বিএনপির ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় টাঙ্গাইল–৫ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে চারটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। এতে টাঙ্গাইল–৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নাম ঘোষণা করা হয়। আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে টাঙ্গাইল সদরবাসীর উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন। বার্তায় তিনি বলেন, “প্রিয় টাঙ্গাইল সদরবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই, বন্ধু এবং সহযোদ্ধা। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আপনারাই ছিলেন আমার শক্তি, অনুপ্রেরণা ও সহযাত্রী। অতীতে যেমন আপনাদের মতামত ও পরামর্শ নিয়েই সকল কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও আপনাদের সবার মতামত ও সহযোগিতা নিয়েই এগিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহতালা আমাদের সকলের সহায় হোন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।” ফরহাদ ইকবালের এই বার্তায় স্পষ্ট যে, তিনি মনোনয়ন না পাওয়ার পরও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেননি এবং টাঙ্গাইল সদরবাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক পথচলায় স্থানীয় মানুষদের মতামত ও পরামর্শ তার জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফরহাদ ইকবালের এই সংযমী ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এটি স্থানীয় জনমত ও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রভাবকে শক্তিশালী করার এক পথ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। টাঙ্গাইল–৫ আসনের মনোনয়নসংক্রান্ত এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখানকার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফরহাদ ইকবালের ব্যালান্সড এবং সম্মানজনক বার্তা দলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় একটি ইতিবাচক সংকেত পাঠায়।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থিতা ঘোষণার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার এই উদার পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে মনোনয়ন পান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মনোনয়ন ঘোষণার পর সন্ধ্যায় ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেইজে পোস্ট দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও জেলা কমিটির আমীর আহসান হাবীব মাসুদ। তিনি লিখেন, “অভিনন্দন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের জন্য।” এ পোস্টে তার অনুসারীরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, রাজনীতিতে এ ধরনের উদার ও শিষ্টাচার আচরণ সবার জন্য উদাহরণ হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে শুভেচ্ছা জানানো একটি প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়। এটি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসার ঘটায় এবং মতবিরোধের মধ্যেও সহমর্মিতা ও শালীনতা বজায় রাখে। এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণও আহসান হাবীব মাসুদের এই পোস্টকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সম্মান জানানো দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে অভিনন্দন জানানোর ঘটনা টাঙ্গাইল-৫ আসনে আসন্ন নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, “এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দেশের অসংখ্য মানুষ নামাজ পড়ে, রোজা রেখে তার সুস্থতা কামনা করছেন। শুধু দলীয় নয়, দেশের মানুষের স্বার্থেই তার সুস্থতা অত্যন্ত জরুরি।” বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টুকু আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তার সুস্থতার জন্য দেশ-বিদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। অনেকেই কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ দানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন। এশিয়া মহাদেশে সম্ভবত তিনিই একমাত্র নেত্রী যার জন্য এত পরিমাণ মানুষ একযোগে দোয়া করছেন।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আল্লাহর রহমত ও জনগণের দোয়া থাকলে দেশনেত্রী অবশ্যই দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশের মানুষের মাঝে ফিরে আসবেন।” দোয়া মাহফিলে নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে টুকু বলেন, “টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এটি শুধু একটি প্রার্থীতা নয়—এটি মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। আমি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনমুক্ত একটি সমাজ গড়তে কাজ করতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের মূল্যবান ভোট প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক এলাকা, এখানে মানুষ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রতি অনুগত। তাই জনগণের সমর্থন নিয়ে আগামীর নির্বাচনকে তিনি শান্তিপূর্ণ ও অর্থবহ করতে চান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন— জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকেরুল মওলা,সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান,প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন,আতোয়ার রহমান আজাদসহ স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইল গ্রামের প্রবাসী আমিনুল সিদ্দিকীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গু লি করে হ- ত্যা করেছে দু/র্বৃ/ত্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমিনুল সিদ্দিকীর মৃত্যুর খবরে গোড়াইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনরা বিলাপ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর হামলা-নিপীড়নের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রবাসী কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে “প্রত্যেকটি অবদানই গুরুত্বপূর্ণ” প্রতিপাদ্যে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস ২০২৫ পালিত হয়েছে। গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবার মর্মবাণী ছড়িয়ে দেন স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া পাবলিক মডেল হাই স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে গুড নেইবারস ইয়ুথ সদস্যদের অংশগ্রহণে বের হয় এক প্রাণবন্ত র্যালি। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা স্বেচ্ছাসেবা, মানবিক মূল্যবোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ে নানা বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও প্লকার্ড প্রদর্শন করেন। র্যালিকে ঘিরে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে উৎসর্গ, ঐক্য ও মানবসেবার মূল্যবোধে। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বেচ্ছাসেবার গুরুত্ব, সমাজে যুবসমাজের অবদান, কমিউনিটি উন্নয়ন ও পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গুডনেইবারস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিডিসি’র ভাইস চেয়ারপার্সন ড. ফনীন্দ্র লাল পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাকুটিয়া মডেল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরজিৎ কুমার। বক্তারা বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা সমাজের প্রকৃত পরিবর্তনকারী—তাদের একেকটি উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আলোচনা সভার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যেখানে স্থানীয় শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবা ও মানবিকতার বার্তা বহনকারী গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এতে অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে কমিউনিটিতে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে পরিচালিত হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ঝাড়ু দেওয়া, আবর্জনা সংগ্রহ ও বর্জ্য পৃথকীকরণে স্থানীয়দের সচেতন করেন। পরিবেশবান্ধব আচরণ উৎসাহিত করতে গুড নেইবারস বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে পাকুটিয়া মডেল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়কে রিসাইকেলযোগ্য ও সাধারণ বর্জ্যের জন্য দুটি ৬০ লিটারের ডাস্টবিন উপহার দেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগকে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করে গুড নেইবারস বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানের শেষাংশে গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বেচ্ছাসেবাকে তারা সামাজিক পরিবর্তনের মূল শক্তি মনে করে। ভবিষ্যতেও শিশু, কিশোর, যুব ও কমিউনিটি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সিরাজগঞ্জ জেলায় নূরানী স্কলারশীপ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে কড্ডার মোড়ের তাহফিজুল কোরআন শিক্ষা একাডেমী ও মহিলা মাদরাসা কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ উপজেলা থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ মাহদী হাসান শিবলী, মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুফতি রবিউল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা জিম্মাদার মাওলানা জুবায়ের, সিরাজগঞ্জ জেলা জিম্মাদার আলহাজ্ব শরিফুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ সদর জিম্মাদার হাফেজ আবুহানিফ, গোপালপুর জয়নগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মোজাম্মেল হক এবং মুফতি ফয়সাল আহমেদসহ স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষকেরা। ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও ময়মনসিংহ—চার জেলার মোট ২৫টি উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ মাহদী হাসান শিবলী জানান, ২০১৭ সাল থেকে তারা বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করে আসছেন। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে বাইসাইকেল, শিক্ষা উপকরণ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হবে। পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদেরও সম্মাননা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান
জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নানা ধরনের শঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে মন্তব্য করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, “এসব শঙ্কা দূর করে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই পরিবেশ কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না।” শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরে শ্রমিক, কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষ ও নিপীড়িত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘মাথাল মার্কার মিছিল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সঙ্গে রাজনৈতিক সংস্কার এখন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে যুক্ত। সংস্কার করতে হলে ‘ভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ নির্বাচন প্রয়োজন। এ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া ছাড়া গণতন্ত্রের সঠিক অগ্রযাত্রার বিকল্প নেই। এই নির্বাচন যাতে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা ষড়যন্ত্রের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট রাজনীতির ধারকরা বিভিন্নভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে চাইছে। এসব অপচেষ্টা রুখে দিতে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।” এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে নির্বাচনসহ সার্বিক পরিস্থিতি দেখভালের জন্য একটি ‘পরিবেশ কমিটি’ গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। মিছিলে সদর আসনের প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের সংগঠক ফাতেমা রহমান বীথি, সংগঠক তুষার আহমেদ, সদর উপজেলার সদস্য সচিব ফারজানা জেসমিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা জীবিকার ন্যায্য হিস্যা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, এবং সংসদীয় সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মী, সুধীজন ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক উপস্থিতি জানান। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. একেএম আব্দুল হামিদ। দেলদুয়ার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আল মোমেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল–৬ আসনে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা পরিচালক রাশেদুল হাসান এবং জামায়াতপ্রার্থী ডা. আব্দুল হামিদের ছেলে ব্যারিস্টার হাসনাত জামিল। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী করা সময়ের দাবি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, জনগণের সমর্থনই হলো জামায়াতের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রধান অতিথি ডা. একেএম আব্দুল হামিদ তার বক্তব্যে বলেন,“আমি আশা করি আগামী নির্বাচনে দেলদুয়ার–নাগরপুরবাসী আমাকে তাদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনী প্রচারণায় নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও আমরা জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। জয়ী হলে জনগণের অধিকার ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।” তিনি আরও বলেন,“এ অঞ্চলের অবহেলিত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচিত হলে নাগরপুর–দেলদুয়ারকে উন্নয়নের নতুন মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো।” সমাবেশ শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে মিছিলসহকারে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সদ্য ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল করেছেন। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই টাঙ্গাইল সদর বিএনপিতে বিরোধ, ক্ষোভ ও অস্থিরতা প্রকট হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে এই মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালের সমর্থকরা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে একত্রিত হন। পরে তারা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করেন। পুরো মিছিলজুড়ে ‘টুকুর মনোনয়ন বাতিল চাই’, ‘ফরহাদ ইকবালকে মনোনয়ন দাও’, ‘সদরের প্রার্থী চাই’—এমন নানা স্লোগানে এলাকাজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল, বিএনপি নেতা মামুন সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবিদ হোসেনসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসাধীন। এ সুযোগে একটি সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থে কয়েকটি আসনে ইচ্ছামতো মনোনয়ন ঘোষণা করেছে।টাঙ্গাইল সদরের জন্ম এমন কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে—যা কর্মীদের প্রতি অন্যায়।সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়ন আমরা মানি না, দ্রুত মনোনয়ন পরিবর্তন করে ফরহাদ ইকবালকে প্রার্থী করা হোক।” মশাল মিছিলে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নেতাকর্মীদের হাতে জ্বলন্ত মশাল, ব্যানার ও স্লোগানে শহরের পরিবেশে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনমতের প্রতি গুরুত্ব না দিয়েই কেন্দ্রীয়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া প্রার্থী সদর বিএনপির তৃণমূলকে হতাশ করেছে। বক্তারা কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,“তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করা হলে নির্বাচন পরিচালনা করা কঠিন হবে। তাই অবিলম্বে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে ফরহাদ ইকবালকে টাঙ্গাইল-৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে।”
টাঙ্গাইলে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভা টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি–২০২৫ বাস্তবায়নকে সফল ও গতিশীল করতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ের এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, এক মাসব্যাপী এই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চলবে। জেলার সকল শিশু যেন টিকার আওতায় আসে সেজন্য মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে টিকা প্রদান কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অভিভাবকদের দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানিয়ে সভায় বলা হয়, শিশুর ১৭-সংখ্যার জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য সরকারি ওয়েবসাইট—https://vaxepi.gov.bd/ —এ প্রবেশ করে তথ্য যাচাই করে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এবার জেলার শতভাগ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা যেন একদিনেই মরুভূমির দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। দিনব্যাপী পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের পর একসময়ের জমজমাট বাজার, ফিলিং স্টেশনসহ অসংখ্য ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ আর শূন্যতা। যেখানে প্রতিদিন মানুষের ভিড়, পণ্য উঠানামা ও ব্যবসায়িক লেনদেন চলত, আজ সেখানে কেবল ভাঙা টিন, বেঁকে যাওয়া কাঠ, ছড়িয়ে থাকা ইট-পাথর আর নির্জন নিস্তব্ধতা। উচ্ছেদের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলেন, বহু বছরের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও স্থিতিশীল জীবনের ভরসা মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কারও দোকান ছিল সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস, কেউবা নিজের হাতে গড়া ছোট ব্যবসাটিই ছিল জীবনের সম্বল। অভিযানের পর তারা এখন দিশেহারা। এদিকে অভিযানে বড় ধরনের বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ উচ্ছেদকর্মে অর্থনৈতিক লেনদেন ও প্রভাবশালীদের ইঙ্গিত অনুযায়ী কিছু স্থাপনা রক্ষা পেলেও সাধারণ মানুষের দোকান-ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এমন আকস্মিক উচ্ছেদ বহু মানুষের জীবিকা বিপন্ন করে তুলেছে। তারা সরকারের কাছে মানবিক বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ন্যায্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযান পরবর্তী কালিগঞ্জ এখন ভাঙা স্থাপনার শুকনো ধুলোয় ঢেকে থাকা এক নিশ্চুপ জনপদ।যেখানে মানুষের চোখে কেবল শূন্যতা আর ভাঙাগড়ার তীব্র বেদনা।
