টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ৩৩ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের চলমান কঠোর অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ সর্বমোট ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে মাঠ পর্যায়ে জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ ডিবি ও অন্যান্য ইউনিট যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ তল্লাশি ও চেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে প্রিভেন্টিভ মামলায় নিয়মিত মামলা মাদক সংক্রান্ত মামলা এবং আদালতের জারিকৃত পরোয়ানামূলে মোট ৩৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একটি পৃথক অভিযানে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ১ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ মাদক নির্মূল সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ কাজ করছে এবং জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানা অথবা পুলিশের নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়।
গোপালপুরে যৌথ বাহিনীর চেকপোস্ট, ১৫টি মোটরসাইকেল আটক টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে কাগজপত্র ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ১৫টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত গোপালপুর থানা মোড় এলাকায় বিজিও নং–৫২৭৪৫ ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ এরশাদ আলীর নেতৃত্বে একটি টহল দল এবং গোপালপুর থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। চেকপোস্ট চলাকালে বিভিন্ন মোটরসাইকেল তল্লাশি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় ১৫টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। পরে আটককৃত মোটরসাইকেলগুলো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোপালপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা যানবাহন চালকদের সড়ক আইন মেনে চলা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং নিরাপদভাবে যানবাহন পরিচালনার বিষয়ে সচেতন করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় টাঙ্গাইলে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ, টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বিএনপি মনোনীত টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষের এমপি পদপ্রার্থী এবং বিএনপি টাঙ্গাইল জেলা নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। আজ আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন তিনি তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।” তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। তার আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাবে।” অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বাসাইলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশসহ নিহত ২, আহত ২ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক পথচারীসহ মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভাতকুড়া–নলুয়া ভায়া বাসাইল সড়কের বাসাইল এমদাদ-হামিদা ডিগ্রি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন—টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গোসাইজোয়াইর এলাকার মোটরসাইকেল চালক মিন্টু মিয়ার ছেলে মিলন (২৪) এবং বাসাইল পৌরসভার চকপাড়া এলাকার মৃত মোকসেদ খানের ছেলে আরফান খান (৭৫)। আরফান খান অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায় সখীপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত ফাইলা পাগলার মেলা থেকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন আরোহী বাসাইলের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাসাইল কলেজের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে হাঁটতে থাকা এক পথচারীর ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পথচারী আরফান খান ও মোটরসাইকেল চালক মিলন মারা যান।দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন দুর্ঘটনায় এক পথচারী ও মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহত দুইজন বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লৌহজংয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লৌহজং থানার একটি আভিযানিক দল উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় বেইলি ব্রিজের পশ্চিম পাশের সড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন এক যুবককে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে তিনটি পলিথিনে মোড়ানো মোট ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম তৈয়ব মিয়া (২৭)। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার কামারখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম নুরুল হক মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে গ্রেপ্তারকৃত তৈয়ব মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ জানায়, জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
নবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হেরোইন ও ইয়াবাসহ একাধিক মামলার পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। এ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে যা এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার আলম আজাদ-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস ও প্রশিক্ষিত দল এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মোঃ বিল্পব হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় গ্রেপ্তারের সময় আসামির হেফাজত থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ০৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৩২ হাজার টাকা এবং উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায় গ্রেপ্তারকৃত মোঃ বিল্পব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে সে পলাতক অবস্থায় মাদক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানান মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঢাকা জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের ব্যাপক অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার ২৫ ও নাগরপুরে জমি সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডে তিন আসামি আটক ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন মাদক নির্মূল এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত নিয়মিত মামলা ও প্রিভেন্টিভ মামলায় মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্র জানায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মানিত পুলিশ সুপার (এসপি) টাঙ্গাইল মহোদয় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের মাঠে থেকে সমন্বিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জনবহুল এলাকা ও অপরাধপ্রবণ স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়।অভিযানকালে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হলে বিভিন্ন স্থান থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।এদিকে নাগরপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাগরপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায় গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ আরও জানায় গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্যদের মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত আসামি নিয়মিত মামলার আসামি এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী ব্যক্তিরাও রয়েছে। অভিযানে জেলার প্রতিটি থানা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় এবং রাতভর টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়। জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানান সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত জেলা গড়তে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তারা।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারীকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাসের চালক, হেলপার ও সহযোগীসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজমের আদালতে তারা এ জবানবন্দি দেন। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২৬ বছর বয়সী ওই নারী ঢাকার সাভার রেডিও কলোনী এলাকা থেকে আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহন নামের একটি বাসে ওঠেন। ওই সময় বাসটিতে মাত্র দুইজন যাত্রী ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে অভিযুক্তরা ওই নারীকে জোরপূর্বক বাসে আটকে রাখে। এরপর বাসটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে এবং রাতভর তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া ইউনিয়ন আন্ডারপাস এলাকায় সন্দেহজনকভাবে বাসটি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাইওয়ে পুলিশ সেটি আটক করে। পরে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। এ সময় বাসের চালক, হেলপার ও চালকের সহযোগীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বাসের চালক আলতাফ (২৫) বাসের হেলপার সাগর (২৪) চালকের সহযোগী রাব্বি (২১) গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসাধীন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে তারা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। টাঙ্গাইল কোর্ট ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন জানান, আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে সাতজনই কোটিপতি। অপর একটি আসনের প্রার্থী নিজে কোটিপতি না হলেও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় বেশি। এছাড়া টাঙ্গাইলে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া দুই ভাইস চেয়ারম্যানসহ তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার ক্ষেত্রে দেখা গেছে—স্ত্রীদের আয় ও সম্পদ স্বামীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন— টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর): কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসির। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর): কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার): কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল লাভলু। টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর): কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল): বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (টাঙ্গাইল-১) সম্পদ: ৩ কোটি ৯২ লাখ ৬৫ হাজার ৩৪২ টাকা বাৎসরিক আয়: ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫০ টাকা তাঁর স্ত্রী রেশমা আনামের— সম্পদ: ২ কোটি ৫৮ লাখ ৮ হাজার ১৮৬ টাকা বাৎসরিক আয়: ১৩ লাখ ১১ হাজার ২৫০ টাকা। আবদুস সালাম পিন্টু (টাঙ্গাইল-২) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টুর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার ৬২৬ টাকা। তাঁর বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৭৫৫ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিলকিস বেগমের— সম্পদ: ২ কোটি ৭ লাখ ১ হাজার ৮৬০ টাকা বাৎসরিক আয়: ১৪ লাখ ২৯ হাজার ২৩ টাকা। এস এম ওবায়দুল হক নাসির (টাঙ্গাইল-৩) সম্পদ: ১ কোটি ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৯ টাকা বাৎসরিক আয়: ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২০৭ টাকা তাঁর স্ত্রী রিনাত ফৌজিয়ার— সম্পদ: ১ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার ২০৭ টাকা বাৎসরিক আয়: ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৭ টাকা। লুৎফর রহমান মতিন (টাঙ্গাইল-৪) সম্পদ: ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪২২ টাকা বাৎসরিক আয়: ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ টাকা তবে হলফনামা অনুযায়ী তাঁর নামে ২২ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা ও স্থায়ী আমানতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তাঁর নগদ ও ব্যাংক আমানতের পরিমাণ ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮১ টাকা।বাৎসরিক আয়: ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৭ টাকা ঘোষিত মোট সম্পদ: ২ কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৬ টাকা অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী সায়মা পারভীন সিম্মির— বাৎসরিক আয়: ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৮ টাকা মোট সম্পদ: ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৩২৫ টাকা। এছাড়া মামলার সংখ্যার দিক থেকেও তিনি শীর্ষে রয়েছেন। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ২৩৮টি মামলা থাকলেও সবগুলো থেকেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। রবিউল আওয়াল লাভলু (টাঙ্গাইল-৬) বাৎসরিক আয়: ৪ লাখ ৬০ হাজার ৪২২ টাকা সম্পদ: ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৮২ টাকা অন্যদিকে তাঁর শিক্ষক স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের— বাৎসরিক আয়: ২৪ লাখ ৫০ হাজার ২৪৪ টাকা সম্পদ: ২ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৫৬৫ টাকা। আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৭) বাৎসরিক আয়: ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭১২ টাকা সম্পদ: ৫৮ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৭ টাকা তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আজাদের— বাৎসরিক আয়: ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৯ টাকা সম্পদ: ২ কোটি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪২ টাকা। আহমেদ আযম খান (টাঙ্গাইল-৮) সম্পদ: ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬১ হাজার ১৩৯ টাকা বাৎসরিক আয়: ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ টাকা তাঁর স্ত্রী নার্গিস সিদ্দিকার— পেশা: কর্পোরেট চেম্বার প্র্যাকটিস সম্পদ: ২ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৬২ টাকা বাৎসরিক আয়: ২৩ লাখ ৫ হাজার ২৭৬ টাকা। হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের অধিকাংশই বিপুল সম্পদের মালিক। পাশাপাশি একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্ত্রীদের আয় ও সম্পদ স্বামীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি—যা এবারের নির্বাচনে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টাঙ্গাইলে অপরাধ দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান মাদক উদ্ধারসহ ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৭ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় মাদক ব্যবসা পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সরাসরি নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের নেতৃত্বে একযোগে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন এ অভিযানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট টহল ও বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়।অভিযানের অংশ হিসেবে প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে জেলা পুলিশ। এ সময় ১২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকসহ ৪ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে জেলা পুলিশ। মাদক সমাজ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এদিকে জেলা পুলিশের এ ধরনের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানান নিয়মিত অভিযান ও টহল বাড়লে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে এবং জননিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও মাদক নির্মূলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় ।
গোপালপুর-ভুয়াপুরে জামায়াতে ইসলামীতে গণযোগদান, বিএনপিসহ বিভিন্ন দল থেকে শতাধিক নেতাকর্মীর অন্তর্ভুক্তি গোপালপুর (টাঙ্গাইল), ১৬ জানুয়ারি ২০২৬: টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভুয়াপুর এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে গণযোগদান উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আগত প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। স্থানীয় একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে গোপালপুর ও ভুয়াপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর-ভুয়াপুর আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ নেতা, পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী একটি সংগঠন। তিনি বলেন, “জনগণের নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আজ যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সচেতনতারই প্রতিফলন।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণ একটি সৎ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প নেই। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন যোগদানকারীদের মাধ্যমে সংগঠন আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে। অনুষ্ঠান শেষে নবযোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গোপালপুর-ভুয়াপুর অঞ্চলে এই গণযোগদান আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে
বাংলাদেশে প্রথম সরকারি MVNO সিম আনছে বিটিসিএল টেলিকম খাতে নতুন যুগের সূচনা কম দামে ইন্টারনেট ও কল সুবিধার প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সরকারি Mobile Virtual Network Operator (MVNO) সিম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি যা গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও বহুমুখী ডিজিটাল সেবার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।MVNO হলো এমন একটি মোবাইল অপারেটর ব্যবস্থা যেখানে নিজস্ব টাওয়ার বা অবকাঠামো না থাকলেও বিদ্যমান মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের (যেমন টেলিটক) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। বিটিসিএল এই মডেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে উন্নত সেবা পৌঁছে দিতে চায়।কম দামে ইন্টারনেট ও কল সুবিধা বিটিসিএল MVNO সিমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্য কাঠামো। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৮ টাকায় ১ জিবি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্তমানে দেশের টেলিকম বাজারে অন্যতম সর্বনিম্ন মূল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।ট্রিপল-প্লে ও কোয়াড-প্লে সেবার পরিকল্পনাএকটি মাত্র সিমের মাধ্যমেই গ্রাহকদের জন্য একাধিক সেবা একত্রে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিটিসিএল। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে— ভয়েস কল সুবিধা উচ্চগতির মোবাইল ডেটা আলাপ অ্যাপের মাধ্যমে ইন্টারনেটভিত্তিক ও সাধারণ কলের সমন্বিত সুবিধা বিভিন্ন OTT প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল কনটেন্ট সাবস্ক্রিপশনএতে করে গ্রাহকরা একই সঙ্গে যোগাযোগ ইন্টারনেট ও বিনোদনের সুবিধা পেতে পারবেন।আনলিমিটেড কল ও ডেটা প্যাকেজ বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আনলিমিটেড ভয়েস কল ও ডেটা প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ফ্রিল্যান্সার ও পেশাজীবীদের কথা মাথায় রেখে এসব প্যাকেজ ডিজাইন করা হচ্ছে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সরকারি উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিসিএল MVNO সিমের মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সুলভ মূল্যে স্মার্ট কানেক্টিভিটি পৌঁছে দিতে চায়। এতে করে ডিজিটাল ডিভাইড কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।অবকাঠামো ছাড়াই আধুনিক সেবানিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো না থাকায় বিশাল রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের প্রয়োজন পড়বে না। ফলে বিদ্যমান অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কম খরচে উন্নত সেবা প্রদান সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিটিসিএল জানিয়েছে খুব শিগগিরই MVNO সিমের প্যাকেজ শর্তাবলি ও প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট অভিযান জোরদার ৭৭ মোটরসাইকেল আটক জরিমানা আদায় সাড়ে তিন লাখ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের বিস্তার রোধ এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নগর ও গ্রামীণ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ এবং জনবহুল এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট। অভিযানে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় চলমান অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পরিবহন রোধ, যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই এবং সাধারণ জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।বিশেষ চেকপোস্ট অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন তল্লাশি করা হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে একাধিক মোটরসাইকেল আটক করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানের সারসংক্ষেপ তল্লাশীকৃত মোট যানবাহন: ৭০৩টি তল্লাশীকৃত মোটরসাইকেল: ১,৫৭৪টি আটককৃত মোটরসাইকেল: ৭৭টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত প্রসিকিউশন: ৮১টি আদায়কৃত মোট জরিমানার পরিমাণ: ৩,৪২,০০০ (তিন লাখ বিয়াল্লিশ হাজার) টাকা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সাধারণ জনগণকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে অপরাধ ও অপরাধী সম্পর্কে যেকোনো তথ্য নিকটস্থ থানা বা পুলিশের নির্ধারিত নম্বরে জানালে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার র্যাব-১৪ ও র্যাব-০৪-এর যৌথ অভিযানে আশুলিয়া থেকে আটক । টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়ের করা পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোঃ সম্রাট (২৮)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের মা পশ্চিম আকুর টাকুরপাড়া হাউজিং মাঠ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযুক্ত সম্রাট একই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ভিকটিম শিশু নিজ বাসার গোসলখানায় গোসল করতে গেলে অভিযুক্ত সম্রাট সেখানে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে।মামলার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম বাদীর ০৫ বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া হাউজিং মাঠ এলাকায় ভাড়া থেকে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। অভিযুক্ত ব্যক্তিও একই এলাকায় বাদির পাশের রুমে ভাড়া থাকে। ঘটনার দিন গত ০৬ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. বিকাল অনুমান ০৫:০০ ঘটিকায় বাদীর শিশুকন্যা ভিকটিম তাহাদের ভাড়া বাসার গোসলখানায় গোসল করতে গেলে অভিযুক্ত সম্রাট (২৮) উক্ত গোসলখানায় প্রবেশ করে, তাহার যৌন কামনা চরিতার্থের উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এই ঘটনায় ভিকটিম এর মাতা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৬(১০)২৫ তারিখ-০৭ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি: ধারা- ৯(৪)(খ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী/ ২০০৩। উক্ত মামলা রুজুর পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সিপিসি-৩, র্যাব -১৪ টাঙ্গাইল ক্যাম্প আসামিকে গ্রেফতারে তৎপর হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজুর পর আসামিকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল ক্যাম্প এবং সিপিসি-২, র্যাব-০৪ সাভার ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন দামসোনা ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়ি রোড এলাকায় এজিস গেটের সামনে থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে টাঙ্গাইল সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব জানিয়েছে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সিনিয়র রিপোর্টার: একাকী কলেজছাত্রীকে রাতভর পাশবিক নির্যাতন। হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা গ্রেপ্তার চালক-হেলপারসহ ৩ জন।একাকী এক নারীর জন্য একটি চলন্ত বাস যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তার নির্মম প্রমাণ মিলেছে ঢাকার রেডিও কলোনি থেকে আশুলিয়াগামী এক রাতের যাত্রায়। মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের দর্শন বিভাগের ২৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী সেই রাতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন স্বাভাবিক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার জীবনের সেই যাত্রা রূপ নেয় বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নে।বাসে যাত্রী কমে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে চালক হেলপার ও তাদের এক সহযোগী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই তরুণীকে আটকে রাখে। প্রথমে ছিনিয়ে নেওয়া হয় তার স্বর্ণালংকার নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন। এরপর শুরু হয় সীমাহীন নিষ্ঠুরতা। রাতভর বিভিন্ন স্থানে বাস ঘুরিয়ে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ভয় দেখাতে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করাও হয় মুখ খুললেই তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া যায়।স্বাভাবিক যাত্রা থেকে ভয়াল বন্দিত্বপুলিশ জানায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই ছাত্রী সাভার পরিবহনের ‘চন্দ্রা-ঢাকা’ রুটের একটি বাসে ওঠেন। বাসে তখন মাত্র দু’জন যাত্রী ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর তারা নেমে গেলে বাসটি একপ্রকার যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে। এই সময়ই চালক ও হেলপার বাস থামিয়ে দরজা বন্ধ করে তাকে জিম্মি করে। চলন্ত বাসে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও গভীর রাতের নিস্তব্ধতায় তার কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায় অন্ধকারে। মৃত্যু আতঙ্কে কেটেছে পুরো রাতভিকটিমের ভাষ্য অনুযায়ী অভিযুক্তরা তাকে বারবার হত্যার হুমকি দেয়। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়েছেআর হয়তো বেঁচে ফেরা হবে না। ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের ভয় দেখানো হয়, যাতে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ না হয়। অন্ধকার ভেদ করে মানবতার উপস্থিতি ভোরের দিকে যমুনাসেতু–টাঙ্গাইল–ঢাকা মহাসড়কের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটির অস্বাভাবিক অবস্থান নজরে আসে হাইওয়ে পুলিশের। মধুপুর–এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার একটি টহল দল সন্দেহ হলে দ্রুত তৎপর হয়। এসআই মাহবুবুর রহমান জানান পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্তরা ভিকটিমকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আচরণে অসঙ্গতি ও এক ব্যক্তিরবাসে ছিনতাই হচ্ছে চিৎকার পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ভিকটিম কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনা জানায়।গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়াপরে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে করটিয়া আন্ডারপাস এলাকা থেকে বাসচালক মো. আলতাফ (২৫), হেলপার মো. সাগর (২৪) ও সহযোগী মো. রাব্বি (২১) কে গ্রেপ্তার করা হয়। মধুপুর–এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. শরীফ জানান, ভিকটিম, গ্রেপ্তারকৃতরা ও বাসটি টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সমাজের আয়নায় এক ভয়ংকর প্রতিবিম্বএই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তাহীনতাঅপরাধীদের দুঃসাহস এবং সামাজিক নজরদারির ঘাটতির নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে।একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে দায়িত্বশীল ও মানবিক পুলিশি তৎপরতা চাইলে অন্ধকারের মাঝেও জীবনের আলো ফিরিয়ে আনা সম্ভব।এই ঘটনা আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়— আইনের শক্তির সঙ্গে মানবিক বোধ জাগ্রত থাকলেই সমাজ নিরাপদ হয়।
মির্জাপুরে র্যাবের অভিযানে ৫৯৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে র্যাব-১৪-এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব। র্যাব সূত্রে জানা যায় সিপিসি-৩ র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকাল আনুমানিক ২টা ৫ মিনিটে মির্জাপুর থানাধীন ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের চড়পাড়া মোড় এলাকায় একটি চেকপোস্ট স্থাপন করে।এ সময় আর কে পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে বাসে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তি মোঃ এনামুল হক (৫৫), থানা—সিংড়া জেলা—নাটোরকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার কাছে অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করেন।পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বহনকৃত ব্যাগ তল্লাশি করে ৫,৯৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তার কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজার মূল্য ১৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা।র্যাব আরও জানায় গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১৪ জানিয়েছে মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে এবং সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড মডেল স্কুলে নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন নবীন বরণ অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল হক শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা পরিচালক এ কে এম ইয়াহিয়া। অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। বক্তব্যকালে অতিথিরা বলেন, কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাডভান্সড মডেল স্কুল শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ অভি, অলিউল্লাহ, হাফিজ উদ্দিনসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং দৈনিক বর্তমান বাংলার দুর্গাপুর উপজেলা প্রতিনিধি শান্ত দে। নবীন বরণ পর্ব শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান, আবৃত্তি ও সুরেলা সংগীত গোষ্ঠীর পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক সাইফুল হক শামীম উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
মোস্তফা মাসুদ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি,২০২৬) কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলী সোহাল হোসেন জুয়েলের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা আখতার।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন অফিসার মাসুদুর রহমান। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা–০৩ (কালিগঞ্জ– আশাশুনি) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পদপ্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং মাইনোরিটি দলের প্রার্থী রুবেল হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রাজীব,কালিগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক নাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাইনুল ইসলাম খান এবং কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু,উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুল ওহাব ও সেক্রেটারি মোঃ আব্দুর রউফ। ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুর রহমান। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. হাফিজুর রহমান শিমুল উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মারুফ হাসান প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা, অনিয়ম কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন বক্তারা। সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি সকল পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য,উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় ২৪ জন গ্রেপ্তার টাঙ্গাইল ১৪ জানুয়ারি ২০২৬জেলায় অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায় সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ ১৮১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ০৫ গ্রাম হেরোইন ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ০৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও মির্জাপুর থানার দেওহাটা পুলিশ চেকপোস্টে একটি বিশেষ অভিযানে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে MISSE ব্র্যান্ডের ৭০ কার্টুন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সিগারেটের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪২ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপরাধ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য পুলিশকে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
মির্জাপুরে ৭০ কার্টুন অবৈধ সিগারেট ও কাভার্ড ভ্যানসহ একজন গ্রেফতার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (৩১)। সোমবার (রাত) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দেওহাটা পুলিশ চেকপোস্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার রফিকুল ইসলাম পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার মসজিদপাড়া এলাকার শামসুল হকের ছেলে। মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দেওহাটা পুলিশ চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক রাসেল আহমেদ এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ রাহাদুজ্জামান আকন্দ ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করেন।তল্লাশিকালে ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৮১২৯ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানটির ভেতর থেকে ৭০ কার্টুন ‘মেসি’ ব্র্যান্ডের সিগারেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত সিগারেটের কার্টুনগুলোতে মোট প্রায় ৫০ হাজার প্যাকেট সিগারেট রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকৃত সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪২ লাখ টাকা।এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানসহ সিগারেট জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে অবৈধ পণ্য পরিবহন ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ৩৩ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের চলমান কঠোর অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ সর্বমোট ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে মাঠ পর্যায়ে জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ ডিবি ও অন্যান্য ইউনিট যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ তল্লাশি ও চেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে প্রিভেন্টিভ মামলায় নিয়মিত মামলা মাদক সংক্রান্ত মামলা এবং আদালতের জারিকৃত পরোয়ানামূলে মোট ৩৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একটি পৃথক অভিযানে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ১ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ মাদক নির্মূল সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ কাজ করছে এবং জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানা অথবা পুলিশের নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়।
গোপালপুরে যৌথ বাহিনীর চেকপোস্ট, ১৫টি মোটরসাইকেল আটক টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে কাগজপত্র ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ১৫টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত গোপালপুর থানা মোড় এলাকায় বিজিও নং–৫২৭৪৫ ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ এরশাদ আলীর নেতৃত্বে একটি টহল দল এবং গোপালপুর থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। চেকপোস্ট চলাকালে বিভিন্ন মোটরসাইকেল তল্লাশি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় ১৫টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। পরে আটককৃত মোটরসাইকেলগুলো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোপালপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা যানবাহন চালকদের সড়ক আইন মেনে চলা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং নিরাপদভাবে যানবাহন পরিচালনার বিষয়ে সচেতন করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় টাঙ্গাইলে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ, টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বিএনপি মনোনীত টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষের এমপি পদপ্রার্থী এবং বিএনপি টাঙ্গাইল জেলা নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। আজ আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন তিনি তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।” তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। তার আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাবে।” অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বাসাইলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশসহ নিহত ২, আহত ২ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক পথচারীসহ মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভাতকুড়া–নলুয়া ভায়া বাসাইল সড়কের বাসাইল এমদাদ-হামিদা ডিগ্রি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন—টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গোসাইজোয়াইর এলাকার মোটরসাইকেল চালক মিন্টু মিয়ার ছেলে মিলন (২৪) এবং বাসাইল পৌরসভার চকপাড়া এলাকার মৃত মোকসেদ খানের ছেলে আরফান খান (৭৫)। আরফান খান অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায় সখীপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত ফাইলা পাগলার মেলা থেকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন আরোহী বাসাইলের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাসাইল কলেজের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে হাঁটতে থাকা এক পথচারীর ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পথচারী আরফান খান ও মোটরসাইকেল চালক মিলন মারা যান।দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন দুর্ঘটনায় এক পথচারী ও মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহত দুইজন বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লৌহজংয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লৌহজং থানার একটি আভিযানিক দল উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় বেইলি ব্রিজের পশ্চিম পাশের সড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন এক যুবককে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে তিনটি পলিথিনে মোড়ানো মোট ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম তৈয়ব মিয়া (২৭)। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার কামারখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম নুরুল হক মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে গ্রেপ্তারকৃত তৈয়ব মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ জানায়, জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।