টাংগাইল পাকুন্দিয়া বাইপাস এলাকায় একই মোটর সাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন দুই ভাই হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের মুখোমুখি ধাক্কা লেগে ঘটনা স্থলেই একজন মারা যায়। অপরজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে টাঙ্গাইলের পাকুন্দিয়া বাইপাস এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের একজন নিহত হয়েছেন এবং অপরজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,৩০/১০/২০২৫ সন্ধ্যার দিকে বাইপাস এলাকায় একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান এবং অন্যজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনকরা হবে।
টাঙ্গাইলে র্যাবের অভিযানে ৩ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদককারবারি ও ডাকাতির ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর) বিকেলে র্যাব ১৪ এর তিন নম্বর কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাহাকোদিয়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিন দর্জির মেয়ে মর্জিনা বেগম ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মাদাপুর গ্রামের ভাদু মন্ডলের ছেলে মো. সামাদ মন্ডল। কোম্পানি কমান্ডার সংবাদ সম্মেলন বলেন, ‘একজন মাদক ব্যবসায়ী টাঙ্গাইল সদর এলাকা থেকে সিএনজি যোগে ইয়াবা নিয়ে টাঙ্গাইল নাগরপুরের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে দেলদুয়ারের মোহাম্মদপুর পূর্ব পাড়া জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার উপর তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করার সময় সিগনাল দিয়ে সিএনজি থামানো হয়। সিএনজি তল্লাশিকালে মর্জিনা বেগমের কাছ থেকে তিন হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, স্মার্ট ফোন, নগদ টাকাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত অবৈধ মাদক দ্রব্যের বাজারমূল্য ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা। পরে দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশের কাছে মর্জিনাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ বুধবার, ২৯ অক্টোবর) রাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ডাকাতি মামলার আসামি মো. সামাদ মন্ডলকে মির্জাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন এক প্রসূতি মা। নিহতের নাম মাসুমা আক্তার (২৫)। তিনি ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের জামাল ভূঁইয়ার স্ত্রী। তবে মৃত্যুর মধ্য দিয়েও বেঁচে গেছে তার নবজাতক সন্তান। (৩০ অক্টোবর) ভূঞাপুর পৌর এলাকার সিটি হার্ট ক্লিনিকে। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অনিয়ম এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি গোপন করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে প্রসব ব্যথা ওঠায় মাসুমাকে ভূঞাপুরের সিটি হার্ট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুর দুইটার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। অপারেশন করেন ধনবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এনামুল হক সোহেল যিনি একইসঙ্গে ওই ক্লিনিকের পার্টনার হিসেবেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এনেস্থেসিয়ার দায়িত্বও নিজেই পালন করেন, যদিও এ কাজে আলাদা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অপারেশনের পরপরই রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কিন্তু কোথাও স্থানান্তরের ব্যবস্থা না করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লিনিকেই ফেলে রাখা হয় তাকে। একপর্যায়ে নিথর দেহে পরিণত হন মাসুমা আক্তার। স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পরও প্রায় ছয় ঘণ্টা তাকে অপারেশন থিয়েটারে আটকে রাখা হয়, কাউকে দেখতেও দেওয়া হয়নি। পরে ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য’ অন্যত্র পাঠানোর নামে মরদেহই অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্লিনিক প্রাঙ্গণে শুরু হয় কান্না, ক্ষোভ আর বিক্ষোভ। স্থানীয়দের চাপের মুখে পুলিশ এসে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয় এবং দুইজন স্টাফকে আটক করে। তবে চিকিৎসক ও ক্লিনিকের মালিকপক্ষ পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতে ভূঞাপুর থানায় ‘মীমাংসার নাটক’ মঞ্চস্থ হয়। সেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৫ লাখ টাকা প্রদান করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে জানা যায়, ওই টাকার একাংশ কিছু তথাকথিত সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও পুলিশের হাত ঘুরেছে। ঘটনার পর থেকে সিটি হার্ট ক্লিনিকের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভূঞাপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “থানায় মীমাংসা বা টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুব হাসান বলেন, ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মোস্তফা মাসুদ: : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের এক শ্রমিক খুলনায় কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। ঠিকাদারের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা খরচ না পেয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় আহত শ্রমিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নারায়নপুর গ্রামের মৃত জামাত মোড়লের ছেলে আহত শ্রমিক মোঃ আফজাল হোসেন (৪০) ,তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, সোনালি কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আব্দুল হাকিম সরদার (৫৮) এবং তার লেবার সর্দার মোঃ ইকবাল হোসেন (৪০) এর অধীনে কাজ করতে গিয়ে তিনি গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হন।ভুক্তভোগী জানান,খুলনা শহরের বউবাজার এলাকায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালীন অসাবধানতাবশত তিনি তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে ঠিকাদার পক্ষ তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে মাত্র তিন দিন চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। সেই সময় ঠিকাদার হাকিম সরদার প্রতিশ্রুতি দেন যে, পরবর্তীতে চিকিৎসার পূর্ণ খরচ বহন করা হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কোনো সহায়তা বা খোঁজখবর নেয়নি। বর্তমানে আফজাল হোসেন কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, “২৬ অক্টোবর বিকেলে আমি চিকিৎসা খরচ চাওয়ার জন্য ঠিকাদার হাকিম সরদার ও লেবার সর্দার ইকবালের কাছে গেলে তারা আমাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং বলে—‘তোর কিছু করার থাকলে করে নিস।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,আমি তাকে খুলনা হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম, কিছু খরচও দিয়েছি। বাড়ি নিয়ে এসে আরো দেবো বলেছিলাম।” এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলেন, “একজন দিনমজুর শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। এখন ঠিকাদার চিকিৎসা ব্যয় না দিলে তা অমানবিক আচরণ ছাড়া কিছু নয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।আহত শ্রমিক আফজাল হোসেন বর্তমানে চিকিৎসাহীন অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে চিকিৎসা সহায়তা ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
আমার দেশ প্রকাশ করেছে: বাংলাদেশের শিপিং খাতে ইসরায়েলের অঘোষিত বাণিজ্যিক উপস্থিতি প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাইডেন্ট শিপিং লাইন লিমিটেডকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েলের শীর্ষ শিপিং সংস্থা জেড আইএম ইন্টিগ্রেটেড শিপিং সার্ভিসেস লিমিটেড। নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশের জেড আইএম-এর সমস্ত আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ট্রাইডেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাইডেন্ট শিপিংয়ের নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং এফবিসিসিআই সদস্য ফারুবার আনোয়ার। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন: সিএফও: আবু জাফর পোর্ট ক্যাপ্টেন: আলী ইউসুফ কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার: আসাদ খান জিএম সেলস: গৌতম চন্দ্র দাস সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার: দেলোয়ার হোসেন (৩০ সেপ্টেম্বর অবসরগ্রহণ) আইটি ম্যানেজার: উজ্জ্বল কুমার এইচআর ম্যানেজার: ওয়ারদা সাইয়েদা সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ইংরেজি নববর্ষে ট্রাইডেন্টের ঢাকা অফিসে জেড আইএম-এর নামের কেক কাটা হয়, যেখানে ইসরায়েলি পতাকার রং ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, জেড আইএম-এর ওয়েবসাইটেও বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ট্রাইডেন্টের নাম এবং কর্মকর্তাদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত “March for Gaza” কর্মসূচির খবর ট্রাইডেন্ট অফিস থেকে সরাসরি জেড আইএম-এর হাইফা সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। ওই ইমেইলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মনিটরিং সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়। ইমেইলের মাধ্যমে জেড আইএম-এর আঞ্চলিক প্রতিনিধি দোতান সার–কে তথ্য পাঠানো হয়। এছাড়াও, ইউনাইটেড আরব আমিরাত প্রবাসী ক্যাপ্টেন বিবেক শর্মা (সারাফ শিপিং এজেন্সির জেনারেল ম্যানেজার) আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। মেইলের কার্বন কপিতে ছিলেন আরিফ সিদ্দিকী, সাইফুল এবং আবু জাফর। সূত্র মতে, ট্রাইডেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে দোতান সার-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এই যোগাযোগ কেবল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তথ্য আদানপ্রদান, বিশেষ পণ্যবাহী রুট নির্ধারণ এবং কনটেইনার স্ক্যানিং সংক্রান্ত নির্দেশনাও অন্তর্ভুক্ত। জেড আইএম ১৯৪৫ সালে ইসরায়েলে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর হাইফায়, যা সামরিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বহুবার উল্লেখ করেছেন, জেড আইএম শুধু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সংযোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের শিপিং ডেটা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। কোন পণ্য কোন দেশে যাচ্ছে, কে রপ্তানি করছে এবং কে আমদানি করছে—এই তথ্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের শিপিং খাতে এই অঘোষিত নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক নজরও আকর্ষণ করছে।
পাঁচ বছরে কোন ক্লাস না নিয়েই সরকারি নিয়মে বেতন ভাতা নিচ্ছে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশীপুর মুহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক হোসেন মিয়ার। এই অনিয়মে একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের জড়িয়ে থাকার অভিযোগ করছে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। সরেজমিনে জানা যায়, কাশিপুর মুহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক হোসেন মিয়া সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সরকারি বেতনভুক্ত হলেও গত পাঁচ বছরে একদিনও ক্লাস করেনিও মাদ্রাসা ও আসেনা। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা কেউই এই শিক্ষককে কখনো ক্লাস নিতে দেখেনি, এমনকি চিনেও না। ২০২১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনি মাদ্রাসায় উপস্থিত হননি, হাজিরায় কখনো দেখানো হয়েছে হোসেন মিয়ার স্বাক্ষর, আবার কখনো দেখানো হয়েছে ছুটি, বিষয়টি কোন শিক্ষক বা কমিটি জানেনা কেনো বা কি কারণে অনুপস্থিত। তারপর ও অধ্যক্ষের সহায়তায় নিয়মিত বেতন ও বোনাস নিচ্ছে, এই অভিযোগে অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিনকে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই নিয়ম আমার আগের অধ্যক্ষ থেকে হয়ে আসছে (যদিও তিনি প্রায় ৪বছর এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ) তবে নতুন কমিটির সমন্বয়ে বিষয়টি কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিয়মিতভাবে সরকারি তহবিল থেকে নিচ্ছেন বেতন- ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা যেখানে প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান প্রধান বেতন নথিতে স্বাক্ষর করতে হয় একথা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি একন ঢাকা আছি, আপনারা আগামীকাল আসেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিনের যোগসাজশে শিক্ষক হোসেন মিয়া হাজিরা স্বাক্ষর করতে পারে, এই শিক্ষক মাদ্রাসায় না এলেও সরকারের নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন যা শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরনের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ। মাদ্রাসার সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি একাধিকবার আলোচনা হয়, কিন্তু অধ্যক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি
দুই হাত-পা বেঁধে রেখেই লালন পালন করতে হয় শিশু তাছিনকে। মাত্র আট বছর বয়সেই শরীরে কঠিন রোগ বহন করে ধীরে ধীরে মৃত্যুপথযাত্রী হতে যাচ্ছে। মানসিক ভারসাম্যহীনতায় আক্রান্ত শিশু তাছিন প্রায়ই নিজের শরীর নিজেই আঘাত করে তার কোমল দেহ ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। অসহায় বাবা-মা বাধ্য হয়ে তার দুই হাত-পা বেঁধে রাখেন, যাতে সে নিজে নিজে তার শরীরে আর কষ্ট না পায়। তাছিনের বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আচরনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পারিবারিক দরিদ্রতার কারনে এখন আর চিকিৎসা চালাতে পারছে না তাছিনের পরিবার। যে কারনে রোগটি চরম আকার ধারণ করেছে। দিনরাত বেঁধেই রাখতে হয় তাছিনকে। তাছিনের বাবা নেত্রকোণার দুর্গাপুর পৌরশহরের দশাল এলাকার রিকশাচালক সুজন মিয়া ও মা গার্মেন্টস কর্মী তাসলিমা বেগম। একমাত্র সন্তান আবু তাছিনে এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। টাকার অভাবে একমাত্র সন্তানের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলের বেঁচে থাকার আশা ছেড়েই দিয়েছেন তারা। ডাক্তার বলেছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগটিও তার শরীরে বাসা বেঁধেছে। তবে নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা ও নার্সিং করাতে পারলে তাছিন ভালো হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে তাছিনকে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, তা নজরে আসে কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয় সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে খোঁজ নিয়েছেন তাছিনের। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শিশুটির সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীযয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, একটি শিশু কখনোই শৃঙ্খলিত জীবনে বেঁচে থাকতে পারে না। তাছিন যেন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে তার সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক সংগঠনগুলো ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা পকাশ করেছেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই সহায়তা তাছিনের জীবনে নতুন আলো ফিরে আসুক, অন্যান্য শিশুর মতো তাছিনও মায়ের কোলে ফিরে আসুক এমনটাই আশা করছেন সকলে।
টাঙ্গাইল ভূঞাপুর উপজেলায় ২৮/১০/২০২৫ ইং তারিখে ভূয়াপুর যুবদল এর আয়োজনে পালিত হলো ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এর গোলচত্বর এ উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্দ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত শিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার জুলহাজ আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক উপমন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অনির্বাণ আমীর দুখু ও পৌর যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান গিয়াস, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজাহান কবির লিটন, হাবিবুর রহমান ভুট্টো সহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন রোড এ আনন্দ মিছিল করেন এবং স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করেন পুরো এলাকা।
২৮ অক্টোবর২০২৫ ইং রোজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের বাসাইল বাজারের সড়কের দুপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। দুপুরে বাসাইল পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগম এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, বাসাইল বাজারের আঞ্চলিক সড়কের দুপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকান উচ্ছেদে অভিযানে নামেন পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগম। বাসাইল কোটিপতি মার্কেটের সামনে থেকে শুরু করে সাহাপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুপাশের দোকান এবং ঘরগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। এই উচ্ছেদ অভিযান এ বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। আরো উপস্থিত ছিলেন বাসাইল পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগম । উচ্ছেদ অভিযান পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আকলিমা বেগম বলেন মানুষের হাঁটার জন্য রাস্তার দুপাশে ৭ফিট পরিস্কার রাখা হবে। আমরা খুব দ্রুতই মানুষের চলাচলের জন্য সিসি ঢালাইয়ের ব্যবস্থা করবো। ভবিষ্যতে নতুন করে কেউ রাস্তা দখল করে দোকান নির্মাণ করতে না পারে। আজকের পর থেকে কেউ যেন কোনো প্রকার স্থাপনা করতে না পারে আমরা সেইদিকে কঠোর ভাবে মনিটরিং করবো।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নতুন ইসলামপন্থী জোট গঠনের পথে কওমি ঘরানার অন্তত পাঁচটি দল। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে তফসিল ঘোষণার পরপরই। ইতিমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। সূত্র জানায়, শরিকদের কাছে শতাধিক আসন ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, আকিদাগত দ্বন্দ্ব ভুলে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের অভিপ্রায় থেকেই তারা আসন সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রায় ১০০ আসন, মামুনুল হক নেতৃত্বাধীন দল ৫০ আসন এবং বাকি তিনটি ইসলামপন্থী দল ৭০ থেকে ৮০ আসনের দাবি জানিয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্র বলছে, যেখানে ইসলামপন্থী প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে একক প্রার্থী দেয়া হবে। এদিকে, বিএনপি এই জোট নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। দলটির নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, “অনেক জিরো প্লাস জিরো প্লাস জিরো ইজ জিরো। ইসলামের জিকির তুলে নির্বাচনের আগে রাজনীতি করা দেশের জন্য সঠিক আচরণ নয়।” অন্যদিকে, বিএনপিও ইসলামপন্থী কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। জানা গেছে, কওমি ঘটনার পুরনো দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামীর চার নেতাকে নির্বাচনী কাজে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামপন্থী দলগুলোর এই নতুন সমঝোতা নির্বাচনে ভোটের মাঠে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করবে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, জোট ক্ষমতায় গেলে কে নেতৃত্ব দেবেন বা কে হবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার মাত্র তিন ঘণ্টা পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বিশাল মিয়া (১৭) নামে এক ফার্মেসি কর্মচারী। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে পৌরসভার শিমলা বাজারের সুমন ফার্মেসিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বিশাল মিয়া টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের কেরামজানি গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে। তারা কিছুদিন ধরে সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের কাবারিয়া বাড়ি গ্রামে বসবাস করছিলেন। বিশালের বাবা সাগর মিয়া পেশায় একজন ভ্যানচালক। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিশাল স্থানীয় আইডিয়াল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি সুমন ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন। সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লেখেন— “বেঁচে থেকে লাভ কী, যদি আল্লাহর ইবাদতই না করি।” স্ট্যাটাস দেওয়ার পর বিশাল ফার্মেসির বিশ্রামঘরে গিয়ে ঘুমানোর কথা বলে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফার্মেসির মালিক সুজিত কুমার রায় তাকে ডাকলেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে দেখা যায়, রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন বিশাল মিয়া। দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেবাশীষ রাজবংশী তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বাবা সাগর মিয়া জানান, “ভ্যান চালিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাই। ছেলে মাঝেমধ্যে বড় কিছু জিনিসের জন্য বায়না ধরত। না দিতে পারলে মন খারাপ করে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দোকানে চলে যেত। আজ সে এমন কাজ করবে, ভাবিনি।” সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে সংঘটিত লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা থানা চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আমির অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইদ্রিস হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা রাফিউল আলম রুমু, উপজেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান এবং উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক উবাইদুল্লাহ। ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা বাজার ও প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। বক্তারা বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন হত্যাযজ্ঞ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। আমরা সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।” সমাবেশে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আজ (বুধবার) কক্সবাজারে ব্র্যাক কর্তৃক বাস্তবায়িত এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘PLEASE (Plastic Waste Recycling for Livelihood, Environment and Sustainability Enhancement)’ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ও গবেষক ড. সাইমুম পারভেজ। PLEASE প্রকল্পটি বাংলাদেশের অন্যতম উদ্ভাবনী পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, যার লক্ষ্য প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করা। প্রকল্পটি নাগরিকদের সচেতন করে বর্জ্য পৃথকীকরণে উৎসাহিত করছে, নিরাপদ সংগ্রহ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করছে এবং সংগৃহীত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করে তৈরি করছে মানসম্মত ও জলবায়ু সহনশীল আসবাবপত্র। এই উদ্যোগ কেবল পরিবেশ সুরক্ষাই নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “বিএনপি তার ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের এজেন্ডায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর অন্যতম প্রতিশ্রুতি হলো—দেশব্যাপী বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, নিরাপদ নিষ্পত্তি ও পুনর্ব্যবহারের একটি সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা গঠন।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রায় অদৃশ্য—রাস্তাঘাট, নদী ও খালের পাশে অগণিত বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, রোগবালাই ছড়াচ্ছে, আর অর্থনীতি হারাচ্ছে তার উৎপাদনশীল শক্তি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এই অচলাবস্থা ভেঙে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা হবে।” তিনি প্রকল্পে কর্মরত নারী ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করে বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে নারী ও তরুণরা বিকল্প আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। একদিকে পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে—এটাই টেকসই উন্নয়নের প্রকৃত রূপ।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ড. হায়দার বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যেখানে স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করবে। এভাবেই আমরা ‘Green Bangladesh’ গড়ে তুলব—যেখানে পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক হবে।” তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের এজেন্ডা শুধু রাজনৈতিক সংস্কার নয়—এটি একটি সমন্বিত জাতীয় পুনর্জাগরণের রূপরেখা, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল রূপান্তর একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। আমরা মাঠে নেমে সফল মডেলগুলো পর্যবেক্ষণ করছি, যাতে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিকল্পনায় এগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।” ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রযুক্তি, স্থানীয় উদ্ভাবন ও জনগণের অংশগ্রহণ একসঙ্গে কাজ করে, তবে বাংলাদেশ একদিন দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মডেল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই বাংলাদেশ গড়াই এখন আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।”
টাঙ্গাইল জেলায় আসন্ন ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর ৫ আসন জুলাই সনদ এবং নানাবিধ কার্যকলাপ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও নভেম্বরের মধ্যেই গণভোটের আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং) তারিখে শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করে তারা। দাবিগুলো হলো, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনে PR পদ্ধতি চালু, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন ও দুর্নীতির বিচার এবং জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। সমাবেশে টাঙ্গাইল জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্ব করেন। টাঙ্গাইল জেলার জামায়াতী ইসলামে সদর ৫ আসনের প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ বলেন,দেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। হাজারো ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিপ্লবকে নস্যাৎ করার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমরা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জাতিকে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ। সদর উপজেলা আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন বাদলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি হোসনে মোবারক বাবুল, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, খেলাফত মজলিসের জেলা সহসভাপতি মুফতি আব্দুর রহমান মাদানি, খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান, অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান কোরায়েশী, শহর আমির অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। এই বিক্ষোভ সমাবেশে সবাইকে ধৈর্য এবং শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানান এবং দেশের সকল নেতাকর্মীদের সঠিকভাবে কার্যকলাপ অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানান।
সাজিদ পিয়াল: গোপালপুর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ২৭/১০/২০২৬ইং তারিখে গোপালপুর উপজেলা ও পৌর মৎস্যজীবী দল এর উদ্যোগে বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন উপলক্ষে লিফলেট বিতরণের প্রস্তুতি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। উক্ত মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শফিকুল ইসলাম সভাপতি গোপালপুর উপজেলা মৎস্যজীবী দল সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজিম তালুকদার মোঃ দোলয়ার হোসেন সহ সভাপতি গোপালপুর উপজেলা মৎস্যজীবী দল যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম মোঃমারুফ হোসেন সাধারণ সম্পাদক পৌর মৎস্যজীবী দল আরো উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলার সকল ইউনিয়ন ওয়ার্ড মৎস্যজীবীদলের নেতৃবৃন্দ।
সাজিদ পিয়াল: কৃষকদের সুবিধার্থে একই দোকানে সার ও বীজ বিক্রয়ের অনুমতি প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে টাংগাইল জেলা (BADC) বীজ ডিলাররা। ২৮ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (BADC) বীজ ডিলার টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এই মানববন্ধনে অংশ নেন টাংগাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলার বীজ ডিলাররা। বক্তব্য রাখেন জেলা বীজ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মো. আরিফুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব হোসেন এবং সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি এবং তাঁদের দাবি পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানটিতে বক্তারা উল্লেখ্য করেন ২০১০ সালের নীতিমালা অনুযায়ী বীজ ডিলাররা এক বছর পর সার ডিলারে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই ডিলারশিপ না পাওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই দোকান থেকে যেন সার ও বীজ বিক্রির সুযোগ পেলে কৃষকরা এক জায়গায় সব কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে সময় ও খরচ দুইটিই বাঁচবে। আরও বলেন, ‘কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বিএডিসির মানসম্মত বীজ সরবরাহ করে আসছি। কৃষকের সুবিধার্থে বীজ ডিলারদের সার ডিলারশিপ দ্রুত বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানানো হয়।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চুরি,ছিনতাই, চাঁদাবাজি,ডাকাতি ও একাধিক মাদক মামলাসহ মোট ১৪ (চৌদ্দ) টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার অপরাধী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কসাই জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী ক্যাম্পের সদস্যরা। রবিবার দুপুরে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানাধীন মিরওয়ারীশপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডস্থ রিয়াজ স্টোরের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাব-১১,নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মিঠুন কুন্ড । তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় (মামলা নং-১৩,তারিখ-১৮/০৭/২০২৫ইং) বিচারকার্য চলাকালে পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর ভিত্তিতে আজ তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানান গ্রেফতারকৃত কসাই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় উল্লেখিত মাদক মামলা ছাড়াও আরও ১৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে চুরি,ছিনতাই,চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং বিভিন্ন ধারার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একাধিক মামলা। দীর্ঘদিন ধরে সে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য পলাতক ছিল। র্যাব-১১,সিপিসি-৩ এর চৌকস দল গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত করে এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলে স্বীকার করে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত কসাই জাহাঙ্গীরকে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘুমের মধ্যে এক মাদরাসা ছাত্রকে বিভৎসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের বাটরা আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া মাখফুনুল উলুম মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো.নাজিম উদ্দিন (১৩) উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের ওবায়েদ উল্ল্যার ছেলে। অপরদিকে, আটক আবু ছায়েদ (১৬) ময়মনসিংহ জেলার টেঙ্গাপাড়া গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাটরা আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া মাখফুনুল উলুম মাদরাসার আবাসিক বিভাগে থেকে নাজিম ২২ পারা ও ছায়েদ ২৩ পারা পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করে। গত ১০-১৫ দিন আগে টুপি পরা নিয়ে নাজিম ও আবু ছায়েদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে মাদরাসার এক শিক্ষক বিষয়টি জানতে পেরে তাদের মধ্যে মিটমাট করে দেয়। কিন্ত এ ঘটনার জের ধরে নাজিমের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সোনাইমুড়ী বাজার থেকে ৩শত টাকা দিয়ে একটি ধারালো ছুরি কিনে নিয়ে আসে ছায়েদ। প্রতিদিনের ন্যায় রোববার রাতে মাদরাসার আবাসিক কক্ষে ঘুমিয়ে যায় ১৪জন ছাত্র ও একজন শিক্ষক। রাত আড়াইটার দিকে অন্য ছাত্রদের অগোচরে ছায়েদ ঘুম থেকে উঠে ঘুমের মধ্যে নাজিমকে জবাই করে দেয়। ওই সময় নাজিমের গলার গোঙরানির আওয়াজ শুনে একই কক্ষে থাকা ছাত্র-শিক্ষক ঘুম থেকে জেগে উঠে এ ঘটনা দেখতে পায়। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, খবর পেয়ে ভোররাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্ত ছাত্রকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করা হয়। টুপি পরা নিয়ে দুই ছাত্রের মধ্যে বিরোধের সূত্র ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটে। লাশের সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ভুঞাপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) সকাল ১০টায় উপজেলার দেওয়ান বাড়ি বাহাতুন্নেসা হাফিজা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তেলাওয়াত করেন হাফেজ ক্বারী মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ভুঞাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাহ্ফুজুর রহমান (দা.বা.)। সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল— সমাজে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে করণীয়, আহলে হক উলামায়ে কেরামদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করার দিকনির্দেশনা। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন “ইসকন”-এর আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড থেকে মুসলিম সমাজকে রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা আরও বলেন, আলেম ওলামাদের হক কথা বলার ক্ষেত্রে বা মসজিদের খেদমতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে হেফাজতে ইসলাম ভুঞাপুর উপজেলা শাখা যেন পাশে দাঁড়াতে পারে। সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুফতি শহিদুল ইসলাম ভূঞাপুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মুনজুরুল হাসান, সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা সালিম আহমাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আল আমিন কাসেমী, সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা শফিউর রহমান, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালাম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোল্লা হযরত আলী, মুফতি আবু ইউসুফ, সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা মাহদী হাসান শিবলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল হুসাইন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মুফতি সোহাইল হাসান এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সাব্বির আহমাদ প্রমুখ। সর্বশেষে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি শহীদুল্লাহ্ আন্দিপুরী (দা.বা.)। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাহ্ফুজুর রহমান (দা.বা.)।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন- আমাদের শাপলা প্রতীক না দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। যেহেতু আইনগত বাধা নেই। যখন একটা জিনিস আমার প্রাপ্য-এনসিপির প্রাপ্য যখন সেটা দেওয়া হবে না এইটা কেমন কথা অবশ্যই স্বেচ্ছাচারী আচরণের বিরুদ্ধে আমার লড়াই করতে হবে। এনসিপির যদি প্রয়োজন হয়, এনসিপি এই লড়াইটা রাজনৈতিকভাবে রাজপথে করবে। যদি প্রয়োজন হয় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলার এনসিপির অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ রাজপথে নেমে এই অধিকারের জন্য লড়াই করবে। আমরা শাপলা প্রতীক নিয়েই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। (২৭ অক্টোবর ২০২৫ ) সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংগঠনের জেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সারজিস আলম এসব কথা বলেন। সারজিস আলম জুলাই সনদে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর নেই, সেই জুলাই সনদে অভ্যুত্থানে করে সামনের সারিতে থেকে অভ্যুত্থানকে সংগঠিত করেছে এবং নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের প্রতিনিধিত্ব করা রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর নেই, আমরা মনে করি ওই অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। এই জুলাই অভ্যুত্থানের পরে এই জুলাই সনদ এখন পর্যন্ত অসম্পূর্ণ জুলাই সনদ। এই জুলাই সনদ দিয়ে দায়সারা ভাব নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হতে পারে না। তাদেরকে এই দায়বদ্ধতা পূরণ করে নির্বাচনের কথা চিন্তা করতে হবে।
টাংগাইল পাকুন্দিয়া বাইপাস এলাকায় একই মোটর সাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন দুই ভাই হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের মুখোমুখি ধাক্কা লেগে ঘটনা স্থলেই একজন মারা যায়। অপরজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে টাঙ্গাইলের পাকুন্দিয়া বাইপাস এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের একজন নিহত হয়েছেন এবং অপরজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,৩০/১০/২০২৫ সন্ধ্যার দিকে বাইপাস এলাকায় একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান এবং অন্যজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনকরা হবে।
টাঙ্গাইলে র্যাবের অভিযানে ৩ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদককারবারি ও ডাকাতির ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর) বিকেলে র্যাব ১৪ এর তিন নম্বর কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাহাকোদিয়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিন দর্জির মেয়ে মর্জিনা বেগম ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মাদাপুর গ্রামের ভাদু মন্ডলের ছেলে মো. সামাদ মন্ডল। কোম্পানি কমান্ডার সংবাদ সম্মেলন বলেন, ‘একজন মাদক ব্যবসায়ী টাঙ্গাইল সদর এলাকা থেকে সিএনজি যোগে ইয়াবা নিয়ে টাঙ্গাইল নাগরপুরের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে দেলদুয়ারের মোহাম্মদপুর পূর্ব পাড়া জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার উপর তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করার সময় সিগনাল দিয়ে সিএনজি থামানো হয়। সিএনজি তল্লাশিকালে মর্জিনা বেগমের কাছ থেকে তিন হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, স্মার্ট ফোন, নগদ টাকাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত অবৈধ মাদক দ্রব্যের বাজারমূল্য ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা। পরে দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশের কাছে মর্জিনাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ বুধবার, ২৯ অক্টোবর) রাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ডাকাতি মামলার আসামি মো. সামাদ মন্ডলকে মির্জাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন এক প্রসূতি মা। নিহতের নাম মাসুমা আক্তার (২৫)। তিনি ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের জামাল ভূঁইয়ার স্ত্রী। তবে মৃত্যুর মধ্য দিয়েও বেঁচে গেছে তার নবজাতক সন্তান। (৩০ অক্টোবর) ভূঞাপুর পৌর এলাকার সিটি হার্ট ক্লিনিকে। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অনিয়ম এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি গোপন করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে প্রসব ব্যথা ওঠায় মাসুমাকে ভূঞাপুরের সিটি হার্ট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুর দুইটার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। অপারেশন করেন ধনবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এনামুল হক সোহেল যিনি একইসঙ্গে ওই ক্লিনিকের পার্টনার হিসেবেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এনেস্থেসিয়ার দায়িত্বও নিজেই পালন করেন, যদিও এ কাজে আলাদা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অপারেশনের পরপরই রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কিন্তু কোথাও স্থানান্তরের ব্যবস্থা না করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লিনিকেই ফেলে রাখা হয় তাকে। একপর্যায়ে নিথর দেহে পরিণত হন মাসুমা আক্তার। স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পরও প্রায় ছয় ঘণ্টা তাকে অপারেশন থিয়েটারে আটকে রাখা হয়, কাউকে দেখতেও দেওয়া হয়নি। পরে ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য’ অন্যত্র পাঠানোর নামে মরদেহই অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্লিনিক প্রাঙ্গণে শুরু হয় কান্না, ক্ষোভ আর বিক্ষোভ। স্থানীয়দের চাপের মুখে পুলিশ এসে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয় এবং দুইজন স্টাফকে আটক করে। তবে চিকিৎসক ও ক্লিনিকের মালিকপক্ষ পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতে ভূঞাপুর থানায় ‘মীমাংসার নাটক’ মঞ্চস্থ হয়। সেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৫ লাখ টাকা প্রদান করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে জানা যায়, ওই টাকার একাংশ কিছু তথাকথিত সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও পুলিশের হাত ঘুরেছে। ঘটনার পর থেকে সিটি হার্ট ক্লিনিকের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভূঞাপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “থানায় মীমাংসা বা টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুব হাসান বলেন, ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মোস্তফা মাসুদ: : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের এক শ্রমিক খুলনায় কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। ঠিকাদারের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা খরচ না পেয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় আহত শ্রমিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নারায়নপুর গ্রামের মৃত জামাত মোড়লের ছেলে আহত শ্রমিক মোঃ আফজাল হোসেন (৪০) ,তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, সোনালি কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আব্দুল হাকিম সরদার (৫৮) এবং তার লেবার সর্দার মোঃ ইকবাল হোসেন (৪০) এর অধীনে কাজ করতে গিয়ে তিনি গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হন।ভুক্তভোগী জানান,খুলনা শহরের বউবাজার এলাকায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালীন অসাবধানতাবশত তিনি তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে ঠিকাদার পক্ষ তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে মাত্র তিন দিন চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। সেই সময় ঠিকাদার হাকিম সরদার প্রতিশ্রুতি দেন যে, পরবর্তীতে চিকিৎসার পূর্ণ খরচ বহন করা হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কোনো সহায়তা বা খোঁজখবর নেয়নি। বর্তমানে আফজাল হোসেন কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, “২৬ অক্টোবর বিকেলে আমি চিকিৎসা খরচ চাওয়ার জন্য ঠিকাদার হাকিম সরদার ও লেবার সর্দার ইকবালের কাছে গেলে তারা আমাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং বলে—‘তোর কিছু করার থাকলে করে নিস।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,আমি তাকে খুলনা হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম, কিছু খরচও দিয়েছি। বাড়ি নিয়ে এসে আরো দেবো বলেছিলাম।” এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলেন, “একজন দিনমজুর শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। এখন ঠিকাদার চিকিৎসা ব্যয় না দিলে তা অমানবিক আচরণ ছাড়া কিছু নয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।আহত শ্রমিক আফজাল হোসেন বর্তমানে চিকিৎসাহীন অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে চিকিৎসা সহায়তা ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
আমার দেশ প্রকাশ করেছে: বাংলাদেশের শিপিং খাতে ইসরায়েলের অঘোষিত বাণিজ্যিক উপস্থিতি প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাইডেন্ট শিপিং লাইন লিমিটেডকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েলের শীর্ষ শিপিং সংস্থা জেড আইএম ইন্টিগ্রেটেড শিপিং সার্ভিসেস লিমিটেড। নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশের জেড আইএম-এর সমস্ত আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ট্রাইডেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাইডেন্ট শিপিংয়ের নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং এফবিসিসিআই সদস্য ফারুবার আনোয়ার। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন: সিএফও: আবু জাফর পোর্ট ক্যাপ্টেন: আলী ইউসুফ কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার: আসাদ খান জিএম সেলস: গৌতম চন্দ্র দাস সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার: দেলোয়ার হোসেন (৩০ সেপ্টেম্বর অবসরগ্রহণ) আইটি ম্যানেজার: উজ্জ্বল কুমার এইচআর ম্যানেজার: ওয়ারদা সাইয়েদা সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ইংরেজি নববর্ষে ট্রাইডেন্টের ঢাকা অফিসে জেড আইএম-এর নামের কেক কাটা হয়, যেখানে ইসরায়েলি পতাকার রং ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, জেড আইএম-এর ওয়েবসাইটেও বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ট্রাইডেন্টের নাম এবং কর্মকর্তাদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত “March for Gaza” কর্মসূচির খবর ট্রাইডেন্ট অফিস থেকে সরাসরি জেড আইএম-এর হাইফা সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। ওই ইমেইলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মনিটরিং সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়। ইমেইলের মাধ্যমে জেড আইএম-এর আঞ্চলিক প্রতিনিধি দোতান সার–কে তথ্য পাঠানো হয়। এছাড়াও, ইউনাইটেড আরব আমিরাত প্রবাসী ক্যাপ্টেন বিবেক শর্মা (সারাফ শিপিং এজেন্সির জেনারেল ম্যানেজার) আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। মেইলের কার্বন কপিতে ছিলেন আরিফ সিদ্দিকী, সাইফুল এবং আবু জাফর। সূত্র মতে, ট্রাইডেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে দোতান সার-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এই যোগাযোগ কেবল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তথ্য আদানপ্রদান, বিশেষ পণ্যবাহী রুট নির্ধারণ এবং কনটেইনার স্ক্যানিং সংক্রান্ত নির্দেশনাও অন্তর্ভুক্ত। জেড আইএম ১৯৪৫ সালে ইসরায়েলে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর হাইফায়, যা সামরিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বহুবার উল্লেখ করেছেন, জেড আইএম শুধু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সংযোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের শিপিং ডেটা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। কোন পণ্য কোন দেশে যাচ্ছে, কে রপ্তানি করছে এবং কে আমদানি করছে—এই তথ্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের শিপিং খাতে এই অঘোষিত নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক নজরও আকর্ষণ করছে।