টাঙ্গাইলের আরিচা-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর হয়ে সদর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন ও প্রসারণ প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২4 সালের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজও প্রকল্পের অগ্রগতি ‘কচ্ছপ গতির’ বেশি নয়। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, এলাইমেন্ট নকশায় বারবার পরিবর্তন, বনবিভাগের গাছের মূল্য নির্ধারণে বিলম্ব ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতা—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন প্রায় স্থবির। এতে শুধু দৈনিক যাতায়াতকারীরাই নয়, বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ দেরিতে হওয়ায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি ভরাট করে রেখে দেওয়া, নির্মাণ সামগ্রী স্তূপ করে রাখা, পুরাতন রাস্তায় বিশাল গর্ত—এসব কারণে রাস্তার অবস্থা এখন ভয়াবহ।জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষক–শিক্ষার্থীর দৈনিক যাতায়াত, কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্যের ট্রাক—সবাই একই দুর্ভোগের শিকার। দেলদুয়ার, নাগরপুর ও টাঙ্গাইল সদরের একমাত্র কানেক্টিং আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রায় ব্যবহার-অনুপযোগী। কয়েক লক্ষাধিক মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় এ পথ দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। অনেক চালকদের মতে, “এই রাস্তায় গাড়ি ওঠা মানেই ক্ষতির ঝুঁকি।” টাঙ্গাইল জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা জানায়—মোট ৪৬টি মৌজায় ২৪৫.৫৫৭৭ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় তিন বছর ধরে চললেও পুরোপুরি শেষ হয়নি এখনো। কেস নং ৩২, ৩৩ ও ৩৪–এর ক্ষতিপূরণ প্রদান চলমান কেস ৩১–এর আওতায় অলোয়া, বরটিয়া ও ভবানী এলাকায় ৮ ধারা নোটিশ দেওয়া হয়েছে।কেস নং ২২, ২৩, ২৫, ২৬ ও ৩০–এ আপত্তি শুনানি ও তদন্ত চলছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জমির মূল্যহার পাঠানো হয়নি—চাষাভাদ্রা, সাটিয়াগাজী, আররা কুমেদ, ভাদ্রা, টেংরীপাড়াসওজের এলাইমেন্ট নকশা আটকে আছে—দুয়াজানি, বাড়াপুষা, কাঠুরি, বাবনাপাড়া, ঘিওরকোল, ডাঙ্গা।বনবিভাগের গাছের মূল্য নির্ধারণে বিলম্বে কেস নং ১৫ ও ২৪ স্থবির।এই দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত জমির মালিকরা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সবচেয়ে বেশি—সাধারণ মানুষ। সিএনজি যাত্রী জাহানারা আক্তার বলেন— “প্রতিদিন টাঙ্গাইল শহরে যাওয়ার জন্য এ পথ ব্যবহার করি। পাঁচ মিনিটের ঝাঁকুনিতেই মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে ছাড়া আমরা আর শহরে যেতে চাই না।” ট্রাকচালক শহীদ মিয়া বলেন— “বড় বড় গর্তে ভরা রাস্তা। গাড়ির হায়াত কমে যায়, দুর্ঘটনা বাড়ে, খরচ বাড়ে। এই রাস্তায় ট্রাক নিয়ে চলা মানেই ঝুঁকি।” এনডিই-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু তালিব ফাহমিদুর রহমান জানান— “শুধু মানুষই ভুক্তভোগী নয়, আমাদের প্রতিষ্ঠানেরও লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শ্রমিক, মাটি বহন, উপকরণ পরিবহন—সব ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে। পুরোপুরি কাজ শুরু করতে না পারায় প্রকল্প অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত।” টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান জানান— “দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন বিলম্বে কাজ থমকে গেছে। তবে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই কাজের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।” এদিকে ১৬৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকার প্রকল্পে শুধু টাঙ্গাইল অংশের জন্য বরাদ্দ ১১৩৫ কোটি টাকার বেশি। চার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—ডিয়েনকো, হাসান টেকনো, মীর ব্রাদার্স ও এনডিই—প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান— “ডিসি স্যারের বিশেষ নজরদারিতে সব জটিলতা দ্রুতই সমাধান করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা দ্রুতই প্রদান করা সম্ভব হবে। নাগরপুর, দেলদুয়ার, ঘাটাইল, দৌলতপুর অঞ্চলের মানুষ বহু বছর ধরে অপেক্ষায়। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল–কলেজে যাতায়াত, রোগী পরিবহন—সবখানে এই পথের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের একটাই দাবি— “রাজনৈতিক জটিলতা, ফাইল–পত্র আর বিভাগীয় সিদ্ধান্তে যদি রাস্তা আটকে থাকে, তবে ক্ষতি হয় শুধু আমজনতারই।” অনেকেই আশা করছেন—মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই মহাসড়কটি আধুনিক ও নিরাপদ সড়ক হিসেবে চালু হবে।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে উপজেলার দেওলী ইউনিয়নের চকতৈল এ.কে. আব্দুস সালাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এ সেবা প্রদান করা হয়। দেলদুয়ার উপজেলার মোট ৮টি ইউনিয়ন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের ৩০ জন করে মোট ২৪০ জন নারী-পুরুষ এ ক্যাম্পে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সকালে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর রোগীদের প্রথমে দন্ত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ সরবরাহ করা হয়। পরে তাদের হাতে শীতবস্ত্র (কম্বল) তুলে দেওয়া হয়। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯৮ কম্পোজিট ব্রিগেড ও ১১ আর.ই ব্যাটালিয়ন। দিনব্যাপী সেবা কার্যক্রম তদারকি করেন: লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাসের, ১৯ পদাতিক ডিভিশন মেজর হাফেজ, মির্জাপুর উপজেলা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর শাহিন, নাগরপুরের সাবেক ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মাসুদ, বর্তমান ক্যাম্প কমান্ডার।তারা বলেন, শীতের মৌসুমে আর্থিকভাবে সামর্থ্যহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। সমাজের মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্পে আসা অনেকেই সেনাবাহিনীর এই মানবিক কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। সেবা গ্রহণকারীরা বলেন,“দূরে হাসপাতালে না গিয়ে গ্রামের কাছেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া আমাদের জন্য অনেক স্বস্তির।"