মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন হচ্ছে নানা আয়োজনে আজ ১৭ নভেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজ সকালে মওলানা ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করেছে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল নানা কর্মসূচি, মিলাদ-মাহফিল, আলোচনাসভা ও তবারক বিতরণ। সূর্যোদয়ের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্মরণসভা পরিবেশ তৈরি হয়। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দের নেতৃত্বে উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টরিয়াল টিম, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে মজলুম জননেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে উপাচার্য বলেন, “মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ছিলেন উপমহাদেশের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, কৃষক-মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসার ব্যাখ্যা প্রজন্মকে আজও অনুপ্রাণিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমরা তাঁর আদর্শকে ধারণ করার চেষ্টা করছি।” এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা ভাসানীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্বগুণ ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আমৃত্যু ভূমিকা তুলে ধরেন। দিবসটি উপলক্ষে ভাসানী পরিবার, ন্যাপ ভাসানী, ভাসানী পরিষদসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনও পৃথকভাবে মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সকাল ৮টায় উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। এছাড়া আজ বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মাওলানা ভাসানীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল গভীর শোক ও শ্রদ্ধার আবহ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রোভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, অফিস প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ভাসানী পরিবার, ন্যাপ ভাসানী, ভাসানী পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভাসানীর মাজারে পৃথক পৃথকভাবে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সকাল ৮ টায় তবারক বিতরণ করা হয়। আজ বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হবে।
টাংগাইল-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীরের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাংগাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীর। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবার (১৬ নভেম্বর) ইশা নামাজের পর গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সওদাগর পাড়া এলাকায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এলাকার সাধারণ মানুষ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ প্রার্থীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাকে স্বাগত জানান। মাওলানা হুমায়ুন কবীর তার বক্তব্যে বলেন, “আমি রাজনীতি করি মানুষের অধিকার, ন্যায়নীতি ও সেবার জন্য। যদি এলাকাবাসী আমাকে সুযোগ দেন, তবে টাংগাইল-২ আসনকে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশের মডেল হিসেবে গড়ে তুলব।” তিনি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনসেবার মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়ানোই তার প্রধান লক্ষ্য, এবং তিনি সকলের মতামতকে মূল্য দিতেই এই ধরনের উঠান বৈঠকের আয়োজন করছেন। বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, এলাকাবাসী পরিবর্তন ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় আছে, এবং সেই প্রত্যাশার প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম প্রার্থী হিসেবে মাওলানা হুমায়ুন কবীরকে তারা সমর্থন জানাচ্ছেন। তারা দলীয় নেতা-কর্মীদের আরও সক্রিয় হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান। অংশগ্রহণকারীরা জানান, দীর্ঘদিন অবহেলিত অনেক সমস্যার সমাধানে তারা নতুন নেতৃত্ব চান, এবং এই ধরনের মতবিনিময় তাদের আরও আশাবাদী করে তুলছে। বৈঠকটি দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম আমার দেশ তাদের সাম্প্রতিক ভিডিও প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে—এমন দাবি তারা উপস্থাপন করেছে। একই মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। ভিডিওতে যেভাবে অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে— ১) ১৪ জুলাইয়ের বক্তব্যকে উস্কানিমূলক উল্লেখ ভিডিও দাবি করে, আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা রাজাকার বংশধর বলে মন্তব্য করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। ২) হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ প্রতিবেদন মতে, আন্দোলনকারীদের দমন করতে এসব অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ৩) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যু রংপুরে গুলিতে নিহত হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার দায়ও মামলার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ৪) চাংখারপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছয়জন আন্দোলনকারী গুলিতে নিহত হন—এ অভিযোগও মামলার অন্তর্ভুক্ত। ৫) মার্চ টু ঢাকা চলাকালে আশুলিয়ায় গুলি ও লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ ভিডিওতে বলা হয়, আশুলিয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হত্যা করে লাশ পোড়ানোর ঘটনা মামলার বড় অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটি প্রথম যার বিচার কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর আগে আদালত অবমাননার আরেক মামলায় শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলেও ভিডিওতে উল্লেখ আসে। ভিডিওটিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৮৩টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলা, দুদক মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এবং গুমের মামলাও অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হয়। বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত চলছে এবং কিছু বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, এই সংবাদে বর্ণিত সব তথ্যই আমার দেশ ভিডিও রিপোর্টে উপস্থাপিত দাবি—স্বাধীনভাবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন, ভারত