টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে পৌর এলাকা সংলগ্ন কুটিলপাড়া বাজারে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাস্থল ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী পক্ষের সমর্থকরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার তৈরি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে প্রায় ১৫ মিনিট। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে তিনজনকে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে। দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার ফলে এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
টাঙ্গাইলে কুমুদিনী সরকারি কলেজ ছাত্রীনিবাসে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে ছাত্রীনিবাসের মুক্তমঞ্চে আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চারদিকে উৎসবমুখরতা ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কুমুদিনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর খলিলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক খান এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মোয়াজ্জম হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান হোস্টেল সুপার ও সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) মোহাম্মদ আকতার হোসেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক উন্নয়ন গঠনে এ ধরনের সৃজনশীল আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীদের আত্ম-উন্নয়ন, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। সাংস্কৃতিক পর্বে ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি, নাটিকা ও একক পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে একটি উৎসবমুখর ও অনুপ্রেরণাদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সবশেষে প্রীতিভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকরা জানান, এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্প্রীতি ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে
আসন্ন ২০২৬ জাতীয়সংসদ নির্বাচনে-এ বাংলাদেশে একটি নির্বাচনী ঝড় বয়ে যাচ্ছে বলা যায়, কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ সরগরম এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, এই নির্বাচনটি মূলত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন যে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষের দিকে বা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা: নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে কিছু সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। সংস্কারের বিষয়: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় নির্বাচনী ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়েছে। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে নির্বাচনও কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন করেছে এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানার পুনর্নির্ধারণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। সংক্ষেপে, যদিও নির্বাচনের তারিখ এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষিত হয়নি (ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা), নভেম্বর ২০২৫-এ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।
সাজিদ পিয়াল: সরকারি সাদত কলেজ, টাঙ্গাইলের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া–এর আজ কলেজজীবনের শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষা সেক্টরে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পুরো কর্মজীবনজুড়ে তিনি একজন সৎ, দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক শিক্ষাপ্রশাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কলেজের একাডেমিক পরিবেশ উন্নত করতে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম তদারকি, পরীক্ষার শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষক-স্টাফদের মাঝে সমন্বয় এবং কলেজের সার্বিক উন্নয়নই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তার নেতৃত্বে— ক্লাসরুম ও একাডেমিক কার্যক্রম হয়েছে আরও সুসংগঠিত,শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতার চর্চা বেড়েছে,প্রশাসনিক কার্যক্রমে এসেছে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা,কলেজে শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের প্রতি ছিল তার আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল দৃষ্টি। যে কোনো সমস্যা সমাধানে তিনি ছিলেন সবসময় ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ।স্যারের শেষ কর্মদিবসে কলেজ পরিবারে বিরাজ করছে আবেগঘন পরিবেশ। সহকর্মী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী প্রশাসক, সহজ-সরল ব্যক্তি এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নেতা। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, তিনি ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী অভিভাবকসুলভ অধ্যক্ষ, যিনি সর্বদা শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।তার অবদানকে স্মরণ করে সবাই আজ তাকে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ পথ চলায় তার নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও মানবিক আচরণ ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।সরকারি সাদত কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মানিত অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া স্যারের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সুস্থ-সুখী আগামীর কামনা। তার শিক্ষাব্যবস্থায় অবদান আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে—এটাই সকলের বিশ্বাস।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাইন্দং আমতল (বড় খইয়ে) এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে নয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্যসহ দু’জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের অবস্থাও সঙ্কটজনক বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে দ্রুতগতির দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলেই দু’জন প্রাণ হারান। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুঃখজনক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহান সৃষ্টিকর্তা নিহতদের ক্ষমা ও মাগফিরাত দান করুন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা
ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে একাধিকবার চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ফারুক পাটোয়ারী আবারও আলোচনায়। এবার দেশবর্ণ নিউজের একজন সাংবাদিককে নিয়ে প্রকাশ্যে অশালীন গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বারবার প্রতারণা ও গ্রেফতারির ঘটনার পুনরাবৃত্তি অল্প কিছুদিন আগে উত্তরা উত্তরখানের চায়না ব্যাটারি ফ্যাক্টরিতে “সাংবাদিক” পরিচয়ে চাঁদা দাবি করতে গিয়ে পুলিশ ফারুক পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করে। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি সাতক্ষীরার একটি বেকারিতে “ম্যাজিস্ট্রেট” পরিচয়ে পুনরায় চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তার সঙ্গে আরও দুইজনকেও আটক করা হয়। জেল থেকে বের হয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশবর্ণ নিউজ সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গালাগাল একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়—ফারুক পাটোয়ারী দেশবর্ণ নিউজ প্রতিষ্ঠানের এক সাংবাদিকের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়ে উচ্চস্বরে বলেন, “কোনো সাংবাদিককে গোনায় ধরি না।” এই মন্তব্যের পর সাংবাদিক নাদিম শেখ আদর তাকে জিজ্ঞাসা করেন— “আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক? এবং সাংবাদিক সমাজকে এভাবে গালাগাল করছেন কেন?” প্রশ্ন শুনে ফারুক পাটোয়ারী মারমুখী হয়ে তেড়ে আসেন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের নামে “নিউজ করে দেখে নেওয়া হবে” বলে হুমকি দেন। নিজের প্রতিষ্ঠানের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কোনো বৈধ পরিচয় দিতে পারেননি। সাংবাদিক সমাজের প্রশ্ন—এই ভুয়া সাংবাদিকদের শেষ কোথায়? ফারুক পাটোয়ারীর মতো প্রতারকদের কারণে পেশাদার সাংবাদিকতার সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের মন্তব্য— শুধু কথা বলতে পারলেই সাংবাদিক হওয়া যায় না একজন প্রকৃত সাংবাদিককে প্রতিনিয়ত যে চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তার কিছুই জানেন না এসব ভুয়া ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার মুখোশ পরে যারা পেশাটিকে কলঙ্কিত করছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি—ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে যারা প্রতারণা, হুমকি ও চাঁদাবাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। নইলে এই অপসংস্কৃতি বিস্তার লাভ করবে এবং সাধারণ মানুষসহ প্রকৃত সাংবাদিকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে
টাঙ্গাইলে কারাবন্দী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত সুলতান মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গোড়াই হরিপাড়া গ্রামের আজমত আলীর ছেলে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কার্যক্রম সাময়িক নিষিদ্ধ ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট শহিদুল ইসলাম বলেন, “বুধবার বিকেলে হাজতি সুলতান মিয়া বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তিনি মারা যান।” গত বছর ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে ছররা গুলিতে গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ি গ্রামের হিমেল নামের এক যুবকের দুই চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনার পর হিমেলের মা নাছিমা বেগম টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলী আদালতে পুলিশ, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১০০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪০০–৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর গোড়াই ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুলতান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তিনি প্রায় এক মাস টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে আটক ছিলেন। সুলতান মিয়ার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার দাবি করেছে—মৃত্যুর কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। স্থানীয়রা জানান, হিমেল অন্ধ হওয়ার মামলাটি বর্তমানে আলোচিত ও সংবেদনশীল হওয়ায় সুলতানের গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী মৃত্যু নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
১৩৩, টাঙ্গাইল ৪ কালিহাতী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত।এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনসভার আয়োজন করা হয়।উক্ত জনসভায় সভাপতি হিসেবে ছিলেন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহব্বায়কও বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ ও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কৃষিবিদ এস এম এ খালিদ । তা ছাড়াও উক্ত জনসভায় বক্তব্য রাখেন এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র শাফী খান, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি প্রফেসর এ কে এম আব্দুল আওয়াল, মালেশিয়া বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান বাদল, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম- আহ্বায়ক মোহর আলী, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রহিমা খাতুন এবং কালিহাতীর বিভিন্ন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানগন সহ কালিহাতী উপজেলা বিএনপিও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফর রহমান মতিন নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন" দেশ নেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে দেশ দ্রুত গতিতে অগ্রসর হবে এবং আমরা সকলেই ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ করে যেন টাঙ্গাইল-৪ অর্থাৎ আমাদের কালিহাতী আসনটি ম্যাডাম খালেদা জিয়া ও আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারি"।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিএনপির ভুল প্রার্থী মনোনয়নের কারণেই বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি পরাজিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব। তিনি বলেন, “এবার যেন অতীতের পুনরাবৃত্তি না ঘটে; সঠিক ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত আমাদের দাবি অব্যাহত থাকবে।” বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সাইদ সোহরাব আরও বলেন, “এই আসনটি একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালের পর বিশেষ করে ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভুল প্রার্থী নির্বাচনের কারণে বিএনপিকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে। তাই আজ মির্জাপুরের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে নেতৃত্ব—সবার দাবি একটাই, প্রার্থী পরিবর্তন।” মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন— লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি, ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান, মির্জাপুর বিআরডিবির পরিচালক মাহফুজ মল্লিক টিপু, মির্জাপুর পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাজী সোহরাব, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মৃধা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোবারক হোসেন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান লাঠু, পৌর কৃষকদলের আহ্বায়ক মান্নান খান মান্না, উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক হাশেম রেজা, সদস্য সচিব লেহাজসহ স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল-৭ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে মনোনয়ন রিভিউয়ের দাবিতে সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব ও তার সমর্থকরা।
ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে। ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট কমে ৬২.৮ ডলার, আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৩২ সেন্ট কমে ৫৮.৩৩ ডলার হয়েছে। মার্কিন থ্যাংকসগিভিং ছুটির কারণে লেনদেন তুলনামূলক ধীর ছিলো। বুধবার তেলের দাম ১ শতাংশ বেড়েছিলো। তবে বাজার এখনো অনিশ্চিত। একদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা, অন্যদিকে অতিরিক্ত সরবরাহের শঙ্কা রয়েছে। এদিকে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ আগামী সপ্তাহে রাশিয়া সফর করবেন সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে। তবে রাশিয়ার এক শীর্ষ কূটনীতিক বলেছেন, মস্কো বড় ধরনের কোনো ছাড় দেবে না। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলে ওয়ার প্রিমিয়াম কমে যাবে, অর্থাৎ তেলের দাম আরও নেমে যেতে পারে। শান্তি হলে রাশিয়ার তেল সহজে বাজারে আসবে, যা ইতোমধ্যেই সরবরাহ বহুল বাজারে আরও চাপ বাড়াবে। এ কারণে তেলের দাম মাঝারি মেয়াদে নিচের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন এদিকে ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে। সুদের হার কমলে অর্থনীতি চাঙা হয় এবং তেলের চাহিদা বাড়ে।
ক্লোনিং’-এর কারসাজি: এক নম্বরে জন্ম ১০ লাখ মোবাইল বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে চলছে অবিশ্বাস্য ক্লোনিং খেলা। একটি মাত্র ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বরের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১০ লাখ হ্যান্ডসেট সচল রয়েছে–এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকায় ‘বৈধ ও নিরাপদ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে এনইআইআরের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন।মো. আমিনুল হক বলেন, দেশের বাজারে মাত্র পাঁচটি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে প্রায় ৫০ লাখ ফোন সক্রিয় আছে। অর্থাৎ একটি আইএমইআই নম্বরের পেছনে প্রায় ১০ লাখ করে হ্যান্ডসেট ব্যবহার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আইএমইআই ক্লোনিং করে অবৈধভাবে লাখ লাখ হ্যান্ডসেট বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এতে আর্থিক অপরাধ, সাইবার ক্রাইম ও জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ২০১৮ সালে এনইআইআর চালু করতে না পারায় আজ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।’বন্ধের মুখে অবৈধ ফোন! আপনার ফোনটি কি বৈধ, কীভাবে জানবেন।সেমিনারে জানানো হয়, দেশের চার অপারেটরের নেটওয়ার্কে সচল ১৯ লাখ ৭৬ হাজার আইফোনের মধ্যে ১৯ লাখ ৫৫ হাজারই বৈধ আমদানির তালিকায় নেই–অর্থাৎ অবৈধ। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ২১ লাখের কাছাকাছি হতে পারে। একইভাবে, দেশে সচল স্যামসাং ফোনের সংখ্যা ২ কোটি ৩১ লাখ ২৯ হাজার, যার মধ্যে ১ কোটি ৪৯ লাখ ২৬ হাজার অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত। তবে বিটিআরসির কমিশনার মাহমুদ হোসাইন জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর পরও এর আগে নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে এবং সচল থাকবে।ফোনের দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজারদর নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে।এদিকে সেমিনারে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল সেট আখাউড়া, বটুলি, বেনাপোল ও দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে। একইভাবে ভারতের চুরি হওয়া ফোন বাংলাদেশে আসে। পুরোনো যন্ত্রাংশ দিয়ে গড়া সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন বাজার বড় হয়ে যাওয়ায় হারানো সেট উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে
সাজিদ পিয়াল: ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে টাঙ্গাইলের মধুপুরের মধুপুর ফল্ট। স্থানীয়দের সচেতনতার দাবি ,রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গত এক সপ্তাহে দফায় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় টাঙ্গাইলের মধুপুরের ভূতাত্ত্বিক ফাটল— মধুপুর ফল্ট— নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই সক্রিয় ফল্ট যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে আরও সচেতনতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।বাংলাদেশে তিনটি প্রধান ভূমিকম্পন বলয় রয়েছে, যার একটি হলো মধুপুর ফল্ট। এই ফল্টের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর এবং রাজধানী ঢাকাকে উচ্চ ঝুঁকিতে রেখেছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এখানে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার মতো শক্তিশালী ফাটল বিদ্যমান।ঢাকা থেকে মধুপুর ফল্টের দূরত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার হওয়ায় বিশেষ আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে এই ফল্টটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র ভূমিকম্প হলে রাজধানীসহ আশপাশের ব্যাপক অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরেও টাঙ্গাইলের মধুপুরে ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ওই সময় মধুপুর উপজেলার গড় এলাকার বোকারবাইদ গ্রামে প্রায় আধা মাইল দীর্ঘ, তিন থেকে চার ইঞ্চি ব্যাসের ও ১৫–২০ ফুট গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়েছিল, যা স্থানীয়দের আতঙ্কিত করে তোলে। ক্যাব মধুপুর শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন,“গত সপ্তাহে দেশে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প হওয়ার পর আবারও মধুপুর ফল্ট নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে। এই ফল্টে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ–গাজীপুর ও ঢাকা প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যু আশঙ্কাজনক।”টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. জানে আলম বলেন,“টাঙ্গাইলের উত্তর অংশ ভূমিকম্পের জন্য রেড জোনে। আমাদের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। চারটি স্টেশনে বাড়তি সরঞ্জাম রয়েছে এবং কমিউনিটি ভলান্টিয়ার দল শক্তিশালী করা হচ্ছে।মধুপুর ফল্টের ভূমিকম্পের জন্য শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, মধুপুর গড়াঞ্চলের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং গাজীপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে। মধুপুর ফল্ট একটি সক্রিয় ফল্ট, যা যে কোনো সময় ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে। ঢাকা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে মধুপুর অঞ্চলে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার মতো ভূতাত্ত্বিক ফাটল রেখা রয়েছে। এর ফলে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকাসহ আশপাশের অনেক জেলা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মো. মোজাম্মেল হক বলেন,“মধুপুর ফল্ট বাংলাদেশের তিনটি প্রধান ফল্টের অন্যতম। এটি সক্রিয় এবং যেকোনো সময়ে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। ৬ থেকে সাড়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে।”মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন,“মধুপুর ফল্টের সক্রিয়তায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুর্যোগ প্রশমন দিবসে ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয় নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম করা হয়েছে। শিগগিরই স্থানীয়ভাবে মহড়া আয়োজন করা হবে।”প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণ নীতিমালা মেনে চলা, জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে ভূমিকম্প-সচেতনতা বিস্তারের ওপর জোর দিয়েছেন।
ঐতিহাসিক টাঙ্গাইল জেলা কনফারেন্স–২০২৫ জমঈয়তে আহলে হাদীসের উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় চেতনা ও সঠিক ইসলামী দাওয়াতের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলা জমঈয়তে আহলে হাদীস আগামীকাল আয়োজন করতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক টাঙ্গাইল জেলা কনফারেন্স–২০২৫। ইতোমধ্যে পুরো জেলায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দাওয়াতি কর্মী, ধর্মপ্রাণ মুসলিম, ইসলামি গবেষক, আলেম–উলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ এই মহাসম্মেলনে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 📅 তারিখ: আগামীকাল ২৯ নভেম্বর, শনিবার – ২০২৫ ⏰ সময়: বিকাল ৩ ঘটিকা 📍 স্থান: পৌর উদ্যান, জেলা সদর রোড, টাঙ্গাইল সম্মেলনকে শতভাগ সফল করতে দিনব্যাপী চলছে সাজসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ, সাউন্ড সিস্টেম বসানো, এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নানা আয়োজন। আঞ্চলিক পর্যায়ের সম্মেলন হলেও এবার ব্যাপক উপস্থিতির সম্ভাবনায় এটিকে "ঐতিহাসিক" রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে আয়োজকরা। এ সম্মেলনে দেশের খ্যাতিমান আলেম ও বক্তারা ঈমান-আকীদা, শিরক ও বিদআত পরিহার, নৈতিক সমাজ গঠন, সুশিক্ষা, ইসলামী আদর্শে পরিবার পরিচালনা, সামাজিক