জাতীয়

নেত্রকোনা দুর্গাপুরে গণভোট, পোস্টাল ভোট ও আচরণ বিধিমালা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট, পোস্টাল ভোট এবং নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা আফসানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো: সাইফুর রহমান। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রার্থীরা তাদের বক্তব্যে বর্তমান পরিবেশকে 'সুন্দর ও স্থিতিশীল' বলে মন্তব্য করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সভায় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ওয়ালি হাসান কলি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন। সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে দুর্গাপুরে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো: তরিকুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন এবং বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান। বক্তারা নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা এবং পোস্টাল ভোটের সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন,গণ ভোটের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি আরো বলেন একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা প্রার্থী এবং সাধারণ জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছি।" অনুষ্ঠানে বীরমুক্তিযোদ্ধা গণ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যম কর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আল আমিন হাওলাদার জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলের রসুলপুরে বিমানবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জে ১০–২১ জানুয়ারি অকেজো বিস্ফোরক ধ্বংস, চলাচলে সতর্কতা
টাঙ্গাইলের রসুলপুরে বিমানবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জে ১০–২১ জানুয়ারি অকেজো বিস্ফোরক ধ্বংস, চলাচলে সতর্কতা

টাঙ্গাইলের রসুলপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জে আগামী ১০ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত অকেজো ও অব্যবহৃত বিস্ফোরক দ্রব্য ধ্বংস করা হবে। এ সময় জননিরাপত্তার স্বার্থে ফায়ারিং রেঞ্জের চারপাশের তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল পরিহার করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ধাপে ধাপে এসব অকেজো বিস্ফোরক দ্রব্য ধ্বংস করা হবে। এ কার্যক্রম চলাকালে বিকট শব্দ ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়সূচিতে ফায়ারিং রেঞ্জ সংলগ্ন এলাকা দিয়ে চলাচল না করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাদিম তালুকদার জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
১১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করতে  টাঙ্গাইল আসছেন তারেক রহমান
১১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করতে টাঙ্গাইল আসছেন তারেক রহমান

লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ঢাকার বাইরে প্রথম জেলা সফর হিসেবে আগামী রবিবার (১১ জানুয়ারি) তিনি টাঙ্গাইল জেলায় আসছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে তারেক রহমান ঢাকার নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তিনি টাঙ্গাইলে পৌঁছাবেন। সেখানে পৌঁছে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের এটি প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি হওয়ায় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার আগমন উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে অভিবাদন জানাবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। দলীয় সূত্র আরও জানায়, মির্জাপুর এলাকা থেকেই তারেক রহমানকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি তার সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশনায়ক তারেক রহমান দেশে ফিরে প্রথম জেলা সফরে টাঙ্গাইলে আসছেন। এই সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ইনশাল্লাহ, সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হবে।” তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের আগমন ও দোয়া মাহফিল সফল করতে দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মজলুম জননেতা ভাসানীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের এই সফর দেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করবে এবং টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

নাদিম তালুকদার জানুয়ারী ৭, ২০২৬ 0
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বিজিবির কম্বল বিতরণ ও সীমান্ত সচেতনতামূলক সভা

সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসাথে সীমান্ত হত্যা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণে একটি জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (২৮ বিজিবি) ব্যবস্থাপনায় দোয়ারাবাজার উপজেলাধীন ৮নং বোগলাবাজার ইউনিয়নের পেশকারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই মানবিক সহায়তা ও সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজিবি’র পক্ষ থেকে এলাকার কয়েকশ দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের হাতে শীতকালীন উপহার হিসেবে উন্নতমানের কম্বল তুলে দেন ২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়ান(বিজিবি)”র সুনামগঞ্জ অঞ্চলের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল একে এম জাকারিয়া কাদির।  শীতবস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে একটি বিশেষ জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় বক্তারা বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধ ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে দিনরাত সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। তবে সীমান্ত হত্যা ও দুর্ঘটনা রোধে শুধুমাত্র বিজিবির প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়; এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সীমান্তবাসীদের সম্মিলিত সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। এ ব্যাপারে  বিজিবি”র সুনামগঞ্জের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল একে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি”র সদস্যরা সব সময়ই আত্মমানবতার সেবায় সমাজের বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং দেশজুড়ে বিজিবির সদর দপ্তরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেই এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে চোরাচালানে জড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে গরু ও সুপারি চোরাচালানের মতো অপরাধ বন্ধে বিকল্প কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কোনো অবস্থাতেই যেন কেউ অবৈধ উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম না করে, সে ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা প্রদান করা হয়।  তিনি আরো বলেন,বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মাদক ও পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর। ব্যাটালিয়নের প্রতিটি সদস্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে যেন সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।  অনুষ্ঠানে বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তধ্বনি ডেক্স জানুয়ারী ২, ২০২৬ 0
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের জানাজায় টাঙ্গাইলে মানুষের ঢল
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের জানাজায় টাঙ্গাইলে মানুষের ঢল

