টাঙ্গাইলে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী নির্বাচনী প্রচারণা
টাঙ্গাইলে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী নির্বাচনী প্রচারণা
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেনএবারের নির্বাচনে দুটি ভোট রয়েছে। প্রথম ভোটটি হ্যাঁ ভোট—ইনশাল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে, আর ‘না’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর না মানে গোলামী। যারা অতীতে ‘হ্যাঁ’ও বলেনি, নাও বলেনি—আজ যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের অভিনন্দনওমোবারকবাদ।তিনি বলেন যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের সাথে থাকবে তারা প্রমাণ করবে—তারা চাঁদাবাজির সাথে নেই, দুর্নীতির সাথে নেই, মামলাবাজির সাথে নেই এবং মা-বোনদের অপমানের সাথে নেই। তারা থাকবে নতুন বাংলাদেশের সাথে, থাকবে ২০২৪ সালের জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে। সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব—ইনশাল্লাহ।
দ্বিতীয় ভোটটি দেশ গড়ার ভোট উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামিতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, তাদের অবশ্যই অতীতে ভালো মানুষ হিসেবে প্রমাণিত হতে হবে। যারা বারবার সুযোগ পেয়েও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের আর নতুন করে দেখার কিছু নেই। এমনকি যারা এখনো দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছে, তাদেরকেও আর নতুন সুযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই।ডা.শফিকুর রহমান বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়েছে। প্রত্যেকটি দল নিজ নিজ সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে নিজেদের দলের পক্ষে কাজ করে ইনশাল্লাহ বিজয় নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে বহু নির্বাচন হয়েছে, বহু সরকার গঠিত হয়েছে। ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোটের পর সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে সমাজে বৈষম্য বেড়েছে, অপরাধ চরম আকার ধারণ করেছে এবং দুর্নীতি পুরো সমাজকে গ্রাস করেছে।এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে যুব সমাজ ফুঁসে উঠে ‘উই মাষ্ট জাস্টিস’ স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ন্যায়বিচার, বাঁচার অধিকার, শিশুর জন্য শিক্ষা, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান, মা-বোনদের জন্য নিরাপত্তা, ব্যবসায়ীদের জন্য শান্তিপূর্ণ ব্যবসার পরিবেশ, শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি এবং কৃষকদের জন্য আধুনিক ও নিরাপদ কৃষি উপকরণের দাবি জানিয়েছিল। এসব দাবি কি কোনো অপরাধ ছিলপ্রশ্ন রাখেন তিনি।এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমীর টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জেলা আমীর আহসান হাবিব মাসুদ, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে একেএম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন তালুকদার এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক প্রদান করা হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এনসিপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লা হায়দারকে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।মিরে প্রধান ডা. শফিকুর রহমানের আগমনে পৌর উদ্যানে জনস্রোত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ইং তারিখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরে প্রধান ডা. শফিকুর রহমান টাঙ্গাইলে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন ইসলামিকেন্দ্রিক দল ও জামায়াতের অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী টাঙ্গাইল শহরে সমবেত হন।
বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা.শফিকুর রহমান বলেন জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে চাঁদাবাজি,দুর্নীতি,সন্ত্রাসসহ সকল প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্মূল করা হবে।
তিনি বলেন,দেশ আজ নৈতিক অবক্ষয়ের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসলামের আদর্শ ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা গেলে জনগণের জানমাল ইজ্জত ও অধিকার নিরাপদ থাকবে। তিনি আরও জানান জামায়াতে ইসলাম একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে যেখানে শোষণ বৈষম্য ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না।ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৎ,যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্বই পারে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। এজন্য তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।জনসভা চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে সভাস্থল ত্যাগ করেন।