অবক্ষয় রোধ, তরুণ সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করবেন। পাশাপাশি থাকবে কুরআন–হাদীসের আলোকে বাস্তব জীবনের করণীয় ও শিক্ষা। অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার জন্য টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে গাড়ির ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক দল, মেডিকেল সহায়তা এবং নিরাপত্তা টিম গঠন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, জেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে সম্মেলনকে মহাসফল করবে। আয়োজক টাঙ্গাইল জেলা জমঈয়তে আহলে হাদীস জানায়— “ঐতিহাসিক এ সম্মেলন ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও সুন্নাহভিত্তিক আমলকে আরও বেগবান করবে। শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও কল্যাণময় সমাজ গঠনে এই কনফারেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ সকলের প্রতি সম্মেলনে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য আয়োজক কমিটি বিনীত আহ্বান জানিয়েছে।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি মাঠে নেমে কাজ করছে। টাঙ্গাইল সদরের প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও এলাকায় মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘জনগণ ধানের শীষের পক্ষে রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে আমরা বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হবো।” শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) জুমার নামাজ শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। টুকু আরও বলেন, ‘‘বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আজ সেই জনপ্রিয় নেত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বহু বছর ধরে তিনি অন্যায়ভাবে কারাবন্দী ছিলেন এবং নানা ধরনের অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন—এ অভিযোগ আমরা বহুবার জানিয়েছি।” তিনি বলেন, ‘‘খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার দাবিতে দলীয়ভাবে আন্দোলন চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি সবসময় মাঠে থাকবে।’ এ সময় বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
সাজিদ পিয়াল: টাঙ্গাইলে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল । বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় টাঙ্গাইলে এক বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা টাঙ্গাইল কবরস্থান সংলগ্ন জামিয়া ইসলামিয়া দারুস-সুন্নাহ মাদ্রাসা মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মুসল্লী, বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন। দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মিলাদ ও দোয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন,আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাঁকে রোগমুক্ত করেন এবং সুস্বাস্থ্যে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন—এই দোয়া করি।” খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে টুকু আরও বলেন,“দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। অথচ গত সরকারের আমলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তাকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী রেখে নির্যাতন করেছে। ছয় বছর তিনি জেলে ছিলেন—এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীর প্রতি দোয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন— জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক শানু, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সৈয়দ শহিদুল আলম টিটু, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গ–সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মুসল্লীরা। মাহফিল শেষে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।শুক্রবার বাদ জুম্মা নগরীর টাঙ্গাইল কবরস্থান জামিয়া ইসলামিয়া দারুস-সুন্নাহ মাদ্রাসা মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দ্রুত সুস্থ করে দেন এ কামনা করি। টুকু আরও বলেন, বিগত আমলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা অন্যায়ভাবে তাকে ৬ বছর জেলে রেখে নির্যাতন করেছে, যিনি দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করে এই দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আজ সেই নেত্রী অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।
টাঙ্গাইলে নতুন রূপে উন্মুক্ত হলো পাঠকবান্ধব পাবলিক লাইব্রেরি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি নতুন রূপে পাঠক-সমাজের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ইন্টেরিয়র উন্নয়ন, আধুনিক সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে লাইব্রেরিটি এখন আরও আকর্ষণীয় ও পাঠকবান্ধব রূপ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবনির্মিত লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত মোহাম্মদ নোমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে তিনি বলেন,“একটি আধুনিক ও পাঠকবান্ধব লাইব্রেরি গড়ে তোলা আমাদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল। তরুণ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চা এবং মানসিক বিকাশে এই লাইব্রেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন পরিবেশ শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিমুখী করবে এবং নাগরপুরে জ্ঞানচর্চার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী তোরাপ আলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ,উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিজ উদ্দিন,নাগরপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান বকুল,এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পাঠকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নাগরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে নতুন রূপে সাজানো এই লাইব্রেরি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে একটি উজ্জ্বল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।পাবলিক লাইব্রেরিকে আরও পাঠকবান্ধব করার লক্ষ্যে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। করা হয়েছে ইন্টেরিয়র ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সংস্কার কাজ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিতা কেটে নতুন করে লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত মোহাম্মদ নোমান।উদ্বোধনকালে ইউএনও আরাফাত মোহাম্মদ নোমান বলেন, একটি আধুনিক ও পাঠকবান্ধব লাইব্রেরি গড়ে তোলা আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। তরুণ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চা ও মানসিক বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন রূপে সাজানো লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের আরও আকৃষ্ট করবে এবং নাগরপুরে জ্ঞানচর্চার নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীপ ভৌমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদির আহমেদ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার, এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী তোরাপ আলী, সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিজ উদ্দিন, নাগরপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান বকুল প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন
টাঙ্গাইলে চোর সন্দেহে পরকীয়া প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম হাসমত উল্লাহ হাসু। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রাশেদুল ইসলাম (৩৬), গ্রামনাহালি, মহেড়া ইউনিয়ন, মির্জাপুর। ইয়ামিন ইসলাম (৩২), একই গ্রামের বাসিন্দা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রবাসী রাশেদুল ইসলামের স্ত্রী নিশি বেগমের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে জামালপুরের বকশীগঞ্জের হাসমত উল্লাহর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হাসু টাঙ্গাইল সদরের আইএফআইসি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। রাশেদুল দেশে ফেরার পরও হাসু নিশির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে স্বামী–স্ত্রী মিলে হাসুকে দেখা করতে আসতে বলেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নিশির সঙ্গে দেখা করতে গেলে রাশেদুল, ইয়ামিন ও মেহেদী হাসু কে চোর সন্দেহে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভাই রহমত উল্লাহ ছয়জনকে আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাশেদুল ও ইয়ামিনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক জাবেদ পারভেজ বলেন, “দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” মির্জাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, “পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বন্ধুকে হত্যার পর কুড়াল হাতে থানায় যুবক। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নাজরুল একাডেমি মাঠে বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যার পর কুড়াল হাতে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণের নাম মুনতাসির ফাহিম (২২)। তিনি মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চার মাস আগে দেশে ফিরেছিলেন। তাঁর বাড়ি চিকনা মনোহর গ্রামে। হত্যার পর রাতেই ত্রিশাল থানায় এসে “আমি বন্ধুকে মেরেছি”—এ কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তার বন্ধু আহিদুল ইসলাম আনিক (২২)। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা এবং ফাহিমের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আনিক ফাহিমকে নাজরুল একাডেমি মাঠের পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে—এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ডেকে নিয়ে গিয়ে ফাঁদ পেতে ফাহিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধু দ্বারা এভাবে হত্যার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টাংগাইলের গোপালপুরে আলমনগর ইউনিয়নে এমপি প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীরের গণসংযোগে এলাকাবাসীর ঢল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাংগাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীর গণসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে তিনি গোপালপুর উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের বোর্ডবাজার এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তার গণসংযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গণসংযোগ শুরুর পর থেকেই বাজারের বিভিন্ন দোকান, পাড়া-মহল্লা, চা-স্টল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে ব্যাপক সাড়া মেলে। মাওলানা হুমায়ুন কবীর সরাসরি মানুষের খোঁজখবর নেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার ও বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।” গণসংযোগে তার সঙ্গে স্থানীয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক, তরুণ ভোটারসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তারা প্রার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। অনেকেই জানান, এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই মাওলানা হুমায়ুন কবীরের সবচেয়ে বড় শক্তি। এ সময় নেতাকর্মীরা বলেন, “এলাকার উন্নয়নে এবং মানুষের কল্যাণে মাওলানা হুমায়ুন কবীরের ভূমিকা সবসময়ই প্রশংসনীয়। তিনি সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত একজন প্রার্থী। তাই জনগণ তাকে নিয়ে আশাবাদী।” গণসংযোগের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি প্রবীণ, নারী ও তরুণদের মতামত শোনেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। বিশেষ করে এলাকার সড়ক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও কৃষকদের সহায়তা নিয়ে তিনি বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। গণসংযোগ শেষে তিনি বলেন, “নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক—এটাই আমার প্রত্যাশা। জনগণের ভালোবাসাই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” এদিকে গণসংযোগ ঘিরে পুরো বোর্ডবাজার এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা যায়। অনেকেই প্রার্থীকে কাছে পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনে তাকে সমর্থনের আশ্বাস দেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা,মধ্যনগর,তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ)আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ আনিসুল হকের সমর্থনে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় উপজেলা সদরে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে ধর্মপাশা বাজারে ধানের শীষের পক্ষে বিশাল ঐক্যবদ্ধ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব খানের সভাপতিত্বে ও ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে বিশাল মিছিল পরবর্তী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী মাজহারুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ডাঃ নুরুল আমীন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১নং যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হক,উপজেলা বিএনপির ২য় যুগ্ম আহবায়ক এস এম রহমত, উপজেলা বিএনপির ৪র্থ যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভূট্রো, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কামাল, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন মন্টু, মামুনুর রশীদ শান্ত, আফজাল হোসেন স্বপন, মাহবুবুল আলম হাদিস, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, ধর্মপাশা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শওগত আলী ব্যাপারী,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হেকিম, যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল,যুগ্ম আহবায়ক সাইনুর হক, যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক শাহ আলম প্রিন্স, যুগ্ম আহবায়ক শওকত আলী, উপজেলা যুবদলের সদস্য চন্দন খাঁন, নাজমুল হোসেন সোহেল, রুকন উদ্দিন ব্যাপারী, ইমরান আহমেদ লিটন, হুমায়ুন আহমেদ মারুফ, ধর্মপাশা উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি ফারক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কবির মজুমদার মিলন,ধর্মপাশা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবু তাহের,সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নুরুল আমিন নুরু,সদস্য সচিব তোফায়েল আহমেদ সোহাগ, ধর্মপাশা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক মিশর আহমেদ, সদস্য সচিব রোমান আহমেদ, ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এম হাবিবুল্লাহ,যুগ্ম আহবায়ক রোমান আহমেদ, তানভীর হাসান রাজ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা তানভীর আহমেদ, গালিব আহমেদ চৌধুরী, ধর্মপাশা সরকারি ছাত্রদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক, যুগ্ম আহবায়ক রাহাত তালুকদার, ইকবাল আহমেদ, আরিয়ান আহমেদ মেহেদী, বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সামিউল হক সৌরভ, সিনিয়র সহ-সভাপতি সানি আহমেদ বাদল, ধর্মপাশা উপজেলা নবীন দলের আহবায়ক জুয়েল রানা, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিরা মিয়া প্রমূখ। নেতৃবৃন্দরা বলেছেন,আমরা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপিসহ সহযোগি সংগঠনের বিভিন্নস্তরের কর্মী। আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও ধানের শীষের পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আনিসুল হকের পক্ষের সমর্থনে আমরা সর্বস্তরের জনসাধারনকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। তারা বলেন আনিসুল হক একজন শিক্ষিত ন¤্র ভদ্র সামাজিক মানুষ তিনি ফেব্রæয়ারীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই আসনের চারটি উপজেলার হিন্দু,মুসলিম ,বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সকল ধর্মের মানুষের মৌলিক অধিতকার শিক্ষা,স্বাস্থ্য,বাসস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈøপ্লবিক পরিবর্তন সাধন হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিগত ১৬/১৭টি বছর যারা এই আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তারা জনগনের ভাগে্যঁও পরিবর্তে নিজেরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন। কাজেই যোগ্য এবং সৎ নেতৃত্বে বা জনপ্রতিনিধি ছাড়া হাওরের এই আসনের মানুষের ভাগ্যেও পরিবর্তন কথনো সম্ভব না। তাই আগামীতে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আনিসুল হকের কোন বিকল্প নেই। এজন্য এই আসনের চারটি উপজেলার ভোটারগণ নির্বাচনে আনিসুল হককে বিপুল ভোটে জয়লাভ করাতে বদ্ধ পরিকর।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে পৌর এলাকা সংলগ্ন কুটিলপাড়া বাজারে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাস্থল ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী পক্ষের সমর্থকরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার তৈরি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে প্রায় ১৫ মিনিট। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে তিনজনকে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে। দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার ফলে এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
