টাঙ্গাইলে সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৩ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় শহরের রয়্যাল প্লেস রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতানসালাউদ্দিন টুকু (এমপি)।প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন সমাজের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা সমাজের আয়না হিসেবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করে। তিনি বলেন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে শক্তিশালী করে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদেরপেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি-কে সংবর্ধনা প্রদান ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থিত রয়েল প্যালেস ভিআইপি হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতিহাসানুজ্জামিল শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রেসক্লাব টাঙ্গাইলের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মাওলা টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সভাপতি মোঃ আজগর আলী টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ সাফি ইথেন এবং সদর থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিমউদ্দিন বিপ্লব। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্রের মহাসচিব জাফর আহমেদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আরিফুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম আল মামুন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক এবং আমাদের আদর্শের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন বাংলাদেশে যখনই বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে তখনই এ দেশের সাংবাদিক সমাজ সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে এবং সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে উদার ভূমিকা পালন করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন সংবাদপত্র ওসাংবাদিকদের সমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ তুলে ধরে সমাজের বাস্তব চিত্র মানুষের সামনে উপস্থাপন করা এবং দেশ ও জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। সাংবাদিকরা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয় তারা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন।অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইলে ‘ব্লোমিং বিউটি বাই মুন’-এ ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান নকল পণ্য ও অনিয়মের অভিযোগে জরিমানাটাঙ্গাইল শহরের রেজিস্ট্রিপাড়া এলাকায় অবস্থিত অনলাইনভিত্তিক কসমেটিকস প্রতিষ্ঠান ব্লোমিং বিউটি বাই মুন-এ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে নকল ও অনিয়মিত কসমেটিকস পণ্য বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে।ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস পণ্যের মধ্যে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। কিছু দেশীয় পণ্যের গায়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া বেশ কিছু পণ্যের বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অভিযানের সময় দেখা যায়, কয়েকটি কসমেটিকস পণ্য নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ ধরনের অনিয়ম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল। এ সময় তিনি বলেন বাজারে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভোক্তা অধিদপ্তর আরও জানায় বাজারে নকল বা অনিয়মিত পণ্য বিক্রির তথ্য পেলে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে নকল ও নিম্নমানের পণ্যের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে এবং ভোক্তারা নিরাপদ পণ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ ২৬ জন গ্রেপ্তার টাঙ্গাইল ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখা সূত্রে জানা যায় জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে প্রিভেন্টিভ মামলা নিয়মিত মামলা মাদক ব্যবসাওপরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযানে জেলার প্রতিটি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার।গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় মাদকবিরোধী অভিযানে ১২০ পিস ইয়াবা ৪৯০ গ্রাম গাঁজা এবং ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।জেলা পুলিশ জানিয়েছে অপরাধ দমন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা-এর আওনা ইউনিয়ন-এর অন্তর্গত কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সচেতন মানুষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন দোকানপাট, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে মাদকবিরোধী পোস্টার লাগানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাবারিয়াবাড়ী এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তির কারণে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরিচিত ও সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এতে করে গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকার সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা জানান, আগে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামটি শান্তিপূর্ণ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের বিস্তার এবং কিছু অসাধু চক্রের তৎপরতার কারণে গ্রামের পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। এতে করে গ্রামের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকের প্রভাবের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ঝগড়া-বিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ পরিস্থিতিতে গ্রামের ছোট-বড় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। তাই কাবারিয়াবাড়ী গ্রামকে মাদকমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী এই কর্মসূচির সময় গ্রামবাসীরা লিফলেটের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন। লিফলেটে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় এবং মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার লাগিয়ে এলাকাবাসীকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গ্রামবাসীরা জানান, তারা শুধু সচেতনতা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। প্রয়োজনে গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও ভাবছেন তারা। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এদিকে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামটিকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করবে। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, সামাজিক সচেতনতা, জনগণের ঐক্য এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে খুব শিগগিরই কাবারিয়াবাড়ী গ্রাম থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে করে আবারও গ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
টাঙ্গাইলে দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগে বন্ড, টপটেন ও মেঘামার্ট নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বেশ কিছু নকল পারফিউম ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা সদর সড়কের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান দেশি তৈরি পণ্যকে বিদেশি পণ্য হিসেবে বিক্রি করছে এবং নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল পারফিউম ও কসমেটিকস প্রদর্শন ও বিক্রি করছে। এ সময় চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল পাঞ্জাবি, প্যান্ট ও অন্যান্য পোশাক বিক্রিরও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বন্ডকে ৫০ হাজার টাকা, টপটেনকে ৫০ হাজার টাকা এবং মেঘামার্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল। তিনি বলেন, “দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি, নকল পণ্য বাজারজাতকরণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু নকল পণ্য জব্দ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে নকল পণ্যের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে কৃষিজমিতে গাঁজা চাষের অভিযোগ: পুলিশি তদন্তে সত্যতা আতঙ্কে এলাকাবাসী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার (বলি ভদ্র)ইউনিয়নের চর কেরামজানি গ্রামে একটি কৃষিজমিতে অবৈধভাবে গাঁজা চাষের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় চর কেরামজানি গ্রামের একটি জমিতে সম্প্রতি কিছু অজানা গাছ রোপণ করা হয়। প্রথমদিকে গ্রামের সাধারণ মানুষ বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি। তবে কয়েকদিন পর গাছগুলোর আকার-আকৃতি দেখে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে কেউ কেউ ধারণা করেন এগুলো গাঁজা গাছ হতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে বিষয়টি গোপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধনবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশেরসাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ বজলুর রহমান সরেজমিনে জমিটি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক তদন্তে সেখানে গাঁজা গাছ রোপণের বিষয়টি সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্থানীয়রা জানান চর কেরামজানি গ্রামটি টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার সীমান্তবর্তী একটি প্রত্যন্ত এলাকা। ভৌগোলিকভাবে দুর্গম হওয়ায় অনেক সময় এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি কম থাকে। সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। মাদক সেবন ও ব্যবসা জুয়া এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে এ এলাকায়।গ্রামের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত নিরীহ হওয়ায় তারা অনেক সময় এসব অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেন না। ফলে অপরাধীরা প্রায়ই এলাকাটিকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।জানা গেছে,যে জমিতে গাঁজা চাষের চেষ্টা করা হয়েছে সেটি স্থানীয় বাসিন্দা মো.আমজাদ হোসেনের পৈতৃক সম্পত্তি। পারিবারিক জটিলতার কারণে তিনি জমিটি নিজের তত্ত্বাবধানে রাখতে পারছিলেন না। স্থানীয় এলাকাবাসি হতে জানা যায় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ সুজালের কাছে এই জমিটি বন্ধক রাখেন। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে জমিটি বন্ধক নেওয়ার পর সুজাল সেখানে চাষাবাদের নামে গাঁজা গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি জানতে পেরে জমির মালিক আমজাদ হোসেন এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। বরং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর জোরপূর্বক ওই জমিতে গাঁজা গাছ রোপণ করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন তাদের গ্রামকে যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। তারা চান দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।এলাকাবাসীর মতে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এই গ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।গ্রামের সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—মাদকসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করে এলাকাকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
টাঙ্গাইলে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি: দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা টাঙ্গাইলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট সাত হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার বেগুনটাল ও তোরাপগঞ্জ বাজারে পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। অভিযানের সময় বাজারে বিভিন্ন দোকান তদারকি করে দেখা যায় কয়েকজন ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন।অভিযান চলাকালে বেগুনটাল বাজারের জিন্নত স্টোর সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময়ে তোরাপগঞ্জ বাজারে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী ১১৬ টাকা লিটারের পেট্রোল ১৭০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। এ অপরাধে তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যদি অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করে বা ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি আরও বলেন বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে কোনো পণ্য বিক্রি না করেন।
টাঙ্গাইলে পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার ২৪ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের চলমান অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলার আসামিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানানো হয়, জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলার সকল থানা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল।পুলিশের ওই নির্দেশনার আলোকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রিভেন্টিভ মামলা নিয়মিত মামলা, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ সময় মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ১৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৬ কেজি ৯৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো অপরাধ কিংবা অপরাধীর তথ্য দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাগেরহাট-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা মাইক্রোবাস–নেভী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪একই পরিবারের ১৩ জনের মৃত্যু, নবদম্পতি ও দুই শিশুসহ নিভে গেল আনন্দের ঘর ।খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১৩ জনসহ মোট ১৪ জন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। একটি মাইক্রোবাস ও নেভীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নতুন বর–কনে এবং দুইটি ছোট শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে নববধূকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে ছিল বিয়ের আনন্দ, হাসি আর নতুন জীবনের স্বপ্ন—সেই যাত্রাপথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নেভীর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তের মধ্যেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা অনেককেই মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ জনে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও শোকাবহ করে তুলেছে।হাসপাতালে নেওয়ার পর ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় নববধূর হাতে এখনো টকটকে লাল মেহেদি রয়ে গেছে। কিন্তু জীবনের সেই নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই থেমে গেল তার জীবনযাত্রা। মেহেদির রঙ ফিকে হওয়ার আগেই নিভে গেল তার স্বপ্নের প্রদীপ।দুর্ঘটনায় নিহত দুইটি ছোট শিশুর বয়সও ছিল খুবই কম। তাদের শরীরে তখনো প্যাম্পার্স পরানো ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এত অল্প বয়সেই তাদের জীবনের ইতি টানল নির্মম এই সড়ক দুর্ঘটনা।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিয়ের আনন্দে ভরা একটি পরিবার মুহূর্তের মধ্যেই শোকে ভেঙে পড়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের একসঙ্গে মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ।দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এদিকে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমেও শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন অসংখ্য মানুষ। অনেকেই বলছেন একটি পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে একসঙ্গে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
মির্জাপুরে চেতনানাশক খাইয়ে অটোচালক হত্যা: প্রধান আসামি র্যাবের জালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অটোচালককে হত্যা করে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান আসামি মজিদুল ইসলাম ওরফে বিক্কু (৩৪) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) রাতে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পীরপল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অটোচালক আলকাজ মিয়া প্রতিদিনের মতো অটো নিয়ে বের হন। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে চুরির উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক দ্রব্য সেবন করায়। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার জুই-যুথি সিএনজি পাম্পের পূর্ব পাশে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে তার ব্যবহৃত অটোটি ছিনিয়ে নেয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক আলকাজ মিয়ার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে গত ২ মার্চ মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা ও অটোচুরির মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩২৮/৩৭৯/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়।মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি দল গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পীরপল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মজিদুল ইসলাম ওরফে বিক্কুকে গ্রেফতার করা হয়। এ অভিযানে র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প সহায়তা করে।গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান টাঙ্গাইল ১২ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে গত ৯ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বেবিস্ট্যান্ড মসজিদ মার্কেট কাঁচাবাজারে শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর হাতে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত আর্থিকঅনুদানের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল।এসময় জেলা প্রশাসক বলেন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে সরকারের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছেভবিষ্যতেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন টাঙ্গাইল সদর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয় যাতে তারা দ্রুত তাদের ব্যবসা পুনরায় চালু করতে পারেন।অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্সে কিট প্যারেড: শৃঙ্খলা পেশাদারিত্ব ও জনসেবায় জোর টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে ১২ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে অফিসার ওফোর্সদের অংশগ্রহণে কিট প্যারেড। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই প্যারেডে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)টাঙ্গাইল। প্যারেড চলাকালে তিনি সদস্যদের কিট পোশাক-পরিচ্ছদ সরঞ্জামাদি ও সামগ্রিক শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করেন।প্যারেড শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন একজন পুলিশ সদস্যের পেশাদারিত্ব পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেসরুলস মেনে চলা বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।পাশাপাশি তিনি সকলকে স্বাস্থ্য সচেতন থাকার এবং দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভদ্র ও মানবিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।তিনি আরও উল্লেখ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কিট প্যারেড ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব বিষয়ের ওপর আরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এ সময় টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিতছিলেন।পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ইউনিটের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরাও প্যারেডে অংশ নেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক বিকাশ এজেন্টের ওপর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।দুর্বৃত্তরা তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম মৌতলা গ্রামের মৃত মো. ওলি আহম্মেদের ছেলে মো. মোকলেছুর রহমান (৩৫) পেশায় একজন বিকাশ এজেন্ট। রোববার দুপুরে তিনি মোটরসাইকেলযোগে কৃষ্ণনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে তার কাছে থাকা নগদ টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।ঘটনার পর কৃষ্ণনগরসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান,ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মোস্তফা মাসুদ: মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার। সভায় আগামী ২৫ ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তুতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামে প্রায় ১৭ বছর ধরে একটি সরকারি খাস খালের পানি চলাচলের গেট বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকাবাসী।এ ঘটনায় পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা জবেদ আলী সরদারের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন এলাকাবাসীর পক্ষে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাড়াশিমলা ও নারায়ণপুর মৌজার একটি সরকারি খাস খাল দিয়ে এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসন হয়ে আসছিল। কিন্তু প্রায় ১৭ বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের পানি চলাচলের গেট বন্ধ করে জবরদখল করে নেন। পরে তারা নিজেদের সুবিধামতো পানি উত্তোলন ও বন্ধ করে রাখার কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম নারায়ণপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।লিখিত অভিযোগে বিবাদী হিসেবে ভাড়াশিমলা গ্রামের শেখ নূর আহম্মদের ছেলে শেখ জামিরুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম, মৃত শেখ শাহাজানের ছেলে শেখ খায়রুল ইসলাম, শেখ মনিরুল ইসলামের ছেলে রানা এবং সাবিরুল ইসলামের ছেলে শেখ রকিবুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ-২০২৬) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালের পানি চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম নারায়ণপুরসহ আশপাশের এলাকা জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে থাকে। এ সময় ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের মৃত মাহমুদ সরদারের ছেলে মহসিন আলী, জবেদ আলী সরদারের ছেলে জয়নাল আবেদীন, জাকির হোসেন, হাফিজুর রহমান, খান মাহবুবুর রহমান হাসু, ইউসুফ রাব্বি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন গ্রামবাসী সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা বহুবার প্রতিবাদ ও উদ্যোগ নিলেও প্রভাবশালীদের কারণে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।গ্রামবাসীরা আরও জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে খালটি মাপজরিপ করে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা মানছেন না এবং জবরদখল বজায় রেখেছেন।ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটি উন্মুক্ত করার চেষ্টা করলে তাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাস খালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের অনুকূলে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ১১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে জেলা পুলিশ টাঙ্গাইলের আয়োজনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বাংলাদেশ জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির মহোদয়ের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী শহীদ পুলিশ সদস্যদের উত্তরাধিকারীদের হাতে তুলে দেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।এ সময় তিনি কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের পরিবারের পাশে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় থাকবে বলে আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা।
দুর্যোগ প্রস্ততিতে লড়ব, তারুন্যের বাংলাদেশ গড়ব’’ এই প্রতিপাদ্যে সারাদেশের মতো নেত্রকোনার দুর্গাপুরেও নানা আয়োজনে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্ততি দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে আলোচনা সভা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক মহড়ার মধ্যদিয়ে এ দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার আয়োজনে ভুমিকম্প এবং অগ্নিকান্ডে আমাদের করণীয় বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এম এ জিন্নাহ প্রমুখ। এছাড়া অন্যদের মাঝে, উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তিতে উপজেলা ফায়ার ষ্টেশন ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক মহড়া প্রদর্শন করেন। আলোচনা সভায় ইউএনও আফরোজা আফসানা বলেন, নেত্রকোনা জেলার মধ্যে সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর একটি প্রবল দুর্যোগপুর্ন উপজেলা। দুর্যোগে ভয় না পেয়ে নিজেদের পুর্ব সচেতনতা ও প্রস্ততি থাকলে সকল দুর্যোগই মোকাবিলা করা সম্ভব। দুর্যোগ প্রস্ততি বিষয়ে অনুষ্ঠিত মহড়া দেখে আমাদের মাঝে আতঙ্ক হওয়ার ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। যে কোন দুর্যোগে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
