সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নকে ঘিরে টাঙ্গাইল জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সমর্থকদের মধ্যে জোরালো আলোচনায় উঠে এসেছেন ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও আফরোজা খন্দকার (নিপু)। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে তার ঘনিষ্ঠরা দাবি করেন। তবে এসব চাপের মধ্যেও তিনি দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নেতৃত্বের গুণাবলি ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯০-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করে। সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই নেত্রী রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন। নিজ এলাকা মির্জাপুরসহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে দলীয় সংগঠন শক্তিশালীকরণ, নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং জনসেবামূলক উদ্যোগে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষে জনসংযোগ কার্যক্রমেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বনানী-ভাসানটেক এলাকায় গঠিত জনসংযোগ উপকমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তার পারিবারিক পরিচয়ও রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। তার স্বামী মো. সাইদুর রহমান (সাইদ সোহরাব) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত জিএস এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আফরোজা খন্দকার (নিপু)কে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হলে দল উপকৃত হবে। তাদের মতে, তিনি মনোনয়ন পেলে দলীয় রাজনীতি ও জনসেবায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি তারিখে মিডিয়া সেল জেলা পুলিশ কিশোরগঞ্জ পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্যকে সামনে রেখে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।অদ্য ২৪/০২/২০২৬ খ্রি.বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার ড. এস. এম ফরহাদ হোসেন। তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাজিতপুর সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার (ভৈরব সার্কেল)সহ কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সকল সিনিয়র কর্মকর্তা।সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন রমজান মাস আত্মশুদ্ধি সহমর্মিতা ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো পুলিশ বাহিনীর নৈতিক দায়িত্বের অংশ। তিনি এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিতদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা পুলিশের এ উদ্যোগকে সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের নিবিড় বাজার তদারকি অভিযান ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ জেলাজুড়ে ব্যাপক বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও বাণিজ্যকেন্দ্রে এ অভিযান পরিচালিত হয়। তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রয়, পণ্যের মান ও মেয়াদ যাচাই এবং ওজনে কারচুপি রোধে কঠোর নজরদারি করা হয়। অভিযান চলাকালে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মনিটরিং কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে যাতে কোনো অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সচেতন ক্রেতারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে বলেন নিয়মিত ও কঠোর তদারকি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে সক্ষম হবেন
জনদুর্ভোগ লাঘবে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নে লৌহজং নদীর ওপর ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২১ সালের মে মাসে শুরু হলেও রহস্যজনক কারণে ২০২৫ সালের জুন মাসেও কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘ পাঁচ বছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ কাজ শুরুর দুই বছরের মাথায় সেতুর একটি গার্ডার ধসে পড়ে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলেও সেই রিপোর্ট আজও প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে তদন্ত প্রতিবেদনটি ফাইলবন্দি করে রাখা হয়েছে, যাতে দায় এড়াতে পারে সংশ্লিষ্টরা। পরে ধসে পড়া গার্ডার সংস্কার করেই আবার নির্মাণকাজ চালানো হয়। জানা যায়, যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও ঝুঁকি কমানো এবং কালিহাতী উপজেলার সঙ্গে টাঙ্গাইল সদর ও ভূঞাপুর উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। এদিকে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় মানুষকে এখনও খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নদী পার হতে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না, রোগী পরিবহনেও তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত বাড়তি নৌকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই শুরুতেই গার্ডার ধসে পড়েছিল। দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এডভোকেট আহমেদ আজম খান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে মন্ত্রিসভায় তাঁকে দেখতে চায় টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখীপুর) আসনের জনগণ। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাঁর নেতৃত্বে অবহেলিত এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে আহমেদ আজম খান ইতোমধ্যে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মেধা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন অর রশীদ খান বলেন, “আমরা গর্বিত যে আমাদের নেতা তারেক রহমান অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে আহমেদ আজম খান ভাইয়ের অবদানকে মূল্যায়ন করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিলে বাসাইল–সখীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে।” বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ওয়াদুদ হোসেন খান বলেন, “তিনি একজন তৃণমূলের নেতা। মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকেন। আমরা চাই তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান, যাতে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।” তরুণ উদ্যোক্তা তানভীর ইসলাম রিপনের মতে, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে নারী সংগঠক সুমনা ইসলাম রিলি আশা প্রকাশ করে বলেন, দায়িত্ব পেলে নারীশিক্ষা, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। বাসাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর বলেন, “শত বছরের পুরনো থানা বাসাইল থেকে আজ পর্যন্ত কেউ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব বা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পায়নি। দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা আহমেদ আজম খান বাসাইল-সখীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের আশা ও ভরসার প্রতীক। তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করা হলে অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।” স্থানীয়দের মতে, সখীপুরসহ পুরো এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। তাদের বিশ্বাস, আহমেদ আজম খান মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং টাঙ্গাইলের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আহমেদ আজম খান ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর পান ৭৭ হাজার ১৩০ ভোট। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি এলাকায় শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেন, যা এখন তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পাওয়ার আলোচনায় সামনে নিয়ে এসেছে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় নিরলসভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ।শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে শিক্ষার মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি আজ দুর্গাপুর অঞ্চলে একটি আদর্শ ও অনুকরণীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা শুধু পাঠ্যসূচির গণ্ডিতে আবদ্ধ কোনো প্রক্রিয়া নয়,শিক্ষা হলো মানুষের মনন গঠন, নৈতিকতা বিকাশ এবং একটি আলোকিত সমাজ নির্মাণের ভিত্তি। এই গভীর উপলব্ধিকে ধারণ করেই চলছে নিরন্তর পাঠদান। বুধবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ডনবস্কো স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে সরেজমিন ঘুরে এমন উৎফুল্ল চিত্র দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে,প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা শান্ত পরিবেশে অবস্থিত ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজের ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক নিরাপদ ও অনুকূল শিক্ষাঙ্গন পরিবেশ। সুবিন্যস্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ, সুবিশাল খেলার মাঠ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এখানে গড়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা।এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাবিদ, প্রশাসন ও অভিভাবকদের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন,ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তাঁরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন,শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন,শিক্ষকদের পাঠদানের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, শিক্ষার মান ও পরিচালন ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। আধুনিক,বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কার্যক্রমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মি.রুমন রাংসা বলেন,বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি ভার্সন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।নেত্রকোণা জেলায় মাত্র একটি ইংরেজি ভার্সন স্কুল যেটি দুর্গাপুর উপজেলায় ডনবস্কো স্কুলে চলমান রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান,ডিজিটাল ক্লাসরুম, ক্লাব কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের দলগত কাজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশে নিয়মিত বিতর্ক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে নিয়মিত সমাবেশ, নৈতিক শিক্ষাক্লাস, মূল্যবোধভিত্তিক আলোচনা এবং সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।এতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই সততা, সহনশীলতা, শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। আমরা নতুন নতুন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই,প্রতিষ্ঠানের মূল অঙ্গীকার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক তাঁর বক্তব্যে বলেন,আমি বিশ্বাস করি ভালো মানুষ গড়াই সেরা শিক্ষা। আমাদের লক্ষ্য কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়,আমরা নতুন নতুন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই, যারা জ্ঞান,নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। তিনি আরও বলেন,শৃঙ্খলা,ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সেবা,সহশিক্ষা কার্যক্রম ও খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। মিখায়েল রেমা নামে এক অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার সন্তানকে শুধু ভালো ছাত্র নয়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সেখানে ভর্তি করেছি। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ সেই স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ দুর্গাপুর অঞ্চলে শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা কেবল ভালো ফলাফলই অর্জন করছে না; বরং মানবিকতা,নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ডনবস্কো স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক বলেন, আলোকিত সমাজ গঠনে ও সমাজের পিঁছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কাজ করে যাচ্ছি। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ নতুন নতুন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরির দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মানসম্মত ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে একটি আলোকিত, মানবিক ও সচেতন সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গাপুরে ২০১০ সালে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল প্রতিস্টা লাভ করে। ২০১৮ সালে ডনবস্কো কলেজ স্থাপিত হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বজলুর রহমান আনসারী বলেন,ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশ করলেই যে শৃঙ্খলাবোধ ও সুশাসনের পরিবেশ চোখে পড়ে, তা সত্যিই ব্যতিক্রমী। শিক্ষার্থীদের আচরণ, শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব এবং সার্বিক পরিবেশ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে পথ দেখাতে পারে। আমি প্রতিস্টানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন,এই প্রতিষ্ঠানে এসে বোঝা যায়,এখানে শুধু পরীক্ষার ফলাফলকে প্রধান্য দেয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা দান করা হচ্ছে। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব উদাহরণ।
ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় নবনির্বাচিত এমপি লুৎফর রহমান খান আজাদ। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ।উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।সভায় বক্তব্যকালে এমপি লুৎফর রহমান খান আজাদ বলেন ঘাটাইলের সার্বিক উন্নয়নই আমার অগ্রাধিকার। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।তিনি বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও সমস্যাবলি তুলে ধরেন এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেন।সভায় রমজান মাস ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। স্থানীয়রা আশা করছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সক্রিয় সম্পৃক্ততায় ঘাটাইল উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত ছয় সিটি প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ নগর উন্নয়ন সেবার মানোন্নয়ন ও সুশাসনে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে নবনিযুক্ত ছয় সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবনিযুক্ত প্রশাসকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন দেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সিটিকরপোরেশনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশাসকদের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ও জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যানজট নিরসন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং নগর অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। মন্ত্রী আরও বলেন,নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেবা প্রদানে গতি আনতে হবে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।সাক্ষাৎকালে ছয় সিটির প্রশাসকরা তাঁদের দায়িত্ব পালনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁরা নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা কর আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়। উল্লেখ্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এ মো. আব্দুস সালামঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এ মো. শফিকুল ইসলাম খানখুলনা সিটি কর্পোরেশন-এ নজরুল ইসলাম মঞ্জুসিলেট সিটি কর্পোরেশন-এ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীনারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন-এ মো. সাখাওয়াত হোসেন খানগাজীপুর সিটি কর্পোরেশন-এ মো.শওকত হোসেন সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় প্রশাসকরা দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নকে সামনে রেখে তাঁরা কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ সাক্ষাৎ নগর প্রশাসনে সমন্বয় ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার ৪২ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জোরালো অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ টাঙ্গাইল। জেলা পুলিশ সূত্র জানায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার সব থানা ও ইউনিটকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর ফলশ্রুতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং আদালতের পরোয়ানামূলে মোট ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রিভেন্টিভ মামলার আসামি বিভিন্ন নিয়মিত মামলার পলাতক আসামি পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অপরাধ প্রবণতা রোধ মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, অপরাধ ও মাদক নির্মূলে জনসাধারণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরাধসংক্রান্ত তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গোপালপুরে গভীর রাতে ৮টি ঘোড়া জবাই এলাকাবাসীর গেরাওয়ে ৪ জন আটক, ঘোড়ার মাংস গরুর নামে বিক্রির অভিযোগ স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন গোপালপুর (টাঙ্গাইল), ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় গভীর রাতে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের চোরের ভিটা গ্রামে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) রাত আনুমানিক দুইটার দিকে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এলাকাবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, চোরের ভিটা গ্রামের হাফিজুর রহমানের বাড়িতে গভীর রাতে গরু জবাইয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে সন্দেহ জাগে। পরে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে গরু নয় বরং অন্তত ৮টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি ঘোড়া জীবিত অবস্থায় বেঁধে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস প্যাকেটজাত করার কাজ চলছিল। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের ধাওয়া করে চারজনকে হাতেনাতে আটক করে এবং বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তবে ঘটনার সময় বাড়ির মালিক হাফিজুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। আটককৃতদের কাছ থেকে জবাইকৃত ঘোড়ার বিভিন্ন অংশ, মাংস প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। আটক চারজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তাদের বাড়ি রংপুর জেলায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করে আসছিল। এর আগেও এলাকায় সন্দেহ থাকলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন সচেতন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে গোপালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক চারজনকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। গোপালপুর থানার দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জবাইকৃত ঘোড়ার সঠিক সংখ্যা, মাংস কোথায় সরবরাহ করা হতো এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না—সব বিষয় খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন।
রমজানকে ঘিরেগোপালপুরে বাজার তদারকি জোরদার পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে উপজেলা প্রশাসন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর তদারকিতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এই তদারকি কার্যক্রমে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নবাব আলী। প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপজেলার বিভিন্ন বাজার, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য যাচাই করা হয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পণ্যের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রি না করার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি মজুতদারি কিংবা অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রমজান মাসব্যাপী বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এলেঙ্গা বাজারে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাজার এলাকায় পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) কালিহাতি উপজেলার এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রশাসনের উদ্যোগে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন কালিহাতি টাঙ্গাইলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় বাজারে বিভিন্ন মুদি দোকান কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আড়ত পরিদর্শন করা হয়।অভিযানকালে ব্যবসায়ীদেরনিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখা দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টানানো এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজান মাসজুড়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ দখলদারিত্ব ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ পুলিশ-এর টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার-এর নির্দেশে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাঠে নামে পুলিশের একটি বিশেষ টিম। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টাঙ্গাইল সদর সার্কেল) এইচ.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এবং ডিবি (উত্তর) টাঙ্গাইলের অফিসার ইনচার্জ এ.বি.এম.এস দোহার সার্বিক তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মহড়ার অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্কের বাজার, পাঁচ আনি ও ছয় আনি বাজার, ভিক্টোরিয়া রোড, নতুন বাসস্ট্যান্ড ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক এলাকায় পুলিশের সদস্যরা হ্যান্ড মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করেন। চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। দিনব্যাপী মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জি, সেকেন্ড অফিসার রাফিউল করিম, ডিবি (উত্তর) ও ডিবি (দক্ষিণ) টাঙ্গাইলের অন্যান্য কর্মকর্তা ও ফোর্স সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে অংশগ্রহণ করেন, যা কর্মসূচিকে আরও জনমুখী করে তোলে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ দখলদারিত্ব ও মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানাতে জনসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ কন্ট্রোলরুম, টাঙ্গাইল (০১৩২০০৯৭২৯৮), টাঙ্গাইল সদর থানা অথবা ডিবি টাঙ্গাইলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের বিশেষ মহড়া ও অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়। পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টিম সার্বক্ষণিক মাঠে সক্রিয় রয়েছে। কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকলে কিংবা এমন তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পুলিশের সব ইউনিট প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই মাঠপর্যায়ে এই বিশেষ মহড়া পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে মতবিনিময় সভা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ ঢাকার উদ্যোগে মালিক-শ্রমিকদের সাথে বৈঠক ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে সাভার আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ নিরসনে ফ্যাক্টরি মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ ঢাকার উদ্যোগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়স্থ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) আবু কালাম সিদ্দিক পুলিশ সুপার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ ঢাকা জনাব মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূইয়া পিপিএম এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধি। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মাহাবুবুল হক সজীব (পিপিএম) জনাব সৈয়দ ফয়সাল ইসলাম মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জনাব মোঃ রায়হান উদ্দিন মুরাদসহ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে— শ্রম সংক্রান্ত সমস্যা এককভাবে ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান ইচ্ছাকৃতভাবে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি না করা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সড়ক অবরোধ থেকে বিরত থাকা শ্রমিকদের বেতন যথাসময়ে পরিশোধ মালিকদের বাসভবন ঘেরাও না করা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মার্চ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস প্রদান নিশ্চিত করা।সভায় বক্তারা বলেন শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং শ্রমিক-মালিক উভয় পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে যেকোনো সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।পরিশেষে পুলিশ সুপার উপস্থিত সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক উত্তেজনা: সাবেক বিএনপি নেতা ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীমসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পাল্টা অভিযোগটাঙ্গাইলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীমসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ দুপুরআনুমানিক ১টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর দোয়া মাহফিল উপলক্ষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাওয়াত দিতে যান আবু নাসের আল আমিন পাপন ও তার সহযোগীরা। এ সময় শান্তিকুঞ্জ রোডস্থ সিএনজি শ্রমিক অফিসের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।এজাহারে উল্লেখ করা হয় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে হামলার অভিযোগ তুলে কয়েকজনকে গুরুতর জখম করার কথা বলা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাব্বির আহম্মেদ সাদী ও বিপ্লব আরেফিন খানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীমের নাম উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আরও ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহে ব্যস্ত থাকায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এদিকে মামলা দায়েরের পর অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপির দুর্দিনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং এতে টাঙ্গাইল সদরের জনগণ তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে জয়লাভের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং তাদের দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।
৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত জয় দিয়ে শুভ সূচনা করেছে টাঙ্গাইল জেলা দল। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত প্রতিযোগিতার জামালপুর ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাগুরা জেলাকে ৬১ রানে পরাজিত করে তারা। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় জামালপুর স্টেডিয়াম মাঠে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় টাঙ্গাইল জেলা দল। উদ্বোধনী জুটিতে জিম্বাবুয়ের মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রিফাত বেগ ও লিমন দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। তাদের জুটিতে আসে ৫৫ রান। পরে লিমন ও জয়রাজ শেখ ইমনের জুটি দলীয় স্কোরকে ৮৭ রানে পৌঁছে দেয়। অধিনায়ক মেহেদী মারুফকে সঙ্গে নিয়ে লিমন স্কোরকে ১৩৩ পর্যন্ত নিয়ে গেলেও মধ্যক্রমে হঠাৎ ধস নামে। রুবেল মিয়া, প্রিতম ও রাকিব দ্রুত ফিরে গেলে ৭ উইকেটে দলীয় রান দাঁড়ায় ১৪৬। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলের স্ট্যান্ডবাই অলরাউন্ডার দেবাশীষ সরকার দেবা দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। মাত্র ৩৬ বলে ৬টি ছক্কা ও ৩টি চারে অপরাজিত ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তিনি দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন। লোয়ার অর্ডারে ইমতিয়াজ আহমেদ, জহিরুল ও আলী ওমর আবিরের কার্যকর ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে টাঙ্গাইলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৫২ রান। প্রতিপক্ষ মাগুরা জেলার হয়ে মিনহাজুল ইমন ৪১ রানে ৬টি উইকেট শিকার করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে মাগুরা জেলা দল। টাঙ্গাইলের স্পিনার জহিরুল, ইমতিয়াজ, রাকিব ও প্রীতমের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ৩০ ওভারে ৯৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় মাগুরা। তবে মিনহাজুল ইমন (৫১) ও মেহেদী হাসান (৩৩) অষ্টম উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়ে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমান। শেষ পর্যন্ত ৪৬.২ ওভারে ১৯১ রানে অলআউট হলে টাঙ্গাইল ৬১ রানের জয় নিশ্চিত করে। বোলিংয়ে টাঙ্গাইলের জহিরুল ৪২ রানে ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া প্রীতম ও রাকিব দুটি করে উইকেট শিকার করেন। আগামী ২৬ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ জেলা দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাঙ্গাইল জেলা দল। এদিকে একই দিনে টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত অপর ম্যাচে ফরিদপুর জেলা ৭৪ রানে বরিশাল জেলা দলকে হারিয়েছে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ফরিদপুর ৩৮.৪ ওভারে ১৭৫ রানে অলআউট হয়। জবাবে বরিশাল ৩৯.৪ ওভারে ১০১ রানে গুটিয়ে গেলে সহজ জয় পায় ফরিদপুর।
মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কবর জিয়ারত ও ছাত্রদলের শুভেচ্ছা ।মাভাবিপ্রবি সংবাদদাতা ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে এসেছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি)। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তাঁর সফর শুরু হয়। এসময় বিশ্বিবদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে নেতাকর্মীরা জাতীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীপরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের জন্য দুটি ও মেয়েদের জন্য দুটি নতুন হল স্থাপনের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও বিদ্যমান শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সংস্কারের আবেদন জানানো হয়।