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের ঐতিহ্যবাহী বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে এই গুণী রাষ্ট্রনায়কের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশ ও জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস দমন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদারে তার অবদান আজও স্মরণীয়। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, মাহমুদুল হাসান ছিলেন একজন সৎ, শৃঙ্খলাপরায়ণ, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নেতা। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী ও আদর্শবান। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও পরীক্ষিত রাষ্ট্রনায়ককে হারাল বলে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ। জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, আহমেদ আজম খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা জানাজায় শরিক হন। এর আগে গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জানাজা শেষে মরহুমকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে নিজ বাড়ির আঙিনায়, তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় ও পারিবারিক মর্যাদায় দাফন করা হবে। মরহুমের মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

নাদিম তালুকদার জানুয়ারী ২, ২০২৬ 0
জ্বালানি তেলের দাম কমলো লিটারে ২ টাকা হ্রাস জানুয়ারি থেকেই কার্যকর

জ্বালানি তেলের দাম কমলো লিটারে ২ টাকা হ্রাস জানুয়ারি থেকেই কার্যকর। নতুন বছরের শুরুতেই ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য পুনর্নির্ধারিত এই মূল্য বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দামে পেট্রল অকটেন ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। সংশোধিত প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে জানুয়ারি মাসের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী— ডিজেল: প্রতি লিটার ১০৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১০২ টাকাকেরোসিন: প্রতি লিটার ১১৬ টাকা থেকে কমিয়ে ১১৪ টাকাঅকটেন: প্রতি লিটার ১২৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১২২ টাকা পেট্রল: প্রতি লিটার ১২০ টাকা থেকে কমিয়ে ১১৮ টাকাসংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হবে। জ্বালানি তেলের দাম কমায় পরিবহন ব্যয় হ্রাসসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে

কৌশিক সাজ্জিদ পিয়াল জানুয়ারী ১, ২০২৬ 0
গুলশান থেকে মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে নেওয়া হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ

গুলশান থেকে মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে নেওয়া হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ দুপুর ২টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজাবিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত তাঁর পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসা থেকে মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছে। ৩১ডিসেম্বর দুপুর ২টায় মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিকমিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জানাজায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘরাজনৈতিক জীবনে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি দেশব্যাপী একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। গণতন্ত্র সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।তাঁর মৃত্যুতে দেশে-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠন শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। দলীয় কার্যালয় ও বিভিন্ন স্থানে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।আজকের জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে বলে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে।

কৌশিক সাজ্জিদ পিয়াল ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ 0
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে টাঙ্গাইলে শোকের ছায়া চলছে কোরআন খতম

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে টাঙ্গাইলে শোকের ছায়া চলছে কোরআন খতম বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলেও নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও বিরাজ করছে শোক ও বেদনাবিধুর পরিবেশ।মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম জিয়া। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে টাঙ্গাইল জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই একে দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন।মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোরআন খতম দোয়া মাহফিল কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণের মতো কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং সকলের নিকট তাঁর বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চান।খালেদা জিয়ার মৃত্যু উপলক্ষে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কার্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে কোরআন খতম শুরু হয়েছে। সেখানে ১২ জন হাফেজ দ্বারা পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াত চলমান রয়েছে। কোরআন খতম শেষে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া তাঁর উদ্যোগে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড ও বিভিন্ন ইউনিয়নে কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবককে হারালো যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তারা মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট মরহুমার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।এর আগে হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান মঙ্গলবার ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ)তে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। উল্লেখ্য গত ২৩ নভেম্বর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৭ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

মুক্তধ্বনি ডেক্স ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ 0
বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ফার্স্টলেডি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চির বিদায়

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি প্রভাবশালী ও বহুল আলোচিত নাম। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশ এবং নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। স্বামীর শাহাদাতের পর ১৯৮১ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে আসেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও দ্রুতই তিনি দলকে সংগঠিত করে একটি শক্তিশালী গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং ২০০১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া একদিকে যেমন সমর্থকদের কাছে আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত অন্যদিকে বিরোধীদের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও ছিলেন। তীব্র রাজনৈতিক বৈরিতা আন্দোলন-সংগ্রাম কারাবরণ এবং শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়েও তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ছিলেন।দেশনেত্রী হিসেবে তিনি গণতন্ত্র ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে বারবার সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি একাধিকবার সরকার ও বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক শক্তিশালী অধ্যায়। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য প্রেরণা ও আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।

কৌশিক সাজ্জিদ পিয়াল ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ 0
দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণ: আপসহীন এক রাজনৈতিক মহাকাব্যের অবসান

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ চার দশকের এক বর্ণাঢ্য ও কণ্টকাকীর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ব্যক্তিগত শোক, রাজনৈতিক নিপীড়ন আর দীর্ঘ অসুস্থতার সাথে লড়াই করে চিরবিদায় নিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ১৯৪৬ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম 'পুতুল' ১৯৬০ সালে তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দুই সন্তান নিয়ে পথে বসেন তিনি। তবে নেতাকর্মীদের চাপে ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে তাঁর অভিষেক ঘটে। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সাত বছরের আন্দোলনে তিনি সাতবার বন্দি হন, কিন্তু আদর্শে অটল থেকে অর্জন করেন ‘আপসহীন’ নেত্রীর খেতাব। ১৯৯১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। তাঁর শাসনামলেই দেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, নারী শিক্ষার প্রসার এবং গার্মেন্ট শিল্পের বিকাশে তাঁর অবদান অনন্য। ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের প্রভাবশালী নারী তালিকায় স্থান করে নেন। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ 'ইমার্জিং টাইগার' হিসেবে পরিচিতি পায়। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় শুরু হয় ২০০৭ সালের এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর। মাইনাস টু ফর্মুলা উপেক্ষা করে তিনি দেশেই থেকে যান। পরবর্তীতে ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তিনি একের পর এক রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় তাঁর দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাসের বাসভবন। ২০১৫ সালে রাজনৈতিক উত্তাল সময়ে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু ছিল তাঁর জীবনের বড় এক ব্যক্তিগত আঘাত। এরপর চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা পেয়ে ২০১৮ সালে তাঁকে পুরনো ঢাকার নির্জন কারাগারে বন্দি হতে হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দীর্ঘ বন্দিদশা ও আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। মুক্তির পর দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি প্রতিহিংসা ভুলে শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ডাক দেন। ২০২৫ সালের শুরুতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডন যান। সেখানে জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের সান্নিধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলেও এবার আর ফেরা হলো না কোটি মানুষের এই প্রিয় নেত্রীর। এক কালজয়ী উত্তরাধিকার খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজপথের নেত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদী চেতনার মূর্ত প্রতীক। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত তিনি বলে গেছেন— "দেশ এবং জনতা আমাদের কাছে বড়। দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। এই দেশের মাটি ও মানুষই আমার সবকিছু।" শরীরী প্রস্থান ঘটলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া একটি অপরিহার্য ও প্রাসঙ্গিক নাম হিসেবে চিরভাস্বর থাকবেন।

মুক্তধ্বনি ডেক্স ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ 0
এভারকেয়ারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন চলে গেলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজ ৩০ডিসেম্বর ২০২৫ ইং ভোর ৬টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে খালেদা জিয়ার মৃত্যু।বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, কাতারভিত্তিক আল জাজিরা, বার্তাসংস্থা রয়টার্স এপিপাকিস্তানের দ্য ডন, ভারতের এনডিটিভিসহ প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রধান শিরোনামে উঠে এসেছে তার মৃত্যু সংবাদ।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসসহ দীর্ঘদিনের বহুমুখী শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার ভোরে ইন্তেকাল করেন।ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স একে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি প্রভাবশালী অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে সেনাশাসনবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক বৈরিতা ও আপসহীন নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। বিবিসি জানায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৮০ বছর বয়সে খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয় আমাদের প্রিয় নেত্রী আজ সকাল ৬টায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ডন জানিয়েছে, লিভার সিরোসিস ছাড়াও আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার তার দল বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। ভারতের দ্য হিন্দু ও এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয় গত নভেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং সর্বশেষ তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

মুক্তধ্বনি ডেক্স ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ 0
আলেম ওলামা ও বিপ্লবী ছাত্র জনতার উপর হামলা-মামলা ও গ্রেফতারি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ৷

কল্যাণরাষ্ট্র পরিষদ বাংলাদেশের উদ্যোগে  বিশিষ্ঠ ইসলামিক স্কলার, লেখক ও গবেষক মাওলানা আইনুল হক কাসেমীসহ জুলাইযোদ্ধা ও আগ্রাসনবিরোধী ছাত্রজনতার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে আজ বিকেল চার ঘটিকায় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয় । পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি ছাকিবুল ইসলাম কাসেমী ।  মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব - মাকছুদুর রহমান জুনাইদ ,  কল্যাণরাষ্ট্র পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক - এম এম গাজী ইউছুফ, কল্যাণ রাষ্ট্র ছাত্র ও যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আনওয়ার হোসাইন এবং বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলবৃন্দ ৷ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন,  প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা , বরং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজনই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা আরও বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে, তা মোটেও কাম্য নয়। রাতের আঁধারে হাদিসের দরস থেকে মাওলানা আইনুল হক কাসেমী কে গুম করার ঘটনায় আবারও প্রমাণ হয় এই দেশে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান। বক্তাগণ অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে তাদের মুক্তির দাবি জানান। কল্যানরাষ্ট্র পরিষদ বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি - মুফতি সাকিবুল ইসলাম কাসেমী তার বক্তব্যে বলেন প্রথম আলো ও  ডেইলি ষ্টারের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা আমরা কখনো সমর্থন করি না । এবং ইসলাম ও এটা সমর্থন করে না ।   এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বিশিষ্ঠ ইসলামিক স্কলার, লেখক ও গবেষক মাওলানা আইনুল হক কাসেমী সহ জুলাইযোদ্ধা ও আগ্রাসনবিরোধী ছাত্রজনতার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা গ্রেফতার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অতি দ্রুত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান ।  এছাড়াও তার বক্তব্যে সম্প্রতি শহীদ শরিফ উসমান হাদির ওপর হত্যা  ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি আরো  বলেন, যে জুলাই বিপ্লবীদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় এসেছে, সেই বিপ্লবীদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তা সরকারের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ হবে। তিন দিনের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ করা উচিত। ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আমরা আর দেখতে চাই না।  যদি অনতি বিলম্বে তাদেরকে মুক্তি না দেওয়া হয় , তাহলে কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো । এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার সাথে সম্পৃক্ত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে 

মুক্তধ্বনি ডেক্স ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫ 0
সরকারি কর্মকর্তাদের আগ্রহে টাঙ্গাইলে পোস্টাল ভোটে রেকর্ড সংখ্যক নিবন্ধন
সরকারি কর্মকর্তাদের আগ্রহে টাঙ্গাইলে পোস্টাল ভোটে রেকর্ড সংখ্যক নিবন্ধন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য টাঙ্গাইল জেলায় পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন ৬ হাজার ৬২৩ জন ভোটার। বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার ১২টি উপজেলার আটটি সংসদীয় আসনের ভোটাররা এই নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। এ ক্ষেত্রে টাঙ্গাইল সারা দেশে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আটটি সংসদীয় আসনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আটটি পোস্টাল ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৬ হাজার ৫৫৯ জন, আনসার ও ভিডিপির সদস্য ৫৮ জন এবং নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছয় জন রয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৬ জনের আবেদন অনুমোদন পেয়েছে এবং ৪ হাজার ৫৩৭ জন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। পুরুষ আবেদনকারী ৪ হাজার ৬৮০ জন ও নারী ১ হাজার ৯৪৩ জন। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ভোটে আবেদন করতে নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি ও ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হয়। যাচাই শেষে ব্যালট পেপার ডাকযোগে পাঠানো হবে এবং ভোট প্রদান শেষে তা ফেরত পাঠাতে হবে। সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ চলবে, ফলে নিবন্ধনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নাদিম তালুকদার ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ 0
ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্যসংগঠক বিপ্লবী নেতা ওসমান হাদী আর নেই -

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি’র ইন্তেকাল, সর্বমহলে শোক ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর ইন্তেকালে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন স্পষ্টভাষী প্রতিবাদী ও সংগ্রামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছিলেন। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থান এবং সাহসী বক্তব্য তাঁকে তরুণ সমাজের কাছে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি জনসম্পৃক্ত রাজনীতির যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, তা অনেকের মধ্যেই আশার সঞ্চার করেছিল। তাঁর মৃত্যুতে সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে গেল বলে মন্তব্য করেছেন সহকর্মী ও সমর্থকরা। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় জানানো হয়,শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন আমাদের আন্দোলনের এক অগ্রসৈনিক। তাঁর শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ন্যায়ের সংগ্রামে শরিফ ওসমান হাদি’র অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করে বলা হয় হে রাব্বুল আলামিন—আপনি তাঁকে শহীদের মর্যাদা দান করুন তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। শোকাহত পরিবার-পরিজন ও সহযোদ্ধাদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

কৌশিক সাজ্জিদ পিয়াল ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ 0
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন শরীফ ওসমান হাদি

শেষ পর্যন্ত ঘাতকের বুলেটের আঘাতেই থেমে গেল এক সংগ্রামী কণ্ঠ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার আজ রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে হাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভাই ওমর বিন হাদি। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবিচল এই বিপ্লবীকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করুন। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় প্রচারণা শেষে ফেরার পথে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে একই রাতে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাদির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য, মৃত্যুর আগে তিনি প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। গত ১৪ নভেম্বর নিজের ফেসবুক পোস্টে হাদি দাবি করেন, গত কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ৩০টি দেশি-বিদেশি নম্বর থেকে তাকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেই হুমকিতে তার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকির কথাও উল্লেখ ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদি। তার জ্বালাময়ী বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও তরুণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসে। গণঅভ্যুত্থানের পরও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন হাদি। ভোটের মাঠে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। তবে আর নির্বাচনে লড়া হলো না তার। হত্যার আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল। ঘাতকদের বুলেটে প্রাণ হারিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে শোকস্তব্ধ করে চিরতরে বিদায় নিলেন আজাদীর সংগ্রামী সন্তান শরীফ ওসমান হাদি।

মুক্তধ্বনি ডেক্স ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ 0
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে শ্রমিক ফেডারেশনের বিজয় উৎসব অনুষ্ঠিত
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে শ্রমিক ফেডারেশনের বিজয় উৎসব অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বিজয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিজয় উৎসবে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক শ্যামল হোড়। অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শ্রমিক সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের দিকনির্দেশনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এ কে এম মনিরুল হক (ভিপি) মুনীর, টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কাজী শফিকুর রহমান লিটন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল হক শাহীন, টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক লাভলুসহ শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বিজয় উৎসব উপলক্ষে আলোচনা সভার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক স্লোগান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিপুল সংখ্যক শ্রমিক, নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

নাদিম তালুকদার ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ 0
'RUN FOR CHANGE WITH SHIBIR' শোভাযাত্রা
টাঙ্গাইলে ছাত্র শিবিরের উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘RUN FOR CHANGE WITH SHIBIR’ শোভাযাত্রা

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির টাঙ্গাইল জেলা শাখার আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে “RUN FOR CHANGE WITH SHIBIR” শিরোনামে এক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মো: মাজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি আব্দুল রাজ্জাকসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। এর আগে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, মহান বিজয় দিবস আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। আলোচনা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। আয়োজকরা জানান, মহান বিজয় দিবসের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানাতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

নাদিম তালুকদার ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জনাব শরিফা হক- জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল। ১৬ ডিসেম্বর – মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আজ সকালেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জনাবা শরীফা হক নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃন্দ, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৃন্দ এবং অন্যান্য সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ।টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্বরে স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পরে সকাল ৯ টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও মনোঙ্গ ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার শামছুল আলম সরকারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সকালে শহরের পৌর উদ্যানের শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে বিএনপিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক দল ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকালে পৌর উদ্যান থেকে জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিজয় র‍্যালি বের হয়৷ র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়। এসময় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ বিএনপি'র বিএনপি'র নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এদিকে জেলা শিবিরের উদ্যোগে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে রান ফর ভিক্টরি কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে পৌর উদ্যান থেকে র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে পুনরায় পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়। এসময় জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদসহ অনন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় শহীদদের আত্মত্যাগ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, লাখো শহীদ ও মুক্তিকামী জনতার বলিদান ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন অসম্ভব ছিল। মহান বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, মুক্তি ও সাহসিকতার প্রতীক। জেলা প্রশাসক বলেন,আমরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের এই মহান ইতিহাস স্মরণে নতুন প্রজন্মকে সচেতন ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব রাখি। এরপর উপস্থিত কর্মকর্তাগণ ও নাগরিকরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি সম্মান জানায়।

মুক্তধ্বনি ডেক্স ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়  টাঙ্গাইলের মাভাবিপ্রবিতে মহান বিজয় দিবস পালিত
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় টাঙ্গাইলের মাভাবিপ্রবিতে মহান বিজয় দিবস পালিত

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস-২০২৫ পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ারুল আজীম আখন্দের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘প্রত্যয়-৭১’-এর পাদদেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন হল, বিভাগ ও দপ্তরের পাশাপাশি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, বাঁধন, ধ্রুবতারা, বিজ্ঞান ক্লাব, মাওলানা ভাসানী ব্যান্ড মিউজিক কমিউনিটি, আদিবাসী ছাত্র সংগঠনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী আরও নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিস্কুট দৌড়, ছাত্র বনাম শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভলিবল প্রতিযোগিতা, ছাত্রী, শিক্ষিকা ও মহিলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে পিলো পাসিং খেলা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ধর্মীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিবসটির তাৎপর্য উপলক্ষে রাতে আবাসিক হলসমূহে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। সব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার (দায়িত্বপ্রাপ্ত), হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে মাভাবিপ্রবি পরিবার দিবসটি গভীর শ্রদ্ধা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়।

নাদিম তালুকদার ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
গোপালপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন

গোপালপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ১৬ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সকাল ৮টায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের ত্যাগ ও দেশের মুক্তিসংগ্রামের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসক জানান, এই দিবস আমাদের জন্য শুধু উদযাপনের নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা ও জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ শক্ত করার দিন। সকলেই দেশ ও জাতির উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান

কৌশিক সাজ্জিদ পিয়াল ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর শহীদদের স্বরণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ১৬ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে তোপধ্বনি দিয়ে বীর শহীদদের স্বরণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কায়েসুর রহমান, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগন এসময় উপস্থিত ছিলেন।    এরপর চৌমুহনী পৌরসভার প্রশাসকের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পৌর প্রশাসক কায়েসুর রহমান। চৌমুহনী পৌরসভার সচিব জাকির হোসেন ও প্রকৌশলী মোজাম্মেল হোসেন সহ এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। সকাল ৮টায় বেগমগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ, পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কায়েসুর রহমান ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোঃ আঃ বারী শান্তির প্রতিক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের উদ্বোধন করেন।  ছাত্র-ছাত্রীদের কুচকাওয়াজ শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান।  ইউএনও ও ওসির সহধর্মিনীগন ও এসময় উপস্থিত ছিলেন।  দুপুরে বেগমগঞ্জ স্কুল হল রুমে অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা সভা, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের  বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন,   উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বেগমগঞ্জ সোশ্যাল অ্যালাইনমেন্ট ফেডারেশন এর সভাপতি  রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাহাব উদ্দিন। দুপুরে প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করে

মুক্তধ্বনি ডেক্স ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা: চ্যাটজিপিটি বনাম ডিপসিক?

র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।

শীর্ষ সপ্তাহ

সারা দেশ

টাঙ্গাইল জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

জানুয়ারী ৮, ২০২৬ 0