কোনো পরিস্থিতিতেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে না। দত্ত আল-জাজিরাকে বলেন, “কোনো অবস্থাতেই ভারত তাকে হস্তান্তর করবে না। গত দেড় বছরে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না, বেশ কয়েকবার টানাপড়েনও দেখা গেছে।” আল-জাজিরাকে দত্ত জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর রায় আসা খুবই প্রত্যাশিত ছিল। তার ভাষায়, “দেশের পরিস্থিতি দেখে সবাইই অনুমান করেছিল তার বিরুদ্ধে কঠোর বিচার আসছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বলছে, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাংলাদেশের আইনি কাঠামো অনুযায়ী হয়েছে।” দত্ত দাবি করেন, নিরস্ত্র ছাত্রদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং গুলি করার নির্দেশ নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, “নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর অপরাধ হয়েছে—এ বিষয়ে কারও সন্দেহ নেই। এমনকি প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন—এ ধরনের প্রমাণও রয়েছে।” অধ্যাপক দত্তের মতে, আওয়ামী লীগ এখন পাল্টা বিবরণ তৈরির চেষ্টা করবে। তবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বড় অংশ বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।” জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, উস্কানি, ষড়যন্ত্র ও নির্দেশ—এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। রায়ের পর থেকেই ভারত তাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে কি না, সেই প্রশ্ন জোরালো হয়ে ওঠে। আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে শ্রীরাধা দত্তের মন্তব্যে সেই বিতর্কে আরও স্পষ্টতা আসে।
টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম ওফাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে তাঁর মাজারে পরিবার, বিশ^বিদ্যালয়, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ভক্ত অনুরাগীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। মওলানা ভাসানীর মাজারে সকাল সাড়ে ৭টায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, প্রোভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অফিস প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থদের নিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে ভাসানীর পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় ‘যুগ যুগ জিও তুমি, মওলানা ভাসানী’ স্লোগানে মাজার প্রাঙ্গন প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এদিন পুস্পার্ঘ অর্পন শেষে ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। এ সময় কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির নেতারা বক্তব্য রাখেন।গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নেতা ভিপি নুরুল হক নুর ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল জেলা শাখার আমীর আহসান হাবিব মাসুদের নেতৃত্বে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ভক্ত অনুরাগীরা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে সন্তোষে মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও হুজুরের আত্নার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়েছে। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মওলানা ভাসানীর মাজারে পুস্পার্ঘ অর্পন শেষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আজ খুব ভালো লাগছে। মজলুম জননেতার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরেছি। ইতোপূর্বে এই ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেও আমি রক্তাক্ত হয়েছি। ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে আমাদের ১২ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই সহস্রাধিক কর্মী। আন্তর্জাতিক আদালতে শেখ হাসিনাসহ অন্য ফ্যাসিস্টদের সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে এটাই প্রত্যাশা করেছি। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশে যারা খুন করেছে তাদের প্রত্যেকের বিচার হতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে ফ্যাসিবাদী কায়দায় নির্বিচারে মানুষকে গণহত্যা করা হয়েছে, আদালতে তার বিচার চলছে। আমরা মনে করি আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ অন্যদের ফাঁসির রায় হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। মওলানা ভাসানীর মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা শাখা আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান-২৪ পরবর্তীতে বর্তমানেও বাংলাদেশে মওলানা ভাসানীর প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান রেজা। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আওয়াল মাহমুদ। সভায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স নেতা আওয়াল মাহমুদ। সভায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বহ্নিশিখা জামালী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন ও খোদা-ই-খেদমতগার এর আয়োজনে মওলানা ভাসানীর ওফাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, ওরশ, স্মরণ সভা, গণভোজসহ সাত দিনব্যাপী ‘ভাসানী মেলা’র আয়োজন করা হয়। সাতদিন আগে থেকে মওলানা ভাসানীর ভক্ত-অনুসারী ও মুরিদানরা সন্তোষে এসে সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র। রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফাইমুন রাজিব তূর্য (১৬)। সে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের পুলিশ সদস্য মৃত রবিউল ইসলামের পুত্র এবং মোজাহার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।একই ঘটনায় আহত হয়েছে অপর মোটরসাইকেল আরোহী সিয়াম হোসেন, পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে দুটি মোটরসাইকেল দ্রুত গতিতে বিপরীত দিক থেকে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সঙ্গে সঙ্গে তূর্য গুরুতরভাবে আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষ, শিক্ষক ও সহপাঠীরা হাসপাতালে ভিড় করেন এবং তূর্যের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তার মৃত্যুতে বিদ্যালয় ও এলাকায় নেমে এসেছে মাতম। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে।
টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে একটি পামওয়েল বোঝাই ট্রাকের গতি রোধ করে ডাকাত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোর রাতে মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে পাবনাগামী পামওয়েল বোঝাই ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো ট-১৪-৭৫৭৯) মহাসড়কের হাতিয়া অংশে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ-৪৩-৫৪৮৬) এবং একটি পাজেরো (ঢাকা মেট্রো ঘ-২১-৭৬৯৯) গাড়ি দিয়ে ট্রাকটির গতি রোধ করা হয়। বিষয়টি টহল পুলিশের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে প্রাইভেটকার ও পাজেরোতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে একটি লাইসেন্সকৃত শর্টগান, ছয়টি সিসা কার্তুজ, একটি লেজার লাইট, দুটি সিগন্যাল লাইট, চারটি শর্ট ওয়াকিটকি ও দুটি কাঠের লাঠি উদ্ধার করা হয়। পরে তিনটি গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটককৃতরা হলেন- পাবনা উপজেলার চকধুবুলিয়া গ্রামের আকবরের ছেলে আকাশ মিয়া (২৫), ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার নুরুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল (৩৪), পাবনা সদর উপজেলার নয়নামতি গ্রামের রেজাউলের ছেলে রহিম (১৯), চট্টগ্রাম জেলার আকবরশাহ উপজেলার লতিফপুর গ্রামের বদিউল আলমের ছেলে নাজিম উদ্দিন (৩০), একই জেলার কর্ণফুলী উপজেলার বাবুল লালের ছেলে সুমন মিয়া (৩৫) ও পাবনা সদর উপজেলার রাধানগর চক জায়েনপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মারুফ হোসেন (৩০)। যমুনা সেতু পূর্ব থানার (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, হাইওয়েতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা প্রতিনিয়ত টহল জোরদার রেখেছি। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোর রাতে মহাসড়কে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করায় এই তিনটি গাড়ি থামানো হয়। তল্লাশিতে একটি প্রাইভেট কার ও একটি পাজেরো থেকে শর্টগান, কার্তুজ ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হওয়ায় ছয়জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
মোস্তফা মাসুদ: মানবকল্যাণে ঐক্য সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল কালিগঞ্জ” এই প্রতিপাদ্য স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতির গঠনতন্ত্র প্রণয়ন সংক্রান্ত ও সমিতির কার্যকরী কমিটি গঠন বিষয়ে সর্বশেষ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরা, বাড়ি নং ৩ রোড নম্বর ১০ এবং ৭ সেক্টরে ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম এর বাসভবনে কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুৃষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা প্রস্তাবিত সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বকুলুজ্জামান, এ্যাডঃ মরিয়ম মনসুর, স ম মেহেদী হাসান, মুন্সি আব্দুর রাশেদ, এস এম ইমদাদ হোসেন, মোহাম্মদ রুবায়েত, শেখ সাইফুল বারী সফু, সুকুমার দাশ বাচ্চু, নুর আহমেদ প্রমুখ। এ সভায় উপজেলা সমিতির গঠনতন্ত্র অনুমোদন, সদস্য অন্তর্ভুক্তি সিদ্ধান্ত, জানুয়ারিতে সাধারণ সভা, ও পিকনিক অনুষ্ঠিত হবে। কার্যকরী কমিটির ব্লেজার সহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বকুলুজ্জামান জানান, ঢাকা মহানগরীতে নিয়মিতভাবে বসবাসরত উপজেলার অধিবাসীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কল্যাণ সাধন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা,পরস্পারিস সৌহার্দ্য ও ঐক্য স্থাপন, তাদের কল্যাণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং একই সাথে কালিগঞ্জ উপজেলা সার্বিক উন্নয়নকে সক্রিয়ভাবে উদ্বুদ্ধকরণ করা। এছাড়া ঢাকা সহ অবস্থানরত কালিগঞ্জ উপজেলার অধিবাসীদের কর্মসংস্থান, চিকিৎসা, সহায়তা, অস্থায়ী আশ্রয় প্রদান এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা, উপজেলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারা উপস্থাপন এবং সার্বিক উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালানো। কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতির ঢাকা ও কালিগঞ্জে লাইব্রেরীতে একটি কার্যালয় প্রাথমিক পর্যায়ে থাকবে। কালিগঞ্জ উপজেলা প্রস্তাবিত সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেমকে প্রধান উপদেষ্টা করে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক, ১৫ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ও মোঃ আবু মাসুদকে সভাপতি ও মোস্তফা বকুলুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে মোট ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।
সাজিদ পিয়াল:টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ওয়াকার্স পার্টির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত । বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা। সোমবার অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমানুষের অধিকার এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংগঠনের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা শাখা কর্তৃক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। আলোচনা সভার প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে অদূর ভবিষ্যতে আবারও গণঅভ্যুত্থান অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আইসিটি ট্রাইব্যুনালের রায় প্রমাণ করেছে স্বৈরশাসকেরাও আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে নয়। 'গণঅভ্যুত্থান-২৪ পরবর্তীতে বর্তমানেও বাংলাদেশে মওলানা ভাসানীর প্রাসঙ্গিকতা' শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান রেজা মামুন এবং সঞ্চালনা করেন আওয়াল মাহমুদ। এর আগে পার্টির নেতৃবৃন্দ মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জননেতা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প নেই। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল রেজা মামুন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়াল মাহমুদমওলানা ভাসানীর সংগ্রামী স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, ‘রাজনৈতিক হীনমন্যতার কারণে এখানকার সরকার ও শাসকগোষ্ঠী মওলানাকে উপযুক্ত মর্যাদা দিতে পারেনি।’ মওলানা ভাসানীকে দেশের স্বাধীনতার স্বপ্নপুরুষ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘যতদিন শোষণ আর বৈষম্য থাকবে, ততদিন ভাসানী আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে থাকবেন; দ্রোহ আর বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে তিনি থাকবেন।’ পার্টির টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সভাপতি সাইফুর রেজা মামুনের সভাপতিত্বে এবং আওয়াল মাহমুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পিপলু, মওলানা ভাসানীর দৌহিত্র মাহমুদুল হক সানু, সিকদার হারুন মাহমুদ, মীর রেজাউল আলম, এমডি ফিরোজ, কেন্দ্রীয় সংগঠক যুবরান আলী জুয়েল, জেলা জেএসডির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান মতি প্রমুখ। বক্তারা মওলানা ভাসানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পালনের দাবি জানান। এর আগে সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তার মাজারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে সাইফুল হকের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন,রফিকুল ইসলাম বাবলু জননেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শেখ আব্দুর নুর,মাহমুদুল হাসান পিপলু ,বন্নিশিখা জামালী বক্তারা বলেন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সংগঠনের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে। টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সভাস্থল ছিল মুখরিত। বক্তব্য পর্ব শেষে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
নদীতে গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন মঙ্গল বিশ্বাস (৫০)। তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের গাছ কুমুল্লী গ্রামের মৃত হরি মহন বিশ্বাসের ছেলে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ধলেশ্বরী নদী থেকে তারা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে তিনি ধলেশ্বরী নদীতে স্নান করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮ ঘটিকার সময় মঙ্গলের লাশ নদীতে ভেসে উঠে। পরে দেলদুয়ার থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান জানান, পানিতে ডুবে সনাতন ধর্মাবলম্বীর একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরীর পর ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাদিম তালুকদার:বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি বঞ্চিত যোগ্য সকল প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির দাবিতে সরকারি সা'দত কলেজে প্রভাষকদের "No Promotion, No Work" কর্মসূচি পালন। গত ১৪ নভেম্বর ২০২৫ বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন এর সাথে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সারাদেশে "NO PROMOTION, NO WORK" কর্মসূচির ডাক দেন "বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ"। ১৬ এবং ১৭ নভেম্বর দুই দিন উক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে টাঙ্গাইলের করটিয়ায় অবস্থিত সরকারি সা'দত কলেজের প্রভাষকবৃন্দ।
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে : ভিপি নূর আজ সোমবার টাঙ্গাইলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। টাঙ্গাইলে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আজ সোমবার টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। নুর বলেন,‘আওয়ামী লীগ জনগণের সমর্থন হারালেও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের সাধারণ নেতাকর্মী রয়েছেন, যারা কেবল পরিস্থিতির কারণে দলটির সঙ্গে ছিলেন এবং কাউকে নির্যাতন করেননি। বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান এদের রাজনীতিতে জায়গা করে দিন। তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশে বিলাসী জীবনযাপনকারী কিছু ব্যক্তি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিয়ে ককটেল ফাটানো ও নাশকতার উস্কানি দিচ্ছে। এ ধরনের কথাবার্তায় কর্ণপাত না করার আহ্বান জানান তিনি। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর ২১ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারেনি। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আগামী ৪১ বছর দলটি রাজনীতিতে দাঁড়াতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশে নাশকতার সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান নুর।
জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাছে নওগ্রাম পুলিশ স্টেশনে জব্দ করা বিস্ফোরকের বিশাল স্তুপ হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ফরিদাবাদ থেকে আনা বিস্ফোরক পরীক্ষা করছিলেন পুলিশ ও ফরেন্সিক কর্মীরা—তখনই ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ। শ্রীনগর প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আহতদের সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতাল এবং শেরি কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্সে ভর্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে প্রশাসন। সম্প্রতি নওগ্রাম এলাকায় জয়েশ-ই-মোহাম্মদের পোস্টার লাগানোর ঘটনার তদন্তে যে নেটওয়ার্ক ধরা পড়ে, সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিপুল বিস্ফোরক। এ ঘটনায় কয়েকজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের একজন আদিল আহমেদ রাথের—সিসিটিভিতে পোস্টার লাগাতে দেখা যায় তাকে। তার তথ্যের ভিত্তিতেই ডাক্তার মুজাম্মিল শাকিল ও শাহিন সাঈদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। এই নেটওয়ার্কের সূত্র ধরেই দিল্লির লালকেলার কাছে আই২০ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায়ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় তদন্তকারীরা। সেই বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন, আহত হন ২০ জনের বেশি। জাতীয় তদন্ত সংস্থার ধারণা, আতঙ্কে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভুলভাবে আইইডি তৈরি করেছিল, যার ফলেই দুই জায়গার বিস্ফোরণ ঘটে। পুরো নেটওয়ার্ক পুনরায় পর্যালোচনা করছে তারা।
গাজার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন তর্ক তুঙ্গে, তখন খুব বেশি শব্দ না করেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে হামাস। যুদ্ধবিরতির পরদিই দেখা যায়—ইসরাইল সেনারা যে অঞ্চলগুলো ছাড়ছে, সেসব জায়গায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে টহল দিচ্ছে হামাসের সদস্যরা। গাজার অভ্যন্তরে প্রশাসনিক কাজও এখন তাদের হাতেই। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কর আদায়, শুল্ক নির্ধারণ—সবই চলছে হামাসের নির্দেশনায়। স্থানীয়দের দাবি, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মূল্যবৃদ্ধির জন্য তারা নয়; বরং সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরাই দায়ী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। তাদের মতে, পণ্যের উপর কর বসিয়ে এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে হামাস, আর তাই তারা কোনোভাবেই চাইছে না দলটি আবারো সরকার পরিচালনা করুক। অন্যদিকে গাজা থেকে হামাসকে সরানো বা নিরস্ত্র করার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এক অবস্থানে থাকলেও এর বিরোধিতা করছে রাশিয়া, চায়না এবং কয়েকটি আরব রাষ্ট্র। পশ্চিমাদের পছন্দ মাহমুদ আব্বাসের প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক কোনো অন্তর্বর্তী সরকার—যেমন টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে। কিন্তু এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক শক্তি মানতে নারাজ। মাঠের বাস্তবতা বলছে—ইসরাইল দুই বছর ধরে গাজার ৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। যুদ্ধবিরতির পর তাদের অবস্থান সরে এলেও এখনো প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা তাদের দখলে। বাকি ৪৭ শতাংশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২০ লাখ মানুষ, যাদের জীবনযাত্রা পরিচালিত হচ্ছে হামাসের কাঠামোর ভেতরেই। ২০০৭ সালে ফাতাহ ও মাহমুদ আব্বাসের প্রশাসন থেকে গাজার ক্ষমতা নেয় হামাস। তারপর থেকে অঞ্চলটির প্রশাসন, নিরাপত্তা এবং বাজারব্যবস্থার সব ক্ষেত্রই ধীরে ধীরে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও দলটির কাঠামো এখনো সক্রিয়। নিহত চার গভর্নরের জায়গায় নতুন চারজনকে নিয়োগ দিয়েছে তারা, আর সরকারি কর্মচারীরাও প্রতি মাসে বেতন পেয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন—হামাস স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গাজাকে ঘিরে যে কোনো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ তাদের বাইরে রেখে তৈরি করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন যত বাড়ছে, তাদের অবস্থান ততই আরও দৃঢ় হয়ে উঠছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে বিগত ৩ রা নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৩৭ টি আসনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষনা করে। এরই মধ্যে ১৩৩ টাঙ্গাইল -৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জনাব লুৎফর রহমান মতিন। তার নির্বাচনের প্রচারণায় পর্তুগাল বিএনপির আহবায়ক ও টাঙ্গাইল জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকে’র সভাপতি আবু ইউসুফ তালুকদার আগামী কাল পর্তুগাল থেকে বাংলাদেশ আসছেন। শেখ হাসিনার জুলুমের শিকার হয়ে প্রবাস জীবনে ১৭ বছরে টাঙ্গাইল থেকে একমাত্র লড়ে যাওয়া ব্যাক্তি আবু ইউসুফ তালুকদার বলেন, আমাদের দলের হাই কমান্ট ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাঠের পরিস্থিতি ভালোভাবে অবজার্ভ করে সেদিকে খেয়াল রেখে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। টাঙ্গাইল -৪ আসনে নির্বাচনী আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন জনাব লুৎফর রহমান মতিন’কে। তিনি যোগ্য সৎ ও ভালো মানুষ। তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত আমি তার সব কথা মাথাপেতে নিবো কারণ তিনি কাউকে বঞ্চিত করেন না। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাও-পোড়াও হচ্ছে। আমি সেদিকে লক্ষ্য রেখে বলতে চাই, আমার নির্বাচনী এলাকায় যারা আমার সমর্থক রয়েছেন যারা শান্তিপূর্ণভাবে আমার পক্ষে মিছিল করেছেন। আগামী দিনেও তারা যেন কোনও ধরনের সহিংসতায় না যায় এবং ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে অবস্থান নেন তার আহ্বান জানাচ্ছি। জনাব লুৎফর রহমান মতিন সাহবের প্রচারণায় আমি আগামী কাল দেশে আসবো ইনশাল্লাহ আমার জন্যে দোয়া করবেন। উল্লেখ্য, এ আসনে একাধিক বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তাদের মধ্যে একজন বাদে সবাই জনাব লুৎফর রহমান মতিনকে সমর্থন দিয়ে ও দলীয় আদেশ মেনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।মনোয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো: কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব শুকুর মাহমুদ, ডাক্তারস্ অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় নেতা জনাব ডঃশাহ আলম তালুকদার, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব বেনজীর আহম্মেদ টিটো, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার জনাব মো: আব্দুল হালিম মিয়া, মালেশিয়া বিএনপির সভাপতি জনাব প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান বাদল, পর্তুগাল বিএনপির আহবায়ক ও টাঙ্গাইল জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকে’র সভাপতি আবু ইউসুফ তালুকদার, মো: শফি খান কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জনাব মোজাম্মেল হক হিরু, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি জনাব এ কে এম আবদুল আওয়াল। মনোনয়ন প্রত্যাশী দের মধ্যে শুধু মাত্র বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ – সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো ব্যতীত সকল প্রার্থীই লুৎফর রহমান মতিন কে সমর্থন দিয়েছেন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আব্দুল কাদের জিলানী ওরফে কানকাটা কাদিরাকে (৩৫) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনার সাতদিন পর এক সৌদি প্রবাসীসহ ৩জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের আব্দুল কাদের চেরাং বাড়ির বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইদ্রিস ওরফে মানিক (৩৪), মোহাম্মদ রাকিব(২৬) ও একই বাড়ির মো.জাফর (২৮)। বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এর আগে, একই দিন ভোরে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত জিলানী ওই উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোফরানের ছেলে। পুলিশ জানায়, এক মাস আগে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসী মানিক দেশে ফিরেন। দেশে আসার পর তার থেকে ইয়াবা সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন ভিকটিম চার মামলার আসামি কানকাটা কাদিরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সুযোগে কাদিরার প্রতিপক্ষ গ্রুপের রাকিব ও জাফরসহ একাধিক অস্ত্রধারী কাদিরাকে হত্যার মিশনে নামেন। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০-১৫জন সন্ত্রাসী উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মুন্নার দোকানের সামনে তাকে পিটিয়ে এবং উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ডোবায় ফেলে দেয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কুতুব উদ্দিন লিয়ন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডের ৭দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন আসামির মধ্যে দুইজন দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। নিজেদের ইমিগ্রেশন অফিসার পরিচয় দিয়ে এই চক্র আটক বিদেশী কর্মীদের মুক্তির নামে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ রিঙ্গিত হাতিয়ে নিচ্ছে। সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারউদ্দিন জানিয়েছেন, প্রতিটি এনফোর্সমেন্ট অপারেশনের পরই এই সিন্ডিকেট নিয়োগকর্তাদের টার্গেট করে। তারা সরাসরি ফোন করে দাবি করে যে তাদের কর্মী আটক রয়েছে এবং দ্রুত মুক্তির জন্য ১০,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত টাচ অ্যান্ড গো ই–ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ দিতে হবে। অনেক নিয়োগকর্তা দ্রুত কর্মী ফেরত পাওয়ার আশায় যাচাই–বাছাই না করেই টাকা পাঠাচ্ছেন। পরে ইমিগ্রেশন অফিসে গেলে দেখা যায় ব্যবহৃত নম্বর ইতোমধ্যে বন্ধ। শুধু গত এক মাসেই এই চক্রের প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭,০০০ রিঙ্গিত। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, প্রতারকরা আসল অফিসারের নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রোফাইল তৈরি করায় অনেকে সহজেই প্রতারিত হচ্ছেন। পরিচালক খাইরুল আমিনুস কঠোর সতর্কবার্তায় বলেন, “অপারেশনের সময় যদি কোন কর্মী আটক হয়, মুক্তির জন্য কোনো ফোনকল বা এসএমএসে বিশ্বাস করবেন না। সন্দেহ হলে সরাসরি ইমিগ্রেশন অফিসে যোগাযোগ করুন।” তিনি আরও জানান, বৈধ নথি থাকলে নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই আসল কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি ইমিগ্রেশন অফিসে এসে যাচাই করতে হবে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কর্মীদের মুক্তি দেওয়া হবে। ইমিগ্রেশন বিভাগ নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার এবং প্রতারক চক্র থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA) টার্মিনাল–১ এ আজ বিকেলে ভারী বৃষ্টির পর সিলিং ফুটো হয়ে ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডিপার্চার হলে ছাদের একটি অংশ থেকে দ্রুতগতিতে পানি পড়ছে, আর যাত্রীরা পাশে সরে গিয়ে নিরাপদে থাকতে চেষ্টা করছেন। মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টস হোল্ডিংস বেরহাদ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, টার্মিনালের কয়েকটি স্থানে পানি প্রবেশ করায় জরুরি ভিত্তিতে প্রকৌশল, অপারেশন এবং নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ফ্লাইট অপারেশন বিঘ্নিত হয়নি। তবে টার্মিনালের ভেতরে চলাচলের সময় যাত্রীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে মালয়েশিয়ার নিলাইয়ের মেডিসিসেরাম এসডিএন. বিহাদ কারখানায় কর্মরত ১৭২ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের চাকরি চুতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ হাই কমিশন কোম্পানির সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা চালাচ্ছে। শ্রমিকরা ২০২৫ সালে ছয়বার ধর্মঘট করেন, যার সর্বশেষটির পর কোম্পানি ১৭২ জনকে বরখাস্ত করে। এর মধ্যে ১৬ জনকে ইতোমধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হাই কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে এবং ১৮৪ জনকে ক্ষতিপূরণও দিয়েছে কোম্পানি। পুনর্বহালের বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন। অন্যদিকে, বিদেশী শিল্পী, গবেষক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করতে ‘কালচারাল ভিসা’ নামে নতুন একটি প্রকল্প চালু করেছে ওমান। এক বছর, পাঁচ বছর ও দশ বছর মেয়াদী তিন শ্রেণির ভিসা দেওয়া হবে। ভিসাধারীরা ওমানে প্রবেশের সময় তাদের জীবনসঙ্গী ও প্রথম শ্রেণির আত্মীয়দের সঙ্গে নিতে পারবেন। তবে ভিসা ইস্যুর তিন মাসের মধ্যে দেশে প্রবেশ না করলে ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ওমান রয়্যাল পুলিশ।
মালয়েশিয়ায় ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ ১৮ বছর নিখোঁজ ছিলেন নরসিংদীর জাহাঙ্গীর আলম। অবশেষে তিনি দেশে ফিরেছেন ৭ নভেম্বর। কিন্তু ঘরে ফিরে তাকে অপেক্ষা করছিল নির্মম বাস্তবতা—বাবা-মা আর জীবিত নেই, আর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী এখন অন্যের সংসারে। নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদি ইউনিয়নের জিতুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর পেশায় ছিলেন জেলে। ১৮ বছর আগে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যান। শুরুতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একসময় সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারও ধরে নেয় তিনি আর বেঁচে নেই। আসলে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে বছরের পর বছর কারাগারের কঠোর জীবন কাটাতে হয় তাকে। সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশন তার ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে পরিচয় শনাক্ত হয়। পরে নরসিংদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি খরচে তাকে দেশে আনা হয়। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশাসন তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং প্রতিবন্ধী ভাতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। এটাই প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতা—স্বপ্ন দেখতে দেখতে কখন যে জীবন বদলে যায়, কেউ জানে না।
সৌদি আরবের যাকাত, ট্যাক্স ও কাস্টমস অথরিটি দুটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক চোরা–চালানের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে। আলদুরা এবং এমটি কোয়ার্টার—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিংয়ে অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩৫৪টি ক্যাপটাগন পিল এবং ২১ কেজির বেশি মেথামফিটামিন (সাবু) জব্দ করা হয়। অথরিটির মুখপাত্র হামুদ আল হারবি জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে আলদুরা ক্রসিংয়ে। সেখানে একটি গাড়ির জ্বালানি ট্যাংকের ভেতরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লুকানো অবস্থায় ক্যাপটাগন পিলগুলো পাওয়া যায়। দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় এমটি কোয়ার্টার ক্রসিংয়ে, যেখানে রাজ্যে প্রবেশকারী একটি ট্রাক থেকে জব্দ করা হয় ২১ কেজিরও বেশি সাবু। তিনি বলেন, মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পদার্থের প্রবেশ ঠেকাতে সংস্থাটি সর্বোচ্চ সতর্ক আছে এবং কাস্টমস নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। চোরা–চালান দমন ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় জনসাধারণের সহযোগিতাও কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। যে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিরাপত্তা হটলাইন বা ইমেইলে জানানো হলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। সঠিক তথ্য প্রমাণিত হলে দেওয়া হবে আর্থিক পুরস্কারও।
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন হচ্ছে নানা আয়োজনে আজ ১৭ নভেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজ সকালে মওলানা ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করেছে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল নানা কর্মসূচি, মিলাদ-মাহফিল, আলোচনাসভা ও তবারক বিতরণ। সূর্যোদয়ের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্মরণসভা পরিবেশ তৈরি হয়। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দের নেতৃত্বে উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টরিয়াল টিম, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে মজলুম জননেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে উপাচার্য বলেন, “মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ছিলেন উপমহাদেশের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, কৃষক-মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসার ব্যাখ্যা প্রজন্মকে আজও অনুপ্রাণিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমরা তাঁর আদর্শকে ধারণ করার চেষ্টা করছি।” এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা ভাসানীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্বগুণ ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আমৃত্যু ভূমিকা তুলে ধরেন। দিবসটি উপলক্ষে ভাসানী পরিবার, ন্যাপ ভাসানী, ভাসানী পরিষদসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনও পৃথকভাবে মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সকাল ৮টায় উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। এছাড়া আজ বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মাওলানা ভাসানীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল গভীর শোক ও শ্রদ্ধার আবহ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রোভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, অফিস প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ভাসানী পরিবার, ন্যাপ ভাসানী, ভাসানী পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভাসানীর মাজারে পৃথক পৃথকভাবে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সকাল ৮ টায় তবারক বিতরণ করা হয়। আজ বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হবে।
টাংগাইল-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীরের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাংগাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীর। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবার (১৬ নভেম্বর) ইশা নামাজের পর গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সওদাগর পাড়া এলাকায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এলাকার সাধারণ মানুষ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ প্রার্থীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাকে স্বাগত জানান। মাওলানা হুমায়ুন কবীর তার বক্তব্যে বলেন, “আমি রাজনীতি করি মানুষের অধিকার, ন্যায়নীতি ও সেবার জন্য। যদি এলাকাবাসী আমাকে সুযোগ দেন, তবে টাংগাইল-২ আসনকে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশের মডেল হিসেবে গড়ে তুলব।” তিনি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনসেবার মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়ানোই তার প্রধান লক্ষ্য, এবং তিনি সকলের মতামতকে মূল্য দিতেই এই ধরনের উঠান বৈঠকের আয়োজন করছেন। বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, এলাকাবাসী পরিবর্তন ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় আছে, এবং সেই প্রত্যাশার প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম প্রার্থী হিসেবে মাওলানা হুমায়ুন কবীরকে তারা সমর্থন জানাচ্ছেন। তারা দলীয় নেতা-কর্মীদের আরও সক্রিয় হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান। অংশগ্রহণকারীরা জানান, দীর্ঘদিন অবহেলিত অনেক সমস্যার সমাধানে তারা নতুন নেতৃত্ব চান, এবং এই ধরনের মতবিনিময় তাদের আরও আশাবাদী করে তুলছে। বৈঠকটি দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম আমার দেশ তাদের সাম্প্রতিক ভিডিও প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে—এমন দাবি তারা উপস্থাপন করেছে। একই মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। ভিডিওতে যেভাবে অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে— ১) ১৪ জুলাইয়ের বক্তব্যকে উস্কানিমূলক উল্লেখ ভিডিও দাবি করে, আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা রাজাকার বংশধর বলে মন্তব্য করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। ২) হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ প্রতিবেদন মতে, আন্দোলনকারীদের দমন করতে এসব অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ৩) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যু রংপুরে গুলিতে নিহত হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার দায়ও মামলার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ৪) চাংখারপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছয়জন আন্দোলনকারী গুলিতে নিহত হন—এ অভিযোগও মামলার অন্তর্ভুক্ত। ৫) মার্চ টু ঢাকা চলাকালে আশুলিয়ায় গুলি ও লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ ভিডিওতে বলা হয়, আশুলিয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হত্যা করে লাশ পোড়ানোর ঘটনা মামলার বড় অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটি প্রথম যার বিচার কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর আগে আদালত অবমাননার আরেক মামলায় শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলেও ভিডিওতে উল্লেখ আসে। ভিডিওটিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৮৩টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলা, দুদক মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এবং গুমের মামলাও অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হয়। বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত চলছে এবং কিছু বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, এই সংবাদে বর্ণিত সব তথ্যই আমার দেশ ভিডিও রিপোর্টে উপস্থাপিত দাবি—স্বাধীনভাবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন, ভারত কোনো পরিস্থিতিতেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে না। দত্ত আল-জাজিরাকে বলেন, “কোনো অবস্থাতেই ভারত তাকে হস্তান্তর করবে না। গত দেড় বছরে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না, বেশ কয়েকবার টানাপড়েনও দেখা গেছে।” আল-জাজিরাকে দত্ত জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর রায় আসা খুবই প্রত্যাশিত ছিল। তার ভাষায়, “দেশের পরিস্থিতি দেখে সবাইই অনুমান করেছিল তার বিরুদ্ধে কঠোর বিচার আসছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বলছে, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাংলাদেশের আইনি কাঠামো অনুযায়ী হয়েছে।” দত্ত দাবি করেন, নিরস্ত্র ছাত্রদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং গুলি করার নির্দেশ নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, “নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর অপরাধ হয়েছে—এ বিষয়ে কারও সন্দেহ নেই। এমনকি প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন—এ ধরনের প্রমাণও রয়েছে।” অধ্যাপক দত্তের মতে, আওয়ামী লীগ এখন পাল্টা বিবরণ তৈরির চেষ্টা করবে। তবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বড় অংশ বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।” জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, উস্কানি, ষড়যন্ত্র ও নির্দেশ—এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। রায়ের পর থেকেই ভারত তাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে কি না, সেই প্রশ্ন জোরালো হয়ে ওঠে। আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে শ্রীরাধা দত্তের মন্তব্যে সেই বিতর্কে আরও স্পষ্টতা আসে।
টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম ওফাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে তাঁর মাজারে পরিবার, বিশ^বিদ্যালয়, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ভক্ত অনুরাগীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। মওলানা ভাসানীর মাজারে সকাল সাড়ে ৭টায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, প্রোভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অফিস প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থদের নিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে ভাসানীর পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় ‘যুগ যুগ জিও তুমি, মওলানা ভাসানী’ স্লোগানে মাজার প্রাঙ্গন প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এদিন পুস্পার্ঘ অর্পন শেষে ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। এ সময় কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির নেতারা বক্তব্য রাখেন।গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নেতা ভিপি নুরুল হক নুর ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল জেলা শাখার আমীর আহসান হাবিব মাসুদের নেতৃত্বে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ভক্ত অনুরাগীরা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে সন্তোষে মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও হুজুরের আত্নার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়েছে। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মওলানা ভাসানীর মাজারে পুস্পার্ঘ অর্পন শেষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আজ খুব ভালো লাগছে। মজলুম জননেতার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরেছি। ইতোপূর্বে এই ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেও আমি রক্তাক্ত হয়েছি। ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে আমাদের ১২ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই সহস্রাধিক কর্মী। আন্তর্জাতিক আদালতে শেখ হাসিনাসহ অন্য ফ্যাসিস্টদের সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে এটাই প্রত্যাশা করেছি। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশে যারা খুন করেছে তাদের প্রত্যেকের বিচার হতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে ফ্যাসিবাদী কায়দায় নির্বিচারে মানুষকে গণহত্যা করা হয়েছে, আদালতে তার বিচার চলছে। আমরা মনে করি আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ অন্যদের ফাঁসির রায় হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। মওলানা ভাসানীর মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা শাখা আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান-২৪ পরবর্তীতে বর্তমানেও বাংলাদেশে মওলানা ভাসানীর প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান রেজা। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আওয়াল মাহমুদ। সভায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স নেতা আওয়াল মাহমুদ। সভায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বহ্নিশিখা জামালী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন ও খোদা-ই-খেদমতগার এর আয়োজনে মওলানা ভাসানীর ওফাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, ওরশ, স্মরণ সভা, গণভোজসহ সাত দিনব্যাপী ‘ভাসানী মেলা’র আয়োজন করা হয়। সাতদিন আগে থেকে মওলানা ভাসানীর ভক্ত-অনুসারী ও মুরিদানরা সন্তোষে এসে সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।