টাঙ্গাইলে কুমুদিনী সরকারি কলেজ ছাত্রীনিবাসে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে ছাত্রীনিবাসের মুক্তমঞ্চে আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চারদিকে উৎসবমুখরতা ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কুমুদিনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর খলিলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক খান এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মোয়াজ্জম হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান হোস্টেল সুপার ও সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) মোহাম্মদ আকতার হোসেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক উন্নয়ন গঠনে এ ধরনের সৃজনশীল আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীদের আত্ম-উন্নয়ন, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। সাংস্কৃতিক পর্বে ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি, নাটিকা ও একক পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে একটি উৎসবমুখর ও অনুপ্রেরণাদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সবশেষে প্রীতিভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকরা জানান, এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্প্রীতি ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে
আসন্ন ২০২৬ জাতীয়সংসদ নির্বাচনে-এ বাংলাদেশে একটি নির্বাচনী ঝড় বয়ে যাচ্ছে বলা যায়, কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ সরগরম এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, এই নির্বাচনটি মূলত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন যে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষের দিকে বা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা: নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে কিছু সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। সংস্কারের বিষয়: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় নির্বাচনী ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়েছে। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে নির্বাচনও কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন করেছে এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানার পুনর্নির্ধারণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। সংক্ষেপে, যদিও নির্বাচনের তারিখ এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষিত হয়নি (ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা), নভেম্বর ২০২৫-এ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।
সাজিদ পিয়াল: সরকারি সাদত কলেজ, টাঙ্গাইলের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া–এর আজ কলেজজীবনের শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষা সেক্টরে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পুরো কর্মজীবনজুড়ে তিনি একজন সৎ, দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক শিক্ষাপ্রশাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কলেজের একাডেমিক পরিবেশ উন্নত করতে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম তদারকি, পরীক্ষার শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষক-স্টাফদের মাঝে সমন্বয় এবং কলেজের সার্বিক উন্নয়নই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তার নেতৃত্বে— ক্লাসরুম ও একাডেমিক কার্যক্রম হয়েছে আরও সুসংগঠিত,শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতার চর্চা বেড়েছে,প্রশাসনিক কার্যক্রমে এসেছে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা,কলেজে শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের প্রতি ছিল তার আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল দৃষ্টি। যে কোনো সমস্যা সমাধানে তিনি ছিলেন সবসময় ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ।স্যারের শেষ কর্মদিবসে কলেজ পরিবারে বিরাজ করছে আবেগঘন পরিবেশ। সহকর্মী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী প্রশাসক, সহজ-সরল ব্যক্তি এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নেতা। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, তিনি ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী অভিভাবকসুলভ অধ্যক্ষ, যিনি সর্বদা শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।তার অবদানকে স্মরণ করে সবাই আজ তাকে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ পথ চলায় তার নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও মানবিক আচরণ ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।সরকারি সাদত কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মানিত অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া স্যারের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সুস্থ-সুখী আগামীর কামনা। তার শিক্ষাব্যবস্থায় অবদান আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে—এটাই সকলের বিশ্বাস।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাইন্দং আমতল (বড় খইয়ে) এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে নয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্যসহ দু’জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের অবস্থাও সঙ্কটজনক বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে দ্রুতগতির দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলেই দু’জন প্রাণ হারান। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুঃখজনক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহান সৃষ্টিকর্তা নিহতদের ক্ষমা ও মাগফিরাত দান করুন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা