ঢাকা, রবিবার, জুলাই ২১, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
HTML tutorial

স্বামী অনুপস্থিত থাকলে স্ত্রীর কর্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৪, ০৯:৫৫ পিএম

স্বামী অনুপস্থিত থাকলে স্ত্রীর কর্তব্য

সামাজিক পারিবারিক ও ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে অনেক পুরুষকে অনেকের বাড়িতেই যেতে হয় । এখন বাড়িতে যদি কোন পুরুষ উপস্থিত না থাকে, এমন বাড়িতে তার সাধারণ কোন জিনিসের প্রয়োজন অথবা কোন প্রয়োজনীয় কথা জানানো প্রয়োজন তখন কি করণীয়? এ অবস্থায় ইসলামের নির্দেশ হচ্ছে” আর তোমরা যখন তাদের কাছ থেকে কোন জিনিস পতে চাইবে, তাহলে তা পর্দার আড়ালে বাইরে দাাঁড়িয়েই তাঁদের নিকট চাইবে।। বস্তুত এ নীতি তোমাদের ও তাদের দিলেও পবিত্রতা রক্ষার পক্ষে অধিকতর উপযোগী, অনকূল। ” আয়াতটি যদিও স্পষ্ট রাসূলে করীমের বেগমদের সম্পর্কে অবতীর্ণ এবং এ নির্দেশ ও বিশেষভাবে রাসূলের বেগমদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু এ আয়াতের ও একটি সাধারণ আবেদন রয়েছে এবং এ নির্দেশও সাধারণ মুসলিম সমাজের মহিলাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রযোজ্য হবে।

কেননা, তাদের কাছ থেকে কিছু পেতে হলেও তো সে পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়েই চাইতে হবে এবং বিনানুমতিতে  তাদের ঘরেও প্রবেশ করা যাবেনা।

উপরে উদ্বুত নির্দেশষমূহ পুরুষদের লক্ষ্য করেই বর্ণিত হয়েছে; কিন্তু তাই বলে মেয়েরা তার বাইরে নয়, তাদের পক্ষে এর কোনটিই লংঘনীয় নয়।

মেয়েদের লক্ষ্য করে আরো অতিরিক্ত নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেন মেয়েরা তা পালন করে নিজেদেরকে পর পুরুষের দৃষ্টি ও আকর্ষণের পংকিলতা থেকে পূর্ণমাত্রয় রক্ষা করতে পারে। মেয়েদের পক্ষে যদি বাইরের পুরুষদের সাথে কথা বলা একান্তই জরুরী হয়ে পড়ে এব তা না বলে কোন উপয়ই না থাকে ম তাহলে কথা বলতে হবে বৈকি; কিন্তু সেজন্যেরও কিছুটা স্পষ্ট নিয়মনীতি রয়েছে, যা লংঘন করা কোন ঈমানদার মহিলার পক্ষেই জায়েয নয়। কুরআন মজীদের বলা হয়েছেঃ ‘ তোমরা যদি সত্যিই আল্লাহব ভীরু থাক, তাহলে কস্মিনকালেও  নিম্নস্বরে কথা বলবেনা। মানেঃ তোমাদের কথাকে বিনয় নম্রতাপূর্ণ ও নারীসূলভ কোমল ও নরম করে বলবে না, যেমন করি সংশয়পূর্ণ মানসিকতা সম্পন্ন ও চরিত্রহীনা মেয়েলোকেরা বলে থাকে।ঃ কেননা এ ধরণের কথা শুনলে লালসাকাতর ব্যক্তিরা খুবই আশাবাদী হয়ে পড়ে। তাদিরে মনে মনে এ লোভ জাগে যে, হয়ত এ সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে।

কেবল মেয়েদেরই নয়, পুরুষদেরও অনুরূপ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিহায়া কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছেঃ “ নবী করীম ( স ) পুরুষকে তার নিজের স্ত্রী ছাড়া ভিন্ন মেয়েলোকের সাথে খুব নরম সুরে ও লালসা পিচ্ছিলকণ্ঠস্বরে কথা বলতে নিষেধ করেছেন, যে কথা শুনে সেই মেয়েলোকের মনে কোন লালসা জাগতে পারে।” মানসিক রোগাক্রান্ত লোকেরা লালসায় কাতর হতে পারে” একথা বলার বিশেষ কারণ হচ্ছে এই যে, ভিন্ন মেয়েলোকের কাছ থেকে অবৈথ সম্পর্ক স্থাপন সম্ভাবনা আশা করা কেবল এক ধরনের লোকদের পক্ষেই সম্ভব।

ঈমানদার লোক কখনো এরুপ হয়না। কেননা কামিল ঈমানদার ব্যক্তির দিল ঈমানের প্রভাবে শান্ত-তৃপ্ত-সমাহিত। সে সবসময় আল্লাহর স্পষ্ট গোষণাবলী দেখতে পায়- মনে রাখে। ফলে সি আল্লাহ্ হারাম কর কোন কিছু পেতে লোভ করেনা। কিন্তু যার ঈমান দুর্বল, যার মোনাফিকী রয়েছে, সে-ই কেবল হারাম জিনিসের প্রতি লোভাতুর হয়ে থাকে। কিন্তু যে মেয়েলোকের সাথে কথা বলা হচ্ছে, যে যদি স্পষ্ট ভাষায় ও অকাট্য শব্দে ও স্বরে কাটাকাটাভাবে জুরুরী কথা কয়টি বলে দেয়, তাহলে এ মানসিক রোগাক্রান্ত লোকেরা লোভাতুর হবেনা। তারা নিরাশ হয়েই চলে যেতে বাধ্য হবে।

আ্ল্লমা শাওকানী লিখেছেনঃ ‘লোকদের সাতে কথা বলার সময় কন্ঠস্বর মিহি করে বোলোনা। যেমন সন্দেহপূর্ণ চরিত্রের মেয়েরা করে থাকে। কেনানা এক ধরনের কথা বলাই অনেক সময় বিরাট নৈতিক বিপর‌্যয়ের করণ হয়ে থাকে।”

শয়তান প্রকৃতির ও চরিত্রহীন লোকেরা নারী শিকারি বের হয়ে সাধারণত সে সব জায়গয়ই ঢু’ মারে, যেখান থেকে কিছুটা সুযোগ লাভের সম্ভাবনা মনে হয়। আর এ উদ্দেশ্যে স্বামী কিংবা বাড়ির পুরুষদের অনপস্থিতি তারা মহা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। নারী শিারীর এ ধরনের মৃগয় কেবল সখানেই সার্থক হয়ে থাকে , যেখানে নারী নিজে দুর্বলমান , প্রতিরোধহীন , যে শিকার হবার জন্যে পর পুরুষের হাতে ধরা দেবার জন্যে কায়মনে প্রস্থত হয়েই থাকে। নারীদরেক।

আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন।

alo