মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মোঃ বিল্লাল হোসেন
প্রকাশক: মানবকথন
বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জাকের পার্টি। সম্প্রতি সাবেক সংসদ সদস্য জনাব ফজলুর রহমান জাকের পার্টি নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তিনি দাবি করেন, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান সম্পর্কে অতীতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হয়েছে এবং সেই ইতিহাস অনেকেই জানেন না।
২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রথমে জাকের পার্টির চেয়ারম্যানকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলো। তবে কিছুক্ষণ পর সেই ফলাফল পরিবর্তন করা হয় এবং পরে ক্ষমা চাওয়া হয়। তখন দেখানো হয়েছিলো, জাকের পার্টির চেয়ারম্যানকে ৭০,০০০ এরও বেশি ভোট দেওয়া হয়েছিলো। শুধু তাই নয়, ১৯৯৯ সালের উপ-নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সরকার ৩৫ জন এমপি ও ১২ জন মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও জাকের পার্টির চেয়ারম্যানকে হারাতে পারেনি। বিশ্লেষকরা বলেন, যদি তখন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতেন না, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ফজলুর রহমানের মন্তব্যে আরও বিতর্কের জন্ম হয়েছে। তিনি জাকের পার্টির চেয়ারম্যানকে ‘মোল্লা-মুন্সী’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন। এই বক্তব্যকে অপমানজনক এবং বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাকের পার্টির নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে জাকের পার্টি ছাত্রফ্রন্টের নেতা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন স্পষ্ট করে বলেন—অতীতে নির্বাচন নামে শুধু খেলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেওয়া, ব্যালট পেপার ছিনতাই, প্রশাসনকে ব্যবহার, কালো টাকার প্রভাব, এমনকি বোমাবাজির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছিলো। আর এসব কারণে প্রকৃত ভোটের সংখ্যা কখনোই প্রকাশ পায়নি।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন—কুড়িগ্রাম ২ আসনে গত নির্বাচনে আব্দুল হাই মাস্টার গোলাপ ফুল প্রতীকে ৬৩,০০০ ভোট পেয়েছিলেন। অথচ আজ অনেকেই সেই বাস্তবতা ভুলে গিয়ে জাকের পার্টির জনসমর্থনকে ছোট করে দেখাতে চাইছেন।
বিল্লাল হোসেন আরও বলেন—বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দেউলিয়াত্বই প্রকাশ পায়, যখন বিবেকহীন মানুষরা বড় দলের উপদেষ্টা হয়। অথচ জাকের পার্টি সবসময়ই আদর্শকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এই দলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই।
তিনি ফজলুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন—আপনি আটরশি পীর সাহেবের ছেলেকে ভালো করে চিনেন। তিনি কখনো ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করেননি। যদি করতেন, তবে অনেক আগেই ক্ষমতায় যেতে পারতেন। কিন্তু জাকের পার্টি রক্তের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং আদর্শের পথে ৩৬ বছর ধরে চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফজলুর রহমানের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তির মুখে প্রকাশ্যে মিথ্যা কথা বলা অত্যন্ত বেমানান। সারা বাংলাজুড়ে জাকের পার্টির ২১ লক্ষ পরীক্ষিত নেতাকর্মী রয়েছেন এবং তিন কোটিরও বেশি মানুষের জনসমর্থন রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, নিকট ভবিষ্যতে আল্লাহর রহমতে জাকের পার্টি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন—যারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী, ভোট ছিনতাই করে ক্ষমতায় যায়, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে—তাদের কারণে আজও দেশ পিছিয়ে আছে। আর জাকের পার্টি তার বিপরীতে আদর্শ ও নীতির রাজনীতি করছে, করছে জনগণের জন্য।
We use cookies to improve your experience, deliver personalized content and ads, and analyze our traffic. By continuing to browse our site, you agree to our use of cookies. Cookie Policy
