মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল র্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন জানান, সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে মাদক কারবারীরা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানাধীন অরণখোলা এলাকায় বিপুল পরিমাণে অবৈধ মাদক দ্রব্য গাঁজা নিজেদের হেফাজতে রেখে কেনাবেচা করছে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের লক্ষ্যে মঙ্গলব্রা (৯ ডিসেম্বর) ভোর রাতে র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের একটি চৌকস আভিধানিক দল উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।টাঙ্গাইলে র্যাব-১৪ এর সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে মধুপুর উপজেলা থেকে ১২৭ কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়। ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ভোরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১২৭ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৪) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মির্জাপুর ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা থেকে পৃথক অভিযানে ৫ হাজার ২৮ পিস ইয়াবা এবং ৬৬ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. আকরাম হোসেন (৪০) ও মো. জুয়েল খান (৩৮)। ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৪৬০ গ্রাম হেরোইনসহ মোঃ তোহর আলী (৬০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র্যাব।র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওসার বাঁধন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন এবং মাদকবিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও কর্মক্ষমতা তুলে ধরে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA), গ্লোবাল কেয়ার, পিএমসিআই ও কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিডিসি’র সাবেক লাইন ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “দেশে অ-সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত বাড়ছে। এমন সময়ে মাঠপর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় মির্জাপুরের এই প্রকল্প অন্য জেলাগুলোর জন্য রোল মডেল হতে পারে।” অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিতে হবে। কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA) মির্জাপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং, নিয়মিত ফলোআপ এবং রোগীদের জীবনযাপনগত পরিবর্তনে সহায়তা নিয়ে যে প্রকল্প চালাচ্ছে—সভায় এর কার্যক্রম, এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বক্তৃতা করেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ডা. আব্বাস ইবনে করিম, গ্লোবাল কেয়ার বাংলাদেশ’র প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. সেওনাঙ লিম, মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদেব কর্মকার, ডা. পার্ক, ডা. নিপা কর্মকার, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, ফিল্ড ম্যানেজার লিপুস মৃসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, মির্জাপুরে দীর্ঘমেয়াদি রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষায় উৎসাহিত করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। সভায় ভবিষ্যতে ইউনিয়ন-স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি, হেলথ ক্যাম্প বাড়ানো এবং রোগীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন—এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে মির্জাপুরসহ পুরো টাঙ্গাইল জেলায় দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
সাজিদ পিয়াল: টাঙ্গাইল জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা। অত্যন্ত আন্তরিক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশ, টাঙ্গাইল-এর আয়োজনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। অনুষ্ঠানে তিনি বিদায়ী অফিসার ইনচার্জদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাপূর্ণ দায়িত্বপালনের প্রশংসা করেন এবং তাঁদের প্রতিটি থানায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসেবা, মানবিক আচরণ ও পেশাদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিদায়ী ওসিদের স্মৃতিচারণে বক্তারা বলেন, তাঁরা দায়িত্ব পালনকালে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও ধৈর্য, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। নানা গুরুত্বপূর্ণ অভিযান, অপরাধ দমন, অপরাধ তদন্তসহ থানা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান জেলার পুলিশ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করেছে। এসময় পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন— “জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রতিটি থানায় তাঁদের নেতৃত্বে জননিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়েছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবন ও কর্মজীবনের সফলতা কামনা করছি।” অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিদায়ী কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন পুলিশ সুপার। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, একজন ওসির ভূমিকা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন নেতৃত্বদাতা হিসেবে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল জেলার সকল থানা’র নবাগত অফিসার ইনচার্জদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ সুপার জনাব শামসুল আলম সরকার। তিনি নবাগতদের উদ্দেশে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সততা, মানবিকতা, সেবা ও শৃঙ্খলার মূলনীতি বজায় রেখে জনগণের আস্থা অর্জন করাই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা, থানার প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী অফিসারদের বিদায় ও নবাগত ওসিদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের তাঁত শিল্পে নতুন আশার আলো জ্বালালো টাঙ্গাইল শাড়ি। ঐতিহ্য, নকশা ও শৈল্পিক দক্ষতার অনন্য প্রদর্শন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনাম কুড়ানো এই শাড়িকে এবার ইউনেসকোর মানবজাতির অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (Intangible Cultural Heritage) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন দেশের তাঁত শিল্পীরা। বহু প্রজন্মের স্মৃতি, পরিশ্রম আর ঐতিহ্যের বাহক এই শাড়ি ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তাঁতিরা। বাংলাদেশের জামদানি শাড়ি ইউনেসকোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে যেভাবে আলোচনায় এসেছে, তেমনই সাফল্যের আশা করছেন টাঙ্গাইলের তাঁতিরা। তাঁদের মতে, স্বীকৃতি পেলে শাড়িটির ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়বে, বিদেশি ক্রেতার আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইউনেসকোর তালিকাভুক্ত অনেক সাংস্কৃতিক উপাদানের ক্ষেত্রে পর্যটন বাড়ার পাশাপাশি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও প্রসারিত হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করছেন বাংলার দুর্গাপুজোর কথা—যা স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই বিদেশি দর্শনার্থীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যবাংলার টাঙ্গাইল অঞ্চলে শত বছর ধরে তাঁতশিল্পীদের বসতি গড়ে উঠেছে। এখানকার তাঁতিরা প্রজন্ম ধরে হাতে বোনা টাঙ্গাইল শাড়ির খ্যাতি ধরে রেখেছেন। অন্য শাড়ির তুলনায় অনেক হালকা ও আরামদায়ক হওয়ায় এটি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন নারীরা।রঙিন সুতোর বুনন, ফুলেল নকশা ও সূক্ষ্ম কারুকাজ—এসবই টাঙ্গাইল শাড়িকে অন্যসব শাড়ি থেকে আলাদা করে। স্থানীয় তাঁতিরা জানান, এই শাড়ির প্রতিটি ইঞ্চি বুনতে সময় লাগে, প্রয়োজন হয় একাগ্রতা আর অভিজ্ঞতার। তাই টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয়—এটি একটি শিল্প, একটি সংস্কৃতি, একটি ইতিহাস। টাঙ্গাইলের তাঁতিরা এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। কাঁচামালের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় শাড়ি প্রস্তুতির খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাজারে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ক্রেতা সেভাবে বাড়ছে না। তিনি জানান—প্রস্তুতি খরচ বেড়েছে,বিক্রি কমছে,উৎসবের মৌসুমেও আশানুরূপ বিক্রি হয়নি,যুব সমাজ তাঁত পেশায় আসতে দ্বিধায় ভুগছে।যারা আসছে, তারাও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছে। তাঁতশিল্পীরা মনে করেন, ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেলে এই সংকট অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। বিশ্ববাজারে নতুন দরজা খুলবে, বাড়বে চাহিদা। ফলে এই পেশায় নতুন প্রজন্ম আগ্রহী হবে। বাংলাদেশের গর্বের তালিকায় রয়েছে বহু সাংস্কৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান—বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ,সুন্দরবন,পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ,বাউল গান,জামদানি,শীতলপাটি,পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা।এবার, সেই তালিকায় টাঙ্গাইল শাড়ি যুক্ত হলে বাংলাদেশ আরও একটি সাংস্কৃতিক সম্পদ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারবে। শিল্পীরা বিশ্বাস করেন, ঐতিহ্যবাহী এই শাড়ির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু সংস্কৃতির গর্বই বাড়াবে না, বরং তাঁতশিল্পের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জীবিকা রক্ষা করবে। বিশ্ববাজারে পরিচিতি বাড়লে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। টাঙ্গাইলের তাঁতিরা তাই এখন নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন—“টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু বাংলাদেশের গর্ব নয়, এটি পুরো বিশ্বের ঐতিহ্যের অংশ হোক।”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে গণসংযোগ জোরদার করেছেন গণ অধিকার পরিষদ (ট্রাক প্রতীক) মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং জেলা গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। নির্বাচনী মাঠ গরম হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ে তিনি দিন-রাত ছুটে চলেছেন শহর থেকে গ্রামে। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, রেজিস্ট্রিপাড়া ও পোস্ট অফিস এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। শুধু সেদিনই নয়, প্রতিদিন তিনি শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নানান পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের মতামত ও সমস্যার কথা শুনছেন। গণসংযোগে শফিকুল ইসলাম শফিকের সঙ্গে ছিলেন— করটিয়া ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ইয়াদ আলী,জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কায়সার আহমেদ,অর্থ সম্পাদক মাহতাব মাহি,সহ দপ্তর সম্পাদক জুবাইদুল ইসলাম,টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমাদ সিয়াম,ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদ,কার্যকরী সদস্য আব্দুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন,“আমি নির্বাচিত হলে সদর উপজেলাকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করব। যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। মানুষ পরিবর্তন চায়—তাদের এই উৎসাহ ও আস্থা প্রমাণ করে দেয়, জনগণ নতুন নেতৃত্ব খুঁজছে। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি দিচ্ছে। নতুন কিছু হবে আপনাদের নিয়েই, আপনাদের জন্যই।” গণসংযোগ চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা শফিকের সঙ্গে মতবিনিময় করে নানা সমস্যা তুলে ধরেন। তারা বলেন, এলাকায় মাদক, সড়কের বেহাল দশা, কর্মসংস্থানের স্বল্পতা এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনেকে। শফিকুল ইসলাম শফিক আরও বলেন,“রাজনীতিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। ন্যায়বিচার, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে গণ অধিকার পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উপজেলা প্রশাসন গঠন করা।” অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে শফিকুল ইসলাম শফিকের মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে শুরু করেছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তাকে নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। মনে করা হচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি একটি বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় টাঙ্গাইল জেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বাদ যোহর জেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন—টাঙ্গাইল জেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইমান আলী। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন—টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শ্যামল ব্যানার্জি,জেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন,সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম,সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন সরকার,সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন হোসেন, এবং সংগঠনের আরও নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বহুদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। দেশের মানুষের নেতা হিসেবে তার সুস্থতা শুধু বিএনপির জন্য নয়, পুরো দেশের জনগণের প্রত্যাশা। তারা আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসবেন। বক্তারা আরও বলেন, দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সদস্যরা সবসময় জনমানুষের সমস্যা-সংকটে পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তায় কাজ করবে। পরে খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনাও করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের পৌর উদ্যান থেকে এই মৌন মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলীমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম ঝলক, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইজাজুল হকসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কয়েকটি আসনে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। টাঙ্গাইল-৫ আসনেও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভ্রান্ত করে এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যার জন্ম অন্য উপজেলায়—যা স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, “যে আসনে স্থানীয় মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, সেখানে বাইরের কাউকে মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে।" সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে ঘোষিত মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে স্থানীয় নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা ফরহাদ ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়ার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, ফরহাদ ইকবাল স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়, যোগ্য এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের কঠিন সময়ে রাজপথে ছিলেন। মিছিলে সদর উপজেলা ও শহর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। পুরো কর্মসূচি জুড়ে দলীয় নেতারা মুখে কালো ব্যাজ ধারণ করে নীরব প্রতিবাদ জানান। স্থানীয় রাজনীতিতে এই মৌন মিছিলকে বড় ধরনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ও কালিহাতী প্রেসক্লাবের সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তারা দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট কালিহাতীতে শওকত তালুকদার নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই শওকত তালুকদারের স্ত্রী সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের প্রতি ক্ষুব্ধ হন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়া শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে,১৭ নভেম্বর শওকত তালুকদারের স্ত্রী বাদী হয়ে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি—এটি পুরোপুরি হয়রানিমূলক ও সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে করা মিথ্যা মামলা। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ কয়েকজন পুলিশ সদস্য বাড়িতে ঢুকে কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট বা কারণ ব্যাখ্যা ছাড়াই জাহাঙ্গীরকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। জাহাঙ্গীরের বৃদ্ধ মা বলেন, “রাতের অন্ধকারে এত পুলিশ কেন আসলো বুঝিনি। ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় মারধরও করেছে। আমরা কিছু বলার সুযোগও পাইনি।” কালিহাতী প্রেসক্লাব, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবসহ জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। কালিহাতী প্রেসক্লাবের সভাপতি বলেন,“একজন সাংবাদিককে মধ্যরাতে এভাবে তুলে নেওয়ান্যক্কারজনক। এটি স্পষ্টভাবে গণমাধ্যমকে ভয় দেখানো ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। আমরা দ্রুত তদন্ত এবং জাহাঙ্গীরের মুক্তি চাই।” পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারী প্রথমে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশনার পর টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে।সদর থানার এক কর্মকর্তা বলেন,“আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে। মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।” ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—মামলা তদন্তের আগেই কেন রাতের আঁধারে সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হলো? এটি কি সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টামানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে—মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে চার যুবককে আটক করা হলেও রহস্যজনকভাবে তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মাত্র একজনকে মাদক মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার রায়ের বাশালিয়া এলাকায়। চারজনকে আটকের পরের দিন শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রিপন শেখ নামে এক যুবককে ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে চরবামনহাটা এলাকায় এসআই শরীফ হায়দার আলী ও এএসআই অন্তর কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় চারজনকে মাদক সেবনের অবস্থায় হাতেনাতে ধরা হলেও তিনজনকে বিভিন্ন তদবিরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া মাদকের পরিমাণ ও মামলায় উল্লেখিত পরিমাণ নিয়েও দেখা দিয়েছে অসঙ্গতি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভূঞাপুর থানার ফেসবুক পেজে ‘মাদকসহ একজন আটক’ শিরোনামে পোস্ট দেওয়ার পর নানা প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন নেটিজেনরা—“হাতেনাতে ধরার পরও তিনজনকে ছেড়ে দিল কেন?”“আইন কি সবার জন্য সমান নয়?”“কার নির্দেশে বা কী বিনিময়ে এ সিদ্ধান্ত?” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ভূমিকা আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু এমন ঘটনা মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।” এ বিষয়ে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই শরীফ হায়দার আলী বলেন, “একসঙ্গে চারজন ছিল ঠিকই, কিন্তু মাদক পাওয়া গেছে কেবল একজনের কাছ থেকে। তাই রিপন শেখের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অন্য তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” ভূঞাপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য দেখার পর এসআইকে জিজ্ঞেস করি। তিনি জানান, তিনজনের কাছে মাদক পাওয়া যায়নি। থানা থেকে মাদকের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হয়। তদবিরের কোনো সুযোগ নেই।”তিনি আরও বলেন, “আমি কীভাবে কাজ করি, টাঙ্গাইলের সব সাংবাদিকরা জানেন।” এদিকে পুরো ঘটনাই এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—চারজন আটক হয়ে তিনজন মুক্ত, আর একজনের বিরুদ্ধে মামলা—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব জানতে আগ্রহী এলাকাবাসী।
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ দোয়া মাহফিলে দলীয় নেতা–কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশব্যাপী যে দোয়া মাহফিল চলছে, তা প্রমাণ করে তিনি এখনো মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে জায়গা করে আছেন।’ দোয়া মাহফিল শুরুর আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শহর বিএমেহেদী হাসান আলীম, সাধারণ সম্পাদক এজাজুল হক সবুজ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল, জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপনসহ দলের অন্যান্য নেতা। বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা শুধু বিএনপির নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা। তাঁরা অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার নিয়মিত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও রাজনৈতিক কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারী নেতা–কর্মীরা জানান, দলীয় প্রধানের সুস্থতার জন্য তারা ব্যক্তিগতভাবেও নিয়মিত প্রার্থনা করছেন। দোয়া শেষে অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দেন। পুরো আয়োজন জুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে।
সাজিদ পিয়াল: টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল, সমন্বিত ও জনবান্ধব করতে রিজার্ভ অফিস এবং পুলিশ লাইন্সের বিভিন্ন ইউনিটের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি পুলিশ লাইন্স, টাঙ্গাইলের আরআই অফিস, মেজর অফিস, ডি-ষ্টোর, সি-স্টোর, মেস, ব্যারাক, যানবাহন শাখা, রেশন স্টোরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব দপ্তরের স্থাপনা, অবকাঠামো এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন চলাকালে পুলিশ সুপার মহোদয় প্রতিটি ইউনিটের সার্বিক শৃঙ্খলা, কার্যক্ষমতা, জনসেবা প্রদানের প্রস্তুতি, ফোর্সের কল্যাণব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা গভীরভাবে মূল্যায়ন করেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ, দপ্তরপ্রধান, কর্মকর্তা ও ফোর্স সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের কর্মপরিবেশ, চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নসংক্রান্ত তথ্য শুনে তা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, পুলিশের প্রতিটি ইউনিটই জননিরাপত্তা ও জনসেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই দাপ্তরিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের মূল শক্তি—এই লক্ষ্য সামনে রেখে সকল কার্যক্রম আরও দ্রুত, দক্ষ ও জনবান্ধবভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। পুলিশ সুপার মেস ও ব্যারাকে অবস্থানরত ফোর্সদের খাবার ব্যবস্থা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিধি, বিশ্রামাগার, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন। যানবাহন শাখার কার্যক্রম, রক্ষণাবেক্ষণ, লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি সেবা প্রদানের প্রস্তুতি মূল্যায়ন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্টোর ও দপ্তরের নথিপত্র ব্যবস্থাপনা, উপকরণ সংরক্ষণ এবং কার্যপ্রবাহ আরও উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিদর্শনকালে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পুলিশ লাইন্সে কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের ইনচার্জ, কর্মকর্তা ও ফোর্স সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সামগ্রিকভাবে এই পরিদর্শনকে পুলিশ সদস্যরা একটি উৎসাহব্যঞ্জক দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে জেলা পুলিশের সেবা ও কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
টাঙ্গাইল সদরে মৌন মিছিল: মুখে কালো কাপড় বেঁধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শহরে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করেছে সাধারণ জনগণ। সোমবার বিকেলে শহরের নিরালা মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা চত্বরের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মুখে কালো কাপড়, হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড—কিন্তু স্লোগানহীন নীরব প্রতিবাদই ছিল তাদের প্রধান বার্তা। অংশগ্রহণকারীরা জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষোভ প্রকাশের উদ্দেশ্যে তারা এই মৌন মিছিলে যোগ দিয়েছেন। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের দাবি–দাওয়া ও ভোগান্তির বিষয়গুলো যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্যই এই প্রতীকী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তারা জানান, দাবি পূরণ না হলে আরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
টাঙ্গাইলে নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ভোজ্যতেল ও পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলেও কমেছে সবজি, ডাল ও ডিমের দাম। চাল, আটা, চিনি ও মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় মাছের দাম বেড়ে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। শনিবার (৬ নভেম্বর) টাঙ্গাইলের পার্ক বাজার, সিটি বাজার, ছয়আনি বাজার, আমিন বাজার ও সন্তোষ বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি ঘোষণা ছাড়া প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ৫ লিটারের বোতলের দাম বেড়েছে ৪৩ টাকা এবং ২ লিটারের দাম বেড়েছে ১৮ টাকা। এখন দুই লিটারের বোতল বা ক্যান বিক্রি হচ্ছে ৩৭৫–৩৯৬ টাকায়। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পেঁয়াজের বাজারেও উত্তাপ বেড়েছে। আমদানি না হওয়া এবং সরবরাহ সংকটকে কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা পুরোনো পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০–৩০ টাকা বাড়িয়েছেন। বর্তমানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০–১৪০ টাকায়। স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান,“এই মুহূর্তে বাজারে নতুন পাতাসহ পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে, তবে সরবরাহ খুবই কম। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাবে।” বর্তমানে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭০–৮০ টাকায়।অন্যদিকে, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেগুন, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটোর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। লম্বা বেগুন: ৮০–১০০ টাকা থেকে কমে ৭০–৮০ টাকা,গোল বেগুন: ১২০ টাকা থেকে কমে ৮০–৯০ টাকা,সবুজ শিম: ৮০ টাকা থেকে কমে ৫৫–৬০ টাকা,রঙিন শিম: ১০০–১২০ টাকা থেকে কমে ৭০–৮০ টাকা,ফুলকপি (মাঝারি): ৫০–৬০ টাকা থেকে কমে ৪০–৪৫ টাকা,বাঁধাকপি: ৪০–৫০ টাকা থেকে কমে ৩০–৩৫ টাকা,টমেটো: ১২০–১৪০ টাকা থেকে কমে ৮০–১০০ টাকা,ডিমের দাম কমায় সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি ফিরে এসেছে,ব্রয়লার মুরগি (কেজি): ১৫০–১৭০ টাকা বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি; বরং বেশকিছু মাছের দাম বেড়েছে। রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাসসহ বেশিরভাগ মাছই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ—মুসলিম শীত মৌসুম শুরুর আগে থেকেই মাছের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ,তেল ও পেঁয়াজের দাম বাড়ায় তাদের বাজার খরচ বেড়েছে।সরকারিভাবে মূল্যতালিকা কঠোরভাবে কার্যকর না হওয়ায় অনেক দোকানে এক দোকানের সঙ্গে আরেক দোকানের দাম মিলছে না। সবজি ও ডিমের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ–তেল–পেঁয়াজের বাজার তাদের চাপে ফেলছে অনেকেই মনে করছেন, বাজারে মনিটরিং জোরদার করা না হলে আগামী সপ্তাহে আরও কিছু নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে।
কালিহাতীতে খেজুরের রস খেতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কিশোর নিহত টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে খেজুরের রস খেতে গিয়ে ফেরার পথে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাওহীদ (১৫) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। রবিবার ভোরে উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তাওহীদ স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীতের সকালে খেজুরের রস খেতে তাওহীদ ও তার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলযোগে ধানগড়া এলাকায় যায়। তারা রস খেয়ে বাড়ির পথে ফিরছিল। পাকুটিয়া বেইলি ব্রিজে উঠতেই হঠাৎ মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা ব্রিজের লোহার রেলিংয়ে গিয়ে ধাক্কা খায়। ধাক্কা এতটাই শক্ত ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তাওহীদ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা দুই কিশোর—জিহাদ ও হাসান—গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে। কালিহাতী থানার ওসি জানান, অতিরিক্ত গতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। স্থানীয়রা জানান, শীতকালে ধানগড়া ও আশপাশের এলাকায় খেজুরের রস খেতে ভোরে ভোরে কিশোর-যুবকদের ভিড় থাকে। কিন্তু রাস্তার বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ না থাকা ও ব্রিজে বাম্পার বা সতর্কতা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। হঠাৎ ফুলেলের কিশোরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা তাওহীদের অসময়ে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তারা ব্রিজে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইলে নবাগত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকারের সাথে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান আজাদসহ সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. আরিফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার বলেন, “টাঙ্গাইলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনাদের ইতিবাচক সহযোগিতা ও গঠনমূলক সমালোচনা আমাদের কাজে দিক নির্দেশনা দেবে।” তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইলকে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সভায় সাংবাদিকরা নবাগত পুলিশ সুপারকে স্বাগত জানিয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।
আজ ৭ ডিসেম্বর রোববার সকালে টাঙ্গাইলের নাগরপুর সরকারি কলেজের সামনে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নাগরপুরের জনসাধারণ। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশ নেন। নাগরপুর-টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কাজের নামে অচল হয়ে আছে। সড়ক প্রশস্তকরণ ও নতুনভাবে সংস্কারের লক্ষে কয়েক বছর আগে সড়কের দু’পাশের গাছ কেটে ফেলা হয় এবং রাস্তার উপরিভাগ খুঁড়ে কাজ শুরুর পর অল্প কিছু অংশে নামমাত্র কাজ করে পুরো প্রকল্পটি কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। ফলে নাগরপুর থেকে টাঙ্গাইল বা মানিকগঞ্জমুখী যাত্রীদের প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির মৌসুমে রাস্তার খানাখন্দে জলাবদ্ধতা আর শুকনা মৌসুমে ধুলাবালিতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের নাজেহাল হতে হচ্ছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও এ ভোগান্তি যেন চিরস্থায়ী রূপ নিয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “এই সড়কটি নাগরপুরবাসীর একমাত্র ভরসা। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কারের নাম করে কাজ বন্ধ রেখে আমাদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে। রোগী, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষের জীবন প্রতিদিন ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে যায়।” তারা আরও বলেন, “দ্রুত প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শুরু না করলে আগামীতে আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।” এসময় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নাগরপুর শাখার সভাপতি মো. বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আল-আমিন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মো. রানা হাসান, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সিএনজি ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবিলম্বে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে নাগরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ইউনিটির আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স হলরুমে আয়োজিত পরিচিতি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান মিয়া। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান আলো, টাঙ্গাইল জজ কোর্টের এপিপি জামাল উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালেক দেওয়ান, সদস্য শেখ ফিরোজ, হারুন-অর-রশিদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার কেবি কায়সার, সদস্য আবু সাইদ মিয়া ও খন্দকার বদরুদুজা কায়ছার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাসাইল পৌরসভা ও সদর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব রুকন উদ্দিন আলমগীর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের আহ্বায়ক শামীমা খান সীমা এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভায় বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী বৃদ্ধি, চিকিৎসাসেবা শক্তিশালীকরণ, পরিবার-পরিজনের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য স্থায়ী কল্যাণ তহবিল তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার রক্ষায় একতা, শৃঙ্খলা ও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন কমিটির সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। পরিচিতি সভার শেষে দেশ, জাতি এবং সকল বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
টাঙ্গাইলের সরকারি এম এম আলী কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের ছাত্র সংসদ নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আসাদুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যেমন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা নবাব আলী, ছাত্রদলের নেতা রানা আহমেদ, ইব্রাহিম খান বাদশা, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সজীব হাসান, ছাত্র শক্তির নেতা মাহতাব খান ভাসানী ও ছাত্রদলের নেতা হাবিব প্রমুখ। ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা নবাব আলী স্মারকলিপি প্রদানকালে বলেন, “আমাদের অধ্যক্ষ স্যারকে বিনীত শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই যে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে ছাত্র সংসদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্র সংসদ কেবল নির্বাচিত কমিটি নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশ, সমস্যা সমাধান, সাংস্কৃতিক এবং সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার একটি গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম।” নবাব আলী আরও বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আসাদুজ্জামান স্যার আপনার সদয় উদ্যোগে আমাদের কলেজে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নির্বাচন দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন। এটি শিক্ষার্থীদের অধিকারকে সম্মান জানাবে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানকে আরও সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সমৃদ্ধ করবে।” ছাত্রদের দাবি, কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা তাদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ পাবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসন তাদের এই বৈধ দাবি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবেন।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নে যুব বিভাগের নতুন অফিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে অফিসের উদ্বোধন করেন জননেতা মাওলানা মোঃ হুমায়ুন কবির, যিনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের এমপি পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নেতৃবৃন্দের একজন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন যুব বিভাগের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, নতুন অফিস উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকার যুব সমাজ আরও সংগঠিত হবে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম আরও গতিশীলভাবে পরিচালিত হবে। এসময় এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, “যুবকদের দেশ ও সমাজ গঠনে ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সুসংগঠিত ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে এ ধরনের অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও উপস্থিত সবার সাথে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অফিস উদ্বোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
টাঙ্গাইলে ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডি-ম্যাব) উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে টাঙ্গাইল সরকারি ম্যাটসের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও শিক্ষাঙ্গনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ডি-ম্যাবের কেন্দ্রীয় আহবায়ক ড. শহিদুল্লাহ সিদ্দিকী,ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম শামীম,ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সদস্য সচিব সোহেল রানা,সরকারি ম্যাটসের প্রিন্সিপাল ড. আশরাফ,জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু,জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন,“বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর সুস্থতা জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তারা দ্রুত রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ুর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সময় দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকারকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং নেত্রীকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে ডি-ম্যাবের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শতাধিক সদস্য অংশ নেন। মনোমুগ্ধকর পরিবেশে পবিত্র দোয়া পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল র্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন জানান, সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে মাদক কারবারীরা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানাধীন অরণখোলা এলাকায় বিপুল পরিমাণে অবৈধ মাদক দ্রব্য গাঁজা নিজেদের হেফাজতে রেখে কেনাবেচা করছে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের লক্ষ্যে মঙ্গলব্রা (৯ ডিসেম্বর) ভোর রাতে র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের একটি চৌকস আভিধানিক দল উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।টাঙ্গাইলে র্যাব-১৪ এর সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে মধুপুর উপজেলা থেকে ১২৭ কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়। ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ভোরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১২৭ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৪) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মির্জাপুর ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা থেকে পৃথক অভিযানে ৫ হাজার ২৮ পিস ইয়াবা এবং ৬৬ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. আকরাম হোসেন (৪০) ও মো. জুয়েল খান (৩৮)। ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৪৬০ গ্রাম হেরোইনসহ মোঃ তোহর আলী (৬০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র্যাব।র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওসার বাঁধন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন এবং মাদকবিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও কর্মক্ষমতা তুলে ধরে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA), গ্লোবাল কেয়ার, পিএমসিআই ও কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিডিসি’র সাবেক লাইন ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “দেশে অ-সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত বাড়ছে। এমন সময়ে মাঠপর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় মির্জাপুরের এই প্রকল্প অন্য জেলাগুলোর জন্য রোল মডেল হতে পারে।” অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিতে হবে। কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA) মির্জাপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং, নিয়মিত ফলোআপ এবং রোগীদের জীবনযাপনগত পরিবর্তনে সহায়তা নিয়ে যে প্রকল্প চালাচ্ছে—সভায় এর কার্যক্রম, এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বক্তৃতা করেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ডা. আব্বাস ইবনে করিম, গ্লোবাল কেয়ার বাংলাদেশ’র প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. সেওনাঙ লিম, মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদেব কর্মকার, ডা. পার্ক, ডা. নিপা কর্মকার, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, ফিল্ড ম্যানেজার লিপুস মৃসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, মির্জাপুরে দীর্ঘমেয়াদি রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষায় উৎসাহিত করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। সভায় ভবিষ্যতে ইউনিয়ন-স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি, হেলথ ক্যাম্প বাড়ানো এবং রোগীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন—এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে মির্জাপুরসহ পুরো টাঙ্গাইল জেলায় দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
সাজিদ পিয়াল: টাঙ্গাইল জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা। অত্যন্ত আন্তরিক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশ, টাঙ্গাইল-এর আয়োজনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। অনুষ্ঠানে তিনি বিদায়ী অফিসার ইনচার্জদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাপূর্ণ দায়িত্বপালনের প্রশংসা করেন এবং তাঁদের প্রতিটি থানায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসেবা, মানবিক আচরণ ও পেশাদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিদায়ী ওসিদের স্মৃতিচারণে বক্তারা বলেন, তাঁরা দায়িত্ব পালনকালে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও ধৈর্য, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। নানা গুরুত্বপূর্ণ অভিযান, অপরাধ দমন, অপরাধ তদন্তসহ থানা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান জেলার পুলিশ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করেছে। এসময় পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন— “জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রতিটি থানায় তাঁদের নেতৃত্বে জননিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়েছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবন ও কর্মজীবনের সফলতা কামনা করছি।” অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিদায়ী কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন পুলিশ সুপার। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, একজন ওসির ভূমিকা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন নেতৃত্বদাতা হিসেবে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল জেলার সকল থানা’র নবাগত অফিসার ইনচার্জদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ সুপার জনাব শামসুল আলম সরকার। তিনি নবাগতদের উদ্দেশে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সততা, মানবিকতা, সেবা ও শৃঙ্খলার মূলনীতি বজায় রেখে জনগণের আস্থা অর্জন করাই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা, থানার প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী অফিসারদের বিদায় ও নবাগত ওসিদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের তাঁত শিল্পে নতুন আশার আলো জ্বালালো টাঙ্গাইল শাড়ি। ঐতিহ্য, নকশা ও শৈল্পিক দক্ষতার অনন্য প্রদর্শন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনাম কুড়ানো এই শাড়িকে এবার ইউনেসকোর মানবজাতির অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (Intangible Cultural Heritage) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন দেশের তাঁত শিল্পীরা। বহু প্রজন্মের স্মৃতি, পরিশ্রম আর ঐতিহ্যের বাহক এই শাড়ি ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তাঁতিরা। বাংলাদেশের জামদানি শাড়ি ইউনেসকোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে যেভাবে আলোচনায় এসেছে, তেমনই সাফল্যের আশা করছেন টাঙ্গাইলের তাঁতিরা। তাঁদের মতে, স্বীকৃতি পেলে শাড়িটির ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়বে, বিদেশি ক্রেতার আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইউনেসকোর তালিকাভুক্ত অনেক সাংস্কৃতিক উপাদানের ক্ষেত্রে পর্যটন বাড়ার পাশাপাশি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও প্রসারিত হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করছেন বাংলার দুর্গাপুজোর কথা—যা স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই বিদেশি দর্শনার্থীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যবাংলার টাঙ্গাইল অঞ্চলে শত বছর ধরে তাঁতশিল্পীদের বসতি গড়ে উঠেছে। এখানকার তাঁতিরা প্রজন্ম ধরে হাতে বোনা টাঙ্গাইল শাড়ির খ্যাতি ধরে রেখেছেন। অন্য শাড়ির তুলনায় অনেক হালকা ও আরামদায়ক হওয়ায় এটি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন নারীরা।রঙিন সুতোর বুনন, ফুলেল নকশা ও সূক্ষ্ম কারুকাজ—এসবই টাঙ্গাইল শাড়িকে অন্যসব শাড়ি থেকে আলাদা করে। স্থানীয় তাঁতিরা জানান, এই শাড়ির প্রতিটি ইঞ্চি বুনতে সময় লাগে, প্রয়োজন হয় একাগ্রতা আর অভিজ্ঞতার। তাই টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয়—এটি একটি শিল্প, একটি সংস্কৃতি, একটি ইতিহাস। টাঙ্গাইলের তাঁতিরা এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। কাঁচামালের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় শাড়ি প্রস্তুতির খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাজারে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ক্রেতা সেভাবে বাড়ছে না। তিনি জানান—প্রস্তুতি খরচ বেড়েছে,বিক্রি কমছে,উৎসবের মৌসুমেও আশানুরূপ বিক্রি হয়নি,যুব সমাজ তাঁত পেশায় আসতে দ্বিধায় ভুগছে।যারা আসছে, তারাও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছে। তাঁতশিল্পীরা মনে করেন, ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেলে এই সংকট অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। বিশ্ববাজারে নতুন দরজা খুলবে, বাড়বে চাহিদা। ফলে এই পেশায় নতুন প্রজন্ম আগ্রহী হবে। বাংলাদেশের গর্বের তালিকায় রয়েছে বহু সাংস্কৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান—বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ,সুন্দরবন,পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ,বাউল গান,জামদানি,শীতলপাটি,পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা।এবার, সেই তালিকায় টাঙ্গাইল শাড়ি যুক্ত হলে বাংলাদেশ আরও একটি সাংস্কৃতিক সম্পদ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারবে। শিল্পীরা বিশ্বাস করেন, ঐতিহ্যবাহী এই শাড়ির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু সংস্কৃতির গর্বই বাড়াবে না, বরং তাঁতশিল্পের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জীবিকা রক্ষা করবে। বিশ্ববাজারে পরিচিতি বাড়লে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। টাঙ্গাইলের তাঁতিরা তাই এখন নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন—“টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু বাংলাদেশের গর্ব নয়, এটি পুরো বিশ্বের ঐতিহ্যের অংশ হোক।”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে গণসংযোগ জোরদার করেছেন গণ অধিকার পরিষদ (ট্রাক প্রতীক) মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং জেলা গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। নির্বাচনী মাঠ গরম হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ে তিনি দিন-রাত ছুটে চলেছেন শহর থেকে গ্রামে। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, রেজিস্ট্রিপাড়া ও পোস্ট অফিস এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। শুধু সেদিনই নয়, প্রতিদিন তিনি শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নানান পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের মতামত ও সমস্যার কথা শুনছেন। গণসংযোগে শফিকুল ইসলাম শফিকের সঙ্গে ছিলেন— করটিয়া ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ইয়াদ আলী,জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কায়সার আহমেদ,অর্থ সম্পাদক মাহতাব মাহি,সহ দপ্তর সম্পাদক জুবাইদুল ইসলাম,টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমাদ সিয়াম,ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদ,কার্যকরী সদস্য আব্দুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন,“আমি নির্বাচিত হলে সদর উপজেলাকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করব। যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। মানুষ পরিবর্তন চায়—তাদের এই উৎসাহ ও আস্থা প্রমাণ করে দেয়, জনগণ নতুন নেতৃত্ব খুঁজছে। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি দিচ্ছে। নতুন কিছু হবে আপনাদের নিয়েই, আপনাদের জন্যই।” গণসংযোগ চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা শফিকের সঙ্গে মতবিনিময় করে নানা সমস্যা তুলে ধরেন। তারা বলেন, এলাকায় মাদক, সড়কের বেহাল দশা, কর্মসংস্থানের স্বল্পতা এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনেকে। শফিকুল ইসলাম শফিক আরও বলেন,“রাজনীতিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। ন্যায়বিচার, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে গণ অধিকার পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উপজেলা প্রশাসন গঠন করা।” অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে শফিকুল ইসলাম শফিকের মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে শুরু করেছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তাকে নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। মনে করা হচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি একটি বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছেন।