কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে ততই গবাদি পশুর আমদানি বাড়ছে। তবে কৃতিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু ও ভারতীয় গরুর প্রভাব না থাকায় ছোট জাতের দেশি গরুর সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি সল্প দামে দেশি গরু কিনতে ও বিক্রি করতে দেখা গেছে হাটে। তবে হাটে ক্রেতা কম থাকায় দুঃশ্চিন্তায় আছেন বিক্রেতারা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে খামারিদের পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও। তাদের প্রত্যাশা, এবার কুরবানির বাজারে গরুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাবে। অন্যদিকে পশুর হাটে ক্রেতা কম থাকায় ছোট বড় খামারিরা দুঃশ্চিন্তাতেও রয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এসব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। হাটে ভারতীয় গরু না থাকায় কিছুটা দুঃশ্চিন্তা মুক্ত বিক্রেতারা। তবে হাটে ক্রেতা কম থাকায় এবার লোকসান গুনতে হতে পারে। তাই খামারিদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন তারা। এনিয়ে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের এমকেসিএম স্কুল মাঠ, দুর্গাপুর ইউনিয়নের দেবথৈইল খেলার মাঠ ও চন্ডিগড় ইউনিয়নের চন্ডিগড় বাজার মাঠে পশুর হাটে গবাদি পশু আসতে শুরু করে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটে ছোট বড় খামার থেকে গবাদি পশু নিয়ে আসছেন খামারিরা। তবে এখনও কেনা-বেচার হিড়িক পড়েনি, ক্রেতার তুলনায় পশু বেশি লক্ষণীয়। অনেকেই হাটে এসেছেন, পছন্দের পশুটি ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর দর দাম হাকছেন। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাবে বলে জানাচ্ছেন। সদর ইউনিয়নের চকলেঙ্গুরা এলাকার আজিজুল হকের খামারে রয়েছে ১৩টি গরু। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের দুই সহযোগী। খামারের কর্মী রাশেদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুগুলোর পেছনেই সময় দিচ্ছি। খাবার খাওয়ানো, গোসল করানোসহ সব ধরনের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এবার গরুগুলোর ভালো দাম পাবো। বিক্রেতা ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘গুজিরকোনা পশুর হাটে ক্রেতার থেকে গরুর বেশি। এখনও আমি লসে আছি ৩টি গরু এখনো বিক্রি করতে পারিনি। কিছুদিন আগে হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে অত্র এলাকায় পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও পশু কিনতে পারছেনা অনেকেই। শেষ সময় বেচা বিক্রি ভালো হবে এমন প্রত্যাশা করছি। গরু ক্রেতা তানভির হোসেন তাইফ বলেন, বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে পশু দেখছি, আর দর-দামও করছি। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাবো। তবে কোরবানির পশুর হাটে বড়ো গরুর চেয়ে এবার মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি লক্ষ করছি। পশুর হাটে গরু উঠেছে অনেক, কিন্ত ক্রেতা তুলনামুলক কম। দুর্গাপুর উপজেলায় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৭ শতাধিক ছোট বড় খামারে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার গরু এবং প্রায় ৪ হাজার ছাগল প্রস্তুত করা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পশুর একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এবিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিত দত্ত বলেন, খামারিদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেন কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারে যেন ভোক্তারা নিরাপদ পশু পান, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হবে। ইতোমধ্যে পশু জবাই ও চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ বিষয়ে উপজেলার সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবছরই বন্যহাতির দল ভারতের মেঘালয় রাজ্যর বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে আস্তানা গড়ে তোলে। সময় ও সুযোগ বুঝে বিকেল বা সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই নেমে আসে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকার ফসলি মাঠে। ওই এলাকার ফসল রক্ষায় রাত জেগে মশাল জ্বালিয়ে, পটকা ফুটিয়ে ও ঘণ্টা বাজিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে পাহারা দেয় চাষিরা। ওই সময় হাতি অবস্থানের একটু দুরে বিকট শব্দ বা বড় করে আলো জ্বালাতে পারলে ওই এলাকা থেকে পিছু হটে হাতিরদল। ওই ইউনিয়ন গুলোর সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও ধান খেতে প্রতিবছরই ব্যাপক ক্ষতি করে বন্যহাতির দল। খেতের ফসল নষ্টের পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসরত আদিবাসীদের বাড়ী-ঘরেও ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালায়। প্রায় প্রতিবছরই হাতির পায়ে পৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন স্থানীয় কৃষকরা। সীমান্তে বসবাসরত আদিবাসী, বাঙ্গালী কৃষক ও খেতের ফসলের কথা ভেবে বন্যহাতি তাড়াতে, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজ অর্থায়নে, দুই ইউনিয়নের ত্রিশটি পরিবারে ইতোমধ্যে টর্চলাইট ও হ্যান্ডমাইক বিতরণ করেছেন। ফসল ও সীমান্তে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে সীমান্তে স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এরই লক্ষ্যে গত ২৪ ও ২৫ মে দুইদিনব্যাপি ২নং দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর, বাদামবাড়ি, দাহাপাড়া, ফান্দা, উত্তর বারোমারি ও গোপালপুর গ্রাম এবং কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর, আড়াপাড়া, মাধুপাড়া ও জগৎকুড়া গ্রাম ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন বাজার ও চায়ের দোকান গুলোতে চলছে নানা গুঞ্জন। স্থানীয়রা বলছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বন্যহাতির আক্রমন সহ্য করছি। প্রতিবছরই নষ্ট হচ্ছে শত শত মন ধান। হাতি তাড়াতে ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ নিয়েছেন উনার প্রতি আমরা কৃতঞ্জ। তিনি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। দুর্গাপুরের উন্নয়নের তিনি যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, সত্যিই আমরা তার কাছে ঋণি হয়ে থাকবো। আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেনো ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কে দীর্ঘজীবী করেন। আদিবাসীনেতা ড. অঞ্জন চিচাম বলেন, প্রায় প্রতিবছরই বন্যহাতির দল সীমান্ত এলাকায় তান্ডব চালিয়ে কৃষকের ফসল ও বাড়ীঘর বিনষ্ট করে। ওই এলাকার ফসল ও কৃষকদের কথা ভেবে সীমান্তে স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। উনার নির্দেশেই ইতোমধ্যে দুর্গাপুর উপজেলার ১নং কুল্লাগড়া ও ২নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করা হয়েছে। স্ট্রিট লাইট স্থাপনে যে প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তিনি, এতে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সীমান্তে বসবাসকারী আদিবাসী ও বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী ও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যৌথ উদ্যোগে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ঐতিহ্যবাহী ঝিনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ডেজার মেশিন ও পাইপ ধ্বংস করা হয়। জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দির ঝোপনা গ্রাম সংলগ্ন ঝিনাই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে ডেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৫ মে দুপুরে সরিষাবাড়ী ও ধনবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) যৌথভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় নদীতে স্থাপিত অবৈধ ডেজার মেশিন ও পাইপলাইন ধ্বংস করা হয়। অভিযানকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা সতর্ক করেন। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখা বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্টের নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে ২০২৬) বাংলাদেশ Reporters Club Trust কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি জনাব রফিকুল ইসলাম তৃতীয়বারের মতো (হ্যাটট্রিক) সভাপতি এবং দৈনিক ঢাকার স্টাফ রিপোর্টার জনাব মোঃ রাশেদুল ইসলাম তৃতীয়বারের মতো (হ্যাটট্রিক) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটির অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনাব মফিজুর রহমান সোহেল। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং সাংগঠনিক ঐক্য সুদৃঢ় করতে তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন। এদিকে সংগঠনের সকল সদস্যদের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদুল ইসলামকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সকল সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে জানানো হয়েছে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। সাংবাদিক মহলের প্রত্যাশা, নবগঠিত এই কমিটি সরিষাবাড়ীতে সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে ততই গবাদি পশুর আমদানি বাড়ছে। তবে কৃতিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু ও ভারতীয় গরুর প্রভাব না থাকায় ছোট জাতের দেশি গরুর সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি সল্প দামে দেশি গরু কিনতে ও বিক্রি করতে দেখা গেছে হাটে। তবে হাটে ক্রেতা কম থাকায় দুঃশ্চিন্তায় আছেন বিক্রেতারা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে খামারিদের পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও। তাদের প্রত্যাশা, এবার কুরবানির বাজারে গরুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাবে। অন্যদিকে পশুর হাটে ক্রেতা কম থাকায় ছোট বড় খামারিরা দুঃশ্চিন্তাতেও রয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এসব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। হাটে ভারতীয় গরু না থাকায় কিছুটা দুঃশ্চিন্তা মুক্ত বিক্রেতারা। তবে হাটে ক্রেতা কম থাকায় এবার লোকসান গুনতে হতে পারে। তাই খামারিদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন তারা। এনিয়ে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের এমকেসিএম স্কুল মাঠ, দুর্গাপুর ইউনিয়নের দেবথৈইল খেলার মাঠ ও চন্ডিগড় ইউনিয়নের চন্ডিগড় বাজার মাঠে পশুর হাটে গবাদি পশু আসতে শুরু করে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটে ছোট বড় খামার থেকে গবাদি পশু নিয়ে আসছেন খামারিরা। তবে এখনও কেনা-বেচার হিড়িক পড়েনি, ক্রেতার তুলনায় পশু বেশি লক্ষণীয়। অনেকেই হাটে এসেছেন, পছন্দের পশুটি ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর দর দাম হাকছেন। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাবে বলে জানাচ্ছেন। সদর ইউনিয়নের চকলেঙ্গুরা এলাকার আজিজুল হকের খামারে রয়েছে ১৩টি গরু। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের দুই সহযোগী। খামারের কর্মী রাশেদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুগুলোর পেছনেই সময় দিচ্ছি। খাবার খাওয়ানো, গোসল করানোসহ সব ধরনের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এবার গরুগুলোর ভালো দাম পাবো। বিক্রেতা ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘গুজিরকোনা পশুর হাটে ক্রেতার থেকে গরুর বেশি। এখনও আমি লসে আছি ৩টি গরু এখনো বিক্রি করতে পারিনি। কিছুদিন আগে হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে অত্র এলাকায় পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও পশু কিনতে পারছেনা অনেকেই। শেষ সময় বেচা বিক্রি ভালো হবে এমন প্রত্যাশা করছি। গরু ক্রেতা তানভির হোসেন তাইফ বলেন, বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে পশু দেখছি, আর দর-দামও করছি। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাবো। তবে কোরবানির পশুর হাটে বড়ো গরুর চেয়ে এবার মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি লক্ষ করছি। পশুর হাটে গরু উঠেছে অনেক, কিন্ত ক্রেতা তুলনামুলক কম। দুর্গাপুর উপজেলায় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৭ শতাধিক ছোট বড় খামারে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার গরু এবং প্রায় ৪ হাজার ছাগল প্রস্তুত করা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পশুর একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এবিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিত দত্ত বলেন, খামারিদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেন কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারে যেন ভোক্তারা নিরাপদ পশু পান, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হবে। ইতোমধ্যে পশু জবাই ও চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ বিষয়ে উপজেলার সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শামীম শাহরিয়ার
বিভাগ, জেলা বা উপজেলা নির্বাচন করে সংবাদ দেখুন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স-এর বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফোনালাপে আরাঘচি বলেন, চলমান সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব বিশ্বজুড়েও ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিকেই দায়ী করেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় “সব ধরনের উপায়” অবলম্বন করতে প্রস্তুত এবং এ ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি, এই লক্ষ্য অর্জনে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। এদিকে, পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য সোমবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রতিবেদন—ইরানের ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত রাতে ওই ক্রু সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে উদ্ধারে একটি সক্রিয় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জানা গেছে, উদ্ধার অভিযানের সময় তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই ক্রু সদস্য এখনও ইরানের ভেতরেই অবস্থান করছেন এবং চলমান সংঘাতের কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, ‘এয়ারম্যান’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও এটি কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গ নির্দেশ করে না। ফলে নিখোঁজ ওই ব্যক্তির লিঙ্গ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এদিকে, উদ্ধারকারী দল এখনো তাকে নিরাপদে ইরানের বাইরে নিয়ে যেতে পারেনি। অভিযানটি এখনও চলমান এবং এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি যে উদ্ধার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে প্রতিবেদনে সাংবাদিক Zein Basravi জানান, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছিল—তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তারা এটিকে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে আঘাত হানবে। সেই হুঁশিয়ারির বাস্তব প্রতিফলন এখন দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে, বিভিন্ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এসব পদক্ষেপে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়েছে। আজও Gulf Cooperation Council-ভুক্ত শহরগুলোতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার তীব্রতা ইরানের সরাসরি আক্রমণের মতো না হলেও, এর ধারাবাহিকতা ও প্রভাব স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুদ্ধের আরও সম্প্রসারণ কোনো পক্ষের জন্যই ইতিবাচক নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে, তাহলে এর সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের পাল্টা হামলাও বাড়বে। এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মার্কিন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার ও প্রশিক্ষক, একটি ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির হিমার্স আর্টিলারি অবস্থান, বাহরাইনে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Oracle Corporation-এর একটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যেখানে ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ভবনের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই ধারাবাহিক হামলা তাদের একটি সুস্পষ্ট কৌশলের অংশ, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সাম্প্রতিক হুমকিকে কেন্দ্র করে। তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে দেশটির ওপর ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। সোমবার শেষ হতে যাওয়া এই সময়সীমা মূলত ট্রাম্পের ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানেরই অংশ, যেখানে তিনি একের পর এক ডেডলাইন ঘোষণা করে আসছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আল্টিমেটাম পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে সংকুচিত করছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাপ্রবাহে। গত কয়েকদিন ধরে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে ভূপাতিত হওয়া এক মার্কিন পাইলটের সন্ধান চলছে। তবে উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়েছে, কারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত দুটি হেলিকপ্টারও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যদিও ওই হেলিকপ্টারের ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি মোতায়েন করা বি-৫২ বোমারু বিমান নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি কূটনৈতিক সমাধানের পথও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালী, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, সেটিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নতুন আল্টিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে, আর বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই সময়সীমা শেষ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”