জামালপুরে পুলিশ সুপারের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা জেলা প্রশাসন জামালপুরের উদ্যোগে পুলিশ সুপার ড.চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেকের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহাম্মদ ইউসুপ আলী।অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিদায়ী পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেকের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন এবং জামালপুর জেলায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর নিষ্ঠা পেশাদারিত্ব ও দক্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।বক্তারা বলেন দায়িত্ব পালনের সময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা অপরাধ দমন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন।
ডিউটিরত পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অস্ত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার গ্রেফতার ১ নারায়ণগঞ্জে ডিউটিরত পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি সরকারি পিস্তল দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত এক দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ জানায় গত ৯ মার্চ সকাল ৬টা ১০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই (নিরস্ত্র) এসএম লুৎফর রহমান নগর ভবনের সামনে ডিউটিরত ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুষ্কৃতকারী চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং আঘাত করে তার সরকারি ইস্যুকৃত একটি পিস্তল দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর এএসআই এসএম লুৎফর রহমানের এজাহারের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাছিনুজ্জামানসহ সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো.ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম যৌথভাবে অভিযান চালায়। এসময় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।অভিযানের এক পর্যায়ে মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০) নামে এক দুষ্কৃতকারীকে বন্দর থানাধীন সোনাকান্দা ব্যাপারীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।তিনিনারায়ণগঞ্জের দেওভোগ পানির ট্যাংক এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। এসময় ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি একটি ছোরা ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃত মিশাল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় তার সহযোগী জিয়াম ওরফে রাফি (৩৪) ডাকু জুয়েল (২৬) ও আরহাম (৩২) মিলে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। এদের বিরুদ্ধে The Arms Act1878 আইনে সদর মডেল থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।পরে মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বন্দর থানাধীন রেলী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের উইলসন রোডে একটি বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর লাল কাপড়ের শপিং ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ছিনতাইকৃত একটি পিস্তল দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায় গ্রেফতারকৃত মিশালের বিরুদ্ধে এর আগে একটি ধর্ষণ মামলাও রয়েছে।এ ঘটনায় পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মোস্তফা মাসুদ: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৪নং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রমজানের ২০তম দিনে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দক্ষিণ শ্রীপুর বাজার চত্বরে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৪নং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ নূরুজ্জামান পাড়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতা শেখ নুরুজ্জামান, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম হাফিজুর রহমান শিমুল,উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা সালাউদ্দিন এবং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান হুকুম।এসময় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন,পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র মাসে সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। ইফতার মাহফিলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলে সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৩ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় শহরের রয়্যাল প্লেস রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতানসালাউদ্দিন টুকু (এমপি)।প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন সমাজের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা সমাজের আয়না হিসেবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করে। তিনি বলেন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে শক্তিশালী করে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদেরপেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি-কে সংবর্ধনা প্রদান ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থিত রয়েল প্যালেস ভিআইপি হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতিহাসানুজ্জামিল শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রেসক্লাব টাঙ্গাইলের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মাওলা টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সভাপতি মোঃ আজগর আলী টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ সাফি ইথেন এবং সদর থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিমউদ্দিন বিপ্লব। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্রের মহাসচিব জাফর আহমেদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আরিফুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম আল মামুন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক এবং আমাদের আদর্শের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন বাংলাদেশে যখনই বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে তখনই এ দেশের সাংবাদিক সমাজ সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে এবং সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে উদার ভূমিকা পালন করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন সংবাদপত্র ওসাংবাদিকদের সমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ তুলে ধরে সমাজের বাস্তব চিত্র মানুষের সামনে উপস্থাপন করা এবং দেশ ও জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। সাংবাদিকরা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয় তারা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন।অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইলে ‘ব্লোমিং বিউটি বাই মুন’-এ ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান নকল পণ্য ও অনিয়মের অভিযোগে জরিমানাটাঙ্গাইল শহরের রেজিস্ট্রিপাড়া এলাকায় অবস্থিত অনলাইনভিত্তিক কসমেটিকস প্রতিষ্ঠান ব্লোমিং বিউটি বাই মুন-এ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে নকল ও অনিয়মিত কসমেটিকস পণ্য বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে।ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস পণ্যের মধ্যে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। কিছু দেশীয় পণ্যের গায়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া বেশ কিছু পণ্যের বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অভিযানের সময় দেখা যায়, কয়েকটি কসমেটিকস পণ্য নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ ধরনের অনিয়ম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল। এ সময় তিনি বলেন বাজারে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভোক্তা অধিদপ্তর আরও জানায় বাজারে নকল বা অনিয়মিত পণ্য বিক্রির তথ্য পেলে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে নকল ও নিম্নমানের পণ্যের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে এবং ভোক্তারা নিরাপদ পণ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ ২৬ জন গ্রেপ্তার টাঙ্গাইল ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখা সূত্রে জানা যায় জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে প্রিভেন্টিভ মামলা নিয়মিত মামলা মাদক ব্যবসাওপরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযানে জেলার প্রতিটি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার।গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় মাদকবিরোধী অভিযানে ১২০ পিস ইয়াবা ৪৯০ গ্রাম গাঁজা এবং ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।জেলা পুলিশ জানিয়েছে অপরাধ দমন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা-এর আওনা ইউনিয়ন-এর অন্তর্গত কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সচেতন মানুষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন দোকানপাট, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে মাদকবিরোধী পোস্টার লাগানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাবারিয়াবাড়ী এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তির কারণে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরিচিত ও সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এতে করে গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকার সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা জানান, আগে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামটি শান্তিপূর্ণ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের বিস্তার এবং কিছু অসাধু চক্রের তৎপরতার কারণে গ্রামের পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। এতে করে গ্রামের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকের প্রভাবের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ঝগড়া-বিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ পরিস্থিতিতে গ্রামের ছোট-বড় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। তাই কাবারিয়াবাড়ী গ্রামকে মাদকমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী এই কর্মসূচির সময় গ্রামবাসীরা লিফলেটের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন। লিফলেটে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় এবং মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার লাগিয়ে এলাকাবাসীকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গ্রামবাসীরা জানান, তারা শুধু সচেতনতা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। প্রয়োজনে গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও ভাবছেন তারা। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এদিকে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামটিকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করবে। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, সামাজিক সচেতনতা, জনগণের ঐক্য এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে খুব শিগগিরই কাবারিয়াবাড়ী গ্রাম থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে করে আবারও গ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
টাঙ্গাইলে দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগে বন্ড, টপটেন ও মেঘামার্ট নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বেশ কিছু নকল পারফিউম ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা সদর সড়কের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান দেশি তৈরি পণ্যকে বিদেশি পণ্য হিসেবে বিক্রি করছে এবং নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল পারফিউম ও কসমেটিকস প্রদর্শন ও বিক্রি করছে। এ সময় চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল পাঞ্জাবি, প্যান্ট ও অন্যান্য পোশাক বিক্রিরও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বন্ডকে ৫০ হাজার টাকা, টপটেনকে ৫০ হাজার টাকা এবং মেঘামার্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল। তিনি বলেন, “দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি, নকল পণ্য বাজারজাতকরণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু নকল পণ্য জব্দ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে নকল পণ্যের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।