বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অভিযোগ করে বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করা, অরাজকতা সৃষ্টি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা হাদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা এবং দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। টুকু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। বিএনপি এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক সময়েই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলে দেশজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইবে।’ তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত এবং বিএনপি সরকার গঠন করবে। দোয়া মাহফিলে রফিকুল ইসলাম ফারুক স্মৃতি সংঘের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত রফিকুল ইসলাম ফারুকের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে দলীয় ঐক্যের সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। দলীয় ঐক্য অটুট রেখে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানানো হয়। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা এবং দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। রফিকুল ইসলাম ফারুক স্মৃতি সংঘের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। উল্লেখ্য, তিনি নিজেও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি প্রকাশ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। দলীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, ‘আপনার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়া কি উচিত নয়? অবশ্যই উচিত। আমি আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল সদরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে টুকু সাহেব বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে দল অত্যন্ত যাচাই-বাছাই করে আমাদের প্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে আপনাদের কাছে পাঠিয়েছে। এখন আপনাদের দায়িত্ব হলো—টাঙ্গাইলের অন্য সব আসনের তুলনায় সদর আসনে সর্বোচ্চ ভোটে তাকে নির্বাচিত করা।’ অন্যান্য বক্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে টাঙ্গাইল-৫ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তা দলের ঐক্য ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। দল ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে অতীতের সব বিভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো এবং নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী। এছাড়াও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ. কে. এম. মনিরুল হক (ডিপি মনির)সহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল দলীয় সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দলের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাঁর সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরহাদ ইকবালকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ করা যাবে) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের গোলচত্বর বাজার এলাকায় এই জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিলও অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরহাদ ইকবাল। মেজর মাহমুদুল হাসান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, টাঙ্গাইল শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলীমসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই সংকটময় সময়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দলের ভেতরে প্রভাব খাটিয়ে টাঙ্গাইল সদর আসনসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে একতরফাভাবে মনোনয়ন ঘোষণা করেছে, যা দলীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তারা আরও অভিযোগ করেন, টাঙ্গাইল সদর আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় ও জনপ্রিয় নেতাকে বাদ দিয়ে বাইরের একজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সদর আসনের বাসিন্দা ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করা ফরহাদ ইকবালকে উপেক্ষা করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে প্রার্থী ঘোষণায় মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। বক্তারা বলেন, ফরহাদ ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল সদর এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে রাজনীতি করে আসছেন। তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তৃণমূল থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের মধ্যেও রয়েছে। তাই জনমানুষের প্রত্যাশা ও দলের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত মনোনয়ন পরিবর্তন করে ফরহাদ ইকবালকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তারা। জনসভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিলটি। মিছিলে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত এমপি প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদসহ জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়, যেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ। তারা ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডকে নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে, দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। বক্তারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের প্রতি কোনো ধরনের হামলা কখনোই সমাজে সহ্য করা হবে না। মিছিল ও সমাবেশ শেষে ওসমান হাদীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সমাবেশে উপস্থিতরা একজোট হয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে আওয়াজ তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। জানা গেছে, এই বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ প্রদর্শন করেন এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ করেন।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় হঠাৎ করে কুকুরের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত দুই দিনে অন্তত ৪০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার (১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর) তারা সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা উপজেলার বড়চওনা, পৌরসভা, বেতুয়া ও বহুরিয়া চতলবাইদ এলাকার বাসিন্দা। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে শাহনাজ আক্তার (৩৫), জাহানারা বেগম (৫৫) এবং চার বছরের শিশু মাহিরাসহ কয়েকজন হাসপাতালে আসেন। শুধু বুধবারই দুই শিশুসহ মোট ১৮ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রার জানান, এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) আরও ২২ জন কুকুরের কামড় নিয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া চলতি মাসের (১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর) তথ্য অনুযায়ী, কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, কুকুরের কামড়ে আহতদের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আহতদের অনেককে বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। গুরুতর আহত দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কুকুরের হঠাৎ আক্রমণজনিত এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের সচেতন থাকতে হবে। কোনোভাবেই কুকুরের কাছাকাছি না যাওয়া এবং আহত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কুকুরদের আচরণ অস্বাভাবিক হওয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের বাইরে যেতে এবং একা ঘোরাঘুরি করা এ সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলে ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্য পাত্র ওসমান হাদীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্য পাত্র ওসমান হাদীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং সারাদেশে সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের সংবিধান বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও দলমত নির্বিশেষে সাধারণ জনগণ। ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে একযোগে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি টাঙ্গাইল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজপথে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রূপ নেয়।সমাবেশে শতশত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এতে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিক্ষোভকারীরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।সমাবেশে বক্তারা বলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্য পাত্র ওসমান হাদীর ওপর হামলা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এই হামলার বিচার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা এই অন্যায় কখনোই মেনে নেবে না তারা আরও বলেন, সারাদেশে চলমান সংবিধান বিরোধী কর্মকাণ্ড ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন বক্তারা।সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হলেও পুরো এলাকাজুড়ে ছিল ব্যাপক জনসচেতনতা ও প্রতিবাদী স্লোগানের মুখর পরিবেশ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের তিনটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছয়জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন: এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। তবে দলের মনোনয়নবঞ্চিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আসাদুল ইসলাম আজাদও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত বা বহিষ্কৃত নেতাদের অংশগ্রহণ এই আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে দলের মনোনয়ন না পাওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ সোরহাব এবং বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ফিরোজ হায়দার খান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ নিয়ে মির্জাপুর আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির মনোনয়ন দাবি করা সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল, যিনি কোনো দলীয় পরিচয় বহন করেন না। এছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সখীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ শেখ হাবিবও মনোনয়নপত্র তুলেছেন। টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত মোট ২১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত বা বহিষ্কৃত নেতা-সমর্থকদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী বৃত্তে দলীয় স্থিতিশীলতা এবং ভোটের ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের প্রচারণা কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের মনোযোগ মূলত দলীয় প্রার্থী বনাম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বিভাজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খুনিদের ফাঁসির দাবিতে যমুনাসেতু–টাঙ্গাইল–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর শরীফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের মধ্যেই টাঙ্গাইলে ফেটে পড়ে গণআন্দোলন। হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে যমুনাসেতু–টাঙ্গাইল–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্র ও সাধারণ জনগণ।শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল চলাকালে পুরো শহরজুড়ে উত্তেজনাকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি করে নানা স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে।একপর্যায়ে মিছিলটি ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনাসেতু মহাসড়কের নগরজলফৈ বাইপাস এলাকায় গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত যানবাহনসহ শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান গ্রহণ করেন। স্লোগানে উত্তাল জনতা—এমন নানা স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলে।অবরোধ চলাকালে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যায়, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন একজন সাহসী কণ্ঠস্বর। তার জনপ্রিয়তা ও প্রতিবাদী ভূমিকা সহ্য করতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। অথচ হত্যার এতদিন পরও প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনগণের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর ও দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করার অনুরোধ জানায়। পুলিশের আশ্বাসে নির্দিষ্ট সময় পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা বলেন, শরীফ ওসমান হাদির হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তারা।এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে জনমনে ক্ষোভ আরও বিস্ফোরিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মির্জাপুরে বিএনপির নির্বাচনী কর্মীসভা অনুষ্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৭নং উয়ার্শী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এক কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার ও মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতেই এ কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত এ কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৭ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু-বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকি। কর্মীসভায় উয়ার্শী ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সভাস্থলে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।সভায় বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলকে আরও সুসংগঠিত করা এবং ভোটারদের কাছে বিএনপির রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচনী মাঠে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকি বলেন,দেশে গণতন্ত্র আজ বিপর্যস্ত, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। বিএনপি জনগণের দল। জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বিএনপি সবসময় রাজপথে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই প্রতিটি নেতাকর্মীকে মানুষের কাছে গিয়ে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। সভায় বক্তারা বলেন,গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দলীয় বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তিই বিএনপির প্রধান শক্তি উল্লেখ করে তারা সবাইকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। সভা শেষে নেতাকর্মীরা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও কর্মীসভা, উঠান বৈঠক ও জনসংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ডিবির সঙ্গে পুলিশ সুপারের গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), টাঙ্গাইলের সকল অফিসার ও ফোর্সদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশের গোয়েন্দা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।সভা শুরুর আগে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), টাঙ্গাইলের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় ডিবির সকল স্তরের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সময়োপযোগী ও অগ্রিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধারে অভিযান জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে মামলা রুজুসহ সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি। পুলিশ সুপার আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ সদস্যদের সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ডিবির অফিসার ও ফোর্সরা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব পালনে আরও নিষ্ঠা ও তৎপরতার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ডিবির সঙ্গে পুলিশ সুপারের গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), টাঙ্গাইলের সকল অফিসার ও ফোর্সদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশের গোয়েন্দা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। সভা শুরুর আগে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), টাঙ্গাইলের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় ডিবির সকল স্তরের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সময়োপযোগী ও অগ্রিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধারে অভিযান জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে মামলা রুজুসহ সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি। পুলিশ সুপার আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ সদস্যদের সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।তবিনিময় সভায় উপস্থিত ডিবির অফিসার ও ফোর্সরা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব পালনে আরও নিষ্ঠা ও তৎপরতার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কালিহাতীতে বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় অবস্থিত এম রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত শিশুর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, শোক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) রাতের দিকে হাসপাতালটির চিকিৎসক ডা. সুমির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলাকালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। নিহত নবজাতকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী প্রসূতিকে চিকিৎসার জন্য এম রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর প্রসূতির শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে উঠলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে প্রসূতির কষ্ট ও জটিলতার বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও তা যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় স্বজনরা চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, যদি সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে নবজাতকের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল। ঘটনার পরপরই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকার প্রতিবাদ জানান এবং দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলেন। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়নি। নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে এম রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সুমির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, কালিহাতীসহ আশপাশের এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি না হওয়ায় রোগীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের দলের মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। অথচ শেখ মুজিব দেশের মানুষকে বিভক্তি ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলেছিলেন। জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন এবং দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই ২০২৪ সালের গণআন্দোলন সফল হয়েছে। একমাত্র জিয়া পরিবারের নেতৃত্বেই দেশের প্রতিটি আন্দোলনে জনগণ বিজয় অর্জন করেছে। বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় উৎসবে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে চারটি বড় আন্দোলন হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিএনপির জন্ম হয়েছে। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। আর ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। প্রতিটি আন্দোলনে জিয়াউর রহমান ও বিএনপির নেতৃত্বই ছিল মুখ্য, এবং তারাই এসব আন্দোলনের প্রকৃত কৃতিত্বের দাবিদার। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু। জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক শ্যামল হোড়ের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক ফেডারেশনের সাবেক উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা আলী ইমাম তপন এবং জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক। এছাড়াও বক্তব্য দেন জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য সচিব মোমিনুল ইসলাম লাভলু, সহ-সদস্য সচিব উদয় লাল গৌড়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বিজয় উৎসবে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামিসহ মোট ১৮ জন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত থেকে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। পুলিশ জানায়, দেশব্যাপী চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ এর আওতায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বিশেষ টিম অংশ নেয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ চিহ্নিত অপরাধীরা রয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আমজাদ হোসেন (৫৫), ফেরদৌস আলম পাহাড়ী (৪৫), শরীফ হোসেন (২৫), নাসির উদ্দিন (৪৭), সৈয়দা তানিয়া ইসলাম (৪৫), তারিফুল ইসলাম (৩৭), ফজলুল হক (৫০), আব্দুল হোসেন (৩২), মো. রাসেল (২৩), ওয়াদুদ রহমান শাহীন (৫১), এম. এ. হাকিম তালুকদার (৫৫), হৃদয় আহমেদ (২৮), মো. শামীম (৪৬), তাহসিন হোসেন আলীফ (২০), তপু মন্ডল (২২), মো. জুয়েল (২৫), রিপন মিয়া (৫০) ও মিনহাজ উদ্দিন (৫০)। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১৯, দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০, সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এবং দি এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলোতে সংঘবদ্ধ সহিংসতা, হামলা, মারধর, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধসহ নানা অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলে শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বিজয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিজয় উৎসবে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক শ্যামল হোড়। অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শ্রমিক সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের দিকনির্দেশনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এ কে এম মনিরুল হক (ভিপি) মুনীর, টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কাজী শফিকুর রহমান লিটন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল হক শাহীন, টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক লাভলুসহ শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বিজয় উৎসব উপলক্ষে আলোচনা সভার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক স্লোগান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিপুল সংখ্যক শ্রমিক, নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
কালিহাতি ও এলেঙ্গায় তিন বেকারি ও মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে জরিমানা এলেঙ্গায় মারহাবা এ ওয়ান বেকারি, তাজমহল বেকারি এবং মামা ভাগ্নে মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে BSTI এর স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার,BSTI এর সার্টিফিকেটশন ব্যতীত নির্দিষ্ট পণ্য বিক্রয় ইত্যাদি অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্টের তফসিলভুক্ত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন আইন, ২০১৮ এর অধীন তিনটি পৃথক মামলায় ১০৫০০০/- (এক লক্ষ পাচঁ হাজার টাকা) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি),কালিহাতি,টাংগাইল। এসময় ফিল্ড অফিসার BSTI এবং কালিহাতি থানার পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলা ও এলেঙ্গা এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে প্রশাসন। লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়াই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার এবং বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন ব্যতীত নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলায় মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে পরিচালিত এ অভিযানে কালিহাতি ও এলেঙ্গা এলাকার মারহাবা এ ওয়ান বেকারি, তাজমহল বেকারি এবং মামা ভাগ্নে মিষ্টান্ন ভাণ্ডার-এ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ না করেই বিএসটিআইয়ের স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার করছে এবং বিএসটিআই সার্টিফিকেশন ছাড়াই নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য বাজারজাত করছে, যা স্পষ্টভাবে আইন লঙ্ঘনের শামিল।এ প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্টের তফসিলভুক্ত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন ২০১৮ এর বিভিন্ন ধারায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন।মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন কালিহাতি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) টাঙ্গাইল। অভিযানে বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসার এবং কালিহাতি থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন ও বিক্রি রোধ এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ হাবিব এবং সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল।বুধবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) নির্ধারিত সময়ে তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় প্রার্থীরা বলেন এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষা স্বাস্থ্যসেবা যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিকে তারা তাদের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল-৮ আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।
কর্মমুখী শিক্ষা চালু করে বেকারত্ব দূর করা হবে—আব্দুল্লাহ তালুকদার জামায়াতে ইসলামী মনোনীত টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের প্রার্থী আব্দুল্লাহ তালুকদার বলেছেন শিক্ষার মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী বেকার থাকবে না। সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষম হয়ে জাতির কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি জানান জনগণের ভোটে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সর্বপ্রথম কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন আমাদের কোনো ভিন্ন ভিন্ন দফা নেই। আমাদের একটাই লক্ষ্য—ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা যেখানে সবাই ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারবে। সভায় জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন এ পরিদর্শন কোনোভাবেই ভোটের রাজনীতির অংশ নয়। বরং প্রতিটি ধর্মাবলম্বী যেন তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে—এটি নিশ্চিত করতেই নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। এটি কোনো উৎসব উদযাপনের উদ্দেশ্যে ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মির্জাপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইয়া খান মারুফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গোড়াই ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির জাহাঙ্গীর আলম শাহজাহান তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান ইসমাইল হোসেন পৌর বংশাই শাখার অর্থ সম্পাদক মাসুম সিকদার উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন এবং আলমাছ মিয়া। আব্দুল্লাহ তালুকদার বলেন জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে কেউ বঞ্চিত হবে না, বৈষম্যের কোনো স্থান থাকবে না এবং ন্যায় ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ সক্রিয়ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। তিনি আরও জানান, ক্ষমতায় গেলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে উন্নয়ন পরিকল্পনায় মির্জাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ও অবহেলিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত জিআর পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেনের নির্দেশনায় এবং বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল বারীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার এসআই (নিরস্ত্র) আবদুর রহমান, এএসআই মো. কবির হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ সংশ্লিষ্ট ফোর্স। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত জিআর পরোয়ানা নং ১০৭২/১৭ এর আসামি মো. মোস্তফা (রসুলপুর), জিআর পরোয়ানা নং ২০৪/২৪ এর আসামি আনোয়ার হোসেন (আমানউল্যাপুর), পুলিশ আইন ৩৪ ধারার আসামি এমদাদুল হক (লক্ষ্মীনারায়নপুর) এবং বেগমগঞ্জ মডেল থানার মাদক মামলা নং-১(৮)২৫ এর আসামি মো. তানভির হোসেন সৌরভ, মো. ইউসুফ মোল্লা, ফখরুল ইসলাম ও মো. সাইফুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানায়, এলাকায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেফতারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারেও পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে
শেষ পর্যন্ত ঘাতকের বুলেটের আঘাতেই থেমে গেল এক সংগ্রামী কণ্ঠ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার আজ রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে হাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভাই ওমর বিন হাদি। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবিচল এই বিপ্লবীকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করুন। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় প্রচারণা শেষে ফেরার পথে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে একই রাতে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাদির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য, মৃত্যুর আগে তিনি প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। গত ১৪ নভেম্বর নিজের ফেসবুক পোস্টে হাদি দাবি করেন, গত কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ৩০টি দেশি-বিদেশি নম্বর থেকে তাকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেই হুমকিতে তার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকির কথাও উল্লেখ ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদি। তার জ্বালাময়ী বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও তরুণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসে। গণঅভ্যুত্থানের পরও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন হাদি। ভোটের মাঠে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। তবে আর নির্বাচনে লড়া হলো না তার। হত্যার আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল। ঘাতকদের বুলেটে প্রাণ হারিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে শোকস্তব্ধ করে চিরতরে বিদায় নিলেন আজাদীর সংগ্রামী সন্তান শরীফ ওসমান হাদি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি’র ইন্তেকাল, সর্বমহলে শোক ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর ইন্তেকালে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন স্পষ্টভাষী প্রতিবাদী ও সংগ্রামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছিলেন। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থান এবং সাহসী বক্তব্য তাঁকে তরুণ সমাজের কাছে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি জনসম্পৃক্ত রাজনীতির যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, তা অনেকের মধ্যেই আশার সঞ্চার করেছিল। তাঁর মৃত্যুতে সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে গেল বলে মন্তব্য করেছেন সহকর্মী ও সমর্থকরা। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় জানানো হয়,শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন আমাদের আন্দোলনের এক অগ্রসৈনিক। তাঁর শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ন্যায়ের সংগ্রামে শরিফ ওসমান হাদি’র অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করে বলা হয় হে রাব্বুল আলামিন—আপনি তাঁকে শহীদের মর্যাদা দান করুন তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। শোকাহত পরিবার-পরিজন ও সহযোদ্ধাদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অভিযোগ করে বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করা, অরাজকতা সৃষ্টি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা হাদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা এবং দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। টুকু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। বিএনপি এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক সময়েই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলে দেশজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইবে।’ তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত এবং বিএনপি সরকার গঠন করবে। দোয়া মাহফিলে রফিকুল ইসলাম ফারুক স্মৃতি সংঘের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত রফিকুল ইসলাম ফারুকের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে দলীয় ঐক্যের সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। দলীয় ঐক্য অটুট রেখে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানানো হয়। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা এবং দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। রফিকুল ইসলাম ফারুক স্মৃতি সংঘের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। উল্লেখ্য, তিনি নিজেও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি প্রকাশ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। দলীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, ‘আপনার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়া কি উচিত নয়? অবশ্যই উচিত। আমি আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল সদরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে টুকু সাহেব বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে দল অত্যন্ত যাচাই-বাছাই করে আমাদের প্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে আপনাদের কাছে পাঠিয়েছে। এখন আপনাদের দায়িত্ব হলো—টাঙ্গাইলের অন্য সব আসনের তুলনায় সদর আসনে সর্বোচ্চ ভোটে তাকে নির্বাচিত করা।’ অন্যান্য বক্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে টাঙ্গাইল-৫ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তা দলের ঐক্য ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। দল ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে অতীতের সব বিভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো এবং নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী। এছাড়াও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ. কে. এম. মনিরুল হক (ডিপি মনির)সহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল দলীয় সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দলের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাঁর সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরহাদ ইকবালকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ করা যাবে) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের গোলচত্বর বাজার এলাকায় এই জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিলও অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরহাদ ইকবাল। মেজর মাহমুদুল হাসান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, টাঙ্গাইল শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলীমসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই সংকটময় সময়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দলের ভেতরে প্রভাব খাটিয়ে টাঙ্গাইল সদর আসনসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে একতরফাভাবে মনোনয়ন ঘোষণা করেছে, যা দলীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তারা আরও অভিযোগ করেন, টাঙ্গাইল সদর আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় ও জনপ্রিয় নেতাকে বাদ দিয়ে বাইরের একজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সদর আসনের বাসিন্দা ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করা ফরহাদ ইকবালকে উপেক্ষা করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে প্রার্থী ঘোষণায় মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। বক্তারা বলেন, ফরহাদ ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল সদর এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে রাজনীতি করে আসছেন। তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তৃণমূল থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের মধ্যেও রয়েছে। তাই জনমানুষের প্রত্যাশা ও দলের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত মনোনয়ন পরিবর্তন করে ফরহাদ ইকবালকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তারা। জনসভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিলটি। মিছিলে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত এমপি প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদসহ জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়, যেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ। তারা ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডকে নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে, দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। বক্তারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের প্রতি কোনো ধরনের হামলা কখনোই সমাজে সহ্য করা হবে না। মিছিল ও সমাবেশ শেষে ওসমান হাদীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সমাবেশে উপস্থিতরা একজোট হয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে আওয়াজ তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। জানা গেছে, এই বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ প্রদর্শন করেন এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ করেন।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় হঠাৎ করে কুকুরের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত দুই দিনে অন্তত ৪০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার (১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর) তারা সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা উপজেলার বড়চওনা, পৌরসভা, বেতুয়া ও বহুরিয়া চতলবাইদ এলাকার বাসিন্দা। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে শাহনাজ আক্তার (৩৫), জাহানারা বেগম (৫৫) এবং চার বছরের শিশু মাহিরাসহ কয়েকজন হাসপাতালে আসেন। শুধু বুধবারই দুই শিশুসহ মোট ১৮ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রার জানান, এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) আরও ২২ জন কুকুরের কামড় নিয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া চলতি মাসের (১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর) তথ্য অনুযায়ী, কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, কুকুরের কামড়ে আহতদের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আহতদের অনেককে বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। গুরুতর আহত দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কুকুরের হঠাৎ আক্রমণজনিত এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের সচেতন থাকতে হবে। কোনোভাবেই কুকুরের কাছাকাছি না যাওয়া এবং আহত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কুকুরদের আচরণ অস্বাভাবিক হওয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের বাইরে যেতে এবং একা ঘোরাঘুরি করা এ সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।