ঢাকা, শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঈদুল ফিতরের নামাজের সঠিক নিয়ম ও ফজিলত

মোঃ আরিফুল ইসলাম

মোঃ আরিফুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৫, ০৮:৫৪ পিএম

ঈদুল ফিতরের নামাজের সঠিক নিয়ম ও ফজিলত
HTML tutorial

ভূমিকা: ঈদুল ফিতর ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব, যা মাহে রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে পালিত হয়। এই দিনটি মুসলমানদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং এ উপলক্ষে কিছু করণীয় রয়েছে যা কুরআন ও হাদিসের আলোকে প্রমাণিত।

১. ফিতরা প্রদান: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নবী (সা.) ঈদের নামাজের পূর্বে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে বলেছেন।" (বুখারি, হাদিস: ১৫০৩)

সদকাতুল ফিতর প্রদান করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। এটি ঈদের নামাজের পূর্বে প্রদান করতে হয়, যাতে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষরাও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে।

২. ফজরের নামাজ আদায় করা: ঈদের দিনের সূচনা করতে হবে ফজরের নামাজের মাধ্যমে। রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনোই ফজরের নামাজ বাদ দিতেন না, বরং তিনি নিয়মিতভাবে আদায় করতেন।

৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি ব্যবহার: হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন গোসল করতেন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩১৫)

সুতরাং, ঈদের সকালে গোসল করা, পরিপাটি পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত।

৪. খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া: রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন।

হাদিসে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন নামাজের জন্য বের হওয়ার আগে কয়েকটি খেজুর খেতেন।" (বুখারি, হাদিস: ৯৫৩)

এটি সুন্নত, যা পালন করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।

৫. বিভিন্ন পথে ঈদগাহে যাওয়া: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজের জন্য এক পথ দিয়ে যেতেন এবং অন্য পথ দিয়ে ফিরতেন। (বুখারি, হাদিস: ৯৮৬)

এর মাধ্যমে বেশি মানুষের সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং ইসলামী সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।

৬. তাকবির পাঠ করা: কুরআনে বলা হয়েছে: "তোমরা যেন আল্লাহকে বড় করে স্মরণ করো, তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন তার জন্য।" (সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)

তাই ঈদের সকালে তাকবির পাঠ করা সুন্নত: الله أكبر الله أكبر، لا إله إلا الله، والله أكبر الله أكبر، ولله الحمد

৭. ঈদের নামাজ আদায় করা: ঈদের নামাজ মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুআক্কাদা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমাদের ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া এবং ঈদের নামাজ আদায় করা আবশ্যক।" (মুসলিম, হাদিস: ৮৯২) HTML tutorial

ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম:

ঈদের নামাজ দুই রাকাত, যা ইমামের নেতৃত্বে জামাতে আদায় করা হয়। এর নিয়ম হলো:

নিয়ত করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত তুলে তাহরিমা বাঁধতে হবে। এরপর ছানা পড়েন মুসল্লিরা- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।

এরপর তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণ করে তাকবির বলতে হয়। প্রথম দুই বার কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু তৃতীয়বার বলে হাত বেঁধে নেন সবাই। প্রতিটি তাকবিরের পর তিনবার সুবহানাল্লাহ বলা যায় এমন সময় থেমে থাকতে হয়।

তারপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতেহার পর একটি সূরা যুক্ত করেন ইমাম। এরপর স্বাভাবিক নামাজের মতোই রুকু ও সিজদা করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াতে হয়। এবার বিসমিল্লাহ বলার পর সূরা ফাতেহা পড়ে আরেকটি সূরা মেলানো হবে। তারপর তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার মাধ্যমে তিনটি তাকবির সম্পন্ন করতে হয়। এ সময় প্রতিটি তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিতে হবে এবং চতুর্থবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত না বেঁধে রুকুতে চলে যাওয়া নিয়ম। এরপর সেজদা ও আখেরি বৈঠকের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ হয়।

ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ শেষে ইমাম মিম্বারে উঠে দুটি খুতবা দেন। ঈদের খুতবা শোনা ওয়াজিব। খুতবা শেষে সবাই মসজিদ থেকে বের হবেন।

উপসংহার: ঈদুল ফিতর কেবল আনন্দের দিনই নয়, বরং এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি সুবর্ণ সুযোগ। কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করলে ঈদের আনন্দ আরও বরকতময় হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঈদুল ফিতরের সুন্নত ও করণীয় আমলগুলো যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন। HTML tutorial

ঈদ মোবারক!

মু্ক্তধ্বনি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

Google News Icon গুগল নিউজে দেখুন
HTML tutorial