অনেকে দন্ত চিকিৎসায় উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি শীতবস্ত্র পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। দিনব্যাপী ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, বয়স্ক ও শিশুরা স্কুল মাঠে উপস্থিত হয়ে সেবা গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে রোগীদের চিকিৎসা, পরীক্ষা ও শীতবস্ত্র বিতরণের ব্যবস্থা করেন। সেনা কর্মকর্তারা জানান, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। দেলদুয়ার, নাগরপুর, সখীপুরসহ আশপাশের উপজেলাতেও পর্যায়ক্রমে এমন সেবা কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সন্তান হারানো মা কুকুরের জীবনে নতুন আলো— মানবিক উদ্যোগে পেল দুটি ছানা। পাবনার ঈশ্বরদীতে নৃশংসভাবে আটটি কুকুরছানা হত্যা করার মর্মান্তিক ঘটনার পর এক হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়। নিজের সন্তান হারিয়ে মা কুকুরটি তখন দিশেহারা, শোকে বিধ্বস্ত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তার প্রতি মানবিক হাত বাড়িয়ে দেন ঈশ্বরদীর প্রাণিপ্রেমী তরুণ শাহরিয়ার আমিত। ঘটনার পর মানবিক বিবেচনায় আমিতের উদ্যোগে মা কুকুরটির জন্য সংগ্রহ করা হয় দুটি নতুন ছানা। প্রথমে কিছুটা অবিশ্বাস ও দ্বিধায় থাকলেও ধীরে ধীরে সে ছানাগুলোকে আপন করে নেয়। এখন সেই দুই ছোট্ট প্রাণ তার দুধ খাচ্ছে, আর মা কুকুরটির আচরণে ফিরে এসেছে পুরনো মমতা ও শান্তভাব। ধীরে ধীরে শোক ভুলে আবার মাতৃত্বের অনুভূতি ফিরে পাচ্ছে সে। মা কুকুর ও নতুন দুটি ছানার যথাযথ যত্ন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। তাদের তত্ত্বাবধানে মা কুকুরটি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠছে। এদিকে, আটটি কুকুরছানা হত্যার সেই নিষ্ঠুর ঘটনার সঙ্গে জড়িত নারীকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও মানবিক এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ঘটনাটির ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের কাছ থেকে। মানবতার এমন সুন্দর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে— প্রমাণ করে, মানুষ চাইলে অসহায় প্রাণীর জীবনেও আলো এনে দিতে পারে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীর পূর্ব পাড় থেকে গোবিন্দাসী বাজার হয়ে আমলা পর্যন্ত বিস্তৃত শত বছরের পুরোনো খালটি একসময় ছিল এলাকার অর্থনীতি ও যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় এই খাল দিয়ে পালতোলা নৌকা চলাচল করত, ব্যবসা-বাণিজ্যের মালামাল আনা-নেওয়া হতো, পাশাপাশি মানুষজনও নৌকা ব্যবহার করতেন। তবে সময়ের স্রোতে খালটি তার স্বাভাবিক রূপ ও ইতিহাস হারিয়ে ফেলেছে। দখল, দূষণ ও অবহেলার কারণে আজ খালটি প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। একসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কার্যকারিতার দিক থেকে সুপরিচিত এই খালটির প্রস্থ ছিল ৪৫ থেকে ২২ মিটার। বর্তমানে খালটির পাশে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ দোকানপাট, গুদামঘর এবং বসতবাড়ি গড়ে তুলে খালটি দখল করে নিয়েছে। এর ফলে খালটির প্রস্থ সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিটারে। বাজার অংশে খালটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নোংরা পানি, দুর্গন্ধ এবং পঁচা আবর্জনায় আশপাশের মানুষজনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় বাজার ও আশপাশের এলাকা জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়। হাট-বাজারে ও আশেপাশের এলাকায় তলিয়ে যাওয়া পানির কারণে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। গোবিন্দাসী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, “দুইপাশে দখল করে অনেকে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট তৈরি করেছে। খালে ময়লা ফেলার কারণে চারপাশে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে খাল উপচে হাট-বাজার এবং আশপাশের এলাকা পানিতে ডুবে যায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে খালটি দখলমুক্ত করার এবং ময়লা ফেলার জন্য অন্যত্র ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জোর দাবি জানাচ্ছি।” ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব হাসান জানান, “খালটি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ে খালটি দখলমুক্ত করা হবে এবং স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে।” স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের তৎপরতার মাধ্যমে খালটি পুনরুদ্ধার করা হলে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে।
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) নির্বাচন বিষয়ক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উন্নয়নকে কেন্দ্র করে যুব প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সেমিনার রুমে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ’ আয়োজিত এ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় তরুণদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে তরুণদের ভূমিকা, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের চারটি দলে বিভক্ত করে ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য নির্বাচিত সরকারের প্রতি তরুণদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতামত সংগ্রহ করা হয়। গ্রুপভিত্তিক আলোচনায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি রোধ, মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্বচ্ছ নির্বাচন ও গণতন্ত্র চর্চা বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন মাভাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদেকীন। তিনি বলেন, “সচেতন নাগরিক গড়ে উঠলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি সম্পর্কে জানবে, প্রশ্ন করবে এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকবে—এটাই একটি উন্নত রাষ্ট্রের ভিত্তি।” অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান এবং সহযোগী প্রোগ্রামার মাহদিয়া মাহমুদ তাইমা। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সেশনে অনুষ্ঠিত হয় গ্রুপ ওয়ার্ক, ওপেন ডিসকাশন এবং নির্বাচনী সিমুলেশন সেশন, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভোট গ্রহণ ও ফলাফল প্রক্রিয়া সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা অর্জন করেন। আয়োজকরা জানান, যুব সমাজকে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সারাদেশজুড়ে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শীঘ্রই অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হবে বলে তারা জানান।
