বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ কমান্ড নিয়ে পিনাকী ভট্টাচার্য এক ফেসবুক পোস্টে গভীর মন্তব্য করেছেন, যা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তাঁর পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতাদের ভারতীয় সম্পর্ক, যৌথ সামরিক মহড়া এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন।
পিনাকী ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, এক ইউটিউবারের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ভারতীয় সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে চান, তা বাস্তবতা থেকে অনেকটাই দূরে। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখন ইন্ডিয়া-সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন’’—এই ধারণাটি সত্য নয়, কারণ তার শ্বশুর (যিনি সেনাপ্রধান ছিলেন) একাধিকবার ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন এবং সামরিক বাহিনী ইন্ডিয়ার সাথে যৌথ মহড়া চালিয়েছে। এমনকি ওয়াকার সাহেবও ইন্ডিয়ান চিফের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, যা তার কথায় স্পষ্ট।
এছাড়া, পিনাকী আরও উল্লেখ করেছেন যে, সেনাবাহিনীর "কমান্ড" এবং "rightness of the cause" বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কখনোই পদমর্যাদার মাধ্যমে অর্জিত হয় না। ২৪ এর গণবিপ্লবের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেনাবাহিনীতে কমান্ডের অভাব এবং আদর্শের সঠিকতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারার কারণে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল। তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘সেনাবাহিনীতে যে নেতৃত্বের পরিবর্তন চাওয়া হচ্ছিল, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এখনো জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়নি।’’
পিনাকী ভট্টাচার্য আরও বলেন, যে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য সেনাবাহিনী ব্যবহার করতে চায়, তাদের কাছে আদর্শের অভাব স্পষ্ট। তাঁর মতে, হাসিনা সরকারের সেনাবাহিনী পরিচালনার জন্য যে নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে, তারা কখনই "rightness of the cause" প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। এই বিষয়টি বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুতর সংকট।
পিনাকী তাঁর পোস্টে আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জনগণ বিএনপি-আওয়ামী লীগ বা ভারতীয় অক্ষশক্তির ভয় পায় না।’’ তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘‘যে দল ওয়ান ইলেভেন ঠেকাতে পারে না, তারা আবার জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে চায়।’’
বিশেষজ্ঞরা পিনাকী ভট্টাচার্যের এই পোস্টে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে সেনাবাহিনীর কমান্ডের অভাব, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা, এবং ভারতীয় সম্পর্কের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চর্চা চলছে, এবং পিনাকী নিজে বলেন, ‘‘সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার শূন্যতা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত।’’
পিনাকীর পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
মু্ক্তধ্বনি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন