টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইল গ্রামের প্রবাসী আমিনুল সিদ্দিকীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গু লি করে হ- ত্যা করেছে দু/র্বৃ/ত্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমিনুল সিদ্দিকীর মৃত্যুর খবরে গোড়াইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনরা বিলাপ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর হামলা-নিপীড়নের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রবাসী কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পোস্টাল ভোট নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় পর্তুগাল বিএনপির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার স্থানীয় সময় লিসবনের একটি হল রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পর্তুগাল বিএনপির আহবায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন— “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনের প্রকৃত তাৎপর্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। আজ আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন।” তিনি পর্তুগাল বিএনপির সফল আয়োজনের প্রশংসা করে আরও জানান, দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অসাংগঠনিক কার্যক্রম করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে আহবায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার বলেন— “পর্তুগালে বসবাসরত যোগ্য ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে। পদ-পদবীর লোভে যারা অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট দেওয়ার সকল নিয়ম-কানুন বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন— “দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নিয়মে পোস্টাল ভোট দিলে দেশ ও গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।” তিনি ৫ আগস্ট বেগম জিয়ার সাথে ফিরোজায় সাক্ষাতের সময় পর্তুগাল বিএনপি ও প্রবাসীদের বিষয়ে যেসব আলোচনা হয়েছিল—সেগুলোর কথাও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— যুগ্ম আহবায়ক শামসুজ্জামান জামান, মিজানুর রহমান শাহ জামাল, এম কে নাসির, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ ফাহিম, পর্তুগাল বিএনপির সদস্য বদরুল আলম, শাহাব উদ্দীন, রুবেল চৌধুরী, জুবেল আহমদ, জায়েদ আহমদ, বেজা বিএনপির সভাপতি মইনুল ইসলাম, সান্তারাইম বিএনপির আহবায়ক সোহেল চৌধুরী, আলগ্রাভ বিএনপি নেতা এম তাহের, সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আজীম চৌধুরী গিলমান, বিএনপি নেতা আলী আকবর জুয়েল, কাজী জুয়েল, শাহান উমর, সোহেল মিয়া, জাসাস সদস্য সচিব কাজী মইনুর, যুবদল নেতা মাজেদ আহমদ সামী, এস এম কাওসার আলম, মর্তুজ আলী, যুবনেতা আব্দুল ওয়াদুদ মোহন প্রমুখ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— আব্দুল আজিজ, মহদ আজাদ, মন্জুর এলাহী, মাহাদী মুন্না, আব্দুল ওয়াদুদ অনিক, দেলোয়ার খান, আরাফাত, আদনান ওলি, নাইম, তারেক, শুভ, ইকবাল, রাফিউজ্জামান খান, সায়েম তালুকদার, মসতফা কামাল, আলমগির হোসেন, মোহাম্মদ সৈইকত, আহমদ লিমন, রিয়াদ আহমদ, রাশেদ মাহমুদ, আবু নাইম, পাপ্পু হাসান, রাহিদ মিয়া, এস কে মুহিব, সামাদ রাজিবসহ আরও অনেকে। এছাড়া ভেজা বিএনপি থেকে উপস্থিত ছিলেন—আবু বকর, শফিক মিয়া, জদর আলী, আতিকুর রহমান, মাহবুব আলম, আলাল আহমদ, জামিল আহমেদ, শাওন মিয়া, শামসুল হক। আল্গ্রাভ বিএনপি থেকে উপস্থিত ছিলেন—আবু সাইদ, মো. নুরুজ্জামান, মো. তাহির হোসেন, মো. দেলওয়ার হোসাইন, মো. ইমরান প্রমুখ। আলোচনা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ সম্পন্নতা এবং দেশের সার্বিক শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন লিসবন বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মাওলানা কায়েস আহমেদ আব্দুল্লাহ।
পর্তুগাল বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ও পোস্টাল ভোটিং সম্পর্কে পর্তুগাল প্রবাসীদের মধ্যে জনসচেতনা বৃদ্ধি করতে আলোচনা সভা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। ৩০ শে নভেম্বর পর্তুগালের টেস্টি অব লিসবনে পর্তুগাল সময় রাত ৮:৩০ ঘটিকায় এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জনাব, আনোয়ার হোসেন খোকন। সভাপতিত্ব করবেন পর্তুগাল বিএনপির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার ও সঞ্চালনায় থাকবেন পর্তুগাল বিএনপির সদস্য সচিব ছায়েফ আহেমদ সুইট সহ পর্তুগাল বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল নিয়ে পর্তুগাল বিএনপির আহব্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার ও সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট জানান, "আজকের এই আলোচনা সভায় প্রবাসীদের মধ্যে পোস্টাল ভোটিং সম্পর্কে জনসচেতনা কে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ নেত্রীর দ্রুত রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে এবং তারা পর্তুগাল বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানান"।
মালদ্বীপের হুলহুমালে’ সমুদ্রবন্দর থেকে চোরাচালানকৃত সিগারেটের দুটি কন্টেইনার চুরির ঘটনায় একজন বাংলাদেশি নাগরিক মো: আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আজ ১৬ নভেম্বর, রবিবার এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মোট সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। পুলিশ জানায়, চুরি হওয়া সিগারেটের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ পিস, যার বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। ঘটনাটিকে বড় ধরনের সংগঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি মো: আল আমিনকে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পুলিশ আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং পুরো চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে
হিজরি তারিখ লোড হচ্ছে...
তারিখ লোড হচ্ছে...
ঢাকা, বাংলাদেশ
সময় লোড হচ্ছে...
বর্তমান সময়
| নামাজ | সময় | অবস্থা |
|---|
বর্তমান নামাজ: লোড হচ্ছে...
বিভাগ, জেলা বা উপজেলা নির্বাচন করে সংবাদ দেখুন
গাজার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন তর্ক তুঙ্গে, তখন খুব বেশি শব্দ না করেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে হামাস। যুদ্ধবিরতির পরদিই দেখা যায়—ইসরাইল সেনারা যে অঞ্চলগুলো ছাড়ছে, সেসব জায়গায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে টহল দিচ্ছে হামাসের সদস্যরা। গাজার অভ্যন্তরে প্রশাসনিক কাজও এখন তাদের হাতেই। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কর আদায়, শুল্ক নির্ধারণ—সবই চলছে হামাসের নির্দেশনায়। স্থানীয়দের দাবি, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মূল্যবৃদ্ধির জন্য তারা নয়; বরং সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরাই দায়ী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। তাদের মতে, পণ্যের উপর কর বসিয়ে এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে হামাস, আর তাই তারা কোনোভাবেই চাইছে না দলটি আবারো সরকার পরিচালনা করুক। অন্যদিকে গাজা থেকে হামাসকে সরানো বা নিরস্ত্র করার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এক অবস্থানে থাকলেও এর বিরোধিতা করছে রাশিয়া, চায়না এবং কয়েকটি আরব রাষ্ট্র। পশ্চিমাদের পছন্দ মাহমুদ আব্বাসের প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক কোনো অন্তর্বর্তী সরকার—যেমন টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে। কিন্তু এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক শক্তি মানতে নারাজ। মাঠের বাস্তবতা বলছে—ইসরাইল দুই বছর ধরে গাজার ৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। যুদ্ধবিরতির পর তাদের অবস্থান সরে এলেও এখনো প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা তাদের দখলে। বাকি ৪৭ শতাংশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২০ লাখ মানুষ, যাদের জীবনযাত্রা পরিচালিত হচ্ছে হামাসের কাঠামোর ভেতরেই। ২০০৭ সালে ফাতাহ ও মাহমুদ আব্বাসের প্রশাসন থেকে গাজার ক্ষমতা নেয় হামাস। তারপর থেকে অঞ্চলটির প্রশাসন, নিরাপত্তা এবং বাজারব্যবস্থার সব ক্ষেত্রই ধীরে ধীরে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও দলটির কাঠামো এখনো সক্রিয়। নিহত চার গভর্নরের জায়গায় নতুন চারজনকে নিয়োগ দিয়েছে তারা, আর সরকারি কর্মচারীরাও প্রতি মাসে বেতন পেয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন—হামাস স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গাজাকে ঘিরে যে কোনো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ তাদের বাইরে রেখে তৈরি করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন যত বাড়ছে, তাদের অবস্থান ততই আরও দৃঢ় হয়ে উঠছে।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। দুই পক্ষের দেওয়া ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের কারণে সঠিক হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি, তবে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানায়, বুধবার ভোরে বেলুচিস্তান সীমান্তে তালেবান বাহিনী পাকিস্তানি অবস্থানের ওপর বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। সংঘর্ষটি স্পিন বোলদাকের নিকটবর্তী সীমান্ত অঞ্চলে শুরু হয়। পাক নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক ঘণ্টার তীব্র লড়াইয়ের পর হামলাটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবান যোদ্ধারা চারদিক থেকে একযোগে হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরক্ষা ভাঙার উদ্দেশ্যে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা জবাবে ১৫ থেকে ২০ জন তালেবান নিহত হয় এবং কয়েকজন আহত অবস্থায় আফগানিস্তান সীমান্তের ভেতরে পালিয়ে যায়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনাপূর্ণ”। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং মাঝে মাঝে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাবর্ষণের পর তালেবান যোদ্ধারা পাল্টা হামলায় “পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়”। তিনি বলেন, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে এবং কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। মুজাহিদ আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ১২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। তবে তার এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইসলামাবাদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনার সর্বশেষ উদাহরণ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, নতুন এই সংঘর্ষ দুই প্রতিবেশীর ইতোমধ্যেই নাজুক কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তারা বলেন, সীমান্তে সহিংসতা চলতে থাকলে বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা এবং সীমান্ত পারাপারে নির্ভরশীল বেসামরিক জনগণের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা ইসলামাবাদ ও কাবুল উভয় পক্ষকেই আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা যোগাযোগ চ্যানেল পুনরায় চালু করে এবং যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। নতুবা সীমান্ত অঞ্চলের এই অস্থিতিশীলতা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গাজা সিটিতে হামাস নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র দঘমুশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বৃহৎ সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পর এটি গাজার সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চোখো দেখা সাক্ষীরা জানান, গাজা সিটির জর্ডানিয়ান হাসপাতালের কাছে মুখোশধারী হামাস যোদ্ধারা দঘমুশ গোত্রের যোদ্ধাদের সঙ্গে গুলি বিনিময় করেন। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সশস্ত্র সদস্যদের আটক করতে তীব্র লড়াই শুরু করে। মন্ত্রণালয় জানায়, “একটি সশস্ত্র মিলিশিয়ার হামলায়” তাদের আট সদস্য নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে দঘমুশ পরিবারের ১৯ সদস্য ও হামাসের আট যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। চোখো দেখা সাক্ষীরা বলেন, দক্ষিণ গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন ৩০০-র বেশি হামাস যোদ্ধা একটি আবাসিক ভবন ঘিরে ফেলে, যেখানে দঘমুশ পরিবারের সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভারী গুলিবর্ষণের মধ্যে বহু পরিবার ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় — যাদের অনেকেই যুদ্ধ চলাকালীন একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। একজন বাসিন্দা বলেন, “এইবার মানুষ ইসরায়েলি হামলা থেকে নয়, নিজেদের লোকের কাছ থেকে পালাচ্ছিল।” দঘমুশ পরিবার গাজার অন্যতম প্রভাবশালী গোত্র, যাদের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। এর আগেও তাদের মধ্যে একাধিকবার সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করার চেষ্টা করছে এবং সতর্ক করেছে যে “প্রতিরোধের কাঠামোর বাইরে কোনো সশস্ত্র কর্মকাণ্ড” কঠোরভাবে দমন করা হবে। উভয় পক্ষ একে অপরকে সংঘর্ষ শুরু করার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। হামাসের দাবি, দঘমুশ পরিবারের বন্দুকধারীরা তাদের দুই সদস্যকে হত্যা ও পাঁচজনকে আহত করার পর তারা অভিযান চালাতে বাধ্য হয়। তবে দঘমুশ পরিবারের এক সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, হামাস বাহিনী গাজা সিটির প্রাক্তন জর্ডানিয়ান হাসপাতাল ভবনে আসে, যেখানে দঘমুশ পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল— কারণ তাদের আল-সাবরা এলাকার বাড়িগুলো সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই সূত্রের দাবি, হামাস ওই ভবনটি নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য পরিবারটিকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ার পর হামাস প্রায় ৭,০০০ নিরাপত্তা সদস্যকে আবার মোতায়েন করেছে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। খবরে আরও জানা গেছে, হামাসের সশস্ত্র ইউনিটগুলো ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় মোতায়েন হয়েছে— কেউ বেসামরিক পোশাকে, আবার কেউ গাজা পুলিশের নীল ইউনিফর্মে। তবে হামাসের গণমাধ্যম দপ্তর দাবি করেছে, “রাস্তায় কোনো যোদ্ধা মোতায়েন করা হয়নি।”
দেশের কওমি ও আলিয়া মাদরাসা সংশ্লিষ্ট মেধাবী আলেমদের উচ্চশিক্ষায় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে, যার আওতায় নির্বাচিত আলেমরা বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাবেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা (বক্তব্যের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আলেমদের জ্ঞানগত মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতার বিকাশে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। বক্তব্যে জানানো হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কলারশিপের আওতায় আলেম ও ইমামরা মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরবের উম্মুল কুরা ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ এবং তুরস্কের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে ইসলামিক স্টাডিজ, কোরআনিক সায়েন্স, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (ইন্টার-রিলিজিয়ন স্টাডিজ) এবং ইসলামিক ফিকহ-এর মতো বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য তাদের বিদেশে পাঠানো হবে। এই স্কলারশিপের জন্য একাডেমিক এক্সিলেন্স বা মেধার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। যাদের শিক্ষাজীবনে চারটি প্রথম শ্রেণি বা সমমানের ফলাফল রয়েছে, তারা অগ্রাধিকার পাবেন। উপদেষ্টা বলেন, "প্রয়োজনে একজন ছাত্রের পেছনে এক কোটি টাকা খরচ করতে হলেও আমরা সেই বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। আমরা চাই আমাদের আলেমরা বিশ্বমানের ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখুক।" স্কলারশিপের পাশাপাশি কওমি ধারার আলেমদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা জানান উপদেষ্টা। তিনি জানান: মাস্টার্স সমমান: শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে কওমি সনদকে (আল হাইয়াতুল উলইয়া) মাস্টার্সের সমমান দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগ: সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব ও পুলিশে রিলেজিয়াস ইন্সপেক্টর ও ইমাম পদে কওমি আলেমদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মডেল মসজিদ ও দারুল আরকাম: মডেল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন বৃদ্ধি এবং দারুল আরকাম প্রকল্পের স্থায়ীকরণের জন্য কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, শিক্ষক বা কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষার মতো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া (লিখিত ও ভাইভা) অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা তদবিরের সুযোগ রাখা হয়নি। উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, "আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নিতে চাই। তবে যতক্ষণ দায়িত্বে আছি, আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাব।"
ঢাকা, বাংলাদেশ – ফেডারেশন অফ খতমে নবুয়ত কাউন্সিলের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসা মাওলানা ফজলুর রহমান সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী গ্রাউন্ডে এক জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও খতমে নবুয়তের অটল বিশ্বাসের উপর গুরুত্বারোপ করেন। মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে কোনো নবী আসতে পারবেন না। যারা নবুতার দাবি করবে, তারা ইসলামের সীমার বাইরে বিবেচিত হবেন।” তিনি বাংলাদেশের মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সভায় অংশগ্রহণ করে তারা একতা ও ঐক্য দেখিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “খতমে নবুয়ত আন্দোলনের লক্ষ্য হলো সহিংসতা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও নেতৃত্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।” ফজলুর রহমান পাকিস্তান থেকে আগত বিশিষ্ট উলামাদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভাইত্ব ও সুসম্পর্ককে শক্তিশালী করার বার্তা দেন। সভায় মাওলানা ফজলুর রহমান এবং অন্যান্য উলামারা দুই দেশের মুসলমানদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মুসলমানরা এক উম্মাহ, এক জামাত। আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী হবে।” সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা: মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখার উপর গুরুত্ব। খতমে নবুয়তের অটল বিশ্বাস ও তার সুরক্ষা। দুই দেশের মুসলমানদের মধ্যে ভাইত্ব ও সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নতুন ইসলামপন্থী জোট গঠনের পথে কওমি ঘরানার অন্তত পাঁচটি দল। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে তফসিল ঘোষণার পরপরই। ইতিমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। সূত্র জানায়, শরিকদের কাছে শতাধিক আসন ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, আকিদাগত দ্বন্দ্ব ভুলে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের অভিপ্রায় থেকেই তারা আসন সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রায় ১০০ আসন, মামুনুল হক নেতৃত্বাধীন দল ৫০ আসন এবং বাকি তিনটি ইসলামপন্থী দল ৭০ থেকে ৮০ আসনের দাবি জানিয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্র বলছে, যেখানে ইসলামপন্থী প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে একক প্রার্থী দেয়া হবে। এদিকে, বিএনপি এই জোট নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। দলটির নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, “অনেক জিরো প্লাস জিরো প্লাস জিরো ইজ জিরো। ইসলামের জিকির তুলে নির্বাচনের আগে রাজনীতি করা দেশের জন্য সঠিক আচরণ নয়।” অন্যদিকে, বিএনপিও ইসলামপন্থী কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। জানা গেছে, কওমি ঘটনার পুরনো দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামীর চার নেতাকে নির্বাচনী কাজে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামপন্থী দলগুলোর এই নতুন সমঝোতা নির্বাচনে ভোটের মাঠে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করবে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, জোট ক্ষমতায় গেলে কে নেতৃত্ব দেবেন বা কে হবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা।
বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)এর সাবেক মহাপরিচালক, খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস মাওলানা জোবায়ের আহমদ চৌধুরী ইন্তিকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন) আজ ১৫ রমজান (৭ এপ্রিল) শুক্রবার ইফতারের আগ মুহূর্তে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
মোস্তফা মাসুদ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি,২০২৬) কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলী সোহাল হোসেন জুয়েলের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা আখতার।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন অফিসার মাসুদুর রহমান। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা–০৩ (কালিগঞ্জ– আশাশুনি) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পদপ্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং মাইনোরিটি দলের প্রার্থী রুবেল হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রাজীব,কালিগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক নাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাইনুল ইসলাম খান এবং কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু,উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুল ওহাব ও সেক্রেটারি মোঃ আব্দুর রউফ। ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুর রহমান। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. হাফিজুর রহমান শিমুল উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মারুফ হাসান প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা, অনিয়ম কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন বক্তারা। সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি সকল পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য,উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মোস্তফা মাসুদ: সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ‘মহান বিজয় গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড -২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় চেয়ারম্যানের নিকট আনুষ্ঠানিক ভাবে এ সম্মাননা ও সনদপত্র হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয় ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যানের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে চেয়ারম্যান মো.জাহাঙ্গীর আলমের ধারাবাহিক ও আন্তরিক অবদান প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে এ সম্মাননা আমি বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করছি।উল্লেখ্য,বিজয় ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, মানবিক কার্যক্রম ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করে আসছে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও একাধিকবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক উজায়মারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে সরজমিনে ও মামলা সূত্রে জানা যায়" সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত (নং–০২)-এ কালিগঞ্জ উপজেলার গনপতি গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলাম-এর কন্যা মোছাঃ সিনা আক্তার (৩১) বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় স্বামী মোঃ মনিরুল আলম (৪০), তার ভাই খায়রুল ইসলাম (৪৫) ও ভাবি সপ্না খাতুন (৩৫)-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়,২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে সিনা আক্তারের সঙ্গে মনিরুল আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অভিযুক্ত পক্ষ জোরপূর্বক নগদ টাকা, আসবাবপত্র,সেলাই মেশিন ,ধান ঝাড়ার মেশিন, একটি গরু ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক আদায় করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,স্বামী মনিরুল আলম তার ভাই ও ভাবির প্ররোচনায় আরও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে বাদীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। মামলার বর্ণনায় বলা হয়, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল দুপুরে মনিরুল আলমের বসতবাড়িতে ৩ লাখ টাকা যৌতুক আনতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীকে কাঠ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।পরবর্তীতে বাদীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়,গত( ৮ নভেম্বর) বাদীর পিত্রালয়ে মীমাংসার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক চলাকালে অভিযুক্তরা যৌতুক দাবি প্রত্যাহার না করে বরং পুনরায় মারধর ও হত্যার চেষ্টা চালায়। বাদীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বাদীর অভিযোগ, একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।মামলাটি ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত–২০০৩) এর ১১(খ), ১১(গ) ও ৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রেখেছেন বলে জানা গেছে।ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মোস্তফা মাসুদ: কালিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পাকা ধান কেটে নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী চন্ডিচরণ মন্ডল। তিনি উপজেলার মাদকাটী গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে। লিখিত বক্তব্যে চন্ডিচরণ মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, তিনি একজন নিরীহ হিন্দু সংখ্যালঘু ব্যক্তি। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তরিকুল ইসলাম (৪৫), মহব্বত গাজী (৪২) ও হান্নান গাজী (৫৫) সহ কয়েকজনের সঙ্গে তার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তিনি আরো জানান, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অভিযুক্তরা গুন্ডা বাহিনী নিয়ে তার ভোগদখলীয় ও রেকর্ডীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জমির পাঁকা ধান কাটতে শুরু করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কালিগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধান কাটা বন্ধ করে এবং কর্তনকৃত ধান জব্দ করে। উভয় পক্ষকে কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা থানায় উপস্থিত হয়নি।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্তরা লোহার রড, শাবল, কাঁচি, কোদাল, দড়ি, বাঁশের লাঠি ও বড় টর্চলাইটসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় তার জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক পাঁকা ধান কেটে নিয়ে যায়। বাঁধা দিতে গেলে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রাণভয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। চন্ডিচরণ মন্ডল আরও দাবি করেন, এর আগেও তার রেকর্ডীয় জমির প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ বিঘার মধ্যে ৮ বিঘা এবং ১৭ বিঘার মধ্যে ৭ বিঘা জমির ধানও একইভাবে অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লুট করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান, জোরপূর্বক কাটা ধানের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি টেলিভিশন চ্যানেল, পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, অভিযোগকৃত জমি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মাদকাটী মৌজার অন্তর্ভুক্ত, যার মোট পরিমাণ ১.১৫ একর বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপদ মন্ডল, কনক চন্দ্র মন্ডল. বিমল মন্ডল. অলকেশ মন্ডল. নিরঞ্জন মন্ডল প্রমুখ।
নবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হেরোইন ও ইয়াবাসহ একাধিক মামলার পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। এ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে যা এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার আলম আজাদ-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস ও প্রশিক্ষিত দল এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মোঃ বিল্পব হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় গ্রেপ্তারের সময় আসামির হেফাজত থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ০৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৩২ হাজার টাকা এবং উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায় গ্রেপ্তারকৃত মোঃ বিল্পব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে সে পলাতক অবস্থায় মাদক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানান মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঢাকা জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
টাঙ্গাইলে অপরাধ দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান মাদক উদ্ধারসহ ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৭ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় মাদক ব্যবসা পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সরাসরি নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের নেতৃত্বে একযোগে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন এ অভিযানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট টহল ও বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়।অভিযানের অংশ হিসেবে প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে জেলা পুলিশ। এ সময় ১২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকসহ ৪ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে জেলা পুলিশ। মাদক সমাজ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এদিকে জেলা পুলিশের এ ধরনের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানান নিয়মিত অভিযান ও টহল বাড়লে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে এবং জননিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও মাদক নির্মূলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় ।
মির্জাপুরে ৭০ কার্টুন অবৈধ সিগারেট ও কাভার্ড ভ্যানসহ একজন গ্রেফতার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (৩১)। সোমবার (রাত) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দেওহাটা পুলিশ চেকপোস্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার রফিকুল ইসলাম পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার মসজিদপাড়া এলাকার শামসুল হকের ছেলে। মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দেওহাটা পুলিশ চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক রাসেল আহমেদ এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ রাহাদুজ্জামান আকন্দ ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করেন।তল্লাশিকালে ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৮১২৯ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানটির ভেতর থেকে ৭০ কার্টুন ‘মেসি’ ব্র্যান্ডের সিগারেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত সিগারেটের কার্টুনগুলোতে মোট প্রায় ৫০ হাজার প্যাকেট সিগারেট রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকৃত সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪২ লাখ টাকা।এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানসহ সিগারেট জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে অবৈধ পণ্য পরিবহন ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে
রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেফতার রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদককারবারি গ্রেফতার হয়েছে। এ সময় তার এক সহযোগী পালিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।রাজশাহী জেলা পুলিশ মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী জেলার চারঘাট থানাধীন বালাদিয়াড় গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোঃ আঃ রহমান (৫২)। তিনি বালাদিয়াড় গ্রামের মৃত আজের মোল্লার ছেলে।ডিবি পুলিশ জানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী জেলার ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মাহাবুব আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ওই দিন রাত ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে চারঘাট থানাধীন ভাটপাড়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় তারা জানতে পারেন বালাদিয়াড় গ্রামে মোঃ আঃ রহমানের বসতবাড়ির মেইন গেইটের সামনে দুইজন মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।এ তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন মাদককারবারি পালানোর চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে মোঃ আঃ রহমানকে আটক করা হয়। পরে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার পরিহিত লুঙ্গির ডান কোচর থেকে একটি নীল রঙের এয়ারটাইট পলিব্যাগে রাখা ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায় অভিযানের সময় মোঃ নাজমুল ইসলাম বাবু নামের অপর এক মাদককারবারি কৌশলে পালিয়ে যায়। পলাতক ওই আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।রাজশাহী জেলা পুলিশ জানিয়েছে মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তারিখ ২২/১২/২০২৫ইং রবিবার দিবাগত রাত ২ট১০মিনিটের সময় পাইকড়া দক্ষিন পাড়া চকের বাড়ি। কালিহাতী উপজেলা টাঙ্গাইল জেলার। মৃত্যু আঃ মোতালেব মিয়া মাষ্টার সাহেবর স্ত্রী বাধক্য জনিত কারনে এই দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। তাহার মৃত্যু কালে বয়স ছিল ৮৩বসর৫মাস৮দিন। তাহার ৯ছেলে ও ১মেয়েছিল। মৃত্যু কালে ৭ছেলেও১মেয়েরেখে গেছেন। তাহার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং সকলের কাছে নিজগোনে খমা চেয়েছেন ছেলে। আজ সোমবার দুপুরে যোহরের নামাজ আদায় পড়ে জানাজা উনোঠিত হবে পাইকড়া ঈদগাহ মাঠে সকলে জানাজায় নামাজে সরিক হয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করোন।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
কুরআন হলো ইসলামের প্রধান ধর্মগ্রন্থ, যা বিশ্বমানবতার জন্য সর্বশেষ ও চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী, যা জিবরাইল (আ.) ফেরেশতার মাধ্যমে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। কুরআন শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ নয়; এটি মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে আলোর দিশারী। কুরআনের সংজ্ঞা ও পরিচিতি কুরআন শব্দটি আরবি "قرأ" (ক্বারা'আ) মূল ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "পড়া" বা "তিলাওয়াত করা"। এটি ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ, যা ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে। এতে রয়েছে ১১৪টি সূরা, ৬২৩৬টি আয়াত এবং অসংখ্য বিধিবিধান, নীতি ও দিকনির্দেশনা যা মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। কুরআন অবতীর্ণের প্রক্রিয়া কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে: ১. লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ কুরআন অবতীর্ণের পূর্বেই আল্লাহ তাআলা এটি লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ করেছিলেন। এটি এমন এক মহাগ্রন্থ, যা আল্লাহর জ্ঞানের অংশ এবং যা পূর্বনির্ধারিত ছিল। ২. বাইতুল ইজ্জতে স্থানান্তর পরবর্তী ধাপে কুরআনকে সম্পূর্ণরূপে প্রথম আসমানে অবস্থিত "বাইতুল ইজ্জত" নামক স্থানে প্রেরণ করা হয়। এটি ছিল লাইলাতুল কদরের রাতে একবারে অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি।" (সূরা আল-কদর: ১) ৩. ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে অবতরণ বাইতুল ইজ্জত থেকে কুরআনের আয়াতসমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়। কুরআন প্রথমে মক্কায় ১৩ বছর এবং পরে মদিনায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়, পরিস্থিতি ও ঘটনার আলোকে নাজিল হয়। প্রথম ও শেষ অবতীর্ণ আয়াত কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াত ছিল: "পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আল-আলাক: ১) এবং সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত ছিল: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, আমার নেয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণযোগ্য করলাম।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩) কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্য কুরআন কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক। এর প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হলো: তাওহিদের প্রচার: আল্লাহর একত্ববাদকে প্রতিষ্ঠা করা। সঠিক পথের দিশা: মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ: উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেওয়া। আইন ও বিধিবিধান: সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন। কিয়ামতের প্রতি সতর্কতা: আখিরাত ও পরকাল সম্পর্কে দিকনির্দেশনা। উপসংহার কুরআন মানবজাতির জন্য এক পরিপূর্ণ জীবনবিধান। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। কুরআনের শিক্ষাকে সঠিকভাবে অনুধাবন ও পালন করা আমাদের কর্তব্য। যদি আমরা কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করি, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে পারব।
কুরআন হলো ইসলামের প্রধান গ্রন্থ, যা মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য সর্বোত্তম দিকনির্দেশনা প্রদান করে। তবে কুরআনের অনেক আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা বুঝতে তাফসির (ব্যাখ্যা) প্রয়োজন হয়। কুরআনের তাফসির কেবল ভাষাগত ব্যাখ্যা নয়, বরং এটি কুরআনের গভীর অর্থ ও প্রসঙ্গ বুঝতে সাহায্য করে। এই নিবন্ধে কুরআন ও হাদিসের আলোকে কুরআনের তাফসির কীভাবে করা হয় তা বিশদভাবে আলোচনা করা হবে। তাফসিরের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব ‘তাফসির’ শব্দটি আরবি فَسَّرَ (ফাস্সারা) ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো "ব্যাখ্যা করা", "উন্মোচন করা"। ইলমুত-তাফসির (তাফসিরবিদ্যা) হলো কুরআনের অর্থ, ভাষা, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করার বিজ্ঞান। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এটি এক মহা বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।" (সূরা ছাদ: ২৯) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কুরআনের অর্থ বোঝার জন্য গবেষণা ও চিন্তাভাবনা করা জরুরি, আর এটি সম্ভব তাফসিরের মাধ্যমে। কুরআনের তাফসির করার পদ্ধতি কুরআনের তাফসির করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে। এগুলো মূলত চারটি প্রধান উৎসের ভিত্তিতে করা হয়: ১. কুরআনের তাফসির কুরআন দ্বারা কুরআনের অনেক আয়াত অন্য আয়াতের ব্যাখ্যা করে। যখন কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হয়, তখন অন্য আয়াত দ্বারা তার অর্থ বোঝা যায়। উদাহরণস্বরূপ: সূরা ফাতিহার "সিরাতুল মুস্তাকিম" (সঠিক পথ) বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় সূরা আন-নিসার ৬৯ নম্বর আয়াতে, যেখানে বলা হয়েছে যে এটি নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের পথ। ২. কুরআনের তাফসির হাদিস দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন কুরআনের সর্বোত্তম ব্যাখ্যাকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কুরআন বোঝার ও বোঝানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন: "আমি তোমার প্রতি স্মরণিকা (কুরআন) নাজিল করেছি, যাতে তুমি মানুষকে ব্যাখ্যা করে দাও যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে।" (সূরা নাহল: ৪৪) উদাহরণ: সূরা বাকারা ২:২৮৫-তে ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে পাই, বিশেষ করে জিবরাইল (আ.)-এর হাদিসে। ৩. সাহাবিদের ব্যাখ্যা সাহাবিরা (রা.) সরাসরি নবী (সা.)-এর কাছ থেকে কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁরা কুরআনের সঠিক অর্থ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখতেন। তাই তাঁদের ব্যাখ্যা তাফসিরের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। উদাহরণ: ইবনে আব্বাস (রা.)-কে তাফসিরবিদদের নেতা বলা হয়। তিনি নবী (সা.)-এর কাছ থেকে সরাসরি তাফসির শিখেছেন। তাঁর ব্যাখ্যা বহু প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। ৪. তাবেয়ি ও সালাফদের ব্যাখ্যা তাবেয়িগণ সাহাবিদের থেকে কুরআনের ব্যাখ্যা শিখেছেন। তাদের ব্যাখ্যাগুলোও নির্ভরযোগ্য এবং তাফসিরে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: ইমাম মুজাহিদ, কাতাদা, হাসান বসরি প্রমুখ তাবেয়িরা কুরআনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ৫. ভাষা ও ব্যাকরণ অনুসারে তাফসির কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, তাই তাফসির করতে হলে আরবি ব্যাকরণ, শব্দতত্ত্ব, অলঙ্কার ও সাহিত্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাফসিরের ধরণ তাফসির সাধারণত দুইভাবে করা হয়: ১. তাফসির বিল মাসুর (প্রমাণিত সূত্রভিত্তিক তাফসির) এটি কুরআন, হাদিস, সাহাবি ও তাবেয়িদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে করা হয়। প্রসিদ্ধ তাফসির: তাফসির ইবনে কাসির তাফসির আত-তাবারি তাফসির আস-সা’দি ২. তাফসির বিল রাই (যুক্তি ও বিশ্লেষণভিত্তিক তাফসির) এটি ভাষা, ব্যাকরণ ও ব্যক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা হয়, তবে এটি নির্ভরযোগ্য হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। প্রসিদ্ধ তাফসির: তাফসির আল-জালালাইন তাফসির আল-কুরতুবি ভুল তাফসির থেকে বাঁচার উপায় কিছু মানুষ কুরআনের আয়াতকে ভুল ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই সঠিক তাফসিরের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত: ১. তাফসির কুরআন, হাদিস ও সাহাবিদের বক্তব্য অনুযায়ী হতে হবে। ২. ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ইসলামি স্কলারদের মতামত অনুসরণ করতে হবে। ৩. শুধু ভাষাগত অনুবাদ নয়, বরং আয়াতের শানে নুযুল (অবতরণের প্রেক্ষাপট) জানা জরুরি। ৪. বিদআত ও মনগড়া ব্যাখ্যা পরিহার করতে হবে। উপসংহার কুরআনের তাফসির একটি গভীর জ্ঞানসম্পন্ন শাস্ত্র, যা সঠিক পদ্ধতিতে করতে হয়। কুরআন, হাদিস, সাহাবি ও তাবেয়িদের বক্তব্যের আলোকে তাফসির করলে তা নির্ভরযোগ্য হয়। আজকের যুগে সঠিক ইসলামি স্কলারদের রচিত তাফসির অধ্যয়ন করে কুরআনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ আমাদের কুরআন বোঝার ও তা অনুসারে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন, আমিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে সাতজনই কোটিপতি। অপর একটি আসনের প্রার্থী নিজে কোটিপতি না হলেও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় বেশি। এছাড়া টাঙ্গাইলে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া দুই ভাইস চেয়ারম্যানসহ তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার ক্ষেত্রে দেখা গেছে—স্ত্রীদের আয় ও সম্পদ স্বামীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন— টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর): কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসির। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর): কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার): কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল লাভলু। টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর): কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল): বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (টাঙ্গাইল-১) সম্পদ: ৩ কোটি ৯২ লাখ ৬৫ হাজার ৩৪২ টাকা বাৎসরিক আয়: ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫০ টাকা তাঁর স্ত্রী রেশমা আনামের— সম্পদ: ২ কোটি ৫৮ লাখ ৮ হাজার ১৮৬ টাকা বাৎসরিক আয়: ১৩ লাখ ১১ হাজার ২৫০ টাকা। আবদুস সালাম পিন্টু (টাঙ্গাইল-২) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টুর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার ৬২৬ টাকা। তাঁর বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৭৫৫ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিলকিস বেগমের— সম্পদ: ২ কোটি ৭ লাখ ১ হাজার ৮৬০ টাকা বাৎসরিক আয়: ১৪ লাখ ২৯ হাজার ২৩ টাকা। এস এম ওবায়দুল হক নাসির (টাঙ্গাইল-৩) সম্পদ: ১ কোটি ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৯ টাকা বাৎসরিক আয়: ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২০৭ টাকা তাঁর স্ত্রী রিনাত ফৌজিয়ার— সম্পদ: ১ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার ২০৭ টাকা বাৎসরিক আয়: ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৭ টাকা। লুৎফর রহমান মতিন (টাঙ্গাইল-৪) সম্পদ: ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪২২ টাকা বাৎসরিক আয়: ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ টাকা তবে হলফনামা অনুযায়ী তাঁর নামে ২২ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা ও স্থায়ী আমানতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তাঁর নগদ ও ব্যাংক আমানতের পরিমাণ ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮১ টাকা।বাৎসরিক আয়: ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৭ টাকা ঘোষিত মোট সম্পদ: ২ কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৬ টাকা অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী সায়মা পারভীন সিম্মির— বাৎসরিক আয়: ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৮ টাকা মোট সম্পদ: ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৩২৫ টাকা। এছাড়া মামলার সংখ্যার দিক থেকেও তিনি শীর্ষে রয়েছেন। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ২৩৮টি মামলা থাকলেও সবগুলো থেকেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। রবিউল আওয়াল লাভলু (টাঙ্গাইল-৬) বাৎসরিক আয়: ৪ লাখ ৬০ হাজার ৪২২ টাকা সম্পদ: ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৮২ টাকা অন্যদিকে তাঁর শিক্ষক স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের— বাৎসরিক আয়: ২৪ লাখ ৫০ হাজার ২৪৪ টাকা সম্পদ: ২ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৫৬৫ টাকা। আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৭) বাৎসরিক আয়: ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭১২ টাকা সম্পদ: ৫৮ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৭ টাকা তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আজাদের— বাৎসরিক আয়: ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৯ টাকা সম্পদ: ২ কোটি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪২ টাকা। আহমেদ আযম খান (টাঙ্গাইল-৮) সম্পদ: ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬১ হাজার ১৩৯ টাকা বাৎসরিক আয়: ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ টাকা তাঁর স্ত্রী নার্গিস সিদ্দিকার— পেশা: কর্পোরেট চেম্বার প্র্যাকটিস সম্পদ: ২ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৬২ টাকা বাৎসরিক আয়: ২৩ লাখ ৫ হাজার ২৭৬ টাকা। হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের অধিকাংশই বিপুল সম্পদের মালিক। পাশাপাশি একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্ত্রীদের আয় ও সম্পদ স্বামীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি—যা এবারের নির্বাচনে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা দিয়েছিল বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। তবে নির্বাচন থেকে দূরে না থেকে সারা দেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে দলীয়ভাবে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর শহরে নিজস্ব বাসভবনে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘হানাদারদের চেয়েও খারাপ এই আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। সে আসিফ চেয়ারম্যানকে জেলে ঢুকিয়েছে, আবার সেই জামিন করিয়েছে। আমরা একাত্তর সালে যেভাবে নেমেছিলাম, সেভাবেই এবারও নামবো। তবে জামায়াতের পক্ষেও না, বিএনপির পক্ষেও না—আমরা নামবো স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের পক্ষে। তার মার্কা যেটাই হোক, আমরা তার সঙ্গেই থাকবো।’ টাঙ্গাইল-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় তোমাদের নেতারা যে অপরাধ করেছে, তারা যদি আল্লাহর কাছে মাফ চায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় পক্ষের লোক হতাম। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা—দেশকে স্বাধীন করেছি, স্বাধীনতাকে বুকে নিয়েই কবরে যেতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে যেন “জয় বাংলা” বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা যায়—এই চিন্তা থেকেই আমি আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়াতে বলেছি। এতে আমার রাজনীতি থাকুক বা না থাকুক, তাতে কিছু আসে যায় না। আমি “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” বলার জন্যই কালিহাতীতে দলীয়ভাবে প্রচারে নেমেছি।’ সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—দলের গাজীপুর মহানগর সভাপতি আব্দুর রহমান, সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস সিকদার, বাসাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা রাহাত খান টিপু, আবু জাহিদ রিপনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল এবং জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হাসান রেজা।
বিজয়নগরে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আচরণবিধি ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ সভা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নির্বাচনী আচরণ বিধি, গণভোট ও পোস্টাল ভোট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিত করতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার ১০-০১-২০২৬ ইং তারিখে দুপুরে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ ফাতেমার সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোছাম্মাৎ ফারহানা রহমান নির্বাচনী আচরণ বিধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকলকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং গণভোটে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জনগণকে উৎসাহিত করেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবুর রহমান, জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে ফজলুল হক এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদমান সাকিব। বক্তারা নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের কর্মী গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি অশুভ শক্তি প্রয়োগ বা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক উৎসব। এ উৎসব সফল করতে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য।
ঘরে ঘরে জনে জনে মানবতার দীপ জ্বালাচ্ছেন কায়সার কামাল-জনকল্যাণের বার্তা নিয়ে তৃণমূলে ছুটে চলেছে উপজেলা যুবদল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতিকে মূল দর্শন হিসেবে সামনে রেখে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল—কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিবের সুদৃঢ় নির্দেশনায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা গাওকান্দিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে চলছে ব্যাপক গণসংযোগ ও জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম। ঘরে ঘরে, জনে জনে—এই মানবিক ও হৃদয়ছোঁয়া স্লোগানকে ধারণ করে যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এ সময় তারা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মানবিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তৃণমূল মানুষের সামনে তুলে ধরছেন। রাজনীতির সীমা ছাড়িয়ে একজন মানবদরদী অভিভাবক হিসেবে তিনি যে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাজ করে যাচ্ছেন—তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। গণসংযোগকালে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বহুমাত্রিক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে— সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা,ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প,হৃদরোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের জন্য হার্টের চিকিৎসা ও চিকিৎসা সহায়তা, কিডনি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের সহায়তা, হাজারেরও বেশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের সফল চোখের অপারেশন, গৃহহীন ও অসহায় পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাঠের সেতু নির্মাণসহ নানা মানবিক ও উন্নয়নমূলক কাজ। এছাড়াও কৃষকবান্ধব কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের পরিকল্পনার বিষয়টিও প্রচারণায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।এই গণসংযোগ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন উপজেলা যুবদলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মোঃ হান্নান শাহ, মাহামুদুল হক সানি, কামরুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও রনি। পাশাপাশি গাওকান্দিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সার্বিক সহযোগিতায় আহ্বায়ক মোঃ ইমরান হোসেন সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক তূষার ইমরান প্রান্ত, ইলিয়াস হোসেন,সিদ্দিক, নিজাম, তূষার, শামীম, শাকিল, জলিল, আলম, জবেদ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা নিরলসভাবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। যুবদল নেতারা বলেন,ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি মানবতার প্রতীক। কৃষক, শ্রমজীবী, অসহায় রোগী ও নারীদের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে একটি ন্যায্য ও মানবিক সমাজ গড়ার বার্তা তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই প্রচার কার্যক্রম।
আজ কিনলে লাভবান হবেন ? জেনে নিন রাজ্যে কত চলছে সোনার দাম
৫০০০ জিবি ডেটা, ২০০ এমবিপিএস গতি, বিএসএনএল নিয়ে এসেছে দারুণ অফার
স্টেট ব্যাঙ্কের গ্রাহক হলে খরচ বাড়ল, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আরও ব্যয়বহুল এই পরিষেবা
রিলায়েন্স, উইপ্রো ছাড়াও এই ১০ স্টকে আজ অবশ্যই নজর রাখুন, না হলে লোকসান !
আজ লাভ দিতে পারে এই ৫ স্টক, আপনি জানেন এদের বিষয়ে, বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন এই পরামর্শ
মৃতপ্রায় অবস্থায় ১৩ বছর, ছেলেকে মুক্তি দিতে চান মা-বাবা, নিষ্কৃতিমৃত্যুতে কি অনুমতি দেবে আদালত?
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড আর SIR -নথি হিসেবে গণ্য হবে না, নয়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
নেতাজির জন্মদিন ও সরস্বতী পুজোয় কেন JEE Main? রাজ্য ও BJP-র আপত্তিতে পরীক্ষা পিছিয়ে গেল