**নিখোঁজের চার দিন পর তুরাগ নদীতে ধনবাড়ীর যুবক মমিনের লাশ উদ্ধার। ঢাকার দিয়াবাড়িতে রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর যুবক মমিন খান (২৮)—এর লাশ চার দিন পর তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তুরাগ থানা–সংলগ্ন নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি শনাক্ত করার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৩০ নভেম্বর বিকেলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নেন মমিন। মিছিল শেষে তিনি স্ত্রীকে ফোন করে জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই বাসায় ফিরবেন। এরপর সন্ধ্যা থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরদিন স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা মমিন ঢাকায় থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোক ও হতবাক অবস্থা দেখা গেছে।বুধবার সকালে কয়েকজন জেলে তুরাগ নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে তুরাগ থানা–পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।পুলিশ জানায়, মরদেহটি কয়েক দিন পানিতে থাকার কারণে ফুলে গেছে। পরিচয় শনাক্তের পরই পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।“এটা নিছক নিখোঁজ নয়—পরিকল্পিত হত্যা” : পরিবারের অভিযোগ।নিহত মমিনের স্ত্রী, মা ও স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন,“এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা বা নিখোঁজের ঘটনা নয়—এটি পরিকল্পিত হত্যা। মিছিলে অংশ নেওয়ার পরই তাকে টার্গেট করা হয়।”তারা আরও বলেন, ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হবে : পুলিশ।তুরাগ থানার এক তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “মরদেহে আঘাতের কোনো সুস্পষ্ট চিহ্ন না থাকলেও এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ হওয়া, পরিবারের অভিযোগ এবং অন্যান্য সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে। মমিনের মৃত্যুতে তার নিজ এলাকা ধনবাড়ীতে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধারের মতো ঘটনা বেড়ে গেছে।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মানুষ এভাবে নিখোঁজ হবে, তারপর নদীতে লাশ পাওয়া যাবে—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের । স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, তারা পরিবারকে সহযোগিতা করছেন এবং ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের দাবি—যে কোনো পরিস্থিতিতেই হত্যার মূলহোতা বা সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
গত ৩ ডিসেম্বর (বুধবার) বিকেল নাগাদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়া’র দ্রুত সুষ্ঠু চিকিৎসা ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজন করে। এই দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে বরাবরই সাধারণভাবেই দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু — দোয়া মাহফিল শুরু হওয়ার আগেই রবিউল আওয়াল লাভলু’র কিছু সমর্থক এসে হট্টগোল শুরু করে। নির্বাচনী বেলাভ্যের কারণে, দোয়া-আয়োজনে তার নাম না থাকায় তারা প্রতিবাদ জানায়। এরপরই দোয়া মাহফিল বন্ধের দাবি জানানো হয়। পরে, ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় থেকে জোর করে দোয়া-নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। ফলশ্রুতিতে, দোয়া মাহফিল কোনোভাবেই অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এই ঘটনা দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের বক্তব্য — সারাদেশে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আন্তরিক দোয়া থাকা উচিত, কিন্তু মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই দলীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে। সেই ভাঙনই এবার দোয়া মাহফিলেও দেখা মিলেছে। সলিমাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন পল বলেছেন, “দলে যারা যোগ দিয়েছে — তাদের মধ্যেই রয়েছে বিভাজন; কিছু মানুষ দানের নামে দোয়া আয়োজন করলেও, দলের মনোনীত প্রার্থীর নাম না থাকার কারণ দেখিয়ে অন্যরা প্রতিবাদ করেছে; ফলে দোয়া সম্ভব হয়নি।” অপর দিকে, রবিউল আওয়াল লাভলু জানিয়েছেন, “দোয়া মাহফিলের ব্যানারে যে ব্যক্তি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেখানো ছিল — তার নাম ছিল তুহিন; যিনি দলের বিরোধী বলে আমার কর্মী-সমর্থকরা বিশ্বাস করে। তাই দোয়া-ব্যানারে তার নাম থাকলে, আমাদের সমর্থকরা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবাদ করবে।” এই ঘটনাকে বিএনপির স্থানীয় তৃণমূল তথা সাধারণ নেতাকর্মীরা দলীয় ঐক্য আনন্দঘন পরিবেশ বলে না, বরং “মোড়কবদল, ঘাঁটি দখল এবং মনোনয়ন আগ্রাসন” থেকে ঊদ্ভূত অন্যায় বিভাজন ও প্রতিযোগিতার অংশ মনে করছেন।
টাঙ্গাইলে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৬ একর বনভূমি রয়েছে—যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাল-গজারি বন হিসেবে পরিচিত। মধুপুর, ঘাটাইল, সখীপুর, কালিহাতী ও মির্জাপুর জুড়ে বিস্তৃত এই বনাঞ্চল দেশের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বনকে ঘিরেই জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ৫৩৯টি করাতকল—যার মধ্যে মাত্র ১৬৩টি বৈধ। বাকি ৩৭৬টি অবৈধ করাতকলে প্রতিদিন চলছে নির্বিচারে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার। সরেজমিনে মধুপুর, ধলাপাড়া, বাঁশতৈল, অরণখোলা থেকে শুরু করে দোখলা ও বহেড়াতলী পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়—কোথাও সামাজিক বনের পাশে,কোথাও সংরক্ষিত বনের গা ঘেঁষে,আবার কোথাও বনের ভেতরেই উঠে গেছে করাতকল।অনেক ক্ষেত্রে এসব মিল রেঞ্জ ও বিট অফিসের ঠিক পাশেই, যেন প্রশাসন ও বনবিভাগকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে—এখানে ‘সবই সম্ভব’। বন আইনে বনাঞ্চল থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে ঠিক উল্টো চিত্র— সংরক্ষিত বনের শাল, গজারি, পাইকর, কাঁকরাসহ মূল্যবান গাছ কেটে আনা হচ্ছে,অবৈধ স’মিলে এনে দ্রুত চিরাই করলেই হয়ে যাচ্ছে “বৈধ কাঠ”।স্থানীয় বাজারে তা দেদারসে বিক্রি হচ্ছে কোনো বাধা ছাড়াই। মধুপুরে ৪৫,৫০০ একর বনভূমির মধ্যে প্রায় ৩৫,০০০ একর ইতোমধ্যেই বৃক্ষশূন্য। বনে এখন গাছের জায়গা দখল করেছে—আনারস,কলা, ড্রাগন,পেঁপে ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ফসল।বাকি ১০ হাজার একর বনও মারাত্মকভাবে ক্ষয়িষ্ণু বলে জানায় স্থানীয় সূত্র। ঘাটাইলে ৯০টি করাতকল, যার মধ্যে ৪৫টি অবৈধ,মধুপুরে ৯০টির মধ্যে ৭৩টিই লাইসেন্সবিহীন, সখীপুরে শতাধিক মিল—লাইসেন্স মাত্র ১২টি।কালিহাতী ও মির্জাপুরেও একই অবস্থা—অধিকাংশ মিলই চালু বছরের পর বছর। অবৈধ করাতকলের মালিক, শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র—এক মিল মালিক ইদ্রিস আলী বলেন,“মিলের কোনো কাগজ নেই। বন বিভাগের লোকজন এলে চা-খরচ দিয়ে বিদায় করি।”অন্য মালিক জানান,“বন কর্মকর্তাদের মাসিক চাঁদা দেই। জেলা থেকে অভিযান এলে আগেই জানিয়ে দেয়।”কাঠ ব্যবসায়ী মাসুদ রানার ভাষ্যে, “বন অফিসাররা নিজেরাই টাকা নেন। তাই মিল মালিকদের কোনো ভয় থাকে না।”শ্রমিক বাবুল হোসেন জানান,“বিট অফিসার টাকা খেয়েও হয়রানি করে।”এই অভিযোগগুলো স্থানীয়দের মধ্যে বহুদিনের, কিন্তু এখন তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নিয়মভঙ্গ করে—স্কুল,মসজিদ, বাজার ও আবাসিক এলাকার পাশে উঠেছে বিপুলসংখ্যক করাতকল। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাঠ কাটার শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, স্থানীয়দের জীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। টাঙ্গাইল বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন—জেলায় ৫৩৯টি স’মিল,১৬৩টি বৈধ, ৩৭৬টি অবৈধ।সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে অবৈধ করাতকলের তালিকা দেয়া হয়েছে।প্রতি মাসে অভিযান পরিচালিত হয়।গত মাসে ৭টি অভিযান, এ মাসে ১টি অভিযান হয়েছে।যৌথবাহিনী ও প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন— “করাতকল বিধিমালা ২০১২ স্পষ্ট—বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে মিল স্থাপন নিষিদ্ধ। টাঙ্গাইলের বেশিরভাগ করাতকলই আইন ভঙ্গ করছে। অবিলম্বে উচ্ছেদ না করলে বন ও জীববৈচিত্র পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।”তিনি আরও বলেন—“বন ধ্বংস হলে বন্যা, খরা, খরা-উত্তর অগ্নিকাণ্ড, নদীভাঙনসহ ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে।” স্থানীয়দের দাবি—অবৈধ করাতকলের অস্তিত্ব, বনের ভেতর কৃষি জমি তৈরি,মাসোহারা বাণিজ্য। এসব রোধে শুধু মাসিক “দেখানো অভিযান” যথেষ্ট নয়। যতদিন পর্যন্ত অসাধু বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি এবং করাতকল মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়া হবে—ততদিন টাঙ্গাইলের বন রক্ষা করা অসম্ভব।
তুরাগ নদী থেকে তিন দিন নিখোঁজ থাকা মমিন খান শাকিল (২৯) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে স্থানীয়দের চোখে নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখা গেলে তুরাগ থানা পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। শাকিল ৩০ নভেম্বর (শনিবার) রাতে রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা তার ফোন বন্ধ পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে তুরাগ নদীতে অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধারের পর আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে শাকিলের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। ধনবাড়ী থানার ওসি এস.এম শহীদুল্লাহ বলেন, “তুরাগ থানা পুলিশ আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমাদের জানায়। এরপর আমরা নিহতের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেছি।” নিহত শাকিল টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান শাকিল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার সংসারে রয়েছে স্ত্রী ও এক শিশু সন্তান।
বিএনপির ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় টাঙ্গাইল–৫ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে চারটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। এতে টাঙ্গাইল–৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নাম ঘোষণা করা হয়। আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে টাঙ্গাইল সদরবাসীর উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন। বার্তায় তিনি বলেন, “প্রিয় টাঙ্গাইল সদরবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই, বন্ধু এবং সহযোদ্ধা। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আপনারাই ছিলেন আমার শক্তি, অনুপ্রেরণা ও সহযাত্রী। অতীতে যেমন আপনাদের মতামত ও পরামর্শ নিয়েই সকল কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও আপনাদের সবার মতামত ও সহযোগিতা নিয়েই এগিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহতালা আমাদের সকলের সহায় হোন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।” ফরহাদ ইকবালের এই বার্তায় স্পষ্ট যে, তিনি মনোনয়ন না পাওয়ার পরও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেননি এবং টাঙ্গাইল সদরবাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক পথচলায় স্থানীয় মানুষদের মতামত ও পরামর্শ তার জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফরহাদ ইকবালের এই সংযমী ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এটি স্থানীয় জনমত ও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রভাবকে শক্তিশালী করার এক পথ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। টাঙ্গাইল–৫ আসনের মনোনয়নসংক্রান্ত এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখানকার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফরহাদ ইকবালের ব্যালান্সড এবং সম্মানজনক বার্তা দলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় একটি ইতিবাচক সংকেত পাঠায়।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থিতা ঘোষণার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার এই উদার পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে মনোনয়ন পান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মনোনয়ন ঘোষণার পর সন্ধ্যায় ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেইজে পোস্ট দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও জেলা কমিটির আমীর আহসান হাবীব মাসুদ। তিনি লিখেন, “অভিনন্দন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের জন্য।” এ পোস্টে তার অনুসারীরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, রাজনীতিতে এ ধরনের উদার ও শিষ্টাচার আচরণ সবার জন্য উদাহরণ হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে শুভেচ্ছা জানানো একটি প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়। এটি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসার ঘটায় এবং মতবিরোধের মধ্যেও সহমর্মিতা ও শালীনতা বজায় রাখে। এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণও আহসান হাবীব মাসুদের এই পোস্টকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সম্মান জানানো দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে অভিনন্দন জানানোর ঘটনা টাঙ্গাইল-৫ আসনে আসন্ন নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, “এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দেশের অসংখ্য মানুষ নামাজ পড়ে, রোজা রেখে তার সুস্থতা কামনা করছেন। শুধু দলীয় নয়, দেশের মানুষের স্বার্থেই তার সুস্থতা অত্যন্ত জরুরি।” বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টুকু আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তার সুস্থতার জন্য দেশ-বিদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। অনেকেই কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ দানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন। এশিয়া মহাদেশে সম্ভবত তিনিই একমাত্র নেত্রী যার জন্য এত পরিমাণ মানুষ একযোগে দোয়া করছেন।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আল্লাহর রহমত ও জনগণের দোয়া থাকলে দেশনেত্রী অবশ্যই দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশের মানুষের মাঝে ফিরে আসবেন।” দোয়া মাহফিলে নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে টুকু বলেন, “টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এটি শুধু একটি প্রার্থীতা নয়—এটি মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। আমি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনমুক্ত একটি সমাজ গড়তে কাজ করতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের মূল্যবান ভোট প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক এলাকা, এখানে মানুষ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রতি অনুগত। তাই জনগণের সমর্থন নিয়ে আগামীর নির্বাচনকে তিনি শান্তিপূর্ণ ও অর্থবহ করতে চান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন— জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকেরুল মওলা,সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান,প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন,আতোয়ার রহমান আজাদসহ স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইল গ্রামের প্রবাসী আমিনুল সিদ্দিকীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গু লি করে হ- ত্যা করেছে দু/র্বৃ/ত্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমিনুল সিদ্দিকীর মৃত্যুর খবরে গোড়াইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনরা বিলাপ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর হামলা-নিপীড়নের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রবাসী কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে “প্রত্যেকটি অবদানই গুরুত্বপূর্ণ” প্রতিপাদ্যে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস ২০২৫ পালিত হয়েছে। গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবার মর্মবাণী ছড়িয়ে দেন স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া পাবলিক মডেল হাই স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে গুড নেইবারস ইয়ুথ সদস্যদের অংশগ্রহণে বের হয় এক প্রাণবন্ত র্যালি। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা স্বেচ্ছাসেবা, মানবিক মূল্যবোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ে নানা বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও প্লকার্ড প্রদর্শন করেন। র্যালিকে ঘিরে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে উৎসর্গ, ঐক্য ও মানবসেবার মূল্যবোধে। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বেচ্ছাসেবার গুরুত্ব, সমাজে যুবসমাজের অবদান, কমিউনিটি উন্নয়ন ও পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গুডনেইবারস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিডিসি’র ভাইস চেয়ারপার্সন ড. ফনীন্দ্র লাল পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাকুটিয়া মডেল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরজিৎ কুমার। বক্তারা বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা সমাজের প্রকৃত পরিবর্তনকারী—তাদের একেকটি উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আলোচনা সভার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যেখানে স্থানীয় শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবা ও মানবিকতার বার্তা বহনকারী গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এতে অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে কমিউনিটিতে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে পরিচালিত হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ঝাড়ু দেওয়া, আবর্জনা সংগ্রহ ও বর্জ্য পৃথকীকরণে স্থানীয়দের সচেতন করেন। পরিবেশবান্ধব আচরণ উৎসাহিত করতে গুড নেইবারস বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে পাকুটিয়া মডেল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়কে রিসাইকেলযোগ্য ও সাধারণ বর্জ্যের জন্য দুটি ৬০ লিটারের ডাস্টবিন উপহার দেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগকে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করে গুড নেইবারস বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানের শেষাংশে গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বেচ্ছাসেবাকে তারা সামাজিক পরিবর্তনের মূল শক্তি মনে করে। ভবিষ্যতেও শিশু, কিশোর, যুব ও কমিউনিটি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।