড়া কবি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। এরপর থেকে সারাবিশ্বেই এই দিনে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের গড় হার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ এখনো অর্ধেক মানুষকে নিবন্ধন না থাকার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। নিবন্ধনহীনতা দেশে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে ত্বরান্বিত করছে। একইভাবে, মৃত্যু নিবন্ধন না থাকায় উত্তরাধিকার প্রমাণেও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আইন সংস্কারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম জনবান্ধব করতে হবে, যাতে কোনো মানুষই পরিচয়হীন না থাকে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সকল মৌলিক অধিকার সমানভাবে ভোগ করতে পারে। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি সকলকে সহায়তা করতে আহবান জানানো হয়।
জন্মের পর থেকেই শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতায় ভুগছিল ছোট্ট ইসরাত জাহান আছিয়া। বয়স মাত্র ২ বছর ৩ মাস—কিন্তু এতটুকু বয়সেই জীবনের সঙ্গে লড়াই করছে সে। নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের রানীগাঁও গ্রামের এই নিষ্পাপ শিশুটির হৃদপিণ্ডে জন্মগত ছিদ্র ধরা পড়ে কয়েক মাস আগে। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারটির পক্ষে এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তখনই এগিয়ে আসেন দেশের আলোচিত মানবিক ব্যক্তিত্ব, অসহায়ের শক্ত ভরসার নাম—ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আইন বিষয়ক সম্পাদক—কেন্দ্রীয় বিএনপি এবং মহাসচিব—জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।পরিবারটির আর্থিক অসহায় অবস্থা জানার পর তিনি দ্বিধাহীনভাবে ঘোষণা দেন, আছিয়ার সম্পূর্ণ চিকিৎসা, ভর্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অপারেশন ও পরবর্তী সকল খরচ আমার ব্যক্তিগত দায়িত্বে। তার এই উদ্যোগ পরিবারে ফিরিয়ে এনেছে আশার আলো ও বাঁচার সাহস। ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আছিয়াকে ভর্তি করা হয় ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে। চিকিৎসক দল জানিয়েছে—আছিয়ার অপারেশনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তবে সময়মতো সার্জারি হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্রস্তুত করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও সার্জিক্যাল টিম। পারিবারিক বাস্তবতা: দারিদ্র্যের মধ্যেও সন্তানের প্রতি অসীম স্নেহ, আছিয়ার বাবা আইনুল ইসলাম পেশায় দিনমজুর, মা ময়না আক্তার গৃহিণী। পরিবারের দুটি সন্তান—এক ছেলে ও এক মেয়ে। আছিয়া সবার ছোট; সবার আদর ও স্নেহের কেন্দ্রবিন্দু। শিশুটির জন্মের পর থেকেই তাদের জীবনে শুরু হয় দুঃশ্চিন্তার দিন। স্থানীয় চিকিৎসকদের ব্যাখ্যায় জানা যায়—আছিয়ার হৃদযন্ত্রে গুরুতর ছিদ্র রয়েছে, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে জীবন সংকট তৈরি করতে পারে। হাতে ছিল না প্রয়োজনীয় অর্থ, ছিল শুধু অসহায়ত্ব। মানবতার ফেরিওয়ালা কায়সার কামালের ধারাবাহিক সেবা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ইতিমধ্যেই পরিচিত নাম। থেলাসেমিয়া, কিডনি বিকল, ক্যান্সার, চোখের চিকিৎসা, হার্ট সার্জারি—এমন বহু ব্যয়বহুল চিকিৎসার দায়িত্ব তিনি নিঃস্বার্থভাবে গ্রহণ করেছেন। আছিয়ার চিকিৎসা উদ্যোগটি তার পরিচালিত ৬ নম্বর ছিদ্র হার্ট অপারেশন । মানুষের কষ্ট লাঘব ও মানবতার সেবা তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। মানুষের দোয়া—আছিয়ার শক্তি ,রানীগাঁও গ্রামে এখন একটাই প্রার্থনা—আছিয়ার অপারেশন সফল হোক। পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়সহ এলাকার মানুষ ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। নিষ্পাপ এই শিশুটির মুখের হাসি ফিরিয়ে আনার জন্য সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন তিনিও। শিশু আছিয়ার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হোক—এই কামনাই সকলের। মানবতার কল্যাণে, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও আরও প্রসারিত হবে—ইনশাআল্লাহ।
বাসাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির নবগঠিত কমিটির সভাপতি-সম্পাদকদের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ। বাসাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির নবগঠিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যরা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বঙ্গবীরের বাসভবনে গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং সংগঠনের কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্থানীয় সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।এ সময় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সৎ সাংবাদিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।তিনি বলেন,সত্য, ন্যায় ও মানুষের অধিকারের পক্ষে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভীকভাবে কাজ করলে সমাজ উপকৃত হবে। সাক্ষাৎকালে কমিটির সদস্যরা বঙ্গবীরের শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে তার দিকনির্দেশনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।