টাঙ্গাইলে ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জন গ্রেপ্তার প্রিভেন্টিভ পরোয়ানা ও নিয়মিত মামলায় জেলা পুলিশের অভিযান জোরদার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মামলা পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলার সকল থানা ও ইউনিটে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টহল সন্দেহভাজনদের যাচাই-বাছাই এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। জেলা পুলিশ জানিয়েছে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চাঁদাবাজি-ছিনতাই প্রতিরোধে মাঠ কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা দিলেন আইজিপি বাহারুল আলম ২২ ফেব্রুয়ারি — চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে সারাদেশে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম বিপিএম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কোনো মূল্যে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সকল ইউনিট প্রধান মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।সভায় আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক—এই তিন অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। কেউ এসব অপরাধে জড়িত থাকলে দলমত নির্বিশেষে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের তৎপরতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আইজিপি। তিনি হাইওয়ে পুলিশ-কে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে হাইওয়ে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়ক এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।সভায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিগণ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে।
টাঙ্গাইলের টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দেশের অন্যতম ঘরোয়া ক্রিকেট আসর ৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ–এর ভেন্যু খেলা। উদ্বোধনী ম্যাচেই জমে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যেখানে কুষ্টিয়া জেলা দল ২ উইকেটে বগুড়া জেলা দলকে পরাজিত করে শুভ সূচনা করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)–এর আয়োজনে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল ভেন্যুর খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্চয় কুমার মহন্ত। টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য মমিনুর রশীদ তালকুদার শাইন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য ও জেলা ক্রিকেট কোচ ইসলাম খান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা আম্পায়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজ তালুকদার বাপ্পী এবং টাঙ্গাইল স্পোর্টস একাডেমির সহকারী কোচ মেহেদী হাসান রাসেল। খেলার শুরুতেই টস জিতে বগুড়া জেলা দল প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারের ম্যাচে তারা ৪২.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে রেদুয়ান ৩৪ ও রিফাত ২৯ রান করেন। কুষ্টিয়া দলের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে মুহিত মাত্র ২২ রান খরচায় ৫টি উইকেট শিকার করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কুষ্টিয়া জেলা দলও চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৪১.৩ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। দলের পক্ষে উৎস ৫২ ও জীবন ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। বগুড়া দলের আবির ৩টি উইকেট দখল করেন। টাঙ্গাইল ভেন্যুতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলো—কুষ্টিয়া, বগুড়া, ফরিদপুর ও বরিশাল জেলা। প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা আশা করছেন, টাঙ্গাইল ভেন্যুর খেলাগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপভোগ করবেন দর্শকরা। উদ্বোধনী ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন একরামুল হক ডিউক ও তমাল বিহারী দাস এবং স্কোরার হিসেবে ছিলেন উত্তম গৌড়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নকে ঘিরে টাঙ্গাইল জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সমর্থকদের মধ্যে জোরালো আলোচনায় উঠে এসেছেন ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও আফরোজা খন্দকার (নিপু)। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে তার ঘনিষ্ঠরা দাবি করেন। তবে এসব চাপের মধ্যেও তিনি দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নেতৃত্বের গুণাবলি ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯০-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করে। সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই নেত্রী রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন। নিজ এলাকা মির্জাপুরসহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে দলীয় সংগঠন শক্তিশালীকরণ, নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং জনসেবামূলক উদ্যোগে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষে জনসংযোগ কার্যক্রমেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বনানী-ভাসানটেক এলাকায় গঠিত জনসংযোগ উপকমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তার পারিবারিক পরিচয়ও রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। তার স্বামী মো. সাইদুর রহমান (সাইদ সোহরাব) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত জিএস এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আফরোজা খন্দকার (নিপু)কে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হলে দল উপকৃত হবে। তাদের মতে, তিনি মনোনয়ন পেলে দলীয় রাজনীতি ও জনসেবায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি তারিখে মিডিয়া সেল জেলা পুলিশ কিশোরগঞ্জ পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্যকে সামনে রেখে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।অদ্য ২৪/০২/২০২৬ খ্রি.বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার ড. এস. এম ফরহাদ হোসেন। তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাজিতপুর সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার (ভৈরব সার্কেল)সহ কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সকল সিনিয়র কর্মকর্তা।সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন রমজান মাস আত্মশুদ্ধি সহমর্মিতা ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো পুলিশ বাহিনীর নৈতিক দায়িত্বের অংশ। তিনি এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিতদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা পুলিশের এ উদ্যোগকে সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের নিবিড় বাজার তদারকি অভিযান ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ জেলাজুড়ে ব্যাপক বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও বাণিজ্যকেন্দ্রে এ অভিযান পরিচালিত হয়। তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রয়, পণ্যের মান ও মেয়াদ যাচাই এবং ওজনে কারচুপি রোধে কঠোর নজরদারি করা হয়। অভিযান চলাকালে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মনিটরিং কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে যাতে কোনো অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সচেতন ক্রেতারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে বলেন নিয়মিত ও কঠোর তদারকি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে সক্ষম হবেন
জনদুর্ভোগ লাঘবে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নে লৌহজং নদীর ওপর ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২১ সালের মে মাসে শুরু হলেও রহস্যজনক কারণে ২০২৫ সালের জুন মাসেও কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘ পাঁচ বছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ কাজ শুরুর দুই বছরের মাথায় সেতুর একটি গার্ডার ধসে পড়ে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলেও সেই রিপোর্ট আজও প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে তদন্ত প্রতিবেদনটি ফাইলবন্দি করে রাখা হয়েছে, যাতে দায় এড়াতে পারে সংশ্লিষ্টরা। পরে ধসে পড়া গার্ডার সংস্কার করেই আবার নির্মাণকাজ চালানো হয়। জানা যায়, যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও ঝুঁকি কমানো এবং কালিহাতী উপজেলার সঙ্গে টাঙ্গাইল সদর ও ভূঞাপুর উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। এদিকে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় মানুষকে এখনও খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নদী পার হতে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না, রোগী পরিবহনেও তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত বাড়তি নৌকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই শুরুতেই গার্ডার ধসে পড়েছিল। দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এডভোকেট আহমেদ আজম খান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে মন্ত্রিসভায় তাঁকে দেখতে চায় টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখীপুর) আসনের জনগণ। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাঁর নেতৃত্বে অবহেলিত এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে আহমেদ আজম খান ইতোমধ্যে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মেধা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন অর রশীদ খান বলেন, “আমরা গর্বিত যে আমাদের নেতা তারেক রহমান অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে আহমেদ আজম খান ভাইয়ের অবদানকে মূল্যায়ন করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিলে বাসাইল–সখীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে।” বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ওয়াদুদ হোসেন খান বলেন, “তিনি একজন তৃণমূলের নেতা। মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকেন। আমরা চাই তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান, যাতে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।” তরুণ উদ্যোক্তা তানভীর ইসলাম রিপনের মতে, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে নারী সংগঠক সুমনা ইসলাম রিলি আশা প্রকাশ করে বলেন, দায়িত্ব পেলে নারীশিক্ষা, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। বাসাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর বলেন, “শত বছরের পুরনো থানা বাসাইল থেকে আজ পর্যন্ত কেউ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব বা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পায়নি। দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা আহমেদ আজম খান বাসাইল-সখীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের আশা ও ভরসার প্রতীক। তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করা হলে অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।” স্থানীয়দের মতে, সখীপুরসহ পুরো এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। তাদের বিশ্বাস, আহমেদ আজম খান মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং টাঙ্গাইলের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আহমেদ আজম খান ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর পান ৭৭ হাজার ১৩০ ভোট। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি এলাকায় শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেন, যা এখন তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পাওয়ার আলোচনায় সামনে নিয়